Brand logo light

ইত্তেহাদ স্পেশাল

প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্কের টেন্ডার: বিশেষ সুবিধা নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জে বাস্তবায়নাধীন বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজের টেন্ডারকে ঘিরে ঠিকাদার মহল ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এমন একটি সময়ে টেন্ডার আহ্বান করেছে, যখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় অধিকাংশ সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী কার্যত প্রস্তুতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালে বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক, মুন্সীগঞ্জ (প্রকল্প আইডি-২২৪২৭৮৯০০) প্রকল্পের অধীনে দুটি পৃথক টেন্ডার আপলোড করা হয়। এর মধ্যে টেন্ডার আইডি-১২৭৮২৩০ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১৪৬) এর মাধ্যমে "Construction of Jetty" এবং টেন্ডার আইডি-১২৭৮৩৩৭ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১২০) এর মাধ্যমে "Construction of Dumping Yard and Incinerator" কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। উভয় টেন্ডারই প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের নামে প্রকাশিত হয়। সময়সীমা নিয়ে আপত্তি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, পিপিআর অনুযায়ী ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় টেন্ডার প্রস্তুত ও জমাদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হয়নি। তাদের দাবি, ১৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সময়ে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরিবার নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেন। ফলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ, কারিগরি প্রস্তাব প্রস্তুত এবং আর্থিক প্রস্তাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাস্তব জটিলতা তৈরি হয়। কয়েকজন আগ্রহী ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সময় নির্ধারণের ধরন এমন ছিল যে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য যে প্রকল্প কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রকল্প পরিচালক মাঝে মধ্যে প্রকল্প এলাকায় এলেও স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। তবে এ দাবির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য উল্লেখিত ৯৫৬৭৮৯৪ নম্বরের টেলিফোনটি কার্যকর নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে দরপত্রদাতাদের জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত। পুরনো অভিযোগের ছায়া প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ভুয়া বিল-ভাউচার, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মাটি ভরাট কাজের আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, বিসিক কর্তৃপক্ষ কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য নিতে ব্যর্থতা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, কেবল আইনগত ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। তাদের মতে, যদি দীর্ঘ সরকারি ছুটি, অকার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সীমিত অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো প্রকৃতপক্ষে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পর্যালোচনা করা। এখন প্রশ্ন মুন্সীগঞ্জের বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। ফলে এর প্রতিটি ক্রয় কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যে টেন্ডার আহ্বান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির সাম্প্রতিক দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—এটি কি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো অনিয়ম রয়েছে? সেই উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকি সংস্থাগুলোর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
আব্দুর রশিদ বুলু
বাজাজ সিএনজি আমদানিতে ৭ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, তদন্তের মুখে আব্দুর রশিদ বুলু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অননুমোদিত উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি এবং উত্তরা মোটরস বৈধভাবে এসব যানবাহন সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছে। রানার গ্রুপের ময়মনসিংহের ভালুকিয়ায় অবস্থিত কারখানায় ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে সিএনজি সংযোজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে, যা বাংলাদেশের অনুমোদিত মডেলের বাইরে। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ইঞ্জিন ক্ষমতা কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দুদক ও এনবিআরে লিখিত অভিযোগ গত ২১ মে মো. আল আমীন নামের এক ব্যক্তি দুদকের চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, মগবাজারভিত্তিক ‘দ্বীন ইসলাম মোটরস’-এর স্বত্বাধিকারী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ আমদানি করা একটি চালানে প্রতি ইউনিট সিএনজির মূল্য মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার দেখানো হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে ওই চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে। ১৭ চালানে ৭২৫ ইউনিট আমদানির তথ্য কাস্টমস ও এনবিআর সূত্রের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি চালানে ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আমদানির ফলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। বছরভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী— ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ২১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত মূল্য এবং বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, যা আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বৈধ আমদানির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ১০০টি বৈধ বাজাজ সিএনজি উৎপাদনের জন্য রানারকে প্রায় ছয় কনটেইনার যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। এসব যন্ত্রাংশের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে সংযোজিত একটি বাজাজ সিএনজির বিক্রয়মূল্য, কর ও ভ্যাটসহ প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২৩৬ সিসির যেসব সিএনজি আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত মডেল এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। রানার অটোমোবাইলস যা বলছে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” কোম্পানিটির দাবি, অনুমোদনহীন উৎস থেকে পণ্য আমদানির কারণে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুলসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, মিরপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে একটি দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, “আমি ইনভেস্টর না, আমদানিও করি না। ইনভেস্টর হচ্ছে আমার ছেলে দ্বীন ইসলাম। সেই বিষয়টি সম্পর্কে সে জানতে পারবে।” তবে অভিযোগে উত্থাপিত শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব তিনি দেননি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযোগ? বাংলাদেশে মোটরযান বিক্রি ও সড়কে পরিচালনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। মোটরযান আইন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো যানবাহন বিক্রি বা সড়কে পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত যানবাহন আমদানি, শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না; একই সঙ্গে বাজারে বৈধ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। তদন্তের দাবি সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এনবিআর, বিআরটিএ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি এবং রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
চরকাউয়ায় কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প: সুফলের বদলে দুর্ভোগ- সংকট
চরকাউয়ায় কোটি টাকার খাল খনন প্রকল্প: সুফলের বদলে দুর্ভোগ- সংকট, জলাবদ্ধতা ও অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রায় ২৫ বছর ধরে কৃষি উৎপাদনে স্থবিরতা, জলাবদ্ধতা এবং সেচ সংকটে ভুগছিল বরিশালের চরকাউয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। একসময় যেসব খাল কৃষকের জীবনরেখা ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে গিয়ে কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) গ্রহণ করে একটি ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প—সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক “স্বনির্ভর খাল খনন কর্মসূচি”। প্রকল্পের আওতায় ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, একটি কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় কৃষক ও ভূমি মালিকদের অভিযোগ—এই উদ্যোগ সুফলের বদলে নতুন সংকট তৈরি করেছে। স্থানীয় কৃষকদের আশা ছিল দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি।কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই অভিযোগ উঠতে শুরু করে—ফলাফল উল্টো।   চরকাউয়ার খাল এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি একটি প্রশ্নের নাম: “উন্নয়ন আসলে কার জন্য? চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ শুধু জলাবদ্ধতা বা জমি ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাঠামো, ঠিকাদার নির্বাচন, সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক তদারকি—সবকিছু নিয়েই এখন গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—বরং “ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার একটি উদাহরণ।”   চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা নকশাগত ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়, প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনে—বিশেষ করে কৃষকের আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার ওপর। যে প্রকল্পকে ঘিরে আশা ছিল কৃষি পুনরুদ্ধারের, তা এখন অনেক পরিবারের কাছে “অর্থনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণ” হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনে। এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়—বরং কৃষি নির্ভর সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়া একটি বাস্তবতা। যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্য ছিল উৎপাদন বাড়ানো, সেখানে অনেক কৃষকের জন্য এটি এখন টিকে থাকার সংগ্রাম।    দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খাল খনন শুরু, কিন্তু প্রশ্ন আগেই স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, চরকাউয়ার পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৮০০ একর কৃষিজমি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং বোরো মৌসুমে পানির অভাবে অনাবাদী থেকে যাচ্ছিল। একসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে সংযোগ খাল তৈরি করা হয়েছিল, যা পরে ভরাট হয়ে যায়। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই নতুন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। কিন্তু প্রকল্প শুরুর পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নকশা, বাস্তবায়ন এবং তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।     “ফসল নেই, আয় নেই”—কৃষকের বাস্তবতা স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর জমিতে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কাওছার হোসেন বলেন, “আগে যেমন তেমন ফসল হতো, এখন তাও হচ্ছে না। পানি জমে থাকে, জমিতে যাওয়া যায় না। ইরি ধান তুলতে কষ্ট হয়েছে, ফলনও কম।” তার মতে, খাল খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে উল্টো জমিতে পানি আটকে থাকার প্রবণতা বেড়েছে।     ৮০০ একর জমির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পূর্ব চরকাউয়ার প্রায় ৮০০ একর কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এই জমিকে পুনরায় উৎপাদনশীল করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক কৃষকই বলছেন— জমি চাষের উপযোগিতা কমে গেছে সময়মতো বীজ রোপণ সম্ভব হচ্ছে না শ্রম খরচ বেড়েছে ফলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এক কৃষকের ভাষায়, “আমরা উন্নয়ন আশা করেছিলাম, কিন্তু এখন আমাদের জমিই বোঝা হয়ে গেছে।”   “সুফল নয়, ক্ষতি হয়েছে বেশি” — কৃষকদের অভিযোগ স্থানীয় কৃষক কাওছার হোসেন বলেন,“খাল কেটে কোনো লাভ হয়নি। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে পানি জমে গেছে। এবার ইরি ধান তুলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ফলনও কমে গেছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, খাল খননের পাশাপাশি দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একই ধরনের অভিযোগ আরও অনেক কৃষকের।     জমি হারানো ও মানসিক চাপ শহিদুল ইসলামসহ একাধিক ভূমি মালিক অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাদের রেকর্ডীয় জমি কেটে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের জমি গেছে, ক্ষতিপূরণ পাইনি। এখন আবার জলাবদ্ধতা। এটা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, মানসিক চাপও।” স্থানীয়দের মতে, জমি হারানোর বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি সামাজিক অস্থিরতারও জন্ম দিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, প্রকল্পের ব্যর্থতার কারণে অনেক কৃষক এখন বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন।মধ্যবিত্ত ভূমি মালিকদের একটি অংশ কৃষি থেকে সরে গিয়ে শহরমুখী বা অন্য পেশায় যুক্ত ।ফলে কৃষি নির্ভরতা কমে গেলেও, প্রান্তিক কৃষকরা এখনো সমস্যার মধ্যে রয়ে গেছেন।   বর্গাচাষিদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি এই এলাকার কৃষিতে বড় অংশই বর্গাচাষির ওপর নির্ভরশীল। তারা জমির মালিক না হয়েও উৎপাদনের দায়িত্ব নেন।কিন্তু প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। এক বর্গাচাষি জানান, “আমরা ঋণ করে চাষ করি। এবার পানি সমস্যায় ধান ঠিকমতো হয়নি। ঋণ শোধ কিভাবে করব বুঝতে পারছি না।” এই পরিস্থিতি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।   জমি হারানো ও ক্ষতিপূরণ বিতর্ক  ভূমি মালিক শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন,“আমাদের রেকর্ডীয় জমি কেটে খাল করা হয়েছে। কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এখন জলাবদ্ধতা আগের চেয়েও বেশি।”তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।    “প্রকল্প না, যেন নতুন সংকট”  এক ভূমি মালিকের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি বলেন,“আমাদের রেকর্ডীয় জমি কেটে খাল বানানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। জলাবদ্ধতা আগের চেয়েও ভয়াবহ।” তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তাদের সম্মতি নেওয়া হয়নি বা যথাযথভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।   কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিক না থাকলে যে কোনো খাল খনন প্রকল্প উল্টো ফল দিতে পারে। চরকাউয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ অনুযায়ী— পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত জমিতে দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা চাষাবাদের সময়সূচি ব্যাহত মাটির উর্বরতা কমার ঝুঁকি ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশাগত ত্রুটির অভিযোগ স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় একাধিক সমস্যার কথা উঠে এসেছে— খালের পাড়ে প্রায় ১২ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মাণ কৃষিজমি সংকুচিত হওয়া পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত নালা বা কালভার্ট না থাকা কিছু এলাকায় মাটি এলোমেলোভাবে ফেলে রাখা কৃষি জমিতে যাতায়াতের পথ সংকুচিত হওয়া স্থানীয়দের মতে, এসব পরিবর্তন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।     “খাল এখন সমস্যা”—কৃষকের অনুভূতি একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “খাল খননের আগে সমস্যা ছিল, এখন খালই সমস্যা হয়ে গেছে।” এই মন্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্প নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন। অনেকেই বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প তাদের জীবনে স্থায়ী সংকট তৈরি করছে।   গাছ কাটা, জমি দখল ও পরিকল্পনাহীন কাজের অভিযোগ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, খাল খননের আগে অনেক জায়গায় গাছ কাটানো হয়েছে, কিন্তু পরে সেখানে  খনন কাজ হয়নি। মধ্য চরকাউয়া এলাকায় কিছু অংশে খাল কাটার কথা বলে গাছ কাটা হলেও প্রকৃত কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের নামে পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে কাজ হয়েছে।    “খাল এখন গলার কাটা” — কৃষকদের তীব্র হতাশা কৃষকদের ভাষায়, খাল এখন সুবিধার বদলে সমস্যার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একজন কৃষক বলেন, “খাল খননের পর আমাদের উপকার হয়নি। বরং জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এখন এই খালই আমাদের গলার কাটা।” তিনি জানান, পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকায় জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।   ঠিকাদার ও সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকল্পের কাজ নিয়ে ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়েও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার খলিলুর রহমান বলেন, “আমি সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়েছি। মূল কাজ স্থানীয় একজন করেছেন। খালের ভিতরের বাঁধের বিষয়ে আমি জানি না।” অন্যদিকে আরেক ঠিকাদার আতিকুর রহমান বলেন, “সব নিয়ন্ত্রণ করেছে স্থানীয় একজন ব্যক্তি। আমি ঠিকাদার হলেও বাস্তবায়নে তার প্রভাব বেশি ছিল।” এই বক্তব্যগুলো প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়।   “এক প্রকল্প, একাধিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র” প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজ। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রকৃত মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভিন্ন। ঠিকাদার খলিলুর রহমান নিজেই স্বীকার করেন যে, তিনি কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়েছেন স্থানীয় একজন ব্যক্তিকে। “আমি ওখানের ঠিকাদার হলেও আমি সাব-কন্ট্রাক্টে  ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কন্ট্রাক্ট দিয়েছি। ওনি নিজের মতো করে কাজ করেছে।” এই বক্তব্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের “মাল্টি-লেভেল কন্ট্রোল” পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে দায়িত্ব ও জবাবদিহির সীমারেখা অস্পষ্ট।     সাব-কন্ট্রাক্টরের একক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন  এক ব্যক্তি, যিনি প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রায় এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আরেক ঠিকাদার আতিকুর রহমান বলেন, “আমি ঠিকাদার হলেও সব নিয়ন্ত্রণ করেছে স্থানীয় একজন ব্যক্তি। খাল কাটা, রাস্তা নির্মাণ—সবই তিনি করেছেন।” স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই একক নিয়ন্ত্রণের কারণেই প্রকল্পের নকশা উপেক্ষিত হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।     চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্প প্রকল্প আসলে কার স্বার্থে   চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ, ঠিকাদারের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক ব্যাখ্যার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটিই—এই প্রকল্প আসলে কার স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে? সরকারি নথিতে এটি একটি কৃষি পুনরুদ্ধার প্রকল্প। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, প্রকল্প ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক ক্ষমতার স্তর, যেখানে সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন এবং নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই বিভক্ত হয়ে পড়েছে।     একক প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে  একজন ব্যক্তি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— খাল খননের দিক নির্ধারণ রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত গাছ কাটার অনুমোদন জমির ব্যবহারের পরিবর্তন এক কৃষকের ভাষায়, “সব সিদ্ধান্ত একজন মানুষই নিয়েছে। আমরা শুধু ক্ষতি দেখেছি।”   প্রশাসনিক তদারকি: “উপস্থিতি ছিল, নিয়ন্ত্রণ ছিল না” বিএডিসি এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিদর্শনের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী— নিয়মিত মনিটরিং হয়নি নকশা অনুযায়ী কাজ হয়নি পরিবর্তিত বাস্তবায়নে হস্তক্ষেপ হয়নি এক স্থানীয় কৃষকের মন্তব্য, “কাগজে প্রশাসন আছে, মাঠে নেই।”     “চওড়া রাস্তা কার জন্য?”—অতিরিক্ত অবকাঠামো প্রশ্ন স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী খালের দুই পাশে প্রায় ১২ ফুট চওড়া রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, যা নকশায় না থাকার দাবি রয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— এটি কি কৃষকের স্বার্থে? নাকি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবহারের জন্য? নাকি প্রকল্প ব্যয়ের কাঠামো বাড়ানোর অংশ? এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা আসেনি।   “উন্নয়ন প্রকল্প নাকি নিয়ন্ত্রণহীন বাস্তবায়ন কাঠামো?” প্রকল্পের মূল ঠিকাদার মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজ হলেও স্থানীয়দের দাবি, মাঠপর্যায়ে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ছিল ভিন্ন হাতে। ঠিকাদার নিজেই স্বীকার করেছেন সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে। “আমি সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ দিয়েছি। মূল বাস্তবায়ন স্থানীয় একজন করেছেন।” এই বক্তব্য প্রকল্পের দায় নির্ধারণকে আরও জটিল করে তোলে।স্থানীয়দের মতে, এই কাঠামোই প্রকল্পকে “নিয়ন্ত্রণহীন বাস্তবায়ন ব্যবস্থায়” পরিণত করেছে।     প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারা? স্থানীয়দের অভিযোগ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সুবিধা কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে— স্থানীয় ব্যক্তি অবকাঠামোগত সুবিধা পেয়েছে নির্দিষ্ট ঘের - জমির জন্য পরিবর্তন করা হয়েছে পানি ব্যবস্থাপনা উপেক্ষিত হয়েছে এক কৃষকের ভাষায়, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত, কেউ কেউ লাভবান।”   প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি বিএডিসির পক্ষ থেকে প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব ছিল স্থানীয় পর্যায়ের প্রকৌশল ও মাঠ কর্মকর্তাদের ওপর। কিন্তু স্থানীয় অভিযোগ বলছে, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং হয়নি। একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “যদি নিয়মিত তদারকি থাকত, তাহলে এমন অবস্থা হতো না।” বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বী জানান, ভবিষ্যতে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে তিনি অনিয়ম বা বাস্তবায়নের ত্রুটি বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।   কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকল্পে একটি কালভার্ট থাকার কথা থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন, সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। অনেক জায়গায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। এক কৃষকের ভাষায়, “খাল আছে, কিন্তু পানি নামার পথ নেই—এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।”     স্থানীয় প্রভাব ও অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এককভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন।একাধিক কৃষকের দাবি, তার সিদ্ধান্তেই খাল খনন, রাস্তা নির্মাণ এবং গাছ কাটার মতো কাজ হয়েছে।   প্রশাসনের নীরবতা ও কৃষকের অপেক্ষা বিএডিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। কৃষকদের প্রশ্ন এখন একটাই— “এই ক্ষতির দায় কে নেবে?”    বিএডিসির প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী আতায়ে রাব্বী  জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রতি কিলোমিটারে পাইপ স্থাপন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বর্তমান অভিযোগ—জলাবদ্ধতা, অনিয়ম, এবং পরিকল্পনাগত ত্রুটি—নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান। অন্যদিকে  বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (সওকা) সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং ত্রুটি থাকলে সমাধান করা হবে।   “দায় এড়ানোর সংস্কৃতি” নিয়ে প্রশ্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক পক্ষ জড়িত— বিএডিসি (প্রকল্প কর্তৃপক্ষ) ঠিকাদার সাব-কন্ট্রাক্টর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনিক তদারকি সংস্থা কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বহুপক্ষীয় কাঠামোর কারণে প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। এক স্থানীয় পর্যবেক্ষকের ভাষায়, “সবাই আছে, কিন্তু দায় কারও নেই।”     প্রকল্প ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই প্রকল্প ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলো হলো— ঠিকাদার নির্বাচন কি স্বচ্ছ ছিল? সাব-কন্ট্রাক্টিং ব্যবস্থায় কতটা নজরদারি ছিল? স্থানীয় প্রভাবশালীরা কি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে? প্রশাসনিক তদারকি কেন ব্যর্থ হলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না মিললে, স্থানীয়দের মতে এই প্রকল্প “উন্নয়ন নয়, একটি ব্যর্থ পরীক্ষার উদাহরণ” হয়েই থাকবে।চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্পে অভিযোগ শুধু অনিয়ম নয়—বরং এটি একটি কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট।   একটি প্রকল্প, বহু প্রশ্ন চরকাউয়ার এই খাল খনন প্রকল্প এখন স্থানীয়ভাবে এক প্রশ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে— উন্নয়ন প্রকল্প কি সত্যিই কৃষকের জন্য? নাকি বাস্তবায়নের দুর্বলতায় এটি নতুন সংকট তৈরি করছে? পরিকল্পনা, তদারকি এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি কি পুরো প্রকল্পকে ব্যর্থ করেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অধরা। প্রশাসনের নীরবতা ও দায় এড়ানোর প্রশ্ন স্থানীয়  প্রভাবের অভিযোগ জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বিতর্ক প্রকল্প ব্যর্থতার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ কৃষকের অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব “কার স্বার্থে এই প্রকল্প?” চরকাউয়ার প্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগগুলো একত্র করলে একটি চিত্র স্পষ্ট হয়—এটি শুধুমাত্র একটি অবকাঠামো ব্যর্থতা নয়, বরং বাস্তবায়ন কাঠামো, প্রশাসনিক তদারকি এবং স্থানীয় প্রভাবের জটিল সমন্বয়ের ব্যর্থতা। যেখানে কৃষকের জন্য উন্নয়ন আসার কথা ছিল, সেখানে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, ক্ষতি এবং অবিশ্বাস। চরকাউয়ার খাল খনন প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল কৃষি পুনরুদ্ধারের আশায়। কিন্তু স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, প্রকল্পটি এখনো তাদের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং জমি হারানো, জলাবদ্ধতা এবং পরিকল্পনাগত ত্রুটির অভিযোগে প্রকল্পটি এখন তদন্তের দাবি তুলেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলী
এলজিইডির আরইউটিডিপি প্রকল্প: দুর্নীতির তদন্তের মধ্যেই সাবেক পিডির পুনর্নিয়োগ চেষ্টার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (RUTDP)-এর সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, কনসালটেন্সি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এই কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিআরএলের পরও একই পদে ফেরার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর পিআরএল শুরু হয় গত বছরের ১০ অক্টোবর। এরপর থেকেই তিনি পূর্বের দায়িত্বে ফেরার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ফাইল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কী এই আরইউটিডিপি প্রকল্প? বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং এলজিইডির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী, আরইউটিডিপি বা "সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প" দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের চুক্তি ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে রাস্তা, ড্রেনেজ, স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ এবং টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী মঞ্জুর আলী। ২৫০ জনের নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, পিআরএলে যাওয়ার আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সোসিওলজিস্ট এবং হিসাব সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে কয়েক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে তার ভাই মো. রাজুর মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং অর্থ দেওয়ার পরও অনেকে চাকরি পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কনসালটেন্সি খাতে ৩৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী কনসালটেন্সি খাতে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, বড় অঙ্কের কমিশন বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ইফতিশা, অ্যাকুয়া কনসালটেন্সি, ডেপকো এবং ডিপিএম নামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে কনসালটেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লাখ টাকা মাসিক বেতনের স্বতন্ত্র কনসালটেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া হাজিরা ও প্রকল্পবহির্ভূত ব্যক্তিকে বেতন দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদে লোকবল নিয়োগ না দিয়েও হাজিরা দেখিয়ে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও প্রকল্পভুক্ত কর্মচারী দেখিয়ে বেতন পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মধুমতি মডেল টাউনে একটি প্লট এবং ঢাকার বিরুলিয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই প্রকৌশলী রাজুর নামেও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। দুদকের অনুসন্ধান কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং ও কনসালটেন্সি নিয়োগের শুরু থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, নিয়োগবিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এলজিইডির কাছে চাওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ শুধু আরইউটিডিপি নয়, এর আগে এমজিএসপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের সময়ও প্রকল্প সমাপ্তির পর উদ্বৃত্ত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় একই পদে নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এলজিইডির অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চলছে, তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে অধীনস্থদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং প্রকল্পের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
এলজিইডির প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে প্রভাব বলয় ও অতিরিক্ত বিল বিতর্ক

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দীর্ঘদিন ধরেই দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। সড়ক, সেতু ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এলজিইডির কয়েকটি প্রকল্পকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এনেছে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের নাম। প্রকল্প বাস্তবায়ন, অতিরিক্ত বিল অনুমোদন, নিম্নমানের কাজ, বদলি ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার— এসব অভিযোগ ঘিরে মাঠপর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আদালত বা সরকারি তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি, তবুও স্থানীয় বাসিন্দা, ঠিকাদার ও দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক নানা তথ্য। ‘প্রভাব বলয়’ তৈরির অভিযোগ এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে ফিরোজ আলম তালুকদার একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও ঠিকাদারি বলয় গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই বলয়ের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন, কাজের গুণগত মান যাচাই, বিল ছাড় ও তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হতো। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্র বলছে, তার ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মচারীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে উন্নয়ন দেখানো হলেও বাস্তবে প্রকল্পের কাজ ছিল অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের। দেবীনগর–হাশেম মাদবর সড়ক: ছোট প্রকল্পে বড় প্রশ্ন সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো দেবীনগর–হাশেম মাদবর সড়ক উন্নয়ন কাজ। প্রায় ৬৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পে অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও বিপুল অঙ্কের বিল অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে বর্ষাকালেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় অফিসিয়াল নথিতে অনেক বেশি কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছিল। ফলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, বিল অনুমোদনকারী কর্মকর্তা ও তদারকি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাধানগর–কৃষ্ণদেবপুর সড়ক: অগ্রগতি কম, বিল বেশি রাধানগর–কৃষ্ণদেবপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও রয়েছে একই ধরনের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে দৃশ্যমান কাজ খুব সীমিত থাকলেও অফিসিয়ালভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এ ধরনের অনিয়ম সম্ভব হয়েছে। ৯ কোটি টাকার প্রকল্পে অগ্রিম বিল বিতর্ক বান্দুরা–বারুয়া–শিকারীপাড়া সড়ক প্রকল্পকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ৯ কোটির বেশি টাকার এই প্রকল্পে কাজ শুরুর আগেই অগ্রিম বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কাজের চিহ্ন খুব কম থাকলেও বরাদ্দের একটি অংশ আগেই উত্তোলন করা হয়েছিল। পরে কাজের অগ্রগতি না থাকায় চুক্তি বাতিল করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সমর্থন ছাড়া এ ধরনের আর্থিক অনুমোদন পাওয়া কঠিন। ফলে প্রকল্প অনুমোদন থেকে বিল ছাড় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। বদলি বাণিজ্য ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ শুধু প্রকল্প অনিয়ম নয়, বদলি ও পদায়ন নিয়েও ফিরোজ আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তার প্রভাব বলয়ের মাধ্যমে। স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে থাকা ঠিকাদারদের কাজ পেতে বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রকল্পের বিল দ্রুত ছাড় করাতে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও প্রভাব ব্যবহার ছিল প্রায় ‘অঘোষিত নিয়ম’। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সক্রিয় যোগাযোগ? রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ফিরোজ আলম তালুকদারের অবস্থান নিয়ে আলোচনা রয়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে পুনরায় যুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক তদবির— এসব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য খুব বেশি পাওয়া যায়নি। “দায় শুধু একজনের নয়” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে ফিরোজ আলম তালুকদার বলেন, কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় কেবল একজন কর্মকর্তার নয়; সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাও এতে যুক্ত থাকতে পারেন। তার এই বক্তব্যকে কেউ কেউ আংশিক স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকদের মতে, এটি দায় এড়ানোর কৌশলও হতে পারে। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসনিক অনুমোদন ও চূড়ান্ত তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন বনাম বাস্তবতা স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে উন্নয়ন দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের কাজ করার প্রবণতা গ্রামীণ অবকাঠামো ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়কগুলো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। দুর্নীতি দমন নিয়ে কাজ করা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শুধু ব্যক্তিকেন্দ্রিক তদন্ত নয়— পুরো ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি। তাদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন, কাজের মান যাচাই, বিল ছাড় ও তদারকির প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল নজরদারি এবং স্বাধীন অডিট নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি ও নথিতে দেখানো অগ্রগতির মধ্যে পার্থক্য দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী ও দায়িত্বকালীন সিদ্ধান্ত নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় আনার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। তদন্তের দাবি জোরালো মো. ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত হয়নি। তবে স্থানীয় অসন্তোষ, প্রকল্প বাস্তবায়নের অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য মিলিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর আর্থিক ও কারিগরি অডিট জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে, যাতে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভবিষ্যতে অনিয়ম ও অপচয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও অবকাঠামো ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এলজিইডির মতো প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি বা নিম্নমানের কাজের চূড়ান্ত মূল্য শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় জনগণকেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
পিরোজপুরে এলজিইডির ১,৬১০ প্রকল্পে কাজ না করেই ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

পিরোজপুরে এলজিইডি প্রকল্পে ‘কাজহীন’ ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত হাজার হাজার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এনেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, জেলার অনুমোদিত ২ হাজার ৪৬০টি প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬১০টিতে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। টেন্ডার ও বিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও এক যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন পেয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি অনুসন্ধানে সাবেক সংসদ সদস্য, এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা কমিশনের এক সাবেক সচিবসহ একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মের ধরন ছিল সুসংগঠিত। প্রকল্প অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বান ও কার্যাদেশ দেওয়া হলেও পরে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। কিন্তু ট্রেজারি থেকে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঠিকাদাররা টাকা তুলে বিদেশে চলে গেছেন। দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।” ১৮ মাস বন্ধ উন্নয়নকাজ পিরোজপুরে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর উন্নয়নকাজ স্থবির থাকার বিষয়টিকেও “ভয়াবহ” হিসেবে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। তার মতে, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, হাটবাজার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প থেমে যাওয়ায় জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু সড়ক অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুদকের তদন্ত চলমান থাকায় মৌখিক নির্দেশে অনেক উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল না। ২৪ ঘণ্টায় ডিপিপি অনুমোদনের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ার অভিযোগ। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন বছরের প্রকল্পে প্রথম বছরেই পুরো বরাদ্দ তুলে নেওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের অভিযোগ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, তদারকি ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। “ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই” প্রকল্প পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতার উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও সেখানে সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়ার একটি সেতুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুতে এখনো মানুষ মই ব্যবহার করে ওঠানামা করছে, কারণ সংযোগ সড়কের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তার মতে, এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, পরিকল্পনাগত ব্যর্থতারও প্রতীক। নতুন তদন্ত কমিটি ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ১২ মে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার প্রকল্প কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে। মীর শাহে আলম বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা পাঠানো হবে। সীমিত পরিসরে ফের শুরু হতে পারে কাজ প্রতিমন্ত্রী জানান, পিরোজপুরের তিন সংসদ সদস্য ও এক প্রতিমন্ত্রীর আবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেন। কমিটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে দুদকের তদন্তাধীন প্রকল্প বাদ দিয়ে অন্যান্য অসমাপ্ত প্রকল্প সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের পর একটি প্রতিনিধিদল পিরোজপুর সফর করবে এবং সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উন্নয়নকাজ আংশিকভাবে পুনরায় শুরু করা হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ইজিবাইক নিবন্ধন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে, তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অনুরূপ যানবাহন নিবন্ধনের জন্য নতুন আইন আনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুয়েট অনুমোদিত নকশার যানবাহন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে রাজস্ব আয় বাড়াতেও সহায়ক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন
সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সময়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সমবায় ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নলছিটি উপজেলার নাঙ্গুলি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মল্লিক ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। তার ছেলে নাজমুল ইসলাম সুজন কয়েক বছর আগে সমবায় ব্যাংকে চাকরি পান। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি চাকরিটি লাভ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই সুজনের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে সুজন তার নানা বাড়ির পাশেই বাবার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর ফাঁকি দিতে দলিলে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালে একই এলাকায় আরও একটি জমি কেনার পর সেখানে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরিশাল, ঢাকা ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সুজনের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজনের মায়ের দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তার স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের উৎস এবং ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। জমি কিনেছে আমার বাবা। এছাড়া জমি ক্রয়ের সময় ঋণ নেওয়া হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য  নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি।   অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না।  তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।      ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক !   বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।  চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।   এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক   অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী  প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট।   জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা   এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ।   কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।   বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল   নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক  মোঃ এনামুল হক।   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী    অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।  তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ভার্গো টোব্যাকো
ভার্গো টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৪৪৬ কোটি টাকার কর ফাঁকি অভিযোগ: এনবিআরের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গাজীপুর ও বারিধারায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি করেছে এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা।  গোপন তামাক ও উৎপাদনের হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক কেনা হলেও তার বড় অংশ মূসক রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অঘোষিত তামাক ব্যবহার করে প্রায় ১১০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা হয়। প্রতি শলাকার ন্যূনতম বাজারমূল্য ৫ টাকা ধরে এর মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একাধিক অভিযান ও নথি জব্দ এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) ২০২৫ সালের আগস্টে বারিধারার অফিস এবং গাজীপুরের কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা হয়— ব্যাংক স্টেটমেন্ট মূসক রেজিস্টার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ ইমেইল সার্ভারের তথ্য তদন্তকারীরা বলছেন, এসব নথিতে গোপন লেনদেন ও হিসাব গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। National Board of Revenue (NBR)–এর অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলা করে।  দুই মামলায় মোট দাবি ৪৪৬ কোটি টাকা তদন্ত অনুযায়ী— প্রথম মামলা: ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দ্বিতীয় মামলা: ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা মোট অভিযোগিত কর ফাঁকি: প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এনবিআর বলছে, এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায়যোগ্য এবং এটি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির একটি গুরুতর উদাহরণ। অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি প্রক্রিয়া ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের ব্যবসার বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর এবং প্রয়োজনীয় নথি এনবিআরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত নথি ও উৎপাদন বিশ্লেষণে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য ও উত্তেজনা গাজীপুর কারখানায় উপস্থিত এক জেনারেল ম্যানেজার জানান, উৎপাদন ও কেনাকাটার হিসাব হেড অফিস থেকে পরিচালিত হয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। অন্যদিকে, কোম্পানির অভ্যন্তরে একজন পরিচয়ধারী ব্যক্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিষয়টি এনবিআরের আওতাধীন বলে মন্তব্য করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ফারইস্ট লাইফ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফে ৩২২৭ কোটি টাকার বিমা দাবি বকেয়া, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেট। প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি বকেয়া। একদিকে যেমন বিমা দাবি পরিশোধে সর্বনিন্মে অবস্থান, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে ভোগ-বিলাসে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, কোম্পানিটির লাইফফান্ডের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। শুধু তাই নয়, ফারইস্ট লাইফ পদে পদে লঙ্ঘন করছে আইন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম আর লুটপাটের ফলে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা।   গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেয় নতুন চেয়ারম্যান, কোনো উন্নতি নেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, পরে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নোয়াখালী-০৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো উন্নতি হয়নি। ফারইস্ট লাইফ গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা দিতে না পারলেও আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে। আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল হলেও ভোগ-বিলাসে সবচেয়ে এগিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফারইস্ট লাইফই ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আইন অনুযায়ী এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক দুর্দশার মধ্যেও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিটি অবৈধভাবে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ভয়াবহ তারল্য সংকটেও কোম্পানিটির এত টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।   সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্টের বিমা দাবির টাকার জন্য গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন অস্থিরতা বিরাজ করছে। পলিসি পরিপক্ক হয়ে বছরের পর বছর সময় কেটে গেলেও তারল্য সংকটে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না কোম্পানিটি। ফারইস্ট লাইফের স্থানীয় শাখাগুলোতে টাকা না পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসছেন অনেকে, তাতেও মিলছে না ফল। দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ)। বিমা আইন অনুযায়ী পলিসি পরিপক্ক হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বিধান থাকলেও তা মানছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয়  এ প্রতিবেদকের। সুমাইয়া নামের একজন গ্রাহক জানান, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি বিমা দাবির টাকা পাননি। পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে অভিযোগ করেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিআরএ, তাতেও মেলেনি সুরাহা। এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় শীর্ষনিউজের, যাদের অধিকাংশেরই ৫ থেকে ৬ বছর আগেই পলিসি পরিপক্ক হয়েছে। বিমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটিতে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশই এই কোম্পানির। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার দাবি উত্থাপন করেন। এর বিপরীতে কোম্পানিটি ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহকের ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটিতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া পড়ে থাকা দাবির হার ৯৪ শতাংশ। ফারইস্ট লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বা বিমা তহবিল ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক। সাধারণত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়, যা থেকে পরবর্তীতে দাবি মেটানো হয়। তহবিল ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা সম্পদ কোম্পানিটির হাতে নেই। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহিম ভূইয়া শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি অনেক বেড়ে গেছে। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা, এটা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।   অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে শীর্ষে আরও যেসব বিমা কোম্পানি আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বছরটিতে ব্যবস্থাপনা খাতে সব থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা খাতে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর পরের স্থানেই রয়েছে শান্তা লাইফ। কোম্পানিটি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার তালিকায় রয়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফও। কোম্পানিটি আইন লঙ্ঘন করে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে এনআরবি ইসলামী লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রোটেক্টিভ লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এ হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া চার্টার্ড লাইফ ৮ কোটি ৪৭ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৬ কোটি ৬১ লাখ, সান লাইফ ৬ কোটি ২৩ লাখ, স্বদেশ লাইফ ৬ কোটি ৫ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফ ৫ কোটি ৯১ লাখ, সোনালী লাইফ ৫ কোটি ৩৪ লাখ, যমুনা লাইফ ৫ কোটি ৩৩ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ৪ কোটি ৬৬ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ৩ কোটি ৩৮ লাখ, বায়লা লাইফ ২ কোটি ৫৮ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ২ কোটি ৪১ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ১ কোটি ৩৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, বছরটিতে চার্টার্ড লাইফের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফের ২৫ কোটি ৫৭ লাখ, সান লাইফের ৩ কোটি ৫৩ লাখ, স্বদেশ লাইফের ১০ কোটি ৭৯ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফের ৪ কোটি ১২ লাখ, সোনালী লাইফের ৩৭৮ কোটি ৬৩ লাখ, যমুনা লাইফের ১৭ কোটি ৩৬ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৮ কোটি ৮৫ লাখ, গোল্ডেন লাইফের ১১ কোটি ৮৫ লাখ, বায়লা লাইফের ৬ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ৮ কোটি ২৪ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফের ৪ কোটি ৮৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফের ১০ কোটি ১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। এসব বিষয়ে কথা বলতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
শওকত আকবর
রূপপুর গ্রিন সিটি দুর্নীতি: বালিশ কাণ্ড, ড্রেসিং টেবিলে কোটি টাকা ব্যয় ও শওকত আকবরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত এই মেগা প্রকল্পের আবাসন খাত ‘গ্রিন সিটি’ এখন দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায়। সরকারি নিরীক্ষা, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে অস্বাভাবিক ব্যয়, প্রশ্নবিদ্ধ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বিলের বিস্ময়কর তথ্য। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ঘুরেফিরে এসেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা একজন প্রকল্প পরিচালকের অগোচরে এমন ব্যয়ের অসঙ্গতি দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রায় অসম্ভব। ড্রেসিং টেবিলে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এমন একটি ড্রেসিং টেবিল সরকারি নথিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে একই ধরনের পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্য নিয়ে। কোথাও একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, কোথাও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আবার কোথাও সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন ব্যয়ের অনুমোদন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের বাইরে সম্ভব নয়। কারণ ক্রয় অনুমোদন, বিল যাচাই এবং অর্থ ছাড়—সবই শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ‘বালিশ কাণ্ড’ যেভাবে প্রতীকে পরিণত হয় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তথাকথিত ‘বালিশ কাণ্ড’। সিএজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বালিশ কেনা ও বহনের জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়। পরে একে একে সামনে আসে বিছানার চাদর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক অংশ। ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অস্বচ্ছ। অভিযোগ রয়েছে, বাজার যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং পরে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রূপপুর প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও নিয়মসম্মত কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর দপ্তরের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁর দায়িত্বকালেই বালিশ, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সুরক্ষা ছাড়া এত বড় আর্থিক অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. শওকত আকবরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ তাঁর নেই। দুদকের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের ২৯ জন প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান সত্ত্বেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না? বিদেশ সফর ও বিলাসী ব্যয়ের অভিযোগ শুধু আসবাবপত্র নয়, বিদেশ সফর ও আবাসন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসা ভাড়া দেখানো হলেও তাঁরা অবস্থান করেছেন বিলাসবহুল হোটেলে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময়েও প্রকল্পের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন মো. শওকত আকবর। বৃহত্তর প্রশ্ন: কতটা নিরাপদ মেগা প্রকল্পের অর্থ? সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, যদি একটি প্রকল্পে বালিশ, ড্রেসিং টেবিল ও আসবাব কেনাতেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাহলে মূল অবকাঠামোগত কাজগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—সেটি নিয়েও জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আদালতে করা আবেদনে রূপপুর প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। জবাবদিহির প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রকল্পে যদি অনিয়মের অভিযোগের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মেগা প্রকল্পগুলোও একই ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকলেও জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে—এত অভিযোগ, এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং এত তথ্য প্রকাশের পরও কেন মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দেখা যাচ্ছে না? আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—মো. শওকত আকবর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা
বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন? গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি পদায়ন ঘিরে প্রশ্ন

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
প্রাণ-আরএফএলের বিরুদ্ধে প্রভাব, ভ্যাট ফাঁকি
প্রাণ-আরএফএলের বিরুদ্ধে প্রভাব, ভ্যাট ফাঁকি ও একচেটিয়া কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে...............   ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমন
বরিশালে ডিসির বিরুদ্ধে নির্বাচন তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ, প্রশাসনে অসন্তোষ

 বরিশাল অফিস :   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নামে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনিক চাপ, বদলি এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বরিশালের ১০ উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ১৯৭টি ভোটকক্ষ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ, ১৯৫টি দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৮৯৩টি দুর্গম ভোটকক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন নথিতে এ সংখ্যাগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি স্মারকে প্রথমে দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫ করা হয়। একইভাবে মুলাদীতে ৭২ থেকে ৩৯ এবং হিজলায় ৪৯ থেকে ২৩টি দুর্গম কেন্দ্র দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ দেখিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আনা হয়েছিল, তার বড় অংশ ডিসি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ‘ভুয়া ভাউচার’ সমন্বয়ের অভিযোগ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসের জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, সরঞ্জাম পরিবহন ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈধ দেখাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত ভাউচার পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে নিয়োজিত ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আপ্যায়ন, পিএল ব্যয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত সহকারী কর্মীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে অনেক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। পরে কয়েকজনকে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও বাকি অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাকডেটে ভাউচারে সই করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও বদলির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখা, মানবসম্পদ শাখা এবং অন্য জেলায় বদলির ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।” আরও যেসব খাতে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পর্যবেক্ষক টিম, আপ্যায়ন ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যবহারে অনিয়ম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। ডিসি বাংলোর সংস্কারের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় আট লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টিআর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের ব্যয় বৈধ নয়। ডিসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলী শহিদুল
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সফলতা

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল থেকে:  বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান রূপান্তর আজ দৃশ্যমান। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে এক ধারাবাহিক লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন কঠোর মনিটরিং-নির্ভর প্রশাসক হিসেবে—যিনি উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং গুণগত মান ও জবাবদিহিতাকে সামনে এনেছেন। এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, অভিযোগ এবং সম্ভাবনা। স্থবিরতা থেকে গতি: বাস্তবতার প্রেক্ষাপট   বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো এক সময় ছিল অবহেলার প্রতীক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পাঠদান চলত। উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব ছিল সাধারণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। “গুণগত মানই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি”   মো. শহিদুল ইসলামের কাজের দর্শন স্পষ্ট—“কাজের মান নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।” তার বক্তব্য অনুযায়ী:     চলমান প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে     কাজের গুণগত মানে কোনো আপস চলবে না     ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবাই যেন প্রকল্পের সুফল পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা এই দপ্তরের কাজের ধরনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিং ব্যবস্থায়। তার নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:     প্রতিটি প্রকল্পের নিয়মিত সাইট পরিদর্শন     চলমান অবস্থায় ত্রুটি শনাক্তকরণ     নির্দিষ্ট সময়সীমা (বিশেষ করে জুন মাস) নির্ধারণ     কাজ শেষে ত্রুটি পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন: “কাজ শেষ হওয়ার পরে যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই অবস্থান প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভেতরের কণ্ঠ: কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া   একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান:     “বর্তমানে শতভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওপর জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে টিকে থাকা কঠিন।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দপ্তরের ভেতরে একটি কর্মচাপ তৈরি হয়েছে—যা উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। উন্নয়নের পরিসংখ্যান: সংখ্যায় বরিশালের পরিবর্তন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মূল তথ্যসমূহ:     মোট চলমান উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৬৯৬–৭০০ কোটি টাকা     গত অর্থ বছরে ব্যয়: ৭৬ কোটি টাকা     চলমান প্রকল্প সংখ্যা: ১১টি বড় প্রকল্প     বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৪৬০টি এই প্রকল্পগুলোর আওতায়:     নতুন ভবন নির্মাণ     ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ     কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন     তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র: দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গেমচেঞ্জার   বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অগ্রগতি:     ব্যয়: প্রায় ১৬.৫ কোটি টাকা     ইতোমধ্যে ব্যয়: ৯.১৬ কোটি টাকা     নির্মাণাধীন ভবন: ১০ তলা     আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু এই কেন্দ্র চালু হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে। মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: নারীর প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বর্তমান অবস্থা:     ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন     বাকি ৪টির কাজ প্রায় ৮০% শেষ     নির্ধারিত সময়: জুনের মধ্যে সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কলেজ ও স্কুলে অবকাঠামোগত বিপ্লব বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে: উল্লেখযোগ্য কাজ:       ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ (সরকারি কলেজসমূহে)     জেলা স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন     মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে:     শ্রেণিকক্ষ সংকট কমবে     শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে     শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে প্রকল্পের বৈচিত্র্য: বহুমুখী উন্নয়নের চিত্র বরিশালে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:     বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন     মাদরাসা উন্নয়ন     বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ     টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন     তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প বিশেষ করে “প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল” প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব চিত্র: দৃশ্যমান উন্নয়ন মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে:     বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন     পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর পরিবর্তন     নতুন নির্মাণ কাজের দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, “আগে যেখানে ক্লাস নেওয়া কঠিন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে।” প্রশংসা ও পর্যবেক্ষণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বরিশালের কাজ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। তবে কি সবই নিখুঁত?—অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন যদিও উন্নয়নের চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবে অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে: ১. সময়সীমা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? জুন মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২. অতিরিক্ত চাপ কি মানের ওপর প্রভাব ফেলছে? দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ কখনো কখনো মানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ৩. স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর? সব প্রকল্পে সমানভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্বাহী প্রকৌশলী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের ওপর। তিনি বলেন: “শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষকেও দিতে হবে।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি: ইতিবাচক না নেতিবাচক? তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে: ইতিবাচক দিক:     দুর্নীতি কমছে     কাজের গতি বাড়ছে     জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে সমালোচনা:     অতিরিক্ত চাপ     সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ     মাঠপর্যায়ে মানসিক চাপ সামগ্রিক মূল্যায়ন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:     উন্নয়নের গতি স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে     গুণগত মানে জোর দেওয়া হয়েছে     মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে     বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে তবে একইসাথে:     সময়সীমা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং     দীর্ঘমেয়াদে মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ     তদারকি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম।   বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দরকার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা। তবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা  প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে।  বরিশাল জেলা  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে  প্রকল্প গুলোর কাজের মান আরো উন্নত হোক।  প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো ,  দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করলে  অর্থও বাঁচবে, জনগণ উপকৃত হবে।   কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি: মোঃ শহিদুল ইসলাম মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান প্রকৌশলীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বরিশালের কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা গ্রামের সকলে পাবে। আপনারা  হচ্ছেন শিক্ষা প্রকৌশলের প্রাণ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন।  আর যদি কোন ঠিকাদারের  কাজের মান খারাপ হয়। তাহলে ঐ ঠিকাদার এবং কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তিনি ইত্তেহাদ নিউজকে বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কাজগুলোর বাস্তবায়নে গতির তথ্য দেয়া।এছাড়া সকল ঠিকাদারদের জুন মাস মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য  সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলমান অবস্থায় কাজের ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং সঠিক মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।  কাজ শেষ করার পরে যদি কোন ত্রুটি দেখা যায়,তবে  কাজ সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমা করা হবে না।তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বরিশাল জেলার এক সহকারী প্রকৌশলী  বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে শতভাগ কাজ সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দায়িত্বে থাকা সকলকে সততা ও আন্তরিকতা  নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি বাড়িয়ে কাজ করার দ্রিত তাগিদ দিয়েছেন। ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান বরিশালের মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যারমধ্যে গত অর্থ বছরে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ গত অর্থ বছরে শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়াও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। যার বেশির ভাগই চলতি অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। এসব প্রকল্প’র কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের মতো বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। দেশের ৩টি স্থানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মধ্যে বরিশালেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যার দুটি ফ্লোরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক দফতরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ঐ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৯.১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শেষ পর্যায়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজ দেশের ৪টি বিভাগীয় সদরে মহিলা পলটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে এ ইনস্টিটিউটের ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি কাজও প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পরে এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ সমূহে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুরোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবীদগণ। একইসাথে বরিশাল জেলা স্কুল ও বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও ৬তলা দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের এ দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনে আশাবাদী শিক্ষাবীদগণ।   দৃশ্যমান হচ্ছে বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত মাদরাসা উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তায় কলেজ সমূহের উন্নয়নে ২য় সংশোধিত প্রকল্প’, সরকারি কলেজ সমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প’, কারগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’, ১শ’ উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবান করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে জরাজীর্ন অবকাঠামোর কারণে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হত, তার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ৪৬০টি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল।    একটি পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ বরিশাল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন শুধু সংখ্যা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে:     গুণগত মান বজায় রাখা     স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা     এবং জবাবদিহিতা ধরে রাখার ওপর যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বরিশাল শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূসক সেবা ও পণ্য শাখার প্রথম সচিব রুহুল আমিন
এনবিআরের প্রথম সচিব রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের সফলতায় বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে পরিবর্তনের হাওয়া

বরিশাল অফিস :    বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় ছিল। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, এবং কমিশন-ভিত্তিক সংস্কৃতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে, কাজের মান উন্নত হয়েছে এবং দুর্নীতি কমেছে—এমন দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। একই সঙ্গে, তার কার্যক্রম ঘিরে অপপ্রচার, স্বার্থসংঘাত এবং চাপের কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রতিবেদনটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।  দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবর্তনের দাবি বরিশালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ ফয়সাল আলমের কর্মকাণ্ডে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গতিশীলতা এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ঠিকাদার বলেন, “আগে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত চাপ থাকে।” এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে নিয়মিত তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এখন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কাজের মান এবং সময়—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”  গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোরতা গণপূর্ত বিভাগের কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি ছিল, তা হলো নিম্নমানের নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি দেখা যেত, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একজন ঠিকাদার বলেন, “বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজের গুণগত মান তদারকি করা হয় নিয়মিত। কোনো ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আরেকজন যোগ করেন, “আগে অনেক সময় কাজ শেষ হলেই বিল পাওয়া যেত। এখন কাজের মান যাচাই না করে বিল ছাড় হয় না।” এই কঠোরতার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কাজের খরচ ও সময় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  বিল উত্তোলনে স্বচ্ছতা: নতুন বার্তা? গণপূর্ত বিভাগের কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অভিযোগ ছিল বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। অনেক ঠিকাদারই অভিযোগ করতেন, নির্ধারিত বিল পেতে হলে “অফ দ্য রেকর্ড” অর্থ লেনদেন করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, “বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে।” এই পরিবর্তনকে তারা একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।”  অতীতের ছায়া: অনিয়ম ও কমিশন সংস্কৃতি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ, এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ নতুন নয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে কাজের প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিষয়টি জড়িয়ে ছিল।” এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিবর্তন হয়েছে।বর্তমানে সেই ঘুষ ও কমিশন সংস্কৃতি নেই। দুর্নীতি দমনের দাবি ও বাস্তবতা স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোঃ ফয়সাল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অনিয়মের প্রবণতা কমেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে শুনতাম কাজ পেতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। এখন অন্তত সেই ধরনের কথা কম শোনা যায়।” সংশ্লিষ্ট মহলে তার সততা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা থাকার কথাও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি বার্তা দিতে পেরেছেন—অনিয়মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা।তবে এই অবস্থান তাকে কিছু বিরোধিতার মুখেও ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এটি নতুন কিছু নয়।” অপপ্রচার ও সমালোচনা ফয়সাল আলমকে ঘিরে একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে—তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই অস্পষ্ট বা প্রমাণবিহীন বলে দাবি করছেন ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা আগে সুবিধা পেত, তারা এখন অসুবিধায় পড়ছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—সমর্থন ও বিরোধিতা।  জবাবদিহির প্রশ্ন গণপূর্ত বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “কোনো কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে যেমন স্বীকৃতি পাবেন, তেমনি অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্যক্তিনির্ভর পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই টেকসই সমাধান।” প্রশাসনিক চাপ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য কাজ করা শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেই কথা বলেছেন মোঃ ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। কাজের ক্ষেত্রে বাধা আসে, বিশেষ করে যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজেও চাপ ও প্রতিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। নেতৃত্বের ধরন: কড়াকড়ি নাকি সংস্কার? ফয়সাল আলমের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে কঠোর এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন তার কড়াকড়ি কিছু ক্ষেত্রে  জটিলতা তৈরি করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেন, যা অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।” অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বলেন, “কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোরতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।” এই দুই ধরনের মতামতই একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন।  জনমত: আশা ও সংশয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফয়সাল আলমকে নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন দৃশ্যমান ফলাফলের জন্য। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “যদি সত্যিই দুর্নীতি কমে থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।” একজন প্রবীণ নাগরিকের মন্তব্য, “অনেকেই ভালো শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে না। দেখার বিষয় হলো, এটি কতদিন টিকে।”  ভবিষ্যতের পথ: টেকসই সংস্কারের প্রয়োজন বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন: * স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া * ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা * স্বাধীন অডিট * জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে গণপূর্ত বিভাগের কাজের মান আরও উন্নত হতে পারে।   বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান চিত্রে মোঃ ফয়সাল আলম একটি আলোচিত নাম। তার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপপ্রচার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে। একদিকে, কাজের গতি ও গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। শেষ পর্যন্ত, ফয়সাল আলমের নিজের কথাতেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়: “আমি কাজ করে যেতে চাই—মূল্যায়ন জনগণই করবে।” বরিশালের মানুষ এখন সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু
গণপূর্তের প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু :দুদকের তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ খাতের অন্যতম সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ফজলুল হক মধুকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল প্রদান এবং ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভুয়া বিল উত্তোলন, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান, এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই বিল ছাড়ের ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের কথা বলা হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে জনমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা গেলেও সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদারের প্রেক্ষাপটে এসব তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও কৃষিজমির তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আফতাব নগর এলাকায় তার প্রায় ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া গুলশান-১ এর একটি বহুতল ভবনে তিনি দুই তলা নিয়ে ডুপ্লেক্স বাসভবনে বসবাস করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলশান, নিকেতন, হাতিরঝিল ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার একাধিক উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি তার স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, তার নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, মাছের ঘের ও খামারের তথ্যও উঠে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে মোট কয়েকশ বিঘা জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। একই সময়ে তার পরিবারের সদস্যরাও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে সমালোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত দাবি করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
সরকার
ক্ষমতার দুই মাস: প্রত্যাশা, বিতর্ক ও ‘অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট’—বিএনপি সরকারের ভেতরের গল্প

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি, যা রাজনৈতিকভাবে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। নির্বাচনে এই বিজয় ছিল কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন।  দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল উচ্চাভিলাষী—জবাবদিহিমূলক শাসন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে, নাকি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত স্যাবোটাজে আটকে পড়ছে?  বিরোধী রাজনীতি: পরিকল্পিত চাপ ও ‘আনপপুলারাইজেশন’ কৌশল সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধী জোটগুলো। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছে। তাদের দাবির তালিকায় রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা সমসাময়িক ইস্যু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল স্বাভাবিক বিরোধী রাজনীতি নয়—বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। লক্ষ্য: সরকারকে ধাপে ধাপে অজনপ্রিয় করা। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পরিকল্পনা অনুযায়ী— * বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দেওয়া * বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় করা * নির্বাচনী সংঘাতকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করা * এবং শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হলেই এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬০ দিনের সাফল্য: অর্জন আছে, কিন্তু প্রচার নেই দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে সরকার ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এসব উদ্যোগ জনমনে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। যদিও বাস্তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। যেমন— * গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো প্রদান * সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ * কৃষি সহায়তা উদ্যোগ বিশেষ করে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি খাতে আধুনিকীকরণ ও সরাসরি সহায়তা প্রদানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ([Reuters][3]) তবুও সমস্যা হলো—এই সাফল্যগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনমনে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন বা কৃষক কার্ডের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সমীক্ষা না হওয়ায় সন্দেহ ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।  বিতর্কের শুরু প্রথম দিন থেকেই সরকারের যাত্রা শুরু থেকেই একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে।  শপথ অনুষ্ঠান: ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। * তীব্র গরম * পানির অভাব * অতিথিদের দুর্ভোগ এই ঘটনা সরকারের প্রথম ইমপ্রেশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। মন্ত্রিসভা গঠন: অভিজ্ঞতার ঘাটতি ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার মধ্যে ৪১ জনই নতুন মুখ—যাদের অনেককেই দলীয় নেতাকর্মীরাও চেনেন না। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। যদিও নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয় একীভূত করে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ([The Business Standard][4])  প্রশাসনের ভেতরের ‘সিন্ডিকেট’: নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? সরকারের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।  বিতর্কিত নিয়োগ * প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ * অতীতে বিএনপি-বিরোধী ভূমিকা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো * গোয়েন্দা রিপোর্ট উপেক্ষা করে পদায়ন এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে।  সচিব পদে অস্বচ্ছতা ২৫ মার্চ একসঙ্গে একাধিক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই বিতর্কিত। কিছু নিয়োগ ইতোমধ্যে বাতিলও হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন নিয়ে ‘টাকা লেনদেন’ ও মাফিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আর্থিক খাত: সংস্কার না পুনর্বাসন? সরকারের আর্থিক নীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং সংকট অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে বাধা।   ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ এই আইন নিয়ে সমালোচনার মূল কারণ— * ঋণখেলাপীদের পুনর্বাসনের সুযোগ * বিচারহীনতার সংস্কৃতি জোরদার হওয়ার আশঙ্কা সমালোচকদের মতে, এটি আর্থিক খাতে সংস্কারের বদলে পুরনো সমস্যাকে নতুনভাবে বৈধতা দিতে পারে।  নীতিনির্ধারণে বিশৃঙ্খলা: পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— * জবাবদিহিমূলক সরকার * প্রশাসনিক সংস্কার * দুর্নীতি দমন বাস্তবে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির ফারাক স্পষ্ট। বিশেষ করে— * বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া * প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব * রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ এসব কারণে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনমনের প্রতিক্রিয়া: ভালোবাসা থেকে অভিমান সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিএনপির প্রতি একটি আবেগী সমর্থন রয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো— * দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই অসন্তোষ বেশি * সমালোচনা থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসছে না * সরকারের পক্ষে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ দুর্বল এই অবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ‘অভিমানের পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। কারণ ইতিহাস বলে— ভালোবাসা থেকে যেমন সমর্থন জন্মায়, তেমনি হতাশা থেকে ক্ষোভও তৈরি হতে পারে।  ‘অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব: বাস্তবতা নাকি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা? সরকারের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী— * গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘গুপ্ত’ লোকজন বসানো হয়েছে * তারা পরিকল্পিতভাবে ভুল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে * প্রশাসনিক স্যাবোটাজের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করা হচ্ছে ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে, উপমহাদেশে বহুবার অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রই বড় রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বড় সমস্যা হলো— এটি প্রমাণ করা কঠিন, এবং অনেক সময় এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।   বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট:  ১. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি।  ২. জনআস্থা পুনর্গঠন শুধু প্রকল্প নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. রাজনৈতিক মোকাবিলা বিরোধী চাপ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল একসঙ্গে সামাল দিতে হবে। সংকটের মধ্যেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। কিন্তু মাত্র দুই মাসেই স্পষ্ট হয়ে গেছে—ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক কঠিন। সাফল্য আছে, কিন্তু তা দৃশ্যমান নয়। নীতি আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল। সমর্থন আছে, কিন্তু তা ক্ষয় হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় কথা—সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিরোধীদল নয়, বরং নিজের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা। এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই: সরকার কি নিজস্ব ভেতরের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, নাকি সেই সংকটই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ভিআইপি প্রটোকল
ভিআইপি নিরাপত্তায় বিতর্কিত নিয়োগ: দেহরক্ষীদের নিয়ে অস্বস্তিতে সরকার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই।  নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন,  “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”  কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন,  “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন,  “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।”  চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”  বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0