ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।
অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ একটি ফৌজদারি মামলার (সি.আর. নং-১১৮/২০২৫) ১১০ নম্বর আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বিচারাধীন।
সরকারি চাকরিতে বিচারাধীন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন বিধান থাকলেও, এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—
একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারি কাজ বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ছিল।
কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কমিশনের বিনিময়ে বিল অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
আজিমপুর এলাকায় একটি নির্মাণকাজ চলাকালে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের একাধিক এপিপিভুক্ত প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এভাবে দরপত্র আহ্বান করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বিনিময়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে যেসব দরপত্র আইডির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১০৯৯১০৪, ১০৮৭৩৪৩, ১০৫৫৫৯৮, ১০৩৮৬৬৫, ১০৩৮২৯৮, ১০৩৭৪৭৯, ১০২৯৯৯০, ১০২৯১৬৭, ১০২৮০৮৫, ১০২৭৬৯৯, ১০২৭৫৮৯, ১০২৫৩২২, ১০১৩০৭৬ এবং ১০১১৬৬৩।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে যোগদানের পর ইলিয়াস আহমেদ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
এতে সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর, হবিগঞ্জের সাকিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের মাহামুদুল হাসান এবং সুনামগঞ্জের নাজমুল হাসান হিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছে।
সিলেট ক্যান্সার, হার্ট ও কিডনি হাসপাতাল প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকার একটি দরপত্র (আইডি: ১০৯০৬৬১) ডিপিপির বাইরে আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রিজিওনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি পৃথক প্যাকেজ একত্রিত করে একটি বড় দরপত্র (আইডি: ১০৮৯০২১) আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্রে সাব-স্টেশন, জেনারেটর, এসি, বৈদ্যুতিক কেবল, ইন্টারনেট, টেলিফোন নেটওয়ার্ক এবং সিসিটিভিসহ এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব।
এতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
একাধিক সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ তার সরকারি চাকরির সময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তার রয়েছে—
তবে এসব সম্পদের বিষয়ে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ বণ্টনে কমিশন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার বাণিজ্য এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইলিয়াস আহম্মেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই গুরুতর। তবে এগুলোর অনেকগুলোই এখনও তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়াধীন, অথবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি। চলমান ফৌজদারি মামলা অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ একটি ফৌজদারি মামলার (সি.আর. নং-১১৮/২০২৫) ১১০ নম্বর আসামি। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় বিচারাধীন। সরকারি চাকরিতে বিচারাধীন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন বিধান থাকলেও, এই মামলার প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। দীর্ঘ সময় ঢাকায় দায়িত্ব প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— ২২ এপ্রিল ২০১৫: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ ১৮ জানুয়ারি ২০১৭: ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭: আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩: গণপূর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩: সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রভাব ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারি কাজ বণ্টন, বিল অনুমোদন এবং কমিশন গ্রহণের অভিযোগ ছিল। কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, প্রকল্প অনুমোদন এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। আজিমপুর প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কমিশনের বিনিময়ে বিল অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে সরকারের কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় বিতর্ক আজিমপুর এলাকায় একটি নির্মাণকাজ চলাকালে শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। সিলেট গণপূর্তে টেন্ডার সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস আহমেদের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম ব্যবহারের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের একাধিক এপিপিভুক্ত প্রকল্পে এলটিএম (LTM) পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এভাবে দরপত্র আহ্বান করে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের বিনিময়ে কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে যেসব দরপত্র আইডির উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— ১০৯৯১০৪, ১০৮৭৩৪৩, ১০৫৫৫৯৮, ১০৩৮৬৬৫, ১০৩৮২৯৮, ১০৩৭৪৭৯, ১০২৯৯৯০, ১০২৯১৬৭, ১০২৮০৮৫, ১০২৭৬৯৯, ১০২৭৫৮৯, ১০২৫৩২২, ১০১৩০৭৬ এবং ১০১১৬৬৩। 'সিন্ডিকেট' গঠনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে যোগদানের পর ইলিয়াস আহমেদ কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাফর, হবিগঞ্জের সাকিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের মাহামুদুল হাসান এবং সুনামগঞ্জের নাজমুল হাসান হিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র অনুমোদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছে। ডিপিপির বাইরে দরপত্রের অভিযোগ সিলেট ক্যান্সার, হার্ট ও কিডনি হাসপাতাল প্রকল্পে প্রায় ১৮ কোটি টাকার একটি দরপত্র (আইডি: ১০৯০৬৬১) ডিপিপির বাইরে আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ প্যাকেজ একত্র করে সীমিত প্রতিযোগিতার অভিযোগ বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের রিজিওনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি পৃথক প্যাকেজ একত্রিত করে একটি বড় দরপত্র (আইডি: ১০৮৯০২১) আহ্বান করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্রে সাব-স্টেশন, জেনারেটর, এসি, বৈদ্যুতিক কেবল, ইন্টারনেট, টেলিফোন নেটওয়ার্ক এবং সিসিটিভিসহ এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা অল্প কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব। এতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, ইলিয়াস আহম্মেদ তার সরকারি চাকরির সময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার রয়েছে— ঢাকার ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাট বরিশালে ব্যয়বহুল একটি মসজিদ বিদেশে একটি বাড়ি আত্মীয়দের নামে ব্যাংক হিসাব বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ তবে এসব সম্পদের বিষয়ে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সিলেটেও একই অভিযোগ? স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সিলেটে দায়িত্ব নেওয়ার পরও প্রকল্প অনুমোদন ও কাজ বণ্টনে কমিশন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দুদকের তদন্তের দাবি অভিযোগে বলা হয়েছে, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে টেন্ডার বাণিজ্য এবং অগ্রিম বিল পরিশোধের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত চলছে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইলিয়াস আহম্মেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন রয়ে যায় ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই গুরুতর। তবে এগুলোর অনেকগুলোই এখনও তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়াধীন, অথবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সুশাসন বিশ্লেষকরা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চন্দ্রহার খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খাল পুনঃখননের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। একদিকে খালের গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র বলছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাটাজোর ইউনিয়ন থেকে সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী (আগরপুর) পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ‘পুনঃখনন’ নাকি শুধু খালের পাড় ঘষামাজা? স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে খালের গভীরতা বৃদ্ধি না করে দুই পাড়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার কাজ চলছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একাধিক কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি নাব্যতা হারিয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে তারা কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের আশা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, তাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে তাদের আশঙ্কা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ‘বাছাই নীতি’? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, খালের দক্ষিণ পাড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিগত গাছ ও স্থাপনা অপসারণ করা হলেও রাস্তার পাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের উভয় পাড় থেকে সমানভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে না এবং পুনঃখননের কার্যকারিতাও সীমিত থাকবে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের স্থাপনা সরানো হয়েছে, সেখানে রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানগুলো কেন বহাল রয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।” সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সরকারি রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের দাবি, খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দিনের বেলায়ই রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশ্য নিলাম, টেন্ডার বা সরকারি অনুমোদনের তথ্য স্থানীয়রা জানেন না। কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। খালের পাড় ভাঙনের আশঙ্কা স্থানীয়দের আরেকটি উদ্বেগ খনন পদ্ধতি নিয়ে। তাদের দাবি, ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালনার ফলে খালের দক্ষিণ পাড়ের বিভিন্ন অংশে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে ভবিষ্যতে পাড় রক্ষা, ভূমিক্ষয় এবং খালের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুর রব হাওলাদার অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তদন্তের দাবি স্থানীয়দের দাবি, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বৈষম্য, সরকারি গাছ অপসারণের বৈধতা এবং খননকাজের মান যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রকল্পটি যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে। জমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগ শুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন। নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকান রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাভারে বাংলোবাড়ি সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। পূর্বাচলে জমির পর জমি পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাব একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ—মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন সহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জবাবদিহির দাবি সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তদন্তের নতুন পর্যায়? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।