Brand logo light
বাংলাদেশ

প্রবেশপত্র না পেয়ে পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অবস্থান নিয়ে গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী এই অবরোধ শুরু করেন।

অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পরীক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নেন।

ঘটনাস্থলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা দ্রুত প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৩৬ জন পরীক্ষার্থীও বিকেল পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান।

এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক গুরুতর ভুল ধরা পড়ে। কারও বিভাগ পরিবর্তন, কারও ছবির গরমিল এবং কারও অভিভাবকের নাম ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
নেত্রকোনায় ধর্ষণের ১৩ বছর পর আদালতের রায়: ডিএনএ পরীক্ষায় কন্যাশিশুর পিতৃত্ব নিশ্চিত, আসামির যাবজ্জীবন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া একটি কন্যাশিশুর পিতৃত্ব অবশেষে আদালতের রায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া ওই শিশুটি অভিযুক্তের সন্তান হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবে এবং তার পিতার সম্পত্তিতে আইন অনুযায়ী অংশীদার হওয়ার অধিকারও থাকবে। কী ঘটেছিল? আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ মার্চ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমের ছেলে মো. হেলাল একই এলাকার এক বিধবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার নয় দিন পর, ১০ মার্চ, ভুক্তভোগীর বোন বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগীর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু এবং অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তের পিতৃত্ব নিশ্চিত হলে আদালত সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম এমদাদুল হক রায় ঘোষণা করেন। আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মামলার অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত মো. হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যু, সন্তানের আইনি পরিচয় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, ধর্ষণের শিকার নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রায় এক বছর পর স্বাভাবিকভাবে মারা যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটি তার পিতৃত্বের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আদালত উল্লেখ করেছেন, শিশুটি তার বাবার সম্পত্তিতে আইনগত অংশ পাওয়ার অধিকারী হবে। মামলার আইনজীবীরা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নূরুল কবীর রুবেল। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মানবেন্দ্র বিশ্বাস উজ্জ্বল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? এই মামলার অন্যতম তাৎপর্য হলো, ফৌজদারি বিচারে ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে আদালত শুধু ধর্ষণের অভিযোগই প্রমাণ করেননি, একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্বও আইনগতভাবে নিশ্চিত করেছেন। এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে যৌন সহিংসতার মামলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব এবং ভুক্তভোগীর সন্তানের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অভিযানে ১১ নারী আটক: সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের অভিযোগ

খাল পুনর্খনন কর্মসূচিতে শ্রমিকের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

খাল খননের শ্রমিক তালিকায় চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক ও প্রবাসীর নাম—গাবতলীর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

রেললাইন পানিতে ডুবে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, ৮০০ যাত্রীর দুর্ভোগ

বঙ্গোপসাগরে দুই ট্রলার ডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে কোস্টগার্ড, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে দুটি ট্রলার ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। ট্রলার দুটির মালিক ছিলেন তপন জোমাদ্দার ও আলমগীর খলিফা। রাতে হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি হলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে প্রথমে আলমগীর খলিফার ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন ওই ট্রলারের জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে আশ্রয় নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে যায়। এতে ১৮ জন জেলেই সাগরে ভেসে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভেসে থাকার পর রাত ৩টার দিকে অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা উদ্ধার হওয়া জেলেরা তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন: খলিল মাস্টার হৃদয় জোমাদ্দার দুলাল ইমরান ফারুক আল-আমিন মনির আশরাফুল জামাল ইমরান শামীম নাসির সাগর আছিফ নাসির নুরুজ্জামান নিখোঁজ দুই জেলে এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একই ইউনিয়নের কালাম পাইকার ও শহীদ নামে দুই জেলে। তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব কেন? কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, “বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে প্রশাসন।” সমুদ্রে নিরাপত্তা প্রস্তুতি কতটা ছিল? এই দুর্ঘটনা আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলোর জন্য আগাম সতর্কবার্তা, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব শাখায় ভুয়া বিল কেলেঙ্কারি:তিন কনস্টেবল বরখাস্ত

উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে

উখিয়ায় পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা মাদ্রাসায় ৮ শিশুর মৃত্যু

আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ফাতিমা তাসনিম জুমা

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়লেন জাবের ও জুমা: ওয়ারিশ ইস্যু ও ট্রাস্ট প্রশ্নে নতুন আলোচনা

নুসরাত জাহান নিপা।
তৃতীয়বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বরিশালের নিপা, কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড

বরিশাল অফিস :    একের পর এক ভিন্নধর্মী দক্ষতায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরছেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা। এবার কাগজ দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন নিপা। বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। সবশেষ রেকর্ডটি তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গড়েন। যদিও সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ও সনদ হাতে পেয়েছেন। এই বিভাগে এর আগে চীনের প্রতিযোগীর দখলে থাকা ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে নিপা মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। নিপা জানান, কাগজ নির্দিষ্ট কৌশলে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করার এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল। তবে বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঘরে বসেই অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের পাশাপাশি নিজের শহর বরিশালকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করানোর লক্ষ্য থেকেই এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান তিনি। নিপার বিশ্বরেকর্ড যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাতে মাত্র এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আর এবার কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেন। নিপার এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব—নিপার সাফল্য সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আনছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0

কক্সবাজারে এক রাতে ১১ প্রাণহানি: পাহাড়ধস কি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার পরিণতি

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ: যুবলীগের দুই নেতা গ্রেফতার, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

ভোলার মনপুরায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: স্লুইসগেট অচল, বেড়িবাঁধ প্রকল্পে বাড়ছে দুর্ভোগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0