ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী এমন অভিযোগ করলেও, এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তাঁর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ।
দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি।
কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কয়েকজন বলেন, তিনি কখন অফিসে আসবেন—সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কাজ আটকে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
একজন ঠিকাদার বলেন,
"আমরা কাজ শেষ করার পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে প্রধান কর্মকর্তাকে না পেলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
আরেকজনের দাবি, জরুরি ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিও প্রভাবিত হচ্ছে।
কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কাজ শেষ করার পর বিল অনুমোদন ও পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন।
তাদের ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রী কেনা, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। বিল আটকে গেলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়।
কার্যালয়ের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
একজন কর্মচারী বলেন,
"তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।"
আরেকজন বলেন,
"এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।"
স্থানীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করেন, জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়।
তবে কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বা নির্দিষ্ট অনিয়ম ঘটেছে—এমন প্রমাণ অভিযোগকারীরা উপস্থাপন করতে পারেননি। তারা মূলত নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।
কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে পাওয়া যায় না।
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে।
ফরিদপুরে বর্তমানে সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তবে এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কিংবা নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।
তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিতে ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কার্যালয়ের কিছু কর্মচারী এমন অভিযোগ করলেও, এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অফিসে গিয়ে যা দেখা গেল সম্প্রতি ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তাঁর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ। দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, ওই সময় পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসেননি। কার্যালয়ের অন্যান্য কক্ষে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলীর অবস্থান সম্পর্কে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। কয়েকজন বলেন, তিনি কখন অফিসে আসবেন—সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যোগাযোগের চেষ্টা, সাড়া মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারদের অভিযোগ কী? নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফাইল অনুমোদন, কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কাজ আটকে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। একজন ঠিকাদার বলেন, "আমরা কাজ শেষ করার পরও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অফিসে এসে প্রধান কর্মকর্তাকে না পেলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের গতি কমে যায়। এতে শুধু ঠিকাদার নয়, সরকারের প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।" আরেকজনের দাবি, জরুরি ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিও প্রভাবিত হচ্ছে। বিল পরিশোধেও বিলম্বের অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, কাজ শেষ করার পর বিল অনুমোদন ও পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে পড়ছেন। তাদের ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রী কেনা, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নির্বাহে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ প্রয়োজন হয়। বিল আটকে গেলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। কর্মচারীদের সতর্ক অবস্থান কার্যালয়ের কয়েকজন অধস্তন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। একজন কর্মচারী বলেন, "তিনি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি কখন অফিসে আসবেন বা যাবেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমাদের নেই।" আরেকজন বলেন, "এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না।" তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় কয়েকজন পর্যবেক্ষক মনে করেন, জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদটি সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়। তবে কোনো প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বা নির্দিষ্ট অনিয়ম ঘটেছে—এমন প্রমাণ অভিযোগকারীরা উপস্থাপন করতে পারেননি। তারা মূলত নিয়মিত তদারকির অভাবের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অনেক সময় নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে পাওয়া যায় না। বিধিমালা কী বলছে? সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। চলমান প্রকল্পের অবস্থা ফরিদপুরে বর্তমানে সরকারি ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, কিংবা নির্বাহী প্রকৌশলীর উপস্থিতির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অননুমোদিত উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি এবং উত্তরা মোটরস বৈধভাবে এসব যানবাহন সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছে। রানার গ্রুপের ময়মনসিংহের ভালুকিয়ায় অবস্থিত কারখানায় ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে সিএনজি সংযোজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে, যা বাংলাদেশের অনুমোদিত মডেলের বাইরে। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ইঞ্জিন ক্ষমতা কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দুদক ও এনবিআরে লিখিত অভিযোগ গত ২১ মে মো. আল আমীন নামের এক ব্যক্তি দুদকের চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, মগবাজারভিত্তিক ‘দ্বীন ইসলাম মোটরস’-এর স্বত্বাধিকারী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ আমদানি করা একটি চালানে প্রতি ইউনিট সিএনজির মূল্য মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার দেখানো হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে ওই চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে। ১৭ চালানে ৭২৫ ইউনিট আমদানির তথ্য কাস্টমস ও এনবিআর সূত্রের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি চালানে ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আমদানির ফলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। বছরভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী— ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ২১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত মূল্য এবং বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, যা আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বৈধ আমদানির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ১০০টি বৈধ বাজাজ সিএনজি উৎপাদনের জন্য রানারকে প্রায় ছয় কনটেইনার যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। এসব যন্ত্রাংশের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে সংযোজিত একটি বাজাজ সিএনজির বিক্রয়মূল্য, কর ও ভ্যাটসহ প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২৩৬ সিসির যেসব সিএনজি আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত মডেল এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। রানার অটোমোবাইলস যা বলছে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” কোম্পানিটির দাবি, অনুমোদনহীন উৎস থেকে পণ্য আমদানির কারণে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুলসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, মিরপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে একটি দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, “আমি ইনভেস্টর না, আমদানিও করি না। ইনভেস্টর হচ্ছে আমার ছেলে দ্বীন ইসলাম। সেই বিষয়টি সম্পর্কে সে জানতে পারবে।” তবে অভিযোগে উত্থাপিত শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব তিনি দেননি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযোগ? বাংলাদেশে মোটরযান বিক্রি ও সড়কে পরিচালনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। মোটরযান আইন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো যানবাহন বিক্রি বা সড়কে পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত যানবাহন আমদানি, শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না; একই সঙ্গে বাজারে বৈধ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। তদন্তের দাবি সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এনবিআর, বিআরটিএ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি এবং রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
পিরোজপুরে এলজিইডি প্রকল্পে ‘কাজহীন’ ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত হাজার হাজার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে এনেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, জেলার অনুমোদিত ২ হাজার ৪৬০টি প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৬১০টিতে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। টেন্ডার ও বিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও এক যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন পেয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি অনুসন্ধানে সাবেক সংসদ সদস্য, এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা কমিশনের এক সাবেক সচিবসহ একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনিয়মের ধরন ছিল সুসংগঠিত। প্রকল্প অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বান ও কার্যাদেশ দেওয়া হলেও পরে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নির্মাণকাজ হয়নি। কিন্তু ট্রেজারি থেকে বিল তুলে নেওয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঠিকাদাররা টাকা তুলে বিদেশে চলে গেছেন। দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে।” ১৮ মাস বন্ধ উন্নয়নকাজ পিরোজপুরে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর উন্নয়নকাজ স্থবির থাকার বিষয়টিকেও “ভয়াবহ” হিসেবে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। তার মতে, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, হাটবাজার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প থেমে যাওয়ায় জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু সড়ক অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয় মানুষের চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুদকের তদন্ত চলমান থাকায় মৌখিক নির্দেশে অনেক উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা ছিল না। ২৪ ঘণ্টায় ডিপিপি অনুমোদনের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ার অভিযোগ। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন বছরের প্রকল্পে প্রথম বছরেই পুরো বরাদ্দ তুলে নেওয়ার ঘটনাও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ধরনের অভিযোগ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, তদারকি ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। “ব্রিজ আছে, সংযোগ সড়ক নেই” প্রকল্প পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতার উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও সেখানে সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়ার একটি সেতুর উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুতে এখনো মানুষ মই ব্যবহার করে ওঠানামা করছে, কারণ সংযোগ সড়কের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তার মতে, এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, পরিকল্পনাগত ব্যর্থতারও প্রতীক। নতুন তদন্ত কমিটি ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ১২ মে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার প্রকল্প কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে। মীর শাহে আলম বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা পাঠানো হবে। সীমিত পরিসরে ফের শুরু হতে পারে কাজ প্রতিমন্ত্রী জানান, পিরোজপুরের তিন সংসদ সদস্য ও এক প্রতিমন্ত্রীর আবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তার নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেন। কমিটি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে দুদকের তদন্তাধীন প্রকল্প বাদ দিয়ে অন্যান্য অসমাপ্ত প্রকল্প সীমিত পরিসরে পুনরায় চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের পর একটি প্রতিনিধিদল পিরোজপুর সফর করবে এবং সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উন্নয়নকাজ আংশিকভাবে পুনরায় শুরু করা হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ইজিবাইক নিবন্ধন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে, তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অনুরূপ যানবাহন নিবন্ধনের জন্য নতুন আইন আনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুয়েট অনুমোদিত নকশার যানবাহন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে রাজস্ব আয় বাড়াতেও সহায়ক হবে।