A French soldier has been killed and several others injured in a drone attack targeting troops in northern Iraq, according to French President Emmanuel Macron.
In a statement posted on social media platform X on Friday, Macron said a member of the French armed forces “died for France during an attack in the Irbil region of Iraq.”
The incident marks the first French military death linked to the recent escalation of conflict in the Middle East, which intensified late last month following strikes by Israel and the United States on Iran.
Earlier, the French military said the casualties occurred during a drone attack while troops were conducting a training exercise in the region.
Local officials confirmed that the attack targeted a joint base used by French forces and Kurdish Peshmerga fighters in the Makhmour area near Erbil, the capital of Iraq’s autonomous Kurdistan Region.
Erbil Governor Omed Koshnaw said in a statement that several soldiers were wounded in the strike, which hit the base during the training operation.
Authorities have not yet confirmed who was responsible for the drone strike.
French forces are part of international efforts in Iraq to support local security forces and train Kurdish Peshmerga fighters in counter-terrorism operations.
The attack highlights the fragile security situation in the region, where tensions have risen amid the broader geopolitical confrontation involving Iran and its regional rivals.
Officials say investigations are ongoing as military authorities assess the circumstances surrounding the attack.
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা হাতে মোটরসাইকেল র্যালি, মিছিল ও সমাবেশ নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি—এটি ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং মুসলমানদের পরিচয়ের প্রতীক। তবে ধর্মীয় গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানোর প্রবণতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় মিলেই কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাদারীপুরে মোটরসাইকেল র্যালি গত শনিবার মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ মোড়ে আসরের নামাজ শেষে প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি জড়ো হন। তাদের অনেকের হাতে ছিল কালেমাখচিত কালো ও সাদা পতাকা। পরে মডেল মসজিদের সামনে থেকে মোটরসাইকেল র্যালি বের হয়। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন আরোহী ছিলেন। কয়েকজনের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক। স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি পুনরায় মডেল মসজিদের সামনে ফিরে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার র্যালির পর মাত্র দেড় মিনিটের সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্য দিয়ে আয়োজকেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সমাপনী বক্তব্যে ফখরুদ্দিন রাজী নামে একজন বলেন, তারা যে পতাকা বহন করেছেন সেটিই "মুসলমানদের পতাকা"। র্যালিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, মুসলমানদের কাছে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। শুধু মাদারীপুর নয় একই ধরনের কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, র্যালি এবং প্রকাশ্যে পতাকা টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজকদের অনেকে এটিকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—কেন ব্যবহৃত পতাকার রঙ, নকশা ও বিন্যাস বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে মিল রাখছে? ইসলামে কি নির্দিষ্ট কোনো পতাকা আছে? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ইসলামী গবেষক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের মতে, ইসলামে নির্ধারিত কোনো ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, রাসুল (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙের পতাকা ব্যবহার করেছিলেন। তবে ইসলামের জন্য স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কোনো পতাকার কথা ইসলামী ঐতিহ্যে উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, যদি ইসলামের নামে নির্ধারিত কোনো পতাকা থাকত, তাহলে মুসলিম বিশ্বে সেটিই সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত হতো। যাত্রাবাড়ী থেকে আলোচনার সূত্রপাত বাংলাদেশে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ জুন মধ্যরাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে একদল যুবক কালেমাখচিত পতাকা টাঙান। পরদিন সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলে বিষয়টি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। পতাকা সরানোকে "ইসলামের পতাকার অবমাননা" দাবি করে নতুন করে পতাকা টাঙানো হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে "পতাকার মর্যাদা রক্ষার" নামে মিছিল শুরু হয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় স্থানীয় কিছু তরুণ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কালেমাখচিত পতাকা বিক্রি এবং টাঙানোর আহ্বানও ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার পেছনে বড় একটি কারণ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙানোর সংস্কৃতি। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারের একটি বক্তব্য। ১৩ জুন প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিদেশি দেশের পতাকার পাশাপাশি কালেমার পতাকাও টাঙানো উচিত। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। হারুন ইজহারের ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে হারুন ইজহার বলেন, তিনি এসব মিছিল বা পতাকা টাঙানোর আয়োজক নন। তার দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকা ব্যবহারের সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি কালেমাখচিত পতাকার কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এত বড় আকার ধারণ করবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, কোথাও সন্দেহজনক কিছু থাকলে প্রশাসন তদন্ত করুক এবং প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করবেন। কেন উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা? মানবাধিকারকর্মী ও জঙ্গিবাদ বিশ্লেষক নুর খান লিটনের মতে, সাধারণ মুসলমানরা কালেমা লেখা থাকায় পতাকাটিকে ধর্মীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে একই ধরনের নকশা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রতীককে সাধারণীকরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বৃহত্তর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর হুমকির অভিযোগ কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকার একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠান 'ঢাকা স্ট্রিম' হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর একদিনেই শতাধিক ফোনকল আসে। পাশাপাশি ফেসবুকে হাজার হাজার মন্তব্যের মধ্যে অনেকগুলোতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, অফিসে হামলা ও আগুন দেওয়ার হুমকিও এসেছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের অবস্থান পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, কোনো পতাকা বা প্রতীক যদি নিষিদ্ধ বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন সম্প্রতি বলেছেন, কালেমাখচিত পতাকা কিংবা অন্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে ইসলামে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্ধারিত ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। যাত্রাবাড়ীতে পতাকা টাঙানোর ঘটনার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি পতাকার পাল্টা প্রতীক হিসেবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে দৃশ্যগত মিল থাকায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকেরা ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পতাকার ব্যবহার দাবি করলেও প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর সঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। কী রয়েছে চারটি সমঝোতা স্মারকে? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতাগুলোর আওতায়— বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময় জোরদার হবে। গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। গ্লোবাল সাউথ-ভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যম নিয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্প্রচার প্রযুক্তি, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। কেন এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই চারটি সমঝোতা স্মারককে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর। সফরের প্রেক্ষাপট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গণমাধ্যম খাতের এই চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।