ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মুরাদ হোসেনের স্বপ্ন ছিল কুরবানির ঈদে দেশে ফিরবেন। ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় স্ত্রী ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ছেলেকে বুকে তুলে নেবেন—এমন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১৭ দিন পর শনিবার ভোর সাড়ে ৪টায় মুরাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। এরপর সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়িতে মরদেহ নেওয়া হলে শোকের মাতম নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। মুরাদের মামাশ্বশুর মো. লুৎফর রহমান বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার চার মাস পর মুরাদের ছেলে রাফির জন্ম হয়। এবার ঈদে দেশে ফিরে সন্তানকে নিজের হাতে কোলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। “বিমানবন্দরে ছেলেকে কোন রঙের পাঞ্জাবি পরিয়ে নিতে যাবে, সেটাও স্ত্রীকে বলে দিয়েছিল,” বলেন তিনি। তবে সেই অপেক্ষার অবসান হলো মরদেহ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মুরাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা দিয়ে আকামা করার কথা ছিল তার। কিন্তু দুর্ঘটনার পর সেই টাকার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বজনদের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার সময় আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ধার করেছিলেন মুরাদ। জীবিত অবস্থায় সেই ঋণ পরিশোধও করতে পারেননি। মুরাদের বড় ভাই মোস্তফা শেখ জানান, পরিবারের দায়িত্ব এখন পড়ে গেছে তার স্ত্রী আন্জুয়ারার ওপর। পরিবারে রয়েছে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় মেয়ে মাইশা, প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে মেহেরীমা এবং ১০ মাস বয়সী ছেলে রাফি। শনিবার বেলা ১১টায় গ্রামের দুদুখানপাড়া জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুরাদ হোসেন (৩৬)।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে গত এপ্রিল মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৭০৯ জন। মোট ৪৬৩টি দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি বুধবার (৬ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ও পথচারীর উচ্চ ঝুঁকি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ১০২ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। চালক ও সহকারী মিলিয়ে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন। কোথায় বেশি দুর্ঘটনা সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার সংখ্যা: জাতীয় মহাসড়ক: ১৬৮টি আঞ্চলিক সড়ক: ১৯৩টি গ্রামীণ সড়ক: ৪৫টি শহরের সড়ক: ৫৭টি দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে: মুখোমুখি সংঘর্ষ: ৯৭টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে: ১৯৪টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা: ১০৬টি পেছন থেকে আঘাত: ৫২টি সম্পৃক্ত যানবাহন মোট ৬৫৯টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এর মধ্যে: বাস: ৮৪টি ট্রাক: ৯১টি মোটরসাইকেল: ১৫৩টি থ্রি-হুইলার: ১১২টি সময়ভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে (২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ)। রাতে ঘটেছে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা। অঞ্চলভিত্তিক পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে: দুর্ঘটনা: ১০৯টি নিহত: ১০২ জন সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে: দুর্ঘটনা: ১২টি নিহত: ১২ জন রাজধানী ঢাকায়: দুর্ঘটনা: ৩৬টি নিহত: ২৪ জন আহত: ৬৭ জন দুর্ঘটনার কারণ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে: ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক বেপরোয়া গতি চালকদের অদক্ষতা মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো ট্রাফিক আইন অমান্য দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গণপরিবহনে চাঁদাবাজি সুপারিশ দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি ১২ দফা সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন বিআরটিএ ও বিআরটিসির সংস্কার আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার দক্ষ চালক তৈরি মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। রোববার (৩ মে) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার তেলিবাজার ব্রিজ সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নির্মাণকাজে অংশ নিতে শ্রমিকদের একটি দল পিকআপে করে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর তোরাব উল্লাহ (৬০), রামিন (৪০), আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার রাভু আক্তার (২৫), কোম্পানীগঞ্জের হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার রাজা মিয়া (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
মো. আমিনুল ইসলাম : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বালুবোঝাই একটি ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে মো. জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল আটটার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছিটকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদুল ইসলাম কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, জাহিদুল একটি বালুবোঝাই ট্রলি নিয়ে পশ্চিম ছিটকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যান। সেখানে ট্রলিটি ঘোরানোর সময় তিনি পিছনের গিয়ারে নিয়ে পেছাতে থাকেন। এ সময় ট্রলির একটি চাকা বালুর মধ্যে দেবে যায়। এর ফলে ট্রলির সামনের অংশ হঠাৎ উপরের দিকে উঠে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে ছিটকে পড়েন। এতে বিদ্যালয়ের গেটের সঙ্গে তার মাথার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মোঃ মোরশেদ আলম চৌধুরী ,বান্দরবান: আলীকদম উপজেলায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে উপজেলার ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের কচুরছড়া ব্রিজ সংলগ্ন ১ নম্বর ভিউ পয়েন্ট এলাকায় আলীকদম–পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কুরুকপাতা বাজার থেকে তিন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেল আলীকদমের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে চালকের চোখে হঠাৎ একটি পোকা ঢুকে পড়লে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে তিন আরোহীই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও এক সিএনজি চালকের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাংতুব মুরং (৭০) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। তিনি লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লাইল্যাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক রিংরাউ মুরং (২০), যিনি কুরুকপাতা ইউনিয়নের লেলংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর আহত লংপং মুরং (৩৫), তিনিও লামার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লাইল্যাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের প্রধান সড়ক সংযোগ হিসেবে পরিচিত ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক। পদ্মা সেতু এবং ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে সরাসরি সংযুক্ত এই রুটটি যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যানবাহনের চাপ এবং নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে এই মহাসড়ক এখন ক্রমেই পরিণত হচ্ছে এক ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পথে—যেখানে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ, ভেঙে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। বাড়ছে চাপ, বাড়েনি সক্ষমতা পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা–বরিশাল রুটে যাতায়াত সময় কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কিন্তু সেই সঙ্গে কয়েকগুণ বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বর্তমানে মহাসড়কটির বড় অংশই দুই লেনের। সরু রাস্তা, হঠাৎ বাঁক, অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যানবাহন ও সীমিত অবকাঠামোর এই বৈপরীত্যই দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর একটি। ‘উৎসব মানেই শোকের আশঙ্কা’ উৎসবকে কেন্দ্র করে এই মহাসড়কের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পরিবারে ফেরার তাড়না, সময় বাঁচানোর চাপ এবং চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা—সব মিলিয়ে বেপরোয়া গতির প্রবণতা বাড়ে। ফলে আনন্দযাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হয় শোকযাত্রায়। একটি মৃত্যুর গল্প: প্রান্ত মন্ডল ৩ মার্চ। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দোল উৎসব উদযাপন করতে মোটরসাইকেলে রওনা হয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী প্রান্ত মন্ডল। গন্তব্য বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রূপধন গ্রাম। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে উজিরপুরের ইচলাদি এলাকায় পৌঁছালে একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২৪ বছর বয়সী প্রান্ত। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক সপ্তাহেই একই মহাসড়কে তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। দুর্ঘটনার মানচিত্র: ‘ব্ল্যাক স্পট’ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের ভূরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশে অন্তত পাঁচটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— * গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, * ইল্লা, * কটকস্থল, * উজিরপুরের সোনারবাংলা, * রামগতি, এছাড়া বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোর, মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদি এলাকাও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই অংশজুড়ে সড়কের পাশে ডোবা, খাল ও নালার উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন: ঝুঁকির আরেক স্তর পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে বেড়েছে ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহনের সংখ্যা। উৎসব'র সময় ঢাকার বাসগুলো হঠাৎ করে এই রুটে নেমে পড়ে—যাদের অনেক চালকেরই মহাসড়ক সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এক পরিবহন কর্মকর্তা বলেন, “অভিজ্ঞ চালকরাও অনভিজ্ঞ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনায় পড়ছেন।” এছাড়া থ্রি-হুইলার, নসিমন, করিমন ও ভটভটির মতো ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়? মহাসড়ক পুলিশ ঈদকে সামনে রেখে টহল ও মোবাইল টিম বাড়ানোর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এটি কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? গৌরনদী মহাসড়ক থানার এক কর্মকর্তা সরাসরি স্বীকার করেন, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “মহাসড়ক চার লেন না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি বহুমাত্রিক— * সড়ক প্রশস্তকরণ (কমপক্ষে ৪–৬ লেন) * অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ * চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং কঠোর করা * ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রকৌশলগত সংস্কার * কার্যকর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ‘মরণফাঁদ’ থেকে নিরাপদ সড়ক ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক শুধু একটি সড়ক নয়—এটি দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১০টি জেলার মানুষের জীবনরেখা। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই রুট। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি যেন এক অনিরাপদ যাত্রাপথ—যেখানে প্রতিটি যাত্রাই অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রশ্ন এখন একটাই: উন্নয়নের এই মহাসড়ক কি মানুষের জীবন রক্ষা করবে, নাকি এভাবেই চলতে থাকবে মৃত্যুর মিছিল? দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবি স্পষ্ট— “মরণফাঁদ নয়, আমরা চাই নিরাপদ ও আধুনিক মহাসড়ক।”
এসএম সুমন রশিদ,আমতলী : দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিতে তিন দিনের গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শনিবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা মো. আসাদুজ্জামান মোমেন আকন, যিনি স্থানীয় সংগঠন ‘পজিটিভ আমতলী’র সভাপতি। তার নেতৃত্বে আয়োজিত এই গণঅনশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত রয়েছেন। অনশনকারীদের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সড়কটি এখনও দুই লেন থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা, যানজট ও দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা জরুরি। তাদের মতে, এটি শুধু একটি সড়ক নয়—দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। গণঅনশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আয়োজক মোমেন আকন বলেন, “এই মহাসড়ক দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ এবং পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা-র সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। দ্রুত চার লেন বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।” তিন দিনের এই গণঅনশন কর্মসূচির পরও দাবি পূরণ না হলে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকার মহাসড়কটি উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে।
কুমিল্লা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের লাশ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে বাড়িতে পৌঁছানো হয়। জুমার নামাজের পর নিহত মুফতি আবদুল মমিনসহ পরিবারের চারজনকে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। এ দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১২ বছর বয়সী আবরার গুরুতর আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহতরা হলেন— খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নীপতি মুফতি আবদুল মমিন, তার বোন ঝর্ণা বেগম, ভাগনি লাবিবা ও ভাগনে আবরার (যিনি পরে মারা যান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে), এবং প্রাইভেটকার চালক জামাল (পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি)। নিহতদের স্বজন ফয়সাল আহমাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে শিক্ষক মুফতি আবদুল মমিন তার পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুরে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। ঢাকায় কর্মরত থাকায় ঈদ উপলক্ষে তারা শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। গাড়িটি বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামি হোটেলের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা চট্টগ্রামগামী ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। খবর পেয়ে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আরশাদ নামে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মবিন জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক চালককে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুমিল্লা, ২৬ মার্চ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় একটি বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেটকারের যাত্রীরা মিয়ামি হোটেলে খাবার শেষ করে সড়কে উঠছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী স্টারলাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়। ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানায়, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। পরে হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ছোট বোন-ভগ্নিপতি, ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ তিনজন। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, দ্রুতগতিতে চলাচল করা বাসের কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিমজ্জিত হওয়া ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসের চালক আরমান খানের (৩১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তার পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত আরমান খান রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিমখালখোলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আরব খানের ছেলে। পরিবার ও বাসের সহকর্মীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় আরমান নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন তারা। আরমানের ফুপাতো ভাই বলেন, “বাসটি আমার ফুপাতো ভাই আরমান নিজেই চালাচ্ছিলেন। অনেকেই বলছেন, তিনি পান খাওয়ার জন্য বাস থেকে নেমেছিলেন এবং তখন হেলপার বাস চালাচ্ছিল। কিন্তু এটি সঠিক নয়। যদি তিনি নেমেই যেতেন, তাহলে তার মরদেহ বাসের ভেতরে পাওয়া গেল কেন?” নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌহার্দ্য পরিবহনের এক স্টাফও একই দাবি করে বলেন, “দুর্ঘটনায় পতিত বাসটির চালক আরমান ছিলেন এবং তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বৈধ পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল।” এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্ত কমিটিকে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ সময় বাসটিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা শাজাহান সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে পুরুষ, নারী এবং দুই শিশুসহ মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই পানিতে ডুবে যাওয়া আরও তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালান। তাদের মধ্যে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা আগে ওই দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অবগত থাকলেও সরাসরি তাদের উদ্ধার করেনি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী দ্রুত বাস থেকে বেরিয়ে এসে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং আহতদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রেনের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, একাধিকবার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও যথাসময়ে সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিংয়ে যথাযথ সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাত ৩টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়।” কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে রেলওয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ। নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, কয়রা উপজেলার নাকশায় দুপুরে তার ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর জেনেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কনে মার্জিয়া মিতু, তার বোন লামিয়া, নানি ও তার দাদিসহ মোট ৪ জন মারা গেছে। কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ আছে।রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। গাড়িচালক নাঈমের বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি নৌবাহিনীর গাড়ির সাথে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম সে মারা গেছে।
কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের বাইপাস এলাকার কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি অটোরিকশা শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস সড়ক হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য বাইপাস সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ওবায়েদ পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদেরও মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।