মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : মিজ সানজিদা শারমিন।ডাক নাম লাভলী।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ে।যে বেতন পান, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলার কথা।কিন্তু হয়েছে উল্টো।নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে অফিসে যান।লেটেস্ট মডেলের প্রিমিও গাড়ি।বেতনের অর্ধেক টাকা দেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে।স্বর্ন কেনা তার সখ।পার্লারে খরচ করেন দু হাতে।তার পরেও এই চাকরি করেই গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।গাড়ি-বাড়ি,জমি-জমা,ফ্ল্যাটসহ রয়েছে অনেক সম্পদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে,অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট নিয়েছেন অক্সফোর্ড মিশন রোডে। ২০ বছরের চাকরিজীবনে তার রয়েছে জমি,ফ্ল্যাট,স্বর্নালংকার,গাড়ি, জমিসহ নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ।চড়েন প্রায় অর্ধকোটি টাকার দামের প্রিমিও গাড়িতে। দু’হাতে কামাই করছেন।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়।ঘুস ,দুর্নীতি-অনিয়ম,অনৈতিক ও ফাইল ঢিল করার মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে সুত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সানজিদা শারমিন বলেন,আমি গাড়ি ক্রয় করেছি এটা সত্য।আমার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এটাও সত্য।তবে সম্পদের পাহাড় গড়ার কথা অস্বিকার করেন। অপর একটি সুত্র জানিয়েছে,ঘুসের বিনিময়ে কর ফাকিঁ দেয়া ব্যবসায়ী,ডাক্তারসহ বিভিন্ন লোকের ফাইল ঢিল করতো সানজিদা শারমিন। কর অঞ্চল অফিসে ঘুসের রানী হিসেবেও তিনি এক পরিচিত নাম। কর অফিসের নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা জানান,সানজিদা শারমিন দুর্নীতিবাজ একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।এছাড়া কর অফিসের গোপন নথি ফাসঁ করার অভিযোগ রেয়েছে তার বিরুদ্ধে।এত ছোট চাকরি করে এত বিশাল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কর বিভাগের ভাবমূ্র্তি নষ্ট করায় তার বিরুদ্ধে কর বিভাগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতি পরায়নতার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।ব্যবস্থা না নেয়া হলে সুনাম ক্ষুন্ন হবে কর বিভাগের। ৪০ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারীর বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন রোডে অর্ধ কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্রিমিও গাড়ি কেনা,নামে বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ,এফডিআর,সঞ্চয় পত্র ,স্বর্নালংকার এবং অনেক জমি জমার খবর নিয়ে বরিশাল কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। এসব বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনে বিচার করতে হবে। যদি বিচার না করা যায়, তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৩ ভাইয়ের রাজ্যের অঘোষিত রাজা।বরিশালের সাবেক বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তা নেফাউল ইসলাম সরকারের দোসর মোঃ রতন মোল্লা।স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও নিজ স্বার্থ আদায়ে কর কমানো -বাড়ানোসহ তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে করের যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করেন।এক সময়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী কর বিভাগে স্টেনো টাইপিস্ট পদে চাকুরী লাভের পরেই ভাগ্য খুলে যায়। এখন তিনি অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক,বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র,জায়গা-জমি,বহুতল ভবনের মালিক।আলাদিনের চেরাগও যেন হার মানিয়েছে রতন মোল্লার কাছে।এখন তিনি একজন ধনকুব।সহায়-সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর কমিশনার ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের করের ফাইল আটকিয়ে জিম্মী করে অনৈতিকভাবে ঘুস আদায় করাই যেন রতন মোল্লার পেশা।তিনি কাউকে থোরাই কেয়ার করেন না।ঘুস আদায়ে বেপরোয়া । কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারনে একজন প্রিয় কর্মচারীতে পরিনত হয়েছেন বরিশাল কর বিভাগে।একই কর্মস্থলে সার্কেল -২ ও সার্কেল -৮ এ রয়েছেন ১০ বছর।সকলের বদলী হলেও রতন যেন কর ভবনের স্থায়ী কর্মচারী।তার বদলী না হওয়ায় কর বিভাগের সকলেই বিস্মিত। কে এই রতন মোল্লা : অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-৮ এ স্টোনো পদে মোঃ রতন মোল্লা চাকুরী নেয়ার পূর্বে বরিশাল নগরীর সদর রোড সংলগ্ন বাটার গল্লির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরী করতেন। এ সময় তিনি জমির দালালিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। কর বিভাগে চাকুরী হবার পরও পূর্বের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বরিশাল পূর্ব বগুড়া রোড ‘সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে। যেভাবে জড়িয়েছে দুর্নীতিতে : রতন মোল্লা।স্টোনো টাইপিস্ট পদে থাকায় অফিসের নির্দেশে তার দায়িত্ব বিভিন্ন ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ডাক্তারদের কর এর তালিকা করার। তালিকা অনুযায়ী রতন মোল্লা সকল ডায়াগনস্টিক ,ক্লিনিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বরিশালের ছোট-বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের আয়ের অনুকূলে কর দেয়ার সঠিক তালিকা করেন না। অফিসের বড় বড় ফাইলের ট্রাক্স কমানো, অডিটের কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলি বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা । বরিশালে কর অফিসে রতনকে অর্থ দিলে নিয়মের কাজ অনিয়মে হয়, আবার অনিয়মের কাজ নিয়মে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে এ সব কার্যক্রম করে আসছেন রতন মোল্লা। একাধিক স্থানে ক্রয় করেছেন জমি, হয়েছেন ভবন মালিক। রতন মোল্লার যত সহায় সম্পদ : কর অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও রতন মোল্লার সম্পত্তি আকাঁশছোঁয়া।তিনি বরিশাল নগরীর সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক,গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনে ৫ একর জায়গা ক্রয় করেছেন। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে ২ কোটি টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানে ৫ তলা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া চরফ্যাশন শহরে একটি দ্বিতল ভবনের কাজ নির্মাণাধীন। রতন মোল্লা সার্কেল -২ ও সার্কেল-৮ এই দুই সার্কেলে কর্মরত থাকাকালিন কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । যার বড় অংশ অফিসারদের দিয়ে বাকি অংশ নিজে নিয়েছেন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায় শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ির নামে ১ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। অজপাড়াগায়ের কৃষক বাবার সন্তান স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার চালচলন যেন মস্তবড় অফিসার। বরিশাল সোনালী ব্যাংক এর কর্পোরেট শাখা, সিএন্ডবি রোড শাখা, জনতা ব্যাংক-বাংলা বাজার শাখায় তার ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।কর আইনজীবীদের থেকে করদাতাদের ফাইল নিয়ে তিনি ঢিল করেন।কর বিভাগে তিনি একজন অঘোষিত কর আইনজীবীও। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : মোঃ রতন মোল্লা। একজন স্টেনো টাইপিস্ট, যিনি বর্তমানে সার্কেল-৮ কর অঞ্চল বরিশালে কর্মরত। ২০১৩ সালে নিয়োগের পর থেকে তিনি একমাত্র স্টেনো-টাইপিস্ট যিনি বরিশালের সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ ব্যতীত অন্য কোনো সার্কেলে চাকুরি করেননি। এ দুই সার্কেলে কর্মরত থাকার কারণে সে সবসময় হেডকোয়ার্টার এডমিন ও টেকনিক্যাল এর সাথে থাকেন। যে কারণে তার দুই সার্কেল ব্যতিত অন্য কোথাও পদায়ন হয় না। এই দুই সার্কেলে বেশিরভাগ ফাইলই তার দখলে। এই দুই সার্কেলে বড় বড় করদাতাদের সাথে যোগসাজসে অনেক ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ফাইল গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । বড় বড় দাবি নিস্পত্তি করেন বড় অংকের ঘুস নিয়ে। বিভিন্ন ডাক্তারদের ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে তিনি নিয়মিত হারে চাঁদাবাজি করছেন। ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অফিসারের নাম না জানলেও স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার নাম মুখস্থ।এ বিষয়ে বরিশালের কর আইনজীবীরা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর কমিশনারকে অবগত করানোর পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছে। আরও পড়ুন: বরিশাল কর অঞ্চল অফিসে ৫ ভাইয়ের রাজত্ব সম্প্রতি হেমায়েত উদ্দিন নামে একজন এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট রতন মোল্লার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে তার ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের বেশিরভাগ ডাক্তারদের ফাইল করেন মাহমুদুর রহমান তপু নামক একজন এ্যাডভোকেট। তার বোনের বিবাহে সহযোগিতা করে রতন মোল্লা তার খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন। তপু এবং রতন মোল্লা যোগসাজসে বেশিরভাগ ডাক্তারদেরকেই বিপদগ্রস্থ করেন। কোনো কোনো ডাক্তারদের অফিসে ডেকে বড় অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে দফারফা করেন। এক্ষেত্রে রাজস্বের পরিবর্তে সবটাই তাদের নিজস্ব। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়,তদন্ত করলেই যার সত্যতা পাওয়া যাবে। রতন মোল্লার ক্ষমতার প্রভাবে তার ভাই নাইটগার্ড ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ সার্কেল-১৬ লালমোহনে কর্মরত। তার আরেক ভাই লিটন মোল্লা নোটিশ সার্ভার, কর সার্কেল-১৯, গলাচিপায়। রতন মোল্লা ও তার ভাই ইব্রাহিম মোল্লা, লিটন মোল্লাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ আতাহার উদ্দিন।এছাড়া রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর আইনজীবীগন রেজুলেশন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন কর কমিশনারের নিকট।সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ আগষ্ট এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।
দেশকে বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা করলেও তার ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বর্তমানে তিনি একটি আলোচিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়ে পড়েছেন চরম হয়রানি ও অনিশ্চয়তার শিকার। আন্দোলন থেকে আসামির খাতায় জানা গেছে, পুরান ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন রাজিব। আন্দোলনের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও তার দুর্ভোগ থামেনি। উত্তরায় একটি হত্যা মামলায় তাকে ৪৯ নম্বর আসামি করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ২০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজিবের দাবি, তিনি কখনো উত্তরা এলাকায় যাননি। তার বাসা বংশাল এলাকায় হলেও তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় আসামি করা হয়। ৬ মাস কারাভোগ ও আর্থিক ক্ষতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৬ মাস কারাভোগ করেন রাজিব। জামিন পেতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তার ১৮টি দোকান (প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের) দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ও সন্তানের শিক্ষাজীবন—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। থানায় ডেকে হুমকি ও লকআপে আটকের অভিযোগ ২০২৫ সালের জুনে চকবাজার থানার এক এসআই তাকে থানায় ডেকে দোকানের চাবি দাবি করেন। চাবি না দিলে ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। তিনি সেই হুমকি রেকর্ড করলে তাকে লকআপে আটক রেখে রেকর্ড মুছে ফেলা হয় বলে দাবি করেন। পরে যুবলীগ পরিচয়ে হুমকি পেয়ে থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ উল্লেখ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই আইনজীবী পরিচয়ে ডেকে তাকে আদালতপাড়ার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে একাধিক কর্মকর্তা মত দেন। এমনকি এক প্রতিবেদনে তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদনেই নির্দোষ ৩ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বংশাল থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন— রিয়াজ উদ্দিন রাজিব কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি ৫ জানুয়ারি আদালতের এক আদেশে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিশনার তার দোকান-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। এর জের ধরেই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। থানার ওসির বক্তব্য বিষয়টি জানতে চাইলে একে মাহফুজুল হক, অফিসার ইনচার্জ, বংশাল থানা বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াজ উদ্দিন রাজিবকে থানায় ডাকা হয়নি। আগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজিব। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। অনিশ্চয়তায় এক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পুলিশের প্রতিবেদন তাকে নির্দোষ বললেও মামলা থেকে অব্যাহতি মিলছে না। ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভার—দুইয়ের মাঝেই অসহায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী হয়েও আজ তিনি নিজ দেশে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রশ্ন উঠছে—একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ কবে মুক্তি পাবেন কল্পিত মামলার দায় থেকে?
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে আসায় বর্তমানে প্রশাসনিক ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, যেমন আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আরথিক অনিয়মের অভিযোগ: অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে, সুজানগরের ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ: ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর: ১৪২/২০২৩)। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনৈতিক আচরণ, নারী সহকর্মীদের হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে। পুনরায় স্বপদে ফিরে আসা এবং কর্মকর্তাদের ক্ষোভ: অর্থ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, তদন্ত শেষে তাঁকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফরিদপুর সার্কেলে তাঁর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। খুলনায় যৌন হয়রানির অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনায় তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক নারী কর্মচারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ফরিদপুরে পদায়িত থাকলেও খুলনায় অবস্থান করে কর্মচারীদের ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এবং এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল-এর মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, ফরিদপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দ্রুত এবং আইনানুগ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী যে, এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারবে প্রশাসন।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর প্রক্রিয়ার সময় তার উপদেষ্টা ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘মব’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বের করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা সূত্রপাত হয় মনসুরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তাদের অসন্তোষ এবং প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিস্থিতি গভর্নর থাকার সময় মনসুরের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কয়েকজন কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন গভর্নর তিনজন কর্মকর্তাকে বদলির নোটিশ দেন। অভিযোগ, প্রতিবাদ সভার একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তারা মনসুরের পিএস ও অন্য দুই কর্মকর্তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধাক্কা, বাঁধা, অশ্লীল ভাষার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বের করা হয়েছে। পরে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর তিন কর্মকর্তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুল ইসলামকে হেড অফিস থেকে সদরঘাট শাখায় বদলি করা হয়েছে। বরিশালে আদালতে বিশৃঙ্খলা বরিশাল জেলা আদালতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের জামিন দেয়ায় হট্টগোল এবং আদালতের এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লিংকনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। হাইকোর্টও ওই ঘটনায় মামলার পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং ১১ মার্চ শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে হামলা ও ভাঙচুর বরিশালের ঘটনায় মানববন্ধন পালনকারী আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কক্ষে হামলা চালানো হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাসসেও অস্থিরতা নতুন সরকারের শপথের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসে অস্থিরতা দেখা দেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে সরানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কর্মকর্তারা মব সৃষ্টি করে তাকে সরানো হয়। বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মন্তব্য অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “মবের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।” মানবাধিকার কর্মী সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল আদালত, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কক্ষে হামলা—সবই মবের অন্যরূপ।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সরকারকে মব প্রতিরোধে সতর্ক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বরিশালের ঘটনায় আইন প্রয়োগের উদাহরণ অন্য ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়। মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এই ধরনের ঘটনার বৃদ্ধি এবং আইনের দ্রুত প্রয়োগে তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আইনগত পদক্ষেপই মব নিয়ন্ত্রণে মূল চাবিকাঠি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশাল নগরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বরিশাল জিলা স্কুল-এর প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে সর্বশেষ বিএনপির ছায়াতলে যাওয়ার অভিযোগে তাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দলবদলের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, গত সতেরো বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিজেকে শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শের সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই রচনা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সদর পাঁচ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার-এর বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সরকারি প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ বরিশালে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নবনির্বাচিত এমপিকে এভাবে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানাননি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শপথ গ্রহণের আগে এ ধরনের শুভেচ্ছা প্রটোকলবিরোধী। সমালোচকদের অভিযোগ, আগেভাগেই রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন নুরুল ইসলাম। অতীতের বিতর্ক বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি করা হয়েছিল বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা-য়। যদিও নুরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। দুর্নীতি ও বদলির ইতিহাস স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী পরিচয় দিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বদলি করে পাঠানো হয় ঝালকাঠি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়-এ। সেখানেও অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুনরায় বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘রেটিনা কোচিং সেন্টার’-কে জিলা স্কুলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। বিষয়টি নিয়ে তখন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতার বক্তব্য এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, “স্বৈরাচারি আমলে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া কেউ যদি খোলস পাল্টে অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। এরা শিক্ষক রূপে ব্যবসার ধান্দা করে, না হলে সবসময় ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় খুঁজত না।” আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা, জামায়াত সমর্থন এবং সর্বশেষ বিএনপি নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা—এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগে নুরুল ইসলাম এখন বরিশাল নগরীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। কে এই বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িত এই শিক্ষকের নিয়োগে শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পরিবর্তে তিনি সবসময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে তৎপর ছিলেন। ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচিত হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাও তাকে বদলির মুখে ঠেলে দেয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটানো বিভিন্ন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় টিকে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও ঝালকাঠিতে আমির হোসেন আমুর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নানা অনিয়ম আড়াল করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বই লিখে তিনি ‘মুজিববাদী প্রচারক’ হিসেবে পরিচিতি নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ঘরানার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পরপরই তিনি তিনটি ক্লাস বন্ধ রেখে রোদে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেন। অডিটরিয়াম থাকা সত্ত্বেও এমন আয়োজন করায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর আগে ঝালকাঠিতেও একইভাবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল জিলা স্কুলে ছাত্রদের কাছ থেকে আইসিটি বাবদ মাসিক টাকা নেওয়ার পাশাপাশি এককালীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্কুল উন্নয়নের নামে ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ মিলেছে। নিয়োগ পরীক্ষার সম্মানী আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরিসহ নানা অভিযোগে বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি। আন্দোলন দমনে ভূমিকা ২০২৪ সালের আগস্টে যখন দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তখন ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনরত নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিতে না দিতে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে জোর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখেন। সমালোচনার ঝড় বিগত আওয়ামী সরকারের দালাল খ্যাত নুরুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়ম-নীতির কোনরুপ তোয়াক্কা না করে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এর সাথে গোপনে স্ব-পরিবারে হজ পালন করেন। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময়ে অর্ধ বেতন এর নিয়ম-নীতিকে লঙ্ঘন করে তুলেছেন পুরো মাসের বেতন। সরকারের অনুমতি ছাড়া হজ পালন করার বিষয়ে ইসলামের ধর্মীয় ব্যাখ্যা জানতে চাইলে জিলা স্কুলের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি আব্দুল কাদের কাশেমী বলেন, সরকারি চাকুরীজীবিরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত হজ পালন করলে স্পষ্টতই গুনাহের কাজে শামিল হবেন। এমনকি হজের তথ্য গোপন করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলে সেই টাকাও হারাম বলে গন্য হবে। এদিকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দূর্নীর্তির তথ্য রয়েছে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেছেন স্কুল কম্পাউন্ডের শতবর্ষী গাছ। এছাড়াও দেড় লক্ষ টাকার কম্পউিটার, অত্যাধুনিক টেলিভিশন আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সাথে দলীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে হয়। এছাড়া কতিপয় মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। উল্লেখ্য, জিলা স্কুলের নতুন ছয়তলা ভবন করার জন্য সীমানা নির্ধারনী সভা হয়। ওই সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিতা রানি হালদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব, মিজানুর রহমান খান ও সিনিয়র শিক্ষক ফারুক আলম অভিযোগ করেন সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম স্কুল কম্পাউন্ডের পিছনের শতবর্ষী ৩ টি রেইনট্রি গাছ বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেন। জানা গেছে, ২০২৩ সালে রমজান মাসের ছুটি চলাকালীন সময়ে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ওই গাছ তিনটি বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে স্কুলের অফিস সহায়ক (নৈশ প্রহরী/দাড়োয়ান) আঃ জব্বার জানান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সময়ে গাছগুলো কাঁটা হয়েছে। শুনেছি টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে স্কুলের ফান্ড থেকে লাখ টাকা মূল্যের স্যামসাং ব্রান্ডের একটি টেলিভিশন ক্রয় করার কিছুদিন পর মেরামতের কথা বলে টিভিটি বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্কুল থেকে বদলি হয়ে গেলেও টিভি আর ফেরত দেয়নি তিনি। এছাড়াও স্কুলের ফান্ড থেকে ১টি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ১টি ডেক্সটপ কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার মোট একলাখ বায়ান্ন হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে কিন্তু ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার দুইটি আর স্কুলে জমা দেয়নি নুরুল ইসলাম। অন্যদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিন বাবদ খরচেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিফিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে কম দামে টিফিন সরবরাহ করা হতো এবং মাস শেষে নিজের ইচ্ছামত বাড়িয়ে টিফিনের বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল তাকে। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু বরগুনাতেও তিনি একই ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাকে দুই দিন অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়েছিল। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে, নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শাজাহান খানের সাথে পারিবারিক সখ্যতা গড়ে তুলে নাম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তবে তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থানীয় জনগণের চোখ এড়াতে পারেনি। তাদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। এরপর ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পর সুচতুর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়য়ে জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্র প্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন যা সম্পূর্ণরূপে আইন পরিপন্থী এবং এই টাকার হিসাব কোন শিক্ষকই তখন জানতেন না। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী খরচ করার বিধান থাকলেও তিনি ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে লোক দেখানো কিছু কাজ করে বেশিরভাগ টাকা পকেটস্থ করেছিলেন এবং শিক্ষকদের জোরপূর্বক ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। স্কুলের ক্রীড়া ফান্ড থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এমনকি বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারনে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে নুরুল ইসলমের বিরদ্ধে । এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানী নিজেই আত্মসাত করতেন। এসব অপকর্ম আড়াল করতে নিজের ফেসবুক আইডিতে হরহামেসাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুনকীর্তন চালিয়ে যেতেন এই শিক্ষক। এমনকি বঙ্গবন্ধুর নামে কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাসন স্বধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজ খরচায় শেখ মুজিবের মুরাল নির্মান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষন, ১৫ আগষ্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মীত কলামও লিখেতেন এই শিক্ষক। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বলছেন, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে বরিশাল জিলা স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক করা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পদোন্নতি ও পুনঃনিয়োগ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি বরিশাল জিলা স্কুলের মূল ফটকে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কারো সাথে আলোচনা না করেই ওই ছবির ওপরে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন। এর বিরোধিতা করলে তিনি সকলের সাথে খারাপ আচরন করেছেন।বঙ্গবন্ধুর ছবিতে সই করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জিলা স্কুলে আমিই প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছি। এজন্য বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে একটি সই করেছি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
জিএম কাদের এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। জিএম কাদের ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। অন্যদিকে জাপার অপর অংশ ২৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটি আসনেও জিততে পারে নি। কেন এই পরাজয়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব সংকট, সাংগঠনিক দুর্বলতা, জোটনির্ভর রাজনীতি এবং ভোটারদের আস্থাহীনতাই এ পরাজয়ের অন্যতম কারন। বৃহত্তর রংপুরের জাতীয় পার্টির দুর্গ ভেঙ্গে খানখান হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির কোনো প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। সূত্রমতে, মতে রাজনীতিতে টিকে থাকতে শক্তিশালী তৃণমূল সংগঠন অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় পার্টির অনেক জেলা ও উপজেলা কমিটি কাগুজে অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচি, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় দলটি ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো নতুন নেতৃত্ব ও বার্তাও দৃশ্যমান ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি বড় দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ দলটিকে ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হিসেবেই দেখে, বিকল্প শক্তি হিসেবে নয়। ফলে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় সমর্থন কমেছে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা নির্বাচনে অংশ নেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে মন্ত্রিসভায় থাকে, আবার বিরোধী দলেরও ভূমিকা পালন করে জাতীয় পার্টি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সমঝোতার মাধ্যমে আসন পেয়ে সংসদে বিরোধী দল হয়। এরপর ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জাপা মাত্র ১১ আসন পেয়েছিল। নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কেন ভরাডুবি এ বিষয়ে পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জনকণ্ঠ থেকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। যার ফলে পার্টির কোন প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির অপর অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু জনকণ্ঠকে বলেন, জিএম কাদেরের একরোখার কারণে এমন ভরাডুবি হয়েছে। আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে না যেতে। তিনি আমাদের কথা শুনলেন না। দল থেকে আলাদা হয়ে গেলেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতো না। এ দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। নির্বাচনে পার্টির ভরাডুবির বিষয়ে আমরা বসে আলোচনা করবো। এই অংশের অপর নেতা সুনীল শুভ রায় বলেন, এই পরাজয়ের দায় দায়িত্ব জিএম কাদেরের। কারণ তিনিই দলকে ভেঙেছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোট বিএপির প্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন। আমাদের জাপা ছোটখাটো জোট ছিল। সম্মিলিত জাতীয় জোট নির্বাচনে ২৮ প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্ত কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেনি। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল জাতীয় পার্টির। ওই বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে দলটি। এর দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল বর্জন করলে জাপা ২৫১ আসনে জয়লাভ করে। তবে ওই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে এরশাদ শাসনের। এরপর আর ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি দলটির। পরবর্তীতে যত নির্বাচন হয়েছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদন্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে। জাতীয় পার্টির জন্ম হয়েছে সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলটি গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় থাকলেও বিরোধীরা অতীতের শাসনামলকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে। তরুণ প্রজন্মের কাছে দলটির ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে ইতিবাচক বর্ণনা তুলে ধরতে না পারাও একটি কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে স্থানীয় জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি এমন প্রার্থী দিয়েছে, যাদের এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল ছিল। আবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ভোট বিভক্ত হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল না থাকায় ফলাফল নেতিবাচক হয়েছে। কয়েকটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেল দেখা যায় জাতীয় পার্টি একক ভাবে নির্বাচন করে কোন আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩৫টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও এককভাবে অংশ নিয়ে সারাদেশে ৩২টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পার্টি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে জাতীয় পার্টি পায় মাত্র ১৪টি আসন। ২০০৬ সালে জাতীয় পার্টি যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। আর এই মহাজোটে গিয়েই ধস নামতে শুরু করে জাতীয় পার্টির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোট থেকে ২৯টি আসন ছাড় পায় এরশাদের জাপা। ২০০৯ সালে গঠিত হাসিনা সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জিএম কাদের। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভমি ধস হয়েছে জাতীয় পার্টির। পাটিৃর চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর–৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। অন্যদিকে জিএম কাদের পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে নির্বাচন করে নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। দলের ‘দুর্গ’খ্যাত কুড়িগ্রামে একটি আসনেও জয় পাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে লাঙ্গল প্রতীকে দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতেই বিজয়ী হতে পারেননি। বরং চারটি আসনের তিনটিতেই জামানত হারিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় দলের চেয়ারম্যানকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের শোকজ কিংবা কারণ দর্শনোর নোটিস ছাড়াই যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। এর আগে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলের গঠনতন্ত্রের ‘বিতর্কিত’ ২০(ক) ধারাকে কেন্দ্র করে ফের ভাঙতে যাচ্ছে জাপা। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে শীর্ষপদ থেকে সরাতে জোট বাঁধে। অবশেষে রুহুল আমিন হাওলাদার ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আরেকটি জাপার সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম বারের মতো ভেঙে যায় জাতীয় পার্টি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৩ আসন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা দলটির দখলেই ছিল আসনটি। কখনও কোনো নির্বাচনে এখানে জয় পায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ইতিহাস বদলে গেছে। এই প্রথমবারের মতো আসনটি দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি সমর্থিত জোট। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জোট প্রার্থী নুরুল হক নুর ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেননি, তবুও জোট সমঝোতার মাধ্যমে আসনটি বিএনপির ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটের ফলাফল এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন। ঘোড়া প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৬ ভোট। আসনটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অতীত নির্বাচনের ইতিহাস পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আনওয়ার হোসেন হাওলাদার এবং ১৯৮৮ সালে একই দল থেকে মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে একে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন গোলাম মাওলা রনি। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হন এস এম শাহজাদা। তবে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি থেকে শাহজাহান খান জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচন আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই আসনে এবার পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় ইস্যু, জোট সমঝোতা এবং তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নুরুল হক নুরের বিজয়ের মাধ্যমে শুধু একটি আসন পরিবর্তন হয়নি, বরং দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের এ ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে বিএনপি সমর্থিত জোটের এই বিজয় আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে ফলাফলও। ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ আরও বিভিন্ন দল আসন পেয়েছে। আবার দলগুলোর মধ্য থেকে হেরে গেছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও। দেশব্যাপী হেরে যাওয়া এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ আসনের খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং ফুটবলার আমিনুল হকের নাম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পরাজয় খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। মির্জা আব্বাসের কাছে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন ছিল ঢাকা-৮। ওসমান হাদীর মৃত্যুর পর এ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে পোস্টাল ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। সবমিলিয়ে ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ২৩৯। হেরে গেছেন ফুটবলার আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন ধানের প্রতীকে নির্বাচন করা সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৩৭টি কেন্দ্রে মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট এবং আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে গেলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২ হাজার ৩২০ ভোটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। এই আসনে অংশ নেওয়া বাকি সাতজন প্রার্থী মিলে একসাথে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮১৩ ভোট। দুই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পরাজয় এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী বরিশাল-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে ৩৭ হাজার ৯০৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট, মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। এছাড়াও বরিশাল-৬ আসনে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ভোট পেয়ে তৃতীয়স্থান অর্জন করেন তিনি। সেখানে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও হেরে গেছেন পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমিরের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরেছেন ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সারজিস আলম। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করছেন। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪। কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে খুলনা-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ছিলেন কৃষ্ণ নন্দী। প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে সেখানে দলীয় প্রার্থী করে জামায়াতে ইসলামী। এঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচিত হলেও তার ওপর ভরসা রাখতে পারেনি সেখানকার হিন্দুরা। ফলে বিএনপি প্রার্থীর কাছে তাকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে। সে আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট, কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। হেরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের কাছে। ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে নির্বাচন করে এবার তিনি ৫ হাজার ৫৯২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের কাছে। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। অপরদিকে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। হেরে গেলেন তাসনিম জারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এভিডেন্স-বেইজড হেলথ কেয়ার বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ডা. তাসনিম জারা। দেশের রাজনীতি বদলানো স্বপ্ন নিয়ে তখন থেকেই তিনি ছিলেন সোচ্চার। শুরু থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাথে জড়িত থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। একই আসনে নির্বাচন করেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ, এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ২১৩টি সংসদীয় আসনে জয় লাভ করেছে দলটি। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক ভাবে ১৯৩টি আসনে জয় পেয়েছিল বিএনপি। এই নির্বাচনে বিএনপি দলটির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল। এছাড়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছিল বিএনপি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৪০টি আসনে জয় লাভ করেছিল দলটি। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে ৫৯ দশমিক ৪৪ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৯৯টি আসনে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ ভোটের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসি জানিয়েছিল, ভোটের হার পরে জানানো হবে। ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অধিকাংশ আসনে পোস্টালভোট যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে এই পরিসংখ্যান জানালে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণণা সম্পন্ন করেই এ তথ্য জানানো হবে। এর আগে, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এছাড়া সবচেয়ে কম ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছিল ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল নিরাপত্তা বলয়। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। বাহিনীগুলোর প্রধানদের ভাষ্য—এবারের নির্বাচনকে তারা একটি ‘উদাহরণমূলক’ নির্বাচনে পরিণত করতে চান, যেখানে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক। সেনাবাহিনী মোতায়েন, চলছে যৌথ অভিযান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগেই সেনাবাহিনীকে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নির্বাচনি মহড়া পরিচালনা করছে সেনাসদস্যরা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বিপুল প্রস্তুতির মাঝেও জনমনে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। নেত্রকোনায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ এবং বগুড়ায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এসব ঘটনার মধ্যে ৮৯টি সংঘর্ষ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। বগুড়ার পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আতোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, নেত্রকোনার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আকাশ, নৌ ও স্থল—তিন স্তরের নিরাপত্তা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আকাশপথে দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী উপকূল ও নদী এলাকায় থাকবে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড স্থলভাগে কাজ করবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সশস্ত্র বাহিনী: ১ লাখ ৮ হাজার বিজিবি: ৩৭ হাজারের বেশি কোস্টগার্ড: ৩ হাজার ৫০০ পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার এছাড়া র্যাব সদস্যরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, সারা দেশে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি জানান, ৮০–৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রাজধানীতে কড়া নজরদারি ঢাকা মহানগরীতে যৌথবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ধানমন্ডি, বনানী, খামারবাড়ি, বসিলা ও শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও দ্রব্য ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। বনানী থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রত্যাশা—কঠোর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটিই তার জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে তিনি নিজেও একজন প্রার্থী। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচনী মাঠে নামেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অতীত, দুর্নীতির অভিযোগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসব অভিযোগ বিএনপি বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দলটি দাবি করছে—এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। প্রায় সতের বছর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার সময় তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর সরাসরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পর, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। যদিও তিনি ২০১৮ সাল থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছিলেন। নেতৃত্বে আসা কতটা অনিবার্য ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের আসাটা ছিল অনেকটাই অনিবার্য। “২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই দলটি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চলছিল। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণে কোনো বড় অনিশ্চয়তা ছিল না,” বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশে থেকেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তারেক রহমানের বড় রাজনৈতিক সাফল্য। “দেশের বাইরে থেকেও তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং দল ভাঙতে দেননি। তবে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্তগুলো কতটা পরিণত হয়,” বলেন তিনি। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চাইছে তারেক রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও বটে। অতীতের বিতর্ক ও মামলা ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাভোগ করেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ‘হাওয়া ভবন’কে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিরোধীরা তখন তাকে একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে বর্ণনা করে। বিএনপি এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি এসব মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পান। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষা বিএনপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তার জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৬৮। হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’। সামনে কী অপেক্ষা করছে? এই নির্বাচনই তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মহিউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “তিনি রাজনীতির সংঘাত, দমন-পীড়ন ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো—এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল দলের নেতা নাকি ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বের উপযোগী রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারেন কি না।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তারেক রহমান প্রথমবারের মতো একক নেতৃত্বে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করলেন। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে—তার রাজনৈতিক উত্থান কতটা স্থায়ী ও প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।
রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এর সম্পদের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তার এই সম্পদ দেখানো হয়। এর আগে তার আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ছিল না, এবারই প্রথম তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম এর মোট সম্পদ ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও তাদের স্ত্রীর সম্পদবিবরণী মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ উপদেষ্টার সম্পদের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং কয়েকজনের সম্পদ কিছুটা কমেছে, এবং কয়েকজনের স্ত্রীর সম্পদ স্বামীর চেয়ে বেশি। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই সময়ের সম্পদ প্রকাশকে সমালোচনা করেছে। টিআইবি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “স্বচ্ছতার স্বার্থে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই সম্পদবিবরণী জমা দেওয়া উচিত ছিল। শেষ সময়ে প্রকাশ করা প্রহসনের সামিল।” উপদেষ্টাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ রয়েছে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও আকিজ-বশির গ্রুপের কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীনের—৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সম্পদের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যার সম্পদ প্রায় ৫৫ কোটি টাকা (যার বেশির ভাগ বিদেশে)। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এর মোট সম্পদ প্রায় ১৬ কোটি টাকা। কিছু আলোচিত উপদেষ্টার সম্পদ কম। যেমন অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এর সম্পদ মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রী শীলা আহমেদ কোটিপতি, যার সম্পদ প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সংস্কৃতি, অর্থ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের স্ত্রীরাও স্বামীদের চেয়ে ধনী। উদাহরণস্বরূপ, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এর সম্পদ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা, আগের ১.৪ কোটি টাকা থেকে। এছাড়া অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও স্বামীর সম্পদ বেড়েছে। গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সম্পদ দেখিয়েছেন। তার স্ত্রী সায়রা রহমান যুক্তরাজ্যের নাগরিক, এবং তার সম্পদ ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সম্পদ প্রায় ১৫.৫ কোটি, তবে তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ কমেছে। কিছু উপদেষ্টার সম্পদ কমেছে, যেমন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এর স্বামী। অন্যদিকে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার জ্বালানি ও রেলওয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর সম্পদ সামান্য বেড়ে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা হয়েছে। স্ত্রী দিলরুবা কবির এর সম্পদও ১০ লাখ টাকায় বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এর সম্পদ ২৫ লাখ টাকা বেড়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এর সম্পদ ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেড়েছে। সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর সম্পদ স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর চেয়ে বেশি, ১১ কোটি টাকা। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এর সম্পদ ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এর সম্পদ ১ কোটি, স্বামী ফরহাদ মজহার এর সম্পদ ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ হয়নি। ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজস্ব সম্পদবিবরণী প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার শাহীনবাগে একটি ফ্ল্যাট ও বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।
বাংলাদেশে চলমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে একটি বই প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বইটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইং জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ স্লোগানে রাস্তায় নেমে আসা লাখ লাখ বাংলাদেশির সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের সূচনা ঘটে। টানা প্রায় ষোল বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনতার সেই অভ্যুত্থান থেকেই জুলাই বিদ্রোহের জন্ম হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের মুখে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের সময় রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল ব্যাপক দুর্নীতি, দুঃশাসন ও প্রতিষ্ঠানিক ভাঙনের ভারে ন্যুব্জ। বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ফাঁপা হয়ে পড়ে। শত শত বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়, অনুৎপাদক ঋণে পঙ্গু হয়ে যায় ব্যাংকিং খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয় এবং বিচার বিভাগ পড়ে যায় দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জালে। এর ফলে জনগণ ভোটাধিকার হারায়, ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়মে পরিণত হয় এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ কার্যত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন করা হয় একাধিক সংস্কার কমিশন, যারা খাতভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করে। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধিত) প্রণয়ন করেছে এবং ৬০০টির বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে—যা কাগুজে পরিবর্তনের পরিবর্তে কার্যকর সংস্কারের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে সরকার। অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতায় ঋণের পরিশোধ সময়সীমা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক ভিত্তিতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জবাবদিহির ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী মামলা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে কার্যকর তদারকি চালু করা হয়েছে, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছ ক্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারে তদন্তাধীন ১ হাজার ২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) পুনর্গঠন করে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’। বিচার বিভাগকে নির্বাহী হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিচারক নিয়োগে মেধাভিত্তিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং পূর্বে নিষিদ্ধ গণমাধ্যমগুলোকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সাত মাসব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপ পরিচালনা করে, যা জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। এই সংলাপের ফল হিসেবে প্রণীত জুলাই সনদ সাংবিধানিক সংস্কারের মৌলিক দলিল হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। বইটিতে উল্লেখ করা হয়, এই সংস্কার কার্যক্রম একটি পুনর্কল্পিত শাসনব্যবস্থার প্রথম ধাপ—যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের ওপর আধিপত্য নয়, বরং তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। সরকার স্বীকার করেছে, ১৬ বছরের ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জনগণের যে সাহসী অবস্থান, তা একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। ফের রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি, ১৬ কর্মচারীর বদলিসহ শাস্তি প্রত্যাহার, বন্দরের স্বার্থ-বিরোধী কোনো চুক্তি না করা এবং ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে আনা যাবে না দাবি এমন দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এ সময় বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও।এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি কোম্পানিকে চট্টগ্রামের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা থেকে আপাতত সরে আসছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তবে চুক্তির আলোচনা চলমান থাকবে। অন্যদিকে এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লাগাতার কর্মবিরতি দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। ন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না। আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’ আশিক চৌধুরী জানান, এনসিটি ইজারা প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তারা আলোচনা বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে চুক্তির শর্ত পর্যালোচনা করতে তাদের আরো কিছু সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আলোচনা চলমান থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনো সময় সাপেক্ষ। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু আমাদের হাতে আর দুই কার্যদিবস সময় আছে। তাই আশা করছি এ আলোচনা এ সরকার পার হয়ে, নির্বাচন পার হয়ে আগামী দিনেও চলমান থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে এটি ফলপ্রসূ হবে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যায় না উল্লেখ করে নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। আর কয়েকদিন পরে রোজা। আমরা প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান চালাচ্ছি। বহির্নোঙরে পড়ে আছে ছোলা, ডাল ও তেল। ১৮ কোটি মানুষকে তারা (ধর্মঘটকারীরা) জিম্মি করেছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দাবি করেন, সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক। শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়- রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ রয়েছে, থেমে আছে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও। সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। বন্দর ও আশেপাশের এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্য মোতয়েন রয়েছে। সংগ্রাম পরিষদের দুজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে, কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলনে শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি। আন্দোলন দমাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে খবর পেয়েছি। এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যান। গত মঙ্গলবার থেকে সংগ্রাম পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ দুইদিনের জন্য তাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে আবারও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। ইউরোচ্যাম জানিয়েছে, বর্তমানে ১৩ হাজার কনটেইনারে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় আট হাজার কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য আটকে আছে। ফলে রপ্তানিসূচি ভেঙে পড়ছে, পণ্য সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোচ্যাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করার আহবান জানিয়েছে। এর আগে গত শনিবার ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর নেতারা এ উদ্বেগের কথা জানান।
সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যখন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন পূবালী ব্যাংক থেকে একটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ কিনে নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে ওই ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি টাকা। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ঋণ বেড়ে ৩০ কোটি হয়েছে। ঋণের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। খেলাপি হয়ে পড়ায় দুইবার ঋণ নবায়ন করিয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়নি। বর্তমানে আবু নাসের বখতিয়ার অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এখন আবার তিনি মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানী নামের হিমায়িত মৎস্য রফতানিকারী প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দিতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের ইচ্ছা আর নিজের সুবিধার বাস্তবায়নে কাজ করছেন চট্টগ্রামের সার্কেল মহাব্যবস্থাপক এ কে এম শামীম রেজা। জানা গেছে, দীর্ঘ একদশক ধরে চট্টগ্রামের এ প্রতিষ্ঠানটির রফতানি কার্যক্রম বন্ধ। এমন প্রতিষ্ঠানকেই ঋণ দিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন অগ্রণী ব্যাংকের নয়া চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানিকে ঋণ দিতে। এমনকি নিজ হাতে ফাইলে কাটাকাটি করে ঋণের টাকার পরিমাণ বাড়িয়েছেন। আর এসব অভিযোগ নিজ মুখে স্বীকারও করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। আপন দেশকে তিনি জানিয়েছেন, সববাধা ভেদ করেই এ খেলাপি প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দিতে চান তিনি। অগ্রণী ব্যাংকে চৌধুরী এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের বর্তমাণ ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা। গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার পুনঃতফসিলের সুযোগ দিলেও ঋণের টাকা পরিশোধ করেনি। উল্টো নতুন করে ৪০ কোটি টাকা ঋণ পেতে তোরজোর চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ঋণটি পাইয়ে দিতে খেলাপি ঋণকে নিয়োমিত দেখানো হয়েছে চেয়ারম্যানের নির্দেশে। এটি ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম। এছাড়া ডিএমডি সহ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেলে অন্য মালিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিজের ব্যবসা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরিদর্শক দলের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য স্বীকার করেছেন। এমনকি চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি স্বীকার করেন, চৌধুরী এন্ড কোম্পানির ব্যবসা বন্ধ থাকায় এখানে ভাড়ায় অন্য প্রতিষ্ঠান চলছে। অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট শাখার কোন সুপারিশ বা প্রস্থাব ছাড়াই চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রামের সার্কেল জিএম মিলে এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অথচ রফতানির মাধ্যমে চৌধুরী এন্ড কোম্পানির অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) তদন্ত করছে। অগ্রণী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, নতুন ঋণের জন্য ১৯৭৫ সালে নির্মিত ভবন ও ব্যবহার অযোগ্য যন্ত্রপাতি জামানত হিসেবে দিচ্ছে এ গ্রাহক। যেভাবে অগ্রণী ব্যাংকে ঢুকল চৌধুরী এন্ড কোম্পানী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখায় চৌধুরী এন্ড কোম্পানী (বিডি) লিমিটেডের অনুকূলে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ১২ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এ ঋণের মধ্যে পূবালী ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির দায়দেনা টেক-ওভার করা হয় ৮ কোটি টাকার। বাকি ৪ কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসাবে বিতরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি পূবালী ব্যাংকে থাকা অবস্থায় রুগ্ন ছিল। পূবালী ব্যাংক থেকে ঋণটি টেক-ওভারের সময় বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের ব্যাংকের এমডির দায়িত্বে ছিলেন। তার তত্বাবধানেই রুগ্ন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এদিকে অগ্রণী ব্যাংকে এ ঋণের সীমা দিন দিন বেড়েছে। ঋণগ্রহীতার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল ১২ কোটি টাকার ঋণসীমা ১৮ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়। যা সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়াদে নবায়ন করা হয়েছিল। বর্ধিত ৬ কোটি টাকা ঋণ দ্বারা ওই গ্রাহক মাত্র ৩ কোটি টাকার মাছ রফতানি করে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছিল বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্ কোং লিমিটেডের অনুকূলে ২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছিল দুদকে। ২০১৫ সালেল ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য উপান চাওয়া হয় ব্যাংকের কাছে। এ ঋণটি অনুমোদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যাতে অনিয়মের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এরপরও সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ মে ১৮ কোটি টাকা ঋণসীমা ২৫ কোটি টাকায় বর্ধিত করা হয়। পূবালী ব্যাংক থেকে টেক-ওভার করার চৌধুরী এন্ড কোম্পানির অনুকূলে তিন দফায় মোট ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা যথাযথভাবে ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে ফান্ড ডাইভার্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় মর্মে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নথি গেছে। এতে বলা হয়েছে, মেসার্স চৌধুরী এন্ড কোম্পানী একটি ১০০% হিমায়িত মৎস্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান। মঞ্চজুরীকৃত ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার হিমায়িত মৎস্য রফতানি করা হলে রফতানি মূল্য বা এক্সপোর্ট প্রসিড আসেনি। ঋণগ্রহীতা ফান্ড ডাইভার্ট করে টাকা আত্মসাৎ করায় বর্তমানে ঋণ হিসাবে ২৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা দায়স্থিতি রয়ে গেছে। এদিকে নতুন করে ৪০ কোটি টাকা ঋণের জন্য গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্রেডিট ডিভিশন-২ এর প্রকৌশলীরা কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর একটি রিপোর্ট দিয়েছেন তারা। উক্ত রিপোর্টে কারখানার যন্ত্রপাতি ১৭ বছরের পুরাতন এবং প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ এবং বর্তমানেও ঋণগ্রহীতার ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ আছে মর্মে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। পরিদর্শন টিমের ‘না’, চেয়ারম্যানের ‘হ্যা’ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানীকে নতুন ঋণ দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠাতে আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন সার্কেল জিএম শামিম রেজা। শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফয়ছল মোর্শেদ, চট্টগ্রাম সার্কেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক সফিউল আজম ও আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার এসপিও মোহাম্মদ শাহজাহানকে দুই বার প্রধান কার্যালয়ে ডেকে এনে রীতিমতো শাসিয়েছেন তিনি। এদিকে গত ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ক্রেডিট কমিটির সভায় শাখার প্রস্তাব ছাড়াই ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার এ মেমো কাটাকাটি করে ৫ কোটির পরিবর্তে ৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেন৷ অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, পরিচালনা পর্ষদের কোন চেয়ারম্যান নিজ হাতে কাটাকাটি করে ক্রেডিট কমিটির মেমো সংশোধন করেছেন- এমন নজির অগ্রণী ব্যাংকের ইতিহাসে নাই। অথচ বর্তমান চেয়ারম্যান ঋণগ্রহীতাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণসুবিধা প্রদানের জন্য নিজ হাতে কাটাকাটি করে ক্রেডিট কমিটির মেমো সংশোধন করেছেন। কর্মকর্তা বলেন, দ্রুততার সঙ্গে একটি মৃত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন প্রচেষ্ঠার রহস্য কি? কোনো ভালো গ্রাহকের ঋণ প্রস্তাবও এত দ্রুততার সঙ্গে পর্ষদ সভায় উপস্থাপিত হয় না। অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বক্তব্য এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, আমি চৌধুরী এন্ড কোং লিমিটেডকে টেকওভার করতে সহায়তা করেছি। তখন আমি এ ব্যাংকের এমডি ছিলাম। তিনি বলেন, ব্যাংক চাইলে একটি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে আবার চাইলে পথেও বসাতে পারে। গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠানকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। তারমধ্যে মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড কোং লিমিটেডে একটি। তিনি সাফ বললেন, যে যাই বলুক আমি এ প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিতে চাই। রাজনৈতিক কারণে বিগতদিনে আরও যেসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়েছে তাদেরকেও ঋণ দেব। এ সময় তিনি পারটেক্স বেভারেজ-এর এমডি রুবেল আজিজের নাম উল্লেখ করে বলেন, উনিও খেলাপি, তারপরও তাকে আমি ঋণ দেব…।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যালট প্রকল্পে কারিগরি সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। এজন্য রোববার ইসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাইকমিশনার অজিত সিং। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন কমিশন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার। চুক্তি স্বাক্ষর শেষে অজিত সিং বলেন, আমি বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের অগ্রগতিতে গর্বিত। কানাডা অবশ্যই বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার এবং বন্ধু। আমরা আপনাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, বর্তমানে ১ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি-কানাডিয়ান দুই দেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কী ঘটে তা কানাডা এবং বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিলার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের এ কনসোর্টিয়ামকে সমর্থন দেওয়ায় আমি কানাডার করদাতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, গত এক বছর ধরে ইউনেস্কো, জাতিসংঘ নারী, ইউএনওডিসি এবং ইউএনডিপি-এই চারটি সংস্থা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে আসছে। কানাডার এ নতুন তহবিল সেই প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতয়ি নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ইউএনডিপির সহায়তায় ব্যালট নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইসি। সেখানে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে কানাডা।
জানুয়ারি মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। এদিকে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কঞ্জুমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। চাল, তেল, সবজি, বাড়িভাড়াসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে গ্রামে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এদিকে জানুয়ারি মাসে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে, যা ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বিবিএস বলেছে, জানুয়ারি মাসে মজুরি হার খুব সামান্যই বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। কৃষি খাতে মজুরি হার কমে হয়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। শিল্প খাতে মজুরি হার কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা ডিসেম্বর মাসে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। সেবা খাতে মজুরি হার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। জানুয়ারিতে হয়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, ডিসেম্বরে মাসেও একই রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে চারদিনের জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেনে নতুন সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। লেনদেনের নতুন এই সীমা আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে কার্যকর হবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়ে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন; এর বেশি লেনদেন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সীমা অনুযায়ী লেনদেন পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থ পাচার ঠেকাতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক তথ্য প্রদানে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে চাইলে প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দলের পক্ষ থেকে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব শনাক্তকরণ তথ্য প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। এছাড়া বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২২-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সব ধরনের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব ব্যয়ের হিসাব সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে যে ব্যয় হবে তা অবশ্যই নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত সব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।