“আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ২০৩৫ সালে আমরা কেমন প্রযুক্তি ব্যবহার করব?”
মোবাইল, ইন্টারনেট, আর চ্যাটজিপিটির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা হয়তো ভাবতেও পারি না—আগামী ১০ বছরেই আমাদের জীবন কেমন পাল্টে যেতে পারে! প্রযুক্তির গতি এখন এতটাই দ্রুত, এক সময় যে জিনিসগুলো ছিল কল্পবিজ্ঞান, এখন তা বাস্তব।
গত দশকে আমরা পেয়েছি স্মার্টফোন, ফাইভজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), এবং আরও অনেক নতুনত্ব। কিন্তু এই পরিবর্তন তো কেবল শুরু! ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের চারপাশে থাকতে পারে রোবটিক সহকারী, কৃত্রিম চিকিৎসক, উড়ন্ত গাড়ি কিংবা এমন প্রযুক্তি, যা আমাদের চিন্তাও পড়ে ফেলতে পারবে!
এই ব্লগে আমরা গভীরভাবে জানবো—
ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে,
স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির উন্নয়ন কেমন হতে পারে,
ভবিষ্যতের ইন্টারনেট, যেমন 6G বা স্পেস-ভিত্তিক সংযোগ কেমন হতে পারে,
এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তির অন্ধকার দিক—যেমন গোপনীয়তার ঝুঁকি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ।
চলুন, প্রযুক্তির টাইম মেশিনে চড়ে একটু এগিয়ে যাই—দেখে আসি আগামী ১০ বছরে আমাদের জীবনটা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কেমন হতে পারে।
এক সময় “রোবট মানুষ” ছিল কেবল সিনেমার বিষয়। কিন্তু এখন? AI মানেই আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। আমরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলি, Copilot দিয়ে কোড বা কনটেন্ট লিখি, আর Midjourney বা DALL·E দিয়ে ছবি বানাই—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি!
২০৩৫ সালে এই প্রযুক্তিগুলো শুধু আপডেট নয়, পুরোপুরি রূপান্তরিত হবে। ভবিষ্যতের AI হবে আরও স্বাধীন, মানবিক ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম। কল্পনা করুন, আপনি অসুস্থ—ডাক্তার না, AI আপনাকে স্ক্যান করে রোগ ধরবে, ওষুধ সাজেস্ট করবে, এমনকি আপনার স্বাস্থ্যগত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে আগেই আপনাকে সতর্ক করবে। অথবা আপনার ব্যবসার সিদ্ধান্ত—কোন পণ্য বিক্রি হবে, কোথায় বিনিয়োগ করবেন—AI আপনাকে অপশন দেখিয়ে দিবে, বিশ্লেষণ করে জানাবে সম্ভাব্য ফলাফল।
তবে সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু ভয়ের জায়গাও।
🔸 গোপনীয়তা: আমাদের কথাবার্তা, অভ্যাস, চিন্তাধারা—সব AI শিখছে। এগুলোর সঠিক ব্যবহারে আইন না থাকলে ঝুঁকি বাড়বে।
🔸 চাকরি হারানোর আশঙ্কা: সহজ, রিপিটেটিভ কাজগুলো দ্রুত অটোমেটেড হয়ে যাবে। ফলে অনেক পেশাই বিলুপ্তির পথে যেতে পারে।
অন্যদিকে, AI নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে—নতুন ধরনের চাকরি, দক্ষতা, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুলে যাবে।
সব মিলিয়ে, AI আমাদের ভবিষ্যতের চালক হতে চলেছে—প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই যাত্রায় প্রস্তুত?
আগামী ১০ বছরে চিকিৎসা খাতের চেহারা একেবারে বদলে যাবে—এটা কেবল ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাস্তবতার পথে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। কল্পনা করুন, আপনি আর হাসপাতালে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবেন না। বরং ঘরে বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে দেখা, রিপোর্ট শেয়ার, প্রেসক্রিপশন—সবই হবে অনলাইনে। এটিই টেলিমেডিসিন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।
এর পাশাপাশি রোবটিক সার্জারি হয়ে উঠছে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির অঙ্গ। রোবট-সহায়তায় শল্যচিকিৎসা আরও নিখুঁত, নিরাপদ এবং কম কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জটিল অপারেশনও হয়তো ডাক্তার দূরে বসে নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর সার্জারি করবে একটি AI-চালিত রোবট।
আর আছে wearable health devices—যেমন স্মার্ট ঘড়ি, ফিটনেস ব্যান্ড, কিংবা রক্তচাপ/রক্তে অক্সিজেন মাপার গ্যাজেট। এগুলো শুধু তথ্য দেখায় না, রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কেউ যদি অনিয়মিত হার্টবিট বা ব্লাড সুগারের ঝুঁকিতে থাকেন, AI ডেটা বিশ্লেষণ করে আগেই সতর্ক করে দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—AI-চালিত রোগ নির্ণয়। শুধু এক্স-রে বা ব্লাড রিপোর্ট না, AI এখন কান্সার, হার্ট ডিজিজ, এমনকি মানসিক সমস্যাও আগেভাগে শনাক্ত করতে পারছে।
বাংলাদেশে যদিও প্রযুক্তি-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে সম্ভাবনা বিশাল।
গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ডাক্তার নেই, সেখানে টেলিমেডিসিন হতে পারে বড় সমাধান।
প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর-গ্রামের চিকিৎসা ব্যবধান কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য খাতে AI যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তাহলে চিকিৎসার মান যেমন বাড়বে, খরচও অনেক কমবে।
স্বাস্থ্যসেবায় এই বিপ্লব যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়—২০২৫ নয়, ২০৩৫ সালেই আমরা আরও সুস্থ, সচেতন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর একটি জাতিতে রূপ নিতে পারি।
আগামী ১০ বছরে “স্কুলে গিয়ে পড়া” বা “অফিসে গিয়ে চাকরি করা”—এই ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বদলে যাবে। প্রযুক্তির গতিতে শিক্ষা এবং চাকরির পদ্ধতি যেমন বদলাবে, তেমনি বদলাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা।
আজ যেখানে Zoom বা Google Meet-এ ক্লাস হয়, ভবিষ্যতে হয়তো মেটাভার্সে ভার্চুয়াল স্কুল বা ভার্সিটি হবে। ছাত্ররা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে (VR) প্রবেশ করে বাস্তবের মতো ক্লাসরুম, ল্যাব, লাইব্রেরি ঘুরে বেড়াবে। বিষয়ভিত্তিক 3D এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে শেখা হবে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ, জীবন্ত এবং আকর্ষণীয়।
শুধু শহরের ছেলেমেয়ে নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীও ইন্টারনেট আর একটি VR ডিভাইস দিয়েই বিশ্বমানের শিক্ষা পেতে পারে।
আগামী দিনে অফিসে বসে ৯টা–৫টার চাকরি হয়তো কমে আসবে। তার বদলে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট ওয়ার্ক আর প্রজেক্টভিত্তিক কাজ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে অটোমেশন অনেক সাধারণ কাজ করে ফেলবে—যেমন ডেটা এন্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, এমনকি কাস্টমার সার্ভিসও। ফলে অনেক প্রচলিত চাকরি হয়তো থাকবে না, আবার নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি হবে।
২০৩৫ সালের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে চাই—
ডিজিটাল দক্ষতা: যেমন কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন
AI ও অটোমেশন বোঝার ক্ষমতা
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving), ক্রিটিক্যাল থিংকিং
কমিউনিকেশন স্কিল – কারণ বিশ্ব এখন একটি বড় ভার্চুয়াল টিমের মতো
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটাই সোনালী সময়—যদি তারা এখনই ভবিষ্যতের স্কিল শিখতে শুরু করে। কারণ আগামী ১০ বছরেই বদলে যাবে কাজ শেখা, কাজ পাওয়া এবং কাজ করার ধরন।
আমরা যখন 4G পেলাম, তখন ইন্টারনেটে ভিডিও দেখা বা লাইভ স্ট্রিম করা সহজ হলো। 5G আসতেই স্মার্ট সিটি, স্মার্ট গাড়ি আর IoT (Internet of Things)-এর বাস্তব রূপ দেখা গেল।
কিন্তু 6G?
এটা কেবল গতি নয়, বরং সম্পূর্ণ এক নতুন যুগের সংযোগ ব্যবস্থা—যা আমাদের “বাস্তব” ও “ভার্চুয়াল” জীবনকে একসাথে বেঁধে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, 6G ইন্টারনেট হবে 5G-এর তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ দ্রুত! এর ডেটা ট্রান্সফার স্পিড হতে পারে প্রতি সেকেন্ডে ১ টেরাবিট পর্যন্ত।
অর্থাৎ, আপনি পুরো Netflix ডেটাবেস মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ডাউনলোড করতে পারবেন!
6G এর মাধ্যমে আমাদের ডিভাইসগুলো শুধু যুক্ত থাকবে না, একে অপরকে বুঝতে পারবে
স্মার্ট হোম, স্মার্ট গাড়ি, স্মার্ট শহর—সবকিছুর মধ্যে থাকবে “সচেতন” যোগাযোগ
মেটাভার্স, হোলোগ্রাফিক কলিং, ভার্চুয়াল টেলিপ্রেজেন্স বাস্তব হয়ে উঠবে
কৃষি, চিকিৎসা ও পরিবহন খাতেও রিয়েল-টাইম কমিউনিকেশন সহজ হবে
Elon Musk-এর Starlink, Amazon-এর Project Kuiper, বা ভারতের BharatNet—সবাই এখন সেটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট নিয়ে কাজ করছে।
ভবিষ্যতে আমাদের ইন্টারনেট আর মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং উপগ্রহ থেকে সরাসরি সংযোগ পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে এখনো পুরোপুরি 5G পৌঁছায়নি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা পিছিয়ে আছি।
যদি এখনই অবকাঠামো, রিসার্চ, আর টেক শিক্ষায় বিনিয়োগ শুরু হয়, তাহলে 6G যুগে বাংলাদেশও প্রযুক্তি-নির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে।
6G হলো ভবিষ্যতের “ডিজিটাল অক্সিজেন”—যা শুধু দ্রুত নয়, বুদ্ধিমান সংযোগ দেবে। এটি আমাদের কাজের ধরন, যোগাযোগের মাধ্যম, এমনকি আমাদের চিন্তাভাবনার পথও বদলে দেবে।
প্রযুক্তি মানেই শুধু যন্ত্র নয়, প্রযুক্তি এখন হয়ে উঠছে পরিবেশ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, জ্বালানির অপচয়—এই সব সমস্যার সমাধানে আমরা আজ তাকিয়ে আছি টেকসই প্রযুক্তির দিকে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, আর প্রাকৃতিক সম্পদ কমছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি তাই ফোকাস করছে সোলার, উইন্ড, হাইব্রিড সিস্টেমে।
বিদ্যুৎ বাঁচাতে স্মার্ট গ্রিড, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ডিভাইস, এমনকি নিজে নিজে চার্জ হওয়া IoT ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাবে।
আপনি কি জানেন? ভবিষ্যতের ঘর (smart home) এমন হবে যেখানে—
বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে যখন কেউ থাকবে না
ঘরের তাপমাত্রা নিজের থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে
সৌর শক্তি দিয়ে ফ্রিজ, টিভি চালু থাকবে
স্মার্ট সিটি কনসেপ্টের মূল ভিত্তি হলো কম দূষণ, কম খরচ, বেশি কার্যকারিতা।
পরিবেশবান্ধব ভবন (green buildings), স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের নগর হবে টেকসই আর বসবাসযোগ্য।
বিশ্ব এখন Climate Tech নিয়ে দারুণ আগ্রহী। যেমন:
AI দিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নিখুঁতভাবে করা
সেন্সর দিয়ে নদীর পানি বা বায়ুদূষণ নিরীক্ষণ
Vertical farming বা urban agriculture প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরেই সবজি উৎপাদন
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার। তাই এখানে টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োজন আরও বেশি।
ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল
স্মার্ট কৃষি (sensor-based irrigation, কৃষি ড্রোন)
পরিবেশবান্ধব পরিবহন (ইলেকট্রিক বাইক, বাস)
সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগ যদি একসাথে চলে, তাহলে টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা আর উন্নয়ন—দুটোই সম্ভব।
প্রযুক্তি হয়তো আমাদের দূষণের কারণ ছিল একসময়, কিন্তু এখন সেই প্রযুক্তিই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রশ্ন শুধু একটাই—আমরা কি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি?
প্রযুক্তির যতো উন্নতি, তার সঙ্গে নিয়ে আসে কিছু ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। আজকের এই ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা আর মানবিক মূল্যবোধ ঝুঁকির মুখে পড়ছে—যা আমাদের সবাইকে ভাবতে বাধ্য করে, প্রযুক্তি কি সত্যিই আমাদের বন্ধু নাকি নিয়ন্ত্রক?
আমরা প্রতিদিন যত ডিভাইস ব্যবহার করি, সেগুলো আমাদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
ফোন, কম্পিউটার, স্মার্ট ঘড়ি—সবই ব্যবহারকারীর আচরণ, লোকেশন, কথা বলা, এমনকি চিন্তা পর্যন্ত ট্র্যাক করতে পারে।
বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এই তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, পণ্যের কাস্টমাইজেশন করে, কিন্তু কখনো কখনো এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আক্রমণও হয়ে দাঁড়ায়।
ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
কিছু প্রযুক্তি যেমন AI আর অটোমেশন, মানুষের কাজ সহজ করছে, কিন্তু এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক ব্যবহার না হলে এটি বিপদের কারণ হতে পারে।
চাকরি হারানো: অটোমেশনের কারণে অনেক মানুষের কাজ চলে যেতে পারে, যা সামাজিক সমস্যা বাড়াবে।
মনুষ্যত্বের অবমূল্যায়ন: যখন রোবট বা AI সিদ্ধান্ত নেবে, তখন মানবিক সিদ্ধান্তের জটিলতা হারিয়ে যেতে পারে।
বায়াস (Bias): AI-র ট্রেনিং ডেটায় যদি পক্ষপাত থাকে, তবে তা বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা ও নৈতিকতার চেয়ে বেশি জরুরি আর কিছু নেই।
ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের নিজস্ব তথ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের উচিত নীতি প্রণয়ন করে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখা।
প্রযুক্তিকে মানবতার সেবায় ব্যবহার করতে হবে, যেন এটি মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনে বিপ্লব এনেছে, কিন্তু এই বিপ্লব যদি সঠিক পথে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে সেটা মানবিক সংকট ও গোপনীয়তার আক্রমণে পরিণত হতে পারে। আমরা সবাইকে উচিত এই প্রযুক্তিকে সচেতন ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করা।
আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে প্রযুক্তি শুধু আমাদের জীবনকে সহজ করবে না—বরং পুনর্গঠন করে ফেলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, 6G নেটওয়ার্ক, রোবটিক চিকিৎসা, মেটাভার্স শিক্ষা—এসব শুনতে হয়তো এখনো কল্পনার মতো, কিন্তু আগামী ১০ বছরেই এই কল্পনা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে।
তবে এই রোমাঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে আছে চ্যালেঞ্জ—গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান, তথ্য নিরাপত্তা, এবং মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো। তাই ভবিষ্যতের জন্য কেবল প্রযুক্তি জানলেই হবে না, চাই সচেতন ব্যবহার, নৈতিক চিন্তা, আর নতুন দক্ষতায় নিজেকে গড়ে তোলা।
আমরা সবাই এই রূপান্তরের অংশ। এখন প্রশ্ন হলো—
“আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।
এআই প্রযুক্তি: কী কাজ হারাবে মানুষ, আর কোন কাজে হবে সহায়ক? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) — একসময় যা ছিল কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিষয়, এখন তা বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের সার্চ অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, মুখ চিনে ফেলা ক্যামেরা, কিংবা রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত সফটওয়্যার—সব কিছুতেই এখন এআই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে: “আমার চাকরি কি এখন নিরাপদ?” সত্যি বলতে, এআই কিছু চাকরি মানুষের কাছ থেকে নিয়ে নিচ্ছে—তবে একইসঙ্গে নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে। প্রথমেই দেখা যাক, কোন ধরনের কাজ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। সাধারণত, যেসব কাজ বারবার একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি করে—সেগুলোই প্রথমে এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। যেমন: ডাটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং: এই ধরনের কাজ এখন সহজেই সফটওয়্যার দ্বারা করা যাচ্ছে, সময়ও কম লাগে। কাস্টমার সার্ভিস: চ্যাটবট ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইতোমধ্যেই হাজার হাজার কাস্টমার সার্ভিস কর্মীর কাজকে সীমিত করে ফেলেছে। টেলিমার্কেটিং ও ব্যাসিক অ্যাকাউন্টিং: সহজ হিসাব বা স্ক্রিপ্টভিত্তিক সেলস কলগুলো এখন এআই করতে পারে নিখুঁতভাবে। সার্ভিল্যান্স ও সিকিউরিটি মনিটরিং: স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি মানুষের জায়গায় দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ করছে। এই তালিকা দেখে ভয় পাওয়ার কারণ থাকলেও, একে একপেশেভাবে দেখলে ভুল হবে। কারণ এআই প্রযুক্তি অনেক কাজে মানুষের সহায়ক হিসেবেও কাজ করছে, বিশেষ করে যেখানে বিশ্লেষণ, সৃজনশীলতা ও মানবিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়: এআই এখন ক্যানসার শনাক্তকরণ, হার্ট ডিজিজ বিশ্লেষণ, ওষুধের গবেষণা—এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের সহায়তা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও মানুষের। ডিজাইন ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন: গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, এমনকি কবিতা বা গল্প লেখায় এআই সাহায্য করছে—but human touch is still irreplaceable. এডুকেশন ও পার্সোনাল লার্নিং: এআই ভিত্তিক অ্যাপ যেমন Duolingo বা Khan Academy এখন শিক্ষার্থীদের জন্য পার্সোনালাইজড শিখন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট: কোডিং এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে কোড-সহায়ক এআই টুলের কারণে, যা সময় ও শ্রম দুটোই কমায়। তবে এই সবের মাঝেও একটা বিষয় পরিষ্কার—মানবিক গুণাবলি এখনও অপরিহার্য। নেতৃত্ব, সহানুভূতি, জটিল সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল চিন্তা—এই গুণগুলো এখনো কোনো এআই পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতের কাজের দুনিয়া কেমন হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে, আজকের নির্ভরযোগ্য কাজও আগামী দিনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে। তাই করণীয় একটাই—মানুষকেও পরিবর্তিত হতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, নতুন স্কিল শেখা—এই তিনটি দিকেই বেশি জোর দিতে হবে। সবশেষে বললে বলা যায়, এআই শত্রু নয়, বরং এক শক্তিশালী সহচর, যদি আমরা তাকে বুঝে ব্যবহার করতে পারি। কাজ হারানোর ভয় না পেয়ে বরং নতুন কাজের ধরন ও দক্ষতার জন্য প্রস্তুত হওয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।