বিশেষ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন—মোমেনশাহী এতিমখানা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি আবাসিক স্থাপনা মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প, যন্ত্রণার স্তর, আর কিছু ক্ষণিকের হাসির ঝলক।
ঈদ—যে উৎসব ঘিরে দেশের অধিকাংশ শিশু নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আর উপহারের অপেক্ষায় থাকে—সেই একই ঈদ এখানে অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় শিশুদের।
এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ছয় বছর বয়সী জান্নাত, দশ বছরের শ্রাবন্তীসহ ৪৫ জন কন্যাশিশুর জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং তাদের ছোট ছোট আনন্দের গল্প।
ছোট্ট জান্নাত কথা বলছিল ধীর কণ্ঠে, কিন্তু তার প্রতিটি শব্দ যেন ভারী হয়ে উঠছিল।
চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে সে। দুই বছর আগে মা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে মা আর ফিরে আসেননি।
জান্নাত বলছিল—
“এখন কেউ আমার খোঁজ নেয় না। ঈদ এলে খুব বেশি মনে পড়ে মা-বাবার কথা। কিন্তু কী করবো...”
তার কথার মাঝেই থেমে যাওয়া, চোখের কোণে জল জমে ওঠা—এসব দৃশ্য যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে এই এতিমখানার দেয়ালগুলো।
বাংলাদেশে এতিম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা নিয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে—লক্ষাধিক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বড় হচ্ছে।
এই বিচ্ছিন্নতার কারণগুলো নানা রকম:
জান্নাতের গল্পে যেমন দেখা যায়—বাবার মৃত্যু এবং মায়ের পুনর্বিবাহ তাকে ঠেলে দিয়েছে এতিমখানার জীবনে।
জান্নাতের গল্পের বিপরীতে কিছুটা আলাদা বাস্তবতা শ্রাবন্তীর।
তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। বছরে একবার—ঈদের সময়—মেয়ে দেখতে আসেন।
শ্রাবন্তী বলছিল—
“সারা বছর তো মাকে কাছে পাই না। ঈদ আসলেই আমার কাছে আসে। তখন খুব ভালো লাগে।”
তার জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়—মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র সুযোগ।
মোমেনশাহী এতিমখানার প্রতিটি শিশুর গল্প আলাদা হলেও তাদের যন্ত্রণার মূল সুর এক:
এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও একটি সাধারণ বিষয়—নিরাপত্তা ও ভালোবাসার ঘাটতি।
ঈদ উপলক্ষে এতিমখানায় কিছুটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
এই বছর:
ঈদের দিনের মেন্যুতে ছিল:
এই আয়োজনগুলো শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও, তা পরিবারিক ঈদের অভাব পূরণ করতে পারে না।
স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা এসে শিশুদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন।
এই ধরনের উদ্যোগ:
স্বেচ্ছাসেবী নাফিসা আক্তার বলছিলেন—
“আমরা চাই তারা যেন অন্তত ঈদের দিনটা আনন্দে কাটাতে পারে।”
এতিমখানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে।
মূল সমস্যা:
এতিমখানাটি মূলত চলে:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতিম শিশুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আর্থিক নয়—মানসিক।
সম্ভাব্য প্রভাব:
জান্নাতের মতো শিশুরা খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।
এই এতিমখানার শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে—এটি তাদের জন্য বড় একটি সম্ভাবনা।
শিক্ষা তাদের জন্য:
তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে:
এই শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনতে শুধু সহানুভূতি যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন দায়িত্ববোধ।
সমাজের বিভিন্ন স্তর ভূমিকা রাখতে পারে:
বাংলাদেশে এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন প্রায়ই দুর্বল।
প্রশ্নগুলো থেকেই যায়:
সাধারণ মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের প্রতীক হলেও, জান্নাতদের কাছে এটি অনেক সময় বেদনার স্মৃতি।
কারণ:
তবুও তারা হাসে, খেলাধুলা করে, নতুন জামা পরে—কারণ সেটুকুই তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।
এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী?
যদি:
তাহলে তারা আবার দারিদ্র্যের চক্রেই আটকে যেতে পারে।
সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে:
এই উদ্যোগগুলো যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।
জান্নাতের প্রশ্ন—“আমার খোঁজ নেয় কে?”—শুধু একটি শিশুর নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি প্রশ্ন।
আমরা কি পারি না—
ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন জান্নাতদের চোখেও সেই আনন্দের প্রতিফলন দেখা যাবে—শুধু নতুন জামায় নয়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায় এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন এক গভীর বিতর্কের মুখে। নেতৃত্ব পরিবর্তন, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন এবং “মব চাপের মাধ্যমে দখল”—এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। একদিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের দিকে, অন্যদিকে পাল্টা দাবি বলছে—সবই নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের অংশ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: ইতিহাসের গৌরব থেকে বর্তমান বিতর্ক মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ত্রিপুরায় গড়ে ওঠা “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল” থেকেই জন্ম নেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্বাধীনতার পর এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সাভারের মির্জানগরে এর প্রধান কার্যালয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে উপকেন্দ্র, গণবিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ নানা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব, মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক বিতর্ক। নেতৃত্ব সংকট ও নতুন অধ্যায় ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে সাভারের প্রধান কার্যালয়ে একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রায় ৫০–৬০ জনের একটি দল প্রবেশ করে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করায়—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের একাংশ দাবি করে, ওই ঘটনার সময় লিখিত পদত্যাগপত্রে বাধ্য করা হয় ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও ডা. মাহবুব জুবায়েরকে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। “মব” অভিযোগ ও প্রশাসনিক নীরবতা অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য সংগঠিত চাপ তৈরি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে নির্দেশনা সম্বলিত ফোনকল শোনানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে আইনি বিতর্ক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের দলিল সামনে আসে, যেখানে কয়েকজন নতুন নাম যুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় ছিলেন— আলতাফুন্নেসা আবুল কাশেম চৌধুরী সন্ধ্যা রায় মনজুর কাদির আহমেদ শিরিন পারভীন হক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আব্দুল কাদের আজাদ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়। বহিষ্কৃত কর্মী ও পুনর্বহাল বিতর্ক অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির কারণে পূর্বে বরখাস্ত কিছু কর্মী পরবর্তীতে নতুন কাঠামোয় ফিরে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এটি নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভক্ত মত রয়েছে। একপক্ষ এটিকে “পুনর্গঠন”, অন্যপক্ষ “নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল” হিসেবে দেখছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে অভিযোগ কিছু অভিযোগে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ট্রাস্টি কাঠামো গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দাবি ও পাল্টা অবস্থান কিছু ট্রাস্টি ও কর্মকর্তা বলছেন, সব পরিবর্তন ছিল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি ছিল “সংগঠিত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দখলের প্রক্রিয়া”। আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন, পরিচালনা বোর্ড গঠন এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই আইনি স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে দলিল, প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো মীমাংসিত নয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র—যা একসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল—এখন নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধতা নিয়ে এক জটিল বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং নীরবতার এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি জানান, তার ছেলেকে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা ঘিরে ফেলে এবং পরে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কারফিউ শিথিল থাকার সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে তাইম তার বন্ধুদের নিয়ে কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ধাওয়া করে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে মারধর করে বের করে আনে। তিনি আরও বলেন, “পরে আমার ছেলে দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এসআই সাজ্জাদও গুলি চালায়। আমার ছেলে ‘মা মা’ বলে মাটিতে পড়ে যায়। তার বন্ধু রাহাত তাকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি করে।” সন্তানের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ময়নাল হোসেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে সেদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা মানুষ মারতে কয়টা গুলি লাগে?” পরবর্তীতে ছেলের মরদেহ গোসল করানোর সময় কোমরের পাশে বড় গুলির চিহ্ন দেখতে পান, যা পিস্তলের গুলির দাগ বলে ধারণা করেন তিনি। এ ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদনে গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, শাহবাগ থানার এসআই শাহদাত গুলির চিহ্ন উল্লেখ না করে ‘কালো দাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি ‘উপরের নির্দেশ’ বলে জানান। উল্লেখ্য, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন পলাতক। বাকি দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতে হাজির করা হয়েছে।