Brand logo light

ঘুষের অভিযোগ

উজিরপুরে ঘুষের ভিডিও ধারণের জেরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশালের উজিরপুরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জেরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজ এবং ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন। মিরাজের অভিযোগ, তাঁকে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ।  অন্যদিকে, ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগের লিখিত জবাব দেবেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। নামজারির কাজ, টাকা দাবি ও ভিডিওর সূত্রপাত মিরাজ হোসেনের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর নিকটাত্মীয়দের জমির নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি। মিরাজের দাবি, কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাঁকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগ দেওয়ার পর সুরাইয়া খানমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন। তখনও টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে তাঁকে জানানো হয় বলে দাবি তাঁর। একপর্যায়ে আরও বেশি টাকা দাবি করে সেই অর্থ ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।   প্রমাণ দেখানোর পর হুমকির অভিযোগ মিরাজের দাবি, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাঁকে ডেকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁকে সবুজের চেম্বারে ডেকে নেওয়া হয়। মিরাজের অভিযোগ, মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে ডেকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে সবুজ ও রাসেল মৃধা তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার সময় ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। মিরাজ আরও দাবি করেন, পরিস্থিতির চাপে একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মিরাজ ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্র জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। ফলে অভিযোগের প্রতিটি অংশ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্তদের বক্তব্য কী? ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। আমি এর লিখিত জবাব দেব। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।” অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওই ভিডিওতে নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।” মিরাজ বিভিন্ন সময়ে তাঁদের অফিসে নামজারির দালালি করতে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। নামজারির কাজ সম্পন্ন করতে সত্যিই কোনো অর্থ দাবি করা হয়েছিল কি না, অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, ভিডিও ধারণের পর ব্যবসায়ীকে আটকে রাখা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কথিত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, থাকলে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল নাকি অন্য কেউ জড়িত—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, মোবাইল ফোনে পাঠানো কথিত প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানম বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জবাবদিহির প্রশ্ন ভূমি ব্যবস্থাপনায় নামজারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা। এই সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন আবেদনকারীর ভোগান্তির বিষয় নয়; বরং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে, প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এখন দেখার বিষয়, মিরাজ হোসেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের পক্ষে জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল নিবন্ধন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং ঘুষের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু দলিল লেখকদের একটি চক্রের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে জমির দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জমি কেনাবেচা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে সরকারি ফি ও রাজস্ব কম দেওয়ার বিষয়টি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমিকে পতিত জমি দেখিয়ে একটি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দলিলে জমির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনের ফলে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের একটি অংশ ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।  নালাজমি দেখানো হয়েছে পতিত, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর অভিযোগ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমি পতিত জমি হিসেবে দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়। দলিলে জমিটির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয় মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মূল্য ছিল ২৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। জমির প্রকৃত শ্রেণি ও মূল্য যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হলে সরকার নির্ধারিত হারে বেশি রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কিন্তু জমিটিকে পতিত দেখিয়ে আট শতাংশ রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ফি ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—জমিটির প্রকৃত শ্রেণি কী ছিল, দলিল নিবন্ধনের সময় কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কত টাকা রাজস্ব দেওয়ার কথা ছিল? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমির শ্রেণিসংক্রান্ত রেকর্ড, মৌজা মূল্যতালিকা, নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্কের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি অসাধু দলিল লেখকচক্র এ কাজে জড়িত। সাব-রেজিস্ট্রারের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত তাপস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।  ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন হয় না—ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রারসংকট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তাদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দাবি, বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। উপজেলার চরএকরিয়া এলাকার জসিম বলেন, জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এ জন্য বায়নাও করেছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন উলানিয়া এলাকার আকবার। তিনি বলেন, নিজের একটি নালাজমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে এবং নিজের চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে একটি সাধারণ সমস্যা—জমি বিক্রি করে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চাইলেও নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন তাঁরা।   অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার দপ্তরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মতে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে দলিল নিবন্ধনের কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।   স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এই চক্রের প্রভাবের কারণে অফিসে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তারা বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। চাপের মুখে কিছু কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ানোর পর তৎপরতা গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অফিসের কার্যক্রম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতে সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা, এতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সময় এবং লেনদেনের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওটিকে ঘুষ লেনদেনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে এর উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগেও মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জবাবদিহি কোথায়? সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি, দলিলে ঘোষিত মূল্য, প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক ও নিবন্ধন ফি—প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত চারটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ১. ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৫৮ শতাংশ জমির দলিল, জমির শ্রেণি এবং ঘোষিত মূল্য। ২. জমিটির প্রকৃত শ্রেণি ও প্রযোজ্য মৌজা মূল্যতালিকা অনুযায়ী সরকার কত টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। ৩. দলিল নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট সহকারী ও দলিল লেখকদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা কী ছিল। ৪. গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর উৎস, সত্যতা এবং এতে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে কি না। এসব বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে। মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা ঘুষ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত নিবন্ধনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগে দুর্নীতি: ডিডি ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দৈনিক ১০ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ

উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিনকে ঘিরে লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টে অর্থ আদায়, কেনাকাটায় অনিয়ম, বিল আটকে রাখা এবং বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ; ডায়েরিতে কোডে হিসাব রাখার দাবি- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের। অথচ এই অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তাকে ঘিরে উঠেছে ঘুষ, কমিশন, সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের একাধিক অভিযোগ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. ছালেহ উদ্দিন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর দায়িত্বকালে লাইসেন্স প্রদান ও ফায়ার রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কেনাকাটার ব্যয় দেখানো, জ্বালানি ও বিভিন্ন বিল আটকে রাখা, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে কথিত একটি ডায়েরিতে কোড ব্যবহার করে অর্থের হিসাব সংরক্ষণের বিষয়টি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরাসরি টাকার অঙ্ক না লিখে বিভিন্ন কোডে হিসাব রাখা হয়। পরে দিন শেষে সেই হিসাব মিলিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ডায়েরিটি ছালেহ উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে পরিচিত জাকিরের কাছে থাকে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপপরিচালক ছালেহ উদ্দিন কোনো মন্তব্য করেননি। কোডে অর্থের হিসাব, দিন শেষে ‘সেটেলমেন্ট’ অভিযোগকারীদের দাবি,  অর্থ আদায়ের হিসাব সরাসরি টাকায় না লিখে কোডের মাধ্যমে একটি ডায়েরিতে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি কোডের বিপরীতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হিসাব ধরা হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। এই হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্বে পিএ জাকির রয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের বিভিন্ন সময়ে সংগৃহীত অর্থের হিসাব দিনের শেষে মিলিয়ে নেওয়া হয়। এরপর কোড অনুযায়ী অর্থ বুঝে নেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ছালেহ উদ্দিনের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। কেউ কেউ গাড়িতে করে ওই অর্থ নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।   লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টে নির্দিষ্ট ‘রেট’ থাকার অভিযোগ অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স প্রদান ও ফায়ার রিপোর্ট-সংক্রান্ত কার্যক্রম। অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি ১০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর সংযোজনের জন্য ৫ হাজার টাকা নেওয়ার একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগও করেছেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যাশিত অর্থ না পেলে সংশ্লিষ্ট ফাইল আটকে রাখা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের একজনের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় করা হয়। লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টের মতো জননিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সেবায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ গুরুতর। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন নয়, অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেবার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। পদোন্নতি ও ঢাকা বিভাগে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন ছালেহ উদ্দিনের পদোন্নতি এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক পদে পদায়ন নিয়েও অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের ভাষ্য, সরকারি গেজেট অনুযায়ী তিনি সহকারী পরিচালক থেকে উপপরিচালক বা সমমানের পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে পদোন্নতির আগে তাঁর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদন ছিল এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ ছাড়া পদোন্নতির পর ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক পদে আসার ক্ষেত্রেও প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন আনিসের নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ৪০–৫০ লাখ টাকার কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ ছালেহ উদ্দিনের দায়িত্বকালে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কেনাকাটা নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, স্টেশনারি এবং গাড়ির পাম্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় অন্য খাতে দেখানো হয়েছে। এসব ব্যয় ‘আসবাবপত্র’ কেনার হিসাবের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি কেনাকাটায় এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্রয়প্রস্তাব, দরপত্র, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পণ্য গ্রহণের নথি এবং স্টক রেজিস্টার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ ছিল, বাস্তবে কী কেনা হয়েছে এবং হিসাবের খাত পরিবর্তনের অনুমোদন ছিল কি না—এসব তথ্য যাচাই ছাড়া অভিযোগের আর্থিক দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।   জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল নিয়ে সংকট ঢাকা বিভাগের কয়েকটি ফায়ার স্টেশনে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গাড়ির নিবন্ধন এবং খাবারের বিল নিয়ে সমস্যার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন খাতের বিল সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় অধীনস্থ স্টেশনগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি সরবরাহ ও যানবাহনের কার্যক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাতে বিল বকেয়া থাকলে তার প্রভাব জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতায় পড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর বকেয়ার পরিমাণ, বিল আটকে থাকার কারণ কিংবা জ্বালানি সরবরাহ বাস্তবে বন্ধ হয়েছিল কি না—এসব তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিল পরিশোধে বিলম্বের পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা, বাজেটসংকট, নথিগত ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট হিসাব ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া পরীক্ষা করা জরুরি। ‘মাসোহারা’ না দিলে ছুটি আটকে দেওয়ার অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, সিনিয়র স্টেশন অফিসার ও ডিএডিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ না পেলে ছুটি আটকে দেওয়া হয় অথবা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিনিয়র স্টেশন অফিসারদের সাপ্তাহিক ছুটি নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ভাষ্য। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অধীনস্থদের ওপর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চাপ তৈরি করা হয়। এসব অভিযোগ যাচাই করতে হলে ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং একই ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্টেশনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তুলনা করে দেখা প্রয়োজন। বদলি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ছালেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও বদলি-বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সহকারী পরিচালক আনিসের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেন পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তদবির এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।   জবাবদিহির প্রশ্ন: তদন্ত ছাড়া মিলবে না প্রকৃত চিত্র ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কয়েকটি পৃথক ক্ষেত্রকে সামনে এনেছে—লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টে কথিত কমিশন, কোডে অর্থের হিসাব সংরক্ষণ, সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম, জ্বালানি ও বিভিন্ন বিলের জটিলতা, অধীনস্থদের ছুটি নিয়ে চাপ এবং বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, কথিত ডায়েরির অস্তিত্ব ও বিষয়বস্তু পরীক্ষা, কেনাকাটার বিল-ভাউচার নিরীক্ষা এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে লাইসেন্স ও ফায়ার রিপোর্টের ক্ষেত্রে কোনো অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সরকারি অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে এবং জ্বালানি ও অন্যান্য বিল কেন আটকে আছে—এসব প্রশ্নের উত্তর নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বের করা সম্ভব।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন কোনো মন্তব্য করেননি।  অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন তদন্ত, আর্থিক নথি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ফল ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে জননিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর যথাযথ অনুসন্ধান প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ঘুষ-কমিশন, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; প্রকল্পের দরপত্র ও আর্থিক নথি তদন্তের দাবি- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী  ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি। ‘সচেতন নাগরিক’-এর পক্ষে করা ওই আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   ঠিকাদারি কাজ বণ্টন ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   আরও পড়ুন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ   আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ পেয়েছে, কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য কতটা, কাজের পরিমাপ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দ বা বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেনামি ঠিকাদারি ব্যবসা ও দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শহিদুল ইসলাম নিজে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীর ধারণা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, কার্যাদেশ বণ্টন, দরপত্রের নথি, কাজের উপঠিকাদারি চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সংঘাত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত করা প্রয়োজন।   নিয়োগ ও পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গেও অভিযোগ শহিদুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগ ঘিরে অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল এবং পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন, এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নথি, পিএসসির রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রাসঙ্গিক। শত শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঢাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারি কাজের লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ।  অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।   মানববন্ধন ঘিরেও বিরোধের অভিযোগ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে ঠিকাদারদের একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মানববন্ধনে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেন ও হয়রানি করেন।ঘটনাটি সত্য  তা আলাদাভাবে তদন্তের দাবি রাখে।  কোন কোন নথি যাচাইয়ের দাবি দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে: প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথি। বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের চুক্তি, বাস্তব অগ্রগতি ও আর্থিক হিসাব। মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের সাবকন্ট্রাক্ট, সংশোধিত ব্যয়, নিরাপত্তা জামানত ও ব্যাংক লেনদেন। শহিদুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আছে কি না। তাঁর নামে ও বেনামে থাকা বলে অভিযোগ করা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে  প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগকারীর বক্তব্য সাকিল আহম্মেদ বলেন, “আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর আবেদনের উদ্দেশ্য। তদন্তেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, দরপত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস যাচাই—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক প্রমাণ  গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই হবে মূল বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
ঢাকা জেলা প্রশাসকের এলএ শাখা-২: সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি জনগণ

সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনকে ঘিরে ঘুষ, ফাইল আটকে রাখা, পুনঃপদায়ন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ; দুদকের মামলার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২-এ জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করিয়ে দেওয়ার নামে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শাখাটির সার্ভেয়ার আফজাল হোসেন। একাধিক ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণ ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও জমির মালিকদের বারবার ঘোরানো এবং কমিশন না দিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আফজাল হোসেনের সম্পদ, অন্যত্র বদলির পর অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসা এবং ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বড় একটি প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার দাবিও সামনে এসেছে।   ক্ষতিপূরণের ফাইলে ৫–১৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণের কারণে জমি হারানো মালিকদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ কেবল আর্থিক পাওনা নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি তাঁদের জীবিকা, ব্যবসা কিংবা বিকল্প জমি কেনার প্রধান অবলম্বন। সেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় কমিশন দাবির অভিযোগ তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের ফাইলের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হয়। ফাইলের বিভিন্ন ধাপের কথা বলে তাঁদের একাধিকবার অফিসে যেতে হয়। একপর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থের ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই দাবি মেনে না নিলে ফাইলের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় থাকা জমির মালিকেরা মধ্যস্থতাকারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করতে বাধ্য হন।   ফাইল নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এলএ শাখা-২-এর ক্ষতিপূরণের ফাইল প্রক্রিয়াকরণকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রের মাধ্যমে ফাইলের অগ্রগতি ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কোনো কোনো জমির মালিককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কখনো নথির ঘাটতি, কখনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা কিংবা অন্য দাপ্তরিক কারণ দেখিয়ে তাঁদের বারবার যোগাযোগ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠা ফাইলগুলোর আবেদন গ্রহণের তারিখ, নথি যাচাইয়ের ধাপ, অনুমোদন, অর্থ ছাড়ের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। বদলির পর চার মাসের মধ্যে ফের ঢাকা অফিসে? আফজাল হোসেনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ তাঁর বদলি ও পুনঃপদায়ন নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর একপর্যায়ে তাঁকে ঢাকা এলএ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির প্রায় চার মাসের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পুনঃপদায়ন ঘিরে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  একজন সরকারি কর্মচারীর বদলি ও পদায়ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ। তাই এ ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে বদলির আদেশ, যোগদানপত্র, পুনঃপদায়নের আদেশ, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।  অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে এলএ শাখা-২-এ দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন তাঁর পুরোনো যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্র ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।  ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর কথিত সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তাঁদের দাবি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে বা বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় তাঁর নামে কিংবা কথিত ছদ্মনামে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ জমা থাকার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগগুলো যাচাইয়ের জন্য তাঁর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, বৈধ আয়ের উৎস, জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন দলিল, সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যাচাইয়ের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রামাণ্য নথি ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য। । কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার দাবি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত একটি বড় প্রকল্পে কয়েক শ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, মামলার পর আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার অস্তিত্ব ও বিবরণ যাচাই করতে দুদকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালনের কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণেও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান জরুরি। ক্ষতিপূরণপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি, জবাবদিহির প্রশ্ন ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিয়মভিত্তিক ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের অনেকেই তাঁদের সম্পদের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থের ওপর নির্ভর করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সত্য হলে, ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কমিশন দাবি শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় হবে না; এটি সরকারি সেবা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি নাগরিকদের আস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হবে। আফজাল হোসেনের কথিত সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী ও আয়কর নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা প্রয়োজন। দুদকের মামলা থাকার দাবি সত্য হলে সেই মামলার নথি ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। বক্তব্য পাওয়া যায়নি আফজাল হোসেনের সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, কমিশন, সম্পদ ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, এলএ শাখা-২-এ ক্ষতিপূরণের ফাইল ছাড়ের নামে কমিশন দাবির অভিযোগ, আফজাল হোসেনের  সম্পদের উৎস এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকার দাবির সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে শিক্ষক বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের আশ্বাসেও অগ্রগতি নেই

শূন্যপদ না থাকলেও দুই শিক্ষিকার পারস্পরিক বদলি; ঘুষ লেনদেন ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও দুই শিক্ষিকার পারস্পরিক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে। নিয়মিত অনলাইন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বদলি সম্পন্ন করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বদলির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আদেশ বাতিলের আবেদন করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকেও বদলিটি বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেই আশ্বাসের পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি বদলির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা এবং সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।   শূন্যপদ না থাকলেও কীভাবে হলো বদলি? সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি সদর উপজেলার কুতুবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা খান এবং সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা জাহান বর্নার মধ্যে পারস্পরিক বদলির আদেশ জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই দুই বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য ছিল না। এ দাবি সঠিক হলে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, পদসংক্রান্ত শর্ত এবং অনুমোদিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, প্রচলিত অনলাইন ব্যবস্থার পরিবর্তে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বদলির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি—আইপিইএমআইএসে (IPEMIS) বদলি-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে আদেশ বাতিলের আবেদন করা হয়। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: বদলির আবেদন কে প্রস্তুত করেছিলেন? আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছিলেন কে? কোন নথি ও বিধির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে ম্যানুয়াল পদ্ধতি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বদলির মূল আবেদন, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, অফিস আদেশ এবং আইপিইএমআইএসের রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বদলির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে বদলির ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিনিময়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষিকা শামীমা খানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বদলির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া শামীমা খান ও তাঁর স্বামী, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা জাহান বর্নাকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বদলির আবেদনে স্বাক্ষর করিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই আবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বদলির আদেশ জারি করা হয়। তবে আর্থিক লেনদেন কিংবা কাউকে বিভ্রান্ত করে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু, যোগাযোগের রেকর্ড এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বদলির আবেদনকারী দুই শিক্ষিকার বক্তব্যও নেওয়া জরুরি। তাঁরা কী বুঝে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, বদলির বিষয়ে তাঁদের সম্মতি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আপত্তি জানানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের অংশ হওয়া উচিত। বাতিলের আশ্বাস, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায়? বদলির আদেশ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর তা বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, অনিয়মের মাধ্যমে এ ধরনের বদলি হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন এবং বদলিটি বাতিল করা হবে। কিন্তু বাতিলের আশ্বাসের পর আদেশটির বর্তমান অবস্থা কী, তা স্পষ্ট নয়। আদেশ বাতিল হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লিখিত আদেশ ও বাস্তবায়নের নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন। আর বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হয়ে থাকলে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করা দরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলিটিকে ভুল বলে স্বীকার করার পরও আদেশ বাতিলের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব করছেন। একই সঙ্গে আইপিইএমআইএসে বদলি কার্যকরের চেষ্টা অব্যাহত রাখার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি দপ্তরে কোনো সিদ্ধান্ত ভুল বলে চিহ্নিত হলে সেটি সংশোধনের ক্ষেত্রে মৌখিক আশ্বাসের চেয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যে কী জানা গেল? এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো, মিউচুয়াল বদলি নিয়ে তাঁর ভুল হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় অফিসের অন্যরাও জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন। অফিসের অন্যরা জড়িত থাকলে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, কারা আবেদন প্রস্তুত করেছিলেন, কে আদেশ অনুমোদন করেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে শুধু একজন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ করেই তদন্ত শেষ করা যথেষ্ট হবে না। বদলির আবেদন তৈরি, যাচাই, অনুমোদন, আদেশ জারি এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার কী দায়িত্ব ছিল, তা চিহ্নিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বরিশাল শহরে একাধিক ফ্ল্যাটের অভিযোগ, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষক বদলির অভিযোগের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বরিশাল শহরের বৌদ্ধপাড়া এলাকায় মেগা হেরিটাস নামের দশতলা ভবনে তাঁর একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা যথাযথ নথির ভিত্তিতে যাচাই করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত দলিল, ক্রয়ের সময়কাল, অর্থের উৎস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয়কর বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।   তদন্তে যেসব বিষয় যাচাই করা জরুরি ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শিক্ষক বদলি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্যপদের তথ্য যাচাই: কুতুবনগর ও সংগ্রামনীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির তারিখে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ, কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা এবং শূন্যপদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বদলির নথি পরীক্ষা: আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি, অনুমোদন এবং আদেশ জারির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে কোন বিধির ভিত্তিতে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করতে হবে। তৃতীয়ত, আইপিইএমআইএসের তথ্য পর্যালোচনা: বদলি-সংক্রান্ত তথ্য কখন, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত বা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। চতুর্থত, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত: ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই: অভিযোগের ভিত্তি ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সম্পত্তি ও আর্থিক নথি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ষষ্ঠত, দায়িত্ব নির্ধারণ ও জবাবদিহি: বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অনিয়ম প্রমাণিত হলে বদলির আদেশ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে না। শিক্ষক বদলির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিদ্যালয়ের জনবল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার পরিবেশও সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তে বিধিমালা অনুসরণ, যথাযথ নথি সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঝালকাঠির এ ঘটনায় অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, অভিযোগের কোনো অংশ প্রমাণিত না হলে তদন্তের ভিত্তিতে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। অভিযোগের নিষ্পত্তি যেন অনুমান, ব্যক্তিগত বক্তব্য কিংবা মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। এখন মূল প্রশ্ন, দুই শিক্ষিকার বদলির আদেশের বৈধতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং আর্থিক লেনদেন ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয় কি না। মৌখিক আশ্বাস নয়—লিখিত সিদ্ধান্ত, নথিভিত্তিক অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণই পারে এ বিতর্কের নিষ্পত্তি করতে। সরকারি বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—ঝালকাঠির শিক্ষক বদলি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সেই নীতিরই প্রতিফলন প্রত্যাশিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, বন্ড সুবিধার ব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে সহযোগিতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে কথিত এই বলয়ের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এমনকি মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের অপব্যবহার, কথিত অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্‌ঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্ড সুবিধার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন বন্ড সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শুল্কব্যবস্থা। নির্ধারিত শর্তে আমদানি করা কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এ সুবিধার অপব্যবহার হলে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কার্যক্রম ঘিরে ওঠা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই বন্ড ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে কেন্দ্র করে দপ্তরের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছিল। ওই বলয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক কমিশনার আবু ওবায়দা ও অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের দায়িত্বকালে এই বলয়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। তবে কোন সিদ্ধান্তে কার ভূমিকা ছিল, কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে কিংবা কোন দাপ্তরিক নথির মাধ্যমে অনিয়ম ঘটেছে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ধারণা, অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।   মাসে কয়েক কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়? সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। বিশেষ করে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধা অনুমোদন বা নবায়ন, আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার, নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালন এবং শুল্ক-করসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিকতা ছিল কি না, তা যাচাই করলে অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।   কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত বলয়ে কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সিপাহির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওই বলয়কে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগও উঠেছে। এ ছাড়া কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগের সূত্রে এসেছে। সূত্রগুলোর আরও দাবি, চৌধুরী গোলাম হাসনাইন এর আগে যেসব কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল।  সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা ও হুমকির অভিযোগ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-এর কার্যক্রম নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও উঠেছে।একাধিক সংবাদকর্মীর দাবি, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কার্যালয়ে গেলে তাঁদের প্রবেশপথের গেটে আটকে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাঁরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।কয়েকজন সংবাদকর্মীর ভাষ্য, তাঁদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একটি লাঠিয়াল বাহিনী’র মাধ্যমে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।এ বিষয়ে নতুন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অল্প সময়ের চাকরিজীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নজরে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। তবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়, সম্পদ বিবরণী কিংবা দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।দুদক কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন কমিশনারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রত্যাশা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর)-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতে প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান। সংশ্লিষ্ট সময়ের বন্ড সুবিধা অনুমোদন ও নবায়নের নথি, আমদানি-রপ্তানির তথ্য, শুল্ক নির্ধারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং দাপ্তরিক যোগাযোগ পর্যালোচনা করলে অনিয়মের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসারে বিভাগীয় তদন্ত বা অন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ঘুষ লেনদেন, কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ নথি ও স্বাধীন তদন্তের অপেক্ষায়।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়
কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ১৩ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি চাকরিতে এক যুগের মতো সময়। অথচ অভিযোগে উঠে এসেছে জমি, বাড়ি, গরুর খামারসহ প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব। এর বাইরে স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, ঘুষ বাণিজ্য এবং জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। সব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করা হয়। কখনো করসংক্রান্ত জটিলতা, কখনো নথিপত্রের সমস্যা—এ ধরনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।  প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মচারীর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অভিযোগে উঠে আসা বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কতটা? এসব সম্পদ তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের, নাকি অন্য কারও নামে রয়েছে? ব্যাংক হিসাব, আয়কর রিটার্ন, জমির দলিল ও সম্পদ অর্জনের সময়কাল যাচাই করা হলে কি মিলবে অভিযোগের প্রমাণ? অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। করদাতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ঢাকা কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৯-এ কর্মরত সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে করদাতাদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর কমিশনার ও ডেপুটি কর কমিশনারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে করদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। সরকারি রাজস্ব আদায় ও করদাতাদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ও সামনে আসে। এক যুগের চাকরিতে ১৩ কোটি টাকার সম্পদ? প্রাপ্ত অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার পলশিয়া পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৪৫)। তাঁর বাবা মো. ছোবহান। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনে প্রায় এক যুগের মধ্যে তিনি জমি, বাড়ি ও গরুর খামারসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগে তাঁর নিজের, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা এবং কথিত বেনামি সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আরও প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে, সম্পদগুলো কখন কেনা হয়েছে, কোন অর্থে কেনা হয়েছে, সেগুলো আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে কি না এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত অর্থদাতা কে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান ছাড়া সম্পদের উৎস সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ১১ শতাংশ জমিতে গরুর খামার অভিযোগ অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের নিজ বাড়ির পাশে প্রায় ১১ শতাংশ জমিতে একটি গরুর খামার রয়েছে। ওই জমির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। খামারটিতে চারজন কর্মচারী কাজ করেন এবং তাঁদের বেতনসহ মাসে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।খামারের জমির মালিকানা, গবাদিপশুর সংখ্যা, বিনিয়োগের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হলে এটি থেকে অর্জিত আয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে খামারটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মূলধন কোথা থেকে এসেছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয়। প্রায় দুই কোটি টাকার বাড়ি সাইফুল ইসলামের একটি বাড়ির মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাড়িটির জমির দলিল, নির্মাণকাল, নির্মাণ ব্যয় এবং বর্তমান বাজারমূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে বাড়িটির মূল্য এবং নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাড়ির জমি কেনার দলিল, নির্মাণসামগ্রী ও ঠিকাদারি ব্যয়ের নথি, অর্থ পরিশোধের রেকর্ড এবং আয়কর বিবরণী যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ভারারিয়া, মাইজবাড়ী ও পলশিয়ায় জমির হিসাব অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলামের নামে বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা বিভিন্ন এলাকার জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ভারারিয়া: এখানে প্রায় এক বিঘা জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমিটির আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। মাইজবাড়ী: এলাকায় প্রায় দুই বিঘা জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মূল্যও প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির আশপাশে: প্রায় ২০ শতাংশ জমির তথ্য দেওয়া হয়েছে। কবরস্থানসংলগ্ন এলাকা: এখানে প্রায় ১০ শতাংশ জমি থাকার অভিযোগ রয়েছে। পলশিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পাশে: প্রায় ১৬ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে এসব জমির মূল্য ও মালিকানা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়া হলেও সব সম্পদের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি স্পষ্ট নয়। ফলে জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা জরুরি।একই জমি একাধিকবার সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, জমিগুলোর প্রকৃত মালিক কে এবং সেগুলো কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে—এ বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সম্পদের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখলের মামলা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি জমি দখল ও জোরপূর্বক জমি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কবরস্থানের পাশে থাকা একটি জমি জোরপূর্বক নেওয়ার দাবি রয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় তিন ভাইকে বঞ্চিত করে তাঁদের বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া মৃত ছামান আলীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেনের প্রায় ছয় শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল বা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে বিরোধ জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের একটি ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালপুর থানার আমলি আদালতে মো. হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন রুহুল আমিন, আবু বকর মিয়া ও শাহজাহান। মামলার নথিতে মাইজবাড়ীর ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিরোধের পর আদালতের নোটিশে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমিতে যে যার দখল বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং গোপালপুর থানা আমলি আদালতে পৃথক দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।  বাদী হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম নিজের সরকারি পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি এবং অভিযুক্তের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে অর্থ: অনুসন্ধানের আরেক ক্ষেত্র অভিযোগে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ থাকার দাবি করা হয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, আমানতের অর্থের উৎস এবং আয়কর নথি যাচাই করলে সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকা নিজে থেকেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এসব অর্থের প্রকৃত মালিকানা, বৈধ আয়ের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করতে হবে। অভিযোগে স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে আমানত শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত ক্ষমতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত। আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো—তাঁর চাকরিজীবনের আয় এবং কথিত সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: চাকরিতে যোগদানের সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য বৈধ আয়ের হিসাব। দাখিল করা আয়কর রিটার্ন এবং তাতে প্রদর্শিত সম্পদ ও দায়ের বিবরণ। নিজের ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তির দলিল। ব্যাংক আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং অর্থের উৎসের প্রাসঙ্গিক নথি। গরুর খামারের বিনিয়োগ, পরিচালন ব্যয় এবং আয়ের হিসাব। জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের সময়কাল এবং অর্থ পরিশোধের রেকর্ড। এসব নথি পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও অর্থের উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব। দুদক ও এনবিআরের তদন্ত দাবি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, শুধু সম্পদের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করলেই হবে না; সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস, কর নথিতে তার প্রতিফলন এবং অভিযোগে উল্লিখিত ঘুষ লেনদেনের বিষয়ও অনুসন্ধান করতে হবে। ঘুষ গ্রহণ বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনো গুরুত্বপূর্ণ: ১. অভিযোগে উল্লেখ করা প্রায় ১৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের পূর্ণাঙ্গ দলিল ও মূল্যায়ন কোথায়? ২. স্ত্রী ও নিকটজনদের নামে আরও প্রায় পাঁচ কোটি টাকার আমানত থাকার দাবির পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে? ৩. এসব সম্পদ তাঁর চাকরিজীবনের আয় ও দাখিল করা আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? ৪. করদাতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেন, সাক্ষ্য বা দাপ্তরিক নথি রয়েছে কি না? ৫. জমি নিয়ে বিচারাধীন মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা কী এবং সংশ্লিষ্ট আদালত কী আদেশ দিয়েছেন? ৬. অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।  অভিযোগ নয়, নথিভিত্তিক তদন্তই হোক সিদ্ধান্তের ভিত্তি একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, করদাতাদের হয়রানি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের পরিমাণ যদি তাঁর বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে অনুমান, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সম্পদের আনুমানিক মূল্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। জমির দলিল, ব্যাংক নথি, আয়কর রিটার্ন, অর্থের উৎস এবং আদালতের নথি যাচাই করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে দুদক, এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে একদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে, অন্যদিকে কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকলেও তা স্পষ্ট হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগে ৭০ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ, প্রশ্ন ফাঁসের পরও বহাল নিয়োগ কমিটি

২৪২ পদের নিয়োগ ঘিরে ঘুষের অভিযোগ, জনপ্রতি ২৫–৩০ লাখ টাকা লেনদেনের দাবি; ১৬ অক্টোবর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন  ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:  যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের জন্য আয়োজিত পরীক্ষাটি গত ১০ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে স্থগিত করা হয়। এর পরও নিয়োগ কমিটির সদস্যদের পরিবর্তন না করে আগামী ১৬ অক্টোবর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সম্ভাব্য অনিয়মের তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষনিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরীক্ষা শুরুর আগে স্থগিত, ক্ষোভে চাকরিপ্রার্থীরা গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষার আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার খবর সামনে আসে। এরপর পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মাইকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সারাদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিবাদ জানান এবং কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। পরীক্ষা স্থগিতের দিনই পরে জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত এবং আগের নিয়োগ কমিটিকে বহাল রাখার বিষয়টি নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২৪২ পদের বিপরীতে ৭০ কোটি টাকা: কীভাবে উঠল অভিযোগ? শীর্ষনিউজ ডটকম ও সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২৪২টি পদের বিপরীতে নিয়োগ বাণিজ্যের পরিমাণ অন্তত ৭০ কোটি টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই অঙ্ক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর অভিযোগও রয়েছে। এই হিসাবের সত্যতা যাচাই করতে হলে সম্ভাব্য লেনদেনের নথি, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।  তবে অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নির্বাচনব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হবে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে। প্রশ্নপত্র ছাপার কক্ষে কড়া নিরাপত্তা, তবু ফাঁস হলো কীভাবে? প্রকাশিত অনুসন্ধানী তথ্যে বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির ও ছাপানোর কাজ চলে রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে। সেখানে রাতভর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি ওএমআরডিএম (OMRDM) নামের একটি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের ২০ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নপত্র তৈরির সময় মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও যদি প্রশ্নপত্র বাইরে গিয়ে থাকে, তাহলে তা কীভাবে সম্ভব হলো—সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে অন্যদের মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমানের হাতে মোবাইল ফোন দেখা গেছে। তিনি একাধিকবার প্রশ্নপত্র তৈরির কক্ষে প্রবেশ করেছেন এবং নিজের কক্ষে যাতায়াত করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।   তদন্তের আগেই পরীক্ষা, বহাল আগের নিয়োগ কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।তবে প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে মূল সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ১৬ অক্টোবর পুনর্নির্ধারিত পরীক্ষার জন্য নিয়োগ কমিটির কোনো সদস্য পরিবর্তন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যাঁদের ভূমিকা যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্টতাসহ পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই একই কমিটির অধীনে পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং নতুন পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মুদ্রণের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। নতুন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কী ব্যবস্থা? প্রকাশিত সূত্রের দাবি, ১৬ অক্টোবরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির ও ছাপানোর স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতিঝিল কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থান পরিবর্তন করলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য ধরনের অনিয়মের ঝুঁকি দূর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নিরাপত্তাব্যবস্থা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নজরদারির কার্যকারিতার ওপর। আরও গুরুতর একটি অভিযোগ হলো, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিবর্তে উত্তরপত্র, ওএমআর শিট বা রোল নম্বর-সংক্রান্ত কারসাজির মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।  তাই অভিযোগটি সত্য ধরে নেওয়ার পরিবর্তে পরীক্ষার আগে ও পরে ওএমআর শিটের ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির তালিকা, রোল নম্বরের সঙ্গে উত্তরপত্রের মিল, স্ক্যানিং ও ফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল অডিট ট্রেইল সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমান এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. কবির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রশাসন ক্যাডারের ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তা ডি এম আতিকুর রহমান একসময় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষে পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। মো. কবির খানের মূল চাকরিও ওই প্রতিষ্ঠানে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁকে প্রেষণে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের পিএস পদে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অনিয়মের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডি এম আতিকুর রহমানকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই প্রতিষ্ঠানে আগে কাজ করার কারণে কবির খান ও আতিকুর রহমানের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।   ৭০ কোটি টাকার অভিযোগে কারা, কোথায় এবং কীভাবে জড়িত? মূল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরকেন্দ্রিক একজন আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সরকারের আরেক প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে তাঁদের পরিচয়, কথিত ভূমিকা এবং অভিযোগের সমর্থনে কী ধরনের নথি রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে সংগৃহীত অর্থের অঙ্ক বড় হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পরীক্ষা আয়োজন এবং নিয়োগ কমিটিতে পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্তকে এ অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছেন সূত্রগুলো।   তদন্ত কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত সূত্রের দাবি, প্রকৃত ঘটনা ও সম্ভাব্য দায়ীদের শনাক্ত করার পরিবর্তে অন্য নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত কী কী নথি সংগ্রহ করেছে, কার কার বক্তব্য নিয়েছে, কী ধরনের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালিয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি কোথায়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল প্রকাশ করা হলে চাকরিপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কমতে পারে। চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন: মেধার মূল্য কোথায়? সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়া লাখ লাখ তরুণের কাছে একটি পরীক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার সুযোগ নয়; এটি তাঁদের সময়, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগের ফল পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে যুক্ত। এমন একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠা এবং পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে তা স্থগিত হয়ে যাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে যদি অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করার অভিযোগও যুক্ত হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে এখন কয়েকটি প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন: ১. কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এল? ২. প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও ছাপানোর দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভূমিকা কী ছিল? ৩. ২৪২টি পদের বিপরীতে অন্তত ৭০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক প্রমাণ রয়েছে? ৪. তদন্ত শেষ হওয়ার আগে একই নিয়োগ কমিটির অধীনে পরীক্ষা আয়োজনের যৌক্তিকতা কী? ৫. নতুন পরীক্ষায় উত্তরপত্র, ওএমআর শিট, রোল নম্বর ও ফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়ায় কারসাজি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? ৬. তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি না এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করে নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।   স্বচ্ছ তদন্তই আস্থা ফেরানোর পথ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত জরুরি। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত ও মুদ্রণ থেকে শুরু করে পরীক্ষা পরিচালনা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশ—প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়োগপ্রক্রিয়া যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে জিম্মি না হয়। চাকরিপ্রার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করাই এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে  একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হয়নি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪  তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।  জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪  তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা।     যত অপকর্ম :সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি।    সরকারি অফিস সময় না মানার অভিযোগ:  পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি।  অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   আর্থিক যত অনিয়ম: ২০২২-২৩  অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।  ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে  ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি।   ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগ  ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও  বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন।  শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন।  অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ।  ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।    সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার :  অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত  ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না।  বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।  টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা : প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে। এ বিষয়ে  সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি।    অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি:    নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান।  শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।  অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে।   বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় : নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন। কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি। সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি  দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।    প্রাথমিক শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যে উৎসাহিত করা:  সম্প্রীতি বিভিন্ন অনলাইল নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি চিঠি যাহার স্মারক নং-৩৮.০১.১০০০.০০০.২৭.০১.২০২৬.৩৮৯ প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের লিখিত ভাবে জানান, কোচিং করানো যাবে তবে স্কুল সময়ের পরে। অথচ  শিক্ষামন্ত্রী বলছে স্কুল শিক্ষকদের বাহিরে বানিজ্যিক কোচিং চলবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কর্ণপাত না করে তিনি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষমতা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন এ সকল অপকর্ম।      ডেপুটেশন বানিজ্য:  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন।   এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে  একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিনকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেন
এনবিআর কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।  ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। চাকরিজীবনের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মো. সরোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোংলা কাস্টমস, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এমন অবস্থানে ছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তিনি একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।   অভিযোগের কেন্দ্রে সম্পদের প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো তার সম্পদের পরিমাণ এবং সম্পদের উৎস। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রে ফ্ল্যাটটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নিবন্ধন নথি, মালিকানা দলিল কিংবা ক্রয়ের অর্থের উৎস সংক্রান্ত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং আয়কর নথি বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনায় বিলাসবহুল বাড়ির অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজ জেলা বরগুনায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দাবি থাকলেও অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রকৌশল মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জমির রেকর্ড বা সরকারি নথি সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে বাড়িটির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর নামে সম্পদ ও বিলাসবহুল গাড়ির অভিযোগ অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সরোয়ার হোসেনের স্ত্রীর নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির নিবন্ধন তথ্য, মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো নথিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবিও এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সম্পদের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।   বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করতেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগকারীদের মতে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।   একজন কর্মকর্তার সম্পদ কতটা অস্বাভাবিক? সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সম্পদ অর্জন নিজেই কোনো অপরাধ নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটি সম্পদের পরিমাণ নয়; বরং সেই সম্পদের উৎস বৈধ কি না। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ তার বৈধ আয়, কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি আইনি সমস্যা নয়। অন্যদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। এই কারণে অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন। তদন্ত হলে কী কী যাচাই করা হতে পারে? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করলে সাধারণত কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়— আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন ভূমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রেকর্ড গাড়ির নিবন্ধন তথ্য পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ঘোষিত আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। অভিযুক্তের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ন্যায়সঙ্গত তদন্তের অন্যতম শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মো. সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাই, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে সাংবাদিকতা ও আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো অভিযোগকে তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। সেই কারণে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তার নির্ধারণ কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সুনাম পুনরুদ্ধার—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৫, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0