Brand logo light

অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলায় বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বুধবার কোটালীপাড়া উপজেলার চিতশী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহমুদ জানান, দুদকের একটি মামলায় বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। সে ভিত্তিতে আজ বুধবার চিতশী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিবরণে জানানগেছে, দিদারুল ইসলাম হাওলাদার ২০১১ সালে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে নমুনা সংগ্রহকারী পদে যোগদান করার পর থেকে কর্মরত রয়েছেন। ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তার সম্পদের হিসাব জমা দিলেও পরবর্তীতে তিনি ২০২৩ সালের ১৮ জুন পুনরায় সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। সম্পদ বিবরনীতে তিনি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ভোগ দখল করছে বলে জানান। তবে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে ৭৫ লাখ ৩ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদের খোঁজ পায়।তথ্য বিবরনীতে দিদারুল ইসলাম হাওলাদার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫৫ টাকার সম্পদ গোপন করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আফছার উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা কায্যালয়ের একটি মামলা দায়ের করেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ভাটারার ওসি
ঢাকার ভাটারা থানার ওসি বদলি: ৩৩ লাখ টাকার মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন, অনলাইন জুয়ার অভিযোগে তদন্ত

ঢাকা: রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে ডিএমপি’র ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, যা অনলাইন জুয়ার লেনদেন বলে অভিযোগ ছিল। বুধবার (১৮ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার-এর সই করা এক অফিস আদেশে ইমাউল হক-কে বদলির আদেশ দেওয়া হয়, তবে কারণ উল্লেখ করা হয়নি আদেশে। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্ট করেন।   ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (01712254***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে। ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, যা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদের দোকান থেকে (রহিমের দোকান) গত দুই মাসে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা। এছাড়া গত দুই মাসে নাসিমের (বাড়িওয়ালা) নম্বর থেকে এসেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা। মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে খালেক নামের এক ব্যক্তি ওসির বিকাশ/নগদে পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা। লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা। আর মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (এপিআই) সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ায়ও খরচ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় ওসি ইমাউল জানান, অনলাইন জুয়ার বিষয় কোনো ধারণা নেই ও তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাউল হক আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফুটপাত দখল
ফুটপাত দখল,ভোগান্তিতে পথচারী

মাদারীপুর পৌর শহরের পুরান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের পথচারী ও সাধারণ মানুষ। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পেরে অনেককে সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে, ফলে শহরে বাড়ছে যানজট। জেলা শহরের বাসিন্দা শেখ আব্দুর রহিম জানান, পুরান বাজার এলাকায় কেনাকাটা করতে এলে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি ফুটপাতের বিভিন্ন জায়গা কিছু দোকান মালিক ভাড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উচিত যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন পৌরসভায় দিনের বেলায় বড় ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাদারীপুর পৌরসভাতেও এমন নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বড় ট্রাকগুলো পুরান বাজার এলাকায় প্রবেশ করায় যানজট তৈরি হয়। ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী টাকার বিনিময়ে এসব ট্রাককে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।’ এ বিষয়ে মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এ্যাড. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে পথচারীদের ভোগান্তিও অনেকটাই কমে আসবে।’ এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ ফুটপাত দখল করে যানজট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ
দুপক্ষের সংঘর্ষ নরসিংদীতে , গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।  বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ (W-1) প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত DPP, RDPP বা HOPE ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্যাকেজকে ৮টি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন এবং এতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া, ৮টি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিশোধিত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ব্যতীত অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
টিকটককে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, এক কিশোর নিহত

গত কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মটিতে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ডের মধ্যে একদিকে বিনোদনের ছোঁয়া থাকলেও, অন্যদিকে কিছু কিশোর সদস্য একটি গ্যাং আকারে সংগঠিত হয়ে ঐ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অসদুপায়ে প্রবেশ করে। এদিকে, আজ সকালের এক সংঘর্ষের ফলশ্রুতি হিসেবে খবর আসে যে, এই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হন। ঘটনার সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুটি প্রতিপক্ষের মধ্যে মূলত টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতার জগতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শত্রুতা ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিপক্ষ দলগুলো নিজেদের মধ্যে অনলাইনে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। প্রতিবেশি এলাকায় একরাশে ছড়িয়ে পড়া এই দ্বন্দ্ব প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারায় অবশেষে মাটি ও গ্যাসে প্রাণের ধারা ছোঁয়াতে দেখা যায়। প্রথম রিপোর্টে জানানো হয় যে, সংঘর্ষটি শহরের এক জনপ্রিয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে ঘটেছিল, যেখানে একাধিক কিশোর একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে একটা কিশোর গুরুতর আঘাতগ্রস্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকের তথ্য অনুসারে, আহত কিশোরটি রক্তক্ষয়নের কারণে প্রাণ হারানোর মুখে পড়েছিল। পুলিশ একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফোন, টিকটকের ভিডিও ফুটেজ ও কথোপকথনের রেকর্ড সংগ্রহ করেছে।   সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও আইনপ্রয়োগ সংস্থার হস্তক্ষেপ ঘটনার পরক্ষবর্তী সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিক্রিয়া চটকদার। পিতামাতা, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীরা সক্রিয়ভাবে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচলিত গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। একাধারে অভিযোগ উঠছে, টিকটকের মাধ্যমে প্রচারিত অনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিযোগিতা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করছে। পুলিশ বিভাগের তরফ থেকে বলেছে, “এই ধরনের অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অনেক সময় অ-আবশ্যক উত্তেজনা ও হিংসাত্মক প্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর তদন্ত চলমান। যারা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উচ্চ ব্যবস্থাপনা থেকে নির্দেশ এসেছে, টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে, যুব সমাজে অনলাইনে সৃষ্ট এই ধরনের প্রতিযোগিতা ও সংঘর্ষের প্রভাব দূর করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পিতামাতা ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সামাজিক গবেষণা ও নারী সমাজবিদরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি ইন্টারনেট সমস্যা নয়, বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও যুব সমাজের চেতনা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দাবী করছেন, সরকারকে এবং টিকটকের নীতিনির্ধারকদের উচিত, এ ধরনের অনৈতিক ও উত্তেজক বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এর পাশাপাশি, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারগুলিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন চ্যালেঞ্জের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে, তাদেরকে বৈধ ও সঠিক বিনোদনের মাধ্যম খুঁজে পেতে উৎসাহিত করা হবে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, “আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে পড়া সব প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি। সংঘর্ষের আসল কারণ, ঘনিষ্ঠ অনলাইন প্রতিযোগিতা থেকে উদ্ভূত উত্তেজনা ও বাস্তব জীবনে আক্রমণের মর্মস্পর্শী প্রভাব স্পষ্ট। যারা এই কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।” শহরের আইন প্রয়োগ সংস্থা ও প্রবাসী সংগঠনগুলিও একাত্মভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে অনলাইন প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত হত্যাকাণ্ড বা আক্রমণ রোধ করা যায়। তরুণ সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই মিলে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা ও সমাজসেবী।

জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0
অনলাইনে প্রশ্ন ফাঁসের চক্র সক্রিয়, ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখায় অভিযান

দেশজুড়ে অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। বিশেষ করে চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এই চক্র নতুন কৌশলে প্রতারণা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা (Cyber Crime Investigation Division)। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা মোবাইল অ্যাপ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন: টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ) এবং ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। সাইবার ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তানভীর হাসান বলেন, “এই চক্র প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণা আইনে মামলা হয়েছে।”   ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বিক্রি হতো ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করত—প্রথমে তারা ফেসবুকে ‘ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন’ বা ‘সরকারি চাকরি প্রশ্ন ফাঁস’ নামে কিছু গ্রুপ চালু করত। সেসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করত, পরীক্ষার আগেই তারা “আসল প্রশ্নপত্র” দিতে পারবে। দ্বিতীয় ধাপে, আগ্রহী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন চ্যাটে কথা বলে বিকাশ/নগদে টাকা সংগ্রহ করত। অনেক সময় তারা আগের বছরের প্রশ্ন বা সাজানো প্রশ্ন ‘নমুনা’ হিসেবে পাঠিয়ে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করত। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু ফেক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মাহবুবা হোসেন বলেন, “ভয়াবহ বিষয় হলো—তরুণ প্রজন্ম এখন অনলাইন প্রতারণাকে সহজলভ্য করে দেখছে। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবের পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ।”   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হুঁশিয়ারি ও পরামর্শ পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ধরা পড়া ব্যক্তিরা অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শতাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করেছে। শুধু গত দুই মাসেই তারা প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি পুলিশের। ডিজিটাল অপরাধ দমন শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে কোনো ধরনের লেনদেনে জড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাইবার হেল্পলাইনে (৯৯৯ বা সাইবার পোর্টাল) জানাতে বলা হয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের চক্রকে প্রতিরোধ করতে হলে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনেক সময় পরীক্ষার্থীরা মানসিক চাপে পড়ে শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতোমধ্যে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “প্রশ্নপত্র ফাঁস বলে কোনো ব্যবস্থা বা সংযোগ বাস্তবে নেই। কেউ এ ধরনের গুজবে কান দেবেন না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করুন।”   পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চক্রটি আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় আরও কিছু সদস্যের খোঁজ চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0
গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল: যুবক গ্রেপ্তার, মামলা রুজু
গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল: যুবক গ্রেপ্তার, মামলা রুজু

রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে শনিবার গভীর রাতে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত যুবক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সঙ্গে পরিচয় গড়ে তোলে। পরে কৌশলে তাদের হোটেল বা ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করত। সেই ভিডিও পরে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় বা বিভিন্ন অনৈতিক দাবির চেষ্টা করত সে। ভুক্তভোগী তরুণী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর এক পর্যায়ে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। তিনি জানান, তার অজান্তেই ঘরে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে, পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে একাধিক নারীর গোপন ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়। বিশেষ করে তরুণীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারো সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক না হলে এমন ঘটনার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে এবং ব্ল্যাকমেইলের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। সাইবার অপরাধের এই ধারা রোধে প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মনিটরিং এবং ভুক্তভোগীদের সহজে আইনি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী
সাইবার অপরাধ বাড়ছে: টার্গেটে তরুণ ও শিক্ষার্থী

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এর প্রধান শিকার হয়ে উঠেছে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেম কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার—এইসব প্রযুক্তিনির্ভর দৈনন্দিন অভ্যাসই এখন তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়েনি। ফলে প্রতারণা, ফিশিং, হ্যাকিং, ভুয়া লিংকে ক্লিক করে তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইলিং, ফেক আইডি তৈরি করে হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ অহরহ ঘটছে। বিশেষ করে টিনএজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহজেই টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, কিংবা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিজেদের তথ্য দিয়ে দিচ্ছে। এরপরে শুরু হয় প্রতারণা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছাত্রীদের ছবি বা ভিডিও এডিট করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে, যা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভুক্তভোগীদের। শুধু সামাজিক হয়রানি নয়, আর্থিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ইনকাম বা স্কলারশিপের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে দিচ্ছে কিংবা অর্থ জমা দিচ্ছে—যার মাধ্যমে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। অপরদিকে, গেমিং অ্যাডিকশন বা ডার্ক ওয়েব নিয়ে আগ্রহী হয়ে অনেক তরুণই নিজেই জড়িয়ে পড়ছে সাইবার অপরাধে। এটি শুধু তাদের ভবিষ্যতের জন্যই হুমকি নয়, বরং দেশের সাইবার নিরাপত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, তারা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মাধ্যমে এসব অপরাধ চিহ্নিত ও দমন করার চেষ্টা করছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও হতে হবে সচেতন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, অপরিচিত লিংক বা অ্যাপ এড়িয়ে চলা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমিত তথ্য শেয়ার করা এবং সন্দেহজনক বার্তা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো—এই কিছু সাধারণ পদক্ষেপই অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার সচেতনতা বিষয়ক কর্মশালা চালু করা, অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি কার্যকর কৌশল তৈরি করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। কেননা, তরুণ প্রজন্ম যদি ভয় বা অনিরাপত্তায় ভোগে, তাহলে তা দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অদৃশ্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রযুক্তি জানলেই হবে না—নিরাপদ থাকা ও অন্যকে নিরাপদ রাখা, দুটোই একসঙ্গে শিখতে হবে। তরুণদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এখনই সময় সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা
রাজধানীতে দিনের বেলায় ছিনতাই বেড়েছে: আতঙ্কে পথচারীরা

রাজধানী ঢাকায় দিনের বেলাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে, যা নগরবাসীর জন্য নতুন এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আগের তুলনায় এখন আর ছিনতাই কেবল রাতের অন্ধকারে সীমাবদ্ধ নেই—শরৎ দুপুর বা কর্মঘণ্টার ব্যস্ত সময়ে রাস্তাঘাটেও ছিনতাইকারীদের দাপট দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ব্যস্ত মার্কেট এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, ওভারব্রিজ ও যানজটপূর্ণ মোড়গুলোতে এ ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ হেঁটে চলার সময়, মোবাইলে কথা বলার সময় কিংবা বাসে ওঠা-নামার মুহূর্তে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। টার্গেট সাধারণত মহিলাদের ব্যাগ, ফোন, গলায় থাকা চেইন বা ছেলেদের মোবাইল ও মানিব্যাগ। নিউমার্কেট, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, বনানী, এবং মিরপুর—এইসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ করছেন অনেক পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা। অনেক সময় ছিনতাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলচালিত অপরাধীরাও জড়িত থাকে, যারা পেছন থেকে হঠাৎ করে টান মেরে পালিয়ে যায়। এমনকি ছিনতাইয়ের সময় আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পথচারীরা বলছেন, পুলিশের টহল থাকলেও অনেক জায়গায় কার্যকর নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ আছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার না হওয়াও এই অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এই সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। অপরাধীরা জানে, ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম, আর যদি ধরাও পড়ে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। এতে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জনসাধারণের মধ্যে এখন এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় ফোন ব্যবহার করছেন না, ব্যাগ শক্ত করে ধরে রাখছেন, এমনকি সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফেরার চেষ্টা করছেন। নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আতঙ্কিত, কারণ তারা আত্মরক্ষায় খুব একটা সক্ষম নন। নগরবাসী চাইছে—পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন আরও সক্রিয় হোক, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি বাড়ানো হোক, এবং দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, স্বেচ্ছাসেবক টহল দল গঠন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (র‍্যাপিড রেসপন্স) চালু করাও এই সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। শহরজুড়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে, রাজধানীর নাগরিক জীবন শুধু ঝুঁকিপূর্ণই হবে না—জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর থেকেও। এখনই সময়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করে পথে মানুষের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী
চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী

চাকরির প্রতারণার ফাঁদে শতাধিক যুবক-যুবতী বর্তমানে চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন হয়ে উঠেছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া চাকরির প্রতারণা। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতাধিক যুবক-যুবতী এক ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে হয়েছেন প্রতারিত। চাকরির আশায় তারা টাকা দিয়েও এখন কাজের মুখ দেখেননি। বরং হারিয়েছেন সময়, অর্থ ও আত্মবিশ্বাস। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। একটি কথিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ফেসবুক ও বিভিন্ন চাকরির ওয়েবসাইটে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বলা হয়—“বিনা অভিজ্ঞতায় ২০,০০০ টাকা বেতনে কর্পোরেট অফিসে চাকরি, শুধু ইন্টারভিউ দিলেই হবে।” এই বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে অনেক তরুণ-তরুণী আবেদন করেন। পরে ফোনে ডেকে আনা হয় অফিসে, নেওয়া হয় ৫০০–২০০০ টাকা “প্রসেসিং ফি” নামে। ইন্টারভিউ নেওয়ার নামে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়, কথিত প্রশিক্ষণের নামে আরও টাকা চাওয়া হয়। কেউ কেউ মাসখানেক কাজ করেও বেতন পাননি। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির অফিস হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফোন নম্বরগুলো বন্ধ, আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পলাতক। এই ধরনের ঘটনা দেশে নতুন নয়। প্রতিনিয়ত চাকরির নামে এ ধরনের প্রতারণা বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বিপদে পড়ছেন সদ্য গ্র্যাজুয়েট তরুণ-তরুণীরা, যাদের হাতে অভিজ্ঞতা নেই, আর স্বপ্ন রয়েছে অনেক।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা
ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা ডিজিটাল যুগে বসবাস আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করে তুলেছে, তেমনি নতুন এক ধরনের অপরাধও নিয়ে এসেছে—ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতারণা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে অনলাইন প্রতারণার হার বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রতারণার মূল লক্ষ্য এখন দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই বেশি অনলাইন অ্যাকটিভ। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শপিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম—বিভিন্ন কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে প্রতারক চক্র। প্রতারণার ধরন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ফেক অফার ও চাকরির বিজ্ঞাপন। “বাড়িতে বসে আয় করুন”, “বিনা মূল্যে আইফোন জিতুন” বা “মাত্র ৫০০ টাকায় বিদেশে চাকরি”—এমন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেক তরুণকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ভুয়া ওয়েবসাইট বা ফিশিং লিংক পাঠিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে। কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করছে। সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ভিত্তিক প্রতারণা। অপরিচিত নম্বর থেকে “আপনার বিকাশ নম্বরে টাকা এসেছে”, “OTP বলুন”, বা “আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে”—এই ধরনের মেসেজের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। কেন তরুণরাই টার্গেট? তরুণরা প্রযুক্তিতে সক্রিয় হলেও অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয়। বিশ্বাস করে দ্রুত ফলাফল বা আয় পাওয়ার প্রতিশ্রুতি। অনেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ব্যাংক ডিটেইলস সহজেই শেয়ার করে ফেলে। ফলে সহজেই প্রতারণার শিকার হন। তাছাড়া, তারা অনেক সময় প্রতারিত হলেও সামাজিকভাবে অপমানের ভয় বা আইনি ঝামেলার কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে প্রতারকরা বারবার একই কৌশলে অন্যদেরও টার্গেট করে। কী করা উচিত? অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি। অপরিচিত লিংকে ক্লিক নয় OTP বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলা যাবে না দ্বৈত যাচাইকরণ (Two-Factor Authentication) চালু রাখা যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করা ভুয়া অফারে ক্লিক না করে সন্দেহজনক পোস্ট রিপোর্ট করা পাশাপাশি, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত সাইবার অপরাধ নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি’ বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজনও সময়ের দাবি। সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট আমাদের দরজা খুলে দিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার জগতে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে যেন প্রতারকরা ঢুকে না পড়ে, সে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের হতে হবে আরও বেশি সতর্ক, সচেতন এবং প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ সচেতন ব্যবহারকারীর প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ছিনতাই: নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রাজধানী ঢাকায় দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে অফিস বা বাজার করার জন্য বের হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা অনেক সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিশেষ করে পুলিশের কার্যক্রম ও আইনের শাসনের প্রভাব কতটা রয়েছে তা নিয়ে। দুপুরের সময় হলেও পথচারী, যাত্রী ও গাড়ি চালকরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ফোন, ব্যাগ, অর্থসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস ছিনতাইকারীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের আলোতে এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে নানা কারণ কাজ করছে। যেমন, বাড়ছে বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি এবং অপরাধীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর অস্ত্র বহন। এছাড়া সড়ক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাও বড় কারণ। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়-সময়ে নানা উদ্যোগ নিয়েছে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য। বিশেষ অভিযান, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পেট্রোলিং বাড়ানো ইত্যাদি চেষ্টা হলেও তাতে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় তারা নিজেও সতর্ক হয়ে উঠছেন। ভিড়বহুল এলাকায় বেশি সতর্ক থাকা, বিকল্প পথ ব্যবহার করা, রাতের সময়ে অযথা বাইরে না যাওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সংহতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে অপরাধ কমানো সম্ভব। এছাড়া দ্রুত অপরাধী সনাক্ত ও গ্রেফতারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব মিলিয়ে, দিনে-দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। নিরাপত্তা হল এক ধরনের মৌলিক অধিকার, যা প্রত্যেক নাগরিকের থাকা উচিত। তাই সময় নেয়া প্রয়োজন আধুনিক ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার, যাতে সবাই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের নমুনা সংগ্রহকারী গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ২০, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৯, ২০২৬ 0