বরিশাল নগরীর জেলখানার মোড়ে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব ভবনের পঞ্চম তলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত আবাসন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করে এবং বিদ্যমান নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এই আবাসন গড়ে তুলেছেন বরিশাল সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) স্বপন কুমার ধর। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ভবনের একটি বড় অংশজুড়ে নির্মিত এই আবাসনটি কার্যত একটি ব্যক্তিগত ‘ফ্ল্যাট’-এর আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে আধুনিক আসবাব, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং ব্যক্তিগত বসবাস উপযোগী নানা সুবিধা—যার পুরো ব্যয় বহন করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ব্যাংকিং খাতের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের দাপ্তরিক অবকাঠামো কীভাবে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা হলো? নীতিমালার বাইরে নির্মাণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সাধারণত কর্মকর্তাদের পদের ভিত্তিতে বাড়িভাতা প্রদান করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত আবাসিক কোয়ার্টার থাকলেও, সেগুলো পূর্বনির্ধারিত নকশা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের এই ভবনের পঞ্চম তলার আবাসনটি মূল নকশার অংশ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অফিস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জায়গা ব্যক্তিগত আবাসনে রূপান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য পরিচালনা পর্ষদ বা প্রধান কার্যালয়ের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখানে পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের আমানতের অর্থ দিয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের ব্যয় শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের সংস্কার, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আবাসন উপযোগী অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হলে সেটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ‘অডিট এড়িয়ে’ কাজ সম্পন্নের অভিযোগ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংস্কার কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে নিয়মিত অডিট বা তদারকিতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে বা প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কীভাবে এমন বিতর্কিত সুবিধা ভোগ করতে পারেন? তদন্তের দাবি ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নজরে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: চারদিক অন্ধকার।কারো মোবাইল বন্ধ।কারো সচল।সচল থাকলেও কল রিসিভ করছেননা।সকল দিক থেকে পাওনাদারদের আওয়াজ।কোন সারা শব্দ নাই।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ: ব্যাগ ফ্যাক্টরীর পর এবার এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ। এরই মাঝে ১৪ মে বেলা ১১ টার দিকে তিন কোটি টাকারও বেশী বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারনে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার। পাওনাদারদের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পথে।আর্থিক সংকট।অচলাবস্থা ভিতরে ও বাইরে।একে একে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিদেশে অর্থপাচার,লুটপাট,অনিয়ম,দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারনে শতভাগ সফল হওয়া কোম্পানীটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই মুহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের ৬ কোটি টাকারও বেশী পাওনা রয়েছে।চট্রগ্রামের মেরিন সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেডার্স ৫ কোটিরও বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। যেসব ডিলার টাকা পাবে : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ডিলার মিখাইল শেখ পাবে ৫০ লাখ টাকা।এ ভাবে মাদারীপুরের ফয়সাল ট্রেডার্স পাবে ৫ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা,মোড়লগঞ্জের হাওলাদার ট্রেডার্স। রাজশাহীর মক্কা ট্রেডার্স ( ট্রাইকন মার্কেটিং) পাবে ৭০ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। আলহাজ্ব আতাউর রহমান পাবে ৩৫০০০ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। সাতক্ষীরার আল আমিন এজেন্সি পাবে ১০০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা।কুষ্টিয়ার সালাম এন্ড সন্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। মেহেরপুরের সন্ধ্যা ট্রেডার্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। এভাবে প্রায় শতাধিক ডিলার ও রিটেইলারের থেকে বেশী কমিশনের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। সিমেন্ট দিচ্ছেনা ডিলার ও রিটেইলাদারকে। আবার পাওনা অর্থও দিচ্ছেনা।ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রিটেইলার ও ডিলাররা। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে টাকা ফেরৎ বা সিমেন্ট কবে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা: এ ব্যাপারে এ্যাংকর সিমেন্টের কর্মকর্তা ইমাম ফারুকীর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা বলেন,যেখানে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেনা সেখানে কিভাবে অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতাদের টাকা ফেরৎ দিবে। কবে টাকা ফেরৎ বা টাকার বিনিময়ে সিমেন্ট দেয়া হবে তা কেউ জানেনা। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইমাম ফারুকী ও দীপংকর এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল জানান, ডিলারদের থেকে দাম বৃদ্ধির কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিএমও ইমাম ফারুকী, ও আরএসএম দীপংকর।এখন সিমেন্ট এর জন্য কল দিলেও কেউ ডিলারদের ফোন রিসিভ করেনা এবং মার্কেটে না এসে আত্নগোপনে চলে গেছে। কোম্পানীকে কিছু টাকা দিয়ে ইমাম ফারুকী বরিশালে আলিশান বাড়ি ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন। যেসব সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এখনও বকেয়া: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নিকট সিফাত পাবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।এছাড়া এখনো সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাবে তারা হলেন,মোঃ তুহিন শেখ, মেঃ আরিফ আহম্মেদ,মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ এনামুল হক,রফিক,মোঃ মামুন হোসেন,মোঃ মুকিত হাসান,মোঃ মাহফুজর রহমান,মো: মামুন, রিয়াজ খান, মোঃ শাহিন ও মোঃ কামরুল ইসলাম সহ অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে আর্তনাদে এ ছাড়া একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করলেও কোন সুফল পাচ্ছেননা।বার বার তারিখের গ্যাড়াকলে পরে সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিঃস্ব হয়ে গেছে।তাদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে। দেশে আছেন তারা: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশে থাকলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও করপোরেট অফিস থেকে বলা হচ্ছে চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বিদেশে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সুত্র নিশ্চিত করেছেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ : দুষনে শীর্ষে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এলাকা অন্যতম দূষিত বাতাসের স্থান। IQAir Barisal ও AccuWeather Barishal-এর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের রুপাতলীর এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও সংলগ্ন শিল্প এলাকায় সিমেন্টের গুঁড়ো এবং গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বাতাসে ক্ষতিকর ভাসমান কণা বা PM2.5-এর উপস্থিতি অনেক বেশি।যার কারনে যেসব মানুষের ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় এই এলাকায় মাস্ক ছাড়া অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, আর্থিক জটিলতার কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে কারখানার নিজস্ব নির্গমন কম থাকলেও ধুলাবালির প্রভাব রয়ে গেছে। সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব: রুপাতলীতে এ্যাংকর সিমেন্ট এবং অন্যান্য শিল্পকারখানার কারণে সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব প্রধানত মানবদেহ, স্থানীয় পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্রধান প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো: MDPI +1 ১. মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব (Health Impacts): শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা: সিমেন্ট উৎপাদনের সময় নির্গত সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা (PM2.5 এবং PM10) বাতাসে মিশে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক শ্বাসকষ্টের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। চোখ ও গলার সংক্রমণ: বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করা, অনবরত কাশি এবং গলায় ইনফেকশন বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: দীর্ঘদিন এই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। ২. পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর প্রভাব (Environmental Impacts): গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি: বাতাসে ভাসমান সিমেন্টের ডাস্ট ও ছাই আশেপাশের গাছপালার পাতার ওপর আস্তরণ তৈরি করে। এর ফলে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (খাদ্য তৈরি) ব্যাহত হয়, গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। মাটির গুণাগুণ নষ্ট: ডাস্ট ও ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পড়ে। এতে মাটির অম্লতা বা ক্ষারীয় ভাব পরিবর্তিত হয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। MDPI +2 ৩. কীর্তনখোলা নদী ও জলজ জীবনের ওপর প্রভাব: নদীর পানি দূষণ: কারখানার ধোঁয়া ও ডাস্ট সরাসরি বাতাসে ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে এবং উড়ন্ত ছাই কীর্তনখোলা নদীর পানিতে পতিত হয়। এতে পানির পিএইচ (pH) লেভেল পরিবর্তন হয়ে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: পানিতে রাসায়নিক ও ডাস্ট কণা দ্রবীভূত হওয়ায় অক্সিজেনের মাত্রা (DO) কমে যায়, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। MDPI +4 ৪. মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান: মানসিক চাপ ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং কারখানার যান্ত্রিক শব্দের কারণে স্থানীয় মানুষের ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক অবসাদ বা অ্যাংজাইটি বৃদ্ধি পায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন বাস্তবায়ন ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।পরিবেশগত ছাড়পত্র হালনাগাদ (Updated) এবং ডাস্ট ফিল্টারগুলো শতভাগ সচল রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের অফিসকে ঘুষ দিয়ে ছাড়পত্র হালনাগাদের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন : বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (যা পূর্ববর্তী ১৯৯৭ সালের বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে) অনুযায়ী সিমেন্ট কারখানার মতো লাল শ্রেণীভুক্ত (Red Category) শিল্পের জন্য কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ এ জাতীয় ভারী শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান আইন ও নিয়মাবলী নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate - ECC): বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র: যেকোনো সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) অনুমোদন এবং অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। নবায়ন: প্রতি বছর এই ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়। ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। ২. তরল বর্জ্য ও ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন: বাধ্যতামূলক ইটিপি: কারখানার ধোঁয়া বা ওয়াশিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি তরল বর্জ্য সরাসরি কীর্তনখোলা নদী বা বাইরের কোনো জলাশয়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পানি শোধন: কারখানায় নিজস্ব ইটিপি (ETP) থাকতে হবে এবং শোধন করা পানির মান পরিবেশ অধিদপ্তর নির্ধারিত প্যারামিটারের মধ্যে থাকতে হবে। ৩. বায়ু দূষণ ও ডাস্ট কন্ট্রোল (Air Emission Standards): অনলাইন মনিটরিং: কারখানার চিমনি বা ক্লিংকার ক্রাশিং ইউনিট থেকে নির্গত ধোঁয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে অনলাইন কন্টিনিউয়াস এমিশন মনিটরিং সিস্টেম (OCEMS) চালু রাখার নিয়ম রয়েছে। ডাস্ট কালেক্টর: কারখানায় আধুনিক 'ব্যাগ ফিল্টার' (Bag Filter) বা 'ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর' (ESP) ব্যবহার করতে হবে, যেন বাতাসে সিমেন্টের সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা ছড়াতে না পারে। মুক্ত ডাস্ট ছড়ানো নিষিদ্ধ: কাঁচামাল আনলোড বা লোড করার সময় জেটি বা নদী তীরে কোনো উপাদান বাতাসে উড়তে পারবে না। ৪. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা: সিমেন্ট কারখানার ভারী যন্ত্রপাতির শব্দ দিনের বেলা ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ৫. আইন অমান্যের শাস্তি ও জরিমানা: কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: আইন লঙ্ঘন করে পরিবেশের ক্ষতি করলে বা ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা চালালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। ক্ষতিপূরণ (Compensation): পরিবেশের ক্ষতি করলে পরিবেশ অধিদপ্তর নিজস্ব মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শুনানির আয়োজন করে কারখানাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা করতে পারে এবং কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিতে পারে। খোজ নিয়ে জানা গেছে,এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলা কনায় বায়ু মারাত্মকভাবে দুষিত হলেও বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর বিভাগে কর্মরত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়া, একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার, আয়কর সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাকরি জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা অসঙ্গতির তথ্য। মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ২৩ মে ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। একই বিভাগে প্রায় সাত বছর চাকরির পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে পদোন্নতি পান। দীর্ঘ ২৫ বছর একই বিভাগে চাকরি করার পর ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে দ্বিতীয় পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টনে কর্মরত আছেন। তার বর্তমান সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বলে জানা গেছে। ভুয়া স্থায়ী ঠিকানার অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি মানিকগঞ্জ জেলার একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঠিকানাটি প্রকৃত নয় এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে মানিকগঞ্জে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা। বরং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। তার পূর্বের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বর্তমান স্মার্টকার্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনেও ঘুষের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানাকে বৈধ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতেও অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কর অঞ্চলের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকেই টিআইএন (TIN) নিবন্ধন করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইন টিআইএন নিবন্ধন কর অঞ্চল–৪ এর আওতায় হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৬২ থেকে টিআইএন গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গ করেন। এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, “আমার ভুল হয়েছে।” এক ব্যক্তির তিন স্থায়ী ঠিকানা? অনুসন্ধানে তার নামে বা ব্যবহৃত নথিতে তিনটি পৃথক স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পাওয়া গেছে—মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকার একটি ঠিকানা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তির একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহারের প্রয়োজন কেন? অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য, এসব ঠিকানার আড়ালে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সীমিত বেতনের চাকরি করলেও জুলহাস উদ্দিন আহমেদের পরিবারের জীবনযাপন ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে রয়েছে বিস্ময়। ঢাকার খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের নামে কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় নিজের ও ভাইদের নামে নির্মিত হয়েছে একাধিক ভবন ও অভিজাত বাড়ি। প্রতিবেদকের হাতে থাকা তথ্যমতে, আত্মীয়-স্বজনের নামেও জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার সাত ভাইয়ের মধ্যে একজনকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এবং আরেকজনকে সৌদি আরবে পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। সন্তানের বিদেশে পড়াশোনা নিয়েও প্রশ্ন জুলহাস উদ্দিন আহমেদ দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার ছেলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় East West University-এ পড়াশোনা শেষ করার পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের London Metropolitan University-এ অধ্যয়ন করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল—একজন নৈশ প্রহরী ও পরে দীর্ঘদিন পিয়ন পদে চাকরি করা কর্মচারীর পক্ষে এত ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যয় বহন করা কীভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, “আপনারা যা পারেন নিউজ করেন।” সামাজিক প্রভাব ও অনুদান কার্যক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় বিভিন্ন খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত অনুদান দিতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবেও উপস্থিত থাকেন তিনি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—সরকারি চাকরির সীমিত আয়ে কীভাবে তিনি নিয়মিত এ ধরনের ব্যয় বহন করছেন? জবাবদিহির দাবি সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি বলছেন, সরকারি চাকরিতে ভুয়া তথ্য ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার ধারাবিবরণী একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে। বিতর্কিত বদলি ও জনরোষ ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. শহীদুল আলমকে প্রেষণ থেকে ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়, কারণ এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জনসমক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই মাসের সহিংস ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে—যদিও এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সমালোচকদের দাবি, তাকে সাময়িকভাবে একটি প্রকল্পে সরিয়ে রাখা হলেও পরে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ২০২৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের ১৬৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের কিছু নথি নিখোঁজ হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। ই-জিপি টেন্ডার ও ওটিএম অনিয়ম ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের বিভিন্ন দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ‘ওটিএম’ (ওপেন টেন্ডার মেথড) ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা নগর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) এবং শহীদুল আলম মিলে রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে ওটিএম-এর (OTM) মহোৎসব চালিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওটিএম ২০% হওয়ার কথা থাকলেও তারা শতভাগ ওটিএম করেছেন। নিচে উল্লেখিত ইজিপি দরপত্র আইডিগুলো এই দুর্নীতির সাক্ষ্য দেয়: ৯২২৪৪৩, ৯২২৪৩৪, ৯৯৯৪৩৯, ৯২২৪৪০, ৯২২৪১৮, ৯২২৪৩০, ৯২৫১০৬, ৯২২৪৪১, ৯২২৪৩১, ৯২২৪৩৭, ৯২২৪৩৮, ৯২২৪৩৬, ৯২২৪৪৭, ৯২৫১০৯, ৯২২৪৩২, ৯২২৪২৯, ৯২২৪২৩, ৯২২৪২৪, ৯২২৪২৫, ৯২২৪২৬, ৯২২৪২৭, ৯২২৪২৮, ৯২২৪১৯, ৯২২৪২০, ৯২২৪২১, ৯২২৪২২, ৯২২৪১৭, ৯২২৪১৪, ৯২২৪১৫, ৯২২৪১৬, ৯২২৪১০, ৯২২৪১২, ৯২২৪১৩, ৯২২৪০৭, ৯২২৪০৮, ৯২২৩৯৯, ৯১৭৯৪৫, ৯১৭৯৩০, ৯১৭৯৮১, ৯১৭৯৪৭, ৯১৭৩২৪, ৯১৭৯৩১, ৯১৭৯৩৫, ৯১৭৯৩৯, ৯২০০৪৫, ৯১৭৯৪৪, ৯১৭৯৪৯, ৯১৭৯৫০, ৯১৭৯৪৬, ৯১৭৯৪১, ৯১৭৯৬৫, ৯১৭৯৬৬, ৯১৭৯৬৭, ৯৪৮১৭৩, ৯৪৮১৭৫, ৯৪৪৪beg, ৯৪১৩৬৮, ৯৪১৩৪৭, ৯৪১৩৪৬, ৯৪১২০৫, ৯৪১১৮৪, ৯৪৩৯০৩, ৯৪৪৪৬০, ৯৪৪৪৬২, ৯৪৪৪৬১, ৯৪৪৪৫৮, ৯৪১৩৭৯, ৯৪১৩৭৩, ৯৪১৩৬৪, ৯৪১৩৪২, ৯৪১২০১, ৯৪১১৯৯, ৯৪১৩৭৫, ৯৪১১৯৬, ৯৪১৩৮৯, ৯৪১৩৮২, ৯৪১১৯৩, ৯৪১৩৯১, ৯৪৩৯২২, ৯৪১১৮০, ৯৪১১৭৬, ৯৪৩৯১২, ৯৪১১৭০, ৯৪১৩৯২, ৯৪১৩৯৩, ৯৪৩৯১০, ৯৪৩৯১১, ৯৪৩৮৮৯, ৯৪১৩৯৪, ৯৪১৩৯৫, ৯৪১৩৯৬, ৯৪১৩৯৭, ৯৪১৩৯৮, ৯৪১১৮১, ৯৪০২৯১, ৯৪১৫৪১, ৯৪২৮১৭, ৯৪৪৪৪২, ৯৪৪৪৫৩, ৯৪৪৪৫৬, ৯৪৪৪৫৫, ৯৪৪৪৫৯, ৯৪৪৪৬৭, ৯৪১০২৩ এবং ৯৪০৯৬৬। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক টেন্ডার আইডি ঘিরে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা একটি বৃহৎ প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদেশ সফর ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন মো. শহীদুল আলমের একাধিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের সঙ্গে এসব সফরের সম্পর্ক থাকতে পারে। শহীদুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক বছরে সাত বার বিদেশ সফর করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দুবাই আন্তর্জাতিক এক্সপোতে গিয়ে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত ভিলা কিনেছেন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ ও আজিজ পরিবারের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানোর নামে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে তার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিদেশ সফরে চিকিৎসা ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রভাব ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। মো. শহীদুল আলমের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোজনের অভিযোগ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভোল পাল্টে ‘জিন্নাহ টুপি’ ও প্রতি-বিপ্লবের ষড়যন্ত্র ৫ আগস্টের পর শহীদুল আলম তার খোলস পাল্টে ফেলেছেন। মুজিব কোট ছেড়ে এখন জিন্নাহ টুপি পরে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। তার আসল উদ্দেশ্য হলো প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করা এবং তার অনুগত ছাত্রলীগ ক্যাডার কর্মকর্তাদের (সানাউল্লাহ, মইনুল, মাসুদ রানা, আজমুল হক মুন) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও তার বিশাল অর্থভাণ্ডার ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অমীমাংসিত প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কোথাও তদন্ত চলছে, কোথাও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, আবার কোথাও নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ঘটনাগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান ছাড়া এই বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়। সম্পাদকীয় নোট এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ ও তথ্য বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম—যিনি এলাকায় “ইলিয়াস মণ্ডল” নামেও পরিচিত—তার সম্পদ বৃদ্ধিকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আয়কর রিটার্ন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ করবর্ষে রিয়াজুল ইসলাম তার মোট সম্পদ দেখিয়েছেন প্রায় **১ কোটি ৮০ লাখ টাকা**। নথিতে উল্লেখ করা তথ্য বলছে, এই সম্পদের বড় অংশই তিনি অর্জন করেছেন **২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল**—মাত্র আট মাসের মধ্যে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোষিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে— * প্রায় **৯৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা** ব্যবসায়িক মূলধন * ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শ্যামলী শাখায় একটি এফডিআর হিসাব, যেখানে প্রায় **১৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা** জমা রয়েছে * একই ব্যাংক হিসাবের সঞ্চয়ী হিসাবে প্রায় **৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা** * নগদ অর্থ হিসেবে প্রায় **৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা** * ডেলটা লাইফ ইনস্যুরেন্সে জমা **১ লাখ ১৩ হাজার টাকা** এছাড়া আয়কর নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, তিনি ও তার স্ত্রীর নামে দুটি গাড়ি রয়েছে। একটি নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো গ-৩১-৫২৯৮), যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় **৪৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা**, কেনা হয় ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর। অন্যদিকে, তার স্ত্রীর নামে থাকা একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো চ-১২-৬৮৯৭) কেনা হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় **১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা**। পরিচয় ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলাম আগে গাড়িচালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে পরিচিত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এলাকায় তিনি “ইলিয়াস মণ্ডল” নামে পরিচিত বলেও জানা যায়, যদিও নাম পরিবর্তনের কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্র অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, ওই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রিয়াজুল ইসলামের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে জানা যায়, অনুসন্ধানটি পরে অগ্রসর হয়নি । অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, > “আমার দুইটা গাড়ি আর ব্যাংকের কিছু টাকার এফডিআর ছাড়া আর কিছুই নাই। থাকলে দুদক তো মামলা করত।” আয়কর নথিতে দেখানো ব্যবসায়িক মূলধন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, > “এটা আসলে আইনজীবী করেছেন, আমি তো জানি না। আমার সব মিলিয়ে ৮০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ হবে না।” গুরুত্বপূর্ণ অনিষ্পন্ন প্রশ্ন উপলব্ধ নথি ও বক্তব্যের মধ্যে কিছু বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়, যেমন— * আট মাসে সম্পদের বড় অংশ কীভাবে তৈরি হলো * ঘোষিত ব্যবসায়িক মূলধনের বাস্তব উৎস কী * আয়কর রিটার্ন ও ব্যক্তিগত বক্তব্যের মধ্যে কেন পার্থক্য রয়েছে * স্থানীয়ভাবে পরিচিত পরিচয় পরিবর্তনের পেছনের কারণ কী * দুদকের অনুসন্ধান কেন অগ্রসর হয়নি বর্তমানে যা পাওয়া যাচ্ছে তা মূলত আয়কর নথি, ব্যাংক রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের সমন্বয়। ফলে বিষয়টি এখনো **অভিযোগ ও নথিভিত্তিক প্রশ্নের পর্যায়ে** রয়েছে, যার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণের জন্য স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকেরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নাব্যতা রক্ষা ও নৌ-যোগাযোগ সচল রাখার দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগ এখন একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও আরিচা–কাজীরহাট, দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া, ভৈরব–আশুগঞ্জ এবং মোংলা–ঘষিয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে কাঙ্ক্ষিত গভীরতা ও স্থায়ী উন্নতি না হওয়ায় কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। একাধিক সূত্রের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে জ্বালানি ব্যবহারের স্বচ্ছতা, ড্রেজার পরিচালনার প্রকৃত সময় এবং বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি, তবুও বিষয়টি প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং বিভাগকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নাব্যতা রক্ষা এবং নৌ-যোগাযোগ সচল রাখার দায়িত্বে থাকা এই বিভাগটি এখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে আরিচা–কাজীরহাট, দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া, ভৈরব–আশুগঞ্জ এবং মোংলা–ঘষিয়াখালী নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ড্রেজিং প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ বনাম ফলাফল সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিবছর ড্রেজিং খাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। তবে একাধিক নৌ-পরিবহন সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, এই ব্যয়ের অনুপাতে নৌপথে দৃশ্যমান গভীরতা বা স্থায়ী উন্নতি দেখা যায় না। লঞ্চ ও জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বারবার ড্রেজিং করা হলেও নাব্যতা সংকট রয়ে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “ড্রেজার কাজ করছে বলা হলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না—নৌযান আটকে পড়ার ঘটনা কমছে না।” জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ড্রেজিং কার্যক্রমে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো জ্বালানি ব্যবহারের স্বচ্ছতা। একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে ড্রেজার চলাচলের লগবই ও প্রকৃত অপারেশন সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। অভিযোগকারীদের দাবি, ভুয়া লগবই বা অতিরিক্ত সময় দেখিয়ে জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বেসরকারি ড্রেজার নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন বিআইডব্লিউটিএ’র নিজস্ব ড্রেজার বহর থাকা সত্ত্বেও কেন বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, কিছু প্রকল্পে বেসরকারি ড্রেজারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যেখানে বাস্তব কাজ ও বিলের মধ্যে মিল আছে কি না—তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ড্রেজার অচল বা কম ব্যবহার হওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পলি নিষ্পত্তি ও পুনরায় ভরাট হওয়ার সমস্যা ড্রেজিংয়ের প্রযুক্তিগত দিকেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত পলি নির্দিষ্ট দূরত্বে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তা নদীর মধ্যেই ফেলা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পলি আবার আগের স্থানে ফিরে যাচ্ছে, যা একই জায়গায় বারবার ড্রেজিং ও ব্যয় বৃদ্ধির একটি চক্র তৈরি করছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। মেরামত ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ ড্রেজার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খাতেও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু সূত্রের দাবি, যন্ত্রাংশ কেনা ও মেরামতের ব্যয় বাস্তব কাজের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য অডিট ও স্বতন্ত্র যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন। প্রশাসনিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের অভিযোগ বিভাগের কিছু প্রকৌশলী ও কর্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত এবং অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে বদলি বা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকে—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব দাবিও এখনো যাচাইযোগ্য প্রমাণের অপেক্ষায়। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ড্রেজিং প্রকল্পের কিছু অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর নথি পর্যালোচনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং, জিপিএস-ভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। আস্থার সংকটে ড্রেজিং খাত বাংলাদেশের নদীপথ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ড্রেজিং ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা সমাধান না হলে এই খাতের ওপর আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সব অভিযোগের জন্য প্রয়োজন নিরপেক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিল শুধু ধর্মীয় সমাবেশ নয়, ক্রমেই তা রূপ নিচ্ছে বড় আকারের অস্থায়ী অর্থনীতির কেন্দ্রে। লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতকে ঘিরে গড়ে উঠছে শত শত দোকান, যেখানে ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি খাবারের ব্যবসাও জমজমাট। আর এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে ‘বালিশ মিষ্টি’—যা যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি তুলছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। ভিড় না বাজার—কোনটি বড়? মাহফিল প্রাঙ্গণে ঢোকার মুখেই চোখে পড়ে সারি সারি দোকান। তসবিহ, টুপি, বইয়ের পাশে খাবারের স্টল। এর মধ্যেই একটি মিষ্টির দোকান ঘিরে অস্বাভাবিক ভিড়। বিশাল আকৃতির ছানার মিষ্টি—যা একাধিক মানুষ মিলে খাচ্ছেন—দর্শনার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই আকর্ষণের পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক হিসাব। লাখ টাকার বিক্রি—কীভাবে? দোকান মালিকদের দাবি, মাহফিলের তিনদিনে কয়েক লাখ টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। প্রতিটি বড় মিষ্টির দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত, আর মাঝারি ও ছোট আকারের মিষ্টিও ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। হিসাব বলছে, দিনে যদি গড়ে ৫০০–১০০০ পিস মিষ্টি বিক্রি হয়, তাহলে একটি স্টল থেকেই আয় দাঁড়াতে পারে কয়েক লাখ টাকায়। অথচ এই ব্যবসার বড় অংশই পরিচালিত হচ্ছে অস্থায়ী ব্যবস্থায়—যেখানে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সীমিত। মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি? মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ স্টলেই নেই দৃশ্যমান কোনো খাদ্য নিরাপত্তা সনদ বা স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণের ব্যবস্থা। বড় বড় গামলায় খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে মিষ্টি, যা ধুলাবালি বা জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি করছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় জনসমাগমে খোলা খাবার বিক্রি হলে সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। নচেৎ খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রশাসনের নজরদারি কতটা? স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা থাকলেও, খাদ্য বিক্রির মান নিয়ন্ত্রণে তেমন সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়েনি। একাধিক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, তারা মূলত বিশ্বাসের জায়গা থেকে এসব খাবার গ্রহণ করছেন। তবে সচেতনতার অভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতি ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। অস্থায়ী বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোতে এমন অস্থায়ী বাজার গড়ে ওঠা নতুন নয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কতটা নিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ? চরমোনাই মাহফিলের মতো বিশাল জমায়েতে যেখানে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হন, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা মাহফিলে আসা অনেকেই ‘বালিশ মিষ্টি’কে আনন্দের অংশ হিসেবেই দেখছেন। দলবেঁধে খাওয়া, ছবি তোলা—সব মিলিয়ে এটি এক ধরনের সামাজিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। তবে কিছু দর্শনার্থী আবার প্রশ্ন তুলেছেন—“স্বাদ ভালো, কিন্তু নিরাপদ তো?” ৪ এপ্রিল আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের মাহফিল। তবে এই আয়োজন ঘিরে যে অস্থায়ী অর্থনীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হবে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা—যেখানে ধর্মীয় আবহ বজায় রেখেই নিশ্চিত করা যাবে জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল বাণিজ্য।
বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন—মোমেনশাহী এতিমখানা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি আবাসিক স্থাপনা মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প, যন্ত্রণার স্তর, আর কিছু ক্ষণিকের হাসির ঝলক। ঈদ—যে উৎসব ঘিরে দেশের অধিকাংশ শিশু নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আর উপহারের অপেক্ষায় থাকে—সেই একই ঈদ এখানে অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় শিশুদের। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ছয় বছর বয়সী জান্নাত, দশ বছরের শ্রাবন্তীসহ ৪৫ জন কন্যাশিশুর জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং তাদের ছোট ছোট আনন্দের গল্প। “ঈদ এলে খুব মনে পড়ে মা-বাবার কথা” ছোট্ট জান্নাত কথা বলছিল ধীর কণ্ঠে, কিন্তু তার প্রতিটি শব্দ যেন ভারী হয়ে উঠছিল। চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে সে। দুই বছর আগে মা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে মা আর ফিরে আসেননি। জান্নাত বলছিল— “এখন কেউ আমার খোঁজ নেয় না। ঈদ এলে খুব বেশি মনে পড়ে মা-বাবার কথা। কিন্তু কী করবো...” তার কথার মাঝেই থেমে যাওয়া, চোখের কোণে জল জমে ওঠা—এসব দৃশ্য যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে এই এতিমখানার দেয়ালগুলো। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার দীর্ঘ ছায়া বাংলাদেশে এতিম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা নিয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে—লক্ষাধিক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বড় হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতার কারণগুলো নানা রকম: পিতামাতার মৃত্যু দারিদ্র্য পুনর্বিবাহ কর্মসংস্থানের জন্য দূরে চলে যাওয়া সামাজিক নিরাপত্তার অভাব জান্নাতের গল্পে যেমন দেখা যায়—বাবার মৃত্যু এবং মায়ের পুনর্বিবাহ তাকে ঠেলে দিয়েছে এতিমখানার জীবনে। “ঈদ মানেই মা আসবে”—শ্রাবন্তীর অপেক্ষা জান্নাতের গল্পের বিপরীতে কিছুটা আলাদা বাস্তবতা শ্রাবন্তীর। তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। বছরে একবার—ঈদের সময়—মেয়ে দেখতে আসেন। শ্রাবন্তী বলছিল— “সারা বছর তো মাকে কাছে পাই না। ঈদ আসলেই আমার কাছে আসে। তখন খুব ভালো লাগে।” তার জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়—মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র সুযোগ। একই ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন গল্প মোমেনশাহী এতিমখানার প্রতিটি শিশুর গল্প আলাদা হলেও তাদের যন্ত্রণার মূল সুর এক: কেউ বাবাকে হারিয়েছে কেউ মাকে হারিয়েছে কেউ দুজনকেই হারিয়েছে আবার কেউ বেঁচে থাকা বাবা-মার কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও একটি সাধারণ বিষয়—নিরাপত্তা ও ভালোবাসার ঘাটতি। ঈদের আনন্দ: সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা ঈদ উপলক্ষে এতিমখানায় কিছুটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এই বছর: প্রত্যেক শিশুকে দুটি করে নতুন জামা দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা এসে মেহেদি পরিয়েছেন বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে ঈদের দিনের মেন্যুতে ছিল: সকালের নাশতায় সেমাই, নুডলস ও চিপস দুপুরে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, পোলাও ও দই রাতে ভাত, মুরগির মাংস ও ডাল এই আয়োজনগুলো শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও, তা পরিবারিক ঈদের অভাব পূরণ করতে পারে না। স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা: ক্ষণিকের হাসি স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা এসে শিশুদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন। এই ধরনের উদ্যোগ: শিশুদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেয় সামাজিক সংযোগ তৈরি করে উৎসবের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে স্বেচ্ছাসেবী নাফিসা আক্তার বলছিলেন— “আমরা চাই তারা যেন অন্তত ঈদের দিনটা আনন্দে কাটাতে পারে।” অর্থায়নের সংকট: টিকে থাকার লড়াই এতিমখানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে। মূল সমস্যা: নিয়মিত অর্থায়নের অভাব খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ শিক্ষার খরচ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এতিমখানাটি মূলত চলে: সমাজের বিত্তবানদের অনুদানে স্থানীয় সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য: অদৃশ্য সংকট বিশেষজ্ঞদের মতে, এতিম শিশুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আর্থিক নয়—মানসিক। সম্ভাব্য প্রভাব: নিরাপত্তাহীনতা আত্মবিশ্বাসের অভাব আবেগগত বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ জান্নাতের মতো শিশুরা খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। শিক্ষা: ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা এই এতিমখানার শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে—এটি তাদের জন্য বড় একটি সম্ভাবনা। শিক্ষা তাদের জন্য: দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার পথ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যম তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা উচ্চশিক্ষার সুযোগ ক্যারিয়ার গাইডেন্স সমাজের ভূমিকা: সহানুভূতি থেকে দায়িত্বে এই শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনতে শুধু সহানুভূতি যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন দায়িত্ববোধ। সমাজের বিভিন্ন স্তর ভূমিকা রাখতে পারে: ব্যক্তি: নিয়মিত অনুদান, সময় দেওয়া কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান: CSR কার্যক্রম সরকার: নীতিমালা ও অর্থায়ন এনজিও: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি নীতিগত প্রশ্ন: কোথায় রাষ্ট্র? বাংলাদেশে এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন প্রায়ই দুর্বল। প্রশ্নগুলো থেকেই যায়: কেন নিয়মিত সরকারি সহায়তা নেই? কেন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই? কেন এতিমখানাগুলোকে টেকসই করা হচ্ছে না? ঈদ: আনন্দ না বেদনার স্মৃতি? সাধারণ মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের প্রতীক হলেও, জান্নাতদের কাছে এটি অনেক সময় বেদনার স্মৃতি। কারণ: পরিবারহীনতা স্মৃতির ভার অন্যদের আনন্দ দেখে নিজের অভাব অনুভব তবুও তারা হাসে, খেলাধুলা করে, নতুন জামা পরে—কারণ সেটুকুই তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতের প্রশ্ন এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী? যদি: পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকে মানসিক সমর্থন না মেলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে তারা আবার দারিদ্র্যের চক্রেই আটকে যেতে পারে। আশার আলো সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে: শিক্ষার সুযোগ সামাজিক উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগগুলো যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব। জান্নাতদের জন্য কী করতে পারি আমরা? জান্নাতের প্রশ্ন—“আমার খোঁজ নেয় কে?”—শুধু একটি শিশুর নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি প্রশ্ন। আমরা কি পারি না— তাদের পাশে দাঁড়াতে? নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করতে? তাদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে? ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন জান্নাতদের চোখেও সেই আনন্দের প্রতিফলন দেখা যাবে—শুধু নতুন জামায় নয়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায় এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন, গভীর গবেষণা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন অপরিহার্য। এটি সাধারণত একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম, ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিস্তারিত প্রমাণ, সোর্স বা সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি এবং শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা উপসংহার নিয়ে সাজানো হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়মাবলী: বিষয় নির্বাচন ও পরিকল্পনা: জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গোপন কোনো ঘটনা (যেমন- দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম) বেছে নিন । কাজের শুরুতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ও করণীয় তালিকা তৈরি করুন । তথ্য সংগ্রহ (Investigation): সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি নথিপত্র, গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন । তথ্যের সত্যতা যাচাই: সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য, দলিল বা অভিযোগের সত্যতা দুই বা ততোধিক সোর্স থেকে নিশ্চিত হোন। কাঠামো তৈরি: আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline): বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে এমন শিরোনাম দিন । সূচনা (Lead): প্রথম প্যারাগ্রাফে মূল ঘটনার সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরুন । মূল অংশ (Body): ধারাবাহিকভাবে ঘটনার বিবরণ, প্রমাণ, এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন । সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি: ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন । উপসংহার ও সুপারিশ: প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মতামত বা করণীয় উল্লেখ করুন । ভাষা ও শৈলী: ভাষা স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। সাহিত্যিক অলংকরণের চেয়ে তথ্যের সত্যতার ওপর জোর দিন । নিরাপত্তা: সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের ও সোর্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সবসময় মনে রাখবেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগও উঠে আসতে পারে । অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, ধৈর্যপূর্ণ এবং কৌশলনির্ভর প্রক্রিয়া। অনেক সময় রিপোর্টাররা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পে লেখার প্রথম কয়েকটি অনুচ্ছেদই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং লেখার অভ্যাস। এখানে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল— ১. নিজের কাজের ধরণকে গুরুত্ব দিন সব সাংবাদিক একভাবে কাজ করেন না। কেউ কাঠামোবদ্ধভাবে এগোন, আবার কেউ কাজ করেন স্বজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে। নিজের কাজের ধরণ বুঝে সেটিকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর। ২. এলিভেটর পিচ তৈরি করুন স্টোরির মূল ধারণা ২–৪ বাক্যে বলতে না পারলে, বুঝতে হবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করলে লেখার দিক নির্ধারণ সহজ হয়। ৩. লেখা শুরু করতে দেরি করবেন না অনেকেই রিপোর্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেখেন না। কিন্তু এতে কাজ জমে যায়। প্রথম খসড়া নিখুঁত না হলেও লিখতে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. মাঠের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রাণ। সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করা সাক্ষাৎকার গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। ৫. মানুষের গল্পকে কেন্দ্রে রাখুন ডেটা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠককে ধরে রাখে মানুষের গল্প। কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেন হচ্ছে—এসব তুলে ধরাই মূল কাজ। ৬. ভাষা সহজ রাখুন জটিল শব্দ ও প্রযুক্তিগত ভাষা পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। সহজ, পরিষ্কার ও বোধগম্য ভাষায় লেখা বেশি কার্যকর। ৭. তথ্যের ফাঁক পূরণ করুন অনুসন্ধানে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। সেই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা এবং পূরণ করাই একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনের ভিত্তি। ৮. সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করুন একটি ভালো সম্পাদক পুরো স্টোরিকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেন। জটিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রশ্ন করতে থাকুন প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। কোনো বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেবেন না। একটি ঘটনার একাধিক দিক থাকতে পারে—সব দিকই খতিয়ে দেখা জরুরি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধৈর্য, বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে জটিল তথ্যও পাঠকের জন্য সহজ ও প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব। সাংবাদিকতার এই ধারায় সফল হতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতাও সমান জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।