ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ রানা–কে ঘিরে হঠাৎ সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। একসময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক—এমন দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা ওয়াসা–এর মিটার রিডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা পরবর্তীতে রাজস্ব পরিদর্শক পদে থেকে আন্ডার বিলিং, মিটার টেম্পারিং এবং অবৈধ পানির সংযোগে সহযোগিতার মাধ্যমে অবৈধ আয় করেছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে তার অবস্থান শক্তিশালী হয়। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ফাহমী বাবেল গোলন্দাজ–এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের ওয়াসা রাজস্ব জোন-৩–এ দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন ঘিরেও অভিযোগ হারুন অর রশিদ রানার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, ময়মনসিংহে একটি আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর হামলায় অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকাতেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনের এক অংশগ্রহণকারী। এছাড়া একটি মামলায় শেখ হাসিনা–এর সঙ্গে তার নাম এসেছে বলে জানা গেলেও বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সম্পদের বিস্তার মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া, ঢাকা উদ্যান, ৩ নম্বর সড়ক ও চান মিয়া হাউজিং এলাকায় তার একাধিক ভবনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া গাজীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গফরগাঁও এলাকাতেও তার সম্পত্তি রয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি গণপূর্ত বিভাগের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একজন দারোয়ান জানান, “তার বিষয়ে প্রায়ই তদন্ত করতে লোকজন আসেন।” জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে অনেককে। এমনকি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিকেও জঙ্গি আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, কিন্তু ব্যবস্থা নেই অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একজন সরকারি আনসার কর্মকর্তা বলেন, “স্বল্প বেতনের চাকরি থেকে তিনি এখন কোটি টাকার মালিক। প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে চাপ দেওয়া হয়।” অভিযুক্তের বক্তব্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন অর রশিদ রানা। তার দাবি, “আমার সম্পদের বৈধ উৎস রয়েছে।” তবে সেই উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার কথা জানিয়েছেন। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল অফিস : বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়ার দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একসময় তিনি একজন সাধারণ মুরগির খামারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। এই সম্পদের উৎস কী—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে আসেনি। অভিযোগ ও বিতর্ক স্থানীয় কিছু বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অভিযোগ, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশেষ করে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প—যেমন রাস্তা নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সরকারি স্থাপনা সংস্কার—সংক্রান্ত বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এসব প্রকল্পের কিছু ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগও একাধিকবার উঠেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক স্থাপনা বা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ সর্বসমক্ষে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও সহিংসতার অভিযোগ ২০২২ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কিছু ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মামলা দায়েরের পেছনে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সম্পদের প্রশ্ন লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নামে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন সম্পদ—যেমন ফ্ল্যাট, জমি, যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে তার আয়কর নথি বা বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কিত তথ্য জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত ও জবাবদিহি স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছেন, তার সম্পদের উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে, একাধিকবার তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পদ বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার সঙ্গে আর্থিক প্রভাবের সম্পর্ক থাকলেও, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাই করা এবং প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি। লোকমান হোসেন ডাকুয়ার দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধি এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়, তবে প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে। বাকেরগঞ্জের অনেক বাসিন্দাই চান, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আসুক—যাতে সন্দেহ ও বিতর্কের অবসান ঘটে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন, “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।” বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।
বরিশাল অফিস : ঝালকাঠি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগে আলোচিত হয়ে উঠেছেন ফখরুল মজিদ কিরণ—যিনি কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু-এর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে গত দেড় দশকে তিনি ঝালকাঠি-নলছিটি অঞ্চলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। ক্ষমতার ছায়ায় ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ’ স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আমুর ভায়রা পরিচয়ে কিরণ কার্যত প্রশাসন, রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার বণ্টন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, দলীয় কমিটি গঠন এমনকি নির্বাচনী মনোনয়ন—সব ক্ষেত্রেই তার ‘কমিশন নির্ভর’ প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের ভাষ্য অনুযায়ী, আমুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও কিরণের অনুমতি প্রয়োজন হতো, যা তাকে “বেনামি মন্ত্রী” হিসেবে পরিচিতি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি অবৈধভাবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নরসিংদীতে তার বিপুল সম্পদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের ওপর প্রভাব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বিগত সরকারের শেষ সময়ে কিরণের প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, অনেকেই তাকে নলছিটির “অঘোষিত এমপি” হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় প্রশাসন তার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য হতো—এমন অভিযোগও রয়েছে। একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে কিরণ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সহিংসতা ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি শহরে বিএনপির এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়ের হওয়া একটি মামলায় কিরণকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় মোট ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আমুর দুই এপিএসও রয়েছেন। এছাড়া ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান হোসেন খান অভিযোগ করেন, আমু ও তার এপিএস কিরণ প্রকাশ্যে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করেছেন। পারিবারিক প্রভাব ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কিরণের পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তার বড় ভাই নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাবেক শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। আরেক ভাই খায়রুল মজিদ মাহমুদ চন্দন ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পলাতক অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও আমুর গ্রেপ্তারের পর থেকেই কিরণ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই—কেউ বলছেন তিনি দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ দাবি করছেন তিনি ঢাকাতেই আত্মগোপনে আছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, তবে দীর্ঘ সময়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মামলা ও এফআইআর থাকার পরও কেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” তদন্তের অগ্রগতি ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিরণের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফখরুল মজিদ কিরণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির নয়, বরং একটি বৃহত্তর ক্ষমতার কাঠামোর অপব্যবহারের প্রতিফলন—যেখানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার অভাব মিলিত হয়ে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এই অভিযোগগুলোর কতটা সত্য উদঘাটন করতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সক্ষম হয় কিনা।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি অতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা বহাল থাকায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—সাবেক শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে ঘিরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রশাসনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল কামার অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সচিবালয়ে পদায়ন পান। সাবেক সচিবদের সঙ্গে যোগসূত্র অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতীতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নানা অভিযোগে তদন্তাধীন বা কারাবন্দী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই নয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে।” দুবাই মিশন নিয়ে প্রশ্ন সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশে (GO) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা কয়েকজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে— এক যুগ্ম সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নিয়োগ ও সুযোগপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে এছাড়া, সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কারণে একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছায়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।” অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হতাশা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কীভাবে এই কর্মকর্তারা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে বহাল রয়েছেন? বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি দ্রুত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি, তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বরিশাল : বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও জনবহুল এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে এসব সংযোগ দিয়ে মাসে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আর এতে সরকারের গুনতে হচ্ছে কোটি টাকার লোকসান। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, হাতেম আলী চৌমাথা, বিবির পুকুরপাড়, মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ অন্তত ডজনখানেক স্থানে কয়েক শতাধিক ভাসমান দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ত্রিশ গোডাউন এলাকায় দুই শতাধিক দোকানের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন সিনহা ও বাপ্পি। একইভাবে হাতেম আলী চৌমাথা এলাকায় শতাধিক দোকানে অবৈধ সংযোগের অভিযোগ রয়েছে।এসব ফুটপাতের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন ইমন ও সাদ্দাম । বেলসপার্ক এই স্থানটির নিয়ন্ত্রক সালেক ও কুট্টি। বিবির পুকুরপাড়ের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন রাসেল নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ভাসমান দোকান থেকে মাসে দুই থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছেও যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বৈধভাবে একটি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে যেখানে নানা কাগজপত্র লাগে, সেখানে কোনো স্থাপনা ছাড়াই কিভাবে মিটার দেওয়া হচ্ছে—তা বড় প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। আরেকজন বাসিন্দার ভাষ্য, আগে একদল রাজনৈতিক কর্মীরা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন অন্য একটি দলের কর্মীরা সেটি দখল করেছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) এক কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এসবের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই স্থায়ী কর্মচারী নন, বরং চুক্তিভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কিভাবে হোল্ডিং নম্বর ছাড়া মিটার দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারাও অভিযান চালাবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে, আর কবে বন্ধ হবে এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য?
বাংলাদেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক সচিব নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে। ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৯ জন সচিব নিয়োগের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতি, অভিযোগ ও অস্বচ্ছতার বিষয় সামনে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, দ্রুতই আংশিক পিছু হটা নিয়োগের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৯ মার্চ তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় সরকার। একই সঙ্গে দুইজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, “এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নজিরবিহীন”—যা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বঞ্চিতদের তালিকা বড়, সুযোগ পেলেন মাত্র দু’জন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তার নাম উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগে সেই তালিকা থেকে মাত্র দু’জন সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এতে করে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নিজেদের আবারও উপেক্ষিত মনে করছেন। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার অন্তত যোগ্যতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।” ক্যাডার ভারসাম্যে ব্যতিক্রম, নাকি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত? নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন নিয়মিত সচিবের মধ্যে ২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে দক্ষ হলেও মাঠ প্রশাসন বা বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সাবেক সচিব বলেন, “এ ধরনের নিয়োগ ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু একে যদি প্রবণতা বানানো হয়, তাহলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নিয়োগে কি প্রভাব ফেলেছে? নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ—তারা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ৯ জনের মধ্যে একজনকে চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী পেশাগত অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রক্রিয়াটি যদি অস্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ’—কিন্তু কে দায় নেবে? জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদোন্নতিগুলো ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা’ অনুযায়ী হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনার উৎস, মানদণ্ড বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে আসছে—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আসলে কার? প্রশাসনের মনোবলে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগে যদি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। শেষ প্রশ্ন: সংস্কার নাকি পুনরাবৃত্তি? সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগ সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করেছে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষায়— “পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন কোথায়?”
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) ঘিরে আবারও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও দমন-পীড়নে জড়িত একাধিক কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টে বিএনপি বা জামায়াতপন্থী পরিচয় ধারণ করলেও বাস্তবে আগের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট রয়েছে বলে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের একটি কমিটি অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মহল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার-এর দ্বারস্থ হয়। তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তারা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লা-এর মাধ্যমে কমিটি অনুমোদন করান। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির শীর্ষে দু-একজন বিএনপিপন্থী থাকলেও অধিকাংশ সদস্যই ঘোর আওয়ামীপন্থী। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম মল্লিক ওরফে ফেরদৌস। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১ মার্চ ঔষধ চুরির সময় যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় তৎকালীন উপ-পরিচালক ডা. সুভাষ দাশ কোতোয়ালি থানায় এজাহার (নং-৩২৫৯/০৭) দায়ের করেন। সেখানে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ চুরির অভিযোগ উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে অভিযোগ থেকে রেহাই পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে করোনা ওয়ার্ড থেকে ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরির অভিযোগও ওঠে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললেও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ-এর হস্তক্ষেপে তা আলোর মুখ দেখেনি। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৩ আগস্ট চৌমাথা এলাকায় বিএনপি নেতা জিয়া শিকদারের ওপর হামলার সময়ও তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মশিউল আলম ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমাকে যৌথবাহিনী আটক করেছিল, এটা সত্য। তবে মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানান। এ বিষয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মোনেম সা’দ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “বিতর্কিত কয়েকজনের ডিউটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকায় তাদের দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। ডিজি হেলথ থেকে জনবল পরিবর্তন করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।” হাসপাতাল ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন—সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মামুনুর রশীদ নোমানী : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলা কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা এক বিশাল দুর্নীতি সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ বছরে জেলার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তত ১,৬৪৭ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এই মহোৎসবের অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের । কাগজেই শেষ ১,০০০ প্রকল্পের কাজ অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর জেলায় হাতে নেওয়া ১,৮১০টি প্যাকেজের (রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট) মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যেগুলোর সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে [১.৫.৬]। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম ও মহিউদ্দিন মহারাজের রাজনৈতিক প্রভাবে এবং এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজ না করেই শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে আনোয়ারুল ইসলামের ‘আলাদিনের চেরাগ’ দুদকের প্রাথমিক তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম পিরোজপুর প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার ওপর দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র: বিনা কাজে বিল পরিশোধ: ৩৭০টি স্কিমের নথি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হয়েছে । ডাবল পেমেন্ট: একই প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত বিল তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি । গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত: এই দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যে জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খানসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৩ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৫ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে । বর্তমান অবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে এই দুর্নীতির ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৮টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে । পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাত্তারের ওপরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, এই লুণ্ঠনের সাথে জড়িত রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে । পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ এখন এই বিশাল অর্থ আত্মসাতের সুষ্ঠু বিচার এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। পিরোজপুর এলজিইডির বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও কিছু সুনির্দিষ্ট এবং গভীর তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুর্নীতির ধরন ও কৌশলের বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করত : ভূতুড়ে বিলিং: কোনো কাজ শুরু হওয়ার আগেই ১০০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পিরোজপুরের নাজিপুর-বৈঠাকাঠা এবং নাজিপুর-চর রঘুনাথপুর সড়কে কোনো কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে । নথি গায়েব ও জালিয়াতি: তদন্তে দেখা গেছে, ৩৭০টি স্কিমের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা সঠিক ফাইল নেই । হিসাবরক্ষক এবং প্রকৌশলীরা যোগসাজশ করে একই কাজের বিপরীতে বারবার (ডাবল পেমেন্ট) বিল ইস্যু করেছেন । রাজনৈতিক ছত্রছায়া: সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের পরিবারের মালিকানাধীন আটটি ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ১,০৭৯ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয় । ২. অভিযুক্তদের তালিকা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে ২৩ থেকে ২৭ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করেছে । গ্রেপ্তারকৃতরা (১৫ এপ্রিল ২০২৫): জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন, সাবেক কর্মকর্তা আলমগীর হাসান,এসএএস সুপার মাসুম হাওলাদার ও নজরুল ইসলাম এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খান । চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫): দুর্নীতির দায়ে ৫ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সদর, নাজিরপুর ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক প্রকৌশলী মোর্শেদ সরকার,জাকির হোসেন মিয়া এবং বদরুল আলম । দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাত্তার এবং পিরোজপুর প্রজেক্টের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামসহ ১৩ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । ৩. অর্থের অংক ও প্রকল্পের পরিমাণ মোট অনিয়ম: প্রাথমিক তদন্তে ১,১০০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও ১৭টি বড় প্রকল্পে সব মিলিয়ে অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১,৬৪৭ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে । অসমাপ্ত কাজ: পিরোজপুর এলজিইডির অধীনে ১,৮১০টি প্যাকেজের মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি কাজ বন্ধ হয়ে আছে, যার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ । ৪. আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিনি পিরোজপুর প্রকল্পের ফান্ডের রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবন, সাভারে জমি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনোয়ারুল ইসলামের সম্পদের তালিকা দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সাধারণ হিসাবরক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবারের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে: স্থাবর সম্পত্তি: রাজধানীর উত্তরা ও সাভারে একাধিক বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট। নিজ এলাকায় এবং ঢাকার আশেপাশে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ও কৃষিজমি। অস্থাবর সম্পত্তি: বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে নিজের এবং স্বজনদের নামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) ও সঞ্চয়পত্র। বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ। অর্থ পাচার: অনুসন্ধানে তার অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে পাচারের বিষয়েও তথ্য যাচাই করছে দুদক [১.২.৩]। দায়েরকৃত মামলার আইনি ধারা ও অভিযোগসমূহ দুদক ইতিমধ্যে পিরোজপুর এলজিইডি দুর্নীতিতে ২৩ থেকে ২৭ জনকে আসামি করে ৮টি পৃথক মামলা করেছে । আনোয়ারুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণত নিচের ধারাগুলোতে মামলা সাজানো হয়েছে: ১. দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা: ২৬(২) ধারা: সম্পদের তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা। ২৭(১) ধারা: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগদখলে রাখা । ২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা: ৪০৯ ধারা: সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ)। ৪২০ ধারা: প্রতারণা ও জালিয়াতি। ৪৬৭ ও ৪৭১ ধারা: ভুয়া বিল-ভাউচার এবং জাল নথি তৈরি করে তা আসল হিসেবে ব্যবহার করা । ৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা: সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো জন্য অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ। ৪. মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২: অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর বা রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করা । বর্তমান অবস্থা: পিরোজপুর এলজিইডির অপর হিসাবরক্ষক এ কে এম মোজাম্মেল হক খান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালীন মারা গেলেও আনোয়ারুল ইসলাম এবং তার সহযোগী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বর্তমানে তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে যেন তিনি বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে পালাতে না পারেন ।
দেশের পরিবহন খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাজধানীসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং অন্যান্য যানবাহন থেকে নানা নামে এই অর্থ আদায় করা হয়। চাঁদাবাজির পেছনে মালিক-শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা হয়। কোথাও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, পার্কিং বা পৌর টোলের নামে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়। অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও এই চাঁদার অংশ গ্রহণ করে। ফলে পরিবহন চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর এসব চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। চাঁদাবাজির ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ছে, পণ্যমূল্যও আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা পড়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের বদল হলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। টিআইবি-এর ২০২৪ সালের ৫ মার্চের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস ও মিনিবাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক নেতা, ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং পৌর/সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানির প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনায় রাজনীতিবিদরা জড়িত, যার ৮০ শতাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। যাত্রীকল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা শহরে সিটি বাস থেকে দৈনিক ৬৪ লাখ টাকা, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ২৭ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ১২ লাখ টাকা, এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দৈনিক প্রায় ৫৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে; দেশজুড়ে দৈনিক ৪ লাখ ট্রাক থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা মালিকরা স্বেচ্ছায় প্রদান করছেন যা ব্যবস্থাপনা খরচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে তার বাইরেও সড়কে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা দাবি করেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবু কিছু টার্মিনালকেন্দ্রিক অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা করার ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা এবং প্রমাণ মিললে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের নেতারা জানান, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জনপ্রতিনিধিদের আসনও স্থায়ী হবে না। মালিক ও চালকরা বিভিন্ন জেলায় পণ্য আনা-নেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় পৌরসভার বা অন্যান্য সংস্থার নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও স্বচ্ছ হিসাব প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় ভাড়া বৃদ্ধি, পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব অব্যাহত থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।