বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিতর্ক, ক্ষমতার পালাবদল, এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে: মো. সাহাবুদ্দিন কি তাঁর পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন, নাকি পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে রাষ্ট্রপতি ভবন?
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি তাঁকে অপসারণের দাবি তোলে। তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও হয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এ দাবি নাকচ করে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তখন এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেনি। ফলে আন্দোলনটি ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে পড়ে।
এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অধীনেই শপথ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সীমিত হয়ে আসে তাঁর জন্য। এমনকি জাতীয় দিবস বা ধর্মীয় বড় আয়োজনেও তাঁর উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল—যা রাষ্ট্রপতির পদটির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে।
বর্তমানে সরকারপ্রধান তারেক রহমান-এর সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এতে অন্তত আপাতদৃষ্টিতে দ্বন্দ্বের বদলে একটি কার্যকর সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে।
তবুও রাজনৈতিক অন্দরে প্রশ্ন থামেনি—এই সহাবস্থান কতদিন?
বিএনপির ভেতরে আলোচনায় রয়েছে কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা, যাদের ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত নাম:
* মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — বর্তমান মহাসচিব ও মন্ত্রী, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দলের আস্থাভাজন।
এছাড়া আরও তিনজন:
* খন্দকার মোশাররফ হোসেন
* জমিরউদ্দিন সরকার
* আব্দুল মঈন খান
বিশেষত জমিরউদ্দিন সরকার অতীতে স্পিকার ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁকে এই আলোচনায় আলাদা গুরুত্ব দেয়।
দলীয় সূত্র বলছে, সরকারে সরাসরি না থাকলেও এই নেতাদের “রিজার্ভ” হিসেবে রাখা হয়েছে—যা ভবিষ্যৎ বড় পদে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সরাসরি ভোটে হয় না। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংবিধান অনুযায়ী:
* রাষ্ট্রপতির মেয়াদ: ৫ বছর
* সর্বোচ্চ: দুই মেয়াদ
* যোগ্যতা: ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স ও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে:
* মৃত্যু
* পদত্যাগ
* অভিশংসন
* শারীরিক অক্ষমতা
* সংবিধান লঙ্ঘন
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালে। তবে তিনি নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে পারেন—কারণ অন্তর্বর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য “অপমানজনক” ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাবনা খোলা রয়েছে:
পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা — যদি সরকার তাঁকে রাখতে চায়
সমঝোতার ভিত্তিতে পদত্যাগ
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অপসারণ (সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায়)
একজন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষায়, “পূর্ণ মেয়াদে থাকার সম্ভাবনা কম”—যদিও এটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও, রাজনৈতিক সংকটকালে এই পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা সাংবিধানিক জটিলতায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নির্ধারক হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি এখনো উন্মুক্ত:
রাষ্ট্রপতি কি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার প্রতীক হয়ে থাকবেন, নাকি আবারও রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবেন?এখন দেখার বিষয়—বর্তমান রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকবেন, নাকি নতুন কোনো মুখের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভবনে শুরু হবে নতুন অধ্যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে একের পর এক হৃদয়বিদারক গল্প। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো—নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্দ্রেয়া নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। স্বজন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন আন্দ্রেয়া। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে একই ভবনে থাকা তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়, যা অনেকেই অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন। 'একদিন আমি আমাদের মেয়েকে সব বলব' স্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, "একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।" হেক্টর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজধানী কারাকাসে ছুটে যান। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।" ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।" মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত ক্রীড়া সংগঠন ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন আরও দুই ফুটবলার এই দুর্যোগে শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রীড়াঙ্গনও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই তরুণ ফুটবলার নিহত হয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন নিশ্চিত করেছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, "তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।" সাবেক মিস ভেনেজুয়েলার পরিবারেও শোক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচিত ব্যক্তিদের পরিবারেও। সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় তার মায়ের বসবাস করা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ধাক্কায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তিনি জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন নার্স জীবিত উদ্ধার হন এবং তিনিই পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ। দরজার ওপাশে পড়ে আছেন ৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগে। কিন্তু কেউ জানে না। কেউ খোঁজও নেয়নি। পুলিশ যখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছায়, তখন মরদেহে পচন ধরেছে। লাশে জন্ম নিয়েছে পোকা। ঘরজুড়ে দুর্গন্ধ। চারপাশে আবর্জনা। এমন এক দৃশ্য, যা শুধু একটি মৃত্যুর নয়—বরং সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি স্বাভাবিক? নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি? মৃত্যুর আগে কতদিন ছিলেন নিঃসঙ্গ? পল্লবী থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন রাতে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—একই ফ্ল্যাটে তার মেয়ে বসবাস করলেও তিনি ছিলেন আলাদা একটি কক্ষে। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে একজন নার্সকে ডেকে আনা হয়। সেই নার্সই প্রথম বুঝতে পারেন, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর পর বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নার্সের সন্দেহ হওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন করা হয় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিষ্ঠিত সন্তান, কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্ববোধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের সামাজিক অবস্থান যতই উঁচু হোক, মায়ের শেষ জীবন নিয়ে এখন ততটাই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তারা। রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে কার্যত অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্টে রিট: অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত দাবি ঘটনার পর জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। রিটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে— নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা; অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত; প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন; ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কেয়ারগিভার নিয়োগের নীতিমালা। আগামী সোমবার হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। সরকারি প্রতিক্রিয়া: যুগ্ম সচিবকে ওএসডি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতিক্রিয়াও নজর কাড়ছে। নূরজাহান বেগমের ছেলে এবং সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ইতোমধ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি) চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আইন কী বলে? বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় সেই আইন কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার ওপর। শুধু একটি পরিবার নয়, বৃহত্তর সামাজিক সংকট? নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নটি হলো—শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা কি মানুষের নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে পারে? কারণ এখানে অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা সমাজের উচ্চপদে অবস্থান করেন। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, একক পরিবার ব্যবস্থা, বিদেশমুখী জীবনযাত্রা এবং পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তনের ফলে প্রবীণদের একাকিত্ব বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক যত্নের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। তবে কয়েকটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে সামনে এসেছে— মৃত্যু ঠিক কবে হয়েছিল? একই বাসায় থেকেও কেন দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত হয়নি? বৃদ্ধার চিকিৎসা ও পরিচর্যার বাস্তব অবস্থা কী ছিল? তিনি কি দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার ছিলেন? পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এখানে কতটা প্রযোজ্য? রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণ সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রয়োজন কি না? ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য আদালতীয় শুনানির মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে পল্লবীর সেই ফ্ল্যাট থেকে উঠে আসা দুর্গন্ধ যেন বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে—যেখানে একজন মা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়টিতে কতটা একা হয়ে যেতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো দেশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার সন্ধ্যায় নতুন মালিকের কাছে পশুটি হস্তান্তরের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধোঁয়ার ইফেক্টে সাজানো আয়োজনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে দুপুর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে শুধুই একনজর দেখতে আসেন ভাইরাল এই মহিষটিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদায়ের আগে মহিষটিকে গোসল করিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়। পরে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লাল গালিচা ধরে গাড়িতে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অনেকটা কোনো সেলিব্রিটিকে বিদায় জানানোর মতো। কীভাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম? খামার সূত্র বলছে, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চোখ ও লোমের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামটি দেন খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেটি ভাইরাল হলে দেশের বাইরে থেকেও আগ্রহ তৈরি হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। কোরবানির পশু থেকে ‘সামাজিক ব্র্যান্ড’ প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির আগেই কিনে নেন। খামার সূত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে পশুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে মহিষটি শুধু কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ঈদকেন্দ্রিক বাজার সংস্কৃতি, অনলাইন ভাইরাল প্রবণতা এবং ব্যতিক্রমী বিপণন কৌশল—সবকিছুর মিশেলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে ওঠে আলোচিত এক নাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বড় আকৃতির গরু, বিরল জাতের পশু কিংবা অদ্ভুত নাম ব্যবহার করে অনেক খামার এখন অনলাইন জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সেই প্রবণতারই আলোচিত উদাহরণ। আবেগঘন বিদায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বহুদিন ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন তারা। তাই বিদায়ের সময় আবেগ কাজ করেছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা ত্যাগের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন মালিক সামির বলেন, তিনি সাধারণভাবেই পশুটি কিনেছিলেন। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকায়ও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে জিনজিরাতেও অনেকে মহিষটিকে দেখতে আসছেন।