ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং রিকশা-ইজিবাইকচালকেরা।
একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি শুধু নাগরিক দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ১ জুলাই মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারের পরও কেন মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়ছে?
নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কবীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শেখ জানান, এখন প্রায় প্রতিটি বৃষ্টিতেই তাদের বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে যায়।
তার ভাষ্য, আগে একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এখন একবার পানি জমলে সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও বাড়িঘর থেকে ড্রেনে পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে পানি বের হওয়ার পথই বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুলের মতে, সমস্যার বড় একটি কারণ পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ উন্নয়ন।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তালতলা খালসহ অন্তত ১৩টি প্রাকৃতিক খালের প্রস্থ ৬০ থেকে ১০০ ফুট থেকে কমিয়ে মাত্র ১২ থেকে ১৩ ফুটের কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে।
তার মতে, এতে শুধু পানি ধারণক্ষমতাই কমেনি, বরং স্বাভাবিক পানি প্রবাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
খুলনার নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলুর মতে, খাল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ও খাল ভরাট, জলাধার দখল এবং জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানি শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
অর্থাৎ, জলাবদ্ধতার কারণ কেবল বৃষ্টিপাত নয়; নগর পরিকল্পনা, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং নদী-ড্রেন সংযোগের সমস্যাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সিটি করপোরেশনের নেই।
তার মতে, ভারী স্ল্যাব খুলে শ্রমিকদের হাতে ড্রেন পরিষ্কার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগরীর পানি স্বাভাবিকভাবে রূপসা নদীতে নামতে পারছে না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ, অকার্যকর পাম্প হাউস, স্লুইস গেটের সীমিত সক্ষমতা এবং অনেক এলাকায় ড্রেনের তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় সড়কের তুলনায় বাড়িঘর নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি বসতবাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাস ধরে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ড্রেন পরিষ্কার এবং অকার্যকর অবকাঠামো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খুলনার নাগরিকদের মূল প্রশ্ন একটাই—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও যদি মাঝারি বৃষ্টিতেই শহর বারবার পানির নিচে চলে যায়, তবে প্রকল্পের প্রকৃত সুফল কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু ড্রেন নির্মাণ নয়; প্রাকৃতিক খাল সংরক্ষণ, নদীর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, জলাধার রক্ষা এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি মৌসুমি দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামোর কার্যকারিতা এবং সরকারি বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে নতুন করে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মনিরুজ্জামানকে একদল চিকিৎসক ও সহযোগী দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির একাংশ নিয়োগ বাতিলের দাবি তুললেও অন্য অংশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তারা আন্দোলনে যাবে। ঘটনার পর থেকে পরিচালকের কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে কার্যত অচলাবস্থা। এমনকি পরিচালকের কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত সরকার গত ৫ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নিয়োগকে ঘিরে আপত্তি তোলে ড্যাবের একটি অংশ। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি এবং সম্প্রতি অবসরে যাওয়া চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বুধবার পরিচালকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন এবং তাকে দপ্তর ছাড়তে বলেন। পরে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ও জেলা ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমান। তারা বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় তালাবদ্ধ কার্যালয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পরিচালকের কার্যালয়ে যান ডা. সেলিমের অনুসারীরা। আগের দিনের লাগানো তালা খোলা দেখতে পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর পরিচালকের দপ্তরের প্রধান ফটকে নতুন করে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন বিরোধ? দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তিনি “জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে” অংশ নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। সেলিম বলেন, “আগস্ট বিপ্লবে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই এই নিয়োগ আমরা মেনে নিচ্ছি না।” অন্যদিকে বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ড্যাবের অন্য অংশ তবে ড্যাবের আরেক অংশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান ড্যাবের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আজীবন সদস্য। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে গঠিত ড্যাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও মনিরুজ্জামান ছিলেন। আজিজ রহিম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় সেলিম ও মনিরুজ্জামান একসঙ্গে কাজ করেছেন। হঠাৎ এই বিভক্তির কারণ বুঝতে পারছি না। ব্যক্তিগত জেলাসি থেকেই বিষয়টি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” মবের অভিযোগের নিন্দা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে দপ্তরে গিয়ে জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতি ছিলেন। ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তার ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম।” শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পরিচালক তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব? বরিশালের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সরকারি প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত ভূমিকা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবের প্রশ্ন। একদিকে একটি পক্ষ বলছে, বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বহাল থাকলেও পরিচালকের দপ্তরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের পানির উচ্চতা ও স্রোত অনেক বেশি। পানির নিচে সড়ক, থেমে গেছে চলাচল শুক্রবার বিকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে আছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাতকানিয়া-কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় দেখা যায়, বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কের ওপর স্থানীয়রা জাল হাতে মাছ ধরছেন। কেউ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের জন্য পানি মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে বন্যার পানিতে নেমেছেন। সড়কের দুই পাশে এখন শুধু পানি আর পানি। অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যার মধ্যেও জীবিকার সংগ্রাম স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “জীবনে অনেক বন্যা দেখেছি, কিন্তু এবার পানির স্রোত ও পরিমাণ অনেক বেশি। ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, দুই দিন ধরে কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। বাজারে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “পানিতে মাছ উঠেছে দেখে অনেকে জাল নিয়ে নেমেছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই সংসার চালানোর চেষ্টা করছি।” ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বন্যার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, “দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সড়কে পানি থাকায় ক্রেতা আসছে না। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।” স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি পণ্য সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ: বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো কঠিন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমদুল হাসান বলেন, পুরো উপজেলা বর্তমানে বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সব এলাকার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সহায়তার দাবি বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সাতকানিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া একটি কন্যাশিশুর পিতৃত্ব অবশেষে আদালতের রায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া ওই শিশুটি অভিযুক্তের সন্তান হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবে এবং তার পিতার সম্পত্তিতে আইন অনুযায়ী অংশীদার হওয়ার অধিকারও থাকবে। কী ঘটেছিল? আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ মার্চ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমের ছেলে মো. হেলাল একই এলাকার এক বিধবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার নয় দিন পর, ১০ মার্চ, ভুক্তভোগীর বোন বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগীর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু এবং অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তের পিতৃত্ব নিশ্চিত হলে আদালত সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম এমদাদুল হক রায় ঘোষণা করেন। আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মামলার অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত মো. হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যু, সন্তানের আইনি পরিচয় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, ধর্ষণের শিকার নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রায় এক বছর পর স্বাভাবিকভাবে মারা যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটি তার পিতৃত্বের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আদালত উল্লেখ করেছেন, শিশুটি তার বাবার সম্পত্তিতে আইনগত অংশ পাওয়ার অধিকারী হবে। মামলার আইনজীবীরা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নূরুল কবীর রুবেল। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মানবেন্দ্র বিশ্বাস উজ্জ্বল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? এই মামলার অন্যতম তাৎপর্য হলো, ফৌজদারি বিচারে ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে আদালত শুধু ধর্ষণের অভিযোগই প্রমাণ করেননি, একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্বও আইনগতভাবে নিশ্চিত করেছেন। এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে যৌন সহিংসতার মামলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব এবং ভুক্তভোগীর সন্তানের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।