ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা এবং ছোটদের জন্য অধীর অপেক্ষার একটি মুহূর্ত—সালামি পাওয়া। বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে ঈদের দিন ছোটরা বড়দের সালাম করে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে অর্থ বা উপহার পেয়ে থাকে, যা পরিচিত ‘ঈদ সালামি’ বা ‘ঈদিয়া’ নামে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নগদ টাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সালামি চান। অন্যদিকে বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রবাসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া কঠিন ছিল, এখন তা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়।
বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে। তবে ২০১৫ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
সেই সময় থেকেই পারিবারিক আর্থিক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়—যার প্রভাব এখন ঈদের সালামিতেও স্পষ্ট।
এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন,
“ডিজিটাল সালামি সহজ এবং নিরাপদ। তবে নতুন টাকার যে অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর পাওয়া যায় না।”
ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান:
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোট ছাপাতে উচ্চ ব্যয় এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিই এর পেছনে কাজ করছে।
ঈদে সালামি পাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে নানা কৌশল দেখা যায়।
অফিস সংস্কৃতিতেও রয়েছে আলাদা রীতি—ছুটির আগে কনিষ্ঠরা অগ্রজদের কাছ থেকে সালামি নেন।
ঐতিহ্যবাহী সালামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রেন্ড—টাকার নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া।
অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
ঈদের দিনে উপহার দেওয়ার প্রথা নতুন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ‘ঈদিয়া’ প্রথার সূচনা মিসরের ফাতেমীয় আমলে (দশম শতক)।
সে সময় শাসকরা:
ধীরে ধীরে এটি মুসলিম সমাজে সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিণত হয়।
আলেমদের মতে, ঈদ সালামি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তবে বৈধ।
একজন আলেমের ভাষায়:
বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে রীতির পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, ফলে ঐতিহ্যের প্রকাশভঙ্গিও বদলাচ্ছে।
এক সময় নতুন টাকার গন্ধ ছিল সালামির আকর্ষণ। এখন সেই জায়গায় এসেছে ডিজিটাল লেনদেন—তবে মূল চেতনা একই:
👉 ভালোবাসা ভাগাভাগি
👉 সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা
সময়ের সঙ্গে সালামির ধরন বদলাচ্ছে—নগদ থেকে ডিজিটাল, খাম থেকে মোবাইল অ্যাপ, এমনকি টাকার তোড়া পর্যন্ত।
তবে ঈদের আসল সৌন্দর্য এখনও এক জায়গায় অটুট—
প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা এবং ছোটদের জন্য অধীর অপেক্ষার একটি মুহূর্ত—সালামি পাওয়া। বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে ঈদের দিন ছোটরা বড়দের সালাম করে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে অর্থ বা উপহার পেয়ে থাকে, যা পরিচিত ‘ঈদ সালামি’ বা ‘ঈদিয়া’ নামে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নগদ টাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে সালামি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সালামি চান। অন্যদিকে বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রবাসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া কঠিন ছিল, এখন তা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়। মহামারির পর ডিজিটাল লেনদেনের উত্থান বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে। তবে ২০১৫ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় থেকেই পারিবারিক আর্থিক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়—যার প্রভাব এখন ঈদের সালামিতেও স্পষ্ট। এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ডিজিটাল সালামি সহজ এবং নিরাপদ। তবে নতুন টাকার যে অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর পাওয়া যায় না।” নতুন টাকার সংকট, বাড়ছে বিকল্প ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান: ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা ২০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৫০ টাকা ১০০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত ৭০০–৮০০ টাকা পর্যন্ত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোট ছাপাতে উচ্চ ব্যয় এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিই এর পেছনে কাজ করছে। সালামি আদায়ে নতুন কৌশল ঈদে সালামি পাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে নানা কৌশল দেখা যায়। আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সালাম ঈদের নামাজ শেষে বড়দের সঙ্গে দেখা দলবদ্ধভাবে সালামি সংগ্রহ অফিস সংস্কৃতিতেও রয়েছে আলাদা রীতি—ছুটির আগে কনিষ্ঠরা অগ্রজদের কাছ থেকে সালামি নেন। নতুন ট্রেন্ড: ‘সালামি তোড়া’ ঐতিহ্যবাহী সালামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রেন্ড—টাকার নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া। অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন: মেকিং চার্জ: ৩০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা নোটের পরিমাণ ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে খরচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। ইতিহাসে ঈদের শিকড় ঈদের দিনে উপহার দেওয়ার প্রথা নতুন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ‘ঈদিয়া’ প্রথার সূচনা মিসরের ফাতেমীয় আমলে (দশম শতক)। সে সময় শাসকরা: সাধারণ মানুষকে অর্থ ও কাপড় দিতেন শিশুদের উপহার দেওয়া হতো ধীরে ধীরে এটি মুসলিম সমাজে সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিণত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আলেমদের মতে, ঈদ সালামি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তবে বৈধ। একজন আলেমের ভাষায়: এটি ইবাদত নয়, সামাজিক প্রথা উপহার আদান-প্রদান ভালোবাসা বাড়ায় ছোটদের আনন্দ দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সহাবস্থান বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে রীতির পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, ফলে ঐতিহ্যের প্রকাশভঙ্গিও বদলাচ্ছে। এক সময় নতুন টাকার গন্ধ ছিল সালামির আকর্ষণ। এখন সেই জায়গায় এসেছে ডিজিটাল লেনদেন—তবে মূল চেতনা একই: 👉 ভালোবাসা ভাগাভাগি 👉 সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা সময়ের সঙ্গে সালামির ধরন বদলাচ্ছে—নগদ থেকে ডিজিটাল, খাম থেকে মোবাইল অ্যাপ, এমনকি টাকার তোড়া পর্যন্ত। তবে ঈদের আসল সৌন্দর্য এখনও এক জায়গায় অটুট— প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা।
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভুয়া হিসাব ও জালিয়াতির বিস্তৃত চক্র চার বছরে নিঃশব্দে অর্থ উত্তোলন, সামনে এলো বড় ধরনের অনিয়ম বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার বছরে অনুমোদনবিহীন একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—একটি চক্রের সহায়তায় ভুয়া হিসাব খুলে এবং জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নির্দিষ্ট পে-রোল তালিকা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং— অনুমোদন ছাড়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে একাধিক শাখা ব্যবহার করা হয়েছে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমতলী, বরগুনা কোর্টবিল্ডিং, বরিশাল চকবাজার এবং কলেজ রোড শাখা। একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত হিসাব অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেনের নামে আমতলী শাখায় একাধিক হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে— একটি বৈধ সঞ্চয়ী হিসাব একটি এমডিএস (ডিগিএস) হিসাব দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব শুধু তাই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি হিসাব বোন লুৎফা বেগমের নামে একটি হিসাব এসব হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হয়ে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া প্রোফাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মোট ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে— ১৪টি সম্পূর্ণ ভুয়া ২০টি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতিও যুক্ত শুধু ভাতা নয়, জালিয়াতির পরিধি আরও বিস্তৃত। তদন্তে দেখা গেছে— তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে ঋণ নেওয়া হয়েছে ফরিদা বেগম, চম্পা ও রুনু নামের ভুয়া ব্যক্তিদের নামে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এতে বোঝা যায়, জালিয়াতির চক্রটি শুধু ভাতা আত্মসাৎ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ব্যাংকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আসে। লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জেল হোসেন নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন: তিনি কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? তোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি— মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স খুবই কম ছিল তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি এতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের অজান্তেই অন্যদের হিসাবে টাকা চলে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন: “খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা তাদের হিসাবে গেল—এটা কীভাবে সম্ভব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারের অস্বীকার অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানারা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি— তিনি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন পুরো বিষয়টি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কাজ তার ভাষায়: “আমার স্বামীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট: অস্বাভাবিক লেনদেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল নামে একজন সাবেক ব্যবস্থাপক জানান, অনুমোদনহীন লেনদেনের কারণে কিছু হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাতা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হলে ব্যাংকের পক্ষে সব ক্ষেত্রে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আংশিক টাকা ফেরত তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো বড় অংশের অর্থ উদ্ধার হয়নি। প্রশ্নগুলো বড় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: ১. কীভাবে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি হলো? সরকারি তালিকায় কীভাবে ১৪টি ভুয়া নাম যুক্ত হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ২. ব্যাংকের ভেতরে সহযোগিতা ছিল কি? একাধিক শাখায় লেনদেন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। ৩. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি কোথায় ছিল? বিএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ। সম্ভাব্য দুর্বলতা: ডিজিটাল যাচাইয়ের অভাব প্রোফাইল যাচাইয়ে শৈথিল্য ব্যাংকিং নজরদারির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী চক্রের দাপট তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে— দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বৃহত্তর প্রভাব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এই ধরনের জালিয়াতি— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায় দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে আমতলীর এই ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠিত এই জালিয়াতি দেখিয়ে দিয়েছে, যথাযথ তদারকি না থাকলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কর্মসূচি কত সহজেই অপব্যবহৃত হতে পারে। এখন নজর সবার—তদন্ত কতদূর এগোয়, দায়ীদের কী শাস্তি হয়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পান কিনা।
মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।