Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ

অবৈধ সম্পদের জাল: এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের সম্পদের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সাল
এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের কর প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজের নামে এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার একটি জটিল আর্থিক নেটওয়ার্ক।কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল—যিনি বর্তমানে বগুড়ায় অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত এবং এর আগে যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। দুদকের দাবি, দায়িত্ব পালনের সময় সেবাপ্রত্যাশীদের ফাইল আটকে রেখে অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে তিনি এই সম্পদ গড়ে তুলেছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।

 কী বলছে দুদক

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ফয়সাল তার নিজের নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪ জনের নামে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:

* প্রায় **১৭.২১ কোটি টাকা** মূল্যের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়
* পরবর্তীতে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় **১৮.১৬ কোটি টাকা**
* এর মধ্যে

  * **স্থাবর সম্পদ**: প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকা
  * **অস্থাবর সম্পদ**: প্রায় ১১.২১ কোটি টাকা

দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদের উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখতে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে একাধিক হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

অভিযোগের সারাংশ

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফয়সাল তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রায় ৬.৯৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ (জমি, প্লট, ফ্ল্যাট)
  • প্রায় ১১.২১ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার)

প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও পরবর্তী অনুসন্ধানে এর পরিমাণ আরও বেড়েছে।

আত্মীয়দের নামে সম্পদের বিস্তার

তদন্তে দেখা গেছে, ফয়সাল তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাই-বোন, শ্যালকসহ নিকটাত্মীয়দের নামে সম্পদ কিনেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি সম্পদের প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

* রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট
* অভিজাত আবাসিক এলাকায় জমি, যার ঘোষিত মূল্য বাস্তব মূল্যের তুলনায় অনেক কম
* শ্বশুরের নামে ঢাকায় বড় আকারের একটি ফ্ল্যাট
* শাশুড়ির নামে উচ্চমূল্যের প্লট, যার দলিলে কম মূল্য দেখানো হয়েছে

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের লেনদেন “ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য গোপন করার কৌশল” হতে পারে।ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে প্রায় ১৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে মোট প্রায় ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বিনিয়োগ

অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার স্বজনদের নামে পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ:

* **সঞ্চয়পত্র**: প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা
* **শেয়ার বিনিয়োগ**: প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা
* **ব্যাংক আমানত**: প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা

দুদকের মতে, এসব অর্থ বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে “মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা” করা হয়েছে।

কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের যত সম্পদ

কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন দমন কামতা মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৩৭৫২; জমির পরিমাণ ৬ কাঠার ১/৭ অংশ। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন গুতিয়াব (১) মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১১৬৫৭; জমির পরিমাণ ০.০৩ একর। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন হারারবাড়ি মৌজায় রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৬৬৯৫, জমির পরিমাণ ৩৩৪.৪৫ বর্গমিটার। ঢাকা জেলার খিলগাঁও থানাধীন নন্দিপাড়া মৌজায় দলিল নং-৮৯৭১, জমির পরিমাণ ০.২৭ একর এর ১/৬০ অংশ। ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-৫৯৯, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯২৩১ এবং দলিল নং-১০৮৭৫; জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমিটি নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা হয়েছে।

স্ত্রী আফসানা জেসমিনের যত সম্পদ

এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ঢাকা জেলার ভাটারা থানাধীন বড় কাঁঠালদিয়া মৌজায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের প্লট নং-১৮৯৬, ব্লক-এম, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১০৫০০, জমির পরিমাণ ০৫ কাঠা। এ জমির দলিল মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকা। তবে বাস্তবে এ জমি ৭৫ লাখ টাকায় কেনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন কামতা মৌজায় পূর্বাচল নতুন শহর আবাসিক প্রকল্প, সেক্টর নং-২১, প্লট নং-০১৮, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-৯৮২১, জমির পরিমাণ ২০০.১৭ বর্গমিটার।

কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর ও শাশুড়ির যত সম্পদ

কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শ্বশুর আহমেদ আলীর নামে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের রূপায়ণ আবাসন প্রকল্পের আওতায় ‘রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয়’, ৫৬-৫৭, সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকায় ২৯৯০ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট এবং ২৩৮ বর্গফুট কার পার্কিংসহ মোট ৩,২২৮ বর্গফুট ১১তম তলায় আই-১০ নং ফ্ল্যাট সাবরেজিস্ট্রি অফিস তেজগাঁও, ঢাকা এর দলিল নং-৪০৬২। কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্পের এন/এস বোড, ব্লক নং-এইচ, প্লট-এইচ-৪-এ জমির পরিমাণ ১০ কাঠার একটি প্লট। খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নং-১৮০৫। প্লটটির ক্রয় মূল্য ৫২ লাখ টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত মূল্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা, যা নিশ্চিত করেছেন বিক্রেতা। এভাবে এ কর্মকর্তা নিজ নামে চারটি প্লট, নিজের স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে দুটি প্লট ও তাদের যৌথ নামে একটি প্লট, শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে একটি প্লট ও শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে যেসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রমাণ মিলেছে।
 

 যত সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার

এ ছাড়া কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নিজ নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বিজয়নগর শাখা ও প্রধান শাখায় যথাক্রমে ৩০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা—মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বিজয়নগর শাখায় ৫ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ২১ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখায় ১০ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের মগবাজার শাখায় ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্যালক আফতাব আলীর নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় ২৯ লাখ টাকা, প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় ১ লাখ টাকাসহ মোট ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ভাই কাজী খালিদ হাসানের নামে সোনালী ব্যাংক, খুলনা করপোরেট শাখায় ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ঢাকা ব্যাংকের কেডিএ শাখায় ২০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা, একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকা ও ২০ লাখসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের এইচএমএম রোড শাখা, যশোরে ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং খন্দকার হাফিজুর রহমানের নামে অগ্রণী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখা, খুলনায় ৩০ লাখ টাকা ও একই শাখায় আরও ১০ লাখ টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে।

এ ছাড়া আবু মাহমুদ ফয়সাল তার স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯১৯ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়, শ্যালক আফতাব আলীর নামে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ১৪৩ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয়সহ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের শেয়ার ক্রয় করেছেন বলে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজের নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন হিসাবে গচ্ছিত রেখেছেন ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা। তিনি নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে আবু মাহমুদ ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে—অভিযুক্ত কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল তার অবৈধ আয়ের উৎস, প্রকৃতি, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক জাল গড়ে তোলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজের নিকটাত্মীয় ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের—স্ত্রী আফসানা জেসমিন, মা কারিমা খাতুন, বোন ফারহানা আক্তার, ভাই কাজী খালিদ হাসান, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্যালক আফতাব আলী, খালা রওশন আরা খাতুন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ ও মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যদের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

 

ব্যাংক লেনদেন ও বিনিয়োগ

অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পাওয়া গেছে—

  • ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র
  • ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি শেয়ার বিনিয়োগ
  • প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ব্যাংক আমানত

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে এগুলো বৈধ আয়ের ছদ্মাবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

 

 ‘পরিকল্পিত আর্থিক জাল’

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফয়সাল একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। এতে—

* আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা
* সঞ্চয়পত্র ও বিনিয়োগ ছড়িয়ে দেওয়া
* এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর

এর মাধ্যমে অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া

এই ঘটনায় দুদকের উপপরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফয়সালসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একসময়ের যুগ্ম কর কমিশনার ও বর্তমানে বগুড়ার অতিরিক্ত কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব), পরিদর্শী রেঞ্জ-১ ও ২ কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৪ জনের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে এর অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ১০ জন আসামি এসব অপরাধলব্ধ সম্পদ নিজেদের নামে গ্রহণ, দখলে নিয়ে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করেছেন। তিন আসামি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিসাব খুলে সন্দেহজনক লেনদেন করে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালকে মানি লন্ডারিংয়ে সহায়তা করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

বড় প্রশ্ন

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একজন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায়—

* কর ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা
* প্রশাসনিক নজরদারি
* এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কাঠামোর কার্যকারিতা

নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হতে পারে।

দুদকের তদন্ত শেষ হলে, এই অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—সেদিকেই এখন নজর।

 

Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে  একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হয়নি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪  তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।  জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪  তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা।     যত অপকর্ম :সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি।    সরকারি অফিস সময় না মানার অভিযোগ:  পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি।  অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   আর্থিক যত অনিয়ম: ২০২২-২৩  অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।  ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে  ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি।   ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগ  ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও  বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন।  শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন।  অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ।  ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।    সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার :  অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত  ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না।  বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।  টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা : প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে। এ বিষয়ে  সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি।    অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি:    নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান।  শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।  অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে।   বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় : নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন। কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি। সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি  দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।    প্রাথমিক শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যে উৎসাহিত করা:  সম্প্রীতি বিভিন্ন অনলাইল নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি চিঠি যাহার স্মারক নং-৩৮.০১.১০০০.০০০.২৭.০১.২০২৬.৩৮৯ প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের লিখিত ভাবে জানান, কোচিং করানো যাবে তবে স্কুল সময়ের পরে। অথচ  শিক্ষামন্ত্রী বলছে স্কুল শিক্ষকদের বাহিরে বানিজ্যিক কোচিং চলবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কর্ণপাত না করে তিনি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষমতা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন এ সকল অপকর্ম।      ডেপুটেশন বানিজ্য:  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন।   এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে  একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিনকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0

অগ্রণী ব্যাংকের মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ হাউজে কোটি টাকার অনিয়ম, নিরীক্ষায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এখনও বহাল

নাসিমুল গনি ও আব্দুল হান্নানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

ঘুস ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রেশন হয়না সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

গণপূর্তের প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ: অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খুলনাকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট পরিচালনা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নির্বাচন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খুলনায় দীর্ঘদিনের প্রভাব অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অমিত কুমার বিশ্বাসের প্রথম কর্মস্থল ছিল খুলনা। কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী (গণপূর্ত বিভাগ-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় খুলনায় দায়িত্বে থেকে বিভাগ-১, বিভাগ-২ এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও একসঙ্গে পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্য সরকারি দপ্তরের বদলি ও দায়িত্ব সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করলেই যাচাই করা সম্ভব। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের একাধিক প্রকল্পে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ, টিটিসি নির্মাণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব প্রকল্পে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।  গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়। পটুয়াখালীতে বদলির পরও একই অভিযোগ ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর অমিত কুমার বিশ্বাসকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়েও প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনার বাইরে গিয়ে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (LTM)-এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে যেসব টেন্ডারের আইডি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1082830,1078462,1078463,1072870,1072103,1072880,1072852,1071872,1070585,1066538,1067779,1067780,1070581 এসব টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদন নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে অমিত কুমার বিশ্বাসের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে— খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন। ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘের। ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দুটি ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। গাজীপুরে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ একর জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগ। এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ভারতে সম্পদ এবং অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।  তদন্তের দাবি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবর

বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতি,সার গুদাম প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে।  বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে তাঁর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর সমপর্যায়ের, এমনকি তারও বেশি। ক্ষমতার উত্থান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদরুল আলম খান তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে বদরুল আলম খান বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, "আসিফ" নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকটি থানা ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও এই প্রভাব খাটানো হয়েছে।  মিরপুর আবাসিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভাগে না দিয়ে অন্য বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বদরুল আলম খান। অতীত কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।  যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বদরুল আলম খানের নির্দেশ অমান্য করলে বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
কাজী ওয়াছি উদ্দিন

গুলশানের ৩০০ কোটি টাকার সরকারি প্লট: ৪৭ বছরের পুরোনো রায়, হারানো নথি ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের অনুসন্ধান

রাজশাহীর আরসি ফুড কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা, ঘুষের টাকা ফেরত চান

গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0