ইত্তেহাদ নিউজ : রাষ্ট্রীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগকেন্দ্রিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের কিছুদিন পর থেকে বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসোর্স অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে অর্থের বিনিময়ে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিক অনিয়ম ও অস্থায়ী ভাবে পরিচালক নিয়োগ নিয়ে নিয়মের কথা বলায় মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব রক্ষক (চ.দা.) মোঃ আলী হোসেন-কে অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক অবসরে পাঠান। অবৈধভাবে ডেপুটেশনে পাঠানো হয় পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের অন্যায় অত্যাচার, পদোন্নতি বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার পরিচালক (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, অতি.দা.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন নাহার হলের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট (সাবেক) পারভীন সুলতানা রাব্বী (লাকী)কে এক রাতে নোটিশে সংযুক্ত করে পাঠিয়ে দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে।অথচ পিআইবি'র চাকুরি ডেপুটেশন বা বদলিযোগ্য নয়। পিআইবি বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ মডিউল, জেন্ডার টুলকিট, রিসোর্স পেপারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করিয়ে নানা অপবাদ দিয়ে সেই কাজ ছিনিয়ে নিয়ে তার বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা পরমিন (অস্থায়ী নিয়োগ), বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আল মামুন, আত্মীয় ফারুকসহ নিজের লোকদের কাছে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশ করেছেন। স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বই দেখে রেগে যান ডিজি ফারুক ওয়াসিফ অন্তবর্তী সরকারের সময়ে জুলাই নিয়ে কিছু কাজ করলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও বিএনপির হাজার হাজার নেতা কর্মীদের নিপিড়ন ও নির্যাতন, মামলা -হামলা নিয়ে কোন কাজ করেননি, বরং তারুন্য উৎসবের মেলায় পারভীন সুলতানা রাব্বী পিআইবি'র বইয়ের স্টলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর উপরে লেখা কিছু বই প্রদর্শনী করতে গেলে "এটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়" বলে ভূচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে রাগারাগি করেন ফারুক ওয়াসিফ। নতুন মলাটে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ২০০৩ সালে প্রকাশিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লিখিত বইকে নতুন মলাটে ঢেকে পূণর্মুদ্রণ দেখিয়ে পুরাতন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান করেন বিএনপির মহাসচিবকে দিয়ে, অথচ গত ১৮ মাসে অফিস চেম্বারে বসে প্রতিনিয়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল এবং দলের সর্বোচ্চ নেতাকে দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন ডিজি ফারুক ওয়াসিফ। বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবি মহাপরিচালক পদে ফারুক ওয়াসিফ যোগদানের পর সাবেক ছাত্রদল নেতা পারভীন সুলতানা রাব্বীর নেতৃত্বে বিএনপি ঘরানার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি তাকে সকল কাজে শতভাগ সমর্থন সহযোগিতা করেছে। কিন্তু কিছু দিন পর থেকেই প্রতারণামূলক আচরণ শুরু করে নিজের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অযোগ্য (২৫ থেকে ৩০জনকে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দেন এবং ধীরেধীরে বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নির্যাতন নীপিড়ন শুরু করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কয়েকজন কর্মকর্তাদের কর্মবিহিন করে রাখা হয়েছে। তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানি ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম-কে শোকজ দিয়ে চাকুরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এম এল এস এস মো: মাহবুব আলম-কে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা-কর্মচারী দেরকে নানা ভাবে তার পালিত লোকজন দ্বারা অত্যাচার, নির্যাতন ও চাকুরী খেযে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। সদ্য অবসর প্রাপ্ত একেএম ফরিদ উদ্দিন এর দেনা পাওনা চাইতে গেলে ডিজি ফারুক ওয়াসিফ তাকে অফিস থেকে রেব করে দেয়। স্থায়ী ভাবে কর্মরত সকলের নামে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব এর নিকট মিথ্যা বনোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে তার (ফারুক ওয়াসিফ) নিজের অনিয়ম, চুরি, দুর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য ও কুকীর্তি আড়াল করছেন। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এক দিনে ৪ কর্মশালা: ভুয়া বিল ভাউচার,২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত টাকা আত্মসাত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫, জুলাই গণ অভ্যুত্থান। সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার পাঁচ শত) টাকার ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। এ বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, টিভি , অনলাইন পত্রিকায় অনুসন্ধানী মুলক সংবাদ ছাপা হয়েছে। নয় মাসের কর্মকান্ডের ১৭ অডিট আপত্তি সদ্য সমাপ্ত সরকারী অডিটে ফারুক ওয়াসিফ-এর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাত্র নয় মাসের কর্মকান্ডের উপর ১৭-টি অডিট আপত্তি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম, অবৈধ নিযোগকৃত দের প্রদত্ত বেতন- বোনাস, তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ নামে ২৩,৯৭,৫০০ টাকা নগদে বিল পরিশোধ, এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয়। ফারুক ওয়াসিফ আপত্তি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বলছেন, এ সব কিছু হবে না তথ্য সচিব-কে সব অবহিত করা হয়েছে। তথ্য সচিব আমাকে বলেছেন আপনি চিন্তা করবেন না আমি অডিটের ডিজিকে বলে আপত্তি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করব। আপনি যত দ্রুত পারেন অস্থায়ীদের স্থায়ী করার ব্যবস্থা নেন। আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দীন চৌধুরী এই সব কাজে সহযোগিতা করছেন পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চবেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন- ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। একজন অস্থায়ী ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা কখনই সরকারী অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারে না। অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভয় ভীতি প্রদর্শন এ ছাড়া ফারুক ওয়াসিফ অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, তার পক্ষে কথা বলা, স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুমে রুমে গিয়ে ভয় ভীতি দেখান কয়েকজন কর্মচারী-কে অবৈধ ভাবে পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, কোর্সের আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অফিসে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছেন। আওয়ামী সমর্থকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার চেষ্টা বর্তমানে ফারুক ওয়াসিফ আওয়ামীলীগের সময়ে নিয়োগকৃতদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিতাড়িত করার কাজে ব্যস্ত। অন্য দিকে তিনি বিএনপির উপর মহলে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছে। ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত প্রথমআলো ও সমকালে বিএনপির বিরদ্ধে অসংখ্য উপ-সম্পাদকীয় লিখেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ করেছেন পি়আইবির নিপিড়ীত ও নির্যাতিত কর্মকর্তা -কর্মচারীরা। পিআইবির ব্যয় ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নে কাজ করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ—পিআইবির সম্প্রতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের নাম ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে। পিআইবির নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি সংগীতসন্ধ্যা, একটি প্রদর্শনী এবং দুটি সেমিনার। চারটি কর্মসূচির জন্য মোট প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। নথিতে উল্লেখ আছে—সেমিনার দুটিতে অংশগ্রহণকারী ২০০ জন করে মোট ৪০০ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচকদের সম্মানী, নাশতা ও মধ্যাহ্নভোজ, যাতায়াত ভাতা এবং সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে। তালিকায় থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ও পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সংশ্লিষ্ট সেমিনারে তারা অংশ নেননি। কেউ কেউ তাদের নামে দেওয়া স্বাক্ষরকেও ভুয়া বলে দাবি করেছেন।এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ও সাংবাদিকের নাম আলোচক হিসেবে দেখানো হলেও তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ওই সময় পিআইবির কোনো সেমিনারে তারা উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানগুলোর জন্য জমা দেওয়া বিভিন্ন ভাউচারও যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই ধরনের কাজ তারা করেনি বা ভাউচারের স্বাক্ষর তাদের নয়।খাবারের বিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময় এত বড় কোনো অর্ডারের তথ্য তাদের কাছে নেই। পিআইবির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে সাধারণত প্রতিষ্ঠানটির কর্মসূচির ছবি ও তথ্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু বিতর্কিত সেমিনার দুটির কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি সেখানে পাওয়া যায়নি। এছাড়া পিআইবির ভবনে একসঙ্গে ২০০ জনের সেমিনার আয়োজনের উপযুক্ত কক্ষ রয়েছে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহাপরিচালকের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীরা বলেছেন, মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ নিয়োগ বানিজ্য,অনিয়ম,দুর্নীতির বিষয়গুলো আড়াল করতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাপ দিচ্ছেন। এদিকে পিআইবি ভবনে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা অর্জনের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নানা অভিযোগের মুখে বর্তমানে মহাপরিচালকের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি গবেষণা, সিনিয়র সাংবাদিক,গণমাধ্যম সংগঠন ও সাংবাদকর্মীদের তরফ থেকে করা হচ্ছে।
পিআইবিতে অনিয়মের নকশা: অভিযোগ, নথি ও টাইমলাইনে ফারুক ওয়াসিফ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং অভিযোগ, সবকিছু প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ ও পিআইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “এটি আর শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।” আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অভিযোগ কী কী? পিআইবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালকের আমলে— আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরও নীরবতা কেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত প্রতিবেদন, এমনকি প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন “প্রশাসনিক উদাসীনতা”র সীমা ছাড়িয়ে “প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া”র ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো নতুন নয়। কিন্তু এখন যেভাবে প্রমাণসহ সামনে এসেছে, তাতে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।” ভেতরের অসন্তোষ বেড়েই চলেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতা নেই, মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পুরো খাতের জন্যই নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কী বলছে নথি অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি (অফিস নোটশিট, বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদনপত্র) বিশ্লেষণে দেখা যায়— প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি: একই সরবরাহকারীকে একাধিক কাজ: অন্তত ৩টি প্রকল্পে একই ভেন্ডর/সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়ার নথি পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ছিল না । বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি: কিছু খাতে বিলের অঙ্ক ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা গেছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি: প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে— নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “বোর্ডে যা ঠিক হয়, শেষ পর্যন্ত সেটাই থাকে না—উচ্চপর্যায় থেকে পরিবর্তন আসে।” অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা! জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি অডিট টীম পিআইবি তে কাজ করছে। ডিজির সাথে এই দুর্নীতির সহকারী নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও হিসাব কর্মকর্তা ফখরুল অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে এই চুরির হিসাব নিকাশ সঠিক করছেন ফারুক ওয়াসিফ। মানববন্ধন: প্রকাশ্যে অপসারণ দাবি বর্তমান: কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই মাঠের প্রতিক্রিয়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন— “প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তে চলছে” “ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে” “অভিযোগ করলেই প্রশাসনিক চাপ আসে” তাদের দাবি, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করতে হবে। বড় প্রশ্নগুলো এই অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি? ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে না কেন? একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীরব কেন? কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রতিবেদন তৈরির সময় ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে— পিআইবির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে। নথি, সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পিআইবির বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি অভিযোগগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। প্রশ্ন রয়ে গেল অভিযোগগুলো তদন্তে বাধা কোথায়? কার প্রভাবে বহাল আছেন মহাপরিচালক? প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে? যতক্ষণ এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না, ততক্ষণ পিআইবিকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিআইবির মহাপরিচালককে অপসারণের দাবি ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ঢাকা: অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘পিবিআই বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফ হটাও’, ‘এক দফা এক দাবি, ফারুক ওয়াসিফ কবে যাবি?’, ‘ইয়ে করে দেখায়ে দিয়ে টাকাটাও ইয়ে করে দিও’, ‘মিথ্যায় হাবুডুবু ফারুক ওয়াসিফ’ ইত্যাদি প্লাকার্ড দেখা গেছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আসিফ নজরুল পক্ষপাতিত্ব করে অযোগ্য লোকদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলেন সেই প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন তারা বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পিএস ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। পিএস যদি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় তাহলে উনি কত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এটা আপনারা চিন্তা করেন। কারণ সে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় তার পিএস দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে না। সে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। আপনারা দেখেছেন যে ইতিমধ্যে এই সজীবের সম্পদের হিসাব চাচ্ছে দুদক। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো তারা কিভাবে দিয়েছে এটা তদন্ত করতে হবে। তারা টাকা খেয়ে দিয়েছে না তারা পক্ষপাতিত্ব আত্মীয়স্বজনকে দিয়েছে এইটাও তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মানববন্ধন থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ফারুক সাহেবকে সরিয়ে এখানে একটা যোগ্য অভিজ্ঞ একটা মহাপরিচালক দিবেন। কারণ এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো। এখানে সাংবাদিকদের আস্থা। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ এবং স্বজনীতি প্রাপ্ত কিছু লোকজনের মাধ্যমে।
ঢাকা: পিআইবি মহাপরিচালকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠছে সাংবাদিক সমাজ,অপসারনের দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। পিআইবি'র মহাপরিচালকের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। ১৫ মার্চ (রবিবার) বিকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে। পিআইবির মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় মানবসম্পদ উন্নয়নের অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রকাশনাসহ গণমাধ্যম সেক্টরের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-পিআইবি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও গত ১৭ বছরে এটি তার ভিশন, মিশন ও অভীষ্ট কর্মসূচি থেকে বহুদূরে গিয়ে দায়সারা ও এনজিওতাড়িত কর্মতৎপড়তায় তার কাজ ও দায়বদ্ধতা সীমিত করে ফেলেছে। রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত হলেও পিআইবি আজ পুরোপুরি সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ। আর এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের সাবাদিকতায় বিদ্যমান। অতীতে বহু কীর্তিমান জৈষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যম শিক্ষক-ব্যক্তিত্ব পিআইবি'র মহাপরিচালকের দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় ফারুক ওয়াসিফ নামে অপেক্ষাকৃত এক জুনিয়র সাংবাদিককে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় যার সাংবাদিকতায় কোনো অ্যাকাডেমিক সনদ এমনকি একটি ডিপ্লোমা ডিগ্রিও নেই। অথচ তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হিসেবে মাস্টার্স ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিগ্রি দেওয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্পাদকীয় ডেস্কের বাইরে মাঠ পর্যায়েও তাঁর কোনো সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাও নেই। গত ১৮ মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি পিআইবিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দৈনিকে তাঁর অনিয়ম, দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে ১৫ মার্চ (রবিবার), ২০২৬ তারিখ ববকেল ৩ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, আয়োজকরা বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে অবিলম্বে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
বাংলা প্রবাদ যেমন বলে—“শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” বা “এক মিথ্যা ঢাকতে হাজারটা মিথ্যা”—প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর ক্ষেত্রে সেই কথাগুলো যেন বাস্তবের মায়া হয়ে উঠেছে। ৫ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে “ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও!” শিরোনামে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে ফারুক ওয়াসিফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ। উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তবুও ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ প্রথমে তার ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রিপোর্টটি মিথ্যা। তাঁর ব্যাখ্যা, ওই দুই তারিখে পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তাই সেমিনারের নামে কোনো অর্থ খরচ বা ভাউচার তৈরি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, যে নথি–প্রমাণ কালের কণ্ঠে দেখানো হয়েছে, তা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী পক্ষের জালিয়াতি এবং প্ররোচনায় পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সততা প্রমাণ করতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এরপর ৯ মার্চ পিআইবির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি ই‑মেইলে পৌঁছায়। সেখানে তিনি পুনরায় প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবমাননাকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত দাবি করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি–প্রমাণ দেখাচ্ছে, ফারুক ওয়াসিফ ও তাঁর দল সত্যিই ন্যক্কারজনক দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে লিপ্ত ছিলেন। তারা যে দাবি করছেন, কোনো সেমিনার হয়নি এবং সেমিনারের নামে কোনো অর্থ তোলা হয়নি, সেটিও নথিপত্র দ্বারা খণ্ডনযোগ্য। পত্রিকায় উল্লেখিত টাকার কথা অন্য তথ্যচিত্র নির্মাণের খরচ হিসেবে নগদে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথি–প্রমাণ সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। এই ঘটনাচক্রে প্রকাশ পায়, দীর্ঘ মিথ্যাচার ও তথ্য ফাঁসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শক্তি দুর্নীতির জাল ফাঁস করতে সক্ষম। উৎস কর তদারকি ঘেঁটে দেখা যায়, পিআইবির জমা করা উৎস কর নথিপত্রের মধ্যে ৫৩টি ‘অর্থ জমা নগদ স্লিপ’ রয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের খরচ‑সংক্রান্ত বিস্তারিত লেখা আছে—দাওয়াত কার্ড, নাশতা, খাবার, স্টেশনারি, গাড়িভাড়া এবং রিসোর্স পারসন সম্মানী। নথিগুলো পিআইবির পক্ষ থেকে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ সোনালী ব্যাংকের ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল শাখায় জমা দেন। প্রতিটি কপিতে গোলাম মুর্শেদের স্বাক্ষর রয়েছে। স্লিপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো মূলত পিআইবির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যয় হওয়া অর্থের বিপরীতে দেওয়া উৎস কর স্লিপ। চালান ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোন অনুষ্ঠান, কোন খাত এবং কত অর্থ জমা হয়েছে। এই ৫৩টি স্লিপের মাধ্যমে দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়েছে। তবে ফারুক ওয়াসিফ প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে পিআইবিতে এমন কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর নথিপত্র এই দাবির উল্টো চিত্র উপস্থাপন করে। সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (challanverification.finance.gov.bd/echalan) থেকে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত সেমিনারের খাবারের জন্য পরিশোধিত ছয় হাজার ২৫০ টাকার স্লিপটি সত্য। ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ অনুযায়ী, শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের সেগুনবাগিচা সার্কেলের অধীনে অর্থ জমা হয়েছে। জমাদানকারী হিসেবে স্লিপে গোলাম মোরশেদ এর নাম উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্য একটি খাবারের স্লিপও যাচাই করা হয় এবং তা সম্পূর্ণ সত্যি পাওয়া যায়। তবে, এই খরচের মূল ভাউচার আগেই অনুসন্ধান টিমের হাতে এসেছে। তা ছিল সাজানো ভাউচার, কারণ এই সেমিনারগুলো পিআইবিতে বাস্তবে হয়নি—যা ফারুক ওয়াসিফের দাবি খণ্ডন করে। রাজধানীর ১৪/১ শান্তিনগর বাজার রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁ‑তে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের ভাউচার পরীক্ষা করে। বিলের পরিমাণ ৫০০ টাকা প্রতি জন হিসেবে মোট ৭৫ হাজার টাকা। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই ভাউচারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। এই ধরনের ভুয়া বিল‑ভাউচার বানিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য আগের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পিআইবির কথিত সেমিনারের রিসোর্স পারসন খাতের পাঁচ হাজার টাকার উৎস করও পরীক্ষা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আলোচককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেখানো হয়েছিল। এই ব্যয়ের বিপরীতেও পিআইবি এনবিআরে কর দিয়েছেন, যার ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮১৮০৩। চালান ফরমে অর্থের গন্তব্য, উপলক্ষ ও জমাদানকারী সবাই এক। তবে সেমিনার অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আলোচকদের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ভুয়া—এটি আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কথিত সেমিনারের আলোচকরা এ বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী ধাপে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কথিত সেমিনারের অন্যান্য খাতের চালান যাচাই করা হয়। দাওয়াত কার্ড প্রিন্ট খাতে ৩ হাজার টাকা, স্টেশনারি ৯ হাজার, ডেকোরেশন ও ব্যানার ৬ হাজার ১০০, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিং ৮ হাজার ৩০০, নাশতা ২ হাজার ৫০০ এবং গাড়িভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রত্যেক খাতের জন্য দুটি চালান ফরম ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত সেমিনারের খরচের বিপরীতে ১৫টি চালান ফরমে মোট ৫০ হাজার ১০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর কথিত সেমিনারের জন্যও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৩টি চালান ফরমে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর প্রদান করা হয়। সব চালানে জমাদানকারী হিসেবে গোলাম মুর্শেদ‑এর নাম উল্লেখ থাকে। এই নথিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। ঢাকার আয়কর আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুল হক‑কে কপি পাঠালে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত করেন, “উৎস কর কর্তনের এই চালান অনলাইন ভেরিফিকেশনে সঠিক পাওয়া গেছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে সব চালান পরীক্ষা করে একই সত্যতা নিশ্চিত করে। গভীর অনুসন্ধান সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধানের পর প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছে, পিআইবির প্রতিটি বিল‑ভাউচারে ব্যবহৃত ফারুক ওয়াসিফ‑সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সঠিক এবং সেই বিলের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যাঁদের নাম ও দোকানের নাম ব্যবহার করে বিল তৈরি করা হয়েছিল, তাঁরা স্বীকার করেছেন, এগুলো পিআইবির কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে জালিয়াতি করেছেন। এমনকি ভুয়া বিল-ভাউচারের কারিগর গোলাম মুর্শেদ স্বীকার করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য তার কথোপকথনের অডিও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফারুক ওয়াসিফ প্রতিবাদলিপিতে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো যুক্তি বা প্রমাণ দেখানো যায়নি। বরং তিনি ‘গোপি বাঘা প্রোডাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি করে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে এই অর্থের লেনদেনের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স প্রদানের প্রমাণ দিতে পারেননি। তদন্তে জানা যায়, খুব সামান্য সম্মানি দিয়ে বাকি পুরো অর্থ নিজেদের ভাগ‑বাটোয়ারার জন্যই এই প্রতিষ্ঠানকে কোনও টেন্ডার, ওয়ার্ক-অর্ডার বা এমওইউ ছাড়া কাজ দেওয়া হয়েছিল। ফারুক ওয়াসিফ দাবী করেছেন, তারুণ্যের উৎসবের খাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পিআইবি সেই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ লাখ টাকা আসলেও অনুষ্ঠানের নামে সর্বোচ্চ সাত-আট লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ফারুক ওয়াসিফ ও তার অনুসারীরা ভাগ‑বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি কিছু ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ২৪ লাখ টাকার খরচ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান পিআইবি মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে এনেছে, যা নথিপত্র, স্বাক্ষর যাচাই এবং সরাসরি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। পিআইবিতে বড় কোনো কাজের জন্য সাধারণত টেন্ডার এবং মূল্যায়ন কমিটির মিটিং করার নিয়ম থাকলেও ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত কথিত উৎসব বা সেমিনারের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি বা রেজল্যুশনের তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়ার্ক-অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে কিনা বা চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে কিনা—তার কোনো স্বচ্ছ রেকর্ড নেই। কর্মকর্তাদের দাবি, ডি-নথিতে গেলে এসবের প্রমাণ বেরিয়ে আসত, তাই কৌশলে হার্ড কপিতে ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পিআইবির দাবী অনুযায়ী, ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারির উৎসবের খরচ মেটাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো বিধিমালায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের চাঁদা নেওয়ার বিধান নেই। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই চাঁদা নগদ নেওয়া হয়েছে নাকি চেকের মাধ্যমে। যদি নগদ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তির পকেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পিআইবির সব আয়-ব্যয় ডিজিটাল নথির মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে ফারুক ওয়াসিফ নিজেই প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলোচিত উৎসব বা প্রোগ্রামের কোনো তথ্য ডি-নথিতে সংরক্ষিত নেই। অভিযোগকারীরা বলছেন, ডি-নথিতে ব্যাকডেটে কোনো কিছু করা যায় না এবং একবার নথি ছাড়লে তা ডিলিট করা সম্ভব নয়। জালিয়াতির উদ্দেশ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি হার্ড কপিতে রাখা হয়েছে, যেন পরবর্তী সময়ে তারিখ বা খরচ পরিবর্তন করা সহজ হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ফারুক ওয়াসিফের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৪ লাখ টাকা তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাকি অর্থের উৎস কী, তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। চাঁদা আদায় কীভাবে হয়েছে, মোট কত টাকা উঠেছে, কে কত দিয়েছে, এবং সেই টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে—এই বিষয়গুলোর কোনো সঠিক হিসাব নেই। সাধারণ সরকারি নিয়মে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হ্যান্ডক্যাশে চাঁদা নেওয়ার অনুমোদন নেই। পিআইবির সঙ্গে ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’-এর লেনদেনেও গরমিল দেখা দিয়েছে। পিআইবির দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে চার কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু চার কিস্তির ইনভয়েস একই তারিখের—২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। অথচ ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুপী বাঘাকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হতো, কিন্তু পুরো অর্থ ক্যাশে দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক সৌমিত্র পার্থ বলেছেন, “আমাদের চুক্তি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘুরিয়ে Directorate of Films and Publicity, Information (DFPI) ও পিআইবির মাধ্যমে আগস্টে পেমেন্ট পাই। কোনো ব্যাংকিং মাধ্যম বা চেক নয়, ক্যাশেই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। ২৪ লাখ টাকার বিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে পিআইবি ১৯ লাখ টাকা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোনো টেন্ডার হয়নি, সিঙ্গেল সোর্সেই কাজ পেয়েছি। মূল কাজ ছিল ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্র প্রদর্শন।” তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের লেনদেন ক্যাশে হওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিভিন্ন ধাপে ইনভয়েস অনুযায়ী চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হয়। একই সঙ্গে একটি খাতের টাকা অন্য খাতে দেখানোর সুযোগও নেই। ব্যাকডেটে জালিয়াতি : সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু হলেও পিআইবিতে তা রিসিভ দেখানো হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। জুন মাসের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেব্রুয়ারিতে ব্যাকডেটেড সিগনেচারের মাধ্যমে রিসিভ দেখানোর বিষয়টি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব নোটশিট ও বিল জুন মাসে তৈরি করা হলেও সেগুলিতে ফেব্রুয়ারির তারিখ বসানো হয়েছে। চেকের পাতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ ও ১০ তারিখ থাকা সত্ত্বেও টাকা তোলা হয়েছে ২৯ ও ৩০ জুন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে টাকা উত্তোলন করার জন্য এই ‘ব্যাকডেটিং’ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট—সম্পাদক নিরীক্ষা অ্যাকাউন্ট। এটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি এবং মূলত ম্যানুয়াল চেক বইয়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তথ্যমতে, সরকারি বরাদ্দ (আইবাস++) আসার আগেই অন্য একটি স্বল্প তহবিলের অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম টাকা তোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে শুরুতে মাত্র ৪,৪৬৫ টাকা জমা ছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি বরাদ্দ আসার পর সেই টাকা আবার ওই অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের দাবি অনুযায়ী, পুরো অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা। কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বিল তৈরি করা হয়েছিল। এসব ভুয়া বিল বৈধতা দিতে গোলাম মুর্শেদ তাঁর ব্যক্তিগত টিন নম্বর ব্যবহার করে গত অক্টোবর মাসে অনলাইনে ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পিআইবিতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাকডেটিং এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতেই কাগজপত্র ও প্রতিবেদনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রতিবাদপত্রে আমি ইতিমধ্যেই আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি।” ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি ও সেই ভিত্তিতে সরকারি কোষাগারে উৎস কর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। ফারুক ওয়াসিফ দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব এবং আরও পাঁচজন বোর্ড মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “তারা সব কাগজপত্র যাচাই‑বাছাই করেছেন, অডিট টিমও সবকিছু দেখেছে। নিজের অবস্থানে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি। অডিট এবং বোর্ড মেম্বারদের যাচাইয়ের পর কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।” তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করছে, ফারুক ওয়াসিফ নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রমাণ—ভুয়া ভাউচার, উৎস কর চালান, ক্যাশে লেনদেন এবং ব্যাকডেটেড নথি—সবই তার দাবির বিপরীতে সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করছে। সূত্র: কালের কন্ঠ
* পিআইবিতে ‘অদৃশ্য সেমিনার’: নথিতে খরচ, বাস্তবে অনুষ্ঠান নেই—ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে বিতর্ক * পিআইবিতে সেমিনার না হয়েও লাখ লাখ টাকা খরচ? ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নথিপত্রে নতুন প্রশ্ন * পিআইবিতে সেমিনার জালিয়াতির অভিযোগ: ফারুক ওয়াসিফের দাবি বনাম এনবিআরের নথি — অনুসন্ধানে নতুন প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিআইবিতে যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়নি—তার জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অন্যদিকে ফারুক ওয়াসিফ এই অভিযোগকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর উৎস কর সংক্রান্ত নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। এই প্রতিবেদনে সেই অভিযোগ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রপাত দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, অথচ ওই সেমিনারের নামে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়— ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন খাতে খরচ দেখানো হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ তোলা হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত। অভিযোগ উঠেছে— ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এমন কিছু সেমিনারের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেগুলো বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়নি। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তিনি অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উৎস কর স্লিপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এই প্রতিবেদনে সেই নথি, তথ্য ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কী ঘটেছে: ঘটনাপ্রবাহ ডাটা টাইমলাইন বছর ঘটনা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পিআইবিতে সেমিনার হয়েছে বলে নথি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ দ্বিতীয় সেমিনারের খরচ দেখানো অক্টোবর ২০২৫ ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা ৫ মার্চ ২০২৬ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ ৯ মার্চ ২০২৬ পিআইবির প্রতিবাদপত্র ডকুমেন্ট বক্স অনুসন্ধানে পাওয়া মূল নথি 📄 মোট উৎস কর স্লিপ: ৫৩টি 💰 উৎস কর জমা: ২,৮২,৬০০ টাকা 📅 উল্লেখিত অনুষ্ঠান: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সেমিনার ✍ জমাদানকারী: পিআইবির কর্মকর্তা এই স্লিপগুলোতে সেমিনারের বিভিন্ন খরচের উল্লেখ রয়েছে। ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ বলেন: “ওই দুই দিনে কোনো সেমিনার হয়নি। তাই সেমিনারের নামে টাকা তোলার প্রশ্নই আসে না।” তিনি আরও দাবি করেন— প্রকাশিত নথি জাল একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। অনুসন্ধানে নতুন তথ্য তবে অনুসন্ধানী টিমের দাবি, এনবিআরের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। তদন্তে পাওয়া যায় মোট ৫৩টি “অর্থ জমা নগদ স্লিপ”। এসব স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনারের দাওয়াত কার্ড খাবার নাশতা স্টেশনারি গাড়িভাড়া রিসোর্স পারসন সম্মানি এই সব খাতের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে। সব স্লিপে পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ-এর স্বাক্ষর রয়েছে। মোট উৎস কর জমা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। নথিতে কী পাওয়া গেছে তবে অনুসন্ধানে পাওয়া উৎস কর স্লিপে উল্লেখ রয়েছে— সেমিনার খরচের খাত খাত টাকা খাবার ৭৫,০০০ দাওয়াত কার্ড ৩,০০০ স্টেশনারি ৯,০০০ ডেকোরেশন ৬,১০০ সাউন্ড সিস্টেম ৮,৩০০ নাশতা ২,৫০০ গাড়িভাড়া ১,২০০ ডাটা গ্রাফিক সেমিনার খরচ (নথি অনুযায়ী) খাবার ██████████████████████ স্টেশনারি ███████ ডেকোরেশন █████ সাউন্ড সিস্টেম ██████ নাশতা ██ গাড়িভাড়া █ সব মিলিয়ে দুই দিনের অনুষ্ঠানের বিপরীতে উৎস কর জমা দেওয়া হয়েছে ১ লাখ টাকার বেশি। রিসোর্স পারসন সম্মানি নথি অনুযায়ী— পাঁচজন বক্তা প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা মোট সম্মানি: ৫০,০০০ টাকা কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যাদের নাম বক্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের কয়েকজনই বলেছেন তারা এ ধরনের কোনো সেমিনারে অংশ নেননি। খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন একটি ভাউচারে উল্লেখ রয়েছে— ১৫০ জনের খাবার প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫ হাজার টাকা কিন্তু সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ২৪ লাখ টাকার ব্যয় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকটি বিতর্ক হলো ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব। ফারুক ওয়াসিফের দাবি— এই অর্থের বড় অংশ একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। প্রোডাকশন কোম্পানির বক্তব্য তথ্যচিত্রটি তৈরি করেছে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি— তাদের বিল ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স কেটে ১৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ক্যাশে ডকুমেন্ট বক্স লেনদেনের গরমিল নথিতে দেখা যায়— 📅 ইনভয়েস তারিখ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ 🎬 তথ্যচিত্র প্রিমিয়ার: আগস্ট ২০২৫ 💰 পেমেন্ট দাবি: আগস্ট ২০২৫ এই তারিখগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনলাইনে চালান যাচাই সরকারি ওয়েবসাইটে চালান ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে এসব নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একটি উদাহরণ হিসেবে: ট্র্যাকিং নম্বর: ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ খাত: ১৮ ফেব্রুয়ারি সেমিনারের খাবার উৎস কর: ৬,২৫০ টাকা ওয়েবসাইটে যাচাই করে এই চালানের তথ্য মিলেছে। এতে জমাদানকারী হিসেবে পিআইবির পক্ষ থেকে গোলাম মুর্শেদের নাম উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য চালানও যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার এক আয়কর আইনজীবী নথি যাচাই করে বলেছেন,অনলাইন ভেরিফিকেশন অনুযায়ী এসব চালান সঠিক। অর্থাৎ এগুলো সরকারি সিস্টেমে নিবন্ধিত। ভুয়া ভাউচার অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁর নামে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের বিল দেখানো হয়। প্রতি প্লেট ৫০০ টাকা মোট বিল: ৭৫,০০০ টাকা তবে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই বিলের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। সরকারি নিয়ম কী বলে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে— সরকারি কাজের পেমেন্ট সাধারণত হয়: ব্যাংক ট্রান্সফার চেক সরকারি অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ক্যাশে পেমেন্ট দেওয়া নিয়মবহির্ভূত হতে পারে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ? অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে— এই প্রকল্পে কোনো টেন্ডার হয়নি কোনো ওয়ার্ক অর্ডার নেই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই যা সরকারি ক্রয় বিধির প্রশ্ন তুলছে। ব্যাকডেটিংয়ের অভিযোগ নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়— চেক ইস্যুর তারিখ ফেব্রুয়ারি টাকা তোলা হয়েছে জুনে এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সাধারণত ব্যাকডেটিং বলা হয়। পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার তদন্তে আরও জানা গেছে— টাকা উত্তোলনের জন্য এমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে— যা প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি। প্রকৃত খরচ কত? অভিযোগকারীদের দাবি— অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা। কিন্তু নথিতে দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। বোর্ড মিটিং ও অডিট ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন— বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব আরও কয়েকজন সদস্য সব নথি পরীক্ষা করেছেন। তার দাবি— “অডিটের পর অনিয়ম থাকার সুযোগ নেই।” এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রধান প্রশ্ন ১️,সেমিনার না হলে উৎস কর কেন দেওয়া হলো? ২️.ভুয়া বিল তৈরি করেছে কারা? ৩️.২৪ লাখ টাকার প্রকৃত ব্যয় কত? ৪️.ক্যাশ পেমেন্ট কেন করা হলো? ৫️.সরকারি নথিতে ব্যাকডেটিং হয়েছে কি? বিশ্লেষণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ উঠলে তা শুধু প্রশাসনিক নয়—নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই এখন প্রশ্ন— এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে কি?
মামুনুর রশীদ নোমানী : দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগস্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Press Institute of Bangladesh (পিআইবি) । দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে আসছে। বর্তমান পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–কে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা, ব্যয়ের নথি ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন; তাদের দাবী—এই বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এতে করে পিআইবি–র ভাবমূর্তি, গণমাধ্যম উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং সাংবাদিক সমাজের আস্থা, এই সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ে। অভিযোগ: ভুয়া সেমিনার ও ভাউচার প্রদর্শন সম্প্রতি একটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, পিআইবি থেকে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকার (২৩,৯৭,৫০০ টাকা) সেমিনার অ্যালাউন্স–এর নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে ফাইনাল উপস্থিতি বা বাস্তব ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক নাম করা সাংবাদিকরা বলছেন যে তারা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না বা স্বাক্ষরও তাদের নয়। রিপোর্ট অনুসারে: ভুয়া সেমিনার বা কর্মসূচির খরচ হিসেবে চারটি ভাউচার দেখানো হয়, যার প্রতিটির খরচের পরিমাণ মিলিয়ে মোট টাকা একই রকম খাতের হিসাবে ধরা হয়। • অধিকাংশ নাম থাকা সাংবাদিকদের অভিযোগ—তাদের নাম বা স্বাক্ষর এমন কোনো ইভেন্টে তারা আসলে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর করেছেনই না। • এমনকি কিছু নামের ব্যক্তি বর্তমানে দেশেই নেই বা অন্য স্থানে ছিলেন বলে দাবি করেন। • উপস্থিতি ও ব্যয়ের প্রত্যয়নযোগ্য ছবি, ভিডিও বা ফটো রিপোর্টে দেখা যায়নি। • পিআইবি–র দুটি বড় হলেও সেগুলিতে দুই শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রশিক্ষণ করার মতো জায়গা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়: পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল— 1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা 2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা 3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা 4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’ তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বলছে, “এভাবে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে সরকারী অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত থাকে না।” সাংবাদিকদের স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার: অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট রিপোর্ট অনুসারে সেখানে অন্তর্ভুক্ত নামগুলো • অনেকেই বলেছেন তারা কোনো পিআইবি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। • তাদের স্বাক্ষর জাল বা অচেনা স্বাক্ষর হতে পারে। • পিআইবি–র আর্কাইভ বা ভিডিও ফুটেজে সেসব ইভেন্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি—যেমন নামগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল। • একাংশ বলছেন, “এই টাকাটা নাকি ব্যয় দেখানো হয়েছে কিন্তু *আইনগতভাবে তা ব্যয় হয়নি।” সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন— “যদি সরকারি ব্যয়ের হিসাব ও স্বাক্ষরের তথ্য খতিয়ে না দেখানো হয়, নিম্নমানের নথির উপর ভিত্তি করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—তবে তা সন্দেহজনক।” প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও স্থাপত্যগত বাস্তবতা পিআইবির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, অডিটরিয়াম ও সেমিনার রুমগুলোর ধারণ ক্ষমতা দেখানো হয়; যেখানে একটি ২৩৮ আসনের অডিটরিয়াম, ৬০ আসনের সেমিনার রুম ও আরও ছোট সেন্টার আছে। যদিও এই ধারণক্ষমতা স্বীকারযোগ্য, দুইশো মানুষের একটি একদিনের প্রশিক্ষণ বা সেমিনার আয়োজনের জন্য বাস্তবসম্মত নয়—অনেক পেশাজীবী মনে করছেন দেখা উচিত যে সেই বিনিয়োগ কি বাস্তবে হয়েছে কি না। মহাপরিচালকের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ উঠে আসার পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ ভুয়া বিল তৈরি করেছে এবং আমি তা অনুমোদন করি নি; কোন টাকা ওই বিষয়ে ব্যয় হয়নি।” তারা বলেন তিনি প্রতিদিন অনেক ফাইল সই করেন, এবং পরে খানি ভুয়া/ভুল ফাইল সনাক্ত করেন। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন তিনি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিক সমাজের সব পক্ষেই সমালোচিত হচ্ছে, কারণ সত্য উদঘাটন ছাড়া সবকিছু অনুমান বা প্রত্যাশার উপরে স্থাপন করা কঠিন। সাংবাদিক সমাজ ও সংগঠনের দাবি : সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, পিআইবি–র মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যয়ের অডিট, উপস্থিতির ডকুমেন্টস, ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক প্রমাণাদি প্রকাশ করে না—তবে জন আস্থা তৈরি হয় না। তাদের দাবি: • দূরদর্শী তদন্ত কমিটি গঠন হতে হবে। • অডিট রিপোর্ট ও পেমেন্ট ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত। • অনিয়ম ও অসাধু আচরণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশ্লেষণ: স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও নাগরিকদের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হয়। পিআইবি–র মতো সাংবাদিকতা উন্নয়নের মুখ্য সংস্থায় অভিযোগ উঠলে— ১. দেখার বিষয়: * ব্যয়ের প্রমাণ—ভাউচার, ফটো, ভিডিও, উপস্থিতি যুক্ত নথি; ২. আদর্শ হয়: * অডিট রিপোর্ট খুলে দেওয়া যায় কি না; ৩. কি ঘটেছে: * অনেক নামের ব্যক্তির তো দাবি—সে অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না। * কিছু শিক্ষকের নাম ভুল বা বাস্তবে সেই ইভেন্টে কেউ ছিলেনই না। এগুলো দুর্নীতি কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য দাবি ও তথ্যের যথাযথ যাচাই জরুরি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। পিআইবিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি সাংবাদিক মহলের • প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ • নিয়োগ, প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন • কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের ব্যাপারে সাংবাদিক সমাজের দাবি: কিছু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্নগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন—এমন মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ২০২৪ সালে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক ওয়াসিফ।তিনি যোগদানের পরেই জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বাধ্যতামুলক অবসর, অনত্র বদলীসহ বিভিন ভাে হয়রানী ষুরু করেন। ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: ১. সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, কয়েকটি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ২. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩. সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন ও পেশাজীবী মহলের একটি অংশ দাবি করেছে—পিআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। ৪.একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ৫.ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত ৬.ণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত: ৭.জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: ৮.amera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: ৯.টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ ১০.অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর ১১.পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: ১২.নিয়োগ বানিজ্য: অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন : নথি যাচাই • পিআইবির গত ১–২ বছরের সেমিনার বাজেট • প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিল • প্রকল্প অনুমোদন নথি • অডিট রিপোর্ট ফারুক ওয়াসিফের নিকট প্রশ্ন? • সেমিনার ব্যয়ের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? • বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী? ,একই দিন ৪টি প্রোগ্রাম করা আদৌ সম্ভব? • পিআইবির প্রশাসনিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন? মন্ত্রনালয় তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা? • মন্ত্রণালয় বা অভ্যান্তরিন কোন অডিট করেছেন? • অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? • কোনো তদন্ত হলে আপনি সহযোগিতা করবেন কি? সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া : পিআইবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নে Press Institute of Bangladesh( PIB) দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সাংবাদিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন—পিআইবির ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। লেখক : সাংবাদিক, [email protected] তথ্য সুত্র : 1. BD Digest, লিংক- https://en.bddigest.com/pib-dg-faruq-wasifs-fraud-2-4-million-disappeared-through-fake-seminar-and-journalists-forged-signatures/?utm_source=chatgpt.com 2. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লিংক- https://www.bd-pratidin.com/national/2026/03/05/1224362 3. দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655859 4.দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655869 5.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-tarunyer-utsob-24-lakh-corruption-allegation-bangladesh 6.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-faruk-wasif-corruption-fake-bill-recruitment-scam 7.otnbangla লিংক- https://otnbangla.com.au/news/51830 8. somoynews.tv লিংক- https://www.somoynews.tv/news/2026-03-06/LJ2U9TzR 9. ঢাকা টাইমস লিংক- https://www.dhakatimes24.com/2026/03/05/402684 10. কালের কণ্ঠ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=dXwwe8EzTME 11.বাংলানিউজ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=449Y3K3uMP8 12.Somoy TV লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=xCZRP0vVHq8 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F,-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2:-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2,-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE,-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0 14. বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com %e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/ 15.বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8/ 16.moheshpurnews লিংক- https://moheshpurnews24.com/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D/
পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ভুয়া সেমিনারের নামে বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)–এ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের “তারুণ্যের উৎসব” উপলক্ষে দেখানো দুটি সেমিনার বাস্তবে অনুষ্ঠিতই হয়নি। অথচ সেই সেমিনারের নামে কয়েক লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এই অভিযোগের সূত্র ধরে টানা তিন দিন পিআইবির কার্যালয়ে গিয়ে অনুসন্ধান চালায় কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী টিম। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একের পর এক অসঙ্গতি, অস্বীকার এবং পরে আংশিক স্বীকারোক্তি। সেমিনারের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার–কে প্রথমে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিতই এমন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ভুয়া বিল-ভাউচারের বিষয়টি সামনে আনা হলে তিনি ও উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী দুজনেই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিল-ভাউচারে তাঁদের স্বাক্ষর দেখানো হলে তাঁরা স্বাক্ষর নিজেদের বলে স্বীকার করলেও কাগজপত্রের বৈধতা অস্বীকার করেন। তৌহিদুল আনোয়ার বলেন— “স্বাক্ষর আমারই, কিন্তু এই কাগজে আমি দিয়েছি কি না জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” অন্যদিকে নাছির উদ্দীন চৌধুরী দাবি করেন— “ওই সময় কোনো সেমিনার হয়নি। এটা একটা রিউমার। প্রযুক্তির যুগে স্বাক্ষর নকল করা অসম্ভব কিছু না।” সন্দেহজনক ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল অনুসন্ধানী টিম ১৯ ফেব্রুয়ারির ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার একটি বিল সামনে আনলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিলে নিজের স্বাক্ষর দেখে পরিচালক তৌহিদুল আনোয়ার প্রথমে বিস্মিত হয়ে বলেন— “স্বাক্ষরটা তো আমারই, কিন্তু বিলটা তো ফেক।” অন্যদিকে দাবি করা হয়, ওই দুই সেমিনারে প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই সাংবাদিক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কেউই এমন কোনো সেমিনারের কথা জানেন না। অনুসন্ধানে ভেঙে পড়লেন সমন্বয়কারী এই অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক ও অনুষ্ঠান সমন্বয়কারী গোলাম মুর্শেদ। প্রথমে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিলে থাকা স্বাক্ষরকেও তিনি “ডিজিটালি বসানো” বলে দাবি করেন। কিন্তু যখন অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে যাচাইয়ের তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করে, তখন এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন— “বিলগুলো সাজানো। গত বছর ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির সেমিনার দুটি আসলে হয়নি।” তিনি আরও দাবি করেন, এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–এর নির্দেশে। গোলাম মুর্শেদের ভাষায়— “ডিজি সাহেব বলছিলেন, একটা প্রোগ্রাম দেখায়ে টাকাটা সমন্বয় করে দিতে।” মন্ত্রণালয়ের টাকার সমন্বয়? গোলাম মুর্শেদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে আসা বিশেষ বরাদ্দের টাকা সমন্বয়ের জন্যই এসব ভুয়া বিল তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন— “মন্ত্রণালয়ের কিছু কাজের টাকা খরচ দেখানোর জন্য আমাদের বলা হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার একটি অংশও অন্য খাতে ব্যয় দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ডিজির বক্তব্য: সবই মিথ্যা এ বিষয়ে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন— “এ ধরনের একটি বিল পিআইবির একটি দুষ্টচক্র তৈরি করেছিল, কিন্তু আমি সেটিকে অনুমোদন দিইনি।” তিনি আরও দাবি করেন, পরে বিষয়টি সামনে এলে তিনি সেই বিল বাতিল করে দেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি অনুমোদন না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরসহ ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষরসংবলিত বিল তৈরি হলো কীভাবে এবং ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কেন। নতুন প্রশ্নের জন্ম এই ঘটনার পর পিআইবির অভ্যন্তরে দুর্নীতি, ভুয়া বিল এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে— ভুয়া সেমিনারের নামে বিল তৈরি হলো কীভাবে ছয়জন কর্মকর্তার স্বাক্ষর এল কোথা থেকে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হলো কার নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কতটা সত্য এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
ঢাকা: সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-তে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উপলক্ষে মাত্র দুই দিনে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানের নামে তৈরি করা বিল-ভাউচারের বড় অংশই ভুয়া, এমনকি অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছে জাল স্বাক্ষর। পিআইবি আইন-২০১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ সাংবাদিকতা বিষয়ে গবেষণা, প্রকাশনা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করে সংস্থাটি। আরও পড়ুন: পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ কিন্তু সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছরের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ‘তারুণ্যের উৎসব’ উপলক্ষে চারটি অনুষ্ঠানের নামে প্রায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল— 1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা 2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা 3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা 4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’ তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। ভুয়া অংশগ্রহণকারী ও জাল স্বাক্ষর নথি অনুযায়ী দুটি সেমিনারে ২০০ জন করে মোট ৪০০ জন অংশগ্রহণকারীকে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, তালিকায় থাকা বহু সাংবাদিকই জানিয়েছেন— তারা ওই সেমিনারে যাননি কোনো ভাতা নেননি নথিতে থাকা স্বাক্ষর তাদের নয় তালিকায় থাকা একাধিক সাংবাদিক ফোনে জানিয়েছেন, এমন কোনো সেমিনারের কথাই তারা জানেন না। অনেকেই নিজেদের প্রকৃত স্বাক্ষরের নমুনা পাঠিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ দিয়েছেন। আরো বিস্ময়কর বিষয় হলো, তালিকায় থাকা একজন সাংবাদিক ২০২২ সাল থেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন, অথচ তার নামেও ভাতা তোলার স্বাক্ষর রয়েছে। আলোচকদের নামেও অসঙ্গতি সেমিনারের আলোচক হিসেবে যাদের নাম দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন— তারা কখনো ওই সেমিনারে অংশ নেননি তাদের আমন্ত্রণও জানানো হয়নি নথিতে থাকা স্বাক্ষরও ভুয়া ভাউচারে জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরো উঠে এসেছে ভাউচার জালিয়াতির বিষয়। 📌 কিছু ক্ষেত্রে একই মেমো নম্বর দিয়ে দুটি বিল তৈরি করা হয়েছে দোকানের মালিকরা বলেছেন এই বিল তাদের নয় 📌 কিছু দোকান জানিয়েছে তাদের খালি ভাউচার কেউ নিয়ে পরে নিজেরা লিখে ব্যবহার করেছে। 📌 একটি রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে দেখা গেছে পিআইবির জমা দেওয়া ভাউচার সাদা-কালো, অথচ রেস্তোরাঁর আসল ভাউচার লাল রঙের। ৫০০ টাকার লাঞ্চ প্যাকেট নিয়েও প্রশ্ন দুটি সেমিনারের জন্য ২৫০টি করে লাঞ্চ প্যাকেট ৫০০ টাকা দরে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা জানান— তাদের এখানে সাধারণ প্যাকেটের দাম ১৫০–৩৫০ টাকার মধ্যে ৫০০ টাকার প্যাকেট কখনো বিক্রি হয়নি। ফেসবুক পেজে নেই সেমিনারের কোনো তথ্য পিআইবির ফেসবুক পেজে সাধারণত সব অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণের ছবি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারির কথিত দুটি সেমিনারের কোনো ছবি বা প্রেস রিলিজ নেই পিআইবির ওয়েবসাইটেও নেই এ ধরনের কোনো তথ্য। এত বড় সেমিনারের জায়গা কোথায়? পিআইবি ভবনে রয়েছে— ২৩৮ আসনের একটি অডিটরিয়াম ৬০ আসনের দুটি সেমিনার কক্ষ ৩০ আসনের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ তাই ২০০ জন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একসঙ্গে সেমিনার আয়োজনের মতো কক্ষ নেই বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ ও ৩০ জুন চারটি চেকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়। চেকগুলোতে উত্তোলিত টাকার অঙ্ক চারটি অনুষ্ঠানের বিলে উল্লেখিত অঙ্কের সঙ্গে হুবহু মিলেছে। পিআইবি কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি অভিযোগের মুখে পিআইবির একজন কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি এসব বিল তৈরি করেছিলেন। মহাপরিচালকের বক্তব্য পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “একটি দুষ্টচক্র ভুয়া বিল তৈরি করেছিল। আমি সেটি অনুমোদন দিইনি এবং পরে বাতিল করেছি।” তবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, প্রতিদিন অনেক ফাইলে স্বাক্ষর করতে হয়, তাই ভুলবশত কোনো ফাইলে স্বাক্ষর হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের দাবি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে এত বড় অঙ্কের ব্যয়, ভুয়া স্বাক্ষর এবং জাল ভাউচারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বাসসের এমডি ও ৪ শ সাংবাদিকের নামে ভূয়া বিল ভাউচার: নিয়োগ বানিজ্য, অনিয়ম ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সাংবাদিক ভাতা উত্তোলন, একই দিনে একাধিক কর্মশালার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্কের অভিযোগ।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর হস্তক্ষেপ , নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দাবি জানিয়েছেন। ফারুক ওয়াসিফ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পিআইবির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেই শুরু করেন দুর্নীতির বানিজ্য। বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়দের-কে নিয়োগ দিতে থাকেন। এই নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাদের উপর খড়ক নেমে আসে। তিনি তখন দম্ভোক্তি করে বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব আমার খুবই কাছের লোক, পিআইবির বিষয়ে আমি যা বলব তাই হবে। আমার সিদ্ধান্তের বাহিরে বোর্ড ও মন্ত্রনালয়ের কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আমার কাজে যারা প্রশ্ন তুলবে তাদের চাকুরী নট করে দেব। নিয়োগ বানিজ্য: ফারুক ওয়াসিফ বিধি বর্হিভূত ভাবে মোট ৩৯জন লোক অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগ পেয়েছে যারা তারা মহাপরিচালকের বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও আত্মীয়। বিভিন্ন জনের নিকট থেকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে চাকুরী স্থায়ী করার শর্তে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এর চুরি, দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জনালে হিসাব রক্ষক (চ.দা) মোঃ আলী হেসেন-কে বিনা অপরাধে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিচালক (প্রশিক্ষক) চ.দা. পারভীন সুলতানা রাব্বী-কে মন্ত্রনালয়ে ভুল বুঝিয়ে নিমকো-তে বদলী করা হয়। কাউকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। কাউকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। পিআইবিতে বর্তমানে চাকুরী হারানোর বিষয়ে অনেকেই আতঙ্কে আছেন। বোর্ড মিটিং-এ কিছু বোর্ড মেম্বার-কে ম্যানেজ করে ৩৯ জন অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য বোর্ডেএ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ফারুক ওয়াসিফ-এর চালাকি বোর্ড মেম্বারদের চোখে ধরা পড়ে যায়। বোর্ড বলে দেয় বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে পুনরায় বোর্ডে উপস্থাপন করার জন্য। ফলে মহাপরিচালকের মাথা নষ্ঠ হয়ে যায়। নামে মাত্র নিয়োগ বিধি মানার জন্য সম্প্রতি তার নিয়োগকৃত অস্থায়ীদের স্থায়ী করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। জরুরী সিলেকশন কমিটি ডেকে মোটা উৎকোচ গ্রহন করে স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রদান করার জোর তৎপরতা চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি অতি গোপনে তার বন্ধু অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন, উপ-পরিচালক (প্রশা:) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম-কে নিয়ে সন্ধ্যার পর কাজ করে যাচ্ছেন। এই সব কাজে সহযোগিতা করছে পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। এই মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে মহাপরিচালক ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সকল অবৈধ লেনদেন সকল চুরি, দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত এক কোটি বার লক্ষ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর-কে সহযোগীতা করছেন বর্তমান মহাপরিচালকের অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম সহ কয়েকজন। মধ্যে পিআইবি-কে ধংসের অন্যতম কর্মকর্তা টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া যিনি আওয়ামিলীগের নিয়োগকৃত। তিনি পিআইবির টেন্ডার সংক্রান্ত সকল কাজের হোতা বিভিন্ন প্রতিষ্টানের যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ফারুক ওয়াসিফ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী না থাকা সর্ভেও তাকে নিয়োগ বিধি লঙন করে পরিচালনা বোর্ড-কে অবহিত না করে প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি প্রদান করেন। প্রশাসনের সকলকাজ কর্ম তার মাধ্যমে চলে। কারন ডিজি যাদের নিয়োগ প্রদান করেছেন তারা কোন কাজ কর্ম জানেন না। এই দুর্নীতিবাজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া সকল চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের একমাত্র সহযোগী। উল্লেখ্য, পিআইবির সকল অবৈধ লেনদেনের টাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ-কে অগ্রিম প্রদানের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব, জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে তেইশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার পাঁচ শত টাকার ভুয়া বিল ভাউচরের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে তারুণ্যের উৎসব নামে পাচঁ লাখ তিয়াত্তর হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সঙ্গীত সন্ধ্যা নামে অনুষ্ঠান দেখিয়ে আদনান কাইয়ুম গ্রুফ লিডার নবজাগরাণ সঙ্গিত নিকেতন, বারিধারা ঢাকা নামে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত পিআইবিতে আধুনিক অডিটোরিয়াম ও সেমিনার রুম থাকা সত্বেও সাউন্ড সিস্টেম, আলোক সজ্জা দেখিয়ে বর্তমান বাংলা লিঃ নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে দুই বার গেট সাজানোর নামে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান চলচ্চিত্র, আলোক চিত্র ভিডিও প্রদর্শনীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এর কিছুই হয় নাই। গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত: ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ সাংবাদিককে ভাতা ও যাতায়াত পরিশোধের ভূয়া স্বাক্ষরের বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। এবং এই ভূয়া বিলের মধ্যে আলোচকদের সম্মানী দেখিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, মো: মাঈনুল ইসলাম সাংবাদিক বাংলাভিশন, ওবায়দুল হক সহযোগী অধ্যাপক চ.বি, শহীদুল্লাহ লিপন অধ্যাপক, চ. বি, খান মোহাম্মদ বাহাদুর, অধ্যাপক সোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এদের নামে ১ লাখ টাকা ভূয়া বিল বানিয়ে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এই সব আলোচকরা অনুষ্ঠানে আসেই নাই। জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেও ২০০ জন সাংবাদিক ও ছাত্র দেখিয়ে তাদের ভূয়া স্বাক্ষর করে ভাতা ও যাতায়াত বিল এবং খাবার ও আনুসঙ্গিক ভুয়া বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: এ ছাড়া ২ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা ফারুক ওয়াসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ ভূয়া বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এই বিল গত ৪ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে দাখিল করে একদিনের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, উপ-পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম ও মহাপরচালক ফরুক ওয়াসিফ চূড়ান্ত ভাবে পাশ করেন। তদন্ত করলে মাহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ ১৫ মাসের দায়িত্ব পালন কালে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম মন্ত্রনালয় ও পরিচালনা বোর্ড-কে বোকা বানিয়ে স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে এই চুরি, দুর্নীতির মহা উৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে সরকারী খরচে ফারুক ওয়াসিফ আজার বাইজান সফর করেন। এই সফরের আগের দিন কোন মন্ত্রনালয়ের কোন জিও, অনুমোদনের কোন কাগজ পত্র নোট ছাড়াই তার পিএ নামে ৬৫,০০০ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করেন ফারুক ওয়াসিফ-কে প্রদান করা হয়। টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ এ ছাড়া কোন প্রয়োজন ছাড়াই ৬ষ্ঠ তলা ভবনের ৩য় তলায় টেন্ডার ছাড়া কিছু মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৫০% টাকা আত্মসাত করেছে মহাপরিচালক। একই বিল্ডিং এর ২য় তলায় মেরামত ও পরিবর্তন দেখিয়ে ৯০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সরকারী অডিট চলাকালীন সময়ে পিআইবির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা জমা ছিল। সরকারী অডিটের নির্দেশ ছিল উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা করা। কিন্তু অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর কু- পরামর্শে উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা না করে ডিজি ইচ্ছামত ব্যয় করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধা প্রাপ্ত কথিত বুদ্ধিজীবি মোন্তাছির মামুন, শাহরীয়ার কবীর, সাংবাদিক বোরহান কবীর, মোজাম্মেল বাবু, নাইমুল ইসলাম খান ও মুন্নিসাহা-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ফারুক ওয়াসিফ, বন্ধু গোলাম মুর্শেদ, মুন্না, মনিরা শরমিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরিফিন সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলমের তৃতীয় স্ত্রী সিফাত তাসনিম, সহ-সম্পাদক গোলাম মুতুর্জা সহ কয়েক জন অস্থায়ী আওয়ামী ঘরনার কর্মকর্তাকে নিয়ে পিআইবিতে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মী করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: পিআইবির ডরমিটরিতে নিয়ম ভেঙ্গে সাংবাদিকদের থাকতে না দিয়ে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অস্থায়ী পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার ও অস্থায়ী উপ-পরিচালক (প্রশা:) নাছির উদ্দীন চৌধুরীর আত্মীয় স্বজনকে বিনা ভাড়ায় দিনের পর দিন থাকেন। এটা পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। মহাপরিচালক অফিস সময়ের পর পিআইবির ডরমিটরিতে প্রায়ই বন্ধু বান্ধবী নিয়ে মদ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন। মাঝে মধ্যে মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অস্থায়ী কর্মকর্তাদের সহায়তায় তার নিজস্ব নিয়োগকৃত ড্রাইভার রাসেল বাসায় পৌছাইয়া দেন। এই ডিজি পিআইবির পরিবেশ-কে কলুষিত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক হিসাবে পিআইবিতে যোগদানের পর মদপানের জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে টাকা হাওলাদ নিতেন। কিন্তু কখনো টাকা ফেরৎ দেন নাই। এখনো ৮/১০ জন তার নিকট টাকা পাওনা আছে সে টাকা ফেরৎ চাওয়ার কেহ সাহস পা না। বর্তমানে তার নিয়োগকৃত অস্থায়ী সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের নামে অগ্রিম দেখিয়ে ট্রেনিং, সেমিনার, মিটিং ও অফিস আপ্যায়ন এর ভুয়া বিল করে নিয়মিত মদপানের অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন সে আর কারও কাছ থেকে হাওলাত নিতে হয় না। বিভিন্ন টেনিং ও সেমিনারে তার বাহিনী ও ফারুক ওয়াসিফ প্রশিক্ষনের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদেরসাথে দুর্ব্যবহার করেন। সদ্য সমাপ্ত একটি সমাপানী অনুষ্ঠানেও এ ঘটনা ঘটে। তদন্ত ও ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দুর্নীতিবাজ পিআইবির মহা পরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রীর নিকট সাংবাদবক সমাজ ও পিআইবির জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দুর্নীতির তথ্যবলীর প্রমান হিসাবে ভূয়া বিল ভাউচারের কপিসহ সকল প্রমানাদী প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান Press Institute of Bangladesh (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং তারা অভিযোগ করছেন যে তাদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা নিষ্পত্তি না করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৪ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নীতিমালার বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে পিআইবির কর্মচারী ফরিদ আহমেদ-এর সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই অনিয়ম দুর্নীতি অবৈধ নিয়ম বিষয়ে কথা বলায়,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে পিআইবির সিনিয়র পরীক্ষক পারভীন সুলতানা রাব্বিকে যড়যন্ত্র ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে বদলি করা হয়েছে এবং আলী হোসেনের সুনিশ্চিত কারণ ছাড়া অবসর দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানা যায়। এভাবে অবসরপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি অনুরূপ আচরণ করে থাকেন। এছাড়াও, তিনি প্রায় ৩৪ জন লোককে পিআইবিতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন। ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অনিয়মের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে মহাপরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম ও লুটপাটের মহোৎসবে পরিণত করেছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উত্থাপিত হয়েছে। তাই দ্রুত তাকে অপসারনের দাবী জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। তিনি ডিজি পদে টিকে থাকার লক্ষ্যে তিনি নানামুখী তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে।তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, বিষয়টির প্রতি যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।