ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় আগাম প্লাবন দেখা দিয়েছে। এতে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
সুনামগঞ্জের জিনারিয়া হাওরে একটি রক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ায় আকস্মিকভাবে পানি ঢুকে ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৬ হেক্টর জমির মধ্যে আগে থেকেই ৮ হেক্টর জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ছিল; বাঁধ ভাঙার পর আরও প্রায় ৩ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একজন জানান, মাসের পর মাস বাড়িঘর ছেড়ে হাওরে অবস্থান করে চাষাবাদ করার পর শেষ সময়ে এসে এমন বিপর্যয় তাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন, ফলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলাসহ সুনামগঞ্জের একাধিক হাওরে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ধানের শীষ সম্পূর্ণ পানির নিচে, আবার কোথাও আংশিক ভাসমান। কৃষকেরা কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
নেত্রকোনার হাওর এলাকাগুলোতেও গত তিন দিনের টানা বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের হিসেবে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে, যদিও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। জেলায় এ বছর প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ধান কাটার জন্য মাইকিং করা হলেও শ্রমিক সংকট ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। ফলে পাকা ধানও এখন পানির নিচে।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরেও পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসনের দাবি, অধিকাংশ ফসল ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, তবে কৃষকদের মতে বাস্তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান এখনো মাঠে ছিল, যা বর্তমানে ডুবে যাচ্ছে।
হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি প্লাবিত করেছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাওর অঞ্চলে একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের বালুঘাটা গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেনের কণ্ঠে ক্ষোভ আর হতাশা। ধান বিক্রির আয় দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও দিতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, “এক মণ ধান বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও ২৫০ টাকা যোগ কইরা শ্রমিকের মজুরি দিতেছি। সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষকের ধানের দাম। আমরা বাঁচমু কীভাবে।” মঙ্গলবার নালিতাবাড়ী পৌরশহরের একটি বাজারে শক্তি-১ জাতের ২০ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতি মণ ধানের দাম পান ৮৫০ টাকা। কিন্তু তাঁর হিসাব বলছে, উৎপাদন খরচই ছিল মণপ্রতি ১ হাজার টাকার বেশি। ফলে বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। শুধু ইসমাইল হোসেন নন—জেলার অধিকাংশ কৃষকেরই একই অভিজ্ঞতা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শেরপুরে ৯১ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে ২৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায়। নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের হাওরা বিল, বাউসি বিল ও খৈলাকুড়া মরাগাংসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৫০ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, তাঁর দুই একর জমির ধান দীর্ঘদিন পানির নিচে ছিল। শ্রমিকদের দৈনিক ১২০০ টাকা মজুরি ও খাবার দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু ভেজা ধানের কারণে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “ভেজা ধান বলে ৪০ কেজির জায়গায় ৪৫ কেজি ধরে নেয় পাইকাররা, তবুও ৮০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমাদের দুঃখের কথা কেউ শোনে না। ভবিষ্যতে ধান চাষ বাদ দিতে হবে হয়তো।” একই চিত্র ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও। তিনি জানান, ঋণ করে ধান চাষ করলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “অহনে ধানের দাম নাই, দুশ্চিন্তায় আছি।” এদিকে একসঙ্গে সব এলাকায় ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ধান বেশি থাকায় দাম আরও কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, শ্রমিকের মজুরি বেশি এবং বাজারে দাম কম। সরকার নির্ধারিত দরে ধান কেনার জন্য কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। নকলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, “উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম অনেক কম। আবহাওয়াও কৃষকের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে।” শেরপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাতেমা খাতুন জানান, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান বিক্রির জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একসঙ্গে ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের পাতারপোল গ্রামের যুবক মো. মহিউদ্দিন টিপু—স্থানীয়ভাবে এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। প্রতারণার শিকার হয়ে ভেঙে পড়া জীবন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে তিনি গড়েছেন সাফল্যের গল্প। শৈশব থেকেই সংগ্রামের সঙ্গে পরিচয় মহিউদ্দিনের। তিনি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন, তখন তার বাবা গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান। বড় সন্তান হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন—রাস্তার পাশে সবজি চাষ, ধান উৎপাদন—সবই করেছেন নিজের চেষ্টায়। এইচএসসি পাস করার পর সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় প্রতারণার শিকার হয়ে। এরপর জীবিকার সন্ধানে রাজধানী ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে কাজ নিলেও সেখানে স্থিতিশীলতা বা প্রত্যাশিত আয় পাননি। আর্থিক সংকট চরমে পৌঁছালে স্ত্রী ফাতেমা বেগমের পরামর্শে তিনি গ্রামে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামে ফিরে দু’জন মিলে কৃষিকাজ শুরু করেন। শুরুটা ছিল মাত্র দুই শতাংশ জমিতে করলা চাষ দিয়ে। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের ফলে সাফল্য আসে। বর্তমানে তার দুইটি জমিতে প্রায় ১২০০টি করলা গাছ রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে তিনি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেন, যা মাসে এক লাখ টাকারও বেশি। করলার পাশাপাশি তিনি লাউ, চিচিঙ্গা, টমেটো ও লাল শাকসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজিও চাষ করছেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। ভবিষ্যতে মাছ চাষে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। করলার বাজারদর সম্পর্কে মহিউদ্দিন জানান, চাহিদা অনুযায়ী প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করেন। স্থানীয় পাইকারদের কাছেই অধিকাংশ পণ্য সরবরাহ করা হয়। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার অভিযোগও রয়েছে। “বাজারে অনেক সময় সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ন্যায্য দাম পাই না। একজন পাইকার দাম নির্ধারণ করলে অন্যরা আর বাড়ায় না। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হয়,” বলেন তিনি। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, শুরুতে তাদের পুঁজি ছিল না। তিনি টিউশনি ও সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজের জন্য বীজ, সার ও ওষুধের খরচ জোগাতেন। “এখন আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি,” যোগ করেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় মহিউদ্দিন আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষ শুরু করেন। তাকে উন্নতমানের বীজ, সার, স্প্রে মেশিন এবং মালচিং প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়। ৫০ শতক জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা উৎপাদন হয়েছে, খরচ বাদ দিয়ে যার মুনাফা ২ লাখ টাকার বেশি। তার এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে আশপাশের কৃষকরাও এখন উচ্চমূল্যের সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
বরিশাল অফিস : সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা'২৫ কৃষকের স্বার্থে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে বরিশাল অঞ্চলের বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। ১৬ মার্চ সোমবার বেলা ১১ টায় নগরীর অশ্বিনীকুমার টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট বরিশালের জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, বরিশালের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মরকলিপিতে দ্রিত সময়ের মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা'২৫ কৃষকের স্বার্থে বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষি ফসল উৎপাদনে সার অতিব গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রাসায়নিক সার ব্যতিত কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দেয়ার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শ কমিটির অনুমোদনক্রমে "সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয় যা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার স্বারক নং, ১২,০০,০০০০,০৩১,৪০.০০১.২৫-৮২ তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ । ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং-১২,০০,০০০০,০৩১,৪০,০০১,২৫-৮ মোতাবেক সকল জেলা প্রশাসককে তার নিজ জেলায় শুন্য ডিলার ইউনিট সমূহে অবিলম্বে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫" অনুযায়ী সারাদেশে ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ জারী করেন। যাতে করে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষিকার্ড সহায়ক। বিধায় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে "সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা/২০২৫" দ্রুত বাস্তবায়ন পূর্বক কৃষি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।