Brand logo light
রাজনীতি

রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের: জাতির উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই ‘যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের’। একই সাথে তিনি জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে দাঁড়িপাল্লায় এবং ১১ দলীয় প্রার্থীকে তাদের প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বাংলাদেশ বেতারে একযোগে সম্প্রচারিত দেশব্যাপী দেয়া ভাষণে ডা. রহমান একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুব, নারী এবং প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি এবং শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশকে ন্যায়সঙ্গত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য জাতীয় ঐক্য, মূল্যবোধের পুন:প্রতিষ্ঠা এবং নীতিবান নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে আমির বলেন, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। 

জামায়াতের আমির বলেন, তার বক্তব্য নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে নয় বরং জাতির ভবিষ্যতের প্রতিফলন হিসেবে ছিল। তিনি বলেন, "আমি হৃদয় থেকে এমন বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে চাই যা কেবল এই প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য-মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ"।

ভাষণের শুরুতে জামায়াতের আমির জুলাইয়ের বিদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আন্দোলনে আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। জুলাই মাসকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সমাজের সকল স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। ‘আমরা আর একটি জুলাই চাই না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নাগরিকদের তাদের অধিকার দাবিতে কখনও রাস্তায় নামতে না হয়’।

ডা. রহমান বলেন, তরুণদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সাহস, প্রতিভা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। ‘তারা পরিশ্রমী, নির্ভীক, সত্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত," তিনি সমাজকে এমন সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান যা তাদের অর্থপূর্ণভাবে অবদান রাখার সুযোগ করে দেয়।

জামায়াতের আমির জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য একটি স্লোগান নয় বরং একটি দায়িত্ব, তিনি সতর্ক করে বলেন, বিভাজন দেশকে দুর্বল করে এবং অন্যায়কে আরও গভীর করে। তিনি গত দশকে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের ক্ষয় এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ হিসেবে বর্ণনা করাকে সমালোচনা করেন, অভিযোগ করেন- ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকদের তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের ভোটাধিকার হারায়, তখন তারা তাদের কণ্ঠস্বর হারায়। তিনি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার, জবাবদিহিতার অভাব এবং ভিন্নমত দমন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করেছে।

নৈতিক নেতৃত্ব নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে ড. রহমান বলেন, নৈতিকতাবিহীন রাজনীতি নিপীড়নের দিকে পরিচালিত করে। একজন নেতা শাসক নন, বরং জনগণের সেবক। তিনি বলেন, নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে সততা, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

তিনি সততা, ঐক্য, ন্যায়বিচার, যোগ্যতা এবং কর্মসংস্থানের উপর কেন্দ্রীভূত বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, এই মূল্যবোধগুলি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং বৈষম্যকে প্রতিস্থাপন করবে। আমাদের অবশ্যই সততা এবং ন্যায়বিচারকে হ্যাঁ বলতে হবে, এবং দুর্নীতি ও নিপীড়নকে না বলতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. রহমান শিক্ষা, বিচার বিভাগ এবং অর্থনীতিতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য তরুণদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক, মূল্যবোধ-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। 

“শিক্ষা নীতিশাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে এবং প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি হতে হবে। আজ বিশ্ব প্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা আমাদের সন্তানদের দক্ষ কারিগরদের হাতে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের প্রকৃত কাজের সুযোগ প্রদান করতে চাই। আমরা তাদের বেকার ভাতা দিতে চাই না,”।

বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিরপেক্ষ এবং সহজলভ্য হতে হবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি মানুষ বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে একটি জাতি অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না।

‘সমাজে ন্যায়বিচার দৃঢভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা আমাদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। অন্যথায়, স্বৈরাচার এবং দুর্নীতি দমন করা অসম্ভব হবে। অতএব বিচার বিভাগকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনর্গঠন করতে হবে এবং কেবলমাত্র সৎ, যোগ্য এবং প্রতিশ্রুুতিবদ্ধ ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের বেঞ্চে বসানো উচিত,’ বলে উল্লেখ করেন আমির।

তিনি বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের গুরুত্বের উপরও জোর দেন, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ বিনিয়োগ-বান্ধব হতে হবে। তবেই আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং বেকারত্ব কমাতে পারব।

সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরে ডা. রহমান বলেন, জাতীয় অগ্রগতির জন্য নারীর নিরাপত্তা এবং মর্যাদা অপরিহার্য। যে সমাজ নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয় তারা কখনই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যেতে পারে না। এ জন্য তিনি সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ এবং নারীর অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে ডা. রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলিও তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি তাদের জন্য মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক ও জলবায়ু ইস্যুতে ডা. শফিকুর বলেন, তারা সকল জাতির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং বন্ধুত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমান সম্মানের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা এবং উন্নয়ন লক্ষ্য আমাদের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করবে। 

জামায়াতের আমির জুলাই বিদ্রোহে প্রবাসী কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও, আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। আপনারা ইতিমধ্যেই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া, আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

তিনি দূতাবাস এবং হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রতিনিধিরা আপনাদের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর অংশগ্রহণ সক্ষম করবে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. রহমান একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা জোরদার করার জন্য আনুপাতিক সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের উপরও জোর দেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

ডা. রহমান তার ভাষণের সমাপ্তি টেনে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি নাগরিকদের সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘ব্যালট কেবল একটি ভোট নয়, এটি একটি আস্থা’।

তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ আজ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই তার উপর নির্ভর করে। তাই আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করি এবং মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আশার উপর ভিত্তি করে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করি।

Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

View more
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব জনগণের, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাসস:  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশে জুলাই আগস্ট মাসে যে আন্দোলন হয়েছিল তা সম্পূর্ণভাবে ছিল জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে, তখনই আন্দোলন সফল হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে সাফ বলে দিয়েছি এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এর কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি, একক কোন রাজনৈতিক দলের এটি কোন ক্রেডিট নয়। বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আরও অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সবাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। মাঠ ছেড়ে আমরা কখনো চলে যাইনি। আমরা কখনোই জনগণকে একা ফেলে মাঠ ছেড়ে চলে যাইনি।’ আজ মঙ্গলবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম কথা হয়েছে, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে- এখন সময় হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন করার। এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। এখন সময় হচ্ছে যারা ষড়যন্ত্র করতে চায় তাদের ব্যাপারে ধৈর্য সহকারে ঠান্ডা মাথায় তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি  সজাগ দৃষ্টি রাখা। জনগণকে সতর্ক করা এবং ঠিক একইভাবে আমরা যেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমরা জনগণের জন্য যা করতে চাইছি, দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা যা করতে চাইছি, সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা।’     বিএনপি জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিই প্রথম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষের সামনে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছিল, যা পরবর্তীতে রাজপথের মিত্র দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফায় রূপ নেয়। গত সাধারণ নির্বাচনে দেশের জনগণ এই ৩১ দফায় পূর্ণ আস্থা ও ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফলে এটি আর কেবল বিএনপির একক রূপরেখা নয়, বরং এটি দেশের সমগ্র জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে।’ সরকার পরিচালনার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ’১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখা গেছে স্বৈরাচারী শাসনামলের বিগত ১৭ বছরে দেশের প্রতিটি খাতকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও বিভাজিত প্রশাসনের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার তাতক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখনো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।’ জ্বালানি সংকটের সাময়িক কষ্ট স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার ‘পেট্রোনাস’ কোম্পানির সাথে আলোচনা চুড়ান্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কনটেইনারের মাধ্যমে এলএনজি গ্যাস দেশে আনা হবে। এর ফলে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করে দ্রুততম সময়ে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশীয় শক্তি বৃদ্ধি করতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অকার্যকর রাখা ‘বাপেক্স’-কে পুনরুজ্জীবিত করে দুটি নতুন রিগ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে বিশাল এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে চীনা ও কোরিয়ান বিনিয়োগ আসবে। পাশাপাশি বিটিএমসি-র বন্ধ পড়ে থাকা প্রায় ৫০টি মিল-কারখানা বেসরকারি খাতে চালু করে হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ ফান্ড চালু করা হয়েছে।’ স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সকল উপজেলা হাসপাতালে ন্যূনতম ১০ শয্যার ডায়ালিসিস ইউনিট চালু করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ডায়ালিসিস সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এছাড়া বাজেটে ডিউটি ও ট্যাক্স কমিয়ে হার্টের রিং (স্টেন্টিং), ডায়ালিসিস, চোখের লেন্স এবং আইটি উপকরণের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে।’ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিক্ষা কার্যক্রমকে আনন্দের মাধ্যমে শিখন (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) ধারণায় ঢেলে সাজাতে চাই। আমাদের সন্তানরা কী চায়, তা বুঝতে হবে এবং তাদের জন্য সঠিক পথ তৈরি করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বদা দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেছেন; সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও জনগণের সেবায় নিবেদিত।’ তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাইমারি স্কুল পর্যায়ে ২২ লক্ষ শিশুর ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং ১২-১৪ বছর বয়সীদের জন্য নতুন গতি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। তরুণদের মেধা ও শক্তি বিকাশে সঠিক পথ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।’ জনগণের মৌলিক চাহিদার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ রাজপথে শান্তি চায়, সন্তানের শিক্ষার সুব্যবস্থা চায়, উন্নত চিকিৎসা চায়, নিরাপত্তা চায় এবং নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান বা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ চায়। একই সাথে নাগরিকরা সময়মতো তাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। জনগণের এই চাওয়াগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও অসংখ্য অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার এবং দলের সাধ্যমতো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি এবং থাকব।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন তাদের সুচিকিৎসা এবং যাদের কর্মসংস্থান প্রয়োজন তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’ পরিশেষে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিগত বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি দেশের শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নতি ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বিএনপি’র মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি কাজী জাফর এর সভাপতি মোস্তফা জামান হায়দার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি,গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক নূর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ডক্টর ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন, ভাসানি জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বক্তব্য রাখেন।  অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদল,কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0

সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে ভোলা-২ আসনের এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

নাহিদ ইসলাম

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের আহ্বান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম
আওয়ামী লীগ কি বিদ্যমান আইনেই নিষিদ্ধ হতে পারে? ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যে নতুন আলোচনা

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত বিদ্যমান আইন ব্যবহার করেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা প্রায় ১৫ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে এবং দল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি আইনের আওতায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ একাধিক নির্দিষ্ট মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। বিদ্যমান আইন নিয়েই কেন আলোচনা? প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত আইনই দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এর ফলে নতুন আইন প্রণয়ন ছাড়াই বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কোন নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারা প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারের অবস্থান এর এক দিন আগে, শনিবার (৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না। মন্ত্রী দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ইতোমধ্যেই ঘটেছে এবং দলটি রাজনৈতিকভাবে আর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রমাণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা এখন তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূল বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির দাবি, বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় দলটিকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে বলে বক্তব্য। শাপলা চত্বরসহ একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার বিচারিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সংসদে মির্জা ফখরুল

বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাহসী বাজেটের দাবি আলতাফ হোসেন চৌধুরীর, সংসদে চীন সফরেরও প্রশংসা

চীনে কূটনৈতিক ব্যস্ততা: দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, উঠছে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রূপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার চেয়ে বড় আলোচনায় বাদীর পরিচয় তবে মামলা দায়েরের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অভিযোগের বিষয়বস্তু নয়, বরং মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয়। জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, খোকন তালুকদার যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা নন। তার দাবি, খোকন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। একই বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান। তার ভাষ্য, খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতা নন এবং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা? মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, তাদের মতে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তখন মামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীর পাল্টা বক্তব্য তবে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তার বক্তব্য, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেই তিনি মামলা করেছেন। যুবদলের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যে কমিটির সদস্য বলে দাবি করছেন, সেটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি; এটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত কমিটি নয়। এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বৈধতা ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের অবস্থান কী? মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, আইনের দৃষ্টিতে যে কোনো ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আদালত বা থানার দ্বারস্থ হতে পারেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযুক্ত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা প্রচার করেছিলেন? মামলায় মুফতি ফয়জুল করীমের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী? বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবতা কী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানহানির সীমারেখা কোথায়? মামলা দায়েরের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে আপাতত কুমিল্লার এই মামলা শুধু একটি মানহানির অভিযোগ নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক বৈধতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
আক্তারুজ্জামান শামীম

বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আখতারুজ্জামান শামীম: তৃণমূলের রাজনীতি থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাবনা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

রাষ্ট্র গণমাধ্যমকে চোখ রাঙাত, এখন সমস্যা সমাধানে ‘সহযোগী’ হতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

তাসনিম জারা

হাসনাত ও মোশাররফকে ঘিরে বিতর্ক: ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বললেন তাসনিম জারা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0