Brand logo light

বিএনপি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে শাহাদত বার্ষিকী সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড় এবং চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। অনুরূপভাবে, দেশের সকল জেলা, মহানগরীসহ প্রতিটি ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপীঠে আলো ছড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর আগে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল, চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল, সমাজে চলছিল ভয়ংকর রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনাখুনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলের শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত বিরল। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজও মানুষের মনে অম্লান।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, যার ফলে অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।’ এ সময় রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না, কর্মসূচি কেবল উন্মুক্ত মাঠ বা মিলনায়তনে সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
এনসিপি-জামায়াত
বাংলাদেশের স্থানীয় ভোটে আগাম দখলযুদ্ধ, মাঠে জামায়াত-এনসিপি; কৌশলগত চাপে বিএনপি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—সব স্তরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ এবং নেপথ্য সমঝোতা এখন দৃশ্যমান। তবে এই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে ১১-দলীয় জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিপরীতে, এখনো দৃশ্যমান তৎপরতায় তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত তৃণমূল রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটব্যাংক যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর মঞ্চ। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় ভোটকে ঘিরে দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগেভাগে মাঠে জামায়াত-এনসিপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনি সমীকরণ মেলাতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। প্রকাশ্যে মতভিন্নতা থাকলেও, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা—দুই কৌশলই একসঙ্গে এগোচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও প্রকাশ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। একই ধরনের সমীকরণ তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও। জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা প্রবল হলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে শরিক দলগুলোকে অনেকাংশে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এনসিপির অবস্থান কিছুটা আলাদা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটিতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা। ‘সমঝোতা’ না ‘শক্তি পরীক্ষা’? এনসিপি ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন এবং পৌর মেয়র পদে রয়েছেন আরও ৫০ জন। দলটির পরিকল্পনায় আরও অন্তত ৪০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা রয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই তৎপরতা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা। বিএনপি ও জামায়াতের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মাপতে চাইছে দলটি। অন্যদিকে জামায়াতও তরুণ ভোটার, নারী ভোটার এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে সামনে রেখে আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নারী বিভাগও ইতোমধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন দ্বন্দ্ব, নেপথ্যে সমন্বয় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বিতর্ক ও অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা এটিকে নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রাখলে ভোটারদের কাছে পরিচিতি তৈরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যেই পাক না কেন, দলীয় উপস্থিতি ও প্রচারণা—দুটিই লাভবান হয়। জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে নিয়েই আমরা এগোতে চাই। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনোর চিন্তা রয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই নিজেদের অবস্থানও যাচাই করতে চায়।” বিএনপি কেন পিছিয়ে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দলটি জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় জামায়াত ও এনসিপির তুলনায় অনেকটাই নীরব। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দলই। কৌশলের কেন্দ্রে ‘জোট রাজনীতি’ ১১-দলীয় জোটের ভেতরে আপাত মতভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’। জাতীয় নির্বাচনে যে সমন্বয়কেন্দ্রিক কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে দলগুলো কৌশলগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের আগেই অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হলে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, সেটি তখন বিবেচনায় আসবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
নূরুল আনোয়ার
পাসপোর্ট ডিজিকে ঘিরে বিতর্ক: রাজনৈতিক আনুগত্য বদল, সবুজ পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া
চরফ্যাসনে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাসনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও এডিবি অর্থায়নের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসন পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের একটি সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ ও উঠান পাকা করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে।পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ব্যক্তিগত কাজে ওই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এখনো সড়ক দুটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান বলেন, “কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতার বাড়ির যে অংশ পাকা করা হয়েছে, সেটির কোনো টেন্ডার হয়নি। ঠিকাদারকে চাপ প্রয়োগ করে কাজ করানো হয়েছে।” ওই কাজের ঠিকাদার কাজী মান্নান হোসেন বলেন, “স্টেডিয়ামের পেছনের সড়কের কাজের ঠিকাদার ছিলাম আমি। কিন্তু আলমগীর মালতিয়া সড়কের কাজ বন্ধ রেখে জোর করে তাঁর বাড়ির দরজা ও উঠান পাকা করিয়েছেন। এ কারণে আমি এখনো কাজের বিল পাইনি।” এলজিইডির বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরেকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।সাবেক ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি বলেন, “তিনি বিভিন্ন কাজ হাতিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করিনি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” এদিকে চরফ্যাসন মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে নিজের ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, এতে মসজিদের প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।আলমগীর মালতিয়ার ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও চরফ্যাসন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চরফ্যাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তখন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। কমিটির সদস্যরা চরফ্যাসনে সরেজমিন তদন্ত করে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চরফ্যাসন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পদ হারানোর পরও তাঁর তৎপরতা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালে চরফ্যাসনের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা নিয়েও আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ নিয়েও পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া বলেন, “১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, “বিএনপি কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় নেয় না। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একই মিলনায়তনে নির্ধারিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও একটি বিয়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানসূচির সংঘাতের বিষয়টি জানার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই দলীয় কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে নবদম্পতি ও অতিথিদের কোনো ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে তারেক রহমান নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই এ আচরণকে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সৌজন্য ও সামাজিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
নেতাকর্মীদের মাঝে হাবিব উন নবী সোহেল
রাজপথের ‘ফ্রন্টলাইন লিডার’ হাবিব উন নবী খান সোহেল: মামলা-সংগ্রাম থেকে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঢাকার এক আদালত ভবন থেকে আরেক আদালতে ছুটে চলা—একসময় এটিই ছিল বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের রাজনৈতিক জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। দিনের পর দিন, সপ্তাহের পাঁচ দিনই তাকে একাধিক মামলার শুনানির জন্য আদালতের বারান্দায় সময় কাটাতে হতো। দীর্ঘদেহী ও সুপরিচিত এই রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে আদালত চত্বরে প্রায়ই দেখা যেত দলের কর্মীদের উপস্থিতি ও স্লোগান। দীর্ঘ মামলার ভার ও আদালত-জীবন দলীয় সূত্র ও তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে ৬১৮টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বড় অংশই নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধা এবং সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা। বিশেষ করে ২০১৫ এবং ২০১৮ সালের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও হরতাল-অবরোধের সময় তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বাড়ে। একাধিক মামলায় তিনি বিভিন্ন সময় কারাবরণও করেন। তার নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় উঠে এসেছে, এমন সময়ও গেছে যখন দিনে চার থেকে পাঁচটি আদালতের শুনানিতে অংশ নিতে হয়েছে তাকে। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘ উপস্থিতি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই তিনি মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানায়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি সংগঠন পরিচালনা ও মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলীয় কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। সাংগঠনিক ভূমিকা ও নেতৃত্ব দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, তিনি কেবল নির্দেশনা দিতেন না, বরং নিজে মাঠে উপস্থিত থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতেন। এর ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর কাছে তিনি একটি পরিচিত ও আস্থার নাম হয়ে ওঠেন। ঢাকা মহানগরের এক স্থানীয় নেতা জানান, সংকটের সময়ে তার উপস্থিতি কর্মীদের মনোবল বাড়াত। মামলার প্রকৃতি ও রাজনৈতিক বিতর্ক পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এক পরিবারের সদস্যের ভাষায়, রাজনৈতিকভাবে তাকে চাপে রাখতেই এসব মামলা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং সংগঠন ধরে রাখার ভূমিকা তাকে বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংকটকালীন সময়ে সংগঠন ধরে রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকা—এই দুই বৈশিষ্ট্য হাবিব উন নবী খান সোহেলকে দলীয় রাজনীতিতে একটি দৃশ্যমান অবস্থান দিয়েছে। তাদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের সঙ্গে তার ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে উপস্থিতি তাকে দলের অভ্যন্তরে একটি স্থিতিশীল নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সার্বিক চিত্র দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, আদালত-সংগ্রাম, কারাবাস এবং আন্দোলনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে হাবিব উন নবী খান সোহেলের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে উঠেছে মূলত রাজপথ-নির্ভর সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে। বর্তমানে তিনি আগের মতো আদালতের ধারাবাহিক দৌড়ঝাঁপে না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয় উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
দাওকান্দি সরকারি কলেজ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজ দখল নিয়ে সংঘর্ষ: শিক্ষিকাকে জুতাপেটা, তহবিল নিয়ে দীর্ঘদিন নজর চক্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্পষ্ট নয়—কারা এই সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা সহিংসতায় গড়ায়। তবে স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এসেছে।  সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব কলেজটির রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা পুকুর, কয়েকটি পানের বরজ এবং প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একটি বড় কাঠামো। এসব সম্পদ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে—ভর্তি ফি, বিভিন্ন চাঁদা ও লিজ বাবদ আয় মিলিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের একটি অংশ তছরুপ হয়েছে। পুকুর ও বরজ লিজে দিয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলেও রসিদে কম দেখানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।  নতুন অধ্যক্ষ ও বিরোধের সূচনা গত ১৭ ডিসেম্বর নতুন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে তহবিল অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেন। ২৩ এপ্রিল কলেজের পুকুর ও পানের বরজ উন্মুক্তভাবে লিজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।  সংঘর্ষের দিন যা ঘটেছিল ঘটনার দিন কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে: একদল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হিরাকে ধাক্কা দেওয়া হয় ভিডিও ধারণের সময় তাকে জুতাপেটা ও মারধর করা হয় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে আবারও আক্রমণ করা হয় পরবর্তীতে আরও লোকজন লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলায় অংশ নেয়। অধ্যক্ষকেও মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও একই ধারা অব্যাহত থাকে। একাধিক সূত্র বলছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি চক্র কলেজের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  তহবিল অনিয়মের অভিযোগ লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী: বছরে ৭০ হাজার টাকা লিজ দিলেও রসিদ দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকার অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ কলেজ তহবিলে পুরোপুরি জমা হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনায় জড়িত এক স্থানীয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অভিযুক্ত এক কর্মী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে আগেই পরোয়ানা ছিল শিক্ষিকা হিরাকে উল্টো সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং শুরু থেকেই চাঁদার চাপের মুখে ছিলেন।  এখনো অনিশ্চয়তা ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এসেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২৯ ইউনিটে নতুন ও পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল, রবীন্দ্র, কিশোরগঞ্জ ও পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি এবং ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর মেডিকেল কলেজে আংশিক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—এই চার ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর মহানগর এবং নেত্রকোনা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও মহানগরে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে নতুন করে বর্ধিত কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা বাড়াতেই এই ব্যাপক রদবদল ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
সাইফুল আলম নীরব
রাজনৈতিক নীরবতার অন্তরালে সাইফুল আলম নীরব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার রাজনীতিতে একসময় আলোচিত ও সক্রিয় একটি নাম—সাইফুল আলম নীরব। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। সংগঠনিক দক্ষতা, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ—এই তিন উপাদান তাকে দ্রুতই রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতিতে পরিচিত মুখে পরিণত করে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করে। মাঠকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দলীয় কর্মীদের কাছেও একটি নির্ভরতার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যদিও তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও জাতীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে এর পরবর্তী সময়টি তার জন্য ছিল কঠিন। একাধিক মামলা, কারাবাস, দলীয় দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা মিলিয়ে তার রাজনৈতিক গতিশীলতা কমতে থাকে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা, পুলিশের কাজে বাধা, হামলা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ৪৫৭টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁও ও ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা পৃথক নাশকতার মামলায় তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি দুই বছর ছয় মাসের দণ্ড পান। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সেতু ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান, তবে আইনি জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। এসব কারণে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছন্দপতন দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কিংবা দলীয় সমর্থনের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক সমর্থন ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় থাকার চেষ্টা করলেও আগের মতো কর্মীসমর্থন বা সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান ছিল না। ফলাফলও তার পক্ষে যায়নি। নির্বাচনে পরাজয়ের পাশাপাশি ভোটের ব্যবধান ও মাঠের বাস্তবতা দেখায়, দলীয় কাঠামোর বাইরে তার রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা স্বল্পমেয়াদে ব্যক্তিগত অবস্থান ধরে রাখার একটি কৌশল হতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দলীয় আস্থা ক্ষুণ্ন করে। যদিও রাজনীতিতে স্থায়ী বিচ্ছিন্নতা খুব কমই দেখা যায়, তবুও এই ধরনের পদক্ষেপ নেতার ভবিষ্যৎ অবস্থানকে অনিশ্চিত করে তোলে। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন—এটি ছিল তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা। দলীয় কর্মীদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজপথে সক্রিয় থাকা তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি কর্মীদের পাশে ছিলেন, যা তাকে তৃণমূলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। বর্তমানে তার অবস্থান কিছুটা অস্পষ্ট। বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না, এবং প্রকাশ্য বক্তব্যও সীমিত। তবে স্থানীয় পর্যায়ে তার একটি নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ নীরবতা অনেক সময় রাজনীতিতে পুনর্গঠনের ইঙ্গিতও হতে পারে। ফলে তার বর্তমান অবস্থানকে সম্পূর্ণ অবসান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাইফুল আলম নীরবের রাজনৈতিক পথচলা তাই একদিকে উত্থান-পতনের গল্প, অন্যদিকে বাংলাদেশের সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে তিনি আবার সক্রিয় হয়ে উঠবেন, নাকি নীরবতাই স্থায়ী হবে—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের অপেক্ষায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
ঢাকা বার নির্বাচন
ঢাকা বার নির্বাচন : বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা জামায়াত সমর্থিত প্যানেল কোনো পদেই জয় পায়নি। শুক্রবার (১ মে) রাত ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রায়হান মোর্শেদ বেসরকারিভাবে ফলাফল নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। এর আগে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার—দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে, এরপর এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে ২,৭৫৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দ্বিতীয় দিনে ভোট দেন ৪,৪১০ জন। সবমিলিয়ে দুই দিনে মোট ৭,১৬৯ জন ভোটার অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ফলাফল এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে— বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) ফলাফলে দেখা যায়, সবগুলো পদেই জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। বিজয়ীদের তালিকা  সভাপতি পদে আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল কালাম খান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি, ট্রেজারার, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ এবং কার্যকরী সদস্যসহ সব পদেই বিএনপি প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থা জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা কোনো পদেই জয়ী হতে পারেননি। সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিনসহ তাদের সব প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো পদে সফলতা অর্জন করতে পারেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
কুয়াকাটায় বিতর্কিত যুবদল কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ
কুয়াকাটায় বিতর্কিত যুবদলের ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

আব্দুল কাইয়ুম আরজু : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা “পকেট কমিটি মানি না, মানবো না” স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ সিকদার, পৌর যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী। তাদের দাবি, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর ও প্রশ্নবিদ্ধ। ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রলীগের পদে থাকা শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত অন্তত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে পৌর ছাত্রদলের রানিং আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন। তবে দল চাইলে যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর। তিনি বলেন, ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি আংশিক (সুপার ফাইভ) কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, দাবি মানা না হলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কুয়াকাটা পৌর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সৃষ্ট এই বিতর্ক এখন স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে তৈরি এই দূরত্ব কত দ্রুত কমে—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
দাওকান্দি সরকারি কলেজ
রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে জুতা পেটা : আলেয়া খাতুন হীরা সাময়িক বরখাস্ত, বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার

রাজশাহী:  দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে মারামারির ঘটনায় আলোচিত আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।” ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষিকা এবং স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি), এবং পরে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, একই ঘটনায় শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী কলেজে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজ..
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষক লাঞ্ছনা: আলিয়া খাতুন সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে নারী শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি এক নারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান রোববার কলেজ পরিদর্শন শেষে প্রদর্শক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তাকে এবং কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কলেজে একটি তাফসির মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলিয়া খাতুন দুইজনকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বিএনপি কর্মী শাহাদাত আলী কলেজে গিয়ে আলিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান। আলিয়ার দাবি, তাকে আপত্তিকর কথা বলায় তিনি প্রতিক্রিয়ায় চড় মারেন। এর জেরে শাহাদাত আলী তাকে জুতা খুলে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তার ছেলে লিটন ও কর্মচারী মাহবুব এসে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালান। পরে আরও ৪০-৫০ জন বিএনপি নেতা-কর্মী কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং শিক্ষকদ্বয়কে মারধর করেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ পরিদর্শনের সময় পরিচালক জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প উপায়ে যোগাযোগ করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বার্থে আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” এ ঘটনায় দুর্গাপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুগ্ম সচিব (কলেজ-২) আহ্বায়ক উপ-পরিচালক (কলেজ-১, সরকারি কলেজ) সদস্য রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সদস্যসচিব কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ ঘটনার পরদিন বিএনপির কয়েকজন নেতা অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তার মুঠোফোন ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরাসরি মামলা করতে পারছেন না, তবে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন। পুলিশের অবস্থান দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে আটক করা গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতি হামলার শিকার আলিয়া খাতুন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং এখনো কর্মস্থলে ফেরার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি সুস্থ হওয়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
জামায়াত এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
নেত্রকোনার পূর্বধলায় জামায়াতের এমপি মাছুম মোস্তাফার গাড়িতে হামলা, অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তাফার গাড়িতে ভাঙচুর ও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এমপি মাছুম মোস্তাফা পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গেলে হঠাৎ করে কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ির ওপর হামলা চালায়। এ সময় গাড়িটি ভাঙচুর করা হয় এবং তাকে দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীন জাহান এবং পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপিকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এমপি মাছুম মোস্তাফা বলেন, “বিএনপির কয়েকজন হঠাৎ আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং পরে আমার ওপর আক্রমণ চালায়। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তারা এসে আমাকে উদ্ধার করে।” তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
শিক্ষিকাকে জুতাপেটা
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজে হামলা: শিক্ষকদের মারধর, নারী শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ

রাজশাহী:  দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজটিতে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে কলেজের আগের প্রশাসনের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়। পরে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। একটি ভিডিওতে নারী শিক্ষককে জুতাপেটা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ অন্তত পাঁচজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “তারা বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাব চাইতেন। মূলত চাঁদা দাবির বিষয়েই বিরোধ তৈরি হয়। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করা হয়।” অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। শিক্ষকই প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
এ বি এম আব্দুস সাত্তার
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিতর্কিত মুখ্যসচিব: এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে অভিযোগ, প্রশাসনে অচলাবস্থার শঙ্কা

বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার আলোচনা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলে তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র, সাবেক আমলা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—তার কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া, এবং ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এসব অভিযোগের ব্যাপকতা এবং বিস্তার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা এ বি এম আব্দুস সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (২০১২–২০২৪)। তাঁর মৃত্যুর পর তিনি একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তি হিসেবে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হন। নতুন সরকার গঠনের পর তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়—যে পদটি প্রশাসনিক সমন্বয়, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক: অফিসার্স ক্লাব ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অভিযোগ উঠেছে, মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও তিনি ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা “স্বার্থের সংঘাত” তৈরি করতে পারে। একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  “রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা যদি একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত ক্লাব পরিচালনা করেন, তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।” রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা: সমন্বয়হীনতার অভিযোগ গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এক বড় অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠে। আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান-সহ অনেকেই ভিড়ের চাপে পড়েন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই আয়োজনের দায়িত্ব মুখ্যসচিবের ওপর বর্তালেও, অভিযোগ রয়েছে—সংকটময় মুহূর্তে তাকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্থবিরতা সরকার গঠনের পর দুই মাস পার হলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদ শূন্য রয়েছে বলে অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে: * প্রধানমন্ত্রীর সচিব * ক্যাবিনেট সচিব * জনপ্রশাসন সচিব * অর্থ, এনবিআর, ইআরডি, এফআইডি সংশ্লিষ্ট পদ প্রশাসনের ভেতরের সূত্র দাবি করেছে, এই শূন্যপদগুলো পূরণে সিদ্ধান্তহীনতা এবং সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন:  “ফাইল পড়ে আছে, সিদ্ধান্ত নেই—এটাই এখন বড় সমস্যা।” দুর্নীতির অভিযোগ ও নিয়োগ বাণিজ্য সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে যে, উচ্চপদস্থ নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালেও এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।  বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তিনি রক্ষা করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখছেন। কিছু নামও আলোচনায় এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।  বিসিবি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে যথাযথ ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়া অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রায় ২০০০ কোটি টাকার একটি স্থগিত ফান্ড ছাড় করার চেষ্টা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।  এলজিইডি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রাতারাতি চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযোগ অনুযায়ী: * সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পাশ কাটিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় * প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেতরে গোপনে ফাইল প্রস্তুত করা হয় * রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় পরবর্তীতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার বিব্রত হয় এবং নিয়োগ বাতিল করা হয়। অফিসার্স ক্লাব দখল ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা অফিসার্স ক্লাব দখলের অভিযোগ রয়েছে এ বি এম আব্দুস সাত্তার-এর বিরুদ্ধে। সূত্রগুলো দাবি করেছে: * ক্লাবকে তদবির বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে * পদোন্নতি, বদলি, টেন্ডার ও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব খাটানো হয়েছে * কর্মকর্তাদের ক্লাবে ডেকে চাপ প্রয়োগ করা হতো একজন কর্মকর্তা বলেন:  “ক্লাবটা এক ধরনের ‘পাওয়ার হাব’-এ পরিণত হয়েছিল।”  আর্থিক অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হতো। এমনকি “কাজ না হলেও টাকা ফেরত না দেওয়া” নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড ও অগ্নিকাণ্ড সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো অফিসার্স কল্যাণ ফান্ড দখল এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সূত্র অনুযায়ী: * ফান্ড থেকে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ছিল * গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে আগুন দেওয়া হয় * ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এই ঘটনায় তদন্ত সংস্থা কাজ করলেও, অভিযোগ রয়েছে—পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রভাব তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে: * ব্যাংকের পরিচালক পদ * শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি * হাসপাতাল পরিচালনা একটি স্কুলে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার অভিযোগও সামনে এসেছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।  গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। সূত্র বলছে, তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।  প্রশাসনিক অচলাবস্থা: বাস্তবতা না অতিরঞ্জন? সমালোচকদের মতে, এই সব ঘটনার সম্মিলিত প্রভাব প্রশাসনের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে: * ফাইল আটকে থাকা * সিদ্ধান্তহীনতা * কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মূল্যায়ন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশ্নের মুখে নেতৃত্ব এ বি এম আব্দুস সাত্তার-কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো প্রশাসনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ ও সূত্রভিত্তিক তথ্য, যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যাচাই প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন বিতর্ক দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজনীতিতে একটি প্রচলিত ধারণা আছে—রাজপথ কখনো বেইমানি করে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন আর তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে অনেক নেতাকর্মীর পরিচয় গড়ে ওঠে এই রাজপথেই। বিএনপি-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত নাম সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। দলের একাংশের দাবি, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সমর্থকদের একটি অংশের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন দলের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আত্মগোপনে ছিলেন বা অবস্থান বদল করেছিলেন, তখন তিনি রাজপথেই অবস্থান করেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের দাবি, এই সময়েই তিনি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে পরিচিতি পান এবং ৬৪ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি হয়। তাঁদের আরও দাবি, এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যেও তাঁর পরিচিতি বাড়ে। সমর্থকদের মতে, এই পরিচিতিই তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে করা এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অবস্থান সবসময় সরলরৈখিকভাবে নির্ধারিত হয় না। সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার কথাও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। দলীয় সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ৮০টির বেশি মামলা রয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থির সময়গুলোতে তিনি গ্রেপ্তার, রিমান্ডসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি নিষ্পত্তি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তথ্য সর্বত্র সহজলভ্য নয়। রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। এক পক্ষ তাঁকে ত্যাগী ও সংগ্রামী কর্মী হিসেবে দেখলেও, অন্য পক্ষ মনে করে এটি দলীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেরই অংশ। বর্তমানে তিনি সক্রিয় রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে কিছুটা আড়ালে থাকলেও, দলীয় একাংশের মতে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর নাম ও প্রভাব এখনো বিদ্যমান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা, ত্যাগ এবং নেতৃত্বের অবস্থান—সবকিছুই বহুস্তরীয় সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে রাজপথ যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, তেমনি দলীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও সমানভাবে প্রভাব ফেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে এতে মনোনয়ন পাননি আলোচিত অনেক প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, মেঘনা আলম, ফারজানা সিঁথি, প্রয়াত নাসির উদ্দীন পুন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, সালাহ উদ্দিন আহমদ এর স্ত্রী হাসিনা আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলের স্ত্রী নাঈমা খন্দকার, মহিলা দলের সহ-সভাপতি বেবী মওদুদ, বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন,সামিরা তাজরিন ও মাহরীন খান। পরিচিত মুখ হিসেবে এই কয়েকজন মোটামুটি আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বাছাইয়ে তারা বাদ পড়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৫টি। তবে, জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সুবর্ণা সিকদার
যদি আ.লীগ নেত্রীকেই বিএনপি এমপি করে,আমাদের বোনদের কী লাভ হলো

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে এক নেত্রীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)। তিনি দল করেন আওয়ামী লীগ, কিন্তু সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হয়ে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে— এমন ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সেটি তো কম বিস্ময়ের নয়। এমনটাই ঘটেছে সুবর্ণা সিকদার এর বেলায়। বিএনপি থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপির তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৩ নম্বরে। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রিধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাব্যাপী চলছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের মনোনয়নকে উল্লেখ করেছেন বিএনপির দেউলিয়াত্ব হিসেবে। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িতরা করছেন নানা ধরনের মন্তব্য এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ছবি দিয়ে ছুড়ছেন নানা প্রশ্ন। গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আমি হতাশ! দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই সংরক্ষিত আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়?’ ‘তিনি কি আদৌও আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন অথবা বিএনপির সদস্য হয়েছেন’— এমন প্রশ্ন যোগ করেছেন রোমান। টিটো বৈদ্য নামে আরেকজন অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘অফিসিয়ালি কোনও জায়গায় তিনি পদত্যাগ করেননি। আর আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর কোনও ত্যাগ, শ্রম ছাড়া দুই দিনেই যদি এমপি বনে যাওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।’ কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই তালিকার ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছে সুবর্ণা ঠাকুরের নাম। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত সুবর্ণা সিকদারের (ঠাকুর) মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। সুবর্ণা ‘মতুয়া সম্প্রদায়ের’ একজন নারী। তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক। এলাকাবাসীর দাবি, আলোচিত সুবর্ণা ঠাকুর গোপালঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কীভাবে বিএনপি থেকে এমপি হবেন? যদি এমনটা হয় তাহলে বুঝতে হবে, দেশের জনগণের সঙ্গে বিএনপি তামাশা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল পুনর্গঠনের এই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়লে নির্বাচনি কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
মির্জা ফখরুল , খন্দকার মোশাররফ , জমিরউদ্দিন সরকার ও মঈন খান
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন কি থাকবেন, নাকি আসছে নতুন মুখ? বিএনপির ভেতরে আলোচনায় চার নেতা

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিতর্ক, ক্ষমতার পালাবদল, এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে: মো. সাহাবুদ্দিন কি তাঁর পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন, নাকি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবন?  পটপরিবর্তনের পর চাপ ও টিকে থাকা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি তাঁকে অপসারণের দাবি তোলে। তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এ দাবি নাকচ করে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তখন এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেনি। ফলে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অধীনেই শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সীমিত হয়ে আসে তাঁর জন্য। এমনকি জাতীয় দিবস বা ধর্মীয় বড় আয়োজনেও তাঁর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল—যা রাষ্ট্রপতির পদটির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।  নতুন সরকার, নতুন সমীকরণ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। বর্তমানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান-এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এতে অন্তত আপাতদৃষ্টিতে দ্বন্দ্বের বদলে একটি কার্যকর সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। তবুও রাজনৈতিক অন্দরে প্রশ্ন থামেনি—এই সহাবস্থান কতদিন?  সম্ভাব্য উত্তরসূরি: দলের ভেতরের চার নাম বিএনপির ভেতরে আলোচনায় রয়েছে কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা, যাদের ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত নাম: * মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — বর্তমান মহাসচিব ও মন্ত্রী, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দলের আস্থাভাজন। এছাড়া আরও তিনজন: * খন্দকার মোশাররফ হোসেন * জমিরউদ্দিন সরকার * আব্দুল মঈন খান বিশেষত জমিরউদ্দিন সরকার অতীতে স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁকে এই আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব দেয়। দলীয় সূত্র বলছে, সরকারে সরাসরি না থাকলেও এই নেতাদের “রিজার্ভ” হিসেবে রাখা হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ বড় পদে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।  সংবিধান কী বলছে? বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সরাসরি ভোটে হয় না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী: * রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: ৫ বছর * সর্বোচ্চ: দুই মেয়াদ * যোগ্যতা: ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স ও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে: * মৃত্যু * পদত্যাগ * অভিশংসন * শারীরিক অক্ষমতা * সংবিধান লঙ্ঘন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। মেয়াদ পূর্ণ করবেন, নাকি বিদায়? ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। তবে তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে পারেন—কারণ অন্তর্বর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য “অপমানজনক” ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা খোলা রয়েছে: পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা — যদি সরকার তাঁকে রাখতে চায় সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অপসারণ (সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায়) একজন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষায়, “পূর্ণ মেয়াদে থাকার সম্ভাবনা কম”—যদিও এটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। পদটি প্রতীকী, তবু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও, রাজনৈতিক সংকটকালে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা সাংবিধানিক জটিলতায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নির্ধারক হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি এখনো উন্মুক্ত: রাষ্ট্রপতি কি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার প্রতীক হয়ে থাকবেন, নাকি আবারও রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবেন?এখন দেখার বিষয়—বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকবেন, নাকি নতুন কোনো মুখের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভবনে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বাম থেকে সৈয়দা নাখলু আক্তার ও নাদিয়া পাঠান পাপন।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে নাদিয়া পাঠান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। তবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিকভাবে নাদিয়া পাঠান পাপন ২০০০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি অভিযান ও হামলার মুখে পড়েন। এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা তার ফেসবুক পোস্টে নাদিয়ার মনোনয়নকে “রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাদিয়ার মায়ের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তখন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি। তার দাবি, দলীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন তার লক্ষ্য দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0