Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ: ২৯৯ আসনে ভোট, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। এ কারণে এই আসনটি বাদে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটের দিনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশাবাদী। 

ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, তারা যেন দল বেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, এই নির্বাচনকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। 

বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন সক্রিয়ভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে, তাদের গণতান্ত্রিক এই অধিকার প্রয়োগ করেন।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, একটি উৎসবমুখর ও নির্বাচন-বান্ধব পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ ভয়-ভীতি ও শঙ্কাহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করতে পারবেন এবং ভোট শেষে নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতে পারবেন। এমন পরিবেশ বজায় থাকবে বলেই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার  বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই মূল বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার আনুমানিক ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছি।’

দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে বলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। 

এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন। 

৩০০ আসনে মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র ২ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন ও পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। 

এছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো ইউএভি (আনম্যান এরিয়াল ভেহিকেল), ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, মোতায়েনকৃত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র‌্যাব সদস্য, বিএনসিসি’র ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। 

নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। 

তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। 

এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন। 

নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন।

আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি। 

এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।

ইসি’র আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস (আইসিএপিপি)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো থেকে এসেছেন প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক রয়েছেন ২২৩ জন। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরএফএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন ও অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে এসেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী (ওসিভি) এবং দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেন। 

এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন। আর দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটার। 

ইসি’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে  দেশের ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। 

এ ছাড়া ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জন প্রবাসী ভোটার ভোট দিয়েছেন।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল (রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৮৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৮১ জন), যার মধ্যে বাছাইয়ে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল হয়। 

পরবর্তীকালে আপিল শুনানি শেষে ৪২৫ জন প্রার্থিতা ফেরত পান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।
 
গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ বিষয়ে ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা পর্যন্ত নিম্নোক্ত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে: (১) ট্যাক্সি ক্যাব (২) পিক আপ (৩) মাইক্রোবাস (৪) ট্রাক। একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
কিডনি ভ্যালি
কিডনি ভ্যালি থেকে উপসাগর: নেপালে কিডনি সংকটের নতুন আতঙ্ক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  হকসে গ্রামের কিডনি বিক্রির পুরোনো ক্ষত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই প্রচণ্ড গরমে বিদেশে কাজ করা নেপালি তরুণ শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে কিডনি বিকল হওয়ার ঘটনা। কিডনি পাচারের অভিযোগও সামনে আসছে নতুন করে। হিমালয়ের পাদদেশের নেপালের হকসে গ্রামকে এখন অনেকেই চেনেন ‘কিডনি ভ্যালি’ নামে। দারিদ্র্যের চাপে একসময় এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার থেকেই কেউ না কেউ কিডনি বিক্রি করেছিলেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। সেই পুরোনো ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। অস্ত্রোপচারের দাগ শরীরে বহন করছেন গ্রামের অনেক বাসিন্দা। কেউ এখনো ব্যথায় ভুগছেন, কেউ হারিয়েছেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সক্ষমতা। এর মধ্যেই নেপালে দেখা দিয়েছে কিডনি-সংক্রান্ত আরেক স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় যাওয়া তরুণ শ্রমিকদের অনেকে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ, পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া এবং বিশ্রামের অভাবে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে নেপালের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব লেবার অ্যান্ড মোবিলিটি (সিইএসএলএএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কিডনি পাচার ও বিদেশফেরত শ্রমিকদের কিডনি-সংকটের এই চিত্র উঠে এসেছে। ‘কিডনি আবার গজাবে’—দালালদের সেই প্রতিশ্রুতি হকসে গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চা ও রাম অর্থের সংকটে নিজেদের একটি করে কিডনি বিক্রি করেছিলেন। অস্ত্রোপচারের দাগ এখনো তাদের শরীরে স্পষ্ট। কাঞ্চা জানান, অস্ত্রোপচারের পরও তিনি নিয়মিত ব্যথায় ভুগছেন। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। গ্রামটিতে কত মানুষ কিডনি বিক্রি করেছেন, তার সঠিক হিসাব করা কঠিন বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে দালালরা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে কিডনি বিক্রিতে রাজি করিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের বলা হয়েছিল—একটি কিডনি বিক্রি করলেও পরে সেটি আবার গজিয়ে উঠবে। বাস্তবে মানুষের কিডনি পুনরায় গজায় না। একটি কিডনি নিয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারলেও কিডনি অপসারণের অস্ত্রোপচার ঝুঁকিমুক্ত নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে তাদের দাবি। দারিদ্র্য, তথ্যের অভাব এবং সহজে অর্থ পাওয়ার আশ্বাস—এই তিনটি বিষয়কে কাজে লাগিয়েই দালালদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে প্রলুব্ধ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন সংকট: গরমে কাজ, দেশে ফিরে ডায়ালাইসিস নেপালের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বদলানোর অন্যতম পথ হয়ে উঠেছে বিদেশে শ্রমিক হিসেবে যাওয়া। বিপুলসংখ্যক তরুণ উপসাগরীয় দেশ ও মালয়েশিয়ায় কাজ করছেন। কিন্তু সেখানে অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে হয়। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি এবং বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় তাদের শরীরে পানিশূন্যতা ও তাপজনিত চাপ তৈরি হচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে কিডনিতে। ২৯ বছর বয়সি জিত বাহাদুর গুরুং সৌদি আরবে তিন বছর কাজ করেছেন। প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করার সময় পর্যাপ্ত পানি পান কিংবা বিশ্রামের সুযোগ খুব কমই পেতেন তিনি। একপর্যায়ে তার পা ফুলে যায়। হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছিল। পরীক্ষার পর জানা যায়, তার কিডনি বিকল হয়ে গেছে। এখন দেশে ফিরে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে জিত বাহাদুরকে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সি ইশ্বর। তিনি দুবাইয়ে সাত বছর কাজ করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা প্রচণ্ড গরমে কাজ করার পর তার শরীর ফুলে যেতে শুরু করে। বর্তমানে কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তরুণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে নেপালের মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন কেন্দ্রের চিকিৎসক পুকার শ্রেষ্ঠের মতে, কিডনি রোগের চিত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে মূলত বয়স্ক রোগীদের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতো, এখন সেখানে তরুণদের সংকুচিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি নিয়ে হাসপাতালে আসতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত শ্রমিকদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালের মোট কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে বিদেশফেরত শ্রমিকরা যুক্ত। অথচ দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১৪ শতাংশ মানুষ বিদেশে কর্মরত। এই বৈপরীত্যই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের কিডনি ক্ষতির পেছনে শুধু গরম নয়—পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং বিশ্রামের ঘাটতিও ভূমিকা রাখতে পারে। সীমান্ত পেরিয়ে কিডনি পাচারের অভিযোগ কিডনি-সংকটের আরেকটি দিক হলো মানবপাচারের সঙ্গে অঙ্গ পাচারের যোগসূত্র। নেপাল-ভারত সীমান্ত ব্যবহার করে কিডনি পাচারের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে সিইএসএলএএমের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের একটি হোটেলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সিন্ধুলির এক ব্যক্তিকে ভারতে নিয়ে যায় একটি চক্র। চণ্ডীগড়ে প্রায় এক মাস তাকে আটকে রাখা হয়। পরে রক্ত, প্রস্রাব ও এক্স-রে পরীক্ষার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জানানো হয়, তার একটি কিডনি অপসারণ করা হবে এবং বিনিময়ে তাকে ৬ লাখ রুপি দেওয়া হবে। তিনি আপত্তি জানালে অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে জোর করে অচেতন করা হয়। এরপর তার বাম কিডনি অপসারণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন। অস্ত্রোপচারের পর প্রতিশ্রুত অর্থও পাননি তিনি। মাত্র ১০ হাজার রুপি দিয়ে তাকে নেপালে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি। এই ঘটনা কিডনি পাচারের ক্ষেত্রে প্রতারণা, মানবপাচার এবং জোরপূর্বক অঙ্গ অপসারণের গুরুতর ঝুঁকির দিকটি সামনে আনে। চাকরির প্রলোভন, তারপর পাচারের ফাঁদ নেপালের মানবপাচার তদন্ত ব্যুরোর এসএসপি কৃষ্ণ পাঙ্গেনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষকে বিদেশে চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁদে ফেলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ভুক্তভোগী শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর অথবা প্রতিশ্রুত অর্থ না পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেন। অর্থাৎ, বিদেশে কর্মসংস্থানের আকাঙ্ক্ষা শুধু শ্রমবাজারের ঝুঁকির সঙ্গে নয়, পাচারচক্রের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে। সামনে আরও বড় ঝুঁকি? চিকিৎসকদের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের প্রচণ্ড গরমে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিরতি এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা শ্রমিকদের পর্যাপ্ত পানি, বিশ্রাম এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে শুধু ব্যক্তির সচেতনতা দিয়ে এই ঝুঁকি কমানো কঠিন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি বাস্তবতা। উপসাগরীয় অঞ্চলে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের কিডনি-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিও আরও বাড়তে পারে। হকসের মানুষের জন্য কিডনি একসময় ছিল দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার মরিয়া বিনিময়মূল্য। আজ সেই একই দেশের তরুণদের একটি অংশ বিদেশে শ্রম বিক্রি করতে গিয়ে হারাচ্ছেন কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা। একদিকে দালালের প্রলোভনে কিডনি হারানো মানুষ, অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে কাজ করে কিডনি বিকল হওয়া তরুণ শ্রমিক—দুই ভিন্ন বাস্তবতা যেন নেপালের একই সংকটের দুই মুখ। প্রশ্ন এখন শুধু কিডনি কেড়ে নেওয়ার নয়। প্রশ্ন হলো—দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে গিয়ে আর কত মানুষকে নিজের শরীরের বিনিময়মূল্য দিতে হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’: ওয়াশিংটনের চাপ, পাল্টা হরমুজ হুঁশিয়ারি

লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজে হামলা, হরমুজ সংকটের প্রভাব ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে

ওয়াশিংটনে দাবানলের ভয়াবহ বিস্তার: ৭ হাজার একর পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার মানুষকে , জরুরি অবস্থা জারি

পশ্চিম তীরে জমি দখল
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযান: ১৪ ফিলিস্তিনি আটক, ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) একযোগে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। একই দিনে নাবলুস, হেবরন, বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও তুলকারমসহ একাধিক এলাকায় অভিযান এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে। ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন দাবি করেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলার) ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে সামরিক অভিযান, গ্রেফতার, জমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ, নতুন চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাবলুসে নতুন উত্তেজনা স্থানীয় সূত্র জানায়, নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তেল গ্রামের আইন আল-মাজরাব এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেন। এর আগে বিভিন্ন বসতি স্থাপনকারী সংগঠন তেল গ্রামে গণমিছিলের ডাক দেয়। এর একদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামের চারটি ফিলিস্তিনি বাড়ি অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। শুক্রবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীরা পাশের আল-জুনেইদ ও সুররা গ্রামে মিছিল করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানায়, সংঘর্ষে একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া চার শিশুসহ আরও ১০ জন টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হন। আগের হামলার রেশ গত সপ্তাহেও তেল গ্রাম বড় ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হয়। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ সময় বহু মানুষ আহত হন এবং বাড়িঘর, যানবাহন ও কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রম এবং সামরিক অভিযানের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। কোথায় কতজন আটক স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী— হেবরনের ইয়াত্তা এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। বেথলেহেম থেকে আটক করা হয় দুইজনকে। রামাল্লাহর উত্তরের আতারা সামরিক চেকপয়েন্ট থেকে একজনকে আটক করা হয়। তুলকারমের পূর্বাঞ্চলের আনাবতা এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়। এছাড়া রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এলাকায় অভিযান চলাকালে ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্সের আশপাশে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ১১ হাজার ৭৪টি হামলা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে— সামরিক অভিযান ব্যাপক গ্রেফতার জমি দখল নতুন বসতি সম্প্রসারণ অতিরিক্ত সামরিক চেকপয়েন্ট স্থাপন বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ভূমি দখলের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে মত দিয়েছিল। তবে ইসরায়েল আদালতের ওই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বন্দির সংখ্যা বাড়ছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে রয়েছে— ১ হাজার ৯০০ শিশু ৭৮৫ নারী সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে— ৯৪ জন নারী ৩৫০ জনের বেশি শিশু ৩ হাজার ২৪৪ জন প্রশাসনিক আটক, যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩২০ জনকে 'অবৈধ যোদ্ধা' হিসেবে আটক রাখা হয়েছে বাড়ছে মানবাধিকার উদ্বেগ ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পশ্চিম তীরে চলমান গ্রেফতার অভিযান, সামরিক তৎপরতা এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তির নীতি আরও জোরদার হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, পশ্চিম তীরে তাদের সামরিক অভিযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধের অংশ। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও এই অঞ্চলকে নতুন অস্থিরতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং গ্রেফতারের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের—বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট?

১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ বন্ধ করল ভারত

দমদম বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ বন্ধ করল ভারত

হরমুজে ফি প্রস্তাবের আড়ালে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের মুখে: হামলা, হরমুজ সংকট ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করছে। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুরের দাবি অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতির ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই প্রদেশের বাসিন্দা। সংঘাতের সূচনা কোথায়? ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির অভিযানকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ইরানের বিপুলসংখ্যক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং লজিস্টিক অবকাঠামো। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। কূটনীতির পথ কি বন্ধ? পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। 'প্ল্যান সি' নাকি পুরোনো কৌশল? যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের বিকল্প কৌশল কী? ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির আলোচনা আবার সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ওয়াশিংটন আবারও অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। রিচার্ড হাসের মূল্যায়ন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক চাপ বাড়াবে, ইরানও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর ওপর তত বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। ইরানের ব্যাখ্যায় নিরাপদ চলাচলের দায়িত্ব তাদের হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মতে আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষাগত অস্পষ্টতা দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে সামরিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে

কারবালায় খামেনির জানাজা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

কারবালায় খামেনির জানাজা : ইরানের রাজনৈতিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরও জোরদারের দাবি

খামেনির শেষযাত্রা

খামেনির শেষ বিদায়: আকাশসীমা বন্ধ ,৫০ হাজার মানুষ নিলেন জরুরি চিকিৎসাসেবা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0