Brand logo light
রাজনীতি

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের বার্তা:আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
তারেক রহমান

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন দল দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় নিশ্চিত করে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন তিনি। শনিবার আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দেশে ফেরানো, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারসহ নানা ইস্যুতে প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারেক রহমান। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বেও বেশিরভাগ উত্তরে সংক্ষিপ্ত অবস্থান তুলে ধরা হয়।


শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে”

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে “আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে”।

এদিকে বিএনপি সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা অব্যাহত রাখবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।


আইনশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান

দেশে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে—এ বাস্তবতায় রাজনৈতিক মিটমাট বা সমাধানের পরিকল্পনা কী—এ প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে” সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন সংঘাতে রূপ না নেয়।


আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রসঙ্গে অবস্থান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এটি বিচার বিভাগের বিষয়।”

বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইনসভার কাজ থেকে পৃথক রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, আদালতসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: “সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি”

ভারতীয় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি” অনুসরণ করা হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যোগ করেন, এই সম্পর্ক হবে “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং কৌশলগত স্বশাসনের ভিত্তিতে।”

চীনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরা হয়—বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির স্বার্থই হবে সিদ্ধান্তের মূল বিবেচ্য বিষয়।


বিজয় মিছিল নয়, শান্ত উদযাপন

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পরও সারাদেশে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন,

“কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে, এজন্য... বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয় উৎসব পালন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড “বরদাশত করা হবে না”।


৩১ দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

লিখিত বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিকবার বিএনপির ৩১ দফা পরিকল্পনা বা নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উঠে আসে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার গঠন করলে ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোই বাস্তবায়নের ভিত্তি হবে।


অর্থনীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিগত সরকারের সময় অর্থনীতিতে ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন,

“সবাই সবার যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার মতো করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।”


ক্রিকেট ও রাজনীতি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবাদিক জানতে চান—ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা হবে কি না। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপি নেতারা।


 

প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান ও বিএনপি নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইনশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতি ও ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দিয়েই শুরু হলো সম্ভাব্য নতুন সরকারের পথচলা।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

View more
ঝিনাইদহে পাটওয়ারীর ওপর হামলা: রাজনৈতিক উত্তেজনা, অস্ত্রধারী বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডিম নিক্ষেপ, ইটপাটকেল ছোড়া, মারধর এবং পরবর্তীতে অস্ত্রধারী দুই যুবকের উপস্থিতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার দাবি পাওয়া গেছে। ঘটনার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ–এর সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিছুক্ষণ পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে তাকে ঘিরে কিল-ঘুসি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। পরে নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে মসজিদ এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। হামলার পর ডিমে ভেজা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন পাটওয়ারী। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। “পুলিশও হামলাকারীদের সঙ্গে ছিল”—পাটওয়ারীর অভিযোগ সদর থানায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের একটি অংশ একই অবস্থানে ছিল। তার ভাষায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের “ইন্ধন” ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা ইস্যু, ধর্ষণবিরোধী বক্তব্য এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভীত নই। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।” অস্ত্রধারী দুই যুবক: নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা দুই যুবকের ছবি। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অস্ত্রধারী দুজন হলেন সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের আশিক এবং মাস্টারপাড়ার সিয়াম। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি ফেসবুক পোস্টে তাদের “শিবিরকর্মী” হিসেবে আখ্যা দেন। তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী “মব তৈরি করতে” ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ছাত্রদলের পাল্টা অবস্থান বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং শাহেদ আহমেদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করাকে “অপপ্রচার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। রাজনৈতিক বার্তা নাকি মাঠ দখলের লড়াই? বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবং ঐতিহ্যগত বিরোধী রাজনৈতিক বলয় বিএনপি-ছাত্রদলের মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জনসমর্থন নিয়ে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে “মব পলিটিক্স”, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উসকানি এবং সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগ—এসব বিষয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি কারা এবং তারা কার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে কী ভূমিকা পালন করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা কতটা রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

আমির হামজা

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল

পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, বিএনপি নেতা ও যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৩

হারুনুর রশীদ
চেক জালিয়াতি মামলায় জামায়াত নেতা হারুনুর রশীদ গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরে ৭৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এরশাদ আলী নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা ধার নেন হারুনুর রশীদ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এরশাদ আলী জামালপুর আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত হারুনুর রশীদকে ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে জামালপুর পৌর এলাকার সরদারপাড়া থেকে হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে মেলান্দহ থানায় নেওয়া হয়। ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার তাকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

বিএনপি

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, নতুন নেতৃত্বে স্থবিরতা

মনিরা শারমিন

মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল: ইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয়—হাইকোর্টের রুল

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগের ‘পুনর্বাসন’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা’ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদে কথিতভাবে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যের এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ সামনে আসে এবং তা দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন এমন ব্যক্তি স্থান পেয়েছেন, যাদের অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে ছবি, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে এমন সংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা “অবাক করার মতো সিদ্ধান্ত”। তাদের মতে, এটি সংগঠনের অভ্যন্তরে আস্থার সংকট তৈরি করেছে এবং অনেকেই বিষয়টিকে “ছাত্রলীগের পুনর্বাসন” হিসেবে দেখছেন। অভিযোগকারীদের তালিকায় থাকা কয়েকজন নেতার মধ্যে রয়েছেন—৪ নম্বর সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, ২২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদুল ইসলাম, ১১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন, ১২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান, ২০ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নুর কাফি, ৫ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, ৯ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিতম দাস, ১০ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর। এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত দাবি করেন, বিতর্কিত সংশ্লিষ্টতার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নতুন কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের মধ্যে কেউ অন্য রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও “বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের” কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এদিকে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্যের ঘাটতি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভাজন ও সাংগঠনিক অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
এনসিপি

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির

তোফায়েল আহমেদ

তোফায়েল আহমেদসহ দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সমস্যা ও অনিয়মের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকদের সহায়তা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0