ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে ২৯৬ জনের একটি ভোটার তালিকা পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রাপ্ত ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী নির্বাচন–সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করবে কমিশন। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হয়। সেই বিধান অনুসারেই সংসদ সচিবালয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা প্রেরণ করেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা যাচাই শেষ হলে তফসিল ঘোষণা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী রমজান মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হলে নতুন নির্বাচিত সদস্যরা দ্রুত শপথ নিয়ে সংসদের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠনে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও আসন্ন ঈদের পর জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রায় এক দশক পর হতে যাচ্ছে দলটির জাতীয় কাউন্সিল, যা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর কাউন্সিল বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এরপর নানা প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়া, পরে অসুস্থতা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশের বাইরে অবস্থান এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলার কারণে দল সাংগঠনিক কার্যক্রমে চাপে ছিল। দলীয় সূত্র মতে, বর্তমান অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশে এবার পূর্ণাঙ্গ ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় কাউন্সিল হবে অধিকতর সফল ও কার্যকর। জানা গেছে, এবারের কাউন্সিলে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দলকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত পুনর্গঠন জাতীয় কাউন্সিলের আগে সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও অন্যান্য ইউনিট পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবেন সিনিয়র নেতা ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও এই কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন বলে জানা গেছে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী— আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়দের পরিবর্তে তরুণ ও সক্রিয় নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ত্যাগী নেতাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে পুরনো কমিটি, শূন্য পদ ও পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বর্তমানে ৫৯২ সদস্যের পুরনো কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়েই চলছে দলীয় কার্যক্রম। এতে অর্ধশতাধিক পদ শূন্য রয়েছে এবং শতাধিক নেতা নিষ্ক্রিয় বলে জানা গেছে। জাতীয় কাউন্সিল হলে অন্তত দেড়শতাধিক নেতা নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে কেন্দ্রীয় কমিটির পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখন থেকেই ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটে কাউন্সিলর হওয়ার প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্দিষ্ট সময় পরপর কাউন্সিল আয়োজন করতে হয়। বিএনপি বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সময় বাড়িয়ে নিয়েছিল। প্রস্তুতি কমিটি গঠন শিগগিরই ঈদের পর সিনিয়র ও মধ্যম সারির নেতাদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হবে। তারা সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতি এগিয়ে নেবে। সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলেই গঠন করা হবে নতুন নির্বাহী কমিটি। দলীয় সূত্রের দাবি, এবারের জাতীয় কাউন্সিল আগের ছয়টি কাউন্সিলের চেয়েও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। নির্বাচনী বিজয়ের পর বিএনপির সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা। প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন সেই প্রক্রিয়ারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দল নতুন নেতৃত্ব ও কৌশল নির্ধারণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। ভোটের হিসেবে দলটির প্রাপ্ত ভোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। নির্বাচন কী দিল জামায়াতকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে জামায়াতের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে বসার সুযোগ পাওয়া। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষণকারী ড. মুবাশ্বার হাসান বলেন, আদর্শিক ভোটের পাশাপাশি দলটি “এন্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট” ভোটও পেয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রচারণা চালানো তাদের কৌশলগত সফলতা এনে দিয়েছে। দৈনিক নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনে করেন, “আসন ও ভোটের দিক থেকে জামায়াত নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—এটাই তাদের বড় অর্জন।” অতীতের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় স্বাধীনতার পর ভিন্ন নামে ১৯৭৯ সালে ৬টি আসন দিয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে জামায়াত। ১৯৯১ সালে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটে ১৭টি আসন ২০০৮ সালে মাত্র ২টি আসন ১৯৯৬ সালে ৩টি আসন এবারের ৬৮টি একক আসন ও ৭৭টি জোটগত আসন দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আঞ্চলিক ফলাফল: কোথায় শক্তিশালী, কোথায় দুর্বল খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে জামায়াত। খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে দলটি। বিশেষ করে সাতক্ষীরার চারটি আসনের সবকটিতে জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরাঞ্চল: রংপুরে উত্থান রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে দলটি। রংপুর জেলার ৬টির মধ্যে ৫টিতেই জয় জামায়াতের। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য, স্থানীয় সমস্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এখানে দলটির সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে। রাজধানী ঢাকায় চমক সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা এসেছে ঢাকায়। ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। দলটির অভ্যন্তরে এটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজধানীতে অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেসব জেলায় দুর্বলতা স্পষ্ট যদিও সামগ্রিকভাবে সাফল্য এসেছে, তবে দেশের বহু জেলায় দলটির অবস্থান দুর্বল রয়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় কার্যত কোনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি জামায়াত। সিলেটে সরাসরি জয় না পেলেও জোটসঙ্গী দল একটি আসনে জয় পেয়েছে। আমিরের বক্তব্য দলের আমির শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন: “জামায়াতে ইসলামী অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ নাগরিক আমাদের জোটের প্রতি আস্থা রেখেছেন।” তিনি এটিকে “ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, এখন দেখার বিষয়—প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জামায়াত কী ধরনের ভূমিকা পালন করে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, নারী ইস্যু এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত অবস্থান—এসব প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে আসবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন জামায়াতকে শুধু আসন ও ভোটই দেয়নি—দিয়েছে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় মঞ্চে একটি নতুন অবস্থান। তবে এই অর্জন ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক বিভাগ: জাতীয় রাজনীতি প্রকাশের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নানারকম রাজনীতি হয়েছে। দল ত্যাগ, জোট গঠন ও এক পক্ষ ত্যাগ করে আরেক পক্ষে যোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন খেলা দেশবাসী দেখেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা আলোচিত হয়েছে তা হলো- নিজের দল বিলুপ্ত করে অন্যের ছাতার নিচে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা। এতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দল। ২০২৫ সালে সর্বশেষ সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ তথা আরপিও অনুযায়ী জোট গঠন করলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীক নিয়ে। যেখানে ছোট দলগুলোর বেধেছে বিপত্তি। পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা দলই বিলুপ্ত করে ধানের শীষে নির্বাচন করার জন্য বিএনপিতে ভেড়েন। অর্ধ ডজনের বেশি রাজনৈতিক নেতা এবার সংসদে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু তাদের দলের অবস্থা ও জনপ্রিয়তা এর জন্য উপযোগী ছিল না। এক পর্যায়ে দল বিলুপ্ত বা বদল করে অন্য দলে যোগ দেন তারা। এরপরও তাদের অনেকের কপাল খোলেনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর জানা যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন নির্বাচনি বৈতরণী পাড় হতে পারেননি। যারা এবারের নির্বাচনে হেরেছেন তাদের কয়েকজনের বিবরণ দেওয়া হলো: সৈয়দ এহসানুল হুদা গত ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ যোগদান করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফুল দিয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে বরণ করে নেন। এহসানুল হুদা নির্বাচনের মাঠে নামার আগে ধানের শীষ প্রতীক পান। কিন্তু তিনি ভোটযুদ্ধে সুবিধা করতে পারেননি। হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কিশোরগঞ্জ–৫ (বাজিতপুর ও নিকলী) আসনে হাঁস প্রতীকে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। ড. রেদোয়ান আহমেদ গত ২৪ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের কথা ঘোষণা দেন তিনি। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে লড়েন। কিন্তু বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে পরাজিত হন। এ আসনে পাঁচবারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট, অপরদিকে শাওন পেয়েছেন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট। রাশেদ খান গত ২৭ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটিতে যোগদানের ঘোষণা দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। এর আগে তিনি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঝিনাইদহ-৪ (সদর ও কালীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাশেদ ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন। আবু তালেব পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট, আর রাশেদ তৃতীয় অবস্থানে থেকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পান। নড়াইল-২ আসনে (লোহাগড়া ও সদরের একাংশ) লড়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো হারলেন। এ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। রশীদ বিন ওয়াক্কাস দলের নিবন্ধন না থাকায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু তারও কপাল পুড়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ত্রিমুখী লড়াই হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এনামুল হক বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৮। বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে এ আসনে নির্বাচন করা শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৫১৭। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তার প্রাপ্ত ভোট ৫৫ হাজার ৪১৯। কেউ কেউ আবার দলবদলের খেলায় সাফল্য পেয়েছেন। তারা ভোটযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- বিএলডিপির (একাংশ) চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। ড. রেজা কিবরিয়া গত ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ও পান। এছাড়া এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে ধানের শীষ পেয়ে ঢাকা-১৩ আসনে নির্বাচন করে জয় পান।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন এবং বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। আরও জানানো হয়েছে, আমরা আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু এবং নিরাপত্তা নিয়ে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেঘনা আলম পেয়েছেন ৬০৮ ভোট। আসনটিতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ফেব্রুয়ারি) ভোররাত পৌনে ৪টায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। মোট ৫৪ হাজার ১২৭টি ভোট পান তিনি। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় মোট ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭টি। এ আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২টি। বাতিল হয় ৩২০টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি মনোনীত দুই সহোদর প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। আজ টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জয়লাভ করেছেন। বড়ভাই আবদুস ছালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির পান ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। ১৩৯টি কেন্দ্রে এ আসনে ৬৪.৫৬ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে। বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট। অন্যদিকে ছোটভাই সুলতান সালাউদ্দিন বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ পেয়েছেন ৮০ হাজার ৮২৩ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট পান। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি ভোটারের মধ্যে কাস্টিং হয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৮০ ভোট। এর মধ্যে বাতিল হয় ৪ হাজার ৪০১ ভোট। শতকরা হিসাবে মোট ৬৩.২৫ ভাগ ভোট কাস্টিং হয়।
প্রথমবারের মতো গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মাত্র একবার বিএনপির প্রার্থী এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে জয় নিশ্চিত করল দলটি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসন গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। গোপালগঞ্জ-২ আসন গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। গোপালগঞ্জ-৩ আসন গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। তিন আসনেই গণভোটে ‘না’ ভোটের জয় এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। বিষয়টি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় আসনে বিএনপির পূর্ণ বিজয়ের পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বরিশাল জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনেই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন। ঘোষণা অনুয়ায়ী বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৌলঝাড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪০ ভোট। ৫৪ হাজার ২৭৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৮ জনের মধ্যে কাস্ট হয়েছে ২ লাখ ৩শ ৫১ ভোট। ভোট কেন্দ্রের সংখা ১২৯টি। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। নির্ধারিত ১৪০টি কেন্দ্রে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭১ হাজার ৯৮৯ ভোট। সে হিসাবে ৬৯ হাজার ২৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৯ জন। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি নির্ধারিত ১২৬ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট। সে হিসাবে ২০ হাজার ৯৮২ হাজার ভোটে প্রথমবার বিজয়ী হয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪২০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭০ জন। বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসেন বিজয়ী হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান। তিনি নির্ধারিত ১৪৯টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৯২ ভোট। হিসাব অনুযায়ী ৫৪ হাজার ৪০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে প্রথম বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতা রাজিব আহসান। নদীবেষ্টীত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫১৭ জন। এদের মধ্যে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৪৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে বিজয়ী হয়েছেন এই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি নির্ধারিত ১৭৬টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ২১৬ ভোট। সে হিসাবে ৩৯ হাজার ৭৯০ ভোটের ব্যবধানে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মজিবর রহমান সরোয়ার। তার এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৪ জন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৫ জন। এ ছাড়া বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। তিনি নির্ধারিত ১১৩টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. মাহামুদুন্নবী তালুকদার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম এই আসনে ভোট পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। সে হিসাবে বরিশাল-৬ আসনে দ্বিতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন খান। তার এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বরিশাল জেলার ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩৬ জন প্রার্থী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরুর কথা। তবে সময়ের আগে থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পুরুষ কেন্দ্রে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসতে পেরে ভোটারদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। অনেকদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা, কুশল বিনিময়– এ যেন নবীন-প্রবীণদের এক মিলনমেলা। একে একে বৃদ্ধ, যুবক ও তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন।কেন্দ্রের ভেতরে ছিল নীরব ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ। কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থকরা নিজস্ব বুথ বসিয়ে ভোটারদের ভোটার নম্বর সংগ্রহ করে দিচ্ছেন। ভোটাররা সেখানে গিয়ে সিরিয়াল নম্বর জেনে দ্রুত লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।বৃদ্ধ ও অসুস্থ ভোটারদের স্বেচ্ছাসেবকরা যত্নের সঙ্গে কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে সকালেই ভোট দিয়ে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে চান। তবে বেশির ভাগের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার আনন্দ ও অভিজ্ঞতা। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবদুল গনি বলেন, ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভোট দেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতেই অসুস্থ শরীর নিয়েও আমি কেন্দ্রে এসেছি। হয়ত এটাই আমার জীবনের শেষ ভোট দেওয়া। দীর্ঘদিন পর এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সত্যি ভীষণ ভালো লাগছে। বৃদ্ধ আবদুল কাদের বলেন, অনেক বছর পর নিজের ভোট দিতে এসে খুব ভালো লাগছে। সকালেই চলে এসেছি, যেন নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারি। হাফেজ রাকিবুল ইসলাম শায়েখ বলেন, জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছি। এর আগে পরিবেশ ভালো ছিল না, তাই ভোট দিতে আসিনি। ভোটের এমন সুষ্ঠু পরিবেশ অনেক বছর পর দেখছি। আমার মতোই সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে এসেছে। এটা সত্যিই উৎসবের মতো লাগছে। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কেউ বিরক্ত না। সবাই শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। আজকের ভোটটি এনজয় করছি। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কেন্দ্র প্রিজাইডিং অফিসার আবু সাঈদ জানান, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। দিনভর এই উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর প্রথম এই নির্বাচনটি অনেক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর দুজন নেতাই প্রথমবারের মতো দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাবার জন্য এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়ছেন। তাদের মধ্যে একটি দল জামায়াতে ইসলামী এই প্রথমবার নির্বাচনের একটি প্রধান দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আর এটি অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন জাতীয় নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে দেশটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফেরার পর থেকে সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা- দুজনকে ছাড়াই এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যে নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মত ভোটে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। তার দল বিএনপি দুই মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল এবং আকারে এবং কর্মী সংখ্যার দিক দিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বড় দল হিসেবেই পরিচিত। যদিও দেশটিতে গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত এবং অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় ২০২৬ সালের এই জাতীয় নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিকারী দল দুটির ভোটের মাঠে সমর্থন কতটা, পূর্ববর্তী ভোটের হিসেবে সেটি বিচার করাও কঠিন। নানা জ্বল্পনা-কল্পনা এবং আশঙ্কা কাটিয়ে যে নির্বাচন বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে সেটিতে কারা ক্ষমতায় আসছে এবং কতটা জনসমর্থন নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসছে তার ওপর দেশটির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করবে। গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মত অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জই নয়, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির গতিপথ নির্ধারণ করতে হবে সেই নতুন সরকারকেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং সমাজে যেসব সংস্কার বা পরিবর্তনের কথা বারবার উঠে আসছে সেটিও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে এ সরকারের ওপরেই। ফলে ভোট শেষে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন অনেক প্রথমের এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশের জন্য আরো অনেক ‘প্রথম’ অপেক্ষা করবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে জড়ো হচ্ছেন অনেক মানুষ।আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।ভোটের দিন সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখছেন বিবিসি সংবাদদাতারা। তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা কেন্দ্রে হাজির রয়েছেন এবং সারারাত ধরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্রগুলোর পাহারায় ছিলেন। ঢাকার মনিপুর এলাকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। পুরুষ ও নারী ভোটারদের লম্বা লাইন স্কুলের গেইট পার হয়ে ফুটপাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটাররা কেন্দ্রে আসছে, তবে নারী ভোটার এখনো নেই তেমন একটা। বিএনপি ও জামায়াতের এজেন্টদের কেন্দ্রে দেখা গেলেও অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। ঢাকা-১১ আসনের একটি কেন্দ্র থেকে প্রায় একই পরিস্থিতির কথা জানা গেছে। তবে সেখানে ধানের শীষ ও এনসিপির পোলিং এজেন্টদের উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে । মহাখালীর বিটিসিএল আদর্শ বালিকা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষ বাড়ছে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারও উপস্থিত হয়েছেন ইতোমধ্যে।চট্টগ্রামের কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সেখানেও সকাল থেকে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মানুষ। চট্টগ্রামে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বয়স্করাও এসেছেন, তবে তাদের কেউ কেউ বলছেন যে তারা গত ১৭ বছর ভোট দিতে আসেননি, এলেও ভোট দিতে পারেননি। সেখানকার বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোটাররা সকাল সকাল এসেছেন, কারণ তারা মনে করছেন যে বেলা বাড়লে ভোট দিতে দেরি হতে পারে এবং সহিংস পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভীড় করা শুরু করেছে। এই নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে।সাধারণত ৩০০ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এবারের সংসদ নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি।কারণ শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এসব আসনে মোট প্রার্থী দুই হাজার ২৮ জন এবং এদের মাঝে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। আর মোট প্রার্থীদের মাঝে মাত্র ৮৩ জন হলেন নারী। মোট প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন ও স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ দেড় দশকের বিতর্কিত নির্বাচনী ইতিহাস, নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ভোটের আগের দিনেও প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। নির্বাচন হবে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরো দেশ এখন ভোটের অপেক্ষায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। কেন এবারের নির্বাচন ব্যতিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আলাদা। বিশ্লেষকেরা মূলত দুটি কারণে এই নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পতনের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন দেড় দশকে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর ভোটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে সব দল অংশ নিলেও সেটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ওই নির্বাচনগুলোতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নতুন মেরুকরণ আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিএনপি এখন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে এলেও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বদলেছে। একসময় রাজনীতির পার্শ্বচরিত্র হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটি ১১ দলীয় একটি জোট গঠন করেছে, যেখানে ইসলামী দলগুলোর সংখ্যা বেশি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও এই জোটে রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি আসন সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও কয়েকটি ইসলামপন্থি দলের সঙ্গে জোট করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলছেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ডানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। টাকা উদ্ধারের ঘটনা ও পারস্পরিক অভিযোগ ভোটের আগের দিনে জামায়াতের ঠাকুরগাঁও জেলা আমিরের কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনা বড় আলোচনার জন্ম দেয়। জামায়াত অভিযোগ করেছে, ভোটের আগে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দাবি করেন, দলের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তাদের ‘অনিবার্য বিজয়’ ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অর্থ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নির্বাচনকে ঘিরে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন সারাদেশে সেনা, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৮ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকায় ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। তবুও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দুজনেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ভোট শান্তিপূর্ণ হবে। ভোটের পর যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন শেষ হলেও চ্যালেঞ্জ তখনই শুরু হবে। যে দল সরকার গঠন করবে, তাদের সামনে প্রধান দুই সংকট থাকবে— আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই দুটি বিষয়ই নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদিকদের এসব অভিযোগ করেন তিনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি জানান, গত দুইদিনে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর ঘটনার বিষয়ে তিনি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেফতার না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এলাকায় পরপর অন্তত পাঁচটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি ও অফিসে আগুন, নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চর বোরহানী এলাকায় অফিস ভাঙচুর এবং কুপিয়ে মানুষকে আহত করার ঘটনা। এসব গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসন সন্তোষজনক ব্যবস্থা নেইনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, এসব বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককেও (আইজিপি) অবহিত করেছেন। তার অভিযোগ, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার চিহ্নিত চর দখলকারী, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করছেন এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের এজেন্ট ও ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। এসব অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন যদি শক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভিপি নুর বলেন, আমি একটি দলের প্রধান ও সাবেক ভিপি। আমার মতো একজন প্রার্থী যদি নিরাপত্তাহীনতায় থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কেমন হতে পারে, তা ভেবে শঙ্কিত হচ্ছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে নির্বাচন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। মঙ্গলবারও তাদের দুই কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন নুর।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেক দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ও ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাপ্ত অভিযোগ বা তথ্যাদিন বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই ‘যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের’। একই সাথে তিনি জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় প্রার্থীকে তাদের প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত দেশব্যাপী দেয়া ভাষণে ডা. রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুব, নারী এবং প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। বাংলাদেশকে ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধের পুন:প্রতিষ্ঠা এবং নীতিবান নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে আমির বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। জামায়াতের আমির বলেন, তার বক্তব্য নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে নয় বরং জাতির ভবিষ্যতের প্রতিফলন হিসেবে ছিল। তিনি বলেন, "আমি হৃদয় থেকে এমন বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে চাই যা কেবল এই প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য-মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ"। ভাষণের শুরুতে জামায়াতের আমির জুলাইয়ের বিদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। জুলাই মাসকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ‘আমরা আর একটি জুলাই চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নাগরিকদের তাদের অধিকার দাবিতে কখনও রাস্তায় নামতে না হয়’। ডা. রহমান বলেন, তরুণদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস, প্রতিভা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। ‘তারা পরিশ্রমী, নির্ভীক, সত্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত," তিনি সমাজকে এমন সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান যা তাদের অর্থপূর্ণভাবে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়। জামায়াতের আমির জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য একটি স্লোগান নয় বরং একটি দায়িত্ব, তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভাজন দেশকে দুর্বল করে এবং অন্যায়কে আরও গভীর করে। তিনি গত দশকে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের ক্ষয় এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হিসেবে বর্ণনা করাকে সমালোচনা করেন, অভিযোগ করেন- ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার হারায়, তখন তারা তাদের কণ্ঠস্বর হারায়। তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব এবং ভিন্নমত দমন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করেছে। নৈতিক নেতৃত্ব নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে ড. রহমান বলেন, নৈতিকতাবিহীন রাজনীতি নিপীড়নের দিকে পরিচালিত করে। একজন নেতা শাসক নন, বরং জনগণের সেবক। তিনি বলেন, নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে সততা, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। তিনি সততা, ঐক্য, ন্যায়বিচার, যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের উপর কেন্দ্রীভূত বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, এই মূল্যবোধগুলি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বৈষম্যকে প্রতিস্থাপন করবে। আমাদের অবশ্যই সততা এবং ন্যায়বিচারকে হ্যাঁ বলতে হবে, এবং দুর্নীতি ও নিপীড়নকে না বলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. রহমান শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং অর্থনীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক, মূল্যবোধ-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। “শিক্ষা নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে এবং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হতে হবে। আজ বিশ্ব প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা আমাদের সন্তানদের দক্ষ কারিগরদের হাতে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের প্রকৃত কাজের সুযোগ প্রদান করতে চাই। আমরা তাদের বেকার ভাতা দিতে চাই না,”। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং সহজলভ্য হতে হবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে একটি জাতি অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না। ‘সমাজে ন্যায়বিচার দৃঢভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা আমাদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। অন্যথায়, স্বৈরাচার এবং দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব হবে। অতএব বিচার বিভাগকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্গঠন করতে হবে এবং কেবলমাত্র সৎ, যোগ্য এবং প্রতিশ্রুুতিবদ্ধ ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের বেঞ্চে বসানো উচিত,’ বলে উল্লেখ করেন আমির। তিনি বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের গুরুত্বের উপরও জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ বিনিয়োগ-বান্ধব হতে হবে। তবেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বেকারত্ব কমাতে পারব। সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরে ডা. রহমান বলেন, জাতীয় অগ্রগতির জন্য নারীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা অপরিহার্য। যে সমাজ নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয় তারা কখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে না। এ জন্য তিনি সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং নারীর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে ডা. রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলিও তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি তাদের জন্য মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক ও জলবায়ু ইস্যুতে ডা. শফিকুর বলেন, তারা সকল জাতির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমান সম্মানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং উন্নয়ন লক্ষ্য আমাদের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করবে। জামায়াতের আমির জুলাই বিদ্রোহে প্রবাসী কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও, আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। আপনারা ইতিমধ্যেই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া, আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’ তিনি দূতাবাস এবং হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রতিনিধিরা আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অংশগ্রহণ সক্ষম করবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ডা. রহমান একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা জোরদার করার জন্য আনুপাতিক সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের উপরও জোর দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান। ডা. রহমান তার ভাষণের সমাপ্তি টেনে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি নাগরিকদের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘ব্যালট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি আস্থা’। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই তার উপর নির্ভর করে। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করি এবং মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আশার উপর ভিত্তি করে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনও ভোটার মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না। অথচ বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন নাগরিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভোটাধিকার প্রয়োগের মতো একটি সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এ ধরনের অযৌক্তিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাদের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোটারদের সচেতনতা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সেই স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। কিন্তু এ ধরনের একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটারদের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত ও অধিকারকে উপেক্ষা করে আয়োজিত কোনও নির্বাচনই টেকসই বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। নির্বাচনি ব্যয় ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মান্না জানান, বর্তমানে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন। একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২—এই দুই আসন থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ঢাকা-১৮ একটি অত্যন্ত বড় নির্বাচনি এলাকা। এই আসনের আওতায় রয়েছে সাড়ে সাতটি থানা এবং প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার। এত বড় একটি আসনে নির্বাচন পরিচালনা করতে যে বিপুল ব্যয় প্রয়োজন, তা তার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এসব বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করেই ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মান্না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তে অনেকেই হয়তো মনে কষ্ট পেতে পারেন। তাদের সবার কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বগুড়া-২ আসনে তার অবস্থান কিংবা নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে এই ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি নাগরিক ঐক্যের সভাপতি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে চাইলে প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দলের পক্ষ থেকে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব শনাক্তকরণ তথ্য প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। এছাড়া বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২২-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সব ধরনের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব ব্যয়ের হিসাব সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে যে ব্যয় হবে তা অবশ্যই নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত সব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেছেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মীকে ও ১৭ বছর মাঠে ময়দানে কাজ করা ব্যক্তিকে যদি বিএনপির লোক মনে হয় তাহলে আমাকে ঘোড়া মার্কায় একটি ভোট দেবেন। মঙ্গলবার রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এমন মন্তব্য করেন হাসান মামুন।পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির আসন সমঝোতায় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নুর প্রসঙ্গে হাসান মামুন বলেন, বিগত দিনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিল তাদের মধ্যে ভিপি নুর অন্যতম। তিনি বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করেছিল। হাসান মামুন বলেন, ৫ আগস্টের পর গণঅধিকার পরিষদের হাতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী (নির্বাচনি এলাকায়) আহত হয়েছেন। বিএনপির সমালোচনা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে নুর এখন বিএনপির দরদী সেজেছেন।তিনি বলেন, নুর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের জন্য রাজপথ অবরোধ করেছিলেন। এখন আবার আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিতে চান।নির্বাচনি পথসভায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।