ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। চলমান ফৌজদারি মামলা অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ একটি ফৌজদারি মামলার (সি.আর. নং-১১৮/২০২৫) ১১০ নম্বর আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বিচারাধীন। সরকারি চাকরিতে বিচারাধীন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন বিধান থাকলেও, এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। দীর্ঘ সময় ঢাকায় দায়িত্ব প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— ২২ এপ্রিল ২০১৫: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭: আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩: গণপূর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩: সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারি কাজ বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ছিল। কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। আজিমপুর প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কমিশনের বিনিময়ে বিল অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্ক আজিমপুর এলাকায় একটি নির্মাণকাজ চলাকালে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। সিলেট গণপূর্তে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের একাধিক এপিপিভুক্ত প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এভাবে দরপত্র আহ্বান করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বিনিময়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে যেসব দরপত্র আইডির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— ১০৯৯১০৪, ১০৮৭৩৪৩, ১০৫৫৫৯৮, ১০৩৮৬৬৫, ১০৩৮২৯৮, ১০৩৭৪৭৯, ১০২৯৯৯০, ১০২৯১৬৭, ১০২৮০৮৫, ১০২৭৬৯৯, ১০২৭৫৮৯, ১০২৫৩২২, ১০১৩০৭৬ এবং ১০১১৬৬৩। 'সিন্ডিকেট' গঠনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে যোগদানের পর ইলিয়াস আহমেদ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর, হবিগঞ্জের সাকিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের মাহামুদুল হাসান এবং সুনামগঞ্জের নাজমুল হাসান হিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছে। ডিপিপির বাইরে দরপত্রের অভিযোগ সিলেট ক্যান্সার, হার্ট ও কিডনি হাসপাতাল প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকার একটি দরপত্র (আইডি: ১০৯০৬৬১) ডিপিপির বাইরে আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ প্যাকেজ একত্র করে সীমিত প্রতিযোগিতার অভিযোগ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রিজিওনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি পৃথক প্যাকেজ একত্রিত করে একটি বড় দরপত্র (আইডি: ১০৮৯০২১) আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্রে সাব-স্টেশন, জেনারেটর, এসি, বৈদ্যুতিক কেবল, ইন্টারনেট, টেলিফোন নেটওয়ার্ক এবং সিসিটিভিসহ এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব। এতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ তার সরকারি চাকরির সময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার রয়েছে— ঢাকার ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট বরিশালে ব্যয়বহুল একটি মসজিদ বিদেশে একটি বাড়ি আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ তবে এসব সম্পদের বিষয়ে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সিলেটেও একই অভিযোগ? স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ বণ্টনে কমিশন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুদকের তদন্তের দাবি অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার বাণিজ্য এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইলিয়াস আহম্মেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন রয়ে যায় ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই গুরুতর। তবে এগুলোর অনেকগুলোই এখনও তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়াধীন, অথবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ: তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে সম্পদের উৎস, সামনে প্রত্যর্পণ প্রশ্ন ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুদকের মামলায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি, কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ উদ্যোগ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর গ্রেপ্তার বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাদের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন আর্থিক সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়। একইসঙ্গে একাধিক ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্রও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কীভাবে এলো? দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত ২০২৫ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাকে শনাক্ত ও আটক করতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ জারি হয়। যদিও রেড নোটিশ নিজেই কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ণয় এবং স্থানীয় আইনের আওতায় আটক করার অনুরোধ হিসেবে কাজ করে। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশ কি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবে? সামনে কী আইনি প্রক্রিয়া? আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে বিদেশে গ্রেপ্তারের পর সরাসরি দেশে ফেরত আনা যায় না। সাধারণত প্রত্যর্পণ চুক্তি, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। ফলে বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের আদালত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন এবং বাংলাদেশের অনুরোধ—সবকিছু মিলিয়ে একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামনে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করে, তাহলে অভিযোগের প্রকৃতি, মামলার অবস্থা এবং দুই দেশের আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচিত হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রেপ্তার? বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে বেনজীর আহমেদ ছিলেন অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দুবাইয়ে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি ব্যক্তিগত মামলার অগ্রগতি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি তদন্ত, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং সীমান্ত-পেরোনো আর্থিক অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হলেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। ফলে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত হবেন। এখন নজর থাকবে দুবাই কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ, বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ আবেদন এবং বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ আইনি গতিপথের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। চাকরিজীবনের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মো. সরোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোংলা কাস্টমস, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এমন অবস্থানে ছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তিনি একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। অভিযোগের কেন্দ্রে সম্পদের প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো তার সম্পদের পরিমাণ এবং সম্পদের উৎস। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রে ফ্ল্যাটটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নিবন্ধন নথি, মালিকানা দলিল কিংবা ক্রয়ের অর্থের উৎস সংক্রান্ত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং আয়কর নথি বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনায় বিলাসবহুল বাড়ির অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজ জেলা বরগুনায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দাবি থাকলেও অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রকৌশল মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জমির রেকর্ড বা সরকারি নথি সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে বাড়িটির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর নামে সম্পদ ও বিলাসবহুল গাড়ির অভিযোগ অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সরোয়ার হোসেনের স্ত্রীর নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির নিবন্ধন তথ্য, মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো নথিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবিও এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সম্পদের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করতেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগকারীদের মতে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। একজন কর্মকর্তার সম্পদ কতটা অস্বাভাবিক? সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সম্পদ অর্জন নিজেই কোনো অপরাধ নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটি সম্পদের পরিমাণ নয়; বরং সেই সম্পদের উৎস বৈধ কি না। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ তার বৈধ আয়, কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি আইনি সমস্যা নয়। অন্যদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। এই কারণে অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন। তদন্ত হলে কী কী যাচাই করা হতে পারে? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করলে সাধারণত কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়— আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন ভূমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রেকর্ড গাড়ির নিবন্ধন তথ্য পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ঘোষিত আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। অভিযুক্তের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ন্যায়সঙ্গত তদন্তের অন্যতম শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মো. সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাই, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে সাংবাদিকতা ও আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো অভিযোগকে তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। সেই কারণে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তার নির্ধারণ কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সুনাম পুনরুদ্ধার—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে। জমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগ শুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন। নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকান রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাভারে বাংলোবাড়ি সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। পূর্বাচলে জমির পর জমি পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাব একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ—মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন সহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জবাবদিহির দাবি সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তদন্তের নতুন পর্যায়? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সময়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সমবায় ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নলছিটি উপজেলার নাঙ্গুলি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মল্লিক ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। তার ছেলে নাজমুল ইসলাম সুজন কয়েক বছর আগে সমবায় ব্যাংকে চাকরি পান। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি চাকরিটি লাভ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই সুজনের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে সুজন তার নানা বাড়ির পাশেই বাবার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর ফাঁকি দিতে দলিলে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালে একই এলাকায় আরও একটি জমি কেনার পর সেখানে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরিশাল, ঢাকা ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সুজনের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজনের মায়ের দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তার স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের উৎস এবং ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। জমি কিনেছে আমার বাবা। এছাড়া জমি ক্রয়ের সময় ঋণ নেওয়া হয়েছে।”
সওজে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সওজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বর্তমানে সওজের জনবল নিয়ন্ত্রণ ও বদলি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তাঁর অদৃশ্য প্রভাব বজায় রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধাজনক পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন এই প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে তাঁদের দাবি। কক্সবাজারে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রাক্কলন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়। সেখানে সমুদ্র উপকূলীয় ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ছিল নিয়মিত চর্চা। পরবর্তীতে রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ‘কোর সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪ থেকে ৫ জন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিত না করলে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কিংবা কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের তথ্য দুদকে জমা পড়া অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে “আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নিম্নমানের কাজ ও পুনঃসংস্কারের চক্র মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়ক বর্ষা শুরুর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদনের সংস্কৃতি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক পুনরায় সংস্কারের তালিকায় চলে আসে। কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না—অভিযোগ সওজের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়ার কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদনে বাধা থাকত না। টিআইবির পর্যবেক্ষণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সড়ক খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এত দীর্ঘ সময় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে আদি বাড়ি থাকা মনিরুজ্জামান গত এক দশকে ঢাকা, ফরিদপুর ও রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফরিদপুরে কৃষি ও অকৃষি জমি, রাজশাহীতে বাণিজ্যিক প্লট ও ফ্ল্যাট, এবং ঢাকার বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা ও নিকেতন এলাকায় তাঁর ও আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি গ্রেড-২ বা গ্রেড-৩ কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।” সওজের ভেতরে অসন্তোষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের জোরে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।” তিনি আরও বলেন, “ই-জিপি ব্যবস্থায় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনেক ঠিকাদারকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ সম্পদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।” তিনি বলেন, “দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন। সরকারি চাকরির নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই আয়ের বাইরে তিনি ও তার পরিবারের নামে গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জে জমি ও ফ্ল্যাটসহ তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান, জমির নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। আগারগাঁওয়ে কর্মরত থাকাকালেই সম্পদের বিস্তার হেলাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাষানচরে। স্ত্রী শাহিনা পারভীনও একই জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকার আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পৈতৃকভাবে তাদের প্রায় ১০৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীতে তার বিপুল সম্পদের বড় অংশ গড়ে ওঠে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে। পরে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে মাদারীপুরে বদলি করা হয়। জমির পাশাপাশি তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার ছয় এলাকায় জমি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হেলাল উদ্দিন নিজের নামে এবং স্ত্রী ও শ্যালকের নামে মোট ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। নিজের নামে গুলশান-ভাটারা এলাকায় ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আবাসিক জমি মোহাম্মদপুরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি বাড্ডায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমি শুধু গুলশানের জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বাড্ডার জমির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে ধানমন্ডির রামচন্দ্রপুর-১ মৌজায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। যৌথ মালিকানায় তেজগাঁওয়ের গজারিয়া-১ মৌজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি কিনেছেন হেলাল উদ্দিন। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের তারানগর মৌজায় শ্যালক হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে আরও ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদের অভিযোগ জমির বাইরে আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের নামে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। এছাড়া রাজধানীতে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট ও একাধিক মার্কেটে দোকান থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নথি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সাত ব্যাংক ও ১০ মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে অন্তত সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। নিজের নামে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক সিটি ব্যাংক স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে রয়েছে: পূবালী ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডে একটি অ্যাকাউন্ট এছাড়া নগদ ও বিকাশের অন্তত ১০টি মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। ‘ঢাকায় আমার এত টাকা নেই’ বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলা মানা। ঢাকা শহরে আমার এত টাকা নেই। যা আছে, তার ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেওয়া আছে। এর বাইরে কেউ কিছু বললে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ খুলছে না অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, রাজধানীতে ৫৯ কোটির সম্পদের পাহাড় পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ গুলশান-ধানমন্ডিতে জমি, ব্যাংকে লেনদেন: প্রশ্নের মুখে পাসপোর্ট কর্মকর্তা সরকারি চাকরি, বিলাসবহুল সম্পদ: কীভাবে গড়ে উঠলো হেলাল উদ্দিনের সাম্রাজ্য? সাত ব্যাংক, ১০ মোবাইল অ্যাকাউন্ট, কোটি টাকার সম্পদ—তদন্তের দাবি
এনবিআরের এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কর অঞ্চল-১৪–এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ কিছুদিন আগেও একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পান। তবে তার বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতুয়াইলের রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এবং মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এদিকে, তদন্ত শুরুর আভাস পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন সম্পদ গড়ে তোলা কঠিন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (ডিআইজিআর) আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে এবং বেনামে ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, জমি, বিলাসবহুল গাড়ি ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আরও কয়েকটি সংস্থা প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। ‘রেজিস্ট্রি সিন্ডিকেট’ ঘিরে অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুজ্জামান বিপুল আর্থিক প্রভাব গড়ে তোলেন। বিশেষ করে জমি রেজিস্ট্রেশন, দলিল যাচাই, মূল্য নির্ধারণ, নামজারি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নে প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী আর্থিক বলয় তৈরি করা হয়েছিল। সেই বলয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি চালু ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে সম্পদের খোঁজ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীর অভিজাত কয়েকটি এলাকায় আশরাফুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাতেও তার বিপুল সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনুসন্ধানকারীরা। একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ “অস্বাভাবিক” বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানকারীরা তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি, উচ্চমূল্যের আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের তথ্যও যাচাই করছেন বলে জানা গেছে। ‘বেনামে সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেনামে সম্পদ অর্জন। সূত্রগুলোর দাবি, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের নামে সম্পদ কিনে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্পদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দুদক-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তার আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পদের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ রেজিস্ট্রি খাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি ফি’র বাইরে অবৈধ লেনদেন, দলিলের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে কর ফাঁকি এবং প্রভাবশালীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে টাকা না দিলে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি চাকরিতে থেকে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বক্তব্য মেলেনি এ বিষয়ে আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও অভিযোগকারীরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? দুদক সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্পদের উৎস, অর্থ লেনদেন, কর ফাঁকি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী আলোচনার মধ্যেই এই অভিযোগ নতুন করে ভূমি ও রেজিস্ট্রি খাতের অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে—অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান শেষে আদৌ দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কর বিভাগে কর্মরত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়া, একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার, আয়কর সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাকরি জীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা অসঙ্গতির তথ্য। মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ ২৩ মে ১৯৯৩ সালে কর বিভাগে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। একই বিভাগে প্রায় সাত বছর চাকরির পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে তিনি অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে পদোন্নতি পান। দীর্ঘ ২৫ বছর একই বিভাগে চাকরি করার পর ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” পদে দ্বিতীয় পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৫৯, পুরানা পল্টনে কর্মরত আছেন। তার বর্তমান সর্বসাকুল্যে মাসিক বেতন ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বলে জানা গেছে। ভুয়া স্থায়ী ঠিকানার অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি মানিকগঞ্জ জেলার একটি স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঠিকানাটি প্রকৃত নয় এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে মানিকগঞ্জে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা। বরং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুলতানপুর এলাকায় বলে জানা গেছে। তার পূর্বের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বর্তমান স্মার্টকার্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকানার সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদকের হাতে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনেও ঘুষের মাধ্যমে ভুয়া ঠিকানাকে বৈধ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতেও অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কর অঞ্চলের বাইরে গিয়ে তিনি নিজের কর্মস্থল সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকেই টিআইএন (TIN) নিবন্ধন করেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইন টিআইএন নিবন্ধন কর অঞ্চল–৪ এর আওতায় হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর অঞ্চল–৩, সার্কেল–৬২ থেকে টিআইএন গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়ম ভঙ্গ করেন। এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মো: জুলহাস উদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদককে বলেন, “আমার ভুল হয়েছে।” এক ব্যক্তির তিন স্থায়ী ঠিকানা? অনুসন্ধানে তার নামে বা ব্যবহৃত নথিতে তিনটি পৃথক স্থায়ী ঠিকানার তথ্য পাওয়া গেছে—মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকার একটি ঠিকানা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তির একাধিক স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহারের প্রয়োজন কেন? অনুসন্ধানকারীদের ভাষ্য, এসব ঠিকানার আড়ালে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, সীমিত বেতনের চাকরি করলেও জুলহাস উদ্দিন আহমেদের পরিবারের জীবনযাপন ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে রয়েছে বিস্ময়। ঢাকার খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের নামে কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় নিজের ও ভাইদের নামে নির্মিত হয়েছে একাধিক ভবন ও অভিজাত বাড়ি। প্রতিবেদকের হাতে থাকা তথ্যমতে, আত্মীয়-স্বজনের নামেও জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার সাত ভাইয়ের মধ্যে একজনকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এবং আরেকজনকে সৌদি আরবে পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। সন্তানের বিদেশে পড়াশোনা নিয়েও প্রশ্ন জুলহাস উদ্দিন আহমেদ দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার ছেলে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় East West University-এ পড়াশোনা শেষ করার পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যের London Metropolitan University-এ অধ্যয়ন করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল—একজন নৈশ প্রহরী ও পরে দীর্ঘদিন পিয়ন পদে চাকরি করা কর্মচারীর পক্ষে এত ব্যয়বহুল শিক্ষা ব্যয় বহন করা কীভাবে সম্ভব? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, “আপনারা যা পারেন নিউজ করেন।” সামাজিক প্রভাব ও অনুদান কার্যক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর এলাকায় বিভিন্ন খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত অনুদান দিতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবেও উপস্থিত থাকেন তিনি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—সরকারি চাকরির সীমিত আয়ে কীভাবে তিনি নিয়মিত এ ধরনের ব্যয় বহন করছেন? জবাবদিহির দাবি সুশীল সমাজের একাধিক ব্যক্তি বলছেন, সরকারি চাকরিতে ভুয়া তথ্য ব্যবহার, আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী—যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে—বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, ৫ তলা একটি ভবন, ৬ কাঠার জমিতে একতলা পাকা দালান ও ২০ কক্ষের টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সৈয়দ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেন এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, এসব সম্পদ ঋণের মাধ্যমে অর্জিত। তবে কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অন্যদিকে, সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক তিনি নন; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদ তাদের। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং ফোনালাপে তিনি বারবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার ইঙ্গিতপূর্ণ অনুরোধ জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ আলীর আর্থিক প্রভাব ও আচরণ নিয়ে এলাকায় ভীতি কাজ করে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দ্রুত সম্পদশালী হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, সহকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তার সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাধারণ পরিবার থেকে বিত্তশালী নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। তার বাবা আব্দুল জলিল ছিলেন একজন কৃষক এবং সাবেক ইউপি সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের মোট জমির পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ বিঘা, এবং দীর্ঘদিন আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই চলেছে পরিবারটি। একই পরিবারের একমাত্র সন্তান আজিজ কষ্ট করেই পড়াশোনা শেষ করেন। এসএসসি পাসের পর রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৭-০৮ সালের দিকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সার্ভেয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। অল্প সময়ে সম্পদের বিস্তার চাকরিতে যোগদানের প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ এলাকায় একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করেছেন, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া রাজশাহী শহরে একাধিক বাড়ি, প্লট এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে তার। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন (প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্য) শহরে আরও একটি তিনতলা বাড়ি আরডিএ ভবনের পাশে উচ্চমূল্যের একটি প্লট গ্রামের বাড়িতে আলিশান নতুন নির্মাণ বিল উতরাইল মৌজায় বাবার নামে প্রায় ১০ বিঘা জমি বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর ও জমি বিনিয়োগ এছাড়া তার পরিবারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ মজুদের কথাও জানা গেছে। অভিযোগের ধরন: লিজ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানো একাধিক সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথের জমি লিজ দেওয়ার নামে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে—মহাসড়কের পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে লিজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। মান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, “তার মাধ্যমে জমির লিজ নিয়েছি। কাগজপত্রও দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়।” আরেকজন সওজ কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, “অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক লিজ দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ একটি বিতর্কিত অভিযোগও সামনে এসেছে—একটি বহুতল ভবন সওজের জমিতে পড়েছে দেখিয়ে ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই ভবনের মালিকের মেয়েকে বিয়ে করেন আজিজ। পরে সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ায়, এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে। অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, “গ্রামের বাড়ি ছাড়া শহরে আমার তেমন কিছু নেই। আরডিএ ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি, সেটিও শেয়ার ভিত্তিতে।” প্রশ্ন রয়ে যায় একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন কাঠামো বিবেচনায় এনে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—স্বল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জনের উৎস কী? এসব সম্পদ কি তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এই অভিযোগগুলো নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা চারটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকা থেকে দুদক ও পুলিশের একটি যৌথ বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন সোমবার দুপুরে পাবনা সদর থানার হেফাজত থেকে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। দুদকের পাবনা কার্যালয় সূত্র জানায়, শাহজাদপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি এবং সরকারি অর্থ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৯ লাখ ৪২ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া অনুসন্ধানে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার বাদী ও দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানা–কে ঘিরে হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক—এমন দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসা–এর মিটার রিডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে রাজস্ব পরিদর্শক পদে থেকে আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতার মাধ্যমে অবৈধ আয় করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ফাহমী বাবেল গোলন্দাজ–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের ওয়াসা রাজস্ব জোন-৩–এ দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন ঘিরেও অভিযোগ হারুন অর রশিদ রানার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ময়মনসিংহে একটি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনের এক অংশগ্রহণকারী। এছাড়া একটি মামলায় শেখ হাসিনা–এর সঙ্গে তার নাম এসেছে বলে জানা গেলেও বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সম্পদের বিস্তার মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, ৩ নম্বর সড়ক ও চান মিয়া হাউজিং এলাকায় তার একাধিক ভবনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া গাজীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁও এলাকাতেও তার সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি গণপূর্ত বিভাগের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন দারোয়ান জানান, “তার বিষয়ে প্রায়ই তদন্ত করতে লোকজন আসেন।” জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে অনেককে। এমনকি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিকেও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, কিন্তু ব্যবস্থা নেই অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন সরকারি আনসার কর্মকর্তা বলেন, “স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে তিনি এখন কোটি টাকার মালিক। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে চাপ দেওয়া হয়।” অভিযুক্তের বক্তব্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন অর রশিদ রানা। তার দাবি, “আমার সম্পদের বৈধ উৎস রয়েছে।” তবে সেই উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার কথা জানিয়েছেন। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের কর প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজের নামে এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার একটি জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক।কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল—যিনি বর্তমানে বগুড়ায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। দুদকের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। কী বলছে দুদক দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ফয়সাল তার নিজের নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪ জনের নামে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: * প্রায় **১৭.২১ কোটি টাকা** মূল্যের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় * পরবর্তীতে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় **১৮.১৬ কোটি টাকা** * এর মধ্যে * **স্থাবর সম্পদ**: প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকা * **অস্থাবর সম্পদ**: প্রায় ১১.২১ কোটি টাকা দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অভিযোগের সারাংশ দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ (জমি, প্লট, ফ্ল্যাট) প্রায় ১১.২১ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার) প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে। আত্মীয়দের নামে সম্পদের বিস্তার তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সাল তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন, শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়দের নামে সম্পদ কিনেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: * রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট * অভিজাত আবাসিক এলাকায় জমি, যার ঘোষিত মূল্য বাস্তব মূল্যের তুলনায় অনেক কম * শ্বশুরের নামে ঢাকায় বড় আকারের একটি ফ্ল্যাট * শাশুড়ির নামে উচ্চমূল্যের প্লট, যার দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়েছে দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন “ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপন করার কৌশল” হতে পারে।ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বিনিয়োগ অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার স্বজনদের নামে পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ: * **সঞ্চয়পত্র**: প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা * **শেয়ার বিনিয়োগ**: প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা * **ব্যাংক আমানত**: প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দুদকের মতে, এসব অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে “মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা” করা হয়েছে। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দমন কামতা মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৩৭৫২; জমির পরিমাণ ৬ কাঠার ১/৭ অংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গুতিয়াব (১) মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১১৬৫৭; জমির পরিমাণ ০.০৩ একর। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন হারারবাড়ি মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৬৬৯৫, জমির পরিমাণ ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার। ঢাকা জেলার খিলগাঁও থানাধীন নন্দিপাড়া মৌজায় দলিল নং-৮৯৭১, জমির পরিমাণ ০.২৭ একর এর ১/৬০ অংশ। ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-৫৯৯, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯২৩১ এবং দলিল নং-১০৮৭৫; জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমিটি নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে। স্ত্রী আফসানা জেসমিনের যত সম্পদ এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-১৮৯৬, ব্লক-এম, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১০৫০০, জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমির দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকা। তবে বাস্তবে এ জমি ৭৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কামতা মৌজায় পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্প, সেক্টর নং-২১, প্লট নং-০১৮, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯৮২১, জমির পরিমাণ ২০০.১৭ বর্গমিটার। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির যত সম্পদ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর আহমেদ আলীর নামে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের রূপায়ণ আবাসন প্রকল্পের আওতায় ‘রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয়’, ৫৬-৫৭, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকায় ২৯৯০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট এবং ২৩৮ বর্গফুট কার পার্কিংসহ মোট ৩,২২৮ বর্গফুট ১১তম তলায় আই-১০ নং ফ্ল্যাট সাবরেজিস্ট্রি অফিস তেজগাঁও, ঢাকা এর দলিল নং-৪০৬২। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্পের এন/এস বোড, ব্লক নং-এইচ, প্লট-এইচ-৪-এ জমির পরিমাণ ১০ কাঠার একটি প্লট। খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১৮০৫। প্লটটির ক্রয় মূল্য ৫২ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা, যা নিশ্চিত করেছেন বিক্রেতা। এভাবে এ কর্মকর্তা নিজ নামে চারটি প্লট, নিজের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে দুটি প্লট ও তাদের যৌথ নামে একটি প্লট, শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে একটি প্লট ও শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে যেসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রমাণ মিলেছে। যত সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিজয়নগর শাখা ও প্রধান শাখায় যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা—মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিজয়নগর শাখায় ৫ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ২১ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ১০ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের মগবাজার শাখায় ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্যালক আফতাব আলীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ২৯ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ১ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ভাই কাজী খালিদ হাসানের নামে সোনালী ব্যাংক, খুলনা করপোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ঢাকা ব্যাংকের কেডিএ শাখায় ২০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের এইচএমএম রোড শাখা, যশোরে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং খন্দকার হাফিজুর রহমানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনায় ৩০ লাখ টাকা ও একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৯ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়, শ্যালক আফতাব আলীর নামে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১৪৩ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়সহ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয় করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজের নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন হিসাবে গচ্ছিত রেখেছেন ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা। তিনি নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে—অভিযুক্ত কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার অবৈধ আয়ের উৎস, প্রকৃতি, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল গড়ে তোলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের নিকটাত্মীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের—স্ত্রী আফসানা জেসমিন, মা কারিমা খাতুন, বোন ফারহানা আক্তার, ভাই কাজী খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালা রওশন আরা খাতুন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ ও মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যাংক লেনদেন ও বিনিয়োগ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পাওয়া গেছে— ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ব্যাংক আমানত দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে এগুলো বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘পরিকল্পিত আর্থিক জাল’ অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে— * আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা * সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া * এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এর মাধ্যমে অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া এই ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফয়সালসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একসময়ের যুগ্ম কর কমিশনার ও বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও ২ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে এর অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ১০ জন আসামি এসব অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজেদের নামে গ্রহণ, দখলে নিয়ে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করেছেন। তিন আসামি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। বড় প্রশ্ন এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একজন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায়— * কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা * প্রশাসনিক নজরদারি * এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে। দুদকের তদন্ত শেষ হলে, এই অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—সেদিকেই এখন নজর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদারের প্রেক্ষাপটে এসব তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও কৃষিজমির তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আফতাব নগর এলাকায় তার প্রায় ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া গুলশান-১ এর একটি বহুতল ভবনে তিনি দুই তলা নিয়ে ডুপ্লেক্স বাসভবনে বসবাস করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলশান, নিকেতন, হাতিরঝিল ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার একাধিক উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি তার স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, তার নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, মাছের ঘের ও খামারের তথ্যও উঠে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে মোট কয়েকশ বিঘা জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। একই সময়ে তার পরিবারের সদস্যরাও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে সমালোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত দাবি করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বেশ কিছু বদলী আদেশ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। বদলী আদেশে অনিয়মের অভিযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এসব আদেশে সংস্থাপন শাখার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কর্মকর্তাদেরও বদলী করা হয়েছে, যা প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু কর্মকর্তাকে হয়রানির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব বদলী আদেশ স্থগিত করে এবং অনিয়মিত আদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অভিযোগ দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত বিভিন্ন অফিস আদেশে তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। পূর্বের অভিযোগ ও তদন্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে জামানতের অর্থ অবৈধভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ পূর্বে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে কোনো শাস্তি ছাড়াই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের পাশাপাশি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে একটি বাড়ি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ ও টেন্ডার প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া চক্র’ ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে সারোয়ার জাহান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুদক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে বড় আকারের বদলী বা পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলী ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অভিযোগকারী ইকবালুর রহিম, যিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার, বলেন— এসব অনিয়ম সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগ সম্পর্কে সারোয়ার জাহান বলেন, বদলীর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেন না; সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী-পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পূর্বের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তির অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবার মান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :সরকারি বেতন মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু জীবনযাপন রাজকীয়, সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকার ঘরে—এমন অভিযোগ উঠেছে সাভারে কর্মরত এক সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পদের বিস্তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেনের নিজ জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর সম্পদ। বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় প্রায় ১ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ছয়তলা একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া বন বিভাগের জমি দখল করে বাংলো নির্মাণ এবং শ্বশুরবাড়ির এলাকায় প্রায় ৩ একর জমিতে মাছের ঘের তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাভার ও মির্জাপুরের বিভিন্ন মৌজায় তাঁর নামে বা বেনামে জমি ও বাণিজ্যিক সম্পদের কথাও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজধানীতে সম্পদ ও ব্যয়ের ধরণ ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ২,৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি মিরপুরে ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন সাততলা ভবনের তথ্যও সামনে এসেছে। তাঁর পারিবারিক ব্যয়ের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছেলেকে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানোর মাসিক ব্যয় প্রায় তাঁর সরকারি বেতনের সমপরিমাণ বলে জানা গেছে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—ব্যক্তিগত গাড়ি থাকা সত্ত্বেও অফিসে যাতায়াতের জন্য মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। অফিসকেন্দ্রিক ‘সিন্ডিকেট’ ও দুর্নীতির অভিযোগ সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর জাকির হোসেন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: আদালতের আদেশ অমান্য: হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ঘুষের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মৌজায় জমি রেজিস্ট্রেশন। রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতি: জমির শ্রেণী পরিবর্তন এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি। ভয়ভীতি প্রদর্শন: দলিল লেখকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি এবং সাংবাদিকদের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকজন দলিল লেখক অভিযোগ করেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাদের পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ জাকির হোসেন অতীতে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য অভিযোগ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাকির হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অফিস চলাকালীন মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে তাঁর সহকর্মীদের একটি অংশ ডোপ টেস্টের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তের দাবি এতসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেনের সরাসরি বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ অর্জন ও জীবনযাত্রার অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে। এই ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।