Brand logo light

এলজিইডি

বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ
বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিল আটকে ঘুষ দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নাম ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুষ আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইস স্কিম অনিমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবীর করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম,  ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য  নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি।   অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না।  তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।      ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক !   বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুষ গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।  চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান।   এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক   অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর উপজেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী  প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট।   জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা   এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ।   কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডি র প্রধান কার্যালয় সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল হস্ত সিদ্ধ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা কে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইস স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইস স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে।   বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল   নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন,একটি রিভাইস স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক  মোঃ এনামুল হক।   নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী    অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে।  তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
এলজিইডি কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হক
৪৯ হাজার টাকা বেতনের এলজিইডি কর্মকর্তার ৫০ কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তা নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল অর্থসহ নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া
চরফ্যাসনে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাসনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও এডিবি অর্থায়নের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসন পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের একটি সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ ও উঠান পাকা করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে।পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ব্যক্তিগত কাজে ওই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এখনো সড়ক দুটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান বলেন, “কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতার বাড়ির যে অংশ পাকা করা হয়েছে, সেটির কোনো টেন্ডার হয়নি। ঠিকাদারকে চাপ প্রয়োগ করে কাজ করানো হয়েছে।” ওই কাজের ঠিকাদার কাজী মান্নান হোসেন বলেন, “স্টেডিয়ামের পেছনের সড়কের কাজের ঠিকাদার ছিলাম আমি। কিন্তু আলমগীর মালতিয়া সড়কের কাজ বন্ধ রেখে জোর করে তাঁর বাড়ির দরজা ও উঠান পাকা করিয়েছেন। এ কারণে আমি এখনো কাজের বিল পাইনি।” এলজিইডির বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরেকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।সাবেক ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি বলেন, “তিনি বিভিন্ন কাজ হাতিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করিনি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” এদিকে চরফ্যাসন মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে নিজের ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, এতে মসজিদের প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।আলমগীর মালতিয়ার ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও চরফ্যাসন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চরফ্যাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তখন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। কমিটির সদস্যরা চরফ্যাসনে সরেজমিন তদন্ত করে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চরফ্যাসন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পদ হারানোর পরও তাঁর তৎপরতা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালে চরফ্যাসনের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা নিয়েও আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ নিয়েও পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া বলেন, “১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, “বিএনপি কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় নেয় না। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম
এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে লিখিত আবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিজেই এলজিইডির একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে কর্মরত এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি দাখিল করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া মো. আজহারুল ইসলাম কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন, বিল ছাড় এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে নাটোরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলন একাধিকবার সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ রয়েছে—যার মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুপারিশে তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে শেখ সেলিম-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সান্নিধ্যে থাকার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আজহারুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ এনেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পদায়নের জন্য কোনো ধরনের তদবির করেননি। তার ভাষায়, “কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি।” এ বিষয়ে এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা এবং সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা দুদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস, বর্ষায় বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা,ভোগান্তি

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং জরুরি সেবার যানবাহন—যেমন ফায়ার সার্ভিস—চলাচলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করলে তুলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের সময় কোনো ধরনের সঠিক কারিগরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খালের উত্তর পাশ খাড়া রেখে মাটি সরিয়ে ফেলা হলেও দক্ষিণ পাশে ঢাল রেখে খনন করা হয়েছে, যা ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার বলেন, “আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।” সত্তোরোর্ধ ইউসুফ মোল্লা বলেন, “আমার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, এখন রাস্তা ভেঙে পড়েছে।” তবে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক দাবি করেন, “প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল। পরে এসে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।” উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খাল খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।” উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা সংস্কার নয়—স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম
বাবুগঞ্জে এলজিডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ : সরকারি অর্থ অপচয়, প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য

বরিশাল অফিস :    বাবুগঞ্জ উপজেলা—দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবুগঞ্জ এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিম্নমানের কাজ, এমনকি কাজ না করেই বিল উত্তোলনের মতো অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে—যেখানে উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশই সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ। বরং প্রশাসনিক দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের “অদৃশ্য দুর্নীতির কাঠামো”। সামান্য কাজ,বরাদ্দ ২ লাখ  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রকল্পের সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুলকে দায়িত্ব দেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। ওই প্রকল্পের আওতায় দপ্তরের টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে খুব সামান্য কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে এসব কাজ বণ্টন করা হয়েছে। পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন অভিযোগের তালিকায় রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি কাজও। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে না দিয়ে পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  প্রকল্প বাস্তবায়নের আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রহমতপুর ইউনিয়নের একটি ছোট প্রকল্পকে ঘিরেই প্রথম অভিযোগের সূত্রপাত। সূত্র অনুযায়ী, ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) গঠন করা হয়। ওই কমিটির দায়িত্ব পান স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুল। প্রকল্পটির আওতায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টয়লেট সংস্কার এবং কিছু আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে কাজের পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত—অথচ পুরো বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কাজের নামে সামান্য রং করা আর কয়েকটা জিনিসপত্র আনা হয়েছে। কিন্তু বিল দেখানো হয়েছে পুরো প্রকল্পের। এটা চোখে পড়ার মতো বিষয়।” এই অভিযোগ শুধু একটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি বৃহত্তর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার প্রকল্প—প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই অর্থের আওতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের তালিকা বিস্তৃত—গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ছোটখাটো সংস্কার কাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, অফিস মেরামতসহ নানা উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ উঠেছে— * অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিম্নমানের * নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি * কোথাও কোথাও কাজ আংশিক বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন স্থানীয় ঠিকাদার বলেন, “অনেক কাজই ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে হয়নি। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারি বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা হয়নি।”  টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা—কারা লাভবান? সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া। কিন্তু বাবুগঞ্জের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে— * প্রকল্প ব্যয়ের তুলনায় কাজের মান কমে গেছে * প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে * কিছু ক্ষেত্রে “কাগুজে কাজ” দেখিয়ে বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ—কারণ উন্নয়নের সুফল তারা পায় না।  ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রকল্প: কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি প্রকল্পকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পায়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী— * সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি * পুরনো কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে * প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দেখেছি অফিসের পুরনো টাইলসই আছে। নতুন করে কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু বিল হয়ে গেছে—এটা রহস্যজনক।” ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও অনিয়ম? কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রকল্পের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— * কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হয়নি * নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে * কাজের প্রকৃত অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান করা হয়েছে * ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিল পেয়েছে মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, “ওজুখানার কাজ ঠিকমতো হয়নি। আমরা বারবার বলেছি, কিন্তু কাজ শেষ না করেই বিল নিয়ে নেওয়া হয়েছে।”  প্রশাসনিক শূন্যতা: অনিয়মের সুযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাবুগঞ্জ উপজেলার কিছু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। স্থানীয়দের মতে, এই পরিস্থিতিই অনিয়মের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সময়ে— * প্রকল্প তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ে * সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহিতা কমে যায় * স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয় ফলে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ। একজন সমাজকর্মী বলেন, “যেখানে তদারকি নেই, সেখানে দুর্নীতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে সেটাই হয়েছে।”  অভিযোগ অস্বীকার প্রশাসনের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম বলেন, “সব কাজই নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিস্তারিত জানতে চাইলে অফিসে এসে ফাইল পর্যালোচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের দাবি: নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এলাকাবাসীর প্রধান দাবি হলো— * নিরপেক্ষ তদন্ত * প্রকল্পভিত্তিক অডিট * দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা তাদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, “সরকার টাকা দিচ্ছে উন্নয়নের জন্য। কিন্তু যদি সেই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে উন্নয়নের কোনো অর্থ থাকে না।”  বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: স্থানীয় উন্নয়নে স্বচ্ছতার সংকট বাবুগঞ্জের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বিদ্যমান কিছু কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— * দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা * রাজনৈতিক প্রভাব * স্বচ্ছতার অভাব * জবাবদিহিতার সীমাবদ্ধতা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং, সামাজিক অডিট এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে এই ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমানো সম্ভব।  আস্থা পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ বাবুগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ শুধু আর্থিক দুর্নীতির বিষয় নয়—এটি জনআস্থার সঙ্গেও জড়িত। উন্নয়নের নামে যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় কিন্তু তার সুফল জনগণের কাছে না পৌঁছায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— * অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত * স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা * দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। বাবুগঞ্জের মানুষ এখন অপেক্ষায়—তদন্তের ফলাফল কী আসে, এবং প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে এই অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির
নলছিটির সেই বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা

চাঁদপুর : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঝালকাঠির নলছিটিতে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান কর্মস্থলেও। জানায়, নলছিটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ইকবাল কবির প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এমনকি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।   ঝালকাঠিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানিতে মামুনুর রশীদ নোমানীর দেয়া অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দুদক ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান।   এদিকে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে নলছিটি থেকে স্টান্ড রিলিজ করে হাজীগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয় ইকবাল কবিরকে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, “নির্মাণকাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট সমঝোতা করতে হয়। অন্যথায় কাজ পাওয়া কিংবা বিল উত্তোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে।” গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির কাজের প্রতিবাদে তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নূরনবীকে ঘেরাও করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রকৌশলী বাথরুমে আশ্রয় নেন। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু নিম্নমানের কাজ মেনে নেব না। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও জবাব দেননি। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নলছিটিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। তবে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাজীগঞ্জে নতুন করে ওঠা অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।   এতসব অভিযোগের মাঝেও সম্প্রতি ইকবাল কবির পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ‘জুন ক্লোজিং’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা না নিলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও
রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে কাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খালের বিভিন্ন অংশে ফিতা দিয়ে মাপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ২৬ থেকে ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে রাজাপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের ব্যয় ও পরিধি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে খাল পুনঃখনন নয়। একজন কৃষক বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু বর্তমান কাজের কারণে কোনো উপকারই হবে না।” তাদের অভিযোগ, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ খনন না হওয়ায় একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া খালের পাড় তির্যকভাবে কাটার কারণে ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে প্রস্থ কম মনে হয়েছে, সেখানে মাপ নিয়ে ৩০ ফুট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

রাজাপুর : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে মোট ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪.৮৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি সরিয়ে সরু নালা তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রকৃত খাল খনন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে অর্থ অপচয়ের একটি উদাহরণ। স্থানীয়রা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়। খালের পাড় তির্যকভাবে কাটায় তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে খালটি আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন এবং মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি তাদের কোনো বাস্তব উপকারে আসছে না। অন্যদিকে, খাল খনন সমিতির সভাপতি আ. সালাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি নীতিমালা মেনেই কাজ করা হয়েছে। কিছু স্থানে বসতঘর থাকায় খালের পাড় কাটতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা দপ্তরের নির্দেশনায় করা হয়েছে।” এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।” তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
হাতের টানেই উঠছে সড়কের পিচ
মুলাদীতে শিশুদের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ, নিম্নমানের কাজের অভিযোগে সংস্কার বন্ধ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সড়ক সংস্কার কাজ ঘিরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত বিটুমিন এবং প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ব্যবহার না করায় পিচ সহজেই উঠে যাচ্ছে—এমনকি শিশুদের হাতের টানেই তা আলগা হয়ে পড়ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে মুলাদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেরচর পাইতিখোলা খেয়াঘাট থেকে সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ দেওয়া হয়। কাজটি করছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম। কুতুবপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল সিকদার বলেন, “সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) পিচ ঢালাই শুরু হয়, কিন্তু বিটুমিন কম ব্যবহারের কারণে পিচ খুব সহজেই উঠে যাচ্ছে। তার আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের পর পূর্ণাঙ্গ ‘কিউরিং’ হতে অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। এর আগে পিচ তুলে ভিডিও করা বিভ্রান্তিকর।” এদিকে মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, কাজ সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক। তবে কিছু লোক কাজের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অপ্রতিরোধ্য উত্থানের অন্তরালে সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও প্রভাবের জাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু এই বিপুল অর্থের প্রবাহের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে—ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক প্রভাব, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের নির্মাণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে দুর্নীতির বিস্তার। সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক তথ্য-উপাত্ত, নথি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে উঠে আসে একটি আলোচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম—**মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড**। প্রতিষ্ঠানটি গত আট মাসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ২৮০টি কাজ পেয়েছে, যার মোট দর ৮৩৬ কোটি টাকা। এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ কাজ পাওয়া নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানটির অতীত কার্যক্রম, রাজনৈতিক সংযোগ এবং কাজের বাস্তবায়ন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।  দ্রুত উত্থান না প্রভাবের খেলা? নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এলজিইডি, সওজ, পাউবো, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ (ইইডি), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), খাদ্য অধিদপ্তর এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেটিভ—এই আটটি সংস্থা থেকে মোট ২৮০টি কাজ পেয়েছে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। এর মধ্যে: * এলজিইডি: ১৭৩টি কাজ (৬০৩ কোটি টাকার বেশি) * সওজ: ৮১টি কাজ * পাউবো: ১৫টি কাজ (প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা) * অন্যান্য সংস্থা: বাকি কাজগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত স্বল্প সময়ে এতগুলো প্রকল্প গ্রহণ করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব। একজন সাবেক প্রকৌশলী বলেন, “এটি শুধু সক্ষমতার প্রশ্ন নয়, বরং এটি একটি সিস্টেমিক ইস্যু। একটি প্রতিষ্ঠান এত কাজ পেলে ধরে নিতে হয়—তারা হয় নিজেরা কাজ করছে না, অথবা কাজগুলো সাব-লেট করছে।”  “আমরা সক্ষম”—প্রতিষ্ঠানের দাবি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান হোসেন দাবি করেন, তারা সম্পূর্ণ আইন মেনে কাজ করছেন। তার ভাষায়: “আমাদের ৫০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে বড় হয়েছি। কাজ না করে বিল তোলার মতো কোনো কৌশল আমাদের জানা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে।” ৮৩৬ কোটি টাকার কাজ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের সক্ষমতার বিষয়। অতীতে আরও অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান রাতারাতি হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে অংশীদারি ভিত্তিতে অন্য প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে।  সাব-কন্ট্রাক্টিং নাকি ‘লাইসেন্স ভাড়া’? অভিযোগ রয়েছে, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স নিজে খুব কম কাজ করে। বরং তারা বিভিন্ন জেলার ঠিকাদারদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত চুক্তিতে দরপত্র জমা দেয় এবং কাজ পাওয়ার পর তা সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে বিক্রি করে দেয়। এই পদ্ধতিতে: * স্থানীয় ঠিকাদাররা ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেয় * কাজ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে * মূল প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে থাকে না একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা ওপেন সিক্রেট। কাজ পাওয়ার আগেই সব সেটেল হয়ে যায়। কে কাজ করবে, কত টাকায় করবে—সব ঠিক থাকে।”  মহারাজ সিন্ডিকেট: অতীতের ছায়া কি এখনও সক্রিয়? তদন্তে উঠে এসেছে, পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। এই সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স ছিল এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য * রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বিপুল সংখ্যক প্রকল্প পেত * প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মহারাজ বিদেশে পালিয়ে গেলেও এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, “মহারাজ নেই, কিন্তু তার নেটওয়ার্ক আছে। ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স সেই নেটওয়ার্কের একটি মুখমাত্র হতে পারে।”  অতীতের অভিযোগ: কাজ না করেই বিল উত্তোলন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য—এলজিইডির পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ১৭টি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১,৬৪৭ কোটি টাকা কাজ না করেই উত্তোলন করা হয়েছে। এই ঘটনায়: * রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় * ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে * প্রায় ৯৬ কোটি টাকার কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি * এর মধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা অগ্রিম বিল হিসেবে তোলা হয় বর্তমানে এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। চলমান প্রকল্প: কাজের অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ পিরোজপুরে ইউনুস অ্যান্ড  ব্রাদার্সের অন্তত ৩০টি প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রথমে কাজ শুরু হয়, তারপর বন্ধ হয়ে যায়। আবার যখন খবর হয় তখন একটু কাজ করে।”  সিরাজগঞ্জে হুমকি: অনিয়ম ধরলেই চাপ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি ১৯ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি—অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। এখানে আরও গুরুতর অভিযোগ: * নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার * প্রকৌশলীদের হুমকি * ১৯টি শোকজ নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়া উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, “নিম্নমানের কাজ করতে বাধা দিলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।” অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—কাজটি স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান করছে। ইজিপি টেন্ডার: স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ? সরকারি ক্রয়ে ইজিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান এত বিপুল সংখ্যক কাজ পাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে: * ইজিপি থাকা সত্ত্বেও কারসাজির সুযোগ রয়েছে * দরপত্রে ‘সেটিং’ করা সম্ভব * প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব হতে পারে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী দাবি করেন, “ইজিপিতে অনিয়মের সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  জি কে শামীমের চেয়েও ধূর্ত ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স সংশ্লিষ্টরা ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সকে বিতর্কিত ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, “জি কে শামীম গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স আরও কৌশলী—তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।” এই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে কতটা গভীর সন্দেহ রয়েছে। কাজ না করেই প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ না করেই প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও গত আট মাসে তারা বিভিন্ন সরকারি বিভাগ থেকে আরও ২৮০টি নতুন কাজ বাগিয়ে নিয়েছে।  এসব অভিযোগের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:  কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন: অভিযোগ অনুযায়ী, এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তবে কোনো কাজ সম্পাদন না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি।     সিন্ডিকেট ও কাজ বিক্রি: প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, তারা নিজেরা কাজ না করে তা অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। প্রতিটি জেলায় তাদের নির্দিষ্ট 'এজেন্ট' বা 'প্রস্তুত ঠিকাদার' রয়েছে যারা ইউনুস ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে দরপত্র জমা দেয়।     রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপট: প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য ছিল এই ইউনুস ব্রাদার্স। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের আধিপত্য কমেনি এবং এলজিইডি, সওজ (সড়ক ও জনপথ), এবং পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তাদের কাজ পাওয়া অব্যাহত রয়েছে।    নতুন কাজের কার্যাদেশ: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরেও গত আট মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৮৩৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২৮০টি নতুন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে।  উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সকে জি কে শামীমের চেয়েও 'ধূর্ত' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তারা দুই সরকারের আমলেই সমানতালে কাজ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।  নতুন কাজের কার্যাদেশ ও কালো তালিকাভুক্তি এড়ানো দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত  থাকলেও, রহস্যজনকভাবে তারা নতুন কাজ পাওয়া অব্যাহত রেখেছে:      মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে আরও প্রায় ২৮০টি নতুন কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে।     এসব নতুন কাজের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে যে, কোনো অভিযোগই তাদের নতুন কাজ পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।   কাজের ধরন ও সিন্ডিকেট পরিচালনা  ইউনুস ব্রাদার্সের কাজ করার পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে:     কাজ বিক্রি: তারা বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে তা স্থানীয় পর্যায়ে অন্য ঠিকাদারদের কাছে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।     প্রস্তুত ঠিকাদার (Ready Contractor): প্রতিটি জেলায় তাদের নিজস্ব 'এজেন্ট' বা 'রেডি কন্ট্রাক্টর' রয়েছে। ইউনুস ব্রাদার্সের লাইসেন্স ব্যবহার করে এই এজেন্টরাই দরপত্র             জমা দেয় এবং পরবর্তীতে নিম্নমানের কাজ করে বা কাজ না করেই বিল তুলে নেয়।     রাজনৈতিক প্রভাব: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ও পরে, উভয় সময়েই এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি বর্তমানেও এলজিইডির কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তারা নতুন কার্যাদেশ নিশ্চিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।     সমস্যা কোথায়? এই পুরো ঘটনার বিশ্লেষণে কয়েকটি বড় সমস্যা স্পষ্ট হয়: ১. অতিরিক্ত কাজ বণ্টন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে অতিরিক্ত কাজ কেন্দ্রীভূত হওয়া প্রতিযোগিতা ও মান নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে। ২. সাব-কন্ট্রাক্টিং সংস্কৃতি মূল প্রতিষ্ঠান কাজ না করে অন্যদের দিয়ে করালে জবাবদিহিতা কমে যায়।  ৩. রাজনৈতিক প্রভাব ঠিকাদারি কাজে রাজনৈতিক সংযোগ বড় ভূমিকা রাখছে।  ৪. তদারকির দুর্বলতা শোকজ নোটিশ দিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।   বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলছেন: * বড় প্রকল্পে একক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সীমিত করা * সাব-কন্ট্রাক্টিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা * প্রকল্প তদারকিতে স্বাধীন সংস্থা যুক্ত করা * দুর্নীতির অভিযোগে দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা ও প্রাথমিক তদন্তের কথা বলা হলেও, মাঠ পর্যায়ে কাজ না করেই টাকা তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল বা অর্থ আদায়ের মতো কার্যকর কোনো অগ্রগতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো মামলার কার্যক্রম বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বিভিন্ন সময়ে জানা গেছে। মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উত্থান শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থার গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। এখানে যেমন রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, তেমনি রয়েছে প্রশাসনিক শৈথিল্য এবং জবাবদিহিতার অভাব। অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, একটি বিষয় পরিষ্কার—এত বিপুল কাজ, এত অভিযোগ, এবং এত প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থ অপচয় এবং নিম্নমানের অবকাঠামোর চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ব্রিজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি
আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ, ঢালাই ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর প্রকৌশলী। পরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। পরিদর্শনকালে উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি যুক্ত করে ঢালাই দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডি প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পাঠানো হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, ব্রিজটির স্ট্রাকচারটি গত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। তবে সেই সময় উপরের ঢালাই সম্পন্ন হয়নি। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ বা অনুমোদন ছিল না বলে জানান ইউএনও। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই কাজ করেন। তবে শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর বরাতে তিনি বলেন, বাঁশ ব্যবহারের কারণে কাঠামোটি পর্যাপ্ত মজবুত হয়নি, তাই এটি ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম করে সরকারি প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ঝালকাঠী এলজিইডি
ঝালকাঠী এলজিইডির টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি,অনিয়ম,টেন্ডার বানিজ্য,সরকারি অর্থ তছরুপ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া,ব্রিজ ও রাস্তা নির্মানকে  কেন্দ্র করে অসংখ্য বার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। দুদকে অভিযোগ ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে। প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অভিযোগের সূত্রপাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাস্টবিল্ডের পক্ষ থেকে, যারা দাবি করছে—টেন্ডার মূল্যায়নে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।  কী এই প্রকল্প? এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওটিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ টেন্ডারে একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টেন্ডার আইডি ১০৩৩১৭৫-এ দুটি প্রতিষ্ঠান—ফাস্টবিল্ড ও ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড—একই দর (৪ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০৩ টাকা) জমা দেয়।  কোথায় অনিয়মের অভিযোগ? ফাস্টবিল্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, ই-স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই এলজিইডির টেন্ডারে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাছাড়া, তারা বিভিন্ন প্রকল্পের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) গোপন রেখে নিজেদের টেন্ডার সক্ষমতা (capacity) বাড়িয়ে দেখিয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে মূল্যায়নে অগ্রাধিকার পেল—সেই প্রশ্ন তুলেছে ফাস্টবিল্ড।  তদন্তের নির্দেশ, চিঠি নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক শরীফ জামাল উদ্দিন অলোক ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলেন। তবে এই চিঠি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, চিঠিটি সরাসরি তার কাছে নয়, বরং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে—কারণ তিনিই টেন্ডার কমিটির সভাপতি। অন্যদিকে, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, তিনি কোনো চিঠি পাননি। তার দাবি, টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ সম্পন্ন করে গেছেন এবং তিনি শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছেন।  এই টেন্ডারে ক্ষমতার অপ ব্যবহার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার।কারন তিনি ছিলেন টেন্ডার কমিটির সভাপতি।শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি।তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন,ঝালকাঠি সদর উপজেলার দোগলচিড়া-বেতরা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অনিয়ম করে এলজিইডি থেকে টেন্ডারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া "ই-স্মার্ট" ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (নোহা) নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ারবড দেযার অভিযোগ।উক্ত এলজিইডি এর সিনিয়র প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার টেন্ডার কমিটির সভাপতি হিসাবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।  ‘আমি করিনি’—পাল্টা দাবি সাবেক কর্মকর্তার এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ। তার বক্তব্য, তিনি কেবল দরপত্র খোলার কাজ পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে যান। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষায়, “মূল্যায়ন রিপোর্টে আমার কোনো স্বাক্ষর নেই। এখন আমার ওপর দায় চাপানো হলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”  বরখাস্ত প্রকল্প পরিচালকের অবস্থান এদিকে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী প্রকল্প পরিচালক আদনান আকতারুল আজিম ইতোমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই এবং বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।  প্রশ্নের মুখে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই লাইসেন্সগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একটি টেন্ডার গ্রহণ এবং অন্যটি পুনঃটেন্ডার (রি-টেন্ডার) করার সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—তা স্পষ্ট নয়। এই বৈপরীত্যই এখন তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে।  কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশে বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। প্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে আরো দু'টি অভিযোগ: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ঝালকাঠির পিপলীতার আব্দুল হাইর পুত্র এস এ জুয়েল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,পিপলিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে রমনাথপুর বাইপাস সংযোগ সড়কটির কাজ (আইডি নং ৫৪২৪০৪১৫৯) পুর্বে ইটের সলিং ছিল।পুর্বের রাস্তা যে দিকে ছিল সে দিকেই ইস্টিমেট করা সত্ত্বেও বর্তমানে কার্পেটিং করার সময় এই রাস্তাটি অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিযেছেন।এছাড়া, এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির পুর্ব তারুলীর আলতাফ হোসেন মোল্লার পুত্র মোঃ লিটন মোল্লাও দুদকে লিখিত অভিযোদ দায়ের করেছিল। দুদক ও এলজিইডিতে একের পর এক অভিযোগ থাকলেও তিনি এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। রয়েছেন বহাল তবিয়তে। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা দুর্নীতি ও অনিয়ম করলেও তিনি সব সময়ই থাকছেন খোশ মেজাজে। এ ব্যাপারে ঝালকাঠী সদর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে: প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ঘাটতি, চিঠি আদান-প্রদান নিয়েই বিভ্রান্তি, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। দায় এড়ানোর প্রবণতা,সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পরের দিকে দায় ঠেলে দিচ্ছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রশ্নবিদ্ধতা,সমান দর, নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং ভিন্ন সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জোরালো হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে—এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর দায় কার ওপর বর্তাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় আয়রন ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অর্থায়নে নির্মাণাধীন ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ৫ ফুট হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণে নির্ধারিত রড ব্যবহার না করে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চির পরিবর্তে মাত্র ৩ ইঞ্চি রাখা হয়েছে এবং সিমেন্টের মিশ্রণেও অনিয়ম করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা অভিযোগ করেন, রত্নপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দ পেলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেননি। বরং ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও তোলেন তারা। তাদের দাবি, ঢালাইয়ের সময় উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বাঁশ ব্যবহারে বাধা দিলে ঠিকাদার সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ব্রিজের ঢালাই কাজে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ব্রিজের বাইরের অংশে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই করা হয়েছে। রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ এবং ঢালাইয়ের জন্য সম্প্রতি আরও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি অবগত নন। উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ঢালাইয়ের সময় তাদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও না জানিয়েই কাজ শেষ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর সরেজমিনে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ
১৯ বছরেও সংস্কার হয়নি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত নলছিটির ভেরনবাড়িয়া ব্রিজ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ  : ঘূর্ণিঝড় সিডর-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রানাপাশা ইউনিয়নের ভেরনবাড়িয়া এলাকায় খালের ওপর নির্মিত প্রায় ২২ মিটার দীর্ঘ লোহার ব্রিজটি সিডরের সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ব্রিজটি দিয়ে ভেরনবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই একটি অস্থায়ী সাকো নির্মাণ করেন। তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা আনিচুর রহমান ও মিরাজুল ইসলাম বলেন, ভেরনবাড়িয়া রানাপাশা ইউনিয়নের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও ব্রিজটি বছরের পর বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। “নিজেদের উদ্যোগে সাকো বানালেও সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রতি বছরই এটি নষ্ট হয়ে যায়, আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়,” জানান তারা। আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কাছেই অবস্থিত উত্তর ভেরনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সাকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। “অভিভাবকেরা সবসময় উদ্বেগে থাকেন,” বলেন তিনি। স্থানীয় বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগে সহজেই মালামাল পরিবহন করা গেলেও এখন বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ব্রিজটির বিষয়ে অবহিত হয়েছেন তারা। “খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া
এলজিইডিতে আব্দুর রশীদের নিয়োগ বিতর্ক: সমালোচনার মুখে বাতিলের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।  দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত মো. আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় সরকারি পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে অর্জন করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন এই নিয়োগের পরপরই প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতি দমনের কঠোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে এমন নিয়োগ সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  মন্ত্রীও ছিলেন অজ্ঞাত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন মহল থেকে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।  নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।  দ্রুত ইউ-টার্ন সমালোচনার মুখে মো. আব্দুর রশীদ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতোমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিয়োগটি টিকছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। রোববারের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে।  রাজনৈতিক প্রভাব এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হলেন আব্দুর রশীদ মিয়া
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে আব্দুর রশীদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, মিল্ক ভিটায় মহাব্যবস্থাপক এনায়েত করিম

এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।  পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।  মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
রাজাপুর এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার
রাজাপুরে এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের অনিয়ম: তদন্তে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চিত্র

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি)-এর এক উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।   ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ  । তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. ঘুষ ও বিল বাণিজ্য ঘুষের হার: অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডারে ৩-৫%, বিল পাসে ৫-৭% এবং জামানত ফেরত দিতে ৩-১৫% পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে । বকেয়া বিল: টাকা না দেওয়ায় অনেক ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা এবং জামানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে [১.১.১]। ২. উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ও ভোগান্তি অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প: উপজেলায় এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন- রাস্তা ও সেতু) দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে [১.৩.১]। কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখা বা ড্রেন ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না করার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনিয়ম: নিম্নমানের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার পেছনে তার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে । ৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিযোগ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং দিনের অধিকাংশ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই দুপুর ১২টার আগে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না । রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের পরামর্শে কাজ পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি একটি খাল খনন কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন বলে জানা গেছে ।   রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া । ২. ৪ কোটি টাকার ঝুলে থাকা প্রকল্প ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় । গণশুনানিতে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী: বরাদ্দ দেওয়ার দেড় বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি । এলাকার আরও একাধিক উন্নয়ন কাজ এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে । ৩. অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু তথ্য: হয়রানি: ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিল বা জামানতের টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে ফাইলে ত্রুটি ধরা হয় । আচরণগত সমস্যা: অনেক সময় সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদারদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তাকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন । উল্লেখ্য যে, সারাদেশে এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তরে দুদকের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের কার্যক্রমও নজরদারিতে রয়েছে ।   রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার অফিস করার চিত্রটি নিম্নরূপ: দেরিতে উপস্থিতি: অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে উপস্থিত হন না । কর্মস্থলে রাত্রিযাপন না করা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিত সেখানে থাকেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে জানা গেছে । জনসাধারণের ভোগান্তি: তিনি নিয়মিত অফিসে না থাকায় এবং সময়মতো তাকে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং তারা হয়রানির শিকার হন । অফিস চলাকালীন অনুপস্থিতি: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না অথবা অফিস ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন ।এই অনিয়মিত উপস্থিতির প্রতিবাদে এবং তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছেন ।   রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন বরখাস্ত বা স্থায়ী অপসারণ) নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে: দুদকের তদন্ত: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় । দুদক বর্তমানে এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গণশুনানিতে তাকে ডাকা হয়েছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি: এলজিইডির সদর দপ্তর এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় । বদলির সম্ভাবনা: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ এবং মানববন্ধন হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা বদলি করার একটি গুঞ্জন বা প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়নি । বর্তমানে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন, তবে ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং ঘুষের অভিযোগের কারণে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন । মানববন্ধনের সংবাদ: গত বছর রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ তার অপসারণ এবং দুর্নীতির বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এই সংবাদটি বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিও প্রতিবেদন: স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মানববন্ধনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো (যেমন- ৫% থেকে ১৫% কমিশন বাণিজ্য) নিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন ।   অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে থাকার পেছনে বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কথা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও জনগণের আলোচনায় উঠে এসেছে: ১. বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে যে, তিনি এখনো সেই রাজনৈতিক বলয়ের পরামর্শ এবং আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করছেন । ২. ঊর্ধ্বতন মহলের যোগসাজশ: ঠিকাদারদের দাবি, তিনি যে ঘুষ ও কমিশনের টাকা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই "কমিশন চেইন" বা সিন্ডিকেটের কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে মনে করা হয় । ৩. প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র: তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির সুযোগ নিয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ লোপাট করার মতো প্রশাসনিক শক্তিও তিনি ব্যবহার করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ৪. ঠিকাদার সিন্ডিকেট: উপজেলার কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সাথে তার ব্যবসায়িক গোপন আঁতাত রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের স্বার্থেই তাকে ওই পদে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সারসংক্ষেপে, রাজনৈতিক মদত এবং দাপ্তরিক দুর্নীতির সিন্ডিকেটই তার প্রধান শক্তির উৎস বা "জোড়" হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হয়।   রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ (অক্টোবর ২০২৫) ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের ১৮৬তম গণশুনানিতে অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় । অভিযোগের ধরণ: ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ব্রিজের কাজ দেড় বছরেও শুরু না করা, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমিশন দাবির বিষয়গুলো শুনানিতে উঠে আসে । তাৎক্ষণিক নির্দেশনা: শুনানিতে উপস্থিত দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন । ২. এলজিইডিতে দুদকের বিশেষ অভিযান (এপ্রিল ২০২৫) এর আগে ২০২৫ সালে অভিযান চালায় দুদক এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়। সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে যা বর্তমানে দুদকের কেন্দ্রীয় ল্যাবে বিশ্লেষণাধীন রয়েছে । ৩. বর্তমান অবস্থা (মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী: স্থবিরতা: ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ফলে কমিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । তদন্ত কার্যক্রম: তবে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (পিরোজপুর) থেকে নিয়মিত রুটিন তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে । ব্যক্তিগত জবাবদিহি: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গণশুনানিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অভিজিৎ মজুমদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে । দুদকের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিক মামলার  জন্য আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অভিজিৎ মজুমদারের যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ দাপ্তরিক নথিতে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদ এবং প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে (২০২২ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ পর্যন্ত) রাজাপুরে কর্মরত আছেন। তার কর্মকাল নিয়ে প্রাপ্ত কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ২০২২ সাল থেকে অবস্থান: ঝালকাঠি জেলা এলজিইডির বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্প: তার সময়েই ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বড় বড় প্রকল্পগুলো (যেমন- ৪ কোটি টাকার আরসিসি ব্রিজ) অনুমোদিত ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে । বর্তমান সময়: তিনি এখনো (মার্চ ২০২৬) রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । সাধারণত উপজেলা পর্যায়ে একজন প্রকৌশলীর মেয়াদকাল ৩ বছর হয়ে থাকে, যা তিনি ইতিপূর্বেই পূর্ণ করেছেন। তার এই দীর্ঘ অবস্থানের কারণেই স্থানীয় ঠিকাদার ও জনগণের মধ্যে তার "প্রভাব" নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে যে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুতর হলো বিআরবি (BRB) প্রকল্পের আওতাধীন উন্নয়ন কাজসমূহ। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প (সবচেয়ে আলোচিত) প্রকল্পের স্থান: রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। বরাদ্দের পরিমাণ: ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা । অভিযোগ: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুদকের গণশুনানিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ও বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি এবং যোগসাজশ রয়েছে । ২. রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ অভিযোগ: উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা এবং ছোট কালভার্ট মেরামতের কাজে নিম্নমানের খোয়া, পাথর এবং বালু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন [১.৫.১]। নির্দিষ্ট এলাকা: উপজেলার মঠবাড়ীয়া এবং বড়ইয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়রা তুলেছেন । ৩. খাল খনন ও ড্রেনেজ প্রকল্প অভিযোগ: সম্প্রতি রাজাপুরে একটি খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্পের কমিটি গঠনে এবং কার্যাদেশে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । ৪. জামানত ও বিল অবমুক্তি প্রক্রিয়াগত দুর্নীতি: কোনো সুনির্দিষ্ট একটি প্রকল্প নয়, বরং উপজেলার প্রায় প্রতিটি শেষ হওয়া প্রকল্পের ঠিকাদারদের জামানত (Security Deposit) ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ৩% থেকে ১৫% পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে বিল আটকে রাখা বা নথিতে ত্রুটি দেখানোর অভিযোগও সুনির্দিষ্টভাবে সংবাদে এসেছে । বর্তমানে দুদক এই ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প এবং অন্যান্য ছোট প্রকল্পের নথিপত্র তলব করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ।   রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে আলোচিত প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তদন্তের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্রিজ প্রকল্পসহ (মডেল মসজিদ থেকে নাপিতের হাট পর্যন্ত) অন্যান্য কাজে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছে: চয়ন অ্যাসোসিয়েটস: এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আহলান সুমন তালুকদার-এর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি সরাসরি রাজাপুরের এই নির্দিষ্ট ব্রিজের কাজ কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এলজিইডির বিভিন্ন বড় প্রকল্পে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে । স্থানীয় সিন্ডিকেট: সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজাপুরের অনেক কাজ স্থানীয় একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের সাথে প্রকৌশলীর বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু না করে অর্থ লোপাট বা বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে । ২. তদন্তের বর্তমান পর্যায় (মার্চ ২০২৬ আপডেট) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে তদন্ত বর্তমানে কয়েকটি স্তরে চলমান: দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর দুদক তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত (Special Inquiry) শুরু করেছে । নথিপত্র যাচাই: দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজ শুরু না হওয়ার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের পর, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলকেও (Vigilance Cell) রাজাপুরের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন (Under Investigation) পর্যায়ে আছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলছে, যা শেষ হলে চার্জশিট বা মামলা দায়েরের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে । প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ: ১. দুদকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান শুরু: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানির পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান (Inquiry) শুরু হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদ: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নথিপত্রসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বর্তমানে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের কোনো উৎস আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২. বিভাগীয় তদন্ত ও শোকজ প্রাথমিক প্রতিবেদন: এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে । শোকজ (Show Cause): নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু না করা এবং আর্থিক অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। ৩. প্রশাসনিক অবস্থা ওএসডি বা বদলির প্রস্তাব: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও তীব্র গণঅসন্তোষের কারণে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রশাসনিক সুপারিশ জেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । তবে ২০২৬ সালের মার্চের শুরু পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই পদেই বহাল আছেন বলে জানা গেছে।   টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তাদের দাবি, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কাজ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “টেন্ডার জমা দিলেও অনেক সময় কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে কে কাজ পাবে।” ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। অভিযোগ অনুযায়ী কমিশনের হার: ওয়ার্ক অর্ডারে ৩% থেকে ৫% বিল পাসে ৫% থেকে ৭% জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে ৩% থেকে ১৫% ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব কমিশন না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বা নথিতে ত্রুটি দেখানো হয়। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পের বিল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে।   অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: তিনি অনেক দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে আসেন না অনেক সময় অফিস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলে অনেক সময় রিসিভ করেন না অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে অবস্থান করেন।   ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিল বা জামানতের টাকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কমিশন না দিলে: বিল আটকে রাখা নথিতে ত্রুটি দেখানো অতিরিক্ত যাচাইয়ের নামে বিলম্ব করা এসব কারণে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।   মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অভিজিৎ মজুমদারের অপসারণের দাবিতে রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন: উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে প্রকৌশলীকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এই কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।   দুদকের তদন্তের বর্তমান অবস্থা ২০২৫ সালে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর অংশ হিসেবে: রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয় প্রকল্পের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত এদিকে এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে: প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এর ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বদলির আলোচনা স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ এবং মানববন্ধনের পর প্রশাসনিকভাবে তাকে অন্যত্র বদলি করার প্রস্তাব জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সব প্রকল্প সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।”   সামনে কী হতে পারে দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে: মামলা দায়ের বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পদের হিসাব যাচাই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত স্থানীয় সরকার খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে তিনি দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক স্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্পের গড়িমসির বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় বড় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
রাঙ্গাবালীতে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রাঙ্গাবালীতে ৪ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে মানহীন নির্মাণ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
মহারাজ-মিরাজ
কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট  *  মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু   পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আনোয়ারুল ইসলাম
এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে

মামুনুর রশীদ নোমানী: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত অফিস করছেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ নিয়ে সহকর্মীদের মাঝেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।  স্বৈরশাসক হাসিনা পালালেও তার দোসর এলজিইডির লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী  শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট। সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে।আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন  আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল । বিপুল সম্পদের অভিযোগ সূত্র মতে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে— স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় ময়মনসিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি একটি বহুতল ভবনে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্যবান জমি ব্যক্তিগত দামী গাড়ি ব্যবহার স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুদকের মামলা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান থাকলেও তা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হবে। আত্মগোপন ও সম্পদ পাচারের আশঙ্কা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আনোয়ারুল ইসলাম মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া, সম্প্রতি তার বড় ছেলেকে উচ্চ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের দাবি সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0