ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা Caminando Fronteras এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৩১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২৭টি নৌকা আরোহীসহ নিখোঁজ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্প্রতি স্পেন সফরকালে কথা বলেছেন Pope Leo XIV। তিনি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন একটি মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইউরোপমুখী অভিবাসন ঠেকাতে Mauritania-সহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ও উপকূলীয় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হন।
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে স্পেনের অন্তর্ভুক্ত Canary Islands-এ পৌঁছানোর পথকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার।
এ ছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী Morocco থেকে স্পেনে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগরের একটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অংশ ব্যবহার করেন, যার প্রস্থ প্রায় ২০ কিলোমিটার। কেউ কেউ সাঁতরে বা ছোট নৌকায় এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করেন, যা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় হাজারো মানুষ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপমুখী যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হলেও ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, কারা সেগুলো পাঠিয়েছে কিংবা সেগুলোর লক্ষ্যবস্তু কী ছিল—তা প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাছাড়া ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ? ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যুবরাজকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রাসাদে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি বাংকারের সুবিধাও রয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুবরাজের নিরাপত্তায় তাঁর পছন্দের একটি বিশেষ দল নিয়োজিত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রাসাদ পরিবর্তনের প্রতিটি ঘটনা, এর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে এসব স্থানান্তরের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে আলোচনা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানকে সর্বশেষ ৬ অক্টোবর জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। ওই দিন তিনি সৌদি আরবের একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত দেন। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি একাই নিরাপত্তা শঙ্কা কিংবা সম্ভাব্য হামলার প্রমাণ নয়। যুবরাজের অবস্থান পরিবর্তন ও তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের স্বাধীন যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। হুতি হামলা ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন নয়। এই সংঘাতে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রদত্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদে ধারাবাহিক হামলার মুখে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিমানবন্দর বন্ধের কারণ, সময়সীমা এবং ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি তাই শুধু একটি বিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার বিবরণ নয়; বরং আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের আকাশসীমা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার অংশ। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিবৃতিতে ড্রোনের উৎস, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কিংবা হামলার পেছনে কারা ছিল—এসব বিষয়ে তথ্য না থাকায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ড্রোনগুলো কোন এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল? এগুলোর লক্ষ্যবস্তু কি রিয়াদের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনা ছিল? ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না? যুবরাজের প্রাসাদ পরিবর্তনের সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বিবৃতি এবং স্বাধীন সূত্রের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন ধ্বংসের দাবি এবং যুবরাজের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আলোচনায় এনেছে। তবে ড্রোন হামলার উৎস, যুবরাজের অবস্থান পরিবর্তনের কারণ এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করা সমীচীন নয়।
ভারত সীমান্তে ২৫০টি এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে চীনের তৈরি এই ১৫৫ মিলিমিটারের কামান ব্যবস্থাগুলো সুসংগঠিতভাবে স্থাপন করতে শুরু করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সোমবার (৩ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। মূলত, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা নোরিনকো’র তৈরি এসএইচ-১৫ মূলত পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ব্যবহৃত পিসিএল-১৮১ হুইলড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজারের রপ্তানি সংস্করণ। ৬X৬ আর্মার্ড শানসি ট্রাক চ্যাসিসের ওপর স্থাপিত এই কামান ব্যবস্থা দ্রুত মোতায়েন ও উচ্চ গতিশীলতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম। এই ১৫৫ মিমি/৫২-ক্যালিবআরের আর্টিলারি প্ল্যাটফর্ম থেকে মানসম্মত ন্যাটো-স্ট্যান্ডার্ড গোলাবারুদ ছুড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। অন্যদিকে, রকেট-অ্যাসিস্টেড ভি-ল্যাপ প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে এটি দিয়ে ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো যায় বলে জানা গেছে। চীনা এই কামান ব্যবস্থা একটি স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক স্ট্যাবিলাইজিং স্পেড দ্বারা সজ্জিত। ফলে, এর ক্রুরা খুব দ্রুত কামান প্রস্তুত করে মিনিটে ৬ রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করতে পারে। প্রতিপক্ষ ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই এটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে সরে যেতে পারে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, ২৫০টি এসএইচ-১৫ ব্যবস্থার সংযোজন একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্টকে সজ্জিত করার জন্য যথেষ্ট। এটি পাকিস্তানের দূরপাল্লার কনভেনশনাল স্ট্রাইক ক্ষমতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (ইউডিআইএসই+) প্রতিবেদনে দেশটির স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা উঠে এসেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৭৯১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ, গড় হিসেবে প্রতিদিন বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৩টি স্কুল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যটিতে এক বছরে ২ হাজার ৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়েছে, যা জাতীয় মোটের সবচেয়ে বড় অংশ। এক বছরে কমেছে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভারতে মোট স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৩টি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২টিতে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৪ হাজার ৭৯১টি। কোন কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশের পর সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে তেলেঙ্গানায়। বিভিন্ন রাজ্যের চিত্র হলো— মধ্যপ্রদেশ: ২,৪২৬টি তেলেঙ্গানা: ১,৩৯২টি পশ্চিমবঙ্গ: ৫৬৮টি অন্ধ্রপ্রদেশ: ৪৭৪টি তামিলনাড়ু: ৩৬৯টি কর্ণাটক: ২৮১টি হিমাচল প্রদেশ: ২৬৬টি এই পরিসংখ্যান দেখায়, কয়েকটি রাজ্যে স্কুল বন্ধের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে স্কুল প্রতিবেদনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা গেছে। কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমলেও স্কুলের সংখ্যা উল্টো বেড়েছে। এই সময়ে— বিহারে নতুন যুক্ত হয়েছে ৯৪৬টি স্কুল ছত্তিশগড়ে ২৩৪টি দিল্লিতে ৮৭টি অর্থাৎ, শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও অবকাঠামো সম্প্রসারণের ধারা কিছু রাজ্যে অব্যাহত রয়েছে। ভর্তির সংখ্যায় সবচেয়ে বড় পতন বিহারে নতুন স্কুল যুক্ত হলেও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তিনটি রাজ্যেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী— বিহারে আগের বছরের তুলনায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭ জন কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ছত্তিশগড়ে ভর্তি কমেছে ৪৯ হাজার ৪৫৯ জন। দিল্লিতে কমেছে ৪৫ হাজার ২৫০ জন। বিহারেই শিক্ষার্থী ভর্তির পতন সবচেয়ে বেশি। যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে, এক বছরে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হওয়ার পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, কেন মধ্যপ্রদেশে বন্ধের সংখ্যা অন্য সব রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি, এবং কোথাও শিক্ষার্থী কমলেও নতুন স্কুল কেন যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে আরও বিশদ নীতিগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান স্কুলের সংখ্যা ও শিক্ষার্থী ভর্তির পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরলেও, এসব পরিবর্তনের পেছনের কারণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পৃথক বিশ্লেষণই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।