ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং(আইআরআইবি)। সোমবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত “ট্রাম্পের লোভের কাছে ইরানের নতি স্বীকার” করানোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো পাল্টা জবাবে “ইরানি জাতির মৌলিক অধিকার” রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সমঝোতার দর–কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে—যদিও বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অগ্রগতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক বিরতি চলছে। এরপর থেকে বিভিন্ন টানাপোড়েন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে মূল বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশেষ করে প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তার সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। তবে ইরান এতে সম্মত নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে এখন আলোচনা চলছে—উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা। অর্থ ফেরত ও শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান দাবি করে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি মধ্যবর্তী অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা আলোচনার অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সমঝোতার খসড়া ও সময়সীমা খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়। এখন এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি হলে ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণকাল শুরু হবে। এই সময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হুমকি, সতর্কবার্তা ও কূটনৈতিক চাপ চুক্তি না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হবে।” অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি এমপি ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমেও তা পাবে না। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও ও নাসডাক সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো অজানা স্থানে রয়েছে। এই মজুদ ব্যবহার করে তেহরান স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিড হ্যামার’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ধারণা করেছিল, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক দুই মাসের সংঘাত সেই সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সামরিক হামলা ও সীমিত প্রভাব নতুন দফার এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হন। ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে। তবুও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা অব্যাহত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বেড়েছে। কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।” পেন্টাগনের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান চাইলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। জুনে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান স্থাপনায় হামলার পর এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ৯ মাস থেকে এক বছর ধরা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে সংরক্ষিত রয়েছে। পুরোপুরি সমৃদ্ধ করা গেলে এই মজুদ দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বেশি লক্ষ্য করেছে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সরাসরি প্রভাব সীমিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের মূল শক্তি এখনো তাদের পারমাণবিক উপাদান। এগুলো এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি দ্রুতগামী গানবোট ধ্বংস করেছে, যা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে করা হয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরাসরি উদ্ধার করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও গোপন কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান নতুন করে রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মুদ্রা-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও অ্যালান্ডচান্ডের তথ্য অনুযায়ী, খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৮ লাখ ইরানি রিয়াল। এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হয়, তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। সেই তুলনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে রিয়ালের মান আরও অবনতি হয়েছে। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিক বিনিময় হার নির্ধারণ করে থাকলেও বেসরকারি বাজারের এই হার বাস্তব লেনদেনে বেশি প্রতিফলিত হয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে রিয়াল সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি এক টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ইরানি রিয়াল। তবে স্থানীয় বাজারে এই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা অত্যন্ত কম। এমনকি ১৪ হাজার রিয়াল দিয়ে একটি পানির বোতলও কেনা সম্ভব নয়; সর্বোচ্চ একটি ছোট চকলেট কেনা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব রিয়ালের দরপতনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ছিল ইরান। তবে এর আগ থেকেই দেশটির মুদ্রার মান নিম্নমুখী ছিল। এ সময় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের ফলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই চাপ রিয়ালের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ নবাবিয়ান শনিবার এক বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে এর প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।” তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পথে এগোতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি হামলা হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলের তেল উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” সম্ভাব্য সংঘাতে অবকাঠামোগত বড় ক্ষতি এবং ব্যাপক জনবসতি উচ্ছেদের আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি। উত্তেজনার পটভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা বললেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে, তাদের শত্রু হিসেবে দেখা হবে। নেতৃত্বে গোপনীয়তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গোপন অবস্থান থেকে দেশ পরিচালনা করছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নিরাপত্তার কারণে এখনো তার কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তার নির্দেশনা লিখিত আকারে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত কারণে তিনি নিজেকে জনসমক্ষে আনছেন না। সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক দাবি করেছেন, দেশের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনো অক্ষত রয়েছে। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার খুবই সীমিত অংশ ব্যবহার করেছে। দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে এক হাজারেরও বেশি ধরনের সমরাস্ত্র উৎপাদন করছে এবং এই উৎপাদন কাঠামো বিকেন্দ্রীকৃত হওয়ায় কোনো একটি স্থাপনায় হামলা হলেও সামগ্রিক সক্ষমতা ব্যাহত হবে না। হরমুজ প্রণালি: কৌশলগত হাতিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তেহরানের দাবি, এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তাদের একটি বড় কৌশলগত সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সামরিক শক্তি ও ভৌগোলিক অবস্থান—উভয়কেই কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক মুখোমুখি অবস্থান আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানে জাহাজ জব্দ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরান থেকে তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি রাষ্ট্রহীন তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জাহাজটির নাম এম/টি *ম্যাজেস্টিক*। স্থানীয় সময় ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাহাজটি কোনো স্বীকৃত জাতীয়তার অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল না এবং ইরান-সম্পর্কিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে—এমন জাহাজ ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটক করেছে, যদিও এসব অভিযান মূলত ইরানের উপকূলবর্তী জলসীমার বাইরে, ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে ২১ এপ্রিল এম/টি *টিফানি* নামের আরেকটি জাহাজ জব্দের কথাও জানায় পেন্টাগন। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ জব্দ অন্যদিকে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ভারতমুখী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ—‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’—জব্দ করেছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম নূর নিউজ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগতির স্পিডবোট জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সশস্ত্র নৌসদস্যরা জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী: * ‘ইপামিনোন্ডাস’ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির দিকে গুলি ছোড়া হয় * ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সম্পর্কিত মালিকানাধীন * জাহাজগুলো নৌ-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করছিল তারা আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ম ভঙ্গ বা নিরাপদ নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নির্দেশনা এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেন— মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো নৌযানকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে ধ্বংস করতে হবে। তিনি আরও জানান: * মাইন অপসারণ কার্যক্রম তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে * প্রণালিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। জাহাজ জব্দ, সামরিক সতর্কতা এবং সম্ভাব্য মাইন সংকট—সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সামরিক চাপে পড়েছে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের তথ্য এই বিতর্ককে আরও জোরালো করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে দেশটি স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হামলার হুঙ্কার ছেড়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক রুদ্ধদার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে কি যুদ্ধাস্ত্রে টান পড়েছে বলেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে। এছাড়া, পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গেও এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এবং পরে তুলনা করলে দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন চুক্তি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র থাকলেও, সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন চীন-এর মোকাবিলায় বর্তমান মজুত যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষণে উলেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্র–জ বিমানঘাঁটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে শর্তাবলি বা রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে না যাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ । ১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না। ২. প্রতারণার আশ্রয় যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না। ৪. নৌ অবরোধ মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে। ৫. যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব দেশ তেল সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে এই ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নতুন করে ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও আর্থিক নেতারা তাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এসব দেশ ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতার ফলে ইরান ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে বলে যে হিসাব প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি। বেসেন্ট এই তথ্যকে কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি এর বিপরীতে ইরান প্রকৃতপক্ষে কত আয় করেছে, সেটির কোনও বিকল্প হিসাব দেননি তিনি।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে এখন এক নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি, অন্যদিকে তেহরানের ‘টিকে থাকার’ রণকৌশল। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কি ওয়াশিংটনকে আরেকটি ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এক নিবন্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা বলা জয়কে আরও কঠিন করে তোলে। ইতিহাসের প্রতিধ্বনি: ভিয়েতনাম ও ইরাকের ছায়া ইতিহাস সাক্ষী, ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চরম মূল্য দিতে হয়েছিল মার্কিনিদের। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কতা কানে তোলেননি। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, ইরান চাইলে হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে; কিন্তু অতি-আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন বিশ্ব অর্থনীতি সেই ভুলের মাশুল দিচ্ছে। নিবন্ধে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লিন্ডন জনসন বা জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো ট্রাম্পকেও হয়তো একদিন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যার জন্য ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে। কারণ, যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন হাজার হাজার সেনার জীবন এর সঙ্গে জড়িত। মইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক সামি আল-আরিয়ান মনে করেন, এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লক্ষ্য সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এই অসামঞ্জস্যই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার মূল কারণ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে জায়নবাদী আধিপত্যের পথে বাধা হিসেবে পরিচিত ইরানকে পুরোপুরি নির্মূল করা। কৌশলগত পার্থক্য: ‘ধ্বংস’ বনাম ‘টিকে থাকা’ এর জন্য হয় ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে, না হয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রভাব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর বিপরীতে ইরানের লক্ষ্য অত্যন্ত সহজ। আল-আরিয়ান বলেন, “ইরানকে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে হবে না, কিংবা ইসরায়েলের সরকারকে এই মুহূর্তে ক্ষমতাচ্যুত করারও প্রয়োজন নেই। ইরানের শুধু ‘টিকে থাকা’ প্রয়োজন।” যদি ইরানি রাষ্ট্র কাঠামো অক্ষত থাকে এবং তাদের আঞ্চলিক জোটগুলো সক্রিয় থাকে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষশক্তির মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। কৌশলগতভাবে যার লক্ষ্য যত সহজ, জয়ের সম্ভাবনা তার তত বেশি। যুদ্ধের কৌশলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশপথের আধিপত্যে বিশ্বাসী। তারা মনে করে, বিধ্বংসী বোমা হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে শত্রুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে। অন্যদিকে ইরান বেছে নিয়েছে টিকে থাকার জন্য উত্তেজনার বিস্তৃতি। তারা সরাসরি আমেরিকার আকাশশক্তির মোকাবিলা না করে যুদ্ধের ময়দানকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চাপ সৃষ্টি এবং জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মাধ্যমে তারা এই সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক সংকটে রূপান্তর করছে। পেন্টাগন ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা: আকাশ বনাম বিস্তৃতি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সেথ জি জোনস মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জাপানে বা ফিলিপাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের মতো অন্যান্য প্রতিপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামি আল-আরিয়ান আরও সতর্ক করে বলেছেন, এক অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে কোনও ভুল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের সংঘাত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না; বরং একপক্ষ যখন বুঝতে পারে যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা অসম্ভব, তখনই এর সমাপ্তি ঘটে। আল-আরিয়ান বলেছেন, “ইরান যদি টিকে থাকে, তবেই তাদের জয়। ইসরায়েল হয়তো প্রমাণ করবে যে তারা ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু তারা কাউকে আত্মসমর্পণ করাতে পারে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামে জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং ভারতের কান্দলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা স্বাধীনভাবে এই দাবিটি যাচাই করতে পারেনি, কিন্তু সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রদানকারী সংস্থা মেরিনট্র্যাফিকের সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, জাহাজটি বর্তমানে প্রণালিটিতে চলাচল করছে। মেরিনট্র্যাফিকের মতে, শোজা ২ জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়ে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ‘নেরো’ নামের কেবল একটি ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং দুটি জাহাজ প্রবেশ করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে চারটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন শর্তগুলো কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘোষিত চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, বেসামরিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের আগে আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। চতুর্থত, এই নীতিমালা চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি তাদের হাতেই থাকবে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লেবাননে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব এলাকায় শুধু গোলাবর্ষণই নয়, মেশিনগান থেকেও গুলিবর্ষণ চলছে এবং সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল ও জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমাংশে এসব ড্রোন ও নজরদারি বিমানের উড়াউড়ি লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই ঘোষণা দিলেন—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “প্রায় শেষ”। ফক্স নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: সত্যিই কি যুদ্ধ শেষের পথে, নাকি এটি কৌশলগত বার্তা? যুদ্ধের সূচনা: লক্ষ্য ছিল কী? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও Iইসরায়েল–এর সমন্বিত অভিযানে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয় ব্যাপকভাবে। ওয়াশিংটনের দাবি—এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা থামানো। ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, > “যদি আমরা পদক্ষেপ না নিতাম, ইরানের হাতে এখন পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।” এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও তাৎক্ষণিক অস্ত্র প্রস্তুতির প্রমাণ স্পষ্ট ছিল না। কৌশল নাকি বাস্তবতা? ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা তিনভাবে দেখছেন: মনস্তাত্ত্বিক চাপ: ইরানকে দ্রুত আলোচনায় বসাতে চাপ তৈরি করা। রাজনৈতিক বার্তা: দেশীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী নেতৃত্বের ইমেজ তৈরি। বাস্তব সামরিক অগ্রগতি: যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের ৬ সপ্তাহের পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—যদি যুদ্ধ শেষের পথে হয়, তাহলে কেন এখনো নৌ অবরোধ চলছে? হরমুজে অবরোধ: অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ–অবরোধ জারি করেছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তাৎপর্য বিশাল: * বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায় * ভারতসহ বহু দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে * ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে পড়বে ভেঙে যাওয়া আলোচনা, আবার নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স । তবে সমস্যা একটাই—অবিশ্বাস। ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “পূর্ণ অনাস্থা” প্রকাশ করে আসছে। আর ভ্যান্স নিজেও স্বীকার করেছেন: > “এই অবিশ্বাস এক রাতে দূর করা সম্ভব নয়।” যুদ্ধবিরতি: ভঙ্গুর শান্তি বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এই সময়ের মধ্যে: * নতুন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা * শান্তি চুক্তির চেষ্টা * অথবা আবার সংঘাতের পুনরারম্ভ সবকিছুই অনিশ্চিত। মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়: * লেবানন–এ হামলায় বহু হতাহত * ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি * মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সংকট ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইরান পুনর্গঠনে “২০ বছর” সময় লাগতে পারে—যা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি মানবিক মূল্যকে সামনে আনে। আসল প্রশ্ন: যুদ্ধ শেষ, নাকি নতুন খেলা? ট্রাম্পের দাবি—“যেকোনো সময় চাইলে যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে: * সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি * অর্থনৈতিক অবরোধ চলছে * কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি তাই বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধের শেষ নয়—বরং নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ। এই সংঘাত এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে— যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি এবং ভূরাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্য হয়তো আশার ইঙ্গিত, কিন্তু মাটির বাস্তবতা বলছে— **শেষের আগে এখনো অনেক অধ্যায় বাকি।**
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে সরকারের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আরআইএ নভোস্তি এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমে মোহাজেরানি এই হিসাব তুলে ধরেন। মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের আলোচনাকারী দল যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ বৈঠকেও যা গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি বেশ কয়েকটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইরানকে অনুরোধ করেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল সহজতর করতে। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা-তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বিষয়াবলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশগামী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিবেচনা করার অনুরোধ করেন এবং বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশে ইরানি রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়ে আছে এবং বাংলাদেশি জাহাজও তার মধ্যে রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির পর জাহাজটি যাত্রা শুরু করলেও বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন হরমুজ প্রণালীর আকাশে নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। খবর এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়নের সময় হঠাৎ এটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত) পাঠায়। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।প্রচলিত বিমান থেকে ভিন্ন, এই ড্রোন দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ অঞ্চল বা ‘চোকপয়েন্ট’-এ টানা নজরদারির জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এটি প্রায়ই পি-৮এ টহল বিমানের জন্য উচ্চ আকাশ থেকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন মোতায়েন করা হয়ে থাকে। ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় এই টোল ব্যবস্থা চালু থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে আগে থেকেই ইমেইলের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং জাহাজের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই যাত্রার অনুমতি মিলবে। এছাড়া, জাহাজগুলোকে আগাম টোল পরিশোধ করতে হবে, যা দিতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি—যেমন বিটকয়েন—অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব জাহাজে কোনো পণ্য নেই, সেগুলোর জন্য এই ফি প্রযোজ্য হবে না। এই হিসেবে, বড় সুপার ট্যাংকারগুলোর জন্য টোলের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলারে। এক ব্যারেলে থাকে ১৫৯ লিটার তেল। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে নেওয়ার অর্থ ইরান প্রতি লিটার তেল থেকে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে ৭৭ পয়সা করে টোল নেবে। ইরান আরও জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলের কাছ দিয়ে নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হবে—বিশেষ করে কাশেম ও লারেক দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে। এছাড়া, ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজ দ্রুত পারাপারের সুযোগ পেতে পারে, তবে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারে লেনদেন করা ইরানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ান ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, ইউয়ানে টোল আদায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা চালু থাকলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য ধীরে ধীরে পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে সরে যেতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা? সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে বাগদাদে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও ইরাক-সিরিয়ার গোত্রভিত্তিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করার জন্য তারা কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত একজনকে এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে, আর মিলিশিয়ারা ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে। ইরাক জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা পালানোর সময় একটি গাড়ি উল্টে গেলে সেটি আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করা এবং অপহৃত সাংবাদিককে মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, অপহরণের ঘটনা বাগদাদেই ঘটেছে। তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ অপহরণকারী বা ভুক্তভোগীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এক বিবৃতিতে কিটলসনের অপহরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘আমরা তার গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার পাশে আছি এবং তাকে দ্রুত ফিরে এসে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’ ইরাকের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক পোশাক পরা চারজন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বাগদাদের রাস্তায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।তারা আরও জানান, অপহরণকারীদের গাড়ি রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের দিকে যাওয়ায় সেখানেই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। একসময় অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার জন্য কুখ্যাত ছিল বাগদাদ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘটনা কমে আসে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং মিলিশিয়াদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ফলে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও কিছুটা কমেছে। তবে ইরান যুদ্ধ নতুন করে এসব মিলিশিয়া ও ইরাকি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে বাগদাদে ইসরায়েলি-রুশ গবেষক এলিজাবেথ সুরকভ অপহৃত হন। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয় এবং গত বছর মুক্তি দেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার পর ইরাকে ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। ডিলান জনসন বলেন, সাংবাদিককে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তিনি আবারও মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর সাংবাদিকসহ সব মার্কিন নাগরিককে সব ভ্রমণ সতর্কতা মেনে চলার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছে।’
মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে। লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়। বাংলাদেশ: চাপের মুখে অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”
গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঈদের দিন সন্তানকে কাঁধে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হওয়া এক তরুণকে আটক করার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার ২১ মাস বয়সী শিশুকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—যার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ওই তরুণের নাম ওসামা আবু নাসের (২৫)। তার শিশুপুত্র জাওয়াদ আবু নাসারকে গত ১৯ মার্চ গাজার কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ি, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ওসামা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি সকাল ১০টার দিকে শিশুকে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হন। ওসামার বাবা মুহাম্মদ হুসনি আবু নাসার জানান, প্রতিবেশীরা ফোন করে তাকে জানান, তার ছেলে শিশুকে কাঁধে নিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে—যেখানে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক সীমারেখা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় পৌঁছানোর পর ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি গুলি না চালিয়ে তার আশেপাশে গুলি ছোড়ে। এতে বিভ্রান্ত হলেও ওসামা থামেননি। পরে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন তার কাছে এসে ভেসে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর তাকে শিশুকে নামিয়ে রেখে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কাপড় খুলে ফেলতে বলা হয়। ওসামার বাবা বলেন, “সে শুধু অন্তর্বাস পরে ছিল এবং শান্ত ছিল, কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি।” ওসামা আটক হওয়ার পর তার বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকেন এবং আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিজের যোগাযোগ নম্বর দিয়ে আসেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার নাতিকে তারা পেয়েছে। পরে মাঘাজি বাজার এলাকায় আইসিআরসি কর্মকর্তারা শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন। শিশুটিকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। কম্বল খুলে তার প্যান্টে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আইসিআরসি জানায়, তারা শিশুটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে শিশুটির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। পরিবারের দাবি, বাড়িতে আনার পর শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাঁটুর চারপাশে পোড়া দাগ এবং ধারালো বস্তু দিয়ে করা গভীর ক্ষত ছিল। শিশুটি সারারাত ব্যথা ও আতঙ্কে কেঁদেছে এবং ঘুমাতে পারেনি। পরদিন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এসব আঘাত গোলাবারুদের কারণে নয়—বরং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির হাঁটু ফুলে গেছে এবং সেখানে সিগারেটের দাগের মতো ক্ষত রয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হামাসের প্রচারণার অংশ। এদিকে, আটক হওয়ার পর থেকে ওসামা আবু নাসারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।