Brand logo light
বিশেষ সংবাদ

বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২, ২০২৬ 0
বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়
বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়

ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব গ্যাস বাজার এবার ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়লে ২০২২ সালের পর প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।

বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় এলএনজির প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাতার থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এসব দেশ হন্যে হয়ে বিকল্প রুটের সন্ধান শুরু করেছে।

গত শনিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-এর মেজর জেনারেল ইব্রাহিম জাবারি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সাথে সাথে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

বিশেষ সংবাদ

View more
মশা নিয়ন্ত্রণে ধোঁয়ার ব্যবহার কার্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের (ফাইল ছবি)
ঘরে বাইরে মশা: ঢাকাসহ সারাদেশে মশার ভয়াবহ উপদ্রব, তিন কারণ চিহ্নিত

বিবিসি বাংলা: "ঘরে মশা বাইরে মশা, যেখানেই যাই মশা। মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মনে হয় মশা যেন তুলে নিয়ে যাবে।"  এভাবেই বলছিলেন ঢাকার উত্তরা এগারো নম্বর সেক্টরের খিদির খাল এলাকার বাসিন্দা শরিফুল হোসেন। দিনের বেলায়ও মশার কয়েল অথবা মশা প্রতিরোধক রিপিলেন্ট ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রাজধানীর রামপুরা আফতাবনগর এলাকার বাসিন্দা সিমি আক্তারও।  তিনি বলেন, বাসায় ছোট শিশু থাকায় মশা থেকে বাঁচতে দিন-রাত সবসময় বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখছেন। মশার এমন ভয়াবহ উপদ্রবেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস বলেন, "আগে তো মাঝেমধ্যে ধোঁয়া মারতে দেখতাম, অনেক দিন হলো সেটাও চোখে পড়ে না।" মশা বেড়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান কিংবা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও।  কেবল ঢাকায়ই নয় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী সিটির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ওইসব এলাকায়ও হঠাৎ করেই মশা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে সাধারণ মানুষের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবছরের পহেলা জানুযারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে অন্তত দেড় হাজার জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, মারা গেছেন চার জন। ড্রেন পরিষ্কার না করা, খালের সংযোগস্থল ভরাট এবং জমে থাকা পঁচা পানির কারণেই মশা বেড়েছে বলে মত কীটতত্ত্ববিদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অচলবস্থার কারণে কেবল ঢাকাই নয়, মশার উপদ্রব বেড়েছে গোটা দেশেই। যে তিন কারণে মশা বেড়েছে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে যখন পরিবর্তনের হাওয়া, ঠিক তখনই সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা শহরেও মশার দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বছরের এই সময়ে প্রতি বছরই মশা কিছুটা বাড়ে বলেই মত কিটতত্ত্ববিদের। তবে এবার মশার উপদ্রব অনেকটা বেশি বলেই জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। এর পেছনে মোটাদাগে তিনটি কারণকে দায়ি করছেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের স্থানীয় সরকার প্রশাসন পুরোপুরি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ছিল না বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলবস্থার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায়, বিশেষ করে জনবহুল সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে মশা অধিক হারে বেড়েছে বলেই মনে করেন তিনি।  মি. বাশার বলছেন, "ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার প্রশাসনের যে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো ছিল পুরো কাঠামোটাই ভেঙে পড়েছে।" দ্বিতীয়ত, বর্জ ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমসহ সব ধরণের তৎপরতার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না থাকায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পানি আটকে কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন মি. বাশার। "বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার জমে থাকা পানি স্থির থেকেছে, সেই পানি পরিষ্কার না করার দীর্ঘদিন ধরে পঁচেছে। এখন বসন্তের আগমনে কিছুটা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমে মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।" শুষ্ক সময়ে জমে থাকা পানি যদি সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসন পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিত তাহলে পানি পঁচতো না। মশার প্রজননের সুযোগও কমে যেত। তবে "এখন যে মশাটা আছে তার ৯২ ভাগই কিউলেক্স মশা। এই মশার বংশবৃদ্ধি হয় ড্রেন, ডোবা, নর্দমার পঁচা পানিতে," বলেন তিনি। তৃতীয় কারণ হিসেবে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াকে দায়ি করছেন এই কীটতত্ত্ববিদ। তার মতে, কেবল গত আঠারো মাসে নয়, বাংলাদেশে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে সাধারণত মশা নিয়ন্ত্রণে যে ফগিং বা ধোঁয়ার ব্যবহার করা হয় সেটি কার্যকর কোনো সমাধান নয় বলেই মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের কেবল খুশি করার চেষ্টা করা হয়। "ছোট বাচ্চাদের চকলেট দিয়ে যেমন খুশি করার চেষ্টা করা হয় ঠিক একইভাবে নাগরিকদের খুশি করার পদক্ষেপ হচ্ছে ফগিং," বলেন তিনি। উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি থাকায় পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই, মশা নিয়ন্ত্রণে ধোঁয়া ব্যবহার এখন আর অনুমোদিত নয়। ডেঙ্গু নিয়ে শঙ্কা বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা মৌসুম অর্থাৎ জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। কারণ এই সময়ে গরম ও বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়। যদিও ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট কোনো মৌসুমে সীমাবদ্ধ নেই। বছরের যেকোন সময়ই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। সারাদেশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকারে বাড়লেও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার এখনও আশঙ্কাজনক নয় বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদ এবং কীটতত্ত্ববিদরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, মশার বর্তমান আধিপত্য এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে যেমন পদক্ষেপ জরুরি তেমনি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো দরকার। আমাদেরকে অবশ্যই আগেভাগে প্রস্তুতি রাখতে হবে, এপ্রিলে বৃষ্টি শুরু হলে এডিস মশা আমাদের চিন্তার কারণ হতে পারে।" ডেঙ্গুর শঙ্কা কিছুটা কম থাকলেও কিউলেক্স মশাবাহিত রোগ এই সময় হতে পারে বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলছেন, "যখনই বৃষ্টি শুরু হবে তখন কিউলেক্স মশা মরবে আর এডিস মশা বাড়বে। কারণ বৃষ্টির পানি বিভিন্ন পাত্রে জমা হয়ে এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।" এ কারণেই বৃষ্টি শুরুর আগে এডিস মশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ তার। এক্ষেত্রে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মি. বাশার। তিনি বলছেন, "ছোট বড় পড়ে থাকা পাত্র ধ্বংস করতে হবে। এপ্রিলে বৃষ্টি শুরুর আগেই এগুলো করতে হবে যাতে বৃষ্টি শুরু হলেই পানি জমে থাকতে না পারে।"                                মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? মশার উপদ্রব এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এর যেন কোনো সমাধান নেই। প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয় ছোট্ট এই জীবের কামড়ে। সম্প্রতি মশার উপদ্রব যে মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি নিয়ন্ত্রণে ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পঁচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করাই সব থেকে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, পরিষ্কার করার পর এই জায়গাগুলোতে কীট নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাতে মশার প্রজননস্থলগুলোই ধ্বংস হয়। "মশার উৎপত্তিস্থল যদি আমরা নষ্ট করতে পারি, তাহলে উড়ন্ত মশা পরবর্তীতে আর আসবেই না। আর মশার জন্মস্থান নষ্ট করে মশা নিয়ন্ত্রণ যত সহজ, উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা তো অতটা সহজ না," বলেন তিনি। মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার? সম্প্রতি মশার উপদ্রব অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশ্নটি ঘুরেফিরেই আসছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ করলেও মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখনও তেমন কার্যকর করতে পারেনি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো. শফিকুল ইসলাম খান বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে সব কিছুতেই অব্যবস্থাপনা রয়েছে। "আমি দায়িত্ব নিয়েছি কয়েক দিন হলো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি, আশা করছি মশা নিয়ন্ত্রণে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবো আমরা," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি। মশা নিধনে 'জিরো টলারেন্স' এর কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বা ডিএসসিসি এর প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। "মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ 'ক্র্যাশ প্রোগ্রাম' শুরু করা হবে," বলেও জানান মি. সালাম।              

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
আনোয়ারুল ইসলাম

এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে

বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়

বিশ্বের গ্যাসের বাজার দেখবে ঐতিহাসিক বিপর্যয়

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন

মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

পরিবহন খাতে চাঁদা
পরিবহন খাতে দৈনিক ১০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি: মালিক, শ্রমিক ও প্রভাবশালী নেতারা জড়িত

দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা পৌর টোলের নামে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও এই চাঁদার অংশ গ্রহণ করে। ফলে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর এসব চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, পণ্যমূল্যও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের বদল হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। টিআইবি-এর ২০২৪ সালের ৫ মার্চের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং পৌর/সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদরা জড়িত, যার ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা শহরে সিটি বাস থেকে দৈনিক ৬৪ লাখ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ১২ লাখ টাকা, এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে; দেশজুড়ে দৈনিক ৪ লাখ ট্রাক থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা মালিকরা স্বেচ্ছায় প্রদান করছেন যা ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে তার বাইরেও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা দাবি করেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু কিছু টার্মিনালকেন্দ্রিক অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা এবং প্রমাণ মিললে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতারা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনপ্রতিনিধিদের আসনও স্থায়ী হবে না। মালিক ও চালকরা বিভিন্ন জেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পৌরসভার বা অন্যান্য সংস্থার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভাড়া বৃদ্ধি, পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন

অপসারণের চক্রান্ত ব্যর্থ: বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে যা জানালেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন

বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল

বরিশালের দুই বাস টার্মিনালে অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত : প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়

রাস্তা ধস

যশোর মনিরামপুরে নবনির্মিত ঝাঁপা বাঁওড় সেতুর সংযোগ রাস্তা ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনির অনেক ঘটনায় পুলিশকে নিরব থাকতে দেখা গেছে
বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ বন্ধে কঠোর বার্তা: বিএনপি সরকারের সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা চ্যালেঞ্জিং?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন যে, 'মব কালচারের দিন শেষ'। কিন্তু দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল 'মব ভায়োলেন্স' বা 'দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা' সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের। এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালে মব ভায়োলেন্স ' ডমিনেন্ট অ্যান্ড ডেডলি ট্রেন্ড বা প্রকট এবং প্রাণঘাতী ট্রেন্ড ' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে মনে করে অনেক মানবাধিকার সংগঠন। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে ৪৬০ জনকে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।   মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস এবং 'মব ভায়োলেন্স' দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা অপরাধিদের উৎসাহ জুগিয়েছে।   দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুপ থেকেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উল্টো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার "মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই" এমন বক্তব্য নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ভয়াবহতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। নতুন সরকারের ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষতা এবং দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ ছাড়া ‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করা সম্ভব নয়— এমনটাই মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মী।   এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।   বিশেষ করে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো বিএনপি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।   সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামলানো "চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অসম্ভব নয়," বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।   তবে বিচারের নামে কেবল ভিন্ন মত দমন, নিজ দলের সমর্থকদের সব দোষ মাফ কিংবা দলবদ্ধভাবে ভিন্ন মতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পুরনো সংস্কৃতি চলতে থাকলে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক। বাংলাদেশে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে 'মব ভায়োলেন্স' বা 'দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার' ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও ন্যায্য বা অন্যায্য দাবি আদায় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে এটি।   মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিংয়ে ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।   দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসেবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুইশো।   'মব ভায়োলেন্স' কেন এভাবে বৃদ্ধি পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ি করেছেন বিশ্লেষকরা।   জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্বৈরাচারের দোসর কিংবা এ ধরনের 'তকমা' দিয়ে মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   'তৌহিদী জনতা' বা এ ধরনের ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মব সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তির ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। অনেক সময় যেখানে কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে।   দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর "মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই" এমন বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে।   এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীলদের কারো করো মধ্যে দলবদ্ধ অপরাধকে কিছু ক্ষেত্রে 'রাজনৈতিক বৈধতা' দেওয়ার চেষ্টা ছিল, যা এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।   মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, এটা যেমন ঠিক তেমনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পক্ষের সামনে সরকারের নমনীয়তা অপরাধীদের সুযোগ করে দিয়েছিল।   বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, "দৃশ্যমান মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গত সরকারের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল, যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে এটার প্রেক্ষাপটটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।"   এছাড়া একটি পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করেন মি. লিটন। এই অপরাধ কী থামবে?   জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।   অর্থাৎ এটি বলা যায় যে, দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার উদাহরণ সঙ্গী করেই, পট পরিবর্তনের দেড় বছর পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে রাজনৈতিক সরকার।   এসব কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।   দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যেখানে 'মব কালচার' পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।   বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মি. আহমদ বলেন, "মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে।"   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিশ্লেষকরা।   তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবে, সে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।   মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, মব সহিংসতার পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা- এই দুটি বিষয়ের ওপর।   বিবিসি বাংলাকে মি. লিটন বলছেন, "নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন। অতীতে এই ধরনের সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।"   তবে বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
সংসদ নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন বিলম্বের নেপথ্যে কারা? তিন উপদেষ্টার ক্ষমতা দীর্ঘায়নের অভিযোগ

খেজুর

দাম কমেনি খেজুরের

সংসদ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন: বিএনপি ৩৫–৩৬টি, জামায়াত পেতে পারে ১১–১৩টি