Brand logo light

দুর্নীতি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ বিদেশি স্টেশনগুলোতে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   নীতিমালা উপেক্ষা, অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে পদায়ন প্রচলিত গ্রাউন্ড সার্ভিস ম্যানুয়াল (ICAO/IOSA) অনুযায়ী বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে অন্তত একবার তিন বছরের জন্য স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদ্য পদায়িত একাধিক কর্মকর্তারই ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে কুয়েত স্টেশনে নতুন স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে শামীমা পারভীনকে পদায়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগে একই স্টেশনে দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী মো. শাহজাহান। স্বামীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই কর্মস্থলে স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির অতীতে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগ্যতার নির্ধারিত অভিজ্ঞতাও তার নেই।   ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা—ইব্রাহিম, মো. মিজানুর ও তন্ময় কান্তি বিশ্বাস—চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই বিদেশে পদায়ন পেয়েছেন। পূর্ববর্তী নীতিমালায় বিদেশে স্টেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। তবে ২০২৩ সালের প্রশাসনিক আদেশে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সংশোধনটি করা হয়েছিল বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দিতে। যদিও সংস্থার সভায় আদেশটি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।   সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের অভিযোগ ডেপুটি ম্যানেজারদের মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফারুক তালুকদার এবং শাহীনা আক্তার দেশে ঢাকার বাইরে স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পদায়ন পাননি। একইভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারদের মধ্যেও সিনিয়রিটি তালিকার শীর্ষে থাকা মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনসহ অন্তত ১৩ জন পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক আদেশ ৩৬/২০২৩ অনুযায়ী ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী ডাকার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।   মানব পাচার মামলার আসামিকেও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব ম্যানচেস্টার স্টেশনে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে মনিরুল ইসলাম প্রধানের পদায়ন নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন কর্মকর্তারা।   গুয়াংজু ও দিল্লি স্টেশনেও বিতর্ক গুয়াংজু স্টেশনে আশরাফুল হকের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি স্টেশনে ইয়ারত হোসেনের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতে তিনি ভিভিআইপি সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠতার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   সিন্ডিকেট ও উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, পুরো পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমান, সিএফও নওশাদ হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিমানের চেয়ারম্যান—দুই পদেই দায়িত্বে ছিলেন। তার আমলে দুর্নীতির মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।   লোকদেখানো সাক্ষাৎকারের অভিযোগ গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত স্টেশন ম্যানেজার পদায়নের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম আগেই চূড়ান্ত ছিল; সাক্ষাৎকার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভাইভায় ডাকা যাবে না। অথচ বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তা ভাইভা দিয়ে পদায়ন পেয়েছেন।   নীরব কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিমান মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।   দেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী যাত্রীদের আস্থা ও বৈদেশিক রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির ভেতরের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আমির হামজা
“কুষ্টিয়ায় এখন আমিই ওপরওয়ালা”— দুর্নীতিবাজদের কড়া হুঁশিয়ারি মুফতি আমির হামজার

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাসেবায় জড়িত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “সবাই ওপরের জনকে দোষ দেয়। ওপরওয়ালা কুষ্টিয়ায় কেউ নেই, ওপরওয়ালা এখন আমি। কেউ যদি দুই নম্বর কিছু করতে চায়, তাহলে আমার কথা বলবেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কে চলে কুষ্টিয়ায়, আমি তা দেখব।” বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতি আমির হামজা বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তাদের আবেগ ও অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বর্তমানে কয়েকটি বিভাগ চালু থাকলেও পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির ভেতরে প্রত্যেকটি সরকারি অফিস-আদালতকে জনবান্ধব করার চেষ্টা করব। বিশেষ করে মানুষ ডিসি, এসপি, ইউএনও অফিস ও থানায় যেতে ভয় পান। সিভিল সার্জন, এলজিইডির মতো অফিসগুলোতেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে চাই।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সভায় হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল সংকট নিরসন এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক
গুলশান ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলা: টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারির নির্দেশ

ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক-এর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের আবেদন এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড-এর কাছ থেকে ফ্ল্যাট গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান-২ এলাকার রোড নং-৭১-এর বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (বর্তমানে ১১এ ও ১১বি), ফ্ল্যাট নং-বি/২০১ দলিলমূলে নিজের দখলে নেন তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ মামলার এজাহারে বলা হয়, ফ্ল্যাটটি গুরুতর অনিয়মের কারণে হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। তা জানা সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে আমমোক্তার অনুমোদন এবং ফ্ল্যাট বিক্রয়ের অনুমোদন করিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়া ও দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন তিনি। দেশত্যাগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দুদক জানায়, মামলা দায়েরের আগেই টিউলিপ সিদ্দিক দেশত্যাগ করেন এবং মামলার প্রমাণাদি বিনষ্টের চেষ্টা করছেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার পটভূমি গত বছরের ১৫ এপ্রিল গুলশানের ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ফ্ল্যাটটি দখল ও পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করেন। গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পূর্বাচল প্লট মামলা এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রেটে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রেটে ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার সময়েই বরিশাল সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ জেলার ১০টি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বদলি বাণিজ্য, দলিল প্রতি ঘুষ, নকল উত্তোলনে ঘুষ এবং দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাৎসরিক অর্থ আদায় এখন ওপেন সিক্রেট। এসব অবৈধ অর্থ আদায়ের জন্য তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অফিস সহকারী হালিম সিপাহি ও মহাদেবের নাম উঠে এসেছে। তারাই নির্ধারিত হারে ঘুষের টাকা সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   দুদকের অভিযান ও সটকে পড়ার অভিযোগ ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালায়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মোহছেন মিয়া সটকে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, ওইদিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় তিনি অফিসেই উপস্থিত ছিলেন।   নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী— প্রতিটি দলিলের জন্য নেওয়া হয় ২০০ টাকা নকল উত্তোলনে আদায় করা হয় ৩৫ টাকা প্রায় ৩০০ দলিল লেখকের কাছ থেকে লাইসেন্স নবায়ন বাবদ বছরে ১,৫০০ টাকা করে নেওয়া হয় বদলি বাণিজ্যে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবরেজিস্ট্রার অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, বরিশালে যোগদানের পর থেকেই মোহছেন মিয়া বদলি বাণিজ্য শুরু করেন।   বদলি ও পদোন্নতিতে মোটা অঙ্কের লেনদেন সূত্র মতে, দুর্নীতির দায়ে বদলি হওয়া এক অফিস সহকারীকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে পুনরায় বরিশাল সদর অফিসে যোগদান করানো হয়। অন্যদিকে, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক কর্মচারীকে বদলি করা হলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্রকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সদর অফিসে বদলি করা হলেও এক মাস পরে যোগদান করতে হয়। পরে দুই মাসের মাথায় তাকে আবার হিজলায় বদলি করা হয়। সম্প্রতি হিজলা উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার অফিসের এক নকলনবিশকে মোহরার পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা এবং আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্ট্রার অফিসের এক অফিস সহকারীকে পদোন্নতির আশ্বাসে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অবসরে যাওয়া এক পিয়নের পেনশনের টাকা ছাড় করাতে ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চার লাখ টাকায় সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে।   উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ, তবুও ব্যবস্থা নেই এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহছেন মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি ঢাকা আইজিআর অফিস পর্যন্ত গেলেও তা রহস্যজনকভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, “একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য করেন, তাহলে অধীনস্থদের মধ্যেও দুর্নীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”   ভুক্তভোগীদের দাবি দলিল করতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এমন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
রইছ উদ্দিন শ্যামল বাবু
পিয়ন থেকে বহুতল ভবনের মালিক মাউশির রইছ উদ্দিন শ্যামল

ময়মনসিংহে সরকারি চাকরিজীবী এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন শ্যামল ওরফে বাবু এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী হাসিনা খাতুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিয়ন থেকে বহুতল ভবনের মালিক ২০০৪ সালে একটি সরকারি বিদ্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরিতে যোগ দেন রইছ উদ্দিন শ্যামল। পরবর্তীতে তিনি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল-এ হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি বদলি হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ময়মনসিংহ অঞ্চলে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি নগরীর গোহাইলকান্দি এলাকায় তিন শতাংশ জমির ওপর প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন, যা তাঁর প্রথম স্ত্রী হাসিনা খাতুনের নামে। এ ছাড়া বাদেকল্পা এলাকায় ছয় শতাংশ জমির ওপর সাততলা ভবনের তৃতীয় তলায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। একই এলাকায় ১৩ শতাংশ জমিতে রয়েছে আরেকটি একতলা বাড়ি এবং আরও দুটি প্লটের মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতি দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হাসিনা খাতুন সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যাচাই শেষে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি দুদক মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে— ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের উল্লেখযোগ্য গরমিল হাসিনা খাতুন নিজেকে গৃহিণী হিসেবে উল্লেখ করলেও তাঁর নামে আয়কর নথি খুলে ব্যবসা ও অন্যান্য আয়ের তথ্য প্রদর্শন করা হয়, যার বাস্তব অস্তিত্ব তদন্তে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ: দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ বৈধকরণ দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ ও আয় প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন রইছ উদ্দিন শ্যামল। ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার জানান, দুদকের উপপরিচালক শাহাদাত হোসেন চার্জশিট কমিশনে দাখিল করেছেন। অনুমোদন পেলেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হবে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয়দের দাবি, চাকরিতে যোগদানের আগে ভাড়া বাসায় কষ্টে জীবনযাপন করলেও কয়েক বছরের মধ্যে কোটি টাকার মালিক হয়ে ওঠেন শ্যামল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, “একজন কর্মচারী এত সম্পদের মালিক হলে তার পেছনে অফিস সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা উচিত।” এদিকে অভিযুক্ত রইছ উদ্দিন শ্যামল বলেন, “আমি কী অপরাধ করেছি, সেটা বলতে বাধ্য নই। যা বলার দুদককে বলেছি। অন্যায় করলে শাস্তি হবে, তা মেনেই নিয়েছি।” তদন্তের পরবর্তী ধাপ দুদক সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। মাউশির উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “যেহেতু বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ অর্জনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দুদকের এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় দুর্যোগের মুখে
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্যোগের মুখে: দুর্নীতি, জনবল সংকট ও বাজেট ঘাটতি

বাংলাদেশ-এর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জনবল সংকট ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দুর্নীতির অভিযোগ: কেনাকাটা থেকে পদোন্নতি স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। তাদের দাবি, বিগত সময়ে এসব ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে খালি বাক্সের বিপরীতেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কেনা যন্ত্রপাতির বড় অংশ স্টোরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব অনিয়মের সুবিধাভোগী হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারে এলে এই সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সরকারি সেবায় সীমিত কাভারেজ, বেসরকারিতে নির্ভরতা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পান। বাকি ৮৫ শতাংশ মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সেবা নিতে হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পকেট থেকে খরচের হার বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভুটানে ১৩ শতাংশ, ভারতে ৬৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ২১ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জনবল সংকট ও বৈষম্যপূর্ণ বণ্টন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য মানুষের আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান ও কাভারেজ—দুটিই সন্তোষজনক নয়। তার ভাষায়, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক; গ্রামে গেলেও অনেক সময় থাকেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট—অপথালমোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নেফ্রোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পেরিফেরি পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকায় ডাক্তার-নার্স রাখতে হলে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ভাতা দিতে হবে। WHO মানদণ্ডে ঘাটতি World Health Organization (WHO)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩:৫। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার চিকিৎসক থাকলেও নার্স রয়েছেন প্রায় ১ লাখ। অথচ এই সংখ্যায় নার্স থাকার কথা ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার এবং প্যারামেডিক সাড়ে ৪ লাখ। সরকারি হিসাবে প্যারামেডিক রয়েছেন মাত্র ২০ হাজার। ডাক্তারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং নার্স ও প্যারামেডিকের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। এসব পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করলে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি পর্যায়ে চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেডিকেল শিক্ষার মান তলানিতে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, মেডিকেল শিক্ষা হচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি। কিন্তু এই ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে গেছে। মানহীন ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার করতে হলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৪ শতাংশ, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ শতাংশ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ কম এবং তার একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী। করণীয়: সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোগপ্রতিরোধে গুরুত্ব জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি বলেন, দেশের জনসংখ্যা, ঘনবসতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। চিকিৎসার চেয়ে রোগপ্রতিরোধ ও সুস্থতা নিশ্চিতকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রাথমিক থেকে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পৃথক স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বেতন কাঠামো সময়োপযোগী ও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যখাতে যে লুটপাট ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দক্ষ জনবল নিয়োগ, বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক সেবা জোরদার এবং স্বাস্থ্যনীতি সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাতের এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৃহত্তর মানবিক দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পে (এলডিডিপি) বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ‘কেসি এগ্রো’ নামে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য রয়েছে। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বলা হয়েছে, কেসি এগ্রোর নামে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা সরকারি ভর্তুকি বরাদ্দ করা হয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে কোন কার্যক্রম চালায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ড. হারুন অর রশিদ ওই অর্থকে উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করে আত্মসাত করেছেন। প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ৬১ জেলায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪ হাজার ২৮০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও, কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ইতোমধ্যেই উঠে এসেছে। রংপুর সদর উপজেলায় ডেইরি ফার্মের নামে একটি মিষ্টির দোকানও অনুদান পেয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এছাড়া ফিড মিলসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই ৫ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্মকর্তারা এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। খাত সংশ্লিষ্টরা শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই দুর্নীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এই অভিযোগ হাস্যকর এবং বানোয়াট। কেসি এগ্রো যা কাজ করেছে, তারই বিল প্রদান করা হয়েছে।” প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “যদি অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, আমরা প্রকল্প নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।” বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাগুলি খাতটিকে সংকটে ফেলছে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বাড়াচ্ছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সচিবালয়
সচিবালয় সমবায় সমিতিতে কোটি টাকার লুটপাট: তদন্তে প্রমাণ মিললেও ধরাছোঁয়ার বাইরে দুর্নীতিবাজরা

সচিবালয়ের সাধারণ কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড আজ নিজেই দুর্নীতির এক ভয়াবহ উদাহরণে পরিণত হয়েছে। কর্মচারীদের সঞ্চয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, রেশনিং সুবিধা ও ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনার মতো সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই সমিতি বিগত বছরগুলোতে পরিণত হয় একটি লুটপাটের কেন্দ্রে। সমবায় অধিদপ্তরের তদন্তে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও আজ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতিবাজ নেতারা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্তে প্রমাণ, তবুও নীরব প্রশাসন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সমবায় অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করলে কেনাকাটায় অনিয়ম, ওএমএস বাণিজ্য, নতুন সদস্য ও শেয়ারহোল্ডার বাবদ অর্থ আত্মসাৎ এবং তহবিল থেকে নগদ অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৩ জুন সমিতির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দিয়ে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। তবে এই এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সাবেক নেতারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত নতুন কমিটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। তারপরও সমবায় অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় রহস্যজনকভাবে নীরব। ম্যানেজারের অভিযোগ: বেতন নেই, চিকিৎসা বন্ধ সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সচিবালয় বহুমুখী সমবায় সমিতির ম্যানেজার মো. রুহুল আমিন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি জানান, বিলুপ্তকৃত ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্পাদক মো. মজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা নতুন শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে ১,১০০ টাকা করে আদায় করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা সমিতির হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের জুন মাসে কর্মচারীদের বেতন ও ঈদুল আযহার ভাতা দিতে সমিতির তহবিলে টাকা না থাকায় তিনি নিজে ৩ লাখ টাকা ঋণ করে বেতন পরিশোধ করেন, যা আজও ফেরত পাননি। টানা ৯ মাসের বেতন ও ভাতা না পেয়ে কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এই কর্মকর্তা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নগদ টাকা, চাল-আটা ও ওএমএস লুট অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম সমিতির ক্যাশ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। জনতা ব্যাংক থেকে উত্তোলিত ১ লাখ টাকা ক্যাশে জমা না দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। তেজগাঁও সিএসডি গোডাউন থেকে উত্তোলিত ৪ মেট্রিক টন আটা ও ৪ মেট্রিক টন চাল যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তা নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বাইরেও ওএমএস’র মালামাল গোপনে বাইরে বিক্রি করে নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে। ১০ হাজার কর্মচারীর টাকা আত্মসাৎ? বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে সমিতির প্রভাবশালী নেতারা অন্তত ১০ হাজার কর্মচারীর কাছ থেকে শেয়ারহোল্ডার করার নামে টাকা আদায় করেন। কিন্তু শেয়ার প্রদান করা হয় মাত্র ২ হাজার ৯০০ জনকে। বাকিদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে সাধারণ কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পাননি। কারা ছিলেন নেতৃত্বে দুর্নীতির সময় সমিতির সভাপতি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম, সম্পাদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম এবং কোষাধ্যক্ষ ওসমান গনি। পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরাও অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে কমবেশি জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। প্রশ্ন থেকেই যায় তদন্তে প্রমাণ থাকার পরও কেন কোনো শাস্তি হয়নি? কারা এই দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করছে? কর্মচারীদের কল্যাণের নামে গড়ে ওঠা সমবায় সমিতি কি তবে প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত লুটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছেন সচিবালয়ের হাজার হাজার সাধারণ কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডার।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ (W-1) প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত DPP, RDPP বা HOPE ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্যাকেজকে ৮টি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন এবং এতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া, ৮টি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিশোধিত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ব্যতীত অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Top week

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম
ইত্তেহাদ স্পেশাল

আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে বিএনপিতে! বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের দলবদল নিয়ে তোলপাড়

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0