Brand logo light

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সেনাবাহিনী
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: মাঠে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের বিশাল নিরাপত্তা বলয়। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। বাহিনীগুলোর প্রধানদের ভাষ্য—এবারের নির্বাচনকে তারা একটি ‘উদাহরণমূলক’ নির্বাচনে পরিণত করতে চান, যেখানে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক। সেনাবাহিনী মোতায়েন, চলছে যৌথ অভিযান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগেই সেনাবাহিনীকে সারা দেশে মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি নির্বাচনি মহড়া পরিচালনা করছে সেনাসদস্যরা। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সহিংসতা প্রতিরোধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বিপুল প্রস্তুতির মাঝেও জনমনে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। নেত্রকোনায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ এবং বগুড়ায় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এসব ঘটনার মধ্যে ৮৯টি সংঘর্ষ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। বগুড়ার পারশুন গ্রামে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ ঘিরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আতোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, নেত্রকোনার পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আকাশ, নৌ ও স্থল—তিন স্তরের নিরাপত্তা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আকাশপথে দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী উপকূল ও নদী এলাকায় থাকবে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড স্থলভাগে কাজ করবে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, সশস্ত্র বাহিনী: ১ লাখ ৮ হাজার বিজিবি: ৩৭ হাজারের বেশি কোস্টগার্ড: ৩ হাজার ৫০০ পুলিশ: ১ লাখ ৫৭ হাজার আনসার: ৫ লাখ ৬৭ হাজার এছাড়া র‍্যাব সদস্যরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, সারা দেশে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, বাইরে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স। তিনি জানান, ৮০–৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহারের প্রস্তুতি অবৈধ অস্ত্রকে বড় হুমকি উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৩০টি উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রাজধানীতে কড়া নজরদারি ঢাকা মহানগরীতে যৌথবাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ধানমন্ডি, বনানী, খামারবাড়ি, বসিলা ও শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও দ্রব্য ঠেকাতে নিয়মিত তল্লাশি চলছে। বনানী থানার ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সব মিলিয়ে প্রশাসনের প্রত্যাশা—কঠোর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত বাহিনীর উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ: ২৯৯ আসনে ভোট, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। এ কারণে এই আসনটি বাদে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি ১ লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। নির্বাচন উপলক্ষে পুরো দেশকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভোটের দিনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশাবাদী।  ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, তারা যেন দল বেঁধে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, এই নির্বাচনকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।  বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন সক্রিয়ভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে, তাদের গণতান্ত্রিক এই অধিকার প্রয়োগ করেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, একটি উৎসবমুখর ও নির্বাচন-বান্ধব পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ ভয়-ভীতি ও শঙ্কাহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করতে পারবেন এবং ভোট শেষে নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতে পারবেন। এমন পরিবেশ বজায় থাকবে বলেই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার  বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করাই মূল বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।  এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি বলেও জানান তিনি। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার আনুমানিক ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছি।’ দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ থাকবে বলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন।  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এই নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।  এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের ২৯৯টি আসনের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩২ জন।  ৩০০ আসনে মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন আর সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে ১৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে মাত্র ২ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন ও পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন। এর পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।  এছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় প্রথমবারের মতো ইউএভি (আনম্যান এরিয়াল ভেহিকেল), ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি সূত্র জানায়, মোতায়েনকৃত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র‌্যাব সদস্য, বিএনসিসি’র ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।  নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।  তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন- মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন। এ সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন।  এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন।  নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। আগতদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি।  এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন। ইসি’র আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিস (আইসিএপিপি)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো থেকে এসেছেন প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক রয়েছেন ২২৩ জন। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরএফএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন ও অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে এসেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী (ওসিভি) এবং দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেন।  এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন। আর দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটার।  ইসি’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে  দেশের ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।  এ ছাড়া ৪ লাখ ৮১ হাজার ১৮৫ জন প্রবাসী ভোটার ভোট দিয়েছেন। ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল (রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৮৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৪৮১ জন), যার মধ্যে বাছাইয়ে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল হয়।  পরবর্তীকালে আপিল শুনানি শেষে ৪২৫ জন প্রার্থিতা ফেরত পান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।   গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট গ্রহণের দিন এবং তার আগে ও পরে কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা পর্যন্ত নিম্নোক্ত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে: (১) ট্যাক্সি ক্যাব (২) পিক আপ (৩) মাইক্রোবাস (৪) ট্রাক। একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে ৯ লাখের বেশি সদস্য, ড্রোনে নজরদারি

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী উপকূলীয় পাঁচ জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার সদস্য এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও যেসব বাহিনী কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে— বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭,৪৫৩ জন কোস্ট গার্ড: ৩,৫৮৫ জন পুলিশ: ১,৮৭,৬০৩ জন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব): ৯,৩৪৯ জন আনসার বাহিনী: ৫,৬৭,৮৬৮ জন বিএনসিসি: ১,৯২২ জন এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহায়তা করছে। নির্বাচনী অপরাধ দমনে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন— ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১,০৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩০০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ইসি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের কাছ থেকে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় আগত ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ব্যাপক নিরাপত্তা, কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে এবারের গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বাহারুল আলম
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮,৭৭০টি : সারা দেশে মোতায়েন প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আইজিপি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, কেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল টিম টহল দেবে, আর যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন। অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। আইজিপি বলেন, “একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।” সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকাটি কার প্রস্তুত করা সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে—এমন আশঙ্কার কারণ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্ট জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো জঙ্গি ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই, যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তা মূল্যায়ন করবেন দেশবাসী।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0