ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও নির্যাতন। এ সময়ে চারজন সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মগোপনে রয়েছেন অনেকেই।
দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে দেশে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া চার সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা হয়েছে।
আসক বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের কমবেশি নির্যাতন বা হয়রানি করেছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ছাড়া রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তারা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হওয়া কয়েকটি হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। তিনি বর্তমানে কারাগারে। গত বছরের এপ্রিলে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। দলটির চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গত বছরের আগস্টে মাইটিভির চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
এসব সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস কারাগারে বিনা বিচারে কারাবন্দি রয়েছেন। বারবার জামিনের জন্য আবেদন করলেও সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সাংবাদিকদেরই অনেকে বলছেন, সাংবাদিকেরা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তাদের লেখালেখি বা বক্তব্যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তার আইনি প্রতিকার রয়েছে। এমনকি কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও আছে। কিন্তু ঢালাওভাবে হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম ধরে ধরে আসামি করা ন্যায়বিচারের ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন। সেখান থেকেই তিনি লাইভ সম্প্রচার করেন। অন্য টেলিভিশনেও সেই সম্প্রচারের দৃশ্য দেখা গেছে, যার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
কিন্তু একই দিন বিকেলে মিরপুরের ভাষানটেক এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় অন্য অনেকের সঙ্গে তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন এসব তথ্য উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর প্রশ্ন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় থাকেন কীভাবে? এখন বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
শাহনাজ শারমীনের ঘটনাটিই একমাত্র ঘটনা নয়। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হত্যা ও সহিংসতার অভিযোগে করা বিভিন্ন মামলায় সাংবাদিকদের ঢালাওভাবে আসামি করা হয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও সম্পাদকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ সাংবাদিক এখনো মামলার বোঝা বহন করছেন এবং কারাবন্দীদের অনেকেই জামিন পাচ্ছেন না।
নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মার্চ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পরে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ জামাল হোসাইন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সদস্য।
গত বছরের আগস্টে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিতে গিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না)। মাস তিনেক পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসব ঘটনায় অন্যদের মধ্যেও কিছুটা আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই, মামলাগুলোর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষেত্রে আদালত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর আগে গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের জামিন পাওয়ারও প্রত্যাশা করছেন তারা।
কারাবন্দি সাংবাদিকদের জামিন বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো সংবেদনশীল। প্রতিটি মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায় পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করছেন। কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির একটি চিত্র তুলে ধরে। বিষয়টি সংবেদনশীল এবং এতে নানা পক্ষের দাবি–পাল্টা দাবি আছে। সংক্ষেপে এবং বিশ্লেষণ করে বললে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:
* Transparency International Bangladesh (টিআইবি) অনুযায়ী:
* ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার
* ২৬৬ জন হত্যা/সহিংসতার মামলায় আসামি
* Ain o Salish Kendra (আসক):
* এক বছরে ৩৮৯ জন সাংবাদিক নির্যাতন/হয়রানির শিকার
* Manabadhikar Sangskriti Foundation:
* ২৬৮ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
* অন্তত ১৪ জন গ্রেপ্তার
অর্থাৎ, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়—সংখ্যা ভিন্ন হলেও “বড় আকারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও চাপ” একটি বাস্তব প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে।
* অধিকাংশ মামলাই **হত্যা বা সহিংসতা সংক্রান্ত**, যা খুব গুরুতর অভিযোগ
* অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ:
* একই ঘটনায় বহুজনকে আসামি করা হয়েছে
* কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এমন দাবিও এসেছে
* আইনজীবীদের মতে, এসব মামলার “প্যাটার্ন প্রায় একই”
এতে প্রশ্ন উঠছে—আইন কি নির্দিষ্ট অপরাধ বিচারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, নাকি কখনো কখনো **রাজনৈতিক বা প্রতিশোধমূলক চাপের হাতিয়ার** হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
* অনেক সাংবাদিক:
* মাসের পর মাস, এমনকি দেড়–দুই বছর কারাগারে
* এখনো চার্জশিট হয়নি
* অভিযোগ:
* জামিন শুনানিতে বারবার সময় নেওয়া
* হাইকোর্টে জামিন পেলেও স্থগিত হয়ে যাচ্ছে
* গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু গোষ্ঠী সাংবাদিকদের “পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে
* বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ এসেছে
* ফলে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্র বনাম সাংবাদিক নয়, বরং **বহুমাত্রিক চাপের পরিবেশ** তৈরি হয়েছে
* Committee to Protect Journalists (CPJ)
* Reporters Without Borders
* Article 19
এসব সংগঠন বলছে:
এই পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে:
**একদিকে:**
* কেউ অপরাধ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি
**অন্যদিকে:**
* ঢালাও মামলা, দীর্ঘ আটক, প্রমাণহীন অভিযোগ
→ এগুলো হলে তা **মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ** হিসেবে দেখা হয়
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলো হলো:
* মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা
* দীর্ঘ প্রি-ট্রায়াল আটক
* সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে “গণহারে” অভিযোগ
* বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
আইন কি সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, নাকি কখনো তা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে উঠছে?**
আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়'
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল অভিযোগ সাংবাদিকদের অনেকের।
সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা, শত শত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং তিন দফায় সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।
গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা ও গ্রেফতারের সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, আর্টিকেল ১৯, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোও এ ঘটনার সমালোচনা করে আসছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর আগে এক বিবৃতিতে, সাংবাদিকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং হত্যা মামলার আসামি করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস বা সিপিজে সম্প্রতি চারজন সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে- তারা হলেন, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ।
সিপিজের চিঠিতে বলা হয়েছে, নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। কোনো অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়নি।
”আটক রাখার ধরন দেখে মনে হয় মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে”- লিখেছে সিপিজে।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময়েও এরকম ঢালাও মামলা করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছিল।
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, "আইন যেন নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু যাতে কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত না করা হয় এবং মতপ্রকাশে বাধা দেওয়া না হয়। আইনের অবশ্যই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ এবং সৎ প্রয়োগ হতে হবে।"
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের এই উপদেষ্টা বলছেন, "মানবাধিকারকর্মী হিসেবে স্বাধীন মত প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় এরকম কাজের বিরোধিতা করি।"
এদিকে, নোয়াবের সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, নির্বাচিত এই বিএনপি সরকার সাংবাদিকদের এই প্রসঙ্গে ইতিবাচক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিক নেতাদের জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের মামলাগুলো এই সরকারের আমলে দায়ের হয়নি কিংবা কেউ গ্রেফতারও হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সুরাহা করার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বলেন, "আমরা আশা করি যেহেতু পুরোনো মামলা, এই মামলাগুলো সরকার রিভিউ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে"।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম ফারুক মজনু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মুহাম্মদ আবু আবিদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিনিধিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জেলা কমিটি থেকে দুই থেকে তিনজন প্রতিনিধি ভোটগ্রহণে অংশ নেন। নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক বিপ্লবী জনতা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে মুহাম্মদ আবু আবিদ বর্তমানে মোহনা টিভির চিফ এডিটর (প্ল্যানিং, অনলাইন ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি হলে অতীতেও তারা সরব ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নেছার উদ্দিন, মো. ফজলে নেওয়াজ ও মো. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ। যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান আলম সুমন ও মো. হাবিবুর রহমান। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. কামরুল ইসলাম, মো. মিরাজ হোসেন, মো. জামাল শিকদার ও মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে শুভঙ্কর সেন শুভ, দপ্তর সম্পাদক পদে মীম আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে আব্দুল মান্নান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে নিপা আক্তার, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে আর কে রিপন এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল নোমান নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এনায়েত হোসেন খান রিমন, শরিফুল ইসলাম, মোকাম্মেল হোসেন চৌধুরী, রঞ্জন লোদ রাজু, সুমা রানী কর্মকার ও মো. ফারুক হোসেন বাপ্পি। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সভাপতি গোলাম ফারুক মজনু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবু আবিদ সংগঠনের সদস্য, প্রতিনিধি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, তৃণমূল সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় এসএসপি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।
ইত্তেহাদ নিউজ : রাষ্ট্রীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগকেন্দ্রিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের কিছুদিন পর থেকে বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসোর্স অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে অর্থের বিনিময়ে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিক অনিয়ম ও অস্থায়ী ভাবে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে নিয়মের কথা বলায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব রক্ষক (চ.দা.) মোঃ আলী হোসেন-কে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অবসরে পাঠান। অবৈধভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয় পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের অন্যায় অত্যাচার, পদোন্নতি বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, অতি.দা.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে এক রাতে নোটিশে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে।অথচ পিআইবি'র চাকুরি ডেপুটেশন বা বদলিযোগ্য নয়। পিআইবি বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ মডিউল, জেন্ডার টুলকিট, রিসোর্স পেপারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে সেই কাজ ছিনিয়ে নিয়ে তার বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা পরমিন (অস্থায়ী নিয়োগ), বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মামুন, আত্মীয় ফারুকসহ নিজের লোকদের কাছে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বই দেখে রেগে যান ডিজি ফারুক ওয়াসিফ অন্তবর্তী সরকারের সময়ে জুলাই নিয়ে কিছু কাজ করলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিপিড়ন ও নির্যাতন, মামলা -হামলা নিয়ে কোন কাজ করেননি, বরং তারুন্য উৎসবের মেলায় পারভীন সুলতানা রাব্বী পিআইবি'র বইয়ের স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর উপরে লেখা কিছু বই প্রদর্শনী করতে গেলে "এটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়" বলে ভূচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রাগারাগি করেন ফারুক ওয়াসিফ। নতুন মলাটে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ২০০৩ সালে প্রকাশিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লিখিত বইকে নতুন মলাটে ঢেকে পূণর্মুদ্রণ দেখিয়ে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করেন বিএনপির মহাসচিবকে দিয়ে, অথচ গত ১৮ মাসে অফিস চেম্বারে বসে প্রতিনিয়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল এবং দলের সর্বোচ্চ নেতাকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন ডিজি ফারুক ওয়াসিফ। বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা পারভীন সুলতানা রাব্বীর নেতৃত্বে বিএনপি ঘরানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি তাকে সকল কাজে শতভাগ সমর্থন সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকেই প্রতারণামূলক আচরণ শুরু করে নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অযোগ্য (২৫ থেকে ৩০জনকে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেন এবং ধীরেধীরে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কর্মবিহিন করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম-কে শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এম এল এস এস মো: মাহবুব আলম-কে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরকে নানা ভাবে তার পালিত লোকজন দ্বারা অত্যাচার, নির্যাতন ও চাকুরী খেযে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সদ্য অবসর প্রাপ্ত একেএম ফরিদ উদ্দিন এর দেনা পাওনা চাইতে গেলে ডিজি ফারুক ওয়াসিফ তাকে অফিস থেকে রেব করে দেয়। স্থায়ী ভাবে কর্মরত সকলের নামে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এর নিকট মিথ্যা বনোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে তার (ফারুক ওয়াসিফ) নিজের অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও কুকীর্তি আড়াল করছেন। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এক দিনে ৪ কর্মশালা: ভুয়া বিল ভাউচার,২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত টাকা আত্মসাত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫, জুলাই গণ অভ্যুত্থান। সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত) টাকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টিভি , অনলাইন পত্রিকায় অনুসন্ধানী মুলক সংবাদ ছাপা হয়েছে। নয় মাসের কর্মকান্ডের ১৭ অডিট আপত্তি সদ্য সমাপ্ত সরকারী অডিটে ফারুক ওয়াসিফ-এর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাত্র নয় মাসের কর্মকান্ডের উপর ১৭-টি অডিট আপত্তি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিযোগকৃত দের প্রদত্ত বেতন- বোনাস, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ নামে ২৩,৯৭,৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয়। ফারুক ওয়াসিফ আপত্তি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলছেন, এ সব কিছু হবে না তথ্য সচিব-কে সব অবহিত করা হয়েছে। তথ্য সচিব আমাকে বলেছেন আপনি চিন্তা করবেন না আমি অডিটের ডিজিকে বলে আপত্তি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করব। আপনি যত দ্রুত পারেন অস্থায়ীদের স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেন। আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এই সব কাজে সহযোগিতা করছেন পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চবেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন- ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। একজন অস্থায়ী ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা কখনই সরকারী অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারে না। অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন এ ছাড়া ফারুক ওয়াসিফ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, তার পক্ষে কথা বলা, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে রুমে গিয়ে ভয় ভীতি দেখান কয়েকজন কর্মচারী-কে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, কোর্সের আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অফিসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছেন। আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার চেষ্টা বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ আওয়ামীলীগের সময়ে নিয়োগকৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার কাজে ব্যস্ত। অন্য দিকে তিনি বিএনপির উপর মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত প্রথমআলো ও সমকালে বিএনপির বিরদ্ধে অসংখ্য উপ-সম্পাদকীয় লিখেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ করেছেন পি়আইবির নিপিড়ীত ও নির্যাতিত কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। পিআইবির ব্যয় ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই। পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাপরিচালকের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা বলেছেন, মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নিয়োগ বানিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতির বিষয়গুলো আড়াল করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাপ দিচ্ছেন। এদিকে পিআইবি ভবনে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অভিযোগের মুখে বর্তমানে মহাপরিচালকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি গবেষণা, সিনিয়র সাংবাদিক,গণমাধ্যম সংগঠন ও সাংবাদকর্মীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে।