দেনমোহর নিয়ে বিরোধ, হুমকি ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ; আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন
একাধিক অভিযোগ, দাম্পত্য বিরোধ এবং দেনমোহর নিয়ে আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন ঢাকা কর অঞ্চলের এক কর পরিদর্শককে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের পর স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি চলে যান, পরে ফোনে বিচ্ছেদের কথা জানান এবং দেনমোহর নিয়ে আইনি পদক্ষেপ না নিতে হুমকি দেন।
অভিযুক্ত কর পরিদর্শক মু. কবির হোসেন ঢাকা কর অঞ্চল-২৫-এর কর সার্কেল-৫৪৩-এর উপকমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে কর পরিদর্শক মু. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদ বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
পরোয়ানাটি কার্যকরের জন্য পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেনের কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পৌঁছেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, পরোয়ানা জারির খবর জানার পর কবির হোসেন আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আদালতে চলমান মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কবির হোসেন আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এই তথ্য গোপন করেই তিনি পিরোজপুরের বাসিন্দা মো. বেলায়েত হোসেন শেখের মেয়ে হাফসা আক্তার বাবলিকে বিয়ে করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, বিয়ের কয়েক মাস পর কবির হোসেন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে যান এবং প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যান। এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কবির হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফোন করে বিচ্ছেদের কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, ওই ফোনালাপে দেনমোহর আদায়ের জন্য মামলা বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মুসলিম পারিবারিক আইনে দেনমোহর স্ত্রীর একটি স্বীকৃত আর্থিক অধিকার। বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহরের অর্থ কখন, কীভাবে এবং কতটুকু পরিশোধযোগ্য হবে, তা বিবাহের শর্ত ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এই মামলায় ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যের কথা বলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই অর্থ পরিশোধ এড়াতেই কবির হোসেন বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন।
দেনমোহর পরিশোধের দায় নির্ধারণে শুধু বিচ্ছেদের ঘোষণা নয়, বিবাহের শর্ত, পরিশোধের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, তালাকের কথা ফোনে জানানো হলে সেটির আইনি কার্যকারিতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিধান ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে হয়।
দেনমোহর আদায় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্ত্রী দাবি করলে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতের ওই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে, দেনমোহরের নির্ধারিত অর্থ কোনো পরিস্থিতিতেই কমানো বা মওকুফ করা যায় না—এমন সর্বজনীন বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রযোজ্য আইন, বিবাহের শর্ত এবং স্বেচ্ছায় মওকুফের বিষয়টি কীভাবে বিবেচিত হয়, তা আইনজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
কবির হোসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং কর্মস্থলে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মীর ভাষ্য, বিভিন্ন অভিযোগের পর তিনি মাঝেমধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতেন এবং এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নজরে এসেছে কি না, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে কর্মচারীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তথ্য, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং প্রযোজ্য চাকরিবিধির আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি।
দেনমোহর নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নারীর আইনগত অধিকার এবং আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নারী অধিকারকর্মীরা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক রেজিনা পারভীনের বক্তব্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো নারীকে তাঁর প্রাপ্য দেনমোহর থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেনমোহর নারীর আর্থিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত; এ নিয়ে প্রতারণা বা অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এ ছাড়া কয়েকটি নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী নারীর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিয়ের সময় আগের বিবাহের তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না, বিয়ের নিবন্ধন ও দেনমোহরের শর্ত কী ছিল, বিচ্ছেদের কথা জানানোর পর কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং বাদীপক্ষের উত্থাপিত হুমকি ও হয়রানির অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে নথি, সাক্ষ্য ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর।
একই সঙ্গে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
শূন্যপদ না থাকলেও দুই শিক্ষিকার পারস্পরিক বদলি; ঘুষ লেনদেন ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও দুই শিক্ষিকার পারস্পরিক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। নিয়মিত অনলাইন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বদলি সম্পন্ন করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বদলির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আদেশ বাতিলের আবেদন করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকেও বদলিটি বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেই আশ্বাসের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি বদলির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি। শূন্যপদ না থাকলেও কীভাবে হলো বদলি? সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি সদর উপজেলার কুতুবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা খান এবং সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা জাহান বর্নার মধ্যে পারস্পরিক বদলির আদেশ জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দুই বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল না। এ দাবি সঠিক হলে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, পদসংক্রান্ত শর্ত এবং অনুমোদিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, প্রচলিত অনলাইন ব্যবস্থার পরিবর্তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি—আইপিইএমআইএসে (IPEMIS) বদলি-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে আদেশ বাতিলের আবেদন করা হয়। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: বদলির আবেদন কে প্রস্তুত করেছিলেন? আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছিলেন কে? কোন নথি ও বিধির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বদলির মূল আবেদন, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, অফিস আদেশ এবং আইপিইএমআইএসের রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বদলির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে বদলির ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষিকা শামীমা খানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বদলির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া শামীমা খান ও তাঁর স্বামী, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা জাহান বর্নাকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বদলির আবেদনে স্বাক্ষর করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই আবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়। তবে আর্থিক লেনদেন কিংবা কাউকে বিভ্রান্ত করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু, যোগাযোগের রেকর্ড এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বদলির আবেদনকারী দুই শিক্ষিকার বক্তব্যও নেওয়া জরুরি। তাঁরা কী বুঝে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, বদলির বিষয়ে তাঁদের সম্মতি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। বাতিলের আশ্বাস, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায়? বদলির আদেশ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর তা বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, অনিয়মের মাধ্যমে এ ধরনের বদলি হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং বদলিটি বাতিল করা হবে। কিন্তু বাতিলের আশ্বাসের পর আদেশটির বর্তমান অবস্থা কী, তা স্পষ্ট নয়। আদেশ বাতিল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লিখিত আদেশ ও বাস্তবায়নের নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন। আর বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হয়ে থাকলে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করা দরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলিটিকে ভুল বলে স্বীকার করার পরও আদেশ বাতিলের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করছেন। একই সঙ্গে আইপিইএমআইএসে বদলি কার্যকরের চেষ্টা অব্যাহত রাখার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি দপ্তরে কোনো সিদ্ধান্ত ভুল বলে চিহ্নিত হলে সেটি সংশোধনের ক্ষেত্রে মৌখিক আশ্বাসের চেয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে কী জানা গেল? এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, মিউচুয়াল বদলি নিয়ে তাঁর ভুল হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় অফিসের অন্যরাও জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন। অফিসের অন্যরা জড়িত থাকলে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, কারা আবেদন প্রস্তুত করেছিলেন, কে আদেশ অনুমোদন করেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করেই তদন্ত শেষ করা যথেষ্ট হবে না। বদলির আবেদন তৈরি, যাচাই, অনুমোদন, আদেশ জারি এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার কী দায়িত্ব ছিল, তা চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বরিশাল শহরে একাধিক ফ্ল্যাটের অভিযোগ, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষক বদলির অভিযোগের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বরিশাল শহরের বৌদ্ধপাড়া এলাকায় মেগা হেরিটাস নামের দশতলা ভবনে তাঁর একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যথাযথ নথির ভিত্তিতে যাচাই করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল, ক্রয়ের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তদন্তে যেসব বিষয় যাচাই করা জরুরি ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শিক্ষক বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্যপদের তথ্য যাচাই: কুতুবনগর ও সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির তারিখে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ, কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা এবং শূন্যপদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বদলির নথি পরীক্ষা: আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি, অনুমোদন এবং আদেশ জারির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে কোন বিধির ভিত্তিতে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করতে হবে। তৃতীয়ত, আইপিইএমআইএসের তথ্য পর্যালোচনা: বদলি-সংক্রান্ত তথ্য কখন, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। চতুর্থত, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত: ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই: অভিযোগের ভিত্তি ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সম্পত্তি ও আর্থিক নথি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ষষ্ঠত, দায়িত্ব নির্ধারণ ও জবাবদিহি: বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়ম প্রমাণিত হলে বদলির আদেশ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে না। শিক্ষক বদলির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিদ্যালয়ের জনবল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশও সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিধিমালা অনুসরণ, যথাযথ নথি সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঝালকাঠির এ ঘটনায় অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হলে তদন্তের ভিত্তিতে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। অভিযোগের নিষ্পত্তি যেন অনুমান, ব্যক্তিগত বক্তব্য কিংবা মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। এখন মূল প্রশ্ন, দুই শিক্ষিকার বদলির আদেশের বৈধতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং আর্থিক লেনদেন ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয় কি না। মৌখিক আশ্বাস নয়—লিখিত সিদ্ধান্ত, নথিভিত্তিক অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণই পারে এ বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে। সরকারি বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—ঝালকাঠির শিক্ষক বদলি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সেই নীতিরই প্রতিফলন প্রত্যাশিত।
দেনমোহর নিয়ে বিরোধ, হুমকি ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ; আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন একাধিক অভিযোগ, দাম্পত্য বিরোধ এবং দেনমোহর নিয়ে আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন ঢাকা কর অঞ্চলের এক কর পরিদর্শককে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বাদীপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের পর স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি চলে যান, পরে ফোনে বিচ্ছেদের কথা জানান এবং দেনমোহর নিয়ে আইনি পদক্ষেপ না নিতে হুমকি দেন। অভিযুক্ত কর পরিদর্শক মু. কবির হোসেন ঢাকা কর অঞ্চল-২৫-এর কর সার্কেল-৫৪৩-এর উপকমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য রাজধানীর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আদালতের পরোয়ানা, গ্রেপ্তারের চেষ্টা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে কর পরিদর্শক মু. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদেশে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদ বলে সূত্রটি জানিয়েছে। পরোয়ানাটি কার্যকরের জন্য পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেনের কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পৌঁছেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে, পরোয়ানা জারির খবর জানার পর কবির হোসেন আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রথম বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপনের অভিযোগ আদালতে চলমান মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কবির হোসেন আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এই তথ্য গোপন করেই তিনি পিরোজপুরের বাসিন্দা মো. বেলায়েত হোসেন শেখের মেয়ে হাফসা আক্তার বাবলিকে বিয়ে করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁদের বিয়ে নিবন্ধন করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, বিয়ের কয়েক মাস পর কবির হোসেন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে যান এবং প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যান। এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফোনে তালাকের কথা ও হুমকির অভিযোগ মামলার সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কবির হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফোন করে বিচ্ছেদের কথা জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, ওই ফোনালাপে দেনমোহর আদায়ের জন্য মামলা বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। দেনমোহর নিয়ে আইনি প্রশ্ন মুসলিম পারিবারিক আইনে দেনমোহর স্ত্রীর একটি স্বীকৃত আর্থিক অধিকার। বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহরের অর্থ কখন, কীভাবে এবং কতটুকু পরিশোধযোগ্য হবে, তা বিবাহের শর্ত ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এই মামলায় ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্যের কথা বলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই অর্থ পরিশোধ এড়াতেই কবির হোসেন বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। দেনমোহর পরিশোধের দায় নির্ধারণে শুধু বিচ্ছেদের ঘোষণা নয়, বিবাহের শর্ত, পরিশোধের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য আইনও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, তালাকের কথা ফোনে জানানো হলে সেটির আইনি কার্যকারিতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিধান ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বিবেচনা করতে হয়। হাইকোর্টের রায় নিয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ দেনমোহর আদায় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্ত্রী দাবি করলে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদালতের ওই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, দেনমোহরের নির্ধারিত অর্থ কোনো পরিস্থিতিতেই কমানো বা মওকুফ করা যায় না—এমন সর্বজনীন বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রযোজ্য আইন, বিবাহের শর্ত এবং স্বেচ্ছায় মওকুফের বিষয়টি কীভাবে বিবেচিত হয়, তা আইনজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন কবির হোসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে কর পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল এবং কর্মস্থলে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকর্মীর ভাষ্য, বিভিন্ন অভিযোগের পর তিনি মাঝেমধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতেন এবং এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নজরে এসেছে কি না, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে কর্মচারীর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তথ্য, কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং প্রযোজ্য চাকরিবিধির আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা জরুরি। নারী অধিকারকর্মীদের অবস্থান দেনমোহর নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নারীর আইনগত অধিকার এবং আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নারী অধিকারকর্মীরা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক রেজিনা পারভীনের বক্তব্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কোনো নারীকে তাঁর প্রাপ্য দেনমোহর থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেনমোহর নারীর আর্থিক অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত; এ নিয়ে প্রতারণা বা অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এ ছাড়া কয়েকটি নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী নারীর পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন সামনে যেসব প্রশ্ন এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিয়ের সময় আগের বিবাহের তথ্য গোপন করা হয়েছিল কি না, বিয়ের নিবন্ধন ও দেনমোহরের শর্ত কী ছিল, বিচ্ছেদের কথা জানানোর পর কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং বাদীপক্ষের উত্থাপিত হুমকি ও হয়রানির অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে নথি, সাক্ষ্য ও আদালতের কার্যক্রমের ওপর। একই সঙ্গে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।
মামুনুর রশীদ নোমানী, ইত্তেহাদ নিউজ : বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) উদ্ধার করা ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমিতে কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে একতলা স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকার পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জমিটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে সেখানে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে অবশিষ্ট জমিতেকর্মজীবী নারীদের জন্য স্টল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় কর্মজীবী নারীদের জন্য স্টল নির্মাণের পাশাপাশি পেছনের পরিবারগুলোর যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি পৃথক রাস্তা রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ও জমির যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে উন্নয়ন উদ্যোগটি ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিস্বার্থে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে পরিকল্পনা সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করছে। দীর্ঘদিনের দখলমুক্ত জমিতে নতুন পরিকল্পনা বগুড়া রোডের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত জমিটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকার পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এটি উদ্ধার করা হয়। জমিটি উদ্ধারের পর সেখানে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে একতলা স্টল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পেছনের পরিবারগুলোর চলাচলের জন্য দুটি পৃথক রাস্তা রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে কর্মজীবী নারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিসর তৈরি এবং উদ্ধার করা জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনার বাস্তবতা ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে প্রকল্পের নকশা, জমির সীমানা, স্টলের অবস্থান এবং চলাচলের পথের পরিমাপ গুরুত্বপূর্ণ। যানজট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে কী জানা যাচ্ছে? সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বগুড়া রোডের বর্তমান প্রশস্ততা ৪০ ফুট এবং সেখানে বর্তমানে যানজট বা জনদুর্ভোগ নেই। এ কারণে প্রস্তাবিত স্থাপনা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উন্নয়ন পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তাদের দাবি, কর্মজীবী নারীদের সুবিধা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পেছনের পরিবারগুলোর যাতায়াতের পথ অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে কোনো বক্তব্য বা সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পরিকল্পনা ও প্রকৌশলগত নথি জনসমক্ষে এলে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা কেন জরুরি? সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি জনস্বার্থে ব্যবহার করা নগর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দীর্ঘদিন দখলে থাকা জমি উদ্ধারের পর কর্মজীবী নারীদের জন্য স্টল নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা তাঁদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, পানি নিষ্কাশন এবং সড়কের ব্যবহার যেন ব্যাহত না হয়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থই হোক বাস্তবায়নের প্রধান বিবেচনা বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্ধার করা ৯ দশমিক ৯ শতাংশ জমিতে একতলা স্টল নির্মাণের উদ্যোগের সঙ্গে কর্মজীবী নারীদের সুবিধা, স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত এবং নগরীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার প্রশ্ন জড়িত। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উন্নয়ন উদ্যোগটি যেন একদিকে কর্মজীবী নারীদের প্রয়োজন পূরণ করে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও পরিবেশগত সুবিধা বজায় রাখে—সেটিই হওয়া উচিত জনস্বার্থের মূল বিবেচনা।