Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

বাংলাদেশের স্থানীয় ভোটে আগাম দখলযুদ্ধ, মাঠে জামায়াত-এনসিপি; কৌশলগত চাপে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
এনসিপি-জামায়াত
এনসিপি-জামায়াত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—সব স্তরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ এবং নেপথ্য সমঝোতা এখন দৃশ্যমান। তবে এই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে ১১-দলীয় জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিপরীতে, এখনো দৃশ্যমান তৎপরতায় তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত তৃণমূল রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটব্যাংক যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর মঞ্চ। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় ভোটকে ঘিরে দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আগেভাগে মাঠে জামায়াত-এনসিপি

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনি সমীকরণ মেলাতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। প্রকাশ্যে মতভিন্নতা থাকলেও, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা—দুই কৌশলই একসঙ্গে এগোচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও প্রকাশ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। একই ধরনের সমীকরণ তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও।

জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা প্রবল হলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে শরিক দলগুলোকে অনেকাংশে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।

তবে এনসিপির অবস্থান কিছুটা আলাদা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটিতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা।

‘সমঝোতা’ না ‘শক্তি পরীক্ষা’?

এনসিপি ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন এবং পৌর মেয়র পদে রয়েছেন আরও ৫০ জন। দলটির পরিকল্পনায় আরও অন্তত ৪০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা রয়েছে বলে জানা গেছে।

দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই তৎপরতা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা। বিএনপি ও জামায়াতের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মাপতে চাইছে দলটি।

অন্যদিকে জামায়াতও তরুণ ভোটার, নারী ভোটার এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে সামনে রেখে আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নারী বিভাগও ইতোমধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনলাইন দ্বন্দ্ব, নেপথ্যে সমন্বয়

দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বিতর্ক ও অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা এটিকে নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রাখলে ভোটারদের কাছে পরিচিতি তৈরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যেই পাক না কেন, দলীয় উপস্থিতি ও প্রচারণা—দুটিই লাভবান হয়।

জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে নিয়েই আমরা এগোতে চাই। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনোর চিন্তা রয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই নিজেদের অবস্থানও যাচাই করতে চায়।”

বিএনপি কেন পিছিয়ে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দলটি জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় জামায়াত ও এনসিপির তুলনায় অনেকটাই নীরব।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দলই।

কৌশলের কেন্দ্রে ‘জোট রাজনীতি’

১১-দলীয় জোটের ভেতরে আপাত মতভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’। জাতীয় নির্বাচনে যে সমন্বয়কেন্দ্রিক কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে দলগুলো কৌশলগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের আগেই অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হলে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, সেটি তখন বিবেচনায় আসবে।”

Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
লোহিত সাগরে ভারতীয় জাহাজে হামলা, হরমুজ সংকটের প্রভাব ছড়াচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : লোহিত সাগরে ইয়েমেন উপকূলের কাছে ভারতের পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ডে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারত্বের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দর থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করার সময় 'এমএসভি ফাইজে নুরি ওলিয়ে' নামের ভারতের পতাকাবাহী জাহাজটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। হোদেইদা বন্দর বর্তমানে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন লোহিত সাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জাহাজটিতে মোট ১৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনি নাগরিক। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স জানায়, কোস্টগার্ডের নৌ ইউনিট যৌথ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে সকল নাবিককে জীবিত উদ্ধার করেছে। ভারত সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লোহিত সাগরে নতুন অবরোধ ঘটনার কয়েকদিন আগে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে নতুন অবরোধের ঘোষণা দেয়। তারা জানায়, সৌদি আরবের পণ্যবাহী কোনো জাহাজকে বাব এল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন ঘোষণা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হরমুজ সংকটের অর্থনৈতিক অভিঘাত মধ্যপ্রাচ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এখন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের নিউজিল্যান্ডেও অনুভূত হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক সংঘাত এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসার পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানের ওপর। তিনি আরও বলেন, সংঘাত শুরুর সময় থেকেই সরকার সতর্ক করেছিল যে এর প্রভাব মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই পড়বে। পিটার্সের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিউজিল্যান্ডের নিজস্ব তেলসম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি বলেন, দেশীয় তেলসম্পদ কাজে লাগানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃত নিউজিল্যান্ড পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে ৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবে মূল্যস্ফীতিও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.১ শতাংশ।   লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি—দুটি নৌপথই বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে। ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা এবং একই সময়ে নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক সূচকে নেতিবাচক পরিবর্তন—দুটি ঘটনাই দেখাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক নয়; এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৫, ২০২৬ 0

ওয়াশিংটনে দাবানলের ভয়াবহ বিস্তার: ৭ হাজার একর পুড়ে ছাই, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৬৫ হাজার মানুষকে , জরুরি অবস্থা জারি

পশ্চিম তীরে জমি দখল

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযান: ১৪ ফিলিস্তিনি আটক, ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের—বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট?

১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ বন্ধ করল ভারত
দমদম বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ বন্ধ করল ভারত

কলকাতা, ভারত: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর জামে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের অংশ হিসেবে মসজিদটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদে প্রবেশের বিশেষ অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে আপাতত সেখানে নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান স্থানে মসজিদটি থাকায় দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বড় উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামা এবং প্রধান রানওয়ে সংস্কারের সময় বিকল্প রানওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দমদম বিমানবন্দর, যার সরকারি নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিতীয় রানওয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মসজিদের বর্তমান অবস্থান রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত দৃষ্টিকোণ থেকেও বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানান্তর নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা গৌরীপুর জামে মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন নয়। বহু বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা চললেও নানা কারণে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির একাধিক বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন গতি পেয়েছে। প্রশাসনের প্রতিনিধি দল এবং বিমানবন্দর নিরাপত্তা কমিটিও এলাকা পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ এর আগে বিরাটি মোড়ের দিক থেকে বিমানবন্দরের তিন নম্বর গেট দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে দর্শনার্থীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই প্রবেশ সুবিধাও বন্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য গেটে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি ঐতিহাসিক মসজিদটি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের প্রবেশও আপাতত বন্ধ রয়েছে। মসজিদ কমিটির অবস্থান মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে স্থানান্তরের সময় মসজিদের ধর্মীয় মর্যাদা এবং ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। কমিটির সদস্যদের মতে, গৌরীপুর জামে মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নতুন স্থানে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য এবং ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটিকে বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় ও আধুনিক একটি নতুন মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, নতুন স্থানে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে। নতুন মসজিদ নির্মাণ, স্থানান্তরের সময়সূচি এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ঐতিহ্য বনাম উন্নয়ন স্থানীয়দের কাছে গৌরীপুর জামে মসজিদ কেবল একটি উপাসনালয় নয়; এটি এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবেগের সৃষ্টি হলেও অনেকেই উন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে ঐতিহ্য রক্ষা, ধর্মীয় মর্যাদা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0

হরমুজে ফি প্রস্তাবের আড়ালে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের মুখে: হামলা, হরমুজ সংকট ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে

কারবালায় খামেনির জানাজা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
কারবালায় খামেনির জানাজা : ইরানের রাজনৈতিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরও জোরদারের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির ইরাকে অনুষ্ঠিত জানাজা ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই জাতির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বার্তায় কানি বলেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা শুধু দুই দেশের জনগণের ঐক্যই গভীর করবে না, বরং প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদ নেতাদের ন্যায়বিচারের দাবিকেও আরও জোরালো করবে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকারের উদ্যোগ এবং দেশটির জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরান ও ইরাকের গভীর আধ্যাত্মিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। কানি আরও উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সমর্থন এবং ইরাকের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা দেশটিতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসির সাবেক কুদস ফোর্স প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের প্রসঙ্গ টেনে কানি বলেন, তারা দুই দেশের জন্যই আত্মত্যাগের অভিন্ন প্রতীক। তিনি দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যও সোলাইমানি ও আল-মুহান্দিসের জানাজার মতোই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, কারবালার গভর্নর ও প্রদেশের উচ্চ নিরাপত্তা কমিটির প্রধান নাসিফ জাসিম আল-খাত্তাবি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইরাকি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি দেশটির সরকার ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ফেডারেল সামরিক বাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শোকাহত মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিনিধি দল কারবালায় আসতে শুরু করবে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানাজা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান গভর্নর। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, দ্বিতীয় ধাপে বুধবার নাজাফে জানাজার শোভাযাত্রা এবং শেষ ধাপে একই দিন বিকেলে কারবালায় চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার কারবালা প্রদেশে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ মিডিয়া কমিটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান জানান, নাজাফে শোভাযাত্রার পথ আল-সাদরাইন ওভারপাস থেকে ইমাম আলীর মাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং কারবালায় প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাজাফে ৩৫১টি, কারবালায় ৪০০টির বেশি সেবাকেন্দ্র এবং শোভাযাত্রার পথে ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
খামেনির শেষযাত্রা

খামেনির শেষ বিদায়: আকাশসীমা বন্ধ ,৫০ হাজার মানুষ নিলেন জরুরি চিকিৎসাসেবা

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন

ইরানের প্রতিরোধের স্থপতি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন

খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | জনসমর্থন ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0