Brand logo light

বিশেষ সংবাদ

মশা নিয়ন্ত্রণে ধোঁয়ার ব্যবহার কার্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের (ফাইল ছবি)
ঘরে বাইরে মশা: ঢাকাসহ সারাদেশে মশার ভয়াবহ উপদ্রব, তিন কারণ চিহ্নিত

বিবিসি বাংলা: "ঘরে মশা বাইরে মশা, যেখানেই যাই মশা। মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মনে হয় মশা যেন তুলে নিয়ে যাবে।"  এভাবেই বলছিলেন ঢাকার উত্তরা এগারো নম্বর সেক্টরের খিদির খাল এলাকার বাসিন্দা শরিফুল হোসেন। দিনের বেলায়ও মশার কয়েল অথবা মশা প্রতিরোধক রিপিলেন্ট ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রাজধানীর রামপুরা আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা সিমি আক্তারও।  তিনি বলেন, বাসায় ছোট শিশু থাকায় মশা থেকে বাঁচতে দিন-রাত সবসময় বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখছেন। মশার এমন ভয়াবহ উপদ্রবেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস বলেন, "আগে তো মাঝেমধ্যে ধোঁয়া মারতে দেখতাম, অনেক দিন হলো সেটাও চোখে পড়ে না।" মশা বেড়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান কিংবা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও।  কেবল ঢাকায়ই নয় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ওইসব এলাকায়ও হঠাৎ করেই মশা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে সাধারণ মানুষের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবছরের পহেলা জানুযারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে অন্তত দেড় হাজার জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন চার জন। ড্রেন পরিষ্কার না করা, খালের সংযোগস্থল ভরাট এবং জমে থাকা পঁচা পানির কারণেই মশা বেড়েছে বলে মত কীটতত্ত্ববিদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অচলবস্থার কারণে কেবল ঢাকাই নয়, মশার উপদ্রব বেড়েছে গোটা দেশেই। যে তিন কারণে মশা বেড়েছে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যখন পরিবর্তনের হাওয়া, ঠিক তখনই সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা শহরেও মশার দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বছরের এই সময়ে প্রতি বছরই মশা কিছুটা বাড়ে বলেই মত কিটতত্ত্ববিদের। তবে এবার মশার উপদ্রব অনেকটা বেশি বলেই জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। এর পেছনে মোটাদাগে তিনটি কারণকে দায়ি করছেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের স্থানীয় সরকার প্রশাসন পুরোপুরি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ছিল না বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলবস্থার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায়, বিশেষ করে জনবহুল সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে মশা অধিক হারে বেড়েছে বলেই মনে করেন তিনি।  মি. বাশার বলছেন, "ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রশাসনের যে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল পুরো কাঠামোটাই ভেঙে পড়েছে।" দ্বিতীয়ত, বর্জ ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমসহ সব ধরণের তৎপরতার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না থাকায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পানি আটকে কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন মি. বাশার। "বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার জমে থাকা পানি স্থির থেকেছে, সেই পানি পরিষ্কার না করার দীর্ঘদিন ধরে পঁচেছে। এখন বসন্তের আগমনে কিছুটা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমে মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।" শুষ্ক সময়ে জমে থাকা পানি যদি সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিত তাহলে পানি পঁচতো না। মশার প্রজননের সুযোগও কমে যেত। তবে "এখন যে মশাটা আছে তার ৯২ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার বংশবৃদ্ধি হয় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পঁচা পানিতে," বলেন তিনি। তৃতীয় কারণ হিসেবে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াকে দায়ি করছেন এই কীটতত্ত্ববিদ। তার মতে, কেবল গত আঠারো মাসে নয়, বাংলাদেশে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে সাধারণত মশা নিয়ন্ত্রণে যে ফগিং বা ধোঁয়ার ব্যবহার করা হয় সেটি কার্যকর কোনো সমাধান নয় বলেই মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের কেবল খুশি করার চেষ্টা করা হয়। "ছোট বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে যেমন খুশি করার চেষ্টা করা হয় ঠিক একইভাবে নাগরিকদের খুশি করার পদক্ষেপ হচ্ছে ফগিং," বলেন তিনি। উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি থাকায় পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই, মশা নিয়ন্ত্রণে ধোঁয়া ব্যবহার এখন আর অনুমোদিত নয়। ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে গরম ও বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়। যদিও ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের যেকোন সময়ই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকারে বাড়লেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার এখনও আশঙ্কাজনক নয় বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ এবং কীটতত্ত্ববিদরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, মশার বর্তমান আধিপত্য এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন পদক্ষেপ জরুরি তেমনি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো দরকার। আমাদেরকে অবশ্যই আগেভাগে প্রস্তুতি রাখতে হবে, এপ্রিলে বৃষ্টি শুরু হলে এডিস মশা আমাদের চিন্তার কারণ হতে পারে।" ডেঙ্গুর শঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও কিউলেক্স মশাবাহিত রোগ এই সময় হতে পারে বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলছেন, "যখনই বৃষ্টি শুরু হবে তখন কিউলেক্স মশা মরবে আর এডিস মশা বাড়বে। কারণ বৃষ্টির পানি বিভিন্ন পাত্রে জমা হয়ে এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।" এ কারণেই বৃষ্টি শুরুর আগে এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ তার। এক্ষেত্রে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, "ছোট বড় পড়ে থাকা পাত্র ধ্বংস করতে হবে। এপ্রিলে বৃষ্টি শুরুর আগেই এগুলো করতে হবে যাতে বৃষ্টি শুরু হলেই পানি জমে থাকতে না পারে।"                                মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? মশার উপদ্রব এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এর যেন কোনো সমাধান নেই। প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয় ছোট্ট এই জীবের কামড়ে। সম্প্রতি মশার উপদ্রব যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি নিয়ন্ত্রণে ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করাই সব থেকে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, পরিষ্কার করার পর এই জায়গাগুলোতে কীট নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাতে মশার প্রজননস্থলগুলোই ধ্বংস হয়। "মশার উৎপত্তিস্থল যদি আমরা নষ্ট করতে পারি, তাহলে উড়ন্ত মশা পরবর্তীতে আর আসবেই না। আর মশার জন্মস্থান নষ্ট করে মশা নিয়ন্ত্রণ যত সহজ, উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা তো অতটা সহজ না," বলেন তিনি। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার? সম্প্রতি মশার উপদ্রব অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরেই আসছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করলেও মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও তেমন কার্যকর করতে পারেনি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. শফিকুল ইসলাম খান বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে সব কিছুতেই অব্যবস্থাপনা রয়েছে। "আমি দায়িত্ব নিয়েছি কয়েক দিন হলো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আশা করছি মশা নিয়ন্ত্রণে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবো আমরা," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি। মশা নিধনে 'জিরো টলারেন্স' এর কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বা ডিএসসিসি এর প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। "মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ 'ক্র্যাশ প্রোগ্রাম' শুরু করা হবে," বলেও জানান মি. সালাম।              

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
আনোয়ারুল ইসলাম
এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে

মামুনুর রশীদ নোমানী: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত অফিস করছেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ নিয়ে সহকর্মীদের মাঝেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।  স্বৈরশাসক হাসিনা পালালেও তার দোসর এলজিইডির লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী  শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট। সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে।আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন  আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল । বিপুল সম্পদের অভিযোগ সূত্র মতে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে— স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় ময়মনসিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি একটি বহুতল ভবনে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্যবান জমি ব্যক্তিগত দামী গাড়ি ব্যবহার স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুদকের মামলা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান থাকলেও তা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হবে। আত্মগোপন ও সম্পদ পাচারের আশঙ্কা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আনোয়ারুল ইসলাম মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া, সম্প্রতি তার বড় ছেলেকে উচ্চ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের দাবি সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়
বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়

ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব গ্যাস বাজার এবার ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়লে ২০২২ সালের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় এলএনজির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাতার থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এসব দেশ হন্যে হয়ে বিকল্প রুটের সন্ধান শুরু করেছে। গত শনিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর মেজর জেনারেল ইব্রাহিম জাবারি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সাথে সাথে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন
মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি: ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় কোন কোন ঘাঁটি ঝুঁকিতে? মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সদস্য এসব ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নতুন করে বাড়ায় এই ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে বা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এসব ঘাঁটি মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। কাতার: আল উদেইদ—সবচেয়ে বড় ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারের Al Udeid Air Base। এখানে সেন্টকমের ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার ও বিমান বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড রয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা এখানে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে ঘাঁটি থেকে বহু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাহরাইন: পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত United States Fifth Fleet-এর সদরদপ্তর পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগরে মার্কিন নৌ তৎপরতা পরিচালনা করে। এই ঘাঁটি ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন’ নামে পরিচিত। প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা এখানে মোতায়েন রয়েছে। এ অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ USS Carl Vinson-এর মতো সুপারক্যারিয়ারও চলাচল করে। এছাড়া রয়েছে মাইন বিধ্বংসী জাহাজ ও কোস্টগার্ডের দ্রুতগামী নৌযান। কুয়েত: লজিস্টিক ও অপারেশনাল হাব কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি কেন্দ্র। এখানে অবস্থিত Camp Arifjan সেন্টকমের লজিস্টিক হাব হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে Ali Al Salem Air Base ঘাঁটিতে মার্কিন ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। শুধু এই দুই ঘাঁটিতেই প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। এখানে ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনও মোতায়েন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত: আল ধাফরা ঘাঁটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের Al Dhafra Air Base একটি কৌশলগত বিমান ঘাঁটি। এখানে মার্কিন ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং রয়েছে, যা গোয়েন্দা নজরদারি ও যুদ্ধ বিমান অভিযানে সহায়তা করে। ইরাক: সীমিত কিন্তু কৌশলগত উপস্থিতি ইরাকে একসময় এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় আড়াই হাজারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনী মূলত Islamic State-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয় Al Asad Airbase ও Erbil Air Base থেকে। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এসব ঘাঁটি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সিরিয়া: পুনরুত্থান ঠেকাতে সীমিত উপস্থিতি সিরিয়ায় প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান ঠেকানো। ২০২৪ সালের শেষদিকে Bashar al-Assad ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সিরিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ঝুঁকি ইসরায়েল–ইরান উত্তেজনা, লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং গাজা সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন অস্থির সময় পার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালে এসব ঘাঁটি তাৎক্ষণিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঝুঁকিও বেশি।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও এসব ঘাঁটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় নজরকাড়া বিষয়।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বহু দশকের পুরোনো এবং বর্তমানে তা মূলত United States Central Command (সেন্টকম)-এর অধীনে পরিচালিত হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, ইসরায়েল–ইরান সংঘাত, এবং ইয়েমেনের হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে এসব ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নিচে প্রধান দেশভিত্তিক মার্কিন ঘাঁটি ও উপস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো: 🇶🇦 কাতার আল উদেইদ এয়ার বেস: অঞ্চলের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি। এখানে সেন্টকম ও মার্কিন বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার রয়েছে। অতীতে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়। 🇧🇭 বাহরাইন মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত। স্থাপনাটির নাম ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর ও আরব সাগর এলাকায় মার্কিন নৌ তৎপরতা এখান থেকে পরিচালিত হয়। প্রায় ৯,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। গভীর জলে সুপারক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ চলাচল করে। 🇰🇼 কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম বড় কেন্দ্র। ক্যাম্প আরিফজান: সেন্টকমের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও লজিস্টিক হাব। আলী আল-সালেম এয়ার বেস: ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। মোট প্রায় ১৩,৫০০ মার্কিন সেনা (এই দুটি ঘাঁটিতে) অবস্থান করছে। ড্রোন ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। 🇦🇪 সংযুক্ত আরব আমিরাত আল ধাফরা এয়ার বেস: গোয়েন্দা নজরদারি ও কমব্যাট এয়ার অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ। ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন রয়েছে। উন্নত ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহৃত হয়। 🇮🇶 ইরাক মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি: কোথায় ও কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে Iraq এখনো একটি কৌশলগত কেন্দ্র। যদিও ২০০৩ সালের পরের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মার্কিন সেনা সংখ্যা অনেক কম, তবুও দেশটিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে মোতায়েন আছেন। তাদের প্রধান মিশন জঙ্গি গোষ্ঠী Islamic State-এর পুনরুত্থান ঠেকানো এবং ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করা। 🔹 ১. আল আসাদ বিমান ঘাঁটি (Al Asad Airbase) Al Asad Airbase ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আনবার প্রদেশে অবস্থিত। এটি ইরাকে মার্কিন বাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম ঘাঁটি। ড্রোন, নজরদারি বিমান ও সামরিক অভিযানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২০ সালে ইরান এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল, যা দুই দেশের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।  

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0
পরিবহন খাতে চাঁদা
পরিবহন খাতে দৈনিক ১০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি: মালিক, শ্রমিক ও প্রভাবশালী নেতারা জড়িত

দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা পৌর টোলের নামে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও এই চাঁদার অংশ গ্রহণ করে। ফলে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর এসব চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, পণ্যমূল্যও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের বদল হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। টিআইবি-এর ২০২৪ সালের ৫ মার্চের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং পৌর/সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদরা জড়িত, যার ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা শহরে সিটি বাস থেকে দৈনিক ৬৪ লাখ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ১২ লাখ টাকা, এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে; দেশজুড়ে দৈনিক ৪ লাখ ট্রাক থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা মালিকরা স্বেচ্ছায় প্রদান করছেন যা ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে তার বাইরেও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা দাবি করেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু কিছু টার্মিনালকেন্দ্রিক অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা এবং প্রমাণ মিললে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতারা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনপ্রতিনিধিদের আসনও স্থায়ী হবে না। মালিক ও চালকরা বিভিন্ন জেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পৌরসভার বা অন্যান্য সংস্থার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভাড়া বৃদ্ধি, পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন
অপসারণের চক্রান্ত ব্যর্থ: বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে যা জানালেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনের ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ঢাকার দৈনিক পত্রিকা দৈনিক কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তাকে অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের একাধিক চেষ্টা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। “দেড় বছর আমাকে আড়ালে রাখা হয়েছিল” প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়েই তাকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে দূরে রাখা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে চলেছে নানা পরিকল্পনা ও পাঁয়তারা। তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করার অপচেষ্টা চলছিল। তার দাবি—এক পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন হলেই তাকে অপসারণ করা হবে এবং মনোবল ভেঙে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে—এমন পরিকল্পনাও ছিল। গণঅভ্যুত্থানের চাপ ও রাজনৈতিক বিভাজন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কয়েকটি রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশও সেই সুরে সুর মেলায়। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দুইটি গ্রুপ তৈরি হয়। বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। বিএনপির ভূমিকা ও তারেক রহমান সম্পর্কে মন্তব্য প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব তার পাশে ছিল। তারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তার কৌতূহল ছিল। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, তারেক রহমান আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ। প্রেসিডেন্টের দাবি—বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীদের কারণেই অপসারণের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ড. ইউনূসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী: বিদেশ সফর শেষে সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে অবহিত করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরের পরও কোনো লিখিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। তার আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হলেও এ বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। দুইবার তার বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়। বঙ্গভবনে প্রধান উপদেষ্টা কখনো যাননি। প্রেস উইং কার্যত অচল করে দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি একাধিকবার কেবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কার্যকর সাড়া পাননি। বিদেশি কূটনীতিকদের অবস্থান সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের বড় একটি অংশ তাকে অপসারণের বিপক্ষে ছিলেন এবং সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। “আমি সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলাম” প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন বলেন, সব চাপ ও চক্রান্তের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তার মতে, সংবিধান বহির্ভূত কোনো প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের উদ্যোগ দেশের জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করত।   ১৮ মাসের দায়িত্বকাল নিয়ে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের ভেতরের টানাপোড়েন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সাংবিধানিক সংকটের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কতদূর গড়ায়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল
বরিশালের দুই বাস টার্মিনালে অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত : প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়

বরিশালের পরিবহন সেক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও, চাঁদাবাজির দৃশ্যপট অপরিবর্তিত। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ঘাট এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কবজায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন এসব খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নথুল্লাবাদে মোশাররফ গ্রুপের রাজত্ব দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন বরিশাল সদর -৫ আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই মোশাররফ হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কয়েকশো বাস থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। মোশাররফ হোসেন অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই কমিটির সদস্য হয়েছেন এবং কোনো চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত নন। তবু সাধারণ মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। রুপাতলীতে জিয়াউদ্দিন সিকদারের বলয় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ আছে, তিন বছরের মেয়াদি কমিটি ভেঙে তিনি নিজের পছন্দের লোক দিয়ে নতুন বলয় গঠন করেছেন। এখান থেকে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় হয়। মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিনও অভিযোগ করেছেন, জিয়াউদ্দিন সিকদার পোর্ট রোড ও স্পিড বোট ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে দখল বাণিজ্য চালাচ্ছেন। শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দলের শীর্ষ নেতাদের দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীরা তা তোয়াক্কা করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। মালিক সমিতির অবস্থান  মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “টার্মিনালে যারা কাজ করে, যেমন কাউন্টার কর্মচারী, বাসের সিরিয়াল ঠিক রাখাসহ অন্যান্য স্টাফদের বেতন দেওয়ার জন্য মালিকরা নির্দিষ্ট অর্থ দেন। তার সব হিসাব অফিসেই আছে। এর বাইরে যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে যে অবৈধভাবে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, আমি পদত্যাগ করব।” অব্যাহত চাঁদাবাজি স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন চাঁদা বাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় হয়। এছাড়া পর্দার আড়ালে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি চলছেই। এর পরিমাণ বছরে কোটি টাকারও বেশি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, “সরকার বদলায়, ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায় না। শুধু চাঁদা আদায়ের মুখগুলো পরিবর্তিত হয়।” এই অব্যাহত চক্র সাধারণ মানুষ ও বাসযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অবৈধ অর্থের চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
রাস্তা ধস
যশোর মনিরামপুরে নবনির্মিত ঝাঁপা বাঁওড় সেতুর সংযোগ রাস্তা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড় এলাকায় নবনির্মিত সেতুর সংযোগ রাস্তা ধসে যাওয়ায় কোমলপুর ও ঝাঁপা গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বাঁওড় সেতুর উত্তর পাড়ে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধসে গেছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত বছরের মে মাসে নির্মিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য ১৩.২০ মিটার এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ২১১ টাকা। সেতুর দুই পাশে ৫২৩ মিটার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের দায়সারা কাজের কারণে বৃষ্টি ছাড়া রাস্তা ধসে গেছে। আগের জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে নতুনটি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে সংযোগ সড়ক মেলাতে প্রচুর মাটি ভরাট করা হয়। ঝাঁপা ইউনিয়নের কোমলপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু বলেন, “বাঁওড়ের ভিতরে আগের রাস্তা মাটি ফেলে সেতু বরাবর উঁচু করে ইটের সলিং বসানো হয়েছে। মাটি বসার সুযোগ না দিয়ে সলিং বসিয়ে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে রাস্তা ধ্বসে গেছে। মাটির পরিবর্তে বালু ফেলে রাস্তা করলে এমনটি ঘটত না।” সেতুর কাজের ঠিকাদার নিশীত বসু বলেন, “কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। রাস্তাটি ধসে যাওয়ার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। নিচে পলি জমেছিল, তাই লোড ধরে রাখতে পারেনি। আমরা লোকসান দিয়ে সেতু ও রাস্তার কাজ করেছি।” ঝাঁপা বাঁওড়ের সেতু ও সংযোগ রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে ঝাঁপা বাঁওড়ের সেতুর সংযোগ রাস্তা ধসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। রাস্তা ধসে যাওয়ার কারণ নির্ণয় করা হয়েছে। শনিবার থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে।” স্থানীয়দের অভিযোগ এবং ঠিকাদারের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, সঠিক তদারকি ও নির্মাণ প্রক্রিয়ার অভাবে রাস্তা ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনির অনেক ঘটনায় পুলিশকে নিরব থাকতে দেখা গেছে
বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ বন্ধে কঠোর বার্তা: বিএনপি সরকারের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা চ্যালেঞ্জিং?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন যে, 'মব কালচারের দিন শেষ'। কিন্তু দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল 'মব ভায়োলেন্স' বা 'দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা' সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের। এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালে মব ভায়োলেন্স ' ডমিনেন্ট অ্যান্ড ডেডলি ট্রেন্ড বা প্রকট এবং প্রাণঘাতী ট্রেন্ড ' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে মনে করে অনেক মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে ৪৬০ জনকে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।   মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস এবং 'মব ভায়োলেন্স' দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা অপরাধিদের উৎসাহ জুগিয়েছে।   দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুপ থেকেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উল্টো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার "মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই" এমন বক্তব্য নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ভয়াবহতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। নতুন সরকারের ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষতা এবং দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ ছাড়া ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করা সম্ভব নয়— এমনটাই মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী।   এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।   বিশেষ করে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো বিএনপি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।   সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামলানো "চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অসম্ভব নয়," বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।   তবে বিচারের নামে কেবল ভিন্ন মত দমন, নিজ দলের সমর্থকদের সব দোষ মাফ কিংবা দলবদ্ধভাবে ভিন্ন মতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পুরনো সংস্কৃতি চলতে থাকলে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক। বাংলাদেশে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে 'মব ভায়োলেন্স' বা 'দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার' ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও ন্যায্য বা অন্যায্য দাবি আদায় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে এটি।   মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিংয়ে ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।   দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসেবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুইশো।   'মব ভায়োলেন্স' কেন এভাবে বৃদ্ধি পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ি করেছেন বিশ্লেষকরা।   জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্বৈরাচারের দোসর কিংবা এ ধরনের 'তকমা' দিয়ে মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   'তৌহিদী জনতা' বা এ ধরনের ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মব সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তির ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। অনেক সময় যেখানে কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে।   দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর "মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই" এমন বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে।   এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীলদের কারো করো মধ্যে দলবদ্ধ অপরাধকে কিছু ক্ষেত্রে 'রাজনৈতিক বৈধতা' দেওয়ার চেষ্টা ছিল, যা এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।   মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, এটা যেমন ঠিক তেমনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পক্ষের সামনে সরকারের নমনীয়তা অপরাধীদের সুযোগ করে দিয়েছিল।   বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, "দৃশ্যমান মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গত সরকারের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল, যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে এটার প্রেক্ষাপটটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।"   এছাড়া একটি পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করেন মি. লিটন। এই অপরাধ কী থামবে?   জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।   অর্থাৎ এটি বলা যায় যে, দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার উদাহরণ সঙ্গী করেই, পট পরিবর্তনের দেড় বছর পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে রাজনৈতিক সরকার।   এসব কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।   দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যেখানে 'মব কালচার' পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।   বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মি. আহমদ বলেন, "মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে।"   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিশ্লেষকরা।   তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবে, সে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।   মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, মব সহিংসতার পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা- এই দুটি বিষয়ের ওপর।   বিবিসি বাংলাকে মি. লিটন বলছেন, "নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন। অতীতে এই ধরনের সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।"   তবে বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
সংসদ নির্বাচন
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন বিলম্বের নেপথ্যে কারা? তিন উপদেষ্টার ক্ষমতা দীর্ঘায়নের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত তিনজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা নির্বাচন বিলম্বিত করার এক নানামুখী কৌশলে লিপ্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। দ্রুত নির্বাচন থেকে সরে আসা: চাপ নাকি কৌশল? সূত্র বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে অধ্যাপক ইউনূস স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রয়োজন—এই যুক্তি সামনে আনা হয়। সমালোচকদের মতে, এসব সংস্কারের আড়ালে ক্ষমতার মেয়াদ দীর্ঘায়নের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল ছিল। তিন উপদেষ্টার যুক্তি ছিল—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, প্রশাসন অস্থিতিশীল, দ্রুত নির্বাচন দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত শক্তির উত্থান ঘটতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুক্তির পেছনে ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য: সময়ক্ষেপণ করে নিজেদের পছন্দের শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করা। ‘মব সন্ত্রাস’ কৌশলের হাতিয়ার? একাধিক ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসনিক অস্থিরতা ও মব সন্ত্রাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব অস্থিরতা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক পরিবেশ অনিশ্চিত রাখতে। বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগের ঘটনার দিন প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করে। কে বা কারা সেই নির্দেশ দিয়েছিল—তা এখনো অজানা। অধ্যাপক ইউনূস পরে এক সিনিয়র সাংবাদিককে জানান, ঘটনার সময় তিনি অবগত ছিলেন না। এতে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। আঞ্চলিক শক্তির চাপ ও ‘লন্ডন বৈঠক’ রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নেতৃত্বে পরিবর্তন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক চাপ ও নিজস্ব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনমুখী হতে বাধ্য হন অধ্যাপক ইউনূস। লন্ডন বৈঠক ছিল সেই প্রক্রিয়ার অংশ। তবে নির্বাচনবিরোধী উপদেষ্টারা বৈঠকের আগেই নানা অপপ্রচার চালান। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নির্বাচন হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রশাসন কবজায় নেওয়ার চেষ্টা সন্ধ্যাকালীন গোপন বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক শক্তির প্রভাব এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা—সব মিলিয়ে এক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অধ্যাপক ইউনূস কার্যত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু উপদেষ্টা বিদেশ সফরেও কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন। একজন উপদেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশে সফরকালে সাময়িকভাবে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ফরমায়েশি জনমত জরিপ? আরেকটি অভিযোগ—জনমত জরিপকে ব্যবহার করা হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে। টেবিলে বসে তৈরি করা জরিপ বিদেশি দূতাবাসে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। সেখানে বলা হয়েছে, দ্রুত নির্বাচন হলে অপ্রত্যাশিত শক্তির উত্থান ঘটবে। পরিকল্পনা ‘প্ল্যান ২’ কী ছিল? নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কিছু উপদেষ্টার তৎপরতা ছিল নির্দিষ্ট কিছু আসনকেন্দ্রিক। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তারা ‘প্ল্যান ২’ বাস্তবায়ন থেকে সরে আসেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিকল্পনাটি ছিল— নির্বাচন ভণ্ডুলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, অথবা প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতার অজুহাতে জরুরি অবস্থা সদৃশ কাঠামো জোরদার করা, অথবা নেতৃত্বে পরিবর্তনের পথ সুগম করা। তবে জনচাপ, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সেনাবাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।   অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এই ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ক্ষমতা কি সত্যিই নিরপেক্ষ হাতে ছিল, নাকি আড়ালে চলছিল একাধিক শক্তির সমান্তরাল খেলা? নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি ভবিষ্যৎ গবেষণা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
খেজুর
দাম কমেনি খেজুরের

শুল্ক ছাড়ের পর মানুষের আশা ছিল খেজুরের দাম এবার নাগালের মধ্যে থাকবে। কিন্তু শুল্ক ছাড়ের পর খেজুর কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনকি গত বছরের থেকেও এবার খেজুরের দাম বাড়তির দিকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি থাকায় জাহাজ বার্থিং পেতে বিলম্ব হয়েছে, যা সাপ্লাই চেইনকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম আসার পথে থাইল্যান্ড উপকূলে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইরাকি খেজুরসহ একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে ইরাকি খেজুর ১৫০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই খেজুর ১৮০-১৮৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ১০ কেজির কার্টন পাইকারি ২ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। দেশের মানুষের সুবিধার জন্য সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে শুল্ক কমানোর কারণে দাম কমার কথা থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে তার প্রতিফলন বাজারে নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খেজুর আমদানিকারক ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, থাইল্যান্ড উপকূলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইরাকি খেজুরবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরে চার দিনের কর্মবিরতির ফলে সৃষ্ট জাহাজ জটে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ইরাকি খেজুরের সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্রেতাদের অধিক মুনাফা করার প্রবণতাই দাম বাড়ার পেছনে বড় কারণ। তবে আমদানিকৃত খেজুরের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে বেশি হলে রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজার দ্রুতই স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সৌদি আরব, তিউনিসিয়া বা আরব আমিরাতের মতো বড় উৎসগুলো থেকে আসা খেজুরের দাম বাড়েনি। বাজারে বর্তমানে বস্তা খেজুর (বাংলা খেজুর) কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা। জাহিদি খেজুর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, বরই ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, কালমি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সংসদ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন: বিএনপি ৩৫–৩৬টি, জামায়াত পেতে পারে ১১–১৩টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে দলটি প্রায় ৩৫টি নারী আসন পাচ্ছে। একই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি আসন। এতেই সংরক্ষিত নারীর আসনের সিংহভাগই যাবে বিএনপির ঝুলিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া যায়।   সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা × ৫০ ÷ ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়।   সাধারণ আসনে কারা কতটি আসন পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে ১টি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন।   আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-১ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে।   জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে (যদি জোট করে) । জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপির আরো একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫ টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ টি হবে। দল/জোট নারীর আসন (আনুমানিক) বিএনপি ৩৫–৩৬টি জামায়াতে ইসলামী ১১–১৩টি জাতীয় নাগরিক পার্টি ১টি স্বতন্ত্র/ছোট দল (জোট করলে) ১টি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় পার্টিসহ ৪১ টি দল কোনো আসন পাইনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
বিএনপি জামায়াত
নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে : ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান।  ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।  অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট।   ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।   তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
পাকিস্তান আমলে দু্ই বার এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দুই বার নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী
স্বাধীনতার বিরোধিতা থেকে বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে যত আসন পেয়েছে, তা আগে আর কখনোই পায়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সরাসরি বিরোধিতা করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির নেতাদের পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। সেই ইতিহাসকে সাথে নিয়েই এবার বাংলাদেশের সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজধানী ঢাকায় কোনো আসন পেতে সক্ষম হলো। এবার তারা রাজধানী ঢাকার ১৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে, যার একটিতে জিতেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা জেলার ২০টি আসনে তার জয় সাতটিতে।অবশ্য খুলনায় নিজের আসনে হেরে গেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। কিন্তু সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এককভাবে ৬৮টি সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছে এবং এগুলোসহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসন নিয়ে এবার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের ফলই বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতের এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিকূল পরিবেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার দক্ষতার পাশাপাশি অনেক আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে দলটি আগের তুলনায় এবার অনেক বেশি আসন পেয়েছে। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের না থাকাটাও কোনো কোনো জায়গায় জামায়াতকে সুবিধা দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তবে জামায়াত নেতাদের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো মূল্যায়ন বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একজন নেতা বলেছেন, দলীয় বৈঠকে এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। এবার নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগে থেকেই জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষমতায় যাওয়ার আলোচনা সামনে নিয়ে আসেন এবং সেটিই পুরো নির্বাচনী প্রচারে দল ও জোটের মুখ থেকে উঠে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবসময়ই সমালোচনার শিকার হওয়া জামায়াতে ইসলামী এর আগে বিএনপির সঙ্গে মিলে ক্ষমতার অংশীদার হলেও এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা দলটির নেতাদের মুখে এভাবে আগে কখনোই শোনা যায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পাল্টে যায় এবং পুরনো মিত্র বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করে দলটি। শেষ পর্যন্ত অনলাইন ও অফলাইনে দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা এমন প্রচার শুরু করে যে, দলটি ক্ষমতায়ও আসতে পারে। এক পর্যায়ে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিসহ ১০টি দল নিয়ে জোট গঠন করে দলটি। পরে নির্বাচনী প্রচারের সময় জনসভায় কয়েকজনকে মন্ত্রী করা হবে বলেও পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। দল ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন- গত ২০শে জুন তাও তুলে ধরেছিলেন শফিকুর রহমান। বিশেষ করে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে 'জামায়াত ক্ষমতায় যাচ্ছে' এমন একটি প্রচার গড়ে তোলা হয় নির্বাচনের আগে থেকেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবে এবারের ভোটে দলটি ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নিয়ে ১৮টি আসন পেয়েছিল জামায়াত। জামায়াতের রাজনীতির একজন পর্যবেক্ষক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, জামায়াতের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাই এতো আসনে জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। "এর কৃতিত্ব হলো জামায়াত আমিরের। তিনি জামায়াতকে নবজন্ম দিয়েছেন এবং সব ধর্ম ও পেশার মানুষদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। দীর্ঘদিন বৈরি পরিবেশে থেকেও দলটি নির্বাচনে ভালো করার মূল ভিত্তি হলো তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। মি. বাবর বলেন, এবারই ঢাকায় প্রথম আসন জেতা এবং ঢাকার এলিট এলাকা বলে পরিচিত জায়গাগুলোতে জামায়াতের শক্ত অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে এই নির্বাচনে। প্রসঙ্গত, গুলশান-বনানীকে অনেকে এলিট বা অভিজাত এলাকা বলে থাকেন। এই এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে পাঁচ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছেন। জামায়াত ৩০টি আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে। দলটির দাবি, ভোট পুনর্গণনা হলে ঢাকা-১৭সহ অনেক আসনের ফল পাল্টে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, জামায়াতের সাংগঠনিক কাজ ও এর মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেও তরুণদের মধ্যে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারার বিষয় নির্বাচনে আসন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। "আওয়ামী লীগ নেই। ফলে তাদের সমর্থকরা হয়তো কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। তবে জামায়াত সারাদেশেই সংগঠনকে সক্রিয় করতে পেরেছে। তরুণদের মধ্যে তাদের অবস্থানও নির্বাচনে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে,"  বলেছেন তিনি। নিষিদ্ধ থেকে সংসদে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক অস্তিত্ব দৃশ্যত স্বাধীন বাংলাদেশে বিলীন হয়ে যায়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে তখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এ অবস্থায় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অনেকে তখনকার ক্রিয়াশীল কিছু রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যান। দলটির বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফুর রহমানসহ অনেকেই তখন জাসদ ছাত্রলীগ কিংবা জাসদের রাজনীতিতে মিশে যান। দলটির ওয়েবসাইটে বলা আছে যে, এখনকার আমির শফিকুর রহমান নিজেও জাসদ ছাত্রলীগে সক্রিয় ছিলেন। তবে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর জামায়াতের জন্য পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ১৯৭৬ সালের তেসরা মে তখনকার রাষ্ট্রপতি এ. এস. এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করেন, যার মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতার বিরোধিতার ইস্যুতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দলটির গোপনে সক্রিয় থাকা নেতারা তখনো জামায়াত নামে দলের কার্যক্রম না শুরু করে ভিন্ন নামে দল গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নেন। এর ধারাবাহিকতা ১৯৭৬ সালেই আরও কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আই.ডি.এল) নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামী তৎপরতা শুরু করে। দৃশ্যত এই নির্বাচনের মাধ্যমেই জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ভিন্ন পরিচয়ে হলেও স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদে প্রথমবারের মতো আসতে সক্ষম হন। জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আইডিএল- এর ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর ছয় জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।   গোপন থেকে স্বনামে প্রকাশ্যে আইডিএল এর ব্যানারে জামায়াত নেতাদের সংসদে যাওয়ার পর ১৯৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর নামেই একটি কনভেনশন আহ্বান করা হয় দলটির তখনকার একজন নেতা আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে। সেই কনভেনশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত গোলাম আযমের একটি ভাষণ পড়ে শোনানো হয়। এই কনভেনশনে একটি নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং তার ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালের ২৭শে মে চার দফা কর্মসূচী নিয়ে জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের প্রকাশ্য কর্মতৎপরতা শুরু করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন গোলাম আযম। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে ২২শে নভেম্বর ঢাকা ছেড়ে পাকিস্তান চলে যান তিনি। পরে ১৯৭৮ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে অসুস্থ মাকে দেখার কথা বলে ঢাকায় এসে তিনি আর ফিরে যাননি। তবে গোলাম আযম স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮১ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসেন। যদিও এর আগে ১৯৭৯ সালে জামায়াত সক্রিয় হওয়ার পর থেকে তার নির্দেশনাতেই দলটি পরিচালিত হয়েছে বলে দলটির নেতারা পরবর্তীতে প্রকাশ করেছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত এক নেতা একেএম নাজির আহমেদের বই 'রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী' তে বলা হয়েছে, "১৯৭৮ সনে দেশে ফেরার পর থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম বারবার আমিরে জামায়াত নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তার নাগরিকত্ব ছিল না বিধায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকা পালন করতেন ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব আব্বাস আলী খান"। এর মধ্যে ১৯৮১ সালের মে মাসে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতায় আসেন আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। একপর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলো এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে তাতে সামিল হয় জামায়াতে ইসলামীও। আন্দোলন সামাল দেওয়ার জন্য এরশাদ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যখন আলোচনায় বসেন, তখন জামায়াতে ইসলামীকেও ডাকা হয়েছিল। এরশাদ সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। জামায়াতের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দলটি সেই নির্বাচনে দলটির ১০ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেয়নি। সরকার গঠনে ভূমিকা জেনারেল এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য অন্য দলের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। তখন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং মূলত এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে দলটি। তখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা হয় তাতে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ছিল বলে পরে জানা যায়। কিন্তু এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তীব্র গণআন্দোলন তৈরি হলে ৯২ সালের মার্চ মাসে গোলাম আযমকে গ্রেফতার করে 'বিদেশি নাগরিক হয়ে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল'। তখন নাগরিকত্বের প্রশ্নে হাইকোর্টে জামায়াত রিট মামলা করে এর পক্ষে রায় পেয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গিয়েছিল। এরপর সুপ্রিমকোর্টে আপিল বিভাগ থেকে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়ে ১৬ মাস জেল খাটার পর মুক্তি পেয়েছিলেন গোলাম আযম। কিন্তু এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ বিরোধী দল আন্দোলন গড়ে তুললে তাতেও আলাদা থেকেই সামিল হয় জামায়াত। তখন বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত দলগুলো। এক পর্যায়ে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তখনকার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র তিনটি আসনে জয় পেতে সক্ষম হয়। পরে আবার বিএনপির সাথে মিলে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী আন্দোলনেও সামিল ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং এক পর্যায়ে বিএনপির জোটে জামায়াত সরাসরি যোগ দেয়। তাদের চারদলীয় জোট ২০০১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল জয় পেলে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার সুযোগ পায় জামায়াত। দলটির তখনকার দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ খালেদা জিয়ার নেতৃ্ত্বাধীন সরকারে মন্ত্রীত্ব পান। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল তাদের মধ্যেই ওই দুজনও ছিলেন। সংকট ও বিপাকে পড়ে নাম বদল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন- সেই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকট সহিংসতায় রূপ নিলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে হওয়া নির্বাচনে জামায়াত মাত্র দুটি আসনে জয় পায়। ওই বছর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার জন্য 'জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ' নাম পরিবর্তন করে 'বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী' করা হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জামায়াতে ইসলামী। অনেকেই মনে করেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য কিংবা নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এলেও ১৯৭৯ সালে সক্রিয় হওয়ার ৪০ বছর পর এসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি এবং শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে নিবন্ধন হারিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দলের নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। এর আগে থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা আটক হলে বেশ চাপের মুখে পড়ে দলটি। ওই বছরেই সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে দলটি। এরপর তিনটি নির্বাচনে জামায়াত আর অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াত নেতারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা খাটা অবস্থায় ২০১৪ সালের অক্টোবরে মারা যান গোলাম আজম। একই ধরনের মামলায় ২০১৫ সালে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের এবং ২০১৬ সালে আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হলে চরম বিপাকে পড়ে দলটি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে দলটির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ই বহাল থাকে। পরে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবার দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়। চারবার নিষিদ্ধ হওয়ার ইতিহাস আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে ২০২৪ সালের ৩১শে জুলাই জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে দলটি দ্বিতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ হয়। এর আগে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। এর আগে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো মূলত ব্রিটিশ আমলে। সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী ১৯৪১ সালের ২৬শে অগাস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরের বছরেই এর সদর দপ্তর লাহোর থেকে নেওয়া হয় ভারতের পাঠানকোটে। ধর্মের কথা বলা হলেও অনেকেই মনে করেন মূলত ভারতের কমিউনিজম বিরোধী শক্তি হিসেবেই এ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল এবং তখনকার ব্রিটিশ শাসকদের আনুকূল্যও তারা পেয়েছিলো। ১৯৪৫ সালে এর প্রথম কনভেনশন হয় অবিভক্ত ভারতে এবং এর দু'বছর পর দেশভাগের আগ পর্যন্ত এই সংগঠনটি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলো। ইসলামি সংবিধানের দাবিতে ১৯৪৮ সালে প্রচারণা শুরু করলে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা আইনে সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদীকে গ্রেফতার করে। তবে ওই বছর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানেও জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। দু'বছর পর মি. মওদুদী জেল থেকে ছাড়া পান। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ১৯৫৮ সালে অন্য সব দলের সাথে জামায়াতের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেন তখনকার সেনা শাসক আইয়ুব খান। ১৯৬৪ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হয়। মওদুদী ও গোলাম আজমসহ অনেককে আটক করা হয়। সে বছরের শেষ দিকে দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৫১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে চারটি আসন পায় দলটি। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয় দলটি। তখন পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগিতায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এই দলটির নেতৃত্বেই রাজাকার, আলবদর ও আল শামস বাহিনী হয়েছিলো যারা ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ যুদ্ধকালীন গণহত্যায় সহযোগিতার জন্য তীব্রভাবে সমালোচিত।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
১০ নতুন মুখ সংসদে
বরিশালে ২১ আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি জোটের জয়, ১০ নতুন মুখ সংসদে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও তাদের শরিকরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের প্রতিটি আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট বিজয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ নতুন মুখ সংসদে বিভাগের সব আসন মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, যা এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ভোলা জেলা: চার আসনেই বিএনপি জোটের প্রাধান্য ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে: ভোলা-১: গরুর গাড়ি প্রতীকের আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-2: ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। ভোলা-৩: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-৪: ধানের শীষের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বরিশাল জেলা: পাঁচ আসনের চিত্র বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল: বরিশাল-১: এম জহির উদ্দিন স্বপন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-২: সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু প্রথমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৩: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-৪: মো. রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। বরিশাল-৫: অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পঞ্চমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী: চার আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ফলাফল: পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমবারের মতো জয়ী। পটুয়াখালী-৩: ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূর (গণ অধিকার পরিষদ) প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। বরগুনা: দুই আসনে দুই দল বরগুনা-১: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. অলি উল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরগুনা-২: ধানের শীষের মো. নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ঝালকাঠি: দুই আসনেই বিএনপি ঝালকাঠি-১: রফিকুল ইসলাম জামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। পিরোজপুর: বিএনপি ও জামায়াতের ভাগাভাগি পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে: পিরোজপুর-১: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদ সাঈদী প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পিরোজপুর-২: আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমবারের মতো জয়ী। পিরোজপুর-৩: মো. রুহুল আমীন দুলাল প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। সারসংক্ষেপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও তাদের জোটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়, ১০ জন নতুন মুখের অভিষেক এবং সব আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের বিজয়—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনে বরিশালকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোর-১ আসনে ইতিহাস গড়লেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে প্রথম নারী ও সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল (৪১)। এবারের নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগে একমাত্র বিজয়ী নারী প্রার্থীও তিনি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৩১ ভোট। ১৮ বছর পর বিএনপির আসন পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির হারানো এই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন পুতুল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আসনে বিএনপির কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিএনপি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের কন্যা। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এলাকায় শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ী পুতুলের প্রতিক্রিয়া বাবার মৃত্যুর পর হারানো আসন পুনরুদ্ধারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পুতুল বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এই বিজয় লালপুর-বাগাতিপাড়ার সব মানুষের।” তিনি নির্বাচনি মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাজশাহী বিভাগে একমাত্র নারী বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে পুতুলের জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বিএনপির প্রত্যাবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ✍️ প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিনিধি 📍 স্থান: নাটোর 📅 প্রকাশের তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে তারেক রহমান

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে লন্ডনে প্রায় দুই দশক নির্বাসনে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকে দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি।এক সময় যার ওপর কঠোর দমন-পীড়ন নেমে এসেছিল, সেই নেতা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ২০০৮ সালে সেনাবাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার ও কারাবন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের পর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। প্রায় ১৬ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ফেরার দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়, ঢাকায় বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের আবেগ- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের স্রোত এত দ্রুত বয়ে গেছে যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও যেন সময় পাননি তিনি। গত শনিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, যেদিন থেকে দেশে নেমেছি, সময় কীভাবে কাটছে বুঝতেই পারছি না।   তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বংশ পরম্পরার একটি প্রতীকী নাম। তার মা বেগম খালেদা জিয়া, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের বিএনপিপ্রধান, যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারান তারেক রহমান।   তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৭৭-১৯৮১ মেয়াদের রাষ্ট্রপতি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার মৃত্যু দেশকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেন।   ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের দিকে বিএনপি   বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০০টির বেশি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়গুলোর একটি। ২০০১ সালে তারা পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। এদিকে গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১১ দলীয় জোট থেকে নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি। রাস্তায় বিপুল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটে তা রূপ দিতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের আগেই জরিপে এমন ইঙ্গিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপস করে এনসিপির জোট গঠনের বিষয়টি অনেক তরুণ সমর্থকের কাছে দলের আদর্শবিরোধী হিসেবে ধরা পড়েছে।   গণভোটেও জয়ের ইঙ্গিত   জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সাংবিধানিক গণভোট। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, বিভিন্ন জরিপ ও স্থানীয় টিভির তথ্য অনুযায়ী- হ্যাঁ ভোট ২০ লাখের বেশি আর না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। গণভোটের যেসব প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করা, প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদে ১০ বছর সীমা।   বিএনপির নীরব উদযাপন: বিশেষ দোয়ার আয়োজন   নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও বিএনপি কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় সত্ত্বেও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না, বরং দেশের কল্যাণে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।   সামনে কোন পথে তারেক রহমান? তারেক রহমান এখনো নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ কেবল গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বাড়ানো, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছেন। এদিকে তারেক রহমানের আকস্মিক উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের ঢেউ এসেছিল, তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। আবার, দুই দলের আধিপত্যের পরিচিত কাঠামোয় বিএনপির এই বিজয় অনেকের কাছে প্রত্যাবর্তন বলেই ধরা পড়ছে। আবার গণভোটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জনসমর্থনও স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ২০২৪-২০২৫ সালের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে আঁকতে পারে।    

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির, নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২০৯টির বেশি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে দলটি এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রশ্ন উঠছে—নতুন সরকার গঠন কীভাবে হবে এবং বর্তমান প্রশাসন থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে? গেজেট প্রকাশ না হলে ফল চূড়ান্ত নয় নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিক নয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পরই তা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। গেজেট প্রকাশের পর থেকেই শপথ গ্রহণের সময়সীমা গণনা শুরু হয়। সংসদ সদস্যদের শপথ: কে পড়াবেন? সংবিধানের ১৪৫ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করান। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী: রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠের জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন যদি তিন দিনের মধ্যে তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বার্থে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমেই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেবেন রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ শেষে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সেই দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী: যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রথমে সংসদ নেতা হিসেবে মনোনীত হবেন এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। শপথের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আগের সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে এবং নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে। কত দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে পুরো প্রক্রিয়া? বিশ্লেষকদের মতে: গেজেট প্রকাশে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে গেজেটের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ প্রয়োজনে আরও তিন দিন সময় সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচনের প্রায় ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। রাজনৈতিক গুরুত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকারের সামনে থাকবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী
গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেলেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পরাজিত হয়েছেন। ইসলামি ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত  লাখো ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, শিল্পপতি এসএম ফয়সল। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট।  ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব হেভিওয়েট প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট।  নির্বাচনে ওনার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছেন। অন্যদিকে তাহেরীকে নিয়ে প্রচার ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন।  ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৯৭টি, যা মোট ভোটারের ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
জাতীয় পার্টি
জাতীয় পার্টির ভরাডুবি:জয় মেলেনি এক আসনেও

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একটি আসনেও জয় পায়নি জাতীয় পার্টি। তাদের দুর্গখ্যাত রংপুরে এবার একটি আসনও পায়নি দলটি। দলের ভরাডুবির পাশাপাশি শীর্ষ দুই নেতা জিএম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী ভোটের লড়াইয়ে থাকতেই পারেননি। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি কর্পোরেশনে ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। তার মত মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা- ১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। জাতীয় পার্টির ভরাডুবির বিপরীতে রংপুরে জয়জয়াকার হয়েছে জামায়াতের। ভোটে দলটির জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আকতার হোসেন জয়ী হয়েছেন জেলার অপর আসনে। বিএনপির প্রার্থীরা অল্প ভোটের ব্যবধানে ছয় আসনেই দ্বিতীয় হয়েছেন। রংপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী এক লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন ধানের শীষে ৬৯ হজার ১৩১ ভোট পেয়েছেন। রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজাহারুল ইসলাম ধানের শীষে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষে ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়েছেন। রংপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবার রহমান বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি শামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে জিএম কাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৩৮৫। ২০২৪ সালে তিনি এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হন। রংপুর-৪ আসনে এনসিপির আকতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। রংপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। অপরদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭। এখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পাটোয়ারী পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
Mothers, daughters, and grandmothers voted
ভোট দিলেন মা-মেয়ে-দাদি

ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের মহাকালি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে এক একে ভোট দিলেন একই পরিবারের তিন নারী।  বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ইসরাত জাহান সিঁথি তার মা মাহফুজা আক্তার ও আশির্ধ্বো দাদি হোসনে আরা বেগমকে নিয়ে প্রথমবার ভোট দেন। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি তারা।  ময়মনসিংহ নগরীর দূর্গাবাড়ি বাইলেনের বাসিন্দা ইসরাত জাহান সিঁথি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী থেকে শুধুমাত্র ভোট দিতে ছুটে আসেন নিজ বাড়িতে। প্রথমবার ভোট দিতে পারায় আনন্দে উদ্বেলিত ইসরাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দিলাম। বেশ আমেজ এবং উৎসব উৎসব ভাব। ভালো লাগছে। কে জিতবে কে হারবে, জানিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এটুকুই জানি। তবে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের আরও ভোটার চাচাতো ভাই-বোনকে নিয়ে এসেছি। মা ও দাদিও এসেছেন একসঙ্গেই।’তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনে ভোটার হয়েছি কিন্তু গোলযোগের আশঙ্কা আর তৎকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়া হয়নি।’ এদিকে আশির্ধ্বো হোসনে আরা বেগম নাতী ও মেয়ের কাঁধে ভর দিয়ে ভোট কক্ষে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে হাসি মুখে ফিরছিলেন। সাংবাকিদের ভাঙ্গা স্বরে জানান, অনেক দিন ভোট দেইনা, তাই এবার ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। ইসরাতের মা মাহফুজা আক্তার শ্বাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি। তিনি বলেন, ‘এমন সৌভাগ্য ক'জনের হয়। এবার একসঙ্গে ভোট দিতে পেরে অনুভূতিটাই অন্য রকম।’ ভোটের পরিবেশ খুব ভালো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

Top week

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0