Brand logo light

জাতীয় নির্বাচন

তারেক রহমান
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তার এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ 0
নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা-২ আসনে বিএনপির দুর্গে ভাঙন, জামায়াতের ঐতিহাসিক জয়

দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে প্রথমবারের মতো বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা জয় পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবার নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতে তিন দশকের বেশি সময় সক্রিয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু-কে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ছিল এ পরাজয়ের প্রধান কারণ। অতীতের শক্ত ঘাঁটি, ভাঙল দীর্ঘ ঐতিহ্য ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে খুলনা-২ আসন ছিল বিএনপির দখলে। এমনকি ২০০৮ সালের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জয় ধরে রেখেছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও তিনি এলাকায় ছিলেন সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় বিএনপি শিবিরে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি তৈরি হয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রথমদিকে মাঠে সক্রিয়তা না থাকা নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রার্থী ঘোষণার পরও মঞ্জু ভাইকে প্রথম পর্যায়ে মাঠে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট কার্যক্রম ছাড়া ডোর টু ডোর প্রচার ছিল না। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ছিল।” পরিকল্পিত প্রচারে এগিয়ে জামায়াত জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ছিলেন কৌশলী ও সংগঠিত। দলটির নেতাকর্মীরা পাড়া-মহল্লাভিত্তিক ছোট ইউনিটে ভাগ হয়ে ঘরে ঘরে প্রচারণা চালান। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনার বিষয়ে ছিল আলাদা উদ্যোগ। বিএনপির প্রচারণা যেখানে মূল সড়ক ও বাজারকেন্দ্রিক ছিল, জামায়াত সেখানে অলিগলি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাই ছিল তাদের প্রধান কৌশল। দলটির কর্মী জিকু আলম জানান, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। ভোটারদের আস্থা থাকলেও তাদের বিশৃঙ্খলার সুযোগ আমরা কাজে লাগিয়েছি।” দলীয় কোন্দল: পরাজয়ের বড় কারণ ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যের ছবি দেখা গেলেও বাস্তবে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। বর্তমান কমিটির অনেক প্রভাবশালী নেতা মাঠে সক্রিয় হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সেকেন্দার আলী খান সাচ্চু বলেন, “কোন্দলের প্রভাব পড়েছে। আমরা দুই অংশ এক হলেও সবাই সেভাবে কাজ করেনি।” খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, “এ আসনে তুলনামূলক ভোট কম পড়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।” ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন বার্তা খুলনা-২ আসনে জামায়াতের এই জয় দলটির জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর পরিকল্পিতভাবে প্রার্থী দিয়ে তারা একটি ঐতিহ্যবাহী আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, “এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কেন হারলাম। বিষয়টি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ চলছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খুলনা-২ আসনের ফলাফল শুধু একটি আসনের পালাবদল নয়—এটি ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলীয় ঐক্য, মাঠভিত্তিক সংগঠন এবং ভোটার ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি উপাদানই আগামী দিনের রাজনীতিতে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
বাবর, পিন্টু ও আজহার
ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন বাবর, পিন্টু ও আজহার

শুধু দীর্ঘ কারাবাস নয়; প্রহসনের বিচারে রীতিমতো মৃত্যুদণ্ড। বলা যায়, মাথার উপরেই ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। জুলাইয়ের রক্ত বন্যায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। এরপর আসে বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের মাহেন্দ্রক্ষণ। স্বৈরাচারের কারাগার থেকে বেরিয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ান নেতারা—এবং রায় দেন ভোটাররাই। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। বাবর: ১৮ বছরের অন্ধকার শেষে আলোর পথে ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সালে গ্রেফতার হন। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটে যায় দীর্ঘ ১৮ বছর। পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে মলিন মুখে আদালতে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল চিরচেনা। অনেকেই মনে করতেন, বাবর আর কোনোদিন জেল থেকে মুক্তি পাবেন না। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান তিনি। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে যান নিজের নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনায়। মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুরি নিয়ে গঠিত আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পিন্টু: মৃত্যুদণ্ড থেকে সংসদ ভবন বাবরের মতোই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। মুক্তির পর তিনি ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটযুদ্ধে প্রায় দুই লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ডের রায় পেরিয়ে তার এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজহার: ফাঁসির মঞ্চ থেকে ভোটের মঞ্চে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও হয়েছেন সংসদ সদস্য। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছরের মধ্যে গ্রেফতার হন আজহার। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ কারাবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছর ২৮ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান। আর কিছুদিন গেলেই হয়তো তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হতো—এমন ধারণা ছিল রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু সেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাই আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ এই তিন নেতার বিজয় শুধু ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ কারাবাস, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া—সবকিছুর পর জনগণের ভোটে তাদের জয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। জনতার রায়ে কারাগার পেরিয়ে সংসদ ভবনে—এই প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
পটুয়াখালী-২ আসনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিজয়ী

পটুয়াখালী-২ আসন এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু সালেহ বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ শেষে উপজেলা নতুন অডিটরিয়ামের ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ মনিটরিং সেল থেকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ভোটের ফলাফল পোস্টাল ভোট ছাড়া ড. মাসুদ মোট ৯৯ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট। এ ছাড়া— হাতপাখা প্রতীকের মালেক হোসেন পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৯ ভোট ঈগল প্রতীকের মো. রুহুল আমিন পেয়েছেন ৪০৫ ভোট ট্রাক প্রতীকের মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩৪৮ ভোট সর্বমোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৩ ভোট গৃহীত হয়। ভোটার পরিসংখ্যান আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে— নারী ভোটার: ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ২ জন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ছোটখাট কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিজয়ীর প্রতিক্রিয়া ফলাফল ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, এলাকায় প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কেউ অন্যায় অপকর্ম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তিনি ৬০ দিনের মধ্যে এলাকা মাদকমুক্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে বাউফলকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ভোটে আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরীক্ষা

নানা জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।   বিগত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এ নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এ নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ায় শুরুতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  দুই দিনের সরকারি ছুটি এবং অতিরিক্ত ছুটির সুযোগে অনেকেই গ্রামে ফিরেছেন; বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ছিল ঈদের আমেজ। আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত হওয়ায় সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গোলাপি ব্যালটে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ তরুণ ভোটার, যাদের একটি বড় অংশ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ তরুণ ভোটাররাই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন, চূড়ান্ত ফল পেতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আস্থাহীনতার পর আজকের নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শঙ্কামুক্ত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: ড. ইউনূস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি এই ভোট যেন তরুণসহ সব ভোটারদের কাছে উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।বুধবার নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ইউনূস বলেন, এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়-তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি এ নির্বাচনকে ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত’ জাতির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছিল সে ‘আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবেও দাবি করেন।জনগণের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি আশা করি, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন। তিনি নির্বাচন উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমর্থন: শীর্ষ পীর-আলেমদের ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ায় দেশের শীর্ষ পীর ও আলেমদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তারেক রহমান বলেন, জাতির একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের অবস্থান জনগণকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেবে। আলেম-ওলামাদের ওই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের জনগণ তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয় সঠিক নির্দেশনা পাবে বলে আমি মনে করি। ভবিষ্যতেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আলেমরা ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তারেক রহমানের।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
নির্বাচন নিয়ে উৎসব-আতঙ্ক

ভোটের দিন রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোতে দেখা গেছে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। নেই চিরচেনা যানজট, নেই ট্রাফিক সিগন্যালের দীর্ঘ অপেক্ষা। ঈদের দিনেও যে ধরনের যানবাহনের চাপ থাকে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, চৌধুরীপাড়া ঘুরে তার চেয়েও বেশি সড়ক শূন্যতার দৃশ্য চোখে পড়ে। কখনো সখনো দু’একটি অটোরিকশা বা একটি প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেলেও দীর্ঘ সময় সড়কে তাকিয়ে থাকলেও তেমন কোনো যানবাহনের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। এমনকি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ বা সিগন্যাল ব্যবস্থাও চোখে পড়েনি। রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মনসুর আলী বলেন, “ঢাকা শহরে এমন যানবাহনের শূন্যতা ঈদের দিনেও দেখা যায়নি। নির্বাচন নিয়ে শুধু উৎসবের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মধ্যে আতঙ্কও কাজ করছে। কী হবে, কী হতে চলেছে—এ নিয়ে সবাই চিন্তিত।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর হবে—এমন কথার পাশাপাশি মানুষের ভেতরের এই উদ্বেগের দিকটিও তুলে ধরা জরুরি। একই সুরে কথা বলেন রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। তিনি বলেন, “ভোট দেওয়ার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি মানুষের মনে আতঙ্কও ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন, পরিস্থিতি বুঝতে চাইছেন। তবে সবার একটাই আশা—নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মানুষ শান্তি চায়।” এদিকে, অ্যাডিশনাল কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানান, “নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ভোট দিতে নিজ নিজ গ্রামে চলে গেছেন। এ কারণেই ঢাকায় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যানবাহন চলাচল অনেক কম।” তিনি জানান, দূরপাল্লার কিছু বাস সীমিত আকারে চলাচল করছে, তবে মহানগর এলাকায় সড়ককে কার্যত ফাঁকাই বলা যায়। সড়কে যানবাহনের স্বল্পতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন বলেন, “সড়কে যানবাহন কম থাকায় মানুষ ট্রেনের ওপর নির্ভর করছে। ফলে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে।” স্টেশন সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় ট্রেনের ছাদে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ভেতরের বগিগুলোতেও যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থা ছিল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল থেকে রাজধানীতে যানবাহনের চলাচল খুবই সীমিত। কিছু অটোরিকশা ও হাতে গোনা কয়েকটি প্রাইভেটকার ছাড়া সড়কে উল্লেখযোগ্য যান চলাচল নেই। ডিএমপি সূত্র জানায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে, আবার সন্ধ্যার দিকে আরও কমে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের দিনে ঢাকার এই নীরবতা একদিকে যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি মানুষের মনে চলমান উদ্বেগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলনও বটে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান: প্রথম নির্বাচনেই নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটিই তার জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে তিনি নিজেও একজন প্রার্থী। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচনী মাঠে নামেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অতীত, দুর্নীতির অভিযোগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসব অভিযোগ বিএনপি বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দলটি দাবি করছে—এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। প্রায় সতের বছর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার সময় তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর সরাসরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পর, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। যদিও তিনি ২০১৮ সাল থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছিলেন। নেতৃত্বে আসা কতটা অনিবার্য ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের আসাটা ছিল অনেকটাই অনিবার্য। “২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই দলটি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চলছিল। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণে কোনো বড় অনিশ্চয়তা ছিল না,” বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশে থেকেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তারেক রহমানের বড় রাজনৈতিক সাফল্য। “দেশের বাইরে থেকেও তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং দল ভাঙতে দেননি। তবে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্তগুলো কতটা পরিণত হয়,” বলেন তিনি। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চাইছে তারেক রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও বটে। অতীতের বিতর্ক ও মামলা ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাভোগ করেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ‘হাওয়া ভবন’কে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিরোধীরা তখন তাকে একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে বর্ণনা করে। বিএনপি এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি এসব মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পান। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষা বিএনপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তার জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৬৮। হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’। সামনে কী অপেক্ষা করছে? এই নির্বাচনই তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মহিউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “তিনি রাজনীতির সংঘাত, দমন-পীড়ন ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো—এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল দলের নেতা নাকি ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বের উপযোগী রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারেন কি না।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তারেক রহমান প্রথমবারের মতো একক নেতৃত্বে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করলেন। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে—তার রাজনৈতিক উত্থান কতটা স্থায়ী ও প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷ সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন৷ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি - দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান৷ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী তিনি। এ ছাড়া ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তারেক রহমান। এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।’ এ ছাড়া ১৭ বছর পর দেশে ফেরে কেমন চ্যালেঞ্জ ফেস করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত বছর পর এসেছি, আসার পর মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয়।  তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিষয় রাখা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে সমাজের তরুণদের জন্য, বয়স্কদের জন্য, দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধীদের জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, কর্মসূচি রেখেছি। বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য এই পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে।’   বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবেন কিনা- এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। কারণ কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয়, অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?’ দেশের মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও নারীদের অবদান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি? এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাশ ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারীসমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ৷ অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলে ন৷ আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এ শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাশ পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব।’ এছাড়া দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে প্রথমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও স্বাবলম্বী করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন তারেক রহমান।   আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলটি নিষিদ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ আগস্ট যার উদাহরণ।’   দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ এবং বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার মামলা দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আছে, যারা ব্যবসাবাণিজ্য করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদের দেওয়া হয়নি। কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোক, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এ রকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।’ ১৫-১৬ বছরে গুম-খুনের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা যে রকম গুম-খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, তারা গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন, যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, কিন্তু তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না- এটি তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বাহারুল আলম
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮,৭৭০টি : সারা দেশে মোতায়েন প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আইজিপি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, কেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল টিম টহল দেবে, আর যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন। অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। আইজিপি বলেন, “একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।” সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকাটি কার প্রস্তুত করা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে—এমন আশঙ্কার কারণ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্ট জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো জঙ্গি ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই, যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তা মূল্যায়ন করবেন দেশবাসী।”

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচন কমিশন
ভোটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণার ইতি টানে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবেন আগামীর সরকারের প্রধান কে হবেন। প্রচারণার শেষ সময়ে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত গণসংযোগ চালান। কেউ কেউ রাতভর নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, আবার অনেকে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে পড়েন ভোট প্রার্থনায়। প্রার্থীরা ভোটারদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সমর্থন চান। প্রার্থীদের ভাষ্য, শেষ মুহূর্তের প্রতিটি মিনিট ও প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়টুকুও তারা ভোট প্রার্থনায় কাজে লাগাতে চান। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রায় সব প্রার্থীই। তবে শেষ প্রচারণায় বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেও দেখা গেছে। এর বিপরীতে ভোটারদের প্রত্যাশা—নির্বাচন হোক শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশে। এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪৯টি জেলায় ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। বাকি জেলাগুলোতেও রোববারের মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। নির্বাচনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে—২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে—৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। সব মিলিয়ে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি—২৯১ জন। এখন শুধু অপেক্ষা ভোটের দিনের। জনগণের রায়ে নির্ধারিত হবে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে দেশবাসীর সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান

নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশবাসীর সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটির জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বিদেশে অবস্থানকালীন সময় শেষ করে দেশে ফিরে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন এবং সর্বত্র বিএনপির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।” অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দেশ পরিচালনার সময় কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।” ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, “বিএনপি সরকার যতটা সম্ভব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে। এটি আমার অঙ্গীকার, বিএনপির অঙ্গীকার।” ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ডামি নির্বাচনে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে এবার ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।” তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ হবে দলের মূল মন্ত্র। ধর্মীয় সহনশীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এটাই একটি আধুনিক সভ্য সমাজের ভিত্তি।” শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে আপোষ না করেই তারা রাজনীতি করেছেন। খালেদা জিয়া জেল-জুলুম সহ্য করেও দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসনের দলীয়করণ নয়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে। জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কার্ড ও বিদেশে চাকরি পেতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের অঙ্গীকার করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই বিষয়টি পুনরায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “ধানের শীষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়। স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাবেদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিন।”

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঢাকায় নির্বাচনি প্রচারণার শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত শীর্ষ নেতারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ভোটারদের উদ্দেশে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার ২২তম দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে একাধিক জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দেন বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। কেউ কেউ জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণও দেন। নিরাপদ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচিতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দেন। এ সময় তিনি ঢাকাকে একটি নিরাপদ মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকা মহানগরে ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মা-বোনদের নিরাপদ চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তারেক রহমান ইসিবি চত্বর থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের আশ্বাসও দেন। ঢাকা-১৬ আসনে একটি হাসপাতাল নির্মাণ, বিদেশে চাকরিতে আগ্রহীদের সহজ শর্তে ঋণ এবং দেশের প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নারীদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব জামায়াতের আমিরের সকাল ৯টায় বাড্ডার সাঁতারকুলে ঢাকা-১১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই—ঘরে, রাস্তায় কিংবা কর্মস্থলে কোথাও নয়। ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত বেকার ভাতার পরিবর্তে বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। ন্যায়বিচার ও সংস্কারের অঙ্গীকার নাহিদ ইসলামের রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ করার অঙ্গীকার করেন। তিনি বিচার বিভাগ সংস্কার, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা, নারীর সমঅধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জননিরাপত্তামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান। ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি উত্তাপ আরও বেড়েছে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরে। রাজধানীর আরামবাগে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ তার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বায়তুল মোকাররমের সামনে বিক্ষোভ করেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরে এ বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজধানীর রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ভোটের মাঠে কে হাসবে শেষ হাসি—তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Top week

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম
ইত্তেহাদ স্পেশাল

আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে বিএনপিতে! বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের দলবদল নিয়ে তোলপাড়

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0