Brand logo light
বাংলাদেশ

জামায়াতের ডা. তাহের ‎ ‎বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ডা. তাহের
ডা. তাহের

কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার ১২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ডা. তাহের পেয়েছেন ১,৩৩,৩০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. কামরুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৬,৬৩৮ ভোট। প্রাপ্ত ভোটে ডা. তাহের এর সাথে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৫৬,৬৭০টি। প্রাপ্ত ফলাফলে বেসরকারিভাবে ডা. তাহের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ‎ ‎জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ছাড়া অতীতের সকল নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট গ্রহণ শেষ হয়।

 

এরই মধ্যে উপজেলার মিয়াবাজার, চাঁন্দশ্রী, গুণবতী, আতাকরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। এছাড়া অতীতের সকল নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু হয়েছে-এমন মন্তব্য করেছেন ভোটাররা।

সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সকাল ১০টায় ভোট দিয়ে পরিবেশ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডা. তাহের। ১২৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কারচুপির অভিযোগের ভিত্তিতে ৩টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে প্রশাসন।

স্থগিত কেন্দ্র গুলো হলো, গুণবতী উচ্চ বিদ্যালয়, আলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাকগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

‎উল্লেখ্য, পোস্টাল ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৭,৩১৬টি ও ধানের শীষ পেয়েছে ১,২২৯ ভোট। চৌদ্দগ্রাম আসনে মোট ভোটার ৪০৯০৯১ জন। পুরুষ ভোটার ২০৫১১০ জন এবং মহিলা ভোটার ২০৩৯৭৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
চরফ্যাশনে হর্টিকালচার প্রকল্পের রড গায়েব
চরফ্যাশনে ৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পে রড উধাওয়ের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ভোলার চরফ্যাশনে ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো তিন ট্রাক রডের মধ্যে দুই ট্রাক মাঝপথে গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট রড নিয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো ট্রাকের চালকও পরে ট্রাকটি রেখে চলে যান বলে জানা গেছে। চালানের নথিপত্রের সঙ্গে রডের পরিমাণে গরমিল দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মালামাল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এরপর চালকের চলে যাওয়া, রডের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন এবং পরিবহনপ্রক্রিয়ার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা—সব মিলিয়ে প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন, সরবরাহ ও হস্তান্তরপ্রক্রিয়ার তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে রড গায়েব হওয়ার পেছনে কারা জড়িত, কী পরিমাণ রড খোয়া গেছে এবং ঘটনাটির সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তিন ট্রাক রডের চালান, পৌঁছাল এক ট্রাক সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চরফ্যাশনের হর্টিকালচার সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঢাকা থেকে তিন ট্রাক রড পাঠানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, পরিবহন ও মালামাল হস্তান্তরের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একটি চক্র মাঝপথে দুই ট্রাক রড বিক্রি করে দেয়। রড বহনকারী ট্রাক দুটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-৭০০৭ ও ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৪১০৫। এ অবস্থায় রড সরবরাহের কার্যাদেশ, চালান, পরিবহন রসিদ, গুদাম থেকে মালামাল ছাড়ের হিসাব এবং প্রকল্প এলাকায় গ্রহণের নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালানের সঙ্গে গরমিল, মালামাল গ্রহণে অস্বীকৃতি তিন ট্রাকের মধ্যে অবশিষ্ট রড নিয়ে একটি ট্রাক চরফ্যাশনের প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। কিন্তু চালানের নথিপত্রের সঙ্গে রডের পরিমাণের গরমিল দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকা থেকে কত পরিমাণ রড ছাড় করা হয়েছিল, পরিবহনের সময় কতটা মালামাল বহন করা হয়েছে এবং প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রকৃত পরিমাণ কত পাওয়া গেছে—এসব তথ্য কি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল? সরকারি প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে চালান, সরবরাহের পরিমাণ ও বাস্তবে পাওয়া মালামালের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। কোনো গরমিল দেখা দিলে তা নথিবদ্ধ করা এবং যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় রডের ঘাটতির প্রকৃত পরিমাণ এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে গেলেন চালক ঘটনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানো ট্রাকটির চালকের চলে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রডের পরিমাণ নিয়ে গরমিল দেখা দেওয়ার পর চালক ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে প্রকল্প এলাকা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি বলে জানা গেছে। চালকের এভাবে চলে যাওয়ার ঘটনায় অবশিষ্ট রডের হস্তান্তরপ্রক্রিয়া এবং পরিবহনসংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।    প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী এভাবে গায়েব হওয়ার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে প্রকৃত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। রড পরিবহনের প্রতিটি ধাপে কার দায়িত্ব ছিল, কোথায় মালামালের হিসাবের গরমিল হয়েছে এবং সরবরাহের অর্থ পরিশোধ বা বিল সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে পরিবহনপথে মালামালের নিরাপত্তা, চালান যাচাই, প্রকল্প এলাকায় পরিমাপ ও গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার তথ্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খোয়া যাওয়া রড উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় ফেলে যাওয়া ট্রাক দুটি পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানা গেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে ট্রাকের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য, পরিবহনসংক্রান্ত কাগজপত্র, রড সরবরাহের চালান, প্রকল্পের গ্রহণ রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার প্রকল্প কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার জাহানপুর ইউনিয়নে ২৫ একর জমিতে টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যানতাত্ত্বিক কার্যক্রমের জন্য এ ধরনের অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রকল্পটির নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু আর্থিক জবাবদিহির বিষয় নয়, প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও জনস্বার্থ রক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিন ট্রাক রডের চালান থেকে দুই ট্রাক রড গায়েব হওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা কীভাবে ঘটল, সরবরাহব্যবস্থার কোন পর্যায়ে তদারকির ঘাটতি ছিল এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব কী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে নির্মাণসামগ্রীর হিসাব ও সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৬, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়...

নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ স্থগিত

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহকে নিয়ে তোলপাড়!

ঢলুয়া ইউনিয়নে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ৮০টি সচেতনতামূলক সভা

উপকূলীয় এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব- বরগুনা অফিস: ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সতর্কবার্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় জেলা বরগুনার সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নে এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ৮০টি সভার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী। ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জাগোনারী বাস্তবায়িত CARE–Cyclone Anticipation & Resilience for Empowered Women প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে এসব সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সভায় ২৫ জন করে মোট ২ হাজার কমিউনিটি সদস্যকে সম্পৃক্ত করা হয়। দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর অংশগ্রহণে জোর সভাগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল লিঙ্গ-সংবেদনশীল আগাম পদক্ষেপ, আগাম সতর্কবার্তা, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কসংকেত, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধারণা স্পষ্ট করা। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দুর্যোগের আগে ও জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর। একই সঙ্গে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারী ও কিশোরীদের সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে তাঁদের মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। প্রকল্পটির কার্যক্রমে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, কখন নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে হবে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন কীভাবে বিবেচনায় নিতে হবে—এসব বিষয়ে বোঝাপড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারীদের গুরুত্ব সভাগুলোতে অংশ নেন দুর্গম ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী কমিউনিটির সদস্যরা। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী মানুষদের, যাঁরা দুর্যোগের সময় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এ ধরনের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো, নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং সময়মতো সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই সচেতনতামূলক সভাগুলোতে শুধু তথ্য প্রচারের পরিবর্তে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মডিউলভিত্তিক দ্বিমুখী আলোচনা এবং উন্মুক্ত মতবিনিময়ের সমন্বয়ে সভাগুলো পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পর্কে ধারণা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করা হয়। ৯ ওয়ার্ডে ৮০ সভা, অংশগ্রহণকারী ২ হাজার প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে মোট ৮০টি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভায় ২৫ জন করে মোট ২ হাজার কমিউনিটি সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সভাগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত অংশগ্রহণকারী এবং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জাগোনারীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও মনিটরিং সেল কার্যক্রমগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। সচেতনতা থেকে বাস্তব প্রস্তুতি—মূল্যায়নের জায়গা কোথায়? দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কার্যকারিতা বোঝার জন্য শুধু সভার সংখ্যা বা অংশগ্রহণকারীর হিসাব যথেষ্ট নয়। স্থানীয় মানুষের কাছে আগাম সতর্কবার্তা কতটা কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে, নারীরা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারছেন এবং দুর্গম এলাকার মানুষ বাস্তবে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ঢলুয়া ইউনিয়নের এই উদ্যোগের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নারীদের অংশগ্রহণ জোরদার করা, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে বোঝাপড়া উন্নত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পথে সচেতনতা তৈরি করা।  দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জনপদে আগাম প্রস্তুতি কার্যকর করতে সচেতনতার পাশাপাশি সতর্কবার্তার সহজপ্রাপ্যতা, নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। ঢলুয়া ইউনিয়নের এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাও শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সচেতনতামূলক আলোচনার বিষয়গুলো মানুষের বাস্তব প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, ত

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৩, ২০২৬ 0

বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

উজিরপুরে ঘুষের ভিডিও ধারণের জেরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

রাজাপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি

গণপূর্তে লটারি নিয়ে বিতর্ক : বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:  স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বদলি-বাণিজ্য বন্ধ করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়নে নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই উদ্যোগ ঘিরেই এখন উঠেছে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনরায় পদায়ন এবং একই ধরনের সুবিধাজনক পদে ফিরে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—লটারির প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ ছিল? অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা—যাঁদের নাম সারোয়ার—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নথি কিংবা আর্থিক লেনদেনের যাচাই ছাড়া অনিয়মের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নের তথ্য প্রকাশ করা হয়। এত বড় পরিসরে লটারিভিত্তিক পদায়নের উদ্যোগকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘দুই সারোয়ারের’ ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীদের পদায়নের লটারি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রক্রিয়াটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাঁদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের একজন সারোয়ার পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পর্যায়ে এবং অধিদপ্তরের আরেকজন সারোয়ার বাস্তবায়ন ও অফিস গ্রেডিংয়ের কাজে ভূমিকা রেখেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই দুই কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কিছু পদায়ন প্রভাবিত করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তুলনামূলক দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরে পাঠানো হয়েছে, অন্যদিকে প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন।   গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন লটারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি পদায়নের কথা সামনে এনেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। মেডিকেল ডিভিশনে মাসুদ রানা অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা, যাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনি লটারির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ডিভিশনে পদায়ন পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃতি, সেগুলোর তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পূর্ববর্তী কর্মসম্পাদন, অভিযোগের অবস্থা ও প্রশাসনিক যোগ্যতা কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্টাফ অফিসার হিসেবে আহসান হাবিব ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, তিনি বিতর্কিত কর্মকর্তা এবং একটি হত্যা মামলার আসামি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। লটারির পর তাঁকে সরাসরি স্টাফ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাজিবের একই ডিভিশনে ফিরে আসা নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবের পদায়নও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরত আসার পর তিনি অর্থের বিনিময়ে মহাখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ পেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, রাজউকে যাওয়ার আগে তিনি একই ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করতেন। ফলে একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর পুনরায় ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেন, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথির স্বাধীন যাচাই,পদায়নের আগে ও পরে তাঁর কর্মস্থল, বদলির আদেশ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। সিটি ডিভিশনে আন্দালিব রহমান শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকেও গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এখানে মূল প্রশ্ন হলো, এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক মূল্যায়ন হয়েছিল কি না এবং পদায়নের সিদ্ধান্তে সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।  লটারির নিরপেক্ষতা যাচাই হবে কীভাবে? প্রশাসনিক পদায়নে লটারি ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত পছন্দ, তদবির ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ কমানো। কিন্তু শুধু লটারি অনুষ্ঠিত হওয়া বা ফলাফল প্রকাশ করাই স্বচ্ছতার পূর্ণ নিশ্চয়তা নয়। লটারির আগে যোগ্যতা নির্ধারণ, পদভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা, অফিস গ্রেডিং, সফটওয়্যার বা পদ্ধতির নিরপেক্ষতা এবং চূড়ান্ত ফলাফল অনুমোদনের প্রক্রিয়াও যাচাই করা দরকার। গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান বিতর্কে তাই কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ: লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তা ও পদগুলোর যোগ্যতা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল? অফিস গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড কী ছিল এবং তা কি লিখিতভাবে সংরক্ষিত আছে? লটারির মূল তথ্য, ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে কি না? গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম, সংশোধন বা বিশেষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল কি না? পদায়নের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছিল কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট নথি, আদেশ, গ্রেডিং শিট ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব। ব্যাংক হিসাব ও কল রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি লটারির মাধ্যমে পদায়নে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগকারীদের একাংশ অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী ও তাঁদের স্বজনদের আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, প্রাসঙ্গিক আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার দাবিও উঠেছে। তবে ব্যাংক হিসাব বা যোগাযোগের রেকর্ড যাচাই আইনসম্মত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রাসঙ্গিকতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।  মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সারোয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সারোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পদায়নের সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেননি; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি শুধু অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন। এই মূল্যায়ন ও গ্রেডিং প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদায়নের সিদ্ধান্তকে শুধু একজন কর্মকর্তার ওপর আরোপ করা সঠিক হবে না। তবে গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড, সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার ভূমিকা এবং চূড়ান্ত পদায়নের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্বচ্ছতার উদ্যোগ কি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে? বদলি-বাণিজ্য বন্ধের উদ্দেশ্যে লটারির মাধ্যমে পদায়ন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু সেই উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে প্রক্রিয়াটি কতটা উন্মুক্ত, যাচাইযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক তার ওপর। গণপূর্ত অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে একদিকে যেমন প্রকৃত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার সুযোগ পাবেন। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর পদায়নের মূল নথি, গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় কি না। কারণ স্বচ্ছতা কেবল একটি লটারি আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত পরীক্ষা হলো—ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কর্তৃপক্ষ কতটা নিরপেক্ষভাবে তার জবাব দেয়।    

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২১, ২০২৬ 0
ফিরতে মরিয়া নথি রক্ষক শাহীন

বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন : আগে আবেদন করেও পিছিয়ে অন্যরা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বিমানের ক্যাটারিং বিভাগে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0