বিগত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম।
সরকারি একটি অফিস ভবন নির্মাণের প্রায় ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় আহ্বান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযানে নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তে প্রাথমিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিললেও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়—যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।”
তাদের অভিযোগ—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি একাধিকবার পদোন্নতি পেয়েছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়—
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস
গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয়
কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ
স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত
সমালোচকদের দাবি, তার ঘোষিত বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নুরুল আমিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলো নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর এগোবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কুমিরের উপস্থিতি শুধু একটি প্রাণীর অস্তিত্ব নয়, বরং স্থানীয় ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং পর্যটন সংস্কৃতিরও অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সেই ঐতিহ্যের শেষ জীবন্ত প্রতীকটিকেও সরিয়ে নিতে হলো প্রশাসনকে। প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল জননিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি? শিশুমৃত্যুর পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ গত সোমবার মাজারের সংরক্ষিত মহিলা ঘাট এলাকায় আনুমানিক সাত থেকে আট বছর বয়সী ফাতেমা নামের এক শিশুকে পানিতে টেনে নেয় কুমিরটি। পরদিন ভোরে দিঘির পূর্ব পাড়ে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার। বুধবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। দুপুরের দিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং পরে বিশেষ ব্যবস্থায় খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুমিরটির ভবিষ্যৎ আবাস কোথায় হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ক্ষুব্ধ খাদেমরা: ‘একটি দুর্ঘটনায় ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না’ কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে তাঁদের পরিবার মাজার ও দিঘির দেখভাল করে আসছে। দুর্ঘটনা দুঃখজনক হলেও এর জন্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ধ্বংস করা সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে। তাই বলে কুমিরটি নিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বাগেরহাটের মানুষের সম্পদ।” খাদেমদের মতে, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বেষ্টনী এবং প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে কুমিরটিকে আগের স্থানে রাখা সম্ভব ছিল। দর্শনার্থীদের একাংশের ভিন্ন মত তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। মোল্লাহাট থেকে পরিবার নিয়ে মাজারে আসা শাহিদা বেগম বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আজ যদি আমার পরিবারের কারও এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে কী হতো? আপাতত কুমির সরানো ঠিক হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নিরাপদ বেষ্টনী দিয়ে আবার প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।” এই মতামতই এখন স্থানীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত—ঐতিহ্যও থাকবে, আবার মানুষের জীবনও নিরাপদ থাকবে। শতাব্দীপ্রাচীন কুমির ঐতিহ্যের ইতিহাস লোককথা অনুযায়ী, দিঘি খননের পর খানজাহান আলী (রহ.) নিজ হাতে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন—‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত সেই কুমির যুগল পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে একটি প্রতীকী ঐতিহ্যে পরিণত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, খানজাহান আলীর মৃত্যুর পরও খাদেম ও ভক্তরা কুমিরগুলোর যত্ন নিতেন। ক্রমান্বয়ে তাদের বংশবিস্তার ঘটে এবং শত শত বছর ধরে দিঘিতে কুমিরের অস্তিত্ব বজায় ছিল। তবে প্রাকৃতিক মৃত্যু, পারস্পরিক সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় একের পর এক কুমির মারা যেতে থাকে। সবশেষে ২০১৫ সালে ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত শতবর্ষী কুমিরটির মৃত্যু হলে খানজাহান আমলের বংশধারার সমাপ্তি ঘটে। ভারতের কুমির এনে টিকিয়ে রাখা হয়েছিল ঐতিহ্য ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি মিঠাপানির কুমির আনা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর বেশিরভাগই মারা যায় বা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। ২০২৩ সালে শেষ পুরুষ কুমিরটির মৃত্যুর পর দিঘিতে একমাত্র জীবিত কুমির হিসেবে টিকে ছিল সাম্প্রতিক সময়ে সরিয়ে নেওয়া প্রাণীটি। অর্থাৎ দিঘিতে থাকা শেষ কুমিরটি ছিল ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে আনা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি। ‘হঠাৎ আক্রমণাত্মক’ হয়ে উঠল কেন? বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুমির প্রকৃতিগতভাবেই শিকারি প্রাণী। তবে মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সহাবস্থানের পরিবেশে তাদের আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবিরের মতে, খাদ্যসংকট একমাত্র কারণ নয়। তিনি জানিয়েছেন, পর্যটকদের সামনে কুমির প্রদর্শনের জন্য খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো, নিয়মিত কৃত্রিমভাবে খাবার দেওয়া, সামনে জীবিত প্রাণী এনে দেখানো এবং পরে সরিয়ে নেওয়ার মতো কার্যক্রম কুমিরের স্বাভাবিক আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া দিঘিতে জাল ফেলে মাছ ধরা এবং মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতিও প্রাণীটির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত করেছে বলে মনে করেন তিনি। অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর নতুন করে সামনে এসেছে মাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, তাবিজ ও মানতের নামে বাণিজ্য, কুমিরকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে—লোকালয়ের মধ্যে থাকা উন্মুক্ত দিঘিতে একটি পূর্ণবয়স্ক কুমির রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক? প্রশ্নটি আরও জোরালো হয় প্রায় দুই মাস আগে একটি কুকুরকে কুমিরের আক্রমণের ঘটনার পর। তবে তখনও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় এক প্রজাতির ভবিষ্যৎ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০০০ সালে ঘোষণা করেছিল যে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশে মিঠাপানির কুমির কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় খানজাহান আলীর মাজারের কুমিরগুলো ছিল এক ধরনের জীবন্ত সংরক্ষণ ঐতিহ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিঘির বিস্তৃত জলাশয়কে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করলে সেখানে একটি নিয়ন্ত্রিত কুমির সংরক্ষণ ও প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা গেলে ভবিষ্যতে এখানেই একটি মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। ঐতিহ্য বনাম জননিরাপত্তা: এখন কোন পথে বাগেরহাট? খানজাহান আলীর মাজারের কুমিরকে ঘিরে বিতর্ক মূলত দুটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একদিকে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, লোকবিশ্বাস ও পর্যটন ঐতিহ্য। অন্যদিকে রয়েছে মানুষের জীবন ও জননিরাপত্তা। ফাতেমার মৃত্যু সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আপাতত দিঘি কুমিরশূন্য। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যদি আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধান এবং সুশাসন নিশ্চিত করা হতো, তাহলে কি এই মৃত্যুও এড়ানো যেত, আর ঐতিহ্যও টিকে থাকত? বাগেরহাটের মানুষের সামনে এখন সেই উত্তর খোঁজার সময়। কারণ কুমিরটি শুধু একটি প্রাণী ছিল না; এটি ছিল ইতিহাস, বিশ্বাস, পর্যটন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের এক জটিল পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) একজন কর্মকর্তা কীভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ দখলে রেখে দুই দশকের বেশি সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন— স্থানীয় সরকার বিভাগের এক তদন্তে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, যার মূল পদ ‘স্থপতি’, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ‘প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ’ পদে বহাল আছেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী এই দায়িত্ব পাওয়ার মতো গ্রেড, যোগ্যতা কিংবা প্রশাসনিক অনুমোদন— কোনোটিই তার ছিল না বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে বলা হয়েছে, ৬ষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা হয়েও সিরাজুল ইসলামকে ৪র্থ গ্রেডের পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা বিদ্যমান বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট ব্যত্যয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ডিএসসিসিতে তার দায়িত্ব বহালের কোনো লিখিত আদেশ বা প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “মৌখিক আদেশে প্রদত্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।” নিয়োগের শুরুতেই প্রশ্ন তদন্তে উঠে এসেছে, ১৯৯৭ সালে ‘স্থপতি’ পদে নিয়োগ পাওয়ার সময়ও সিরাজুল ইসলামের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে বলা হয়েছে, তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একটি প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা সনদ দাখিল করেন, যা বাংলাদেশের স্নাতক ডিগ্রির সমমান কিনা সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনো প্রত্যয়ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিয়োগের সময় তার পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও ছিল না। তদন্ত অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি চাকরিতে যোগ দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতার দাবি থাকলেও প্রয়োজনীয় সনদপত্র নথিতে পাওয়া যায়নি। ‘সাময়িক দায়িত্ব’ থেকে ২২ বছরের ক্ষমতা ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে সিরাজুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ‘সাময়িক’ দায়িত্বই স্থায়ী রূপ নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এ ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম প্রায় ২২ বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নতুন প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ দিলেও দক্ষিণ সিটিতে আর কোনো নিয়োগ হয়নি। বরং সিরাজুল ইসলামই দায়িত্বে থেকে যান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভক্তির পর নতুন করে দায়িত্ব প্রদানের কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিএসসিসির প্রতিনিধিও তদন্তে স্বীকার করেছেন, “তৎকালীন মেয়রের মৌখিক নির্দেশে” তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে সিরাজুল ইসলাম শুধু প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের পদেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; একই সঙ্গে একাধিক বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তিনি অন্তত তিনটি বড় প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে— ৮৫০ কোটি টাকার ঢাকা সিটি নেবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প ঢাকা নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্প সরকারি নীতিমালায় একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত একটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও, বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুটি প্রকল্পে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সিরাজুল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব শর্ত মানা হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ ও দুদক তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় সরকার বিভাগের এই তদন্ত শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের মতো প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের তথ্য উঠে এলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং ডিএসসিসির প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে “মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয়নি” সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নগর পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নগরায়নের এই সময়ে একটি বৃহৎ নগরীর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্বে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকা একজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় নগর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্তে অনিয়মের একাধিক দিক উঠে এলেও এখন পর্যন্ত সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে— দুই দশকের বেশি সময় ধরে কীভাবে একজন কর্মকর্তা প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলেন? আর এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তাকে কারা রক্ষা করেছে?
বরিশাল অফিস : একসময় দেশের শিল্পখাতে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল বরিশাল ভিত্তিক অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। খান সন্স ভবন, ৫১ কাঠপট্টি রোডে করপোরেট অফিস এবং রূপাতলীতে কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বিদশে অর্থ পাচারের কারনে এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং ব্যাংক ঋন খেলাপী,বিদ্যুৎ বিল বকেয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন,কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়ায় কর্ম বিরতি, ৩ দেশে অর্থপাচার করে সম্পদের পাহাড় বানানো,৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়া,ঈদুল আজহার পরে স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা,ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়াসহ গুরুতর অভিযোগে আলোচনায় এসেছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে। বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়। জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী ছবি- ইত্তেহাদ নিউজ ব্যাংক ঋণ সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বকেয়া থাকায় এখন কর্ম বিরতি চলছে। নতুন ঋণের জন্য জাল কাগজ তৈরির অভিযোগ এদিকে অভিযোগ রয়েছে, নতুন করে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু জমির জাল কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজও চলছে। এ কাজে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা । আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , তদন্তের দাবি তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।