ড. মো. অলিউর রহমান:
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৮ মার্চ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক শিক্ষাঙ্গনে আলোকবর্তিকারূপে অবদান রেখে গেছেন। তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন আমার শিক্ষাগুরু। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু আমারই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু সফল শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর সান্নিধ্যেই আমার একাডেমিক ও গবেষণাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা করেছি; এমফিল অধ্যয়নকালেও তাঁর নির্দেশনায় অধ্যয়ন-গবেষণার গভীরে নিবিষ্ট হতে পেরেছি। একজন শিক্ষক কীভাবে ছাত্রকে চিন্তার স্বাধীনতা দেন, গবেষণায় ধৈর্য শেখান এবং নৈতিকতার ভিত গড়ে দেন—স্যারের কাছেই তার অফুরান বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে স্যার সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষায় নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন।
এ দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক সময় ধরে অবদান রেখে গেছেন, যা আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নে একটি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করেছেন। বিশেষ করে সম্পাদনা কোর্সে তাঁর দক্ষতা ছিল অনন্য—সম্পাদনার আর্ট, ক্রাফট ও দর্শনের যে গভীরতা তিনি তুলে ধরতেন, তার বিকল্প দেখিনি এ দেশে। স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক গুরু-শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। নিয়মিত তাঁর বাসায় যেতাম। গবেষণা, সাংবাদিকতা শিক্ষা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছু নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা হতো। করোনা মহামারির সময় সরাসরি দেখা কম হলেও ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। তাঁর সহধর্মিণী মালেকা খান ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান নওশের আলী খান স্যারকে যে নিবিড় যত্নে দেখাশোনা করতেন, তা সব সময় আমাকে গভীরভাবে আমার অন্তরতল স্পর্শ করত। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন’ বিভাগ চালুর সূচনা থেকেই তিনি আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। পাঠক্রম নির্মাণ, বিভাগীয় পরিকল্পনা, শিক্ষাদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অমূল্য পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউল্যাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদারমনস্ক, প্রগতিশীল ও গভীর মানবিকতার মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষাগুরু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তির আলোয় আলোচনাকে প্রাণবন্ত করতেন। কর্মজীবনের নানা সংকটে তিনি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। বলতেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নেবে, তাড়াহুড়া কোরো না।’ তাঁর সেই মমতা ও প্রজ্ঞা আজও আমার পথচলার অপার প্রেরণা। সাখাওয়াত আলী খান স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু মনে হয়, তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি ফিরে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো আমাদের প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে অনাগতকাল। আমার শিক্ষাগুরু, সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ ও দিশারি শিক্ষককে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
ড. মো. অলিউর রহমান, চেয়ারম্যান, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ড. মো. অলিউর রহমান: বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ শিক্ষক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ৮ মার্চ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার একাডেমিক শিক্ষাঙ্গনে আলোকবর্তিকারূপে অবদান রেখে গেছেন। তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন আমার শিক্ষাগুরু। অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু আমারই শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বহু সফল শিক্ষকের শিক্ষক। তাঁর সান্নিধ্যেই আমার একাডেমিক ও গবেষণাজীবনের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা করেছি; এমফিল অধ্যয়নকালেও তাঁর নির্দেশনায় অধ্যয়ন-গবেষণার গভীরে নিবিষ্ট হতে পেরেছি। একজন শিক্ষক কীভাবে ছাত্রকে চিন্তার স্বাধীনতা দেন, গবেষণায় ধৈর্য শেখান এবং নৈতিকতার ভিত গড়ে দেন—স্যারের কাছেই তার অফুরান বাস্তব শিক্ষা পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় স্নাতক (অনার্স) কোর্স প্রবর্তনের মাধ্যমে স্যার সাখাওয়াত আলী খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষায় নতুন এক যুগের সূচনা করেছিলেন। এ দেশের সাংবাদিকতা শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক সময় ধরে অবদান রেখে গেছেন, যা আজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অধ্যয়নে একটি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাংবাদিকতা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করেছেন। বিশেষ করে সম্পাদনা কোর্সে তাঁর দক্ষতা ছিল অনন্য—সম্পাদনার আর্ট, ক্রাফট ও দর্শনের যে গভীরতা তিনি তুলে ধরতেন, তার বিকল্প দেখিনি এ দেশে। স্যারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গণ্ডি ছাড়িয়ে এক গভীর মানবিক গুরু-শিষ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। নিয়মিত তাঁর বাসায় যেতাম। গবেষণা, সাংবাদিকতা শিক্ষা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন—সবকিছু নিয়েই তাঁর সঙ্গে কথা হতো। করোনা মহামারির সময় সরাসরি দেখা কম হলেও ফোনালাপ ছিল নিয়মিত। তাঁর সহধর্মিণী মালেকা খান ও তাঁর সুযোগ্য সন্তান নওশের আলী খান স্যারকে যে নিবিড় যত্নে দেখাশোনা করতেন, তা সব সময় আমাকে গভীরভাবে আমার অন্তরতল স্পর্শ করত। গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে ‘জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন’ বিভাগ চালুর সূচনা থেকেই তিনি আমাকে অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছিলেন তিনি। পাঠক্রম নির্মাণ, বিভাগীয় পরিকল্পনা, শিক্ষাদান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অমূল্য পরামর্শ ছিল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, ইউল্যাব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও গ্রিন ইউনিভার্সিটিসহ তিনি সাংবাদিকতা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন উদারমনস্ক, প্রগতিশীল ও গভীর মানবিকতার মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই শিক্ষাগুরু ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করতেন, অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতেন এবং যুক্তির আলোয় আলোচনাকে প্রাণবন্ত করতেন। কর্মজীবনের নানা সংকটে তিনি আমাকে ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছেন। বলতেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে নেবে, তাড়াহুড়া কোরো না।’ তাঁর সেই মমতা ও প্রজ্ঞা আজও আমার পথচলার অপার প্রেরণা। সাখাওয়াত আলী খান স্যার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—এই সত্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবু মনে হয়, তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি ফিরে ফিরে আসবেন আমাদের মাঝে। তাঁর শিক্ষা, চিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো আমাদের প্রজন্মের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে অনাগতকাল। আমার শিক্ষাগুরু, সাংবাদিকতা শিক্ষার এই মহিরুহ ও দিশারি শিক্ষককে জানাই গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। ড. মো. অলিউর রহমান, চেয়ারম্যান, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া কমিউনিকেশন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
মামুনুর রশীদ নোমানী : দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগস্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Press Institute of Bangladesh (পিআইবি) । দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে আসছে। বর্তমান পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–কে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা, ব্যয়ের নথি ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন; তাদের দাবী—এই বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এতে করে পিআইবি–র ভাবমূর্তি, গণমাধ্যম উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং সাংবাদিক সমাজের আস্থা, এই সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ে। অভিযোগ: ভুয়া সেমিনার ও ভাউচার প্রদর্শন সম্প্রতি একটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, পিআইবি থেকে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকার (২৩,৯৭,৫০০ টাকা) সেমিনার অ্যালাউন্স–এর নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে ফাইনাল উপস্থিতি বা বাস্তব ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক নাম করা সাংবাদিকরা বলছেন যে তারা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না বা স্বাক্ষরও তাদের নয়। রিপোর্ট অনুসারে: ভুয়া সেমিনার বা কর্মসূচির খরচ হিসেবে চারটি ভাউচার দেখানো হয়, যার প্রতিটির খরচের পরিমাণ মিলিয়ে মোট টাকা একই রকম খাতের হিসাবে ধরা হয়। • অধিকাংশ নাম থাকা সাংবাদিকদের অভিযোগ—তাদের নাম বা স্বাক্ষর এমন কোনো ইভেন্টে তারা আসলে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর করেছেনই না। • এমনকি কিছু নামের ব্যক্তি বর্তমানে দেশেই নেই বা অন্য স্থানে ছিলেন বলে দাবি করেন। • উপস্থিতি ও ব্যয়ের প্রত্যয়নযোগ্য ছবি, ভিডিও বা ফটো রিপোর্টে দেখা যায়নি। • পিআইবি–র দুটি বড় হলেও সেগুলিতে দুই শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রশিক্ষণ করার মতো জায়গা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়: পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল— 1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা 2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা 3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা 4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’ তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বলছে, “এভাবে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে সরকারী অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত থাকে না।” সাংবাদিকদের স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার: অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট রিপোর্ট অনুসারে সেখানে অন্তর্ভুক্ত নামগুলো • অনেকেই বলেছেন তারা কোনো পিআইবি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। • তাদের স্বাক্ষর জাল বা অচেনা স্বাক্ষর হতে পারে। • পিআইবি–র আর্কাইভ বা ভিডিও ফুটেজে সেসব ইভেন্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি—যেমন নামগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল। • একাংশ বলছেন, “এই টাকাটা নাকি ব্যয় দেখানো হয়েছে কিন্তু *আইনগতভাবে তা ব্যয় হয়নি।” সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন— “যদি সরকারি ব্যয়ের হিসাব ও স্বাক্ষরের তথ্য খতিয়ে না দেখানো হয়, নিম্নমানের নথির উপর ভিত্তি করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—তবে তা সন্দেহজনক।” প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও স্থাপত্যগত বাস্তবতা পিআইবির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, অডিটরিয়াম ও সেমিনার রুমগুলোর ধারণ ক্ষমতা দেখানো হয়; যেখানে একটি ২৩৮ আসনের অডিটরিয়াম, ৬০ আসনের সেমিনার রুম ও আরও ছোট সেন্টার আছে। যদিও এই ধারণক্ষমতা স্বীকারযোগ্য, দুইশো মানুষের একটি একদিনের প্রশিক্ষণ বা সেমিনার আয়োজনের জন্য বাস্তবসম্মত নয়—অনেক পেশাজীবী মনে করছেন দেখা উচিত যে সেই বিনিয়োগ কি বাস্তবে হয়েছে কি না। মহাপরিচালকের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ উঠে আসার পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ ভুয়া বিল তৈরি করেছে এবং আমি তা অনুমোদন করি নি; কোন টাকা ওই বিষয়ে ব্যয় হয়নি।” তারা বলেন তিনি প্রতিদিন অনেক ফাইল সই করেন, এবং পরে খানি ভুয়া/ভুল ফাইল সনাক্ত করেন। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন তিনি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিক সমাজের সব পক্ষেই সমালোচিত হচ্ছে, কারণ সত্য উদঘাটন ছাড়া সবকিছু অনুমান বা প্রত্যাশার উপরে স্থাপন করা কঠিন। সাংবাদিক সমাজ ও সংগঠনের দাবি : সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, পিআইবি–র মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যয়ের অডিট, উপস্থিতির ডকুমেন্টস, ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক প্রমাণাদি প্রকাশ করে না—তবে জন আস্থা তৈরি হয় না। তাদের দাবি: • দূরদর্শী তদন্ত কমিটি গঠন হতে হবে। • অডিট রিপোর্ট ও পেমেন্ট ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত। • অনিয়ম ও অসাধু আচরণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশ্লেষণ: স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও নাগরিকদের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হয়। পিআইবি–র মতো সাংবাদিকতা উন্নয়নের মুখ্য সংস্থায় অভিযোগ উঠলে— ১. দেখার বিষয়: * ব্যয়ের প্রমাণ—ভাউচার, ফটো, ভিডিও, উপস্থিতি যুক্ত নথি; ২. আদর্শ হয়: * অডিট রিপোর্ট খুলে দেওয়া যায় কি না; ৩. কি ঘটেছে: * অনেক নামের ব্যক্তির তো দাবি—সে অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না। * কিছু শিক্ষকের নাম ভুল বা বাস্তবে সেই ইভেন্টে কেউ ছিলেনই না। এগুলো দুর্নীতি কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য দাবি ও তথ্যের যথাযথ যাচাই জরুরি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। পিআইবিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি সাংবাদিক মহলের • প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ • নিয়োগ, প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন • কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের ব্যাপারে সাংবাদিক সমাজের দাবি: কিছু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্নগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন—এমন মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ২০২৪ সালে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক ওয়াসিফ।তিনি যোগদানের পরেই জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বাধ্যতামুলক অবসর, অনত্র বদলীসহ বিভিন ভাে হয়রানী ষুরু করেন। ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: ১. সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, কয়েকটি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ২. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩. সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন ও পেশাজীবী মহলের একটি অংশ দাবি করেছে—পিআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। ৪.একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ৫.ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত ৬.ণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত: ৭.জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: ৮.amera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: ৯.টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ ১০.অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর ১১.পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: ১২.নিয়োগ বানিজ্য: অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন : নথি যাচাই • পিআইবির গত ১–২ বছরের সেমিনার বাজেট • প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিল • প্রকল্প অনুমোদন নথি • অডিট রিপোর্ট ফারুক ওয়াসিফের নিকট প্রশ্ন? • সেমিনার ব্যয়ের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? • বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী? ,একই দিন ৪টি প্রোগ্রাম করা আদৌ সম্ভব? • পিআইবির প্রশাসনিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন? মন্ত্রনালয় তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা? • মন্ত্রণালয় বা অভ্যান্তরিন কোন অডিট করেছেন? • অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? • কোনো তদন্ত হলে আপনি সহযোগিতা করবেন কি? সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া : পিআইবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নে Press Institute of Bangladesh( PIB) দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সাংবাদিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন—পিআইবির ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। লেখক : সাংবাদিক, [email protected] তথ্য সুত্র : 1. BD Digest, লিংক- https://en.bddigest.com/pib-dg-faruq-wasifs-fraud-2-4-million-disappeared-through-fake-seminar-and-journalists-forged-signatures/?utm_source=chatgpt.com 2. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লিংক- https://www.bd-pratidin.com/national/2026/03/05/1224362 3. দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655859 4.দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655869 5.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-tarunyer-utsob-24-lakh-corruption-allegation-bangladesh 6.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-faruk-wasif-corruption-fake-bill-recruitment-scam 7.otnbangla লিংক- https://otnbangla.com.au/news/51830 8. somoynews.tv লিংক- https://www.somoynews.tv/news/2026-03-06/LJ2U9TzR 9. ঢাকা টাইমস লিংক- https://www.dhakatimes24.com/2026/03/05/402684 10. কালের কণ্ঠ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=dXwwe8EzTME 11.বাংলানিউজ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=449Y3K3uMP8 12.Somoy TV লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=xCZRP0vVHq8 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F,-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2:-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2,-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE,-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0 14. বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com %e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/ 15.বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8/ 16.moheshpurnews লিংক- https://moheshpurnews24.com/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D/
ড. মাহরুফ চৌধুরী: গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশনের একটি যান্ত্রিক মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রচিন্তার বাহক এবং নাগরিক চেতনা ও মূল্যবোধ নির্মাণের এক অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই কারণেই গণমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যে স্তম্ভ রাষ্ট্রের নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী ক্ষমতার পাশাপাশি নিরপেক্ষ সত্তা হিসেবে জনস্বার্থ রক্ষা এবং ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে গণমাধ্যম জনমত গঠন, সত্য উন্মোচন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভূমিকা পালন করেছে। ফলে এই প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বর্তমান সময়েও তা প্রশ্নাতীত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পেশাজীবীর, বিশেষ করে সাংবাদিক, সম্পাদক, কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে কলাম লেখক পর্যন্ত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নৈতিকতা ও সৌজন্যবোধ চর্চা করা একটি নৈতিক দায়। কারণ গণমাধ্যমে ব্যক্তিগত আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি সরাসরি প্রভাব ফেলে জনচিন্তা, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক মূল্যবোধের ওপর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বাস্তবতায় এই পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চা এখনও ব্যতিক্রম, নিয়মনীতি হয়ে ওঠেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গণমাধ্যম একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার বদলে ক্ষমতা, সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঘেরাটোপে আবদ্ধ এক অপরিণত পেশার জগতে পরিণত হয়েছে। এখানে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে অভিযুক্ত করা, আক্রমণ করা কিংবা খাটো করার উদ্দেশ্য নেই। বরং সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে গণমাধ্যমের যে নিরন্তর ও অপরিহার্য ভূমিকা, সেই ভূমিকাকে গভীরভাবে স্বীকার করেই কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পেশাদারত্ব ও নৈতিকতার প্রশ্নগুলো সামনে আনার একটি আন্তরিক প্রয়াস মাত্র। সমালোচনার লক্ষ্য এখানে ব্যক্তি নয়, বরং কাঠামো, সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ যেগুলো শক্তিশালী না হলে গণমাধ্যম তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে না ও জনমনে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। লেখক হিসেবে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং অন্য লেখকদের কাছ থেকে শোনা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই নিবন্ধে গণমাধ্যমে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত কিছু মৌলিক সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যা একদিকে লেখকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের নৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে লেখালেখির পরিবেশ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মান আরও সুসংহত ও বলিষ্ঠ করার প্রয়োজনীয়তার কথাই এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে, সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকীয় পর্ষদে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে এই লেখার মূল আবেদন। পত্রপত্রিকার পক্ষ থেকে লেখকদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন, পেশাগত সৌজন্য বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দেওয়া। প্রথমত, লেখকদের সঙ্গে সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের সৌজন্যবোধ ও পেশাগত শিষ্টাচারের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ না করলেই নয়। একজন লেখক যখন কোনো সংবাদপত্রে লেখা পাঠান বা ই-মেইলের মাধ্যমে সম্পাদকীয় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন সেই লেখার প্রাপ্তি স্বীকার করা ন্যূনতম পেশাগত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এটি কোনো অতিরিক্ত সৌজন্য নয় বরং আধুনিক পেশাগত যোগাযোগের একটি স্বীকৃত নীতি। একজন লেখকের ন্যায্য প্রত্যাশা থাকে তার লেখা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, সেটি প্রকাশযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে কি না, কিংবা আদৌ তা পড়া হয়েছে কি নাÑ এই ন্যূনতম তথ্য জানার। যদি লেখা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে আনুমানিক কবে নাগাদ তা প্রকাশিত হতে পারে, সেই ধারণা দেওয়া পেশাগত স্বচ্ছতারই অংশ। আবার লেখা প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট অনলাইন লিংক কিংবা ই-পেপারের কপি লেখককে পাঠানো কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়; এটি পেশাগত সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের স্বাভাবিক পরিধির মধ্যেই পড়ে। দ্বিতীয়ত, লেখকের লেখায় সম্পাদনার নামে অতিরিক্ত বা অযাচিত হস্তক্ষেপ একটি গুরুতর নৈতিক ও আইনি প্রশ্নের জন্ম দেয়। গণমাধ্যমের নীতিমালার অংশ হিসেবে বানান, শব্দচয়ন কিংবা বাক্যগঠনের ত্রুটি সংশোধন করা সম্পাদকীয় দায়দায়িত্বের স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় অংশ এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বরং এই ধরনের সম্পাদনাই একটি পত্রিকার পেশাগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং তাকে দৃশ্যমান করে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এসব সীমার বাইরে গিয়ে লেখার অংশ বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটেছেঁটে ফেলা তথা বক্তব্য, কাঠামো বা অন্তর্নিহিত অর্থে প্রভাব পড়ে এমন কোনো পরিবর্তন, সংকোচন কিংবা সংযোজন করা হয়, অথচ তা প্রকাশের আগে লেখককে অবহিত করা হয় না। এটা সম্পূর্ণ পেশাগত নীতির পরিপন্থী, অনৈতিক, বেআইনি ও লেখকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং পত্রিকা কর্তৃপক্ষের স্বৈরাচারী মনোবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ। মনে রাখা জরুরি, একটি লেখা কেবল কিছু শব্দ বা বাক্যের যান্ত্রিক সমষ্টি নয়; এটি লেখকের চিন্তা, শ্রম, মেধা, অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে লেখার বিষয়বস্তু, দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনের নৈতিক ও আইনি দায়ভারও বহন করেন লেখক নিজেই। সে কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইন ও নীতিমালায় লেখকের এই অধিকারকে কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কোনো লেখায় লেখকের সম্মতি ছাড়া মৌলিক পরিবর্তন আনা শুধু অনৈতিকই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা বিদ্যমান আইনি কাঠামোরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অতএব, লেখকের অনুমতি বা অন্তত অবহিতকরণ ছাড়া লেখার বক্তব্যগত পরিবর্তন করা মানে ব্যক্তিগত লেখককে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পেশাগত নীতিনৈতিকতা, সম্পাদকীয় স্বচ্ছতা এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই খাটো করা। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমে সম্পাদক ও লেখকের সম্পর্ক হওয়া উচিত সহযোগিতামূলক ও সম্মান-নির্ভর, যেখানে সম্পাদনা হবে মানোন্নয়নের উপায়, কর্তৃত্ব আরোপের অস্ত্র নয়। তৃতীয়ত, লেখকের সম্মানী বা পারিশ্রমিক প্রদানের প্রশ্নটি এখনও আমাদের দেশের গণমাধ্যম জগতে এক ধরনের উপেক্ষিত ও অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দুঃখজনকভাবে, বহু গণমাধ্যম মালিকের বিরুদ্ধেই নিয়মিতভাবে সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে, যা আমাদের সংবাদপত্র জগতের একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। তা সত্ত্বেও বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক, সম্পাদক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের শ্রম, সময় ও মেধার বিনিময়ে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। এই স্বীকৃত বাস্তবতার আলোকে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে যে লেখকরা সেই পত্রিকার জন্য নিয়মিতভাবে লেখা পাঠান, কনটেন্ট সমৃদ্ধ করেন এবং পাঠক তৈরিতে ভূমিকা রাখেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নীতির ব্যতিক্রম কেন ঘটবে? লেখালেখি কোনো শখের কাজ মাত্র নয়; এটি সময়, শ্রম, মনন ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পেশাগত কর্মকাণ্ড। এর জন্য প্রচুর সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করতে হয়। সুতরাং লেখকের পারিশ্রমিক প্রদান বা সময়মতো তা পরিশোধ করা কোনো দয়া বা সদিচ্ছার বিষয় নয়; এটি একটি স্পষ্ট নৈতিক ও পেশাগত দায়। একজন পেশাজীবী হিসেবে এই প্রশ্নটি প্রতিদিন নিজেকে করা সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নৈতিক দায়িত্ব। স্বৈরাচারমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ কায়েম করতে হলে পেশাজীবীদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। নিজেরা বৈষম্যমূলক ও স্বৈরাচারী আচরণ করে অন্যের কাছ থেকে ন্যায্য ও অস্বৈরাচারী আচরণ আপনি কীভাবে আশা করেন? কারণ গণমাধ্যমে নৈতিকতা কেবল প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়; তা প্রতিফলিত হয় পেশাগত আচরণ, শ্রমের মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বোধের মধ্য দিয়েও। মূলত, আমরা যে সমাজ কল্পনা করি এবং যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, সেই মূল্যবোধ যদি আমাদের নিজ নিজ আচার-আচরণ, পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চার ভেতরে প্রতিফলিত না হয়, তবে তা অন্যের কাছে কিংবা বৃহত্তর সমাজের কাছে প্রত্যাশা করাই অবাস্তব। ব্যক্তিগত ও পেশাগত আচরণের সঙ্গে ঘোষিত আদর্শের এই বিচ্ছিন্নতাই রাষ্ট্র ও সমাজজীবনের অন্যতম মৌলিক সংকট। গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পেশাজীবীর দায়িত্ব কেবল লেখা প্রকাশ বা সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং মানবিক ‘সোনালি নীতি’ তথা ‘আপনি আচরি ধর্ম, অপরে শিখাও’, পেশাগত সৌজন্য ও নৈতিক নীতিমালা মেনে চলার মাধ্যমেই তারা একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক এবং দায়িত্বশীল সমাজ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। কারণ গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি শব্দে নয়, বরং সেই শব্দের পেছনে থাকা নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতায় নিহিত। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যে সমাজ কল্পনা করি বা যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, সেই মূল্যবোধ যদি আমাদের নিজেদের আচার-আচরণ, পেশাগত চরিত্র ও নৈতিক চর্চার ভেতরে প্রতিফলিত না হয়, তবে তা অন্যের কাছে কিংবা বৃহত্তর সমাজের কাছে প্রত্যাশা করাই অবাস্তব। নৈতিকতা কখনোই কেবল দাবি বা উপদেশের বিষয় নয়; এটি প্রতিদিনের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই অর্থবহ হয়ে ওঠে। তাই প্রতিটি পেশাজীবীর বিশেষ করে, গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্তদের মানবিক ‘সোনালি নীতি’র পাশাপাশি নিজ নিজ পেশাগত নীতিনৈতিকতা আন্তরিকভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। একটি কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমুখী সমাজ নির্মাণ কোনো একক গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়; এটি সম্মিলিত নৈতিক অনুশীলনের ফল। সেই অনুশীলনের সূচনা হওয়া উচিত নিজের জায়গা থেকে। নিজ নিজ দায়িত্বের ক্ষেত্রে যদি আমরা পেশাদারত্ব, সৌজন্য ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে পারি, তবেই আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্যিকার অর্থে সমাজ ও রাষ্ট্রের অব্যাহত নির্মাণের অগ্রদূত হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হবে। ড. মাহরুফ চৌধুরী ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য