Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

নাসিমুল গনি ও আব্দুল হান্নানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0

শীর্ষনিউজ: ড. নাসিমুল গনি। প্রশাসন ক্যাডারের ’৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এক সময় স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের পিএস (একান্ত সচিব) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তাঁর হাত দিয়েই জাতীয় সংসদে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের এক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটে। নাসিমুল গনির সেই দুর্নীতি-অনিয়মের বোঝা এখনও বইতে হচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে ভাগ্য খুলে যায় নাসিমুল গনির। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথমে সিনিয়র সচিব পদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পান। স্বরাষ্ট্র সচিব পদ শূন্য হওয়ার পর এখানে আসেন। এরপরে এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকাকালে দুদকে একাধিক অভিযোগ আসে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগপত্রে তার নিজের, ছেলে এবং পিএস’র নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, নরসিংদীর সাবেক এসপি, বর্তমানে যিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) পদে আছেন মো. আব্দুল হান্নান, বেপরোয়া ঘুষ লেনদেনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে অবিশ্বাস্যভাবে ছাড় দিয়েছেন সচিব নাসিমুল গনি।

এসপি আব্দুল হান্নানের ঘুষ লেনদেনের ওই ঘটনাটি ছিল ব্যাপক আলোচিত। আব্দুল হান্নান আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন এসপি পদে আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য। পরবর্তীতে এই টাকা তুলতে গিয়েও অনেক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটান তিনি। আব্দুল হান্নানের ফোন রেকর্ডসহ গণমাধ্যমে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এতে। আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে ঘুষ লেনদেনসহ সবগুলো ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না কেন, এই মর্মে ১০ দিনের সময় দিয়ে নোটিশও ইস্যু করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু এরপরেই দৃশ্যপট ক্রমান্বয়ে পাল্টাতে থাকে। তিন মাস পরে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ডের পরিবর্তে লঘুদণ্ড ‘তিরস্কার’ করা হয় তাকে। একে বিচারের নামে ‘প্রহসন’ এবং ‘কৌতুক’ বলেই আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। কথা উঠেছে, এসপি (বর্তমানে বরিশাল পুলিশের ডিসি) আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে কত টাকা নিয়ে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি তাকে এত বড় ‘ছাড়’ দিয়েছেন?

আব্দুল হান্নানের শুধু ঘুষ প্রদান বা এ সংক্রান্ত অনিয়মই নয়, নরসিংদীর এসপি পদে থাকাকালে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের প্রমাণসহ তথ্যও প্রকাশ হয়েছে একই সময়ে। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত হয়নি অথবা তদন্ত কমিটি এড়িয়ে গেছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তদন্ত করলে এসব ঘটনাও হাতেনাতে প্রমাণিত হতো। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও অপরাধী মো. আব্দুল হান্নানের কিছুই হয়নি। চাকরিচ্যুতি বা কারাগারে যাওয়া তো নয়ই- সাসপেন্ড, ওএসডি বা সংযুক্তিতে থাকতে হয়নি এক দিনের জন্যও। অপরাধ প্রকাশ হওয়ার পর বরং তাকে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশের এসপি থেকে সরাসরি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। যদিও এটি একেবারেই অবিশ্বাস্য, কিন্তু এই অবিশ্বাস্য কাজগুলো সবই হয়েছে তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির হাত দিয়েই।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি থেকে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নজিরও নেই। শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, দেশের প্রচলতি আইনে তার বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার দুর্নীতির মামলা এবং তাতে সাজা হওয়াটা নিশ্চিত ছিল। তাতে আব্দুল হান্নানকে এখন কারাগারেই থাকতে হতো। কিন্তু, এ সবকিছু থেকে আব্দুল হান্নানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন নাসিমুল গনি। এক্ষেত্রে ‘ডিল’টা আকারে কত ছিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, পুলিশের নৈতিক অধঃপতন এবং সারাদেশে আইন-শঙ্খলার অবনতির পেছনে নাসিমুল গনিদের এসব অপকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন, অপরাধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা।

ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের ডিআইজি মিজানুর রহমান ওরফে মিজানের ইস্যুটা কারো অজানা নয়। আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। ডিআইজি মিজান নিজেই গণমাধ্যমের সামনে এই ঘুষ প্রদানের বিষয়টি ফাঁস করেন। ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ডও ডিআইজি মিজান স্বেচ্ছায় সরবরাহ করেন। এবং তিনি ওই ঘুষ প্রদানে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন। দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ব্ল্যাকমেইলিং করে বার বার তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। অবশেষে মিজান অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ঘুষের কথা ফাঁস করেন বলে জানান।

তবে ‘বাধ্য হয়ে’ ঘুষ প্রদান এবং নিজে এরজন্য ‘দায়ী নন’ দাবি করলেও ঘুষের দায় থেকে ডিআইজি মিজানুর রহমান মোটেই ছাড় পাননি। ঘুষ প্রদানের দায়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গেই সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপরে গ্রেফতার এবং দুদকের মামলায় তাঁর তিন বছরের কারাদণ্ডও হয়। অথচ, মো. আব্দুল হান্নানের অপরাধ একটি নয়- আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য ঘুষ প্রদান, ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে অধঃস্তন কর্মকর্তার ওপর অন্যায়ভাব চাপ সৃষ্টি, অধঃস্তন কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় প্রভৃতি অনেকগুলো গুরুতর বিষয় থাকা সত্ত্বেও তাকে সব অপরাধ থেকে অবৈধভাবে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘নজিরবিহীন’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসপি পদে পদায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ


আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৩ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেন মো. আব্দুল হান্নান। এসপি পদে পদায়নের জন্য এই ঘুষ দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিকে সরাসরি নয়, জনৈক রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে এই টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। এই টাকা রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান হয়ে জ্যোতির কাছে গেছে। পেশায় রবিউল মুন্সী একজন প্রকাশনা ব্যবসায়ী হলেও আদতে তিনি পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের টাকা কালেকশনের দালালদের একজন ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কারণে পদায়নটি আর হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত দাবি করে আব্দুল হান্নান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নরসিংদীর এসপি পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। আর এখানে বসেই শুরু করেন ব্যাপকহারে দুর্নীতি-অপকর্ম, চাঁদাবাজি, এমনকি মাদক ব্যবসায়েও জড়িত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে এসপি পদে পদায়নের জন্য দালাল রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে যে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন তা তোলার দায়িত্ব দেন অধীনস্ত নরসিংদীর ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামানকে। বস-এর নির্দেশে কামরুজ্জামান বাধ্য হন ঘুষের টাকা তোলার কাজে লেগে যেতে। ৫ লাখ টাকা তিনি রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে আদায় করে দেনও। বাকি ৪৫ লাখ টাকার জন্য এস এম কামরুজ্জামানের ওপর চাপ দিতে থাকেন এসপি আব্দুল হান্নান। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ নভেম্বর, ২০২৪ অধীনস্ত কামরুজ্জামানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন এসপি আব্দুল হান্নান। রবিউল মুন্সী মনিপুরী পাড়ায় ১৪৭/১ পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে গোল্ডেন টাচ পাবলিকেশন্সের মালিক। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য এখানে আসেন তারা। এসপি আব্দুল হান্নানের উপস্থিতিতেই পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা পরবর্তীতে তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়।

অধঃস্তন কর্মকর্তার কাছ থেকে চাপ দিয়ে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, যা তদন্তই হয়নি


‘ঘুষখেকো’ আব্দুল হান্নানের নানা অপকর্মের অবিশ্বাস্য সব তথ্য সিনেমার কল্পকাহিনিকেও হার মানাবে। অধীনস্থ পুলিশ সদস্য ছাড়াও তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষমতার অপব্যবহারকারী প্রভাবশালীকে শেল্টার দিয়েছেন নরসিংদীতে থাকাকালে। এ ছাড়া নিয়মিত মোটা অঙ্কের কারবার ঠিকঠাক রাখতে একটি নিজস্ব বলয়ও গড়ে তুলেন। গত বছরের এপ্রিলে এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ জাতীয় গণমাধ্যমসমূহে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অধীনস্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের বেশকিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

তাতে দেখা যায়, ১০ মার্চ, ২০২৫ ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। সেখানে সৈয়দুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব (ব্র্যাক ব্যাংক, বরিশাল ব্রাঞ্চ, হিসাব নম্বর ০৫০১১০২৫২৯১৪৮০০১) উল্লেখ করে লেখা হয়, ‘টু লাখ টুমোরো।’ এর আগেও এসপি আব্দুল হান্নান কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে দফায় দফায় ব্যাংক হিসাব পাঠিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯টা ৯ মিনিটে মো. নাহিদুজ্জমান নামে একজনের কাছে টাকা পাঠাতে ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানকে ক্ষুদে বার্তা পাঠান। সেখানে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং (৭০১৭০১৯৬৬৩৫৩৬) নম্বর উল্লেখ করে টাকা পাঠানোর সাংকেতিক শব্দ ‘টু লাখ টুমোরো’ লেখা হয়। এরপর কামরুজ্জামান এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই হিসাবে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ২ লাখ টাকা পাঠান। ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ মো. শাহজাহান আলীর নাম লিখে ইসলামী ব্যাংক ঝিনাইদহ ব্রাঞ্চের হিসাব নম্বর (২০৫০১৭৫০২০২২৪৯১০০) পাঠান। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন এসপি। ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক নরসিংদী শাখা থেকে এসপির পাঠানো ওই হিসাবে ৪২ হাজার টাকা পাঠান ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান। এর আগে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালি খাতুনের নাম লিখে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে মেসেজ পাঠান। কামরুজ্জামান ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালির অ্যাকাউন্টে (০২০০০০৭৬৪৭৯৬১) ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া নুরুজ্জামান নামে আরেকজনের ইসলামী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এমনকি বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার টাকাও নিয়েছেন এই এসপি। এভাবে টাকা পাঠাতে এসপি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন।

এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এসপি স্যার প্রায় সময় আমাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা পাঠাতে বলতেন। দিনের পর দিন হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাতে আমাকে বাধ্য করতেন। ব্যক্তিগত নম্বর থেকে (০১৭১৬০৫৫১০০) মেসেজ পাঠিয়ে আবার এসপি বলতেন, ‘আমি একটি এসএমএস করেছি দেখেন, এ নম্বরে দুই লাখ টাকা পাঠান।’ এভাবে অসংখ্যবার টাকা পাঠানোর কারণে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কয়েকদিন আগে বিরক্ত হয়ে তার টাকা পাঠানোর নির্দেশনার বিষয়ে আমি বলেছি, ‘স্যার এ মুহূর্তে আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আর কোনো টাকা পাঠাতে পারব না। এভাবে টর্চার করলে আইজি স্যারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হব।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোন রেখে দেন এবং আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।”

গাঁজা বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগ


নরসিংদীর আদালতের মালখানায় না পাঠিয়ে আটক ৯৬ কেজি গাঁজা বিক্রির ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশের দুই পরিদর্শক এবং এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান। কেননা তাকে মাসোহারা দিয়েই মাদক পাচার করেছে চোরাচালানকারীরা। কিন্তু অন্য টিমের হাতে আটকা পড়ে এই চালান।
জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর শিবপুরের সৃষ্টিগড় থেকে ৬ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। প্রতি বস্তায় ১৬ কেজি করে মোট ৯৬ কেজি গাঁজা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখান থেকে কাগজে কলমে এসব গাঁজা আদালতে পাঠানো হয়েছে দেখানো হলেও তা মালখানায় নেওয়া হয়নি। দুই দিন পর কাগজে কলমে গত ১১ মার্চ এ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার প্রমাণপত্র তৈরি করা হয়।
কিন্তু এই ঘটনার পর উল্টো এমএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনার পরপর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ডিবির ওসিসহ সব ওসি যা কিছু করেন সব এসপির নির্দেশেই করেন।’

তিনজনের টিম করে টাকা কামানো


গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআই ও এএসআইদের পোস্টিং করিয়ে টাকা নিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। পদপ্রত্যাশীদের জোগাড় করেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক। পতিত সরকারের আমলে ডিবিতে কর্মরত এসআই মোস্তাক ও এএসআই হারেছ মিয়াকে সদর থানায় পোস্টিং করে আনা হয়। একই সঙ্গে এসপির এলাকায় বাড়ি পুলিশ সদস্য রবিউলকেও আনা হয় সেখানে। এই তিনজনের সঙ্গে এসপি হান্নানের অত্যন্ত সু-সম্পর্ক। তারাই মূলত জেলা দাপিয়ে বেড়ান। এদের দিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে টাকা কামান এসপি হান্নান। আওয়ামী লীগপন্থি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের কাছে পাঠানো হয় ওই তিনজন। এরপর তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পর তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসপি হান্নানের কাছে।

এমনকি এসপি আব্দুল হান্নান প্রায় সময়ই রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের কথা বলে বিভিন্ন থানা থেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া ডিবিতে মাইক্রোবাস রিকুইজিশনের কথা বলে বিল ভাউচার করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। অথচ ডিবিতে এ প্রক্রিয়ায় কোনো গাড়িই ব্যবহার হয় না।

বিভাগীয় মামলায় ‘গুরুতর’ অপরাধ প্রমাণিত, চাকরিচ্যুতির নোটিশের পর শাস্তি শুধুমাত্র ‘তিস্কার’


জেলায় এসপি হিসাবে পদায়নের জন্য অনৈতিকভাবে ৫০ লাখ টাকা প্রদান ও পরে সেই টাকা আদায়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পেয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। বিধি অনুযায়ী আব্দুল হান্নানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ ইস্যু করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
২৫ আগস্ট, ২০২৫ এসপি আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। ওইদিনই তাকে নরসিংদী থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসাবে বদলি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গুরুতর এমন অভিযোগ গঠনের পর বরিশালে নতুন পদায়নকে তখন ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করেন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনেকেই। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিভাগীয় মামলা করে। মামলা নং-১৭/ ২০২৫।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগনামায় বলা হয়, “আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় যোগদানের আগে ২০২৩ সালে পুলিশ সুপার হিসাবে জেলায় পদায়ন পেতে রবিউল মুন্সী নামে একজনকে ৫০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে রবিউল মুন্সী এসপি হিসাবে পদায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় এসপি হিসাবে যোগদানের পর রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে উক্ত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ নভেম্বর এসপির অধীনস্ত ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এসএম কামরুজ্জামান কর্তৃপক্ষের অনুমতি/ছুটি ছাড়াই ঢাকায় আসেন। তিনি রাজধানীর বিজয় সরণিসংলগ্ন মনিপুরী পাড়ায় রবিউল মুন্সীর অফিসে গিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন।”

স্বরাষ্ট্র সচিবের অভিযোগনামায় এ বিষয়ে আরও বলা হয়, “৫ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক নেসারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধিবহির্ভূতভাবে অধস্তন পুলিশ সদস্যকে অবৈধ পন্থায় ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করেন এসপি। এসব বিষয় অপেশাদার ও অকর্মকর্তাসুলভ কর্মকাণ্ড, কর্তব্য কাজে অবহেলা, বিভাগীয় নিয়মশৃঙ্খলা পরিপন্থি তথা অসদাচরণ এবং দুর্নীতি পরায়ণতার শামিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এসপি আব্দুল হান্নানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অসদাচরণ (মিসকন্ডাক্ট) এবং দুর্নীতি পরায়ণতার (করাপশন) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। একই বিধিমালার ৪(৩) এর উপ-বিধি(ঘ) অনুসারে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে আব্দুল হান্নানকে। কৈফিয়তনামা পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।”

অভিযোগ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু এত গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও আব্দুল হান্নানকে চাকরিচ্যুতির পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘তিরস্কার’ করা হয়। ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
সংস্কারের নামে গণপূর্তে ২২ কোটি টাকার ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন

ঢাকা মেডিকেল ও গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দুই অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ | একই ভবনে একই কাজের একাধিক প্যাকেজ, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি বিল | কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি ভবন, হাসপাতাল, পুলিশ ব্যারাক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কারের নামে গণপূর্ত অধিদফতরের ঢাকার একাধিক বিভাগে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার মেরামতকাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার (এপিপি) আওতায় প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ আগের অর্থবছরেও সংস্কারের নামে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুই অর্থবছরে বিভাগ-৩-এর মোট ২২ কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ না করে বা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং দুটি নার্সিং কলেজ ও ছাত্রাবাসের সংস্কারে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে একই ভবনের একই তলায় একই ধরনের কাজ একাধিক প্যাকেজে ভাগ করা, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ ও বিল প্রস্তুত, দরজা-জানালা মেরামত এবং রং করার নামে কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো এবং ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত, কার্যাদেশ ও মাপবই যাচাই এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  একই ভবনে একই কাজ, একাধিক প্যাকেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েক বছর ধরে একই ধরনের সংস্কারকাজ পুনরাবৃত্তি হওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই ভবনের একই ফ্লোরে একই ধরনের কাজ একাধিক ভাগে দেখিয়ে ব্যয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা মেরামত, ভবনের বিভিন্ন অংশে রং করা এবং অন্যান্য নিয়মিত সংস্কারকাজের নামে প্রতি বছরই অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কিছু কাজ বাস্তবে না করেই অথবা নামমাত্র কাজ করে সম্পূর্ণ কাজের বিল তোলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, অধিকাংশ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে অর্থবছরের শেষ দুই মাস—মে ও জুনে। অর্থবছরের বরাদ্দ শেষ করার তাগিদে জুন মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই ভবনের একই অংশে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন কেন তৈরি হচ্ছে, কাজের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগের বছরের সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়েছে কি না।   ৩৫টি ছোট প্যাকেজে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপিপি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন লাখ টাকার মধ্যে ৩৫টি ছোট প্যাকেজে মোট প্রায় এক কোটি টাকার কাজ দেখানো হয়েছে। এসব কাজের মধ্যে কয়েকটির বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস অফিস ও স্টাফ কোয়ার্টারের বিশেষ মেরামত, গণপূর্ত অফিস-সংলগ্ন কোয়ার্টারে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে আগাছা কাটা, অপসারণ ও পরিষ্কার করা এবং ড্রেন পরিষ্কার ও নবায়ন। এ ছাড়া মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের প্রেস ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ছাদ মেরামত, ভূমি ভবন ও সেটেলমেন্ট প্রেসের বিভিন্ন ড্রেন সংস্কার এবং ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনের কাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। তেজগাঁওয়ের ফরম ও প্রকাশনা অফিসের মোজাইক ফ্লোর পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক মেরামত, বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের বিভিন্ন ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত, বিভিন্ন অংশে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন এবং ড্রেন পরিষ্কারের কাজও রয়েছে এসব প্যাকেজে। জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় জাতীয় হেড, নেক অ্যান্ড থাইরয়েড কংগ্রেস ২০২৫-এর জন্য জরুরি মেরামতকাজ এবং গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার ড্রেন মেরামত ও পরিষ্কারের কাজও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। অন্য প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে সিদ্দিকবাজারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তিন নম্বর ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, বিজি প্রেসের অফসেট শাখার ভেতরে প্রসেস শাখা স্থাপনের জন্য সংস্কার এবং জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের ছাদ মেরামত। বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের এ ও ডি ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত এবং অফিস ও আবাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশে বিশেষ মেরামতকাজও তালিকায় রয়েছে। মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের মেরামত ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজও একই ধরনের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত।   টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যোগসাজশের অভিযোগ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি অংশ টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, টেন্ডার ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে গোপনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অথবা নামমাত্র কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মে নির্বাহী প্রকৌশলীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম, দরপত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি, মালিকানা-সম্পর্ক এবং কার্যাদেশ ও বিলের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দরপত্রের নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং অর্থ পরিশোধের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগকারীরা কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কমিশন নেওয়ার অভিযোগ গণপূর্তের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ১০ শতাংশ কমিশন নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া কাজের ক্ষেত্রে বিলের অর্ধেক অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সূত্রটি। এ ছাড়া গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে পাঁচ শতাংশ কমিশন দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু দুটি বিভাগ নয়, আরও কয়েকটি বিভাগ নিয়ে অভিযোগ গণপূর্ত অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পরিধি শুধু মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগ ও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ, মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ, আরবরিকালচার বিভাগ, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ এবং সাভার গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেও সংস্কারকাজে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।   চার অর্থবছরে ৪৪ কোটি টাকা: নিরীক্ষার দাবি ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, কয়েক বছরের কাজের বিবরণ তুলনা করলে একই ধরনের সংস্কারকাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এসব কাজের স্থায়িত্ব, প্রকৃত প্রয়োজন এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই না করে শুধু বিল ও কাজ সমাপ্তির সনদের ভিত্তিতে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: আগের সংস্কারকাজের পর একই স্থানে পুনরায় কাজের প্রয়োজন কেন হয়েছে, প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় নির্ধারণে কী প্রাক্কলন অনুসরণ করা হয়েছে, কাজের পরিমাপ কে যাচাই করেছেন এবং অর্থ পরিশোধের আগে বাস্তব কাজ পরিদর্শন করা হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে নিয়মিত সংস্কারকাজের আড়ালে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য কী অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী এবং মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ না করে বিল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং সব নিয়ম মেনেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের বিপরীতে অভিযোগকারীরা নথি যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র, প্রকৃত কাজের পরিমাণ এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে সরকারি অর্থে সংস্কারকাজের ক্ষেত্রে শুধু দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ প্রদান কিংবা কাজ সমাপ্তির সনদ থাকলেই ব্যয়ের যথার্থতা নিশ্চিত হয় না। বরং প্রকৃত কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণ, কাজের মান, নির্ধারিত ব্যয় এবং অর্থ পরিশোধের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে: ১. নথি যাচাই: প্রতিটি প্যাকেজের প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ পরীক্ষা। ২. সরেজমিন পরিদর্শন: যেসব ভবন, ছাদ, ড্রেন, ফ্লোর ও আবাসিক স্থাপনায় কাজ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কাজের বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই। ৩. একই কাজের পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা: একাধিক অর্থবছরের কাজের বিবরণ মিলিয়ে একই স্থানে একই ধরনের সংস্কারের যৌক্তিকতা নির্ধারণ। ৪. দরপত্র ও স্বার্থের সংঘাত যাচাই: সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া পরীক্ষা। ৫. আর্থিক নিরীক্ষা: বিল অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং কমিশন লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। সংস্কারের নামে ব্যয় দেখানো অর্থে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, আর কতটুকু ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—তার উত্তর শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে নথি যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্বাধীন নিরীক্ষার ওপর।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
ইব্রাহিম খলিল ও মাহমুদুল আলম

বিএডিসির দুই প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি সরোয়ার এখনো ঢাকা মেট্রোতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ সিন্ডিকেটের ড্রেজিং প্রকল্পে শতকোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসব : নদী খননে শত শত কোটি টাকা, তবু নাব্যতা ফেরে না: বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

আশিক চৌধুরী,  আঁখি বেগম
বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ:ভবনে অগ্নিসংযোগ, দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি

বায়না, পার্টনারশিপ ও হেবা দলিলের অভিযোগ- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘বিউটি সিনেমা হল’ ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ঘিরে কয়েক বছর ধরে চলা বিরোধ এখন গড়িয়েছে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ, জমির মালিকানা, বায়না ও ডেভেলপমেন্ট চুক্তি, হেবা দলিল, ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তার অভিযোগ পর্যন্ত। ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদারদের অভিযোগ, জমিটি কেনা এবং সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তারা ধাপে ধাপে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি নিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রি বায়না হয় এবং এর বিপরীতে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে ডেভেলপমেন্ট ও পার্টনারশিপের মাধ্যমে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চুক্তির মেয়াদ ও অংশীদারিত্ব বহাল থাকা অবস্থায় সম্পত্তির একটি অংশ গোপনে হেবা দলিলের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সম্পত্তি অন্য ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ, ভবনের অংশবিশেষ ভাঙা, গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে  আশিক চৌধুরী,  আঁখি বেগম এবং অভিযোগে উঠে আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া না দেওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ৮ কোটি টাকার জমি, বায়না ও ২ কোটি ৭ লাখ টাকা আবুল হাসান কুদ্দুসের দাবি, বিউটি সিনেমা হলসহ প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করে জমির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বায়না রেজিস্ট্রির সময় নগদ ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ধাপে আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে জুলফিকার আলী চৌধুরীকে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কুদ্দুসের। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ নেওয়ার পর একই সম্পত্তি নিয়ে আক্তারুজ্জামান নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে পুনরায় রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়। এতে প্রথম বায়নাকারী হিসেবে তারা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েন বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানার পর বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য জুলফিকার আলী চৌধুরীর কাছে তারা যোগাযোগ করেন বলেও জানান কুদ্দুস।   বায়না থেকে ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প পরিস্থিতির সমাধান করতে পরে তাদের একজন ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের কাছে নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এরপর বিউটি সিনেমা হলের জমিতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় আবুল হাসান কুদ্দুসসহ তিন অংশীদারকে প্রকল্পে মোট ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ করে। পাশাপাশি প্রকল্পের স্টল ও ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে পাওয়া প্রথম লভ্যাংশের মাধ্যমে আগের বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। এই পর্যায়ে আগের বায়না বাতিল করে কাজী মফিজুল ইসলামকে ডেভেলপার হিসেবে যুক্ত করে নতুন পার্টনারশিপ ডিড করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কুদ্দুসের দাবি, বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা হিসেবে ২ কোটি টাকার পাঁচটি চেকও দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পে বিনিয়োগ ১০ কোটি টাকার বেশি—দাবি ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতার পর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। আবুল হাসান কুদ্দুসের দাবি, ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলাম প্রকল্পে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। একই সময়ে জমির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরীকেও আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা দেওয়া হয়। আগের বিনিয়োগের অর্থসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু এত অর্থ বিনিয়োগের পরও প্রকল্পের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। পার্টনারশিপ চলার মধ্যেই হেবা দলিলের অভিযোগ বিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর একটি হলো সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্টনারশিপ ও প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় জুলফিকার আলী চৌধুরী তার ছেলে আশিক চৌধুরীর নামে সম্পত্তির একটি অংশ হেবা দলিল করে দেন। তাদের দাবি, পরে ওই হেবা দলিলকে ভিত্তি করে আশিক চৌধুরী অন্য ডেভেলপারদের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের কাছে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে এ কারণে যে, তাদের দাবি করা বিনিয়োগ, অংশীদারিত্ব ও প্রকল্প-সংক্রান্ত চুক্তির পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে—কোন চুক্তি কখন হয়েছে, কোন অর্থ কার কাছে গেছে এবং পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির ওপর কী ধরনের মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।  বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার অভিযোগ কুদ্দুসের অভিযোগ, পাওনা অর্থ ও চুক্তির অধিকার দাবি করার পর থেকেই তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বুলডোজার দিয়ে ভবনের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আবার নিজেদের কার্যালয়ে বসার চেষ্টা করলে নতুন করে চাপ ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে দাবি তার। কুদ্দুসের আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বায়না, ডেভেলপমেন্ট চুক্তি, পার্টনারশিপ ডিডসহ বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করেন। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টরা সরে যান বলে দাবি করেন তিনি।   গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, এরপর অগ্নিকাণ্ড বিউটি সিনেমা হলের ভবনকে ঘিরে বিরোধের আরেকটি গুরুতর অভিযোগ অগ্নিসংযোগ। কুদ্দুসের অভিযোগ, ভবনে আগুন দেওয়ার আগে গভীর রাতে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নগরীর লিমন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আশিক চৌধুরীর নির্দেশে লিমন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এরপরই ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস। তার ভাষ্য, ভবন খালি করা এবং জমি থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের বক্তব্য, আগুনের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মামলা চলার মধ্যেই নতুন ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তির অভিযোগ কুদ্দুসের দাবি, জমি ও ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই লিমন নামের ওই ব্যক্তি আশিক চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির এক সাবেক নেতার মাধ্যমে অন্য ডেভেলপারদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এ সময় মোটা অঙ্কের চেক লেনদেনের মাধ্যমে একটি চুক্তিও করা হয়। কুদ্দুসের অভিযোগ, ওই চুক্তির পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদ এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানো শুরু হয়। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মামলা ও তদন্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে এগোতে না পারে, সে জন্য প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস। বিদেশ থেকে ফোনে হুমকির অভিযোগ ভুক্তভোগী আবুল হাসান কুদ্দুস আরও অভিযোগ করেন, আশিক চৌধুরীর বোন আঁখি বেগম বিদেশে অবস্থান করেও বিরোধের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করে আঁখি বেগম দেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন কুদ্দুস। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও রয়েছেন। জমি ও প্রকল্প নিয়ে আইনি লড়াই চললেও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ কুদ্দুসের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আশিক চৌধুরী বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন। তার দাবি, আশিক চৌধুরীর তৃতীয় স্ত্রী আমিনা বেগমের সিলেটে গ্রামের বাড়ি থাকার সূত্র ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করেও তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল মহানগরের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দাবি করেও তাদের ভয় দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস। তিনি আরও দাবি করেন, আশিক চৌধুরী বরিশাল মহানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।   আশিকের বিদেশে অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন   আবুল হাসান কুদ্দুস আশিক চৌধুরীর বিদেশে অবস্থান ও প্রবাসী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, বিভিন্ন আদালত ও বিভিন্ন স্থানে আশিক নিজেকে বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি সেসব মামলায় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস।   ভবনে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে ভুক্তভোগীরা যে অভিযোগ তুলছেন, তা হলো ভবনে বর্তমানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, ভবনে থাকা কয়েকজন বাসিন্দাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আশিক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং যেকোনো সময় ‘দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ভবনে অবস্থানরত মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আশিক চৌধুরীর কাছ থেকে নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান বলেও জানিয়েছেন।   তাহলে ১০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কী হবে? বিউটি সিনেমা হলের জমি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের ভবিষ্যৎ কী? ভুক্তভোগীদের হিসাব অনুযায়ী, বায়না, ডেভেলপমেন্ট ও পার্টনারশিপের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই বিপুল বিনিয়োগের পরও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ফলে একদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েছে, অন্যদিকে জমির মালিকানা, বায়না, হেবা দলিল এবং ডেভেলপমেন্ট চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   দলিল, চেক ও লেনদেনের নথিই দিতে পারে উত্তর প্রথম বায়না দলিল, পরবর্তী পার্টনারশিপ ডিড, হেবা দলিল, ২ কোটি টাকার পাঁচটি চেক, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড, জমির রেজিস্ট্রি নথি, আদালতে চলমান মামলার কাগজপত্র এবং নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি—সবগুলো নথি পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন, মামলার এজাহার ও তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে কোনো নথি বা তদন্ত আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীরা জানতে চান—চুক্তি বহাল থাকার সময় সম্পত্তির মালিকানা কীভাবে পরিবর্তিত হলো, একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক বায়না কীভাবে করা হলো, প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থের হিসাব কোথায়, মামলা চলাকালীন নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি কীভাবে হলো এবং অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না। বরিশালের বিউটি সিনেমা হলের ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে কী ঘটছে? ৮ কোটি টাকার জমিতে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা বায়না, পরে ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটির বেশি বিনিয়োগের দাবি। পার্টনারশিপ চলার মধ্যেই হেবা দলিল, ভবন ভাঙার অভিযোগ, গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের পর অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—সব মিলিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। আসল মালিকানা কার, টাকা গেল কোথায় এবং অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কারা?   নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদাররা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কাছে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বায়না দলিল, পার্টনারশিপ ডিড, চেক, অর্থ লেনদেনের নথি, হেবা দলিল, অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এবং পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত চুক্তিগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করা হলে বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে কারা জড়িত, জমি নিয়ে মামলা চলাকালে নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি কীভাবে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা বৈধ কাগজপত্র ও বিনিয়োগের প্রমাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই করছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি বিউটি সিনেমা হল ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমিকে ঘিরে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু দুই পক্ষের ব্যবসায়িক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল অর্থ, জমির মালিকানা, একাধিক চুক্তি, হেবা দলিল, ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, অগ্নিকাণ্ড এবং ভবনে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই অবস্থায় ভুক্তভোগীদের দাবি—প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দলিলপত্র, অর্থের উৎস ও লেনদেন, চুক্তির ধারাবাহিকতা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

ইইডির শীর্ষ পদ দখলের দৌড়: পদোন্নতি, সিন্ডিকেট ও বিতর্কের অভিযোগে অস্থিরতা

এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: শফিকুর রহমানকে ঘিরে অনুসন্ধান

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে গালাগাল, লাঞ্চিত ও হুমকি : নেপথ্যে কী?

বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে  একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হয়নি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪  তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।  জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪  তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা।     যত অপকর্ম :সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি।    সরকারি অফিস সময় না মানার অভিযোগ:  পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি।  অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   আর্থিক যত অনিয়ম: ২০২২-২৩  অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।  ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে  ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি।   ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগ  ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও  বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন।  শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন।  অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ।  ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।    সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার :  অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত  ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না।  বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।  টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা : প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে। এ বিষয়ে  সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি।    অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি:    নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান।  শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।  অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে।   বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় : নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন। কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি। সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি  দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।    প্রাথমিক শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যে উৎসাহিত করা:  সম্প্রীতি বিভিন্ন অনলাইল নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি চিঠি যাহার স্মারক নং-৩৮.০১.১০০০.০০০.২৭.০১.২০২৬.৩৮৯ প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের লিখিত ভাবে জানান, কোচিং করানো যাবে তবে স্কুল সময়ের পরে। অথচ  শিক্ষামন্ত্রী বলছে স্কুল শিক্ষকদের বাহিরে বানিজ্যিক কোচিং চলবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কর্ণপাত না করে তিনি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষমতা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন এ সকল অপকর্ম।      ডেপুটেশন বানিজ্য:  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন।   এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে  একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিনকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0

অগ্রণী ব্যাংকের মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ হাউজে কোটি টাকার অনিয়ম, নিরীক্ষায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এখনও বহাল

নাসিমুল গনি ও আব্দুল হান্নানকে ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম ও বিভাগীয় শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

ঘুস ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রেশন হয়না সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0