ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান। তিনি জানান, এরইমধ্যে আগস্ট ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে। সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসে অবস্থানরত যে সকল মুক্তিযোদ্ধা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত নেত্রীর আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী জানান, শিগগিরই তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল। কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মা নবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে “রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা–২০২৬”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক। সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা। অনুষ্ঠানে জেলা সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলি ও ইমরান মৃর্ধা, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক বনি আমিনসহ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি আসাদ বিন রনি বক্তৃতায় বলেন, “দেশে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।” বিশেষ অতিথি রফিকুল ইসলাম কনক বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” সভাপতি আবু সাঈদ মুসা বলেন, “সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” অনুষ্ঠানে বক্তারা বিরোধীদলের করণীয়, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১১টি পদের সবকটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা কেউই জয়ী হতে পারেননি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের আবুল কালাম আজাদ-১ মোট ৪৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত সাদা প্যানেলের সালাউদ্দিন মাসুম পেয়েছেন ৩০৪ ভোট। সহ-সভাপতির দুটি পদে শেখ মেহেদী হাসান শাহীন ৪৮৯ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সৈয়দ মাসুম মিয়া রেজা ৪২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত আবুল কালাম আজাদ ইমন ৪৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ইমরান কবির মাসুদ পেয়েছেন ৩৩৬ ভোট এবং জামায়াত সমর্থিত ফরিদ উদ্দিন পেয়েছেন ২৮৫ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম পান্না ৪৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পেয়েছেন ৩৬১ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে তারেক আল ইমরান ৪৬২ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সাইদুর রহমান সোহেল ৪০২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। নির্বাহী সদস্যের চারটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন হারুন অর রশিদ (৬৭৫ ভোট), গোলাম মোর্তজা তপু (৫১৫ ভোট), পারভেজ বেপারী (৪৪৯ ভোট) এবং সাইফুল আলম (৪০৬ ভোট)। নির্বাচনে মোট ৯৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬৭৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী ও বামপন্থী আইনজীবীরা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি এবং ভোটদান থেকেও বিরত ছিলেন। এ ঘটনায় আওয়ামীপন্থী তিন আইনজীবী আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানা গেছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এবং নির্বাচন উপ-পরিষদ। নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আরজু আহমাদ পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতেও একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরজু আহমাদ এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়। বরং দলের কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “দল তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাক—এটাই আমার প্রত্যাশা। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত সময় দিতে পারছি না। তবে দলের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।”
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি, তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় এগুলো ১২ এপ্রিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে তা পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ১২ মার্চ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ায় সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল। কেন সংসদে তোলা হচ্ছে না? জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, এই ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায় পাস করার মতো উপযুক্ত নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী— এগুলো এখনই বিল আকারে না এনে আরও যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী ও সংশোধিত আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে এতে স্পষ্ট যে, আইনগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও নীতিগত দ্বিধা রয়েছে। আইনগত শূন্যতার ঝুঁকি এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে— গুম প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কার রাজস্ব ও করনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, “একই সঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।” ভিন্নমত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ কমিটির রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’। জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ১২টি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তাদের আপত্তি— অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতি এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে। ১৩৩ অধ্যাদেশের বড় চিত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে— ৯৮টি সরাসরি পাসের সুপারিশ ১৫টি সংশোধন করে বিল আনার প্রস্তাব ৪টি বাতিলের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ অর্থাৎ, পুরো আইন কাঠামোই এখন পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬। মূল প্রশ্নগুলো এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— কেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সময়মতো সংসদে তোলা হলো না? সরকারের ভেতরে কি নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে? আইনগত শূন্যতা তৈরি হলে দায় কে নেবে? নতুন বিল কবে নাগাদ আসবে? সামনে কী? ১২ এপ্রিলের পর যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায়, তবে— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নতুন করে বিল আনতে হবে পুরো আইন প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে এতে সময়, প্রশাসনিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে এই পরিস্থিতি শুধু আইন নয়, দেশের শাসন কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বরিশাল অফিস : আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যানার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—যা “দেশ ও জাতির জন্য স্মরণীয় অবদান” হিসেবে বিবেচিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরমোনাই দরবার-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমর্থন না পেলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হতো। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মাহফিল ও বৈঠক এর আগে ভোরে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে চরমোনাই দরবারে পৌঁছায়। ফজরের নামাজের পর মাহফিলে বয়ান করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—দেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং সম্ভাব্য গণভোট ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে। উপস্থিত নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। এছাড়া এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চরমোনাই দরবারে এটি প্রথম বড় মাহফিল। নির্বাচন-পূর্ব আয়োজনে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই দরবারে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অংশ নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চরমোনাই পৌঁছে ফজর নামাজের পর তারা চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম-এর বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদসহ অন্যান্য নেতারা। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপি নেতারা সারাদিন চরমোনাইতে অবস্থান করবেন।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আসন্ন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানা গেছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়—তারা জোটগতভাবে নাকি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেবে। এর জবাবে রুমিন ফারহানা কমিশনকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো জোটে যোগ দেবেন না। ফলে এই নির্বাচনে তিনি কেবল একজন ভোটার হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কোনো দল বা জোটের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নে তার ভূমিকা থাকবে না। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। বিদ্যমান আইনে সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী, যেসব দলের সংসদে সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা বেশি সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আনুপাতিক হার নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা চাইলে কোনো জোটে যোগ দিয়ে তাদের ভোট জোটের অনুকূলে দিতে পারেন, যা সংশ্লিষ্ট জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে রুমিন ফারহানা সেই সুযোগ গ্রহণ না করে স্বতন্ত্র অবস্থানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সিন্ডিকেট গঠন করে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। অথচ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ! থাকা সত্ত্বেও এ চক্র রয়েছে বহাল তবিয়তে।সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে থাকা আওয়ামীলীগের অনুসারীরা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তাদের মধ্যে এই চক্রের সদস্যরা অন্যতম। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা বতর্মানেও ছাত্র জনতার মহান উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন। অথচ অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ সকল কর্মকর্তারা ।তাহার সুত্র ধরে বেরিয়ে আসে কিছু অকল্পনীয় তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে বহাল থাকায় প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গঠিত সিন্ডিকেট চক্র। সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত মোঃ সাইফুল ইসলাম নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা। একটি অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহার করছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম - সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করা। বিদেশি পোস্টিং ও তদবির: মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশি পোস্টিংয়ের সুযোগ পেতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা । গোপনীয় তথ্যের অবৈধ ব্যবহারে উদ্বেগ: সরকারের গোপনীয় তথ্য , গুরুত্বপূর্ণ নীতি সিদ্ধান্তের সময় এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য অনিয়মিতভাবে বাহিরে পাঠায়। আওয়ামী আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাব:আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দপ্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে, সিনিয়র সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার গঠিত হয়েছে। তিনি একাধিক আত্মীয়কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে সিন্ডিকেট গঠন করেন। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তথ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য নির্বাচনী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, যা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও দপ্তরের অসন্তোষ:মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা জানান, সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা দপ্তরের সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির চালাচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে। একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিন্ডিকেটের ক্ষমতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। তারা বলছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। সিন্ডিকেটের সদস্যদের বহাল থাকার প্রভাবে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হচ্ছে।দপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। নির্বাচনী সময়ে প্রশাসনিক তথ্যের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।বিদেশি পোস্টিং ও তদবিরে সিন্ডিকেটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজস্ব তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে বিদেশি ভ্রমণ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মচারীরা হতাশার শিকার হচ্ছেন এবং দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশীয় প্রশাসন এবং সরকারি স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, সিন্ডিকেটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও দপ্তরের তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।সিনিয়র সচিব দপ্তরে কর্মরত ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদেরকে যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডেকেছে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা ও নির্বাচনকালীন বিভিন্ন তথ্য ফ্যাসিস্ট দের হাতে না যায় তাই জরুরী ভিত্তিতে বদলি করা একান্ত প্রয়োজন।এখন তারা বিএনপি সেজে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে।উক্ত অভিযোগের এ সকল প্রমাণ পত্রসহ আরো অনেক প্রমাণ পত্র উক্ত অভিযোগ টিতে সংযুক্তি আকারে রয়েছে, উক্ত অভিযোগটির তদন্ত করলে সরষের ভিতর যে কত বড় ভূত রয়েছে তা বেরিয়ে আসবে।তাদের নিজ এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত তার পরিবার। ছাত্র অবস্থায় আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য।একথা গুলো তার নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয়। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক কর্মকর্তা বলেন বতর্মান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের সাথে সাথে তারা আওয়ামী লীগের শুর পরিবর্তন করে বিএনপির শুরে কথা বলে বিএনপি সাজার চেষ্টা করে সুবিধা নিয়ে সুবিধা জনক স্থান দখল করে নেন। নাম না প্রকাশের সত্ত্বে আরও এক কর্মকর্তা বলেন আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বদলি হয়।মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের কাছে দিয়ে থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন সদর উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম। মামলাটি শুনানি শেষে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুল ইসলাম দুলাল, হুমায়ুন কবীর কর্নেল এবং ইন্দ্রজিত সাহা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়ার একটি মসজিদে জুমার নামাজের আগে বক্তব্যে মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যা দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। বাদীপক্ষ দাবি করেছে, এ ঘটনায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ওরফে লিকু গাজির উত্থান ও দুর্নীতির চিত্র একটি রূপকথার গল্পের মতো, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাত্র কয়েক বছরে গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পদের পাহাড়। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া,ঢাকা থেকে বরিশাল। কাশিয়ানী থেকে কুয়াকাটা । খুলনা থেকে সিলেট।সকল স্থানেই রয়েছে লিকু গাজির সম্পদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগের পর পিছু তাকাতে হয়নি। ছিলেন বিআরটিসির নিয়ন্ত্রকও।শেখ সেলিমের আশির্বাদে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।যখন তখন বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বাসায় তলব করতেন।ঢাকা-বরিশাল -ঢাকা বিআরটিসির চলাচলরত বাসের আয় নিয়ে যেতেন নিয়মিত। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে রেখেছিলেন আপন চাচাতো ভাইর পুত্র টিটু গাজি নামে একজন প্রতিনিধি।যেখানেই টাকা সেখানেই গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর হাত।বরিশালের রুপাতলীতে গড়ে তুলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।এক একরের ওপরে ক্রয় করেন জমি ।নির্মান করেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এখানে যখন আসতেন তখন সাথে থাকতো বিশাল গাড়ি বহর।রাতভর চলতো নারীদের নৃত্য। মদের এক মিনিবারও গড়ে তুলেছিলেন এখানে। লিকু গাজি ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে গেছেন।সেই সাথে থেমে গেছে বরিশালের বাড়িরও কোলাহল। বাড়িটি এখন নিরব নিস্তব্ধ। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িটির সন্ধান জানেনা দুদকসহ অনেকেই।বিভিন্ন স্থানে লিকু গাজির সহায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলেও বরিশালের জমি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়নি এখনো। লিকু ও স্ত্রী রহিমা আক্তার লিকুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তারপর থেকেই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পান। পরবর্তীতে তিনি এপিএস হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে কমিশন বাণিজ্য এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর যেগুলোর সন্ধান মিলছে। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন।নিজেকে আড়ালে রাখতে সব ধরনের ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দালিলিকভাবে নিজ নামে সম্পদ কম দেখিয়ে বেনামে গড়ে তুলেছেন অধিকাংশ অবৈধ সম্পদ। এ ছাড়া ভিয়েতনামে শত কোটি টাকা পাচার করেছেন, শ্যালককে সেই দেশের ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে পালিয়ে শালা-দুলাভাই দেশটিতে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানেও তার বিরুদ্ধে কয়েক-শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। বাস্তবে যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন থেকে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক লিকু প্রথম আয়কর প্রদান করেন ২০০৯-২০১০ করবর্ষে। তার আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক। লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন রামদিয়াতে ‘মেসার্স রাফি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার জমির পরিমাণ ৪৭১ শতাংশ এবং দালিলিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা রাজধানী ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলায় ‘মধু সিটিতে’ এক বিঘা জমির ওপর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। যার মূল্য কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকার আদাবরের ৬ নম্বর রোডের ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে। ওই বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম রহিমা আক্তারের বন্ধু বলে জানা গেছে। ২৫ মিতালী রোড, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, ধানমন্ডি, ঢাকায় লিকুর বেনামে আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। স্ত্রী ও অন্যদের নামে অর্ধডজন প্রাইভেট গাড়ি ও মাইক্রোবাসের খোঁজ পাওয়া গেছে। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘ওয়েলকাম এক্সপ্রেস’ নামে ৪২টি যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে সাতটি গাড়ি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। গাড়িগুলো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কালু ও তার যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরে ওয়েলকাম বাস সার্ভিসেও তার শেয়ার রয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কুশলা ইউনিয়নসহ গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাজুলিয়া গ্রামে ৪০০ বিঘা জমিতে মৎস্যঘের রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া রোডে পৈত্রিক জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। যার মূল্য দুই কোটি টাকা। জানা যায়, লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লা। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে মূলত হুন্ডি ব্যবসা করতেন। হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি ভিয়েতনামে বসবাস করেন। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সব অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। নিজ বাড়ির পাশে থানাপাড়া রোডে অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। সেখানে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করছেন। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন। লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোবরা নামক স্থানে লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালক রিপন ফকিরের নামে ১৫ শতক জমিতে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান মিলেছে। একই ওয়ার্ডে হালিম মোল্লার অপর শ্যালক মিল্টন ফকিরের নামে তিনতলা বাড়ি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নামক স্থানে নিলের মাঠের পাশে ১০ শতাংশ জায়গায় একতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। লিকুর আপন ছোট ভাই গাজী শফিকুর রহমান ছোটনের নামে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২২ শতাংশ জমি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যালকের নামে সোয়া কোটি টাকার সাত কাঠা জমি, গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম মোড়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের নামে ৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ বসতভিটা, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ বিঘা জমি, ভায়রাভাই ওমর আলীর নামে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চারতলা বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। লিকু গাজির বরিশালের বাড়ি ছবি - ইত্তেহাদ নিউজ লিকু গাজির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিবরণ: ১. শূন্য থেকে শতকোটিপতি ২০০৯ সালে মাত্র ৫,১০০ টাকা মূল বেতনের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন লিকু। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হওয়ার পর তার সম্পদ অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২. ব্যাংকিং লেনদেন ও অর্থ পাচার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তার এবং তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। লিকু ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ৩৩টি ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৪৪.৫৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ রূপান্তরের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেছে। ৩. বেনামী সম্পদের পাহাড় নিজের পরিচয় আড়াল করতে লিকু অধিকাংশ সম্পদ তার স্ত্রী, ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন: স্ত্রীর নামে সম্পদ: তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে প্রায় ২৩.২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। রিসোর্ট ও মৎস্য ঘের: কুয়াকাটায় 'ওশান ব্লু' নামক রিসোর্ট এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে 'মেসার্স রফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ'-এর নামে কয়েকশ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের গড়ে তুলেছেন। স্থাপনা: ঢাকার উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং প্লট ছাড়াও গোপালগঞ্জে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার ও তার স্বজনদের নামে। ৪. আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা মামলা: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুদক লিকু, তার স্ত্রী এবং স্বজনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে। সম্পদ জব্দ: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে তার উত্তরায় অবস্থিত ৩ কাঠার প্লট, গোপালগঞ্জের জমি এবং ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করা হয়। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালীন লিকু ও তার স্ত্রীর ওপর আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমেই লিকু এই বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কে এই লিকু গাজি গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং তিনি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভিপি এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় এই পদে তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়েছিল। পদচ্যুতি: ২০২৪ সালের ২৯ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ পদ থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়, যা ১ জুন ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। জন্ম ও আদি নিবাস: তিনি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গাজী শুকুর আহম্মেদ। স্ত্রীর নাম রহিমা আক্তার (হকি)।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প এখন বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রকল্পটির আর্থিক অনিয়ম, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় প্রযুক্তিগত প্রকল্পে সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেনাবাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেননি, তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিপুল ব্যয়ে কেনা মেশিনের একটি বড় অংশ বর্তমানে অচল বা ব্যবহার অযোগ্য। সাম্প্রতিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেশিন ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যেখানে ১০ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ ছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়—যা প্রকল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের কাছে প্রকল্পটির ব্যর্থতার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তদন্ত নয়—দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মূল শর্ত। সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়—জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় হলো এবং কারা এর সুবিধাভোগী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন শুধু আর্থিক বিষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের জন্যও জরুরি হয়ে উঠেছে।
রাজধানী ঢাকা-র দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এ মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-কে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এ প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। এছাড়া অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে— কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মোবাশ্বের আলী সিলেট সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত মো. আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় সরকারি পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে অর্জন করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন এই নিয়োগের পরপরই প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতি দমনের কঠোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে এমন নিয়োগ সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মন্ত্রীও ছিলেন অজ্ঞাত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন মহল থেকে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। দ্রুত ইউ-টার্ন সমালোচনার মুখে মো. আব্দুর রশীদ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতোমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিয়োগটি টিকছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। রোববারের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ঢাকা: রিমান্ডে থাকা সাবেক প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারো সরকারের নেপথ্যের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। ডিবি সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক-এগারোর সময় সক্রিয় থাকা সামরিক ও বেসামরিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে হটিয়ে সেনা-সমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠায় নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে চাপ প্রয়োগ করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ‘চা-চক্র’। ওই দিন তার বাসভবনে কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেই বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই দিন সেখানে তিন বাহিনীর প্রধানসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তাদের। ডিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তের অগ্রগতিতে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, অভিযোগ রয়েছে—এক-এগারো সরকারের সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের দেশছাড়া করার লক্ষ্যে ‘মাইনাস-টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে সেনা-সমর্থিত সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সম্প্রতি রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মানি লন্ডারিং, মানব পাচার ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি মামলার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। একটি মানব পাচার মামলায় আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নাম ভাঙিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, আলাউদ্দিন আলো পেট্রোল পাম্প মালিকদের প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জেলা প্রশাসকের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রতিদিন পাম্পে অভিযান পরিচালনার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সংঘটিত সুসংগঠিত চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন। এদিকে আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতির পদ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ছাড়াই তেল সরবরাহ, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ের বিতর্কিত তেল বিল পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলন, বিআইডব্লিউটিএ কাঁচাবাজার নামমাত্র মূল্যে টেন্ডার গ্রহণ এবং স্টিমারঘাট মসজিদের সভাপতির পদ দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা: দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাতিল হওয়া ১৬৮ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পুনর্বহাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত গঠিত আপিল বোর্ড কোনো বৈঠকই করেনি, ফলে এসব সাংবাদিকের পেশাগত কার্যক্রম ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০ জন, ৩ নভেম্বর ৩০ জন এবং ৭ নভেম্বর ১১৮ জনসহ মোট ১৬৮ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামুল কবীরের সই করা পৃথক তিনটি আদেশে ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২২’-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়। কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পাদক, উপসম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তাপ্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানা গেছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেসব মামলারও এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাতিল হওয়া এসব কার্ড পুনর্বহালের সুযোগ দিয়ে আপিলের ব্যবস্থা করে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন আপিল কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সদস্য সচিব তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী। এছাড়া কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আপিল করলেও এখনো পর্যন্ত কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। ফলে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও আপিল কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আপিল বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়া আবেদনগুলো সরাসরি তথ্য অধিদফতরে পাঠানো হলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে এখনো কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াকুব আলীও স্বীকার করেছেন যে আপিল কমিটির বৈঠক এখনো হয়নি। তিনি বলেন, বৈঠকে যাচাই শেষে অনুমোদিত আবেদনগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত কার্ড ইস্যু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২৫’-এ নতুন করে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত কার্ড বাতিল না করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অনেক সাংবাদিক পুনরায় কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে আগের বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ না থাকায় প্রশ্নও উঠেছে। নীতিমালার ধারা উল্লেখ করা হলেও কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ— তা পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আরও সুশৃঙ্খল করতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নীতিমালা-ভিত্তিক করা হবে। একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কার্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় ১৬৮ জন সাংবাদিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ওপর।
ঢাকা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও তিন তারকা জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গভীর রাতের অভিযানে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। ডিবি সূত্র জানায়, রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে সোমবার গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। পরে পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় তিনটি মামলা বিচারাধীন এবং এসব মামলায় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া ফেনীতে আরও তিনটি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশে পাঁচটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছে। ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ‘ওয়ান ইলেভেন’-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সে সময় তিনি নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন, যার মাধ্যমে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ওই সময় শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নিয়ে বিতর্কে তার নাম সামনে আসে, যেখানে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিতর্ক ও অভিযোগ ওয়ান ইলেভেনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর গোয়েন্দা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। অবসরের পর তিনি জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কারসাজি এবং প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকে সহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কর্মজীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায় ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পর ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনাপ্রবাহ ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে পরিচিতি পায়। সেই সময় সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান অবস্থা বর্তমানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডিএমপির পল্টন থানায় হওয়া মানবপাচার মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রাজধানীর পল্টন থানায় করা মানবপাচার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যদিও মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচ এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। /এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।অবসর পরবর্তীকালে জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থেকে মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলাটি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার সঙ্গে জড়িত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।