Brand logo light
বাংলাদেশ

বরগুনায় কোটি টাকার গলদা-বাগদা রেণুপোনা জব্দ, নদী থেকে অবৈধ আহরণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
গলদা-বাগদা রেণুপোনা
গলদা-বাগদা রেণুপোনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণুপোনা জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে দুটি ট্রাক থেকে ২২৭টি ড্রামে সংরক্ষিত প্রায় ২২ থেকে ২৫ লাখ রেণুপোনা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে সদর উপজেলার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। পরে উদ্ধার করা রেণুপোনাগুলো বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানে মূল পাচারচক্রের সদস্যদের আটক করা সম্ভব না হলেও দুই ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে রেণুপোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্তে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া রেণুপোনাগুলো নদী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাকৃতিক উৎস থেকে চিংড়ির রেণুপোনা আহরণ দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ।

তার ভাষায়, “একটি চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহের সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা ধ্বংস হয়। ফলে এটি শুধু অবৈধ নয়, সামুদ্রিক ও নদীভিত্তিক জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি।”

মৎস্য বিভাগ আরও জানায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকারি অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে জব্দ হওয়া রেণুপোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারি, লাইসেন্স বা পরিবহন অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে অবৈধভাবে রেণুপোনা সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

বরগুনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা রেণুপোনা আহরণ ও পরিবহন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় নদী ও মোহনায় নির্বিচারে রেণুপোনা আহরণ শুধু সামুদ্রিক সম্পদকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদন ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ এ বাণিজ্যের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে টেকসই নজরদারি না বাড়ালে পরিবেশগত ক্ষতি আরও গভীর হতে পারে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
চাপের মুখে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল, এনবিআরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)। যদিও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবু পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও ফল প্রকাশ হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সিইভিটিএ গত ১৬ মে এ পরীক্ষা আয়োজন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ‘রাতেই প্রস্তুত হয়েছিল ফল’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য জানান, পরীক্ষার দিন রাতেই উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কমিটির ছয় সদস্যই তাতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য, “রোববারের মধ্যেই ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি আটকে যায়। কেন আটকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।” পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, উত্তীর্ণ ২১০ জনের বাইরে অতিরিক্ত আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, “কমিটির কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানান। এরপর থেকেই ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এমনকি যাদের নাম পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ১০ নম্বরও পাননি।” ‘ঊর্ধ্বতন পরামর্শের অপেক্ষা’ অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কতজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন কিংবা কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়নি—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।” তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, প্রচলিত বিধিমালায় ফল প্রকাশের জন্য এনবিআরের অনুমোদন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাদের মতে, পরীক্ষার ফল প্রকাশে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং এটি নিয়োগ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উত্তর মেলেনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাস্টমস সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে পুরো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ধান

উত্তরাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের লোকসান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ত্রিশালে খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে তারেক রহমান: ‘সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে’

নারীরা টুপি তৈরি করছেন।

বগুড়ার জালি টুপি শিল্পে ৫০ কোটি টাকার সম্ভাবনা, ঈদ বাজারে বাড়ছে ‘তাহফিজ টুপি’র চাহিদা

ভোলার মদনপুর চরে চার বছর বিদ্যুৎ নেই, ১০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন অচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার বছর আগে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছিল ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের মানুষ তখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। ঘরে ঘরে জ্বলেছিল বাতি, শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল রাতের পড়াশোনার সুযোগ, ব্যবসায়ীরা কিনেছিলেন ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন টেকেনি এক বছরও। প্রকল্প চালুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বড় নৌযানের নোঙরে ছিঁড়ে যায় তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল। বন্ধ হয়ে যায় পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপর কেটে গেছে চার বছর—কিন্তু এখনো ফেরেনি বিদ্যুৎ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ছিল না কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, ছিল না নিয়মিত নজরদারি। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া পুরো এলাকায় এখন চুরি হয়ে যাচ্ছে ট্রান্সফরমার, তার ও অন্যান্য অবকাঠামো। ছয় মাসেই অচল হয়ে পড়ে প্রকল্প ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলা সদরের তুলাতুলি এলাকা থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। স্থানীয় সূত্র বলছে, সংযোগ চালুর পর চরাঞ্চলের শত শত পরিবার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে নতুনভাবে জীবনযাত্রা সাজাতে শুরু করে। অনেকে ঋণ নিয়ে কিনেছেন টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই মেঘনায় বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙরের কারণে একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিনটি ক্যাবল। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর পুনঃসংযোগ হয়নি। “বিদ্যুৎ আসবে ভেবে যা কিনেছিলাম, সব নষ্ট” মদনপুর চরের বাসিন্দা ভুট্টু মাঝি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তার ভাষায়, “তীব্র গরমে বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। অনেকেই ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ কিনেছিল। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য গ্রাহকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পরই পুরো ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চরের ব্যবসায়ী মো. নাছির বলেন, “দোকানের ফ্রিজসহ অনেক ইলেকট্রিক্যাল জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়েছে।” অবহেলায় চুরি হচ্ছে সরকারি অবকাঠামো স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন সংযোগ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ লাইনের তার, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন—যে প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার গিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি। এখন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দরকার।” “কিছুই জানি না”—পল্লী বিদ্যুতের জিএম এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ রাজ্জাক রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।” তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভোলার দুটি চরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন ও নৌযান চলাচলপ্রবণ এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং এবং বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে জনভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও বাড়ে। চার বছর ধরে বিদ্যুৎহীন মদনপুর চর এখন সেই ব্যর্থ পরিকল্পনারই এক বাস্তব উদাহরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
স্ট্যান্ড রিলিজের পরও বহাল এনামুল

বরিশাল এলজিইডিতে বদলি বিতর্ক: স্ট্যান্ড রিলিজের পরও বহাল এনামুল, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান

বরিশালে আদালত ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বিচারপ্রার্থী ও বিচারক

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

সিলেট ও ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র, প্রশ্নে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষ, আগুন ও আতঙ্কের নগরীতে। একদিকে শিশুটির প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অন্যদিকে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পুলিশের মরিয়া প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক এবং আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ। অভিযোগ যেভাবে বিস্ফোরণে রূপ নেয় স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা রিকশা চালাতে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে একই এলাকার ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ভবনে তার অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক দফা গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশল নেয়। অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে গোপনে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। পুলিশের পিছু নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাকলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় এবং যানবাহনে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এপিবিএন ও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ১টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বলছে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন কে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তিনি নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ডেকোরেশন কর্মচারী। হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে রাজনৈতিক নেতারা শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন নগর জামায়াত নেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো ভয় ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রশাসন এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলাই নয়, বরং জনরোষ, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—সবকিছুর সম্মিলিত চাপের মুখে রয়েছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জনতার ক্ষোভ কেন এত দ্রুত বিস্ফোরিত হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা কতটা গভীর হলে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে? বাকলিয়ার রাতভর সহিংসতা শুধু একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনআস্থার সংকটেরও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
গলদা-বাগদা রেণুপোনা

বরগুনায় কোটি টাকার গলদা-বাগদা রেণুপোনা জব্দ, নদী থেকে অবৈধ আহরণের অভিযোগ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি)

হাবিপ্রবিতে হল সংঘর্ষ: ভাঙচুর, হামলা ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

পবিপ্রবি

পবিপ্রবির ২২ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্যানচালককে মারধরের মামলা

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0