ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। সাধারণ আসনে প্রাপ্ত সংখ্যার ভিত্তিতে দলটি প্রায় ৩৫টি নারী আসন পাচ্ছে। একই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি আসন। এতেই সংরক্ষিত নারীর আসনের সিংহভাগই যাবে বিএনপির ঝুলিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসন ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া যায়। সংরক্ষিত নারী আসনের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদে প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে প্রতিটি দলের নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত প্রাপ্ত আসন সংখ্যা × ৫০ ÷ ৩০০—এই সূত্রে নারী আসনের হিসাব করা হয়। সাধারণ আসনে কারা কতটি আসন পেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল পেয়েছে ১টি করে আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন। আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকায় এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-১ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে। জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ আসন বা ৩৫টি আসন পাবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে (যদি জোট করে) । জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন। অন্য ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট না করলে কোনো আসন পাবে না। তবে জোট করলে পাবে ১টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপির আরো একটি আসন বেড়ে দাঁড়াবে ৩৬টি। আবার জোটগত ভাবে যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপি ৩৫ টি আসনই পাবে। তবে জামায়াতের দুটি আসন বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ টি হবে। দল/জোট নারীর আসন (আনুমানিক) বিএনপি ৩৫–৩৬টি জামায়াতে ইসলামী ১১–১৩টি জাতীয় নাগরিক পার্টি ১টি স্বতন্ত্র/ছোট দল (জোট করলে) ১টি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের নারী সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোট হয় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে। ওই আসনে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচন পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় পার্টিসহ ৪১ টি দল কোনো আসন পাইনি।
তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন দল দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় নিশ্চিত করে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তিনি। শনিবার আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফেরানো, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারসহ নানা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বেও বেশিরভাগ উত্তরে সংক্ষিপ্ত অবস্থান তুলে ধরা হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে” ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে”। এদিকে বিএনপি সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা অব্যাহত রাখবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। আইনশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান দেশে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে—এ বাস্তবতায় রাজনৈতিক মিটমাট বা সমাধানের পরিকল্পনা কী—এ প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে” সমস্যার সমাধান হবে। তিনি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রসঙ্গে অবস্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “এটি বিচার বিভাগের বিষয়।” বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইনসভার কাজ থেকে পৃথক রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, আদালতসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: “সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” ভারতীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” অনুসরণ করা হবে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যোগ করেন, এই সম্পর্ক হবে “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং কৌশলগত স্বশাসনের ভিত্তিতে।” চীনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হয়—বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির স্বার্থই হবে সিদ্ধান্তের মূল বিবেচ্য বিষয়। বিজয় মিছিল নয়, শান্ত উদযাপন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পরও সারাদেশে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, এজন্য... বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয় উৎসব পালন করেছি।” তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড “বরদাশত করা হবে না”। ৩১ দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার লিখিত বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার বিএনপির ৩১ দফা পরিকল্পনা বা নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উঠে আসে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার গঠন করলে ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোই বাস্তবায়নের ভিত্তি হবে। অর্থনীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বিগত সরকারের সময় অর্থনীতিতে ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, “সবাই সবার যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার মতো করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।” ক্রিকেট ও রাজনীতি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবাদিক জানতে চান—ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে কি না। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপি নেতারা। প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইনশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি ও ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েই শুরু হলো সম্ভাব্য নতুন সরকারের পথচলা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরুর কথা। তবে সময়ের আগে থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পুরুষ কেন্দ্রে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসতে পেরে ভোটারদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। অনেকদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা, কুশল বিনিময়– এ যেন নবীন-প্রবীণদের এক মিলনমেলা। একে একে বৃদ্ধ, যুবক ও তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন।কেন্দ্রের ভেতরে ছিল নীরব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থকরা নিজস্ব বুথ বসিয়ে ভোটারদের ভোটার নম্বর সংগ্রহ করে দিচ্ছেন। ভোটাররা সেখানে গিয়ে সিরিয়াল নম্বর জেনে দ্রুত লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।বৃদ্ধ ও অসুস্থ ভোটারদের স্বেচ্ছাসেবকরা যত্নের সঙ্গে কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে সকালেই ভোট দিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে চান। তবে বেশির ভাগের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার আনন্দ ও অভিজ্ঞতা। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবদুল গনি বলেন, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোট দেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতেই অসুস্থ শরীর নিয়েও আমি কেন্দ্রে এসেছি। হয়ত এটাই আমার জীবনের শেষ ভোট দেওয়া। দীর্ঘদিন পর এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সত্যি ভীষণ ভালো লাগছে। বৃদ্ধ আবদুল কাদের বলেন, অনেক বছর পর নিজের ভোট দিতে এসে খুব ভালো লাগছে। সকালেই চলে এসেছি, যেন নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারি। হাফেজ রাকিবুল ইসলাম শায়েখ বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছি। এর আগে পরিবেশ ভালো ছিল না, তাই ভোট দিতে আসিনি। ভোটের এমন সুষ্ঠু পরিবেশ অনেক বছর পর দেখছি। আমার মতোই সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে এসেছে। এটা সত্যিই উৎসবের মতো লাগছে। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কেউ বিরক্ত না। সবাই শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। আজকের ভোটটি এনজয় করছি। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কেন্দ্র প্রিজাইডিং অফিসার আবু সাঈদ জানান, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। দিনভর এই উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর প্রথম এই নির্বাচনটি অনেক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন নেতাই প্রথমবারের মতো দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাবার জন্য এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়ছেন। তাদের মধ্যে একটি দল জামায়াতে ইসলামী এই প্রথমবার নির্বাচনের একটি প্রধান দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আর এটি অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন জাতীয় নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে দেশটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার পর থেকে সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা- দুজনকে ছাড়াই এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মত ভোটে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। তার দল বিএনপি দুই মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল এবং আকারে এবং কর্মী সংখ্যার দিক দিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বড় দল হিসেবেই পরিচিত। যদিও দেশটিতে গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত এবং অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় ২০২৬ সালের এই জাতীয় নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিকারী দল দুটির ভোটের মাঠে সমর্থন কতটা, পূর্ববর্তী ভোটের হিসেবে সেটি বিচার করাও কঠিন। নানা জ্বল্পনা-কল্পনা এবং আশঙ্কা কাটিয়ে যে নির্বাচন বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে সেটিতে কারা ক্ষমতায় আসছে এবং কতটা জনসমর্থন নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসছে তার ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করবে। গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মত অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জই নয়, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে সেই নতুন সরকারকেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং সমাজে যেসব সংস্কার বা পরিবর্তনের কথা বারবার উঠে আসছে সেটিও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে এ সরকারের ওপরেই। ফলে ভোট শেষে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন অনেক প্রথমের এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশের জন্য আরো অনেক ‘প্রথম’ অপেক্ষা করবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে জড়ো হচ্ছেন অনেক মানুষ।আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।ভোটের দিন সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখছেন বিবিসি সংবাদদাতারা। তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা কেন্দ্রে হাজির রয়েছেন এবং সারারাত ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারায় ছিলেন। ঢাকার মনিপুর এলাকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। পুরুষ ও নারী ভোটারদের লম্বা লাইন স্কুলের গেইট পার হয়ে ফুটপাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটাররা কেন্দ্রে আসছে, তবে নারী ভোটার এখনো নেই তেমন একটা। বিএনপি ও জামায়াতের এজেন্টদের কেন্দ্রে দেখা গেলেও অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা-১১ আসনের একটি কেন্দ্র থেকে প্রায় একই পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। তবে সেখানে ধানের শীষ ও এনসিপির পোলিং এজেন্টদের উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে । মহাখালীর বিটিসিএল আদর্শ বালিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বাড়ছে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারও উপস্থিত হয়েছেন ইতোমধ্যে।চট্টগ্রামের কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেও সকাল থেকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। চট্টগ্রামে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বয়স্করাও এসেছেন, তবে তাদের কেউ কেউ বলছেন যে তারা গত ১৭ বছর ভোট দিতে আসেননি, এলেও ভোট দিতে পারেননি। সেখানকার বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোটাররা সকাল সকাল এসেছেন, কারণ তারা মনে করছেন যে বেলা বাড়লে ভোট দিতে দেরি হতে পারে এবং সহিংস পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভীড় করা শুরু করেছে। এই নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে।সাধারণত ৩০০ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি।কারণ শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এসব আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন এবং এদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। আর মোট প্রার্থীদের মাঝে মাত্র ৮৩ জন হলেন নারী। মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন ও স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
বরিশাল-২ আসনের উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর ভোটকেন্দ্র থেকে বাইরে বের হওয়ার অভিযোগে দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন- ওবায়দুল ও আয়েশা বেগম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপজেলার হাবিবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ওবায়েদুল ও আয়েশা বেগম নামের দুই শিক্ষক। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে কোনও কিছু না বলেই তারা ওই কেন্দ্র থেকে বের হন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার উপজেলা জামায়াতের আমিরের বাসায় গিয়ে গোপন বৈঠক করেন। ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দুই জনকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী সুজাকে খবর দেন। অভিযোগ পেয়েই ওই দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করে নতুন দুই জনকে তাদের স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দুই সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার জামায়াতের উপজেলা আমিরের বাসায় বৈঠক করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা খাবার খেতে বাইরে গিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাদের বহিষ্কার করে নতুন দুই জনকে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি না নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার নিয়ম নেই। অভিযুক্তরা সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর অভিযোগ ওঠার কারণে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরে নির্বাচনের উত্তপ্ত মুহূর্তে ব্যাগভর্তি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ লাখ টাকাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল করিম ওরফে কাজল মৃধা (৪০)। তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে গুছানো অবস্থায় বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের এত কাছ থেকে রাতের বেলায় এত বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কাজল মৃধার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি নিজেকে কলাপাড়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যদিও এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না। অন্যদিকে আটক কাজল মৃধা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বহন করা হচ্ছিল। তবে কী প্রয়োজনে, কোথা থেকে এই টাকা এসেছে এবং কেন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে তিনি অবস্থান করছিলেন—এসব প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনো পর্যন্ত আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। কোস্টগার্ড প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ভোটকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকা থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা ভোট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ভোট প্রভাবিত করা, ভোটার প্রলুব্ধকরণ কিংবা সংঘাত উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে টাকার উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা জড়িত—তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের ভূমিকা যেমন প্রশংসা পাচ্ছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে নজরদারির বাইরে থেকে ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি পৌঁছাল? ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো কলাপাড়া।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন৷ সাক্ষাৎকারে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন৷ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি - দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান৷ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর তারা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদী তিনি। এ ছাড়া ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও জানান তারেক রহমান। এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।’ এ ছাড়া ১৭ বছর পর দেশে ফেরে কেমন চ্যালেঞ্জ ফেস করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত বছর পর এসেছি, আসার পর মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয়। তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিষয় রাখা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ইশতেহারে সমাজের তরুণদের জন্য, বয়স্কদের জন্য, দেশের ৪০ লাখ প্রতিবন্ধীদের জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, কর্মসূচি রেখেছি। বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য এই পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।’ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যে কোনো দেশের সাথেই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে।’ বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন করবেন কিনা- এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। কারণ কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয়, অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?’ দেশের মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও নারীদের অবদান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে বিএনপির ভাবনা কি? এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাশ ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারীসমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ৷ অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলে ন৷ আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এ শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাশ পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব।’ এছাড়া দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে প্রথমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা ও স্বাবলম্বী করার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন তারেক রহমান। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও দলটি নিষিদ্ধের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ আগস্ট যার উদাহরণ।’ দলের প্রার্থীদের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ এবং বিএনপির ইশতেহারে দুর্নীতি দমনের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লক্ষ নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার মামলা দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে আছে, যারা ব্যবসাবাণিজ্য করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে৷ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসাবাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদের দেওয়া হয়নি। কাজেই এ রকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোক, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এ রকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি এবং ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।’ ১৫-১৬ বছরে গুম-খুনের বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে সহায়তার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীরা যে রকম গুম-খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা আমাদের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, তারা গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন, যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না, কিন্তু তারা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না- এটি তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী মাঠে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী উপকূলীয় পাঁচ জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার সদস্য এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও যেসব বাহিনী কাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে— বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি): ৩৭,৪৫৩ জন কোস্ট গার্ড: ৩,৫৮৫ জন পুলিশ: ১,৮৭,৬০৩ জন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব): ৯,৩৪৯ জন আনসার বাহিনী: ৫,৬৭,৮৬৮ জন বিএনসিসি: ১,৯২২ জন এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহায়তা করছে। নির্বাচনী অপরাধ দমনে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন— ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১,০৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩০০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ইসি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ৪৬৮টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের কাছ থেকে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত বিচারে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় আগত ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, ব্যাপক নিরাপত্তা, কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে এবারের গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ।
ভোটের প্রচারণায় টাকা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতির পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থায়ও তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক তৎপরতা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার প্রবাহ দ্রুত বাড়ছে। নির্বাচনি প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের নানা ব্যয় মেটাতে প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পথে হাঁটছেন— যার স্পষ্ট প্রতিফলন মিলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসে— ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে এই অঙ্ক ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসেই নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে নগদ টাকা উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রার্থীরা প্রচার ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন বলেই এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বড় ও সন্দেহজনক লেনদেন নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিকভাবে এসব লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে। হঠাৎ উল্টো স্রোত এই নগদ প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগের কয়েক মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই অঙ্ক প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা কমে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, নির্বাচনি ব্যয়ের কারণেই হঠাৎ এই উল্টো স্রোত তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। কালোটাকার আশঙ্কা ও নজরদারি নগদ টাকার এই দ্রুত বিস্তার কালোটাকার ব্যবহার বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে। সে কারণেই বিএফআইইউ নির্বাচন সামনে রেখে নজরদারি জোরদার করেছে। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনও হিসাবে একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) আকারে জমা দিতে হচ্ছে। রেমিট্যান্সে জোয়ার নির্বাচনের আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক— রেমিট্যান্সে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক প্রবণতা। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। শুধু জানুয়ারিতেই এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। ডলার কিনে টাকার তারল্য রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়ায় ডলারের সরবরাহ ভালো থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এতে টাকার বাজারে তারল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের। ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি নির্বাচনের আগে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে নগদ অর্থের এই অদৃশ্য দাপট গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কঠোর নজরদারি ও ভোটারদের সচেতনতাই পারে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মীকে ও ১৭ বছর মাঠে ময়দানে কাজ করা ব্যক্তিকে যদি বিএনপির লোক মনে হয় তাহলে আমাকে ঘোড়া মার্কায় একটি ভোট দেবেন। মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এমন মন্তব্য করেন হাসান মামুন।পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির আসন সমঝোতায় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নুর প্রসঙ্গে হাসান মামুন বলেন, বিগত দিনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিল তাদের মধ্যে ভিপি নুর অন্যতম। তিনি বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করেছিল। হাসান মামুন বলেন, ৫ আগস্টের পর গণঅধিকার পরিষদের হাতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী (নির্বাচনি এলাকায়) আহত হয়েছেন। বিএনপির সমালোচনা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে নুর এখন বিএনপির দরদী সেজেছেন।তিনি বলেন, নুর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের জন্য রাজপথ অবরোধ করেছিলেন। এখন আবার আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে চান।নির্বাচনি পথসভায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের অংশ হিসেবে বুধবার বরিশাল ও ফরিদপুর সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সকাল ১১টায় আকাশ পথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে বরিশালে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর দুপুর ১টায় বরিশাল থেকে আকাশ পথে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। কর্মসূচি শেষে একই দিনে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত বরিশাল দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর বরিশালে তারেক রহমানের সরাসরি রাজনৈতিক উপস্থিতিকে ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিতব্য জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্রুতগতিতে মঞ্চ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। মাঠের সামনের অংশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে মঞ্চের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। শ্রমিকরা একটানা কাজ করে যাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, এই জনসমাবেশ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি দলের জন্য নতুন উদ্দীপনা ও আবেগের প্রতীক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে এটিকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনি জনসমাবেশ হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতি ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন জানান, জনসভা শুরু হবে সকাল ১১টায়। সমাবেশ শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর হেলিকপ্টারযোগে সভাস্থলে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। মূল কর্মসূচি শেষে একইভাবে বরিশাল ত্যাগ করবেন তিনি। সফরকালে কোনো পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি। ধারাবাহিক প্রচারণা এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। ওইদিন তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সমাবেশে অংশ নেন। ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোনাগাজী, দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি সমাবেশ করেন। পরে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা পর্যন্ত একাধিক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। ২৯ জানুয়ারি উত্তরাঞ্চল সফরে রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভা শেষে ঢাকায় ফেরেন। সর্বশেষ সোমবার খুলনা ও যশোরে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শীর্ষ দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়, “খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, ৬০ বছর বয়সী মি. রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।” বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক ‘বিপ্লব’-এর পর এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’ আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে, যাকে সাময়িকীটি ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, এই নির্বাচন গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ তৈরি করবে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই পূর্বাভাস এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একই ধরনের বিশ্লেষণের ধারাবাহিকতায়। সাময়িকীটি ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্য বর্ণনা করে জানায়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। ফলে বাসটি কয়েক মাইল ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হয়, যেন অপেক্ষমাণ সমর্থকেরা তাকে কাছ থেকে দেখতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএস-এর গবেষক শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “আমার জীবনের দুই দশক ধরে আমার ভোটের কোনো মূল্য ছিল না।” তিনি জানান, বর্তমানে রাজধানীর রাস্তাঘাটজুড়ে আবারও নির্বাচনী ব্যানার দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচন তত্ত্বাবধান করাই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষের মতে, এই সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে সহায়ক হবে। এর মধ্যে রয়েছে—নতুন একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা। জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, দলটি সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দলটি নির্বাচনে একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদ পরিচালনার মতো অভিজ্ঞতা তাদের আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাময়িকীটি। এই প্রেক্ষাপটে দ্য ইকোনমিস্ট মন্তব্য করেছে, “এই পরিস্থিতি তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে,” কারণ জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। সাময়িকীটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বিএনপি দীর্ঘদিন তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে। দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, নির্বাচিত হলে তারেক রহমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমান মনে করেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। তার ভাষায়, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বেশ বাস্তববাদী এবং একজন ব্যবসায়ী।” সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচার হতে হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না। দ্য ইকোনমিস্টের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন—লন্ডন থেকে ফিরে আসা তারেক রহমানকে আগের চেয়ে ভিন্ন ও আরও সংযত মনে হচ্ছে, যদিও অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই এখনো ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।