Brand logo light
মিডিয়া

পিআইবিতে ‘ভুয়া সেমিনার’ বিতর্ক: ভাউচার, উৎস কর চালান ও ব্যাকডেটিং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ

বাংলা প্রবাদ যেমন বলে—“শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” বা “এক মিথ্যা ঢাকতে হাজারটা মিথ্যা”—প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর ক্ষেত্রে সেই কথাগুলো যেন বাস্তবের মায়া হয়ে উঠেছে।

৫ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে “ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও!” শিরোনামে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে ফারুক ওয়াসিফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ। উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তবুও ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ প্রথমে তার ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রিপোর্টটি মিথ্যা। তাঁর ব্যাখ্যা, ওই দুই তারিখে পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তাই সেমিনারের নামে কোনো অর্থ খরচ বা ভাউচার তৈরি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, যে নথি–প্রমাণ কালের কণ্ঠে দেখানো হয়েছে, তা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী পক্ষের জালিয়াতি এবং প্ররোচনায় পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সততা প্রমাণ করতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এরপর ৯ মার্চ পিআইবির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি ই‑মেইলে পৌঁছায়। সেখানে তিনি পুনরায় প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবমাননাকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত দাবি করেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি–প্রমাণ দেখাচ্ছে, ফারুক ওয়াসিফ ও তাঁর দল সত্যিই ন্যক্কারজনক দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে লিপ্ত ছিলেন। তারা যে দাবি করছেন, কোনো সেমিনার হয়নি এবং সেমিনারের নামে কোনো অর্থ তোলা হয়নি, সেটিও নথিপত্র দ্বারা খণ্ডনযোগ্য। পত্রিকায় উল্লেখিত টাকার কথা অন্য তথ্যচিত্র নির্মাণের খরচ হিসেবে নগদে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথি–প্রমাণ সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। এই ঘটনাচক্রে প্রকাশ পায়, দীর্ঘ মিথ্যাচার ও তথ্য ফাঁসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শক্তি দুর্নীতির জাল ফাঁস করতে সক্ষম।

উৎস কর তদারকি

ঘেঁটে দেখা যায়, পিআইবির জমা করা উৎস কর নথিপত্রের মধ্যে ৫৩টি ‘অর্থ জমা নগদ স্লিপ’ রয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের খরচ‑সংক্রান্ত বিস্তারিত লেখা আছে—দাওয়াত কার্ড, নাশতা, খাবার, স্টেশনারি, গাড়িভাড়া এবং রিসোর্স পারসন সম্মানী। নথিগুলো পিআইবির পক্ষ থেকে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ সোনালী ব্যাংকের ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল শাখায় জমা দেন। প্রতিটি কপিতে গোলাম মুর্শেদের স্বাক্ষর রয়েছে।

স্লিপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো মূলত পিআইবির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যয় হওয়া অর্থের বিপরীতে দেওয়া উৎস কর স্লিপ। চালান ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোন অনুষ্ঠান, কোন খাত এবং কত অর্থ জমা হয়েছে। এই ৫৩টি স্লিপের মাধ্যমে দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়েছে। তবে ফারুক ওয়াসিফ প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে পিআইবিতে এমন কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর নথিপত্র এই দাবির উল্টো চিত্র উপস্থাপন করে।

সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (challanverification.finance.gov.bd/echalan) থেকে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত সেমিনারের খাবারের জন্য পরিশোধিত ছয় হাজার ২৫০ টাকার স্লিপটি সত্য। ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ অনুযায়ী, শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের সেগুনবাগিচা সার্কেলের অধীনে অর্থ জমা হয়েছে। জমাদানকারী হিসেবে স্লিপে  গোলাম মোরশেদ এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

একইভাবে অন্য একটি খাবারের স্লিপও যাচাই করা হয় এবং তা সম্পূর্ণ সত্যি পাওয়া যায়। তবে, এই খরচের মূল ভাউচার আগেই অনুসন্ধান টিমের হাতে এসেছে। তা ছিল সাজানো ভাউচার, কারণ এই সেমিনারগুলো পিআইবিতে বাস্তবে হয়নি—যা ফারুক ওয়াসিফের দাবি খণ্ডন করে।

রাজধানীর ১৪/১ শান্তিনগর বাজার রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁ‑তে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের ভাউচার পরীক্ষা করে। বিলের পরিমাণ ৫০০ টাকা প্রতি জন হিসেবে মোট ৭৫ হাজার টাকা। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই ভাউচারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। এই ধরনের ভুয়া বিল‑ভাউচার বানিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য আগের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

পিআইবির কথিত সেমিনারের রিসোর্স পারসন খাতের পাঁচ হাজার টাকার উৎস করও পরীক্ষা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আলোচককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেখানো হয়েছিল। এই ব্যয়ের বিপরীতেও পিআইবি এনবিআরে কর দিয়েছেন, যার ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮১৮০৩। চালান ফরমে অর্থের গন্তব্য, উপলক্ষ ও জমাদানকারী সবাই এক। তবে সেমিনার অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আলোচকদের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ভুয়া—এটি আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কথিত সেমিনারের আলোচকরা এ বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

পরবর্তী ধাপে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কথিত সেমিনারের অন্যান্য খাতের চালান যাচাই করা হয়। দাওয়াত কার্ড প্রিন্ট খাতে ৩ হাজার টাকা, স্টেশনারি ৯ হাজার, ডেকোরেশন ও ব্যানার ৬ হাজার ১০০, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিং ৮ হাজার ৩০০, নাশতা ২ হাজার ৫০০ এবং গাড়িভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রত্যেক খাতের জন্য দুটি চালান ফরম ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত সেমিনারের খরচের বিপরীতে ১৫টি চালান ফরমে মোট ৫০ হাজার ১০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর কথিত সেমিনারের জন্যও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৩টি চালান ফরমে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর প্রদান করা হয়। সব চালানে জমাদানকারী হিসেবে গোলাম মুর্শেদ‑এর নাম উল্লেখ থাকে।

এই নথিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। ঢাকার আয়কর আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুল হক‑কে কপি পাঠালে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত করেন, “উৎস কর কর্তনের এই চালান অনলাইন ভেরিফিকেশনে সঠিক পাওয়া গেছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে সব চালান পরীক্ষা করে একই সত্যতা নিশ্চিত করে।

গভীর অনুসন্ধান

সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধানের পর প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছে, পিআইবির প্রতিটি বিল‑ভাউচারে ব্যবহৃত ফারুক ওয়াসিফ‑সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সঠিক এবং সেই বিলের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

যাঁদের নাম ও দোকানের নাম ব্যবহার করে বিল তৈরি করা হয়েছিল, তাঁরা স্বীকার করেছেন, এগুলো পিআইবির কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে জালিয়াতি করেছেন। এমনকি ভুয়া বিল-ভাউচারের কারিগর গোলাম মুর্শেদ স্বীকার করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য তার কথোপকথনের অডিও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ করা হয়েছে।

ফারুক ওয়াসিফ প্রতিবাদলিপিতে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো যুক্তি বা প্রমাণ দেখানো যায়নি। বরং তিনি ‘গোপি বাঘা প্রোডাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি করে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে এই অর্থের লেনদেনের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স প্রদানের প্রমাণ দিতে পারেননি। তদন্তে জানা যায়, খুব সামান্য সম্মানি দিয়ে বাকি পুরো অর্থ নিজেদের ভাগ‑বাটোয়ারার জন্যই এই প্রতিষ্ঠানকে কোনও টেন্ডার, ওয়ার্ক-অর্ডার বা এমওইউ ছাড়া কাজ দেওয়া হয়েছিল।

ফারুক ওয়াসিফ দাবী করেছেন, তারুণ্যের উৎসবের খাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পিআইবি সেই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ লাখ টাকা আসলেও অনুষ্ঠানের নামে সর্বোচ্চ সাত-আট লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ফারুক ওয়াসিফ ও তার অনুসারীরা ভাগ‑বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি কিছু ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ২৪ লাখ টাকার খরচ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এই অনুসন্ধান পিআইবি মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে এনেছে, যা নথিপত্র, স্বাক্ষর যাচাই এবং সরাসরি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। পিআইবিতে বড় কোনো কাজের জন্য সাধারণত টেন্ডার এবং মূল্যায়ন কমিটির মিটিং করার নিয়ম থাকলেও ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত কথিত উৎসব বা সেমিনারের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি বা রেজল্যুশনের তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়ার্ক-অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে কিনা বা চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে কিনা—তার কোনো স্বচ্ছ রেকর্ড নেই। কর্মকর্তাদের দাবি, ডি-নথিতে গেলে এসবের প্রমাণ বেরিয়ে আসত, তাই কৌশলে হার্ড কপিতে ফাইল আটকে রাখা হয়েছে।

পিআইবির দাবী অনুযায়ী, ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারির উৎসবের খরচ মেটাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো বিধিমালায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের চাঁদা নেওয়ার বিধান নেই। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই চাঁদা নগদ নেওয়া হয়েছে নাকি চেকের মাধ্যমে। যদি নগদ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তির পকেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

পিআইবির সব আয়-ব্যয় ডিজিটাল নথির মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে ফারুক ওয়াসিফ নিজেই প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলোচিত উৎসব বা প্রোগ্রামের কোনো তথ্য ডি-নথিতে সংরক্ষিত নেই। অভিযোগকারীরা বলছেন, ডি-নথিতে ব্যাকডেটে কোনো কিছু করা যায় না এবং একবার নথি ছাড়লে তা ডিলিট করা সম্ভব নয়। জালিয়াতির উদ্দেশ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি হার্ড কপিতে রাখা হয়েছে, যেন পরবর্তী সময়ে তারিখ বা খরচ পরিবর্তন করা সহজ হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ফারুক ওয়াসিফের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৪ লাখ টাকা তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাকি অর্থের উৎস কী, তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। চাঁদা আদায় কীভাবে হয়েছে, মোট কত টাকা উঠেছে, কে কত দিয়েছে, এবং সেই টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে—এই বিষয়গুলোর কোনো সঠিক হিসাব নেই। সাধারণ সরকারি নিয়মে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হ্যান্ডক্যাশে চাঁদা নেওয়ার অনুমোদন নেই।

পিআইবির সঙ্গে ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’-এর লেনদেনেও গরমিল দেখা দিয়েছে। পিআইবির দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে চার কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু চার কিস্তির ইনভয়েস একই তারিখের—২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। অথচ ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুপী বাঘাকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হতো, কিন্তু পুরো অর্থ ক্যাশে দেওয়া হয়েছে।

প্রযোজক সৌমিত্র পার্থ বলেছেন, “আমাদের চুক্তি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘুরিয়ে Directorate of Films and Publicity, Information (DFPI) ও পিআইবির মাধ্যমে আগস্টে পেমেন্ট পাই। কোনো ব্যাংকিং মাধ্যম বা চেক নয়, ক্যাশেই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। ২৪ লাখ টাকার বিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে পিআইবি ১৯ লাখ টাকা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোনো টেন্ডার হয়নি, সিঙ্গেল সোর্সেই কাজ পেয়েছি। মূল কাজ ছিল ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্র প্রদর্শন।”

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের লেনদেন ক্যাশে হওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিভিন্ন ধাপে ইনভয়েস অনুযায়ী চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হয়। একই সঙ্গে একটি খাতের টাকা অন্য খাতে দেখানোর সুযোগও নেই।

ব্যাকডেটে জালিয়াতি :

সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু হলেও পিআইবিতে তা রিসিভ দেখানো হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। জুন মাসের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেব্রুয়ারিতে ব্যাকডেটেড সিগনেচারের মাধ্যমে রিসিভ দেখানোর বিষয়টি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব নোটশিট ও বিল জুন মাসে তৈরি করা হলেও সেগুলিতে ফেব্রুয়ারির তারিখ বসানো হয়েছে। চেকের পাতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ ও ১০ তারিখ থাকা সত্ত্বেও টাকা তোলা হয়েছে ২৯ ও ৩০ জুন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে টাকা উত্তোলন করার জন্য এই ‘ব্যাকডেটিং’ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট—সম্পাদক নিরীক্ষা অ্যাকাউন্ট। এটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি এবং মূলত ম্যানুয়াল চেক বইয়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

তথ্যমতে, সরকারি বরাদ্দ (আইবাস++) আসার আগেই অন্য একটি স্বল্প তহবিলের অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম টাকা তোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে শুরুতে মাত্র ৪,৪৬৫ টাকা জমা ছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি বরাদ্দ আসার পর সেই টাকা আবার ওই অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের দাবি অনুযায়ী, পুরো অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা। কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বিল তৈরি করা হয়েছিল। এসব ভুয়া বিল বৈধতা দিতে গোলাম মুর্শেদ তাঁর ব্যক্তিগত টিন নম্বর ব্যবহার করে গত অক্টোবর মাসে অনলাইনে ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পিআইবিতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাকডেটিং এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এমন বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতেই কাগজপত্র ও প্রতিবেদনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রতিবাদপত্রে আমি ইতিমধ্যেই আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি।” ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি ও সেই ভিত্তিতে সরকারি কোষাগারে উৎস কর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।

ফারুক ওয়াসিফ দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব এবং আরও পাঁচজন বোর্ড মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “তারা সব কাগজপত্র যাচাই‑বাছাই করেছেন, অডিট টিমও সবকিছু দেখেছে। নিজের অবস্থানে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি। অডিট এবং বোর্ড মেম্বারদের যাচাইয়ের পর কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।”

তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করছে, ফারুক ওয়াসিফ নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রমাণ—ভুয়া ভাউচার, উৎস কর চালান, ক্যাশে লেনদেন এবং ব্যাকডেটেড নথি—সবই তার দাবির বিপরীতে সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করছে। সূত্র: কালের কন্ঠ

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজেস্ব প্রতিবেদক

মিডিয়া

View more
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ
পিআইবিতে ‘ভুয়া সেমিনার’ বিতর্ক: ভাউচার, উৎস কর চালান ও ব্যাকডেটিং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বাংলা প্রবাদ যেমন বলে—“শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা” বা “এক মিথ্যা ঢাকতে হাজারটা মিথ্যা”—প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর ক্ষেত্রে সেই কথাগুলো যেন বাস্তবের মায়া হয়ে উঠেছে। ৫ মার্চ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে “ফারুক ওয়াসিফ, আপনিও!” শিরোনামে বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে ফারুক ওয়াসিফ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ। উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তবুও ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফারুক ওয়াসিফ প্রথমে তার ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে দাবি করেন, রিপোর্টটি মিথ্যা। তাঁর ব্যাখ্যা, ওই দুই তারিখে পিআইবিতে কোনো সেমিনার হয়নি, তাই সেমিনারের নামে কোনো অর্থ খরচ বা ভাউচার তৈরি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, যে নথি–প্রমাণ কালের কণ্ঠে দেখানো হয়েছে, তা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী পক্ষের জালিয়াতি এবং প্ররোচনায় পত্রিকায় সরবরাহ করা হয়েছে। সততা প্রমাণ করতে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। এরপর ৯ মার্চ পিআইবির মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদলিপি ই‑মেইলে পৌঁছায়। সেখানে তিনি পুনরায় প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এটিকে মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অবমাননাকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত দাবি করেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি–প্রমাণ দেখাচ্ছে, ফারুক ওয়াসিফ ও তাঁর দল সত্যিই ন্যক্কারজনক দুর্নীতি ও জালিয়াতিতে লিপ্ত ছিলেন। তারা যে দাবি করছেন, কোনো সেমিনার হয়নি এবং সেমিনারের নামে কোনো অর্থ তোলা হয়নি, সেটিও নথিপত্র দ্বারা খণ্ডনযোগ্য। পত্রিকায় উল্লেখিত টাকার কথা অন্য তথ্যচিত্র নির্মাণের খরচ হিসেবে নগদে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথি–প্রমাণ সেটিকে মিথ্যা প্রমাণ করে। এই ঘটনাচক্রে প্রকাশ পায়, দীর্ঘ মিথ্যাচার ও তথ্য ফাঁসের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার শক্তি দুর্নীতির জাল ফাঁস করতে সক্ষম। উৎস কর তদারকি ঘেঁটে দেখা যায়, পিআইবির জমা করা উৎস কর নথিপত্রের মধ্যে ৫৩টি ‘অর্থ জমা নগদ স্লিপ’ রয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারের খরচ‑সংক্রান্ত বিস্তারিত লেখা আছে—দাওয়াত কার্ড, নাশতা, খাবার, স্টেশনারি, গাড়িভাড়া এবং রিসোর্স পারসন সম্মানী। নথিগুলো পিআইবির পক্ষ থেকে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ সোনালী ব্যাংকের ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল শাখায় জমা দেন। প্রতিটি কপিতে গোলাম মুর্শেদের স্বাক্ষর রয়েছে। স্লিপগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলো মূলত পিআইবির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যয় হওয়া অর্থের বিপরীতে দেওয়া উৎস কর স্লিপ। চালান ফরমে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—কোন অনুষ্ঠান, কোন খাত এবং কত অর্থ জমা হয়েছে। এই ৫৩টি স্লিপের মাধ্যমে দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়েছে। তবে ফারুক ওয়াসিফ প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তাঁর দায়িত্বকালে পিআইবিতে এমন কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর নথিপত্র এই দাবির উল্টো চিত্র উপস্থাপন করে। সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইট (challanverification.finance.gov.bd/echalan) থেকে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখা যায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত সেমিনারের খাবারের জন্য পরিশোধিত ছয় হাজার ২৫০ টাকার স্লিপটি সত্য। ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮৪০৫৯ অনুযায়ী, শুল্ক, আবগারি ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা দক্ষিণের সেগুনবাগিচা সার্কেলের অধীনে অর্থ জমা হয়েছে। জমাদানকারী হিসেবে স্লিপে  গোলাম মোরশেদ এর নাম উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অন্য একটি খাবারের স্লিপও যাচাই করা হয় এবং তা সম্পূর্ণ সত্যি পাওয়া যায়। তবে, এই খরচের মূল ভাউচার আগেই অনুসন্ধান টিমের হাতে এসেছে। তা ছিল সাজানো ভাউচার, কারণ এই সেমিনারগুলো পিআইবিতে বাস্তবে হয়নি—যা ফারুক ওয়াসিফের দাবি খণ্ডন করে। রাজধানীর ১৪/১ শান্তিনগর বাজার রোডে অবস্থিত বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁ‑তে ১৫০ জনের দুপুরের খাবারের ভাউচার পরীক্ষা করে। বিলের পরিমাণ ৫০০ টাকা প্রতি জন হিসেবে মোট ৭৫ হাজার টাকা। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এই ভাউচারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেননি। এই ধরনের ভুয়া বিল‑ভাউচার বানিয়ে টাকা তোলার পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য আগের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পিআইবির কথিত সেমিনারের রিসোর্স পারসন খাতের পাঁচ হাজার টাকার উৎস করও পরীক্ষা করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচজন আলোচককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেখানো হয়েছিল। এই ব্যয়ের বিপরীতেও পিআইবি এনবিআরে কর দিয়েছেন, যার ট্র্যাকিং নম্বর ২৫২৬-০০০৯৪৮১৮০৩। চালান ফরমে অর্থের গন্তব্য, উপলক্ষ ও জমাদানকারী সবাই এক। তবে সেমিনার অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আলোচকদের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ভুয়া—এটি আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কথিত সেমিনারের আলোচকরা এ বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী ধাপে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কথিত সেমিনারের অন্যান্য খাতের চালান যাচাই করা হয়। দাওয়াত কার্ড প্রিন্ট খাতে ৩ হাজার টাকা, স্টেশনারি ৯ হাজার, ডেকোরেশন ও ব্যানার ৬ হাজার ১০০, সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটিং ৮ হাজার ৩০০, নাশতা ২ হাজার ৫০০ এবং গাড়িভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রত্যেক খাতের জন্য দুটি চালান ফরম ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শিত সেমিনারের খরচের বিপরীতে ১৫টি চালান ফরমে মোট ৫০ হাজার ১০০ টাকা উৎস কর প্রদান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর কথিত সেমিনারের জন্যও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৩টি চালান ফরমে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর প্রদান করা হয়। সব চালানে জমাদানকারী হিসেবে গোলাম মুর্শেদ‑এর নাম উল্লেখ থাকে। এই নথিগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা হয়। ঢাকার আয়কর আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুল হক‑কে কপি পাঠালে তিনি যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত করেন, “উৎস কর কর্তনের এই চালান অনলাইন ভেরিফিকেশনে সঠিক পাওয়া গেছে। এনবিআরের ওয়েবসাইটে সব চালান পরীক্ষা করে একই সত্যতা নিশ্চিত করে। গভীর অনুসন্ধান সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধানের পর প্রযুক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছে, পিআইবির প্রতিটি বিল‑ভাউচারে ব্যবহৃত ফারুক ওয়াসিফ‑সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর সঠিক এবং সেই বিলের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যাঁদের নাম ও দোকানের নাম ব্যবহার করে বিল তৈরি করা হয়েছিল, তাঁরা স্বীকার করেছেন, এগুলো পিআইবির কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে জালিয়াতি করেছেন। এমনকি ভুয়া বিল-ভাউচারের কারিগর গোলাম মুর্শেদ স্বীকার করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তির অকাট্য প্রমাণ সংরক্ষিত আছে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য তার কথোপকথনের অডিও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফারুক ওয়াসিফ প্রতিবাদলিপিতে ২৪ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো যুক্তি বা প্রমাণ দেখানো যায়নি। বরং তিনি ‘গোপি বাঘা প্রোডাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি করে মোট ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তবে এই অর্থের লেনদেনের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স প্রদানের প্রমাণ দিতে পারেননি। তদন্তে জানা যায়, খুব সামান্য সম্মানি দিয়ে বাকি পুরো অর্থ নিজেদের ভাগ‑বাটোয়ারার জন্যই এই প্রতিষ্ঠানকে কোনও টেন্ডার, ওয়ার্ক-অর্ডার বা এমওইউ ছাড়া কাজ দেওয়া হয়েছিল। ফারুক ওয়াসিফ দাবী করেছেন, তারুণ্যের উৎসবের খাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পিআইবি সেই খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে ২৪ লাখ টাকা আসলেও অনুষ্ঠানের নামে সর্বোচ্চ সাত-আট লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ফারুক ওয়াসিফ ও তার অনুসারীরা ভাগ‑বণ্টন করেছেন। পাশাপাশি কিছু ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে ২৪ লাখ টাকার খরচ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান পিআইবি মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির একটি বিস্তৃত চিত্র সামনে এনেছে, যা নথিপত্র, স্বাক্ষর যাচাই এবং সরাসরি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রমাণিত। পিআইবিতে বড় কোনো কাজের জন্য সাধারণত টেন্ডার এবং মূল্যায়ন কমিটির মিটিং করার নিয়ম থাকলেও ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত কথিত উৎসব বা সেমিনারের ক্ষেত্রে কোনো কমিটি বা রেজল্যুশনের তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে ওয়ার্ক-অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে কিনা বা চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে কিনা—তার কোনো স্বচ্ছ রেকর্ড নেই। কর্মকর্তাদের দাবি, ডি-নথিতে গেলে এসবের প্রমাণ বেরিয়ে আসত, তাই কৌশলে হার্ড কপিতে ফাইল আটকে রাখা হয়েছে। পিআইবির দাবী অনুযায়ী, ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারির উৎসবের খরচ মেটাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাছ থেকে ‘চাঁদা’ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোনো বিধিমালায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের চাঁদা নেওয়ার বিধান নেই। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এই চাঁদা নগদ নেওয়া হয়েছে নাকি চেকের মাধ্যমে। যদি নগদ হয়ে থাকে, তবে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তির পকেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পিআইবির সব আয়-ব্যয় ডিজিটাল নথির মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে ফারুক ওয়াসিফ নিজেই প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আলোচিত উৎসব বা প্রোগ্রামের কোনো তথ্য ডি-নথিতে সংরক্ষিত নেই। অভিযোগকারীরা বলছেন, ডি-নথিতে ব্যাকডেটে কোনো কিছু করা যায় না এবং একবার নথি ছাড়লে তা ডিলিট করা সম্ভব নয়। জালিয়াতির উদ্দেশ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি হার্ড কপিতে রাখা হয়েছে, যেন পরবর্তী সময়ে তারিখ বা খরচ পরিবর্তন করা সহজ হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ফারুক ওয়াসিফের দাবি অনুযায়ী প্রায় ২৪ লাখ টাকা তথ্যচিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে। কিন্তু দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বাকি অর্থের উৎস কী, তা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। চাঁদা আদায় কীভাবে হয়েছে, মোট কত টাকা উঠেছে, কে কত দিয়েছে, এবং সেই টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে—এই বিষয়গুলোর কোনো সঠিক হিসাব নেই। সাধারণ সরকারি নিয়মে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে হ্যান্ডক্যাশে চাঁদা নেওয়ার অনুমোদন নেই। পিআইবির সঙ্গে ‘গুপী বাঘা প্রোডাকশনস লিমিটেড’-এর লেনদেনেও গরমিল দেখা দিয়েছে। পিআইবির দাবি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে চার কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, কিন্তু চার কিস্তির ইনভয়েস একই তারিখের—২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। অথচ ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার শো হয়েছে ২০২৫ সালের আগস্টে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গুপী বাঘাকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হতো, কিন্তু পুরো অর্থ ক্যাশে দেওয়া হয়েছে। প্রযোজক সৌমিত্র পার্থ বলেছেন, “আমাদের চুক্তি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ঘুরিয়ে Directorate of Films and Publicity, Information (DFPI) ও পিআইবির মাধ্যমে আগস্টে পেমেন্ট পাই। কোনো ব্যাংকিং মাধ্যম বা চেক নয়, ক্যাশেই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। ২৪ লাখ টাকার বিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে পিআইবি ১৯ লাখ টাকা দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোনো টেন্ডার হয়নি, সিঙ্গেল সোর্সেই কাজ পেয়েছি। মূল কাজ ছিল ‘শ্রাবণ বিদ্রোহ’ তথ্যচিত্র প্রদর্শন।” তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তত তিনজন কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের লেনদেন ক্যাশে হওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিভিন্ন ধাপে ইনভয়েস অনুযায়ী চেক বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে হয়। একই সঙ্গে একটি খাতের টাকা অন্য খাতে দেখানোর সুযোগও নেই। ব্যাকডেটে জালিয়াতি : সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি ইস্যু হলেও পিআইবিতে তা রিসিভ দেখানো হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। জুন মাসের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেব্রুয়ারিতে ব্যাকডেটেড সিগনেচারের মাধ্যমে রিসিভ দেখানোর বিষয়টি বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব নোটশিট ও বিল জুন মাসে তৈরি করা হলেও সেগুলিতে ফেব্রুয়ারির তারিখ বসানো হয়েছে। চেকের পাতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৬ ও ১০ তারিখ থাকা সত্ত্বেও টাকা তোলা হয়েছে ২৯ ও ৩০ জুন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে টাকা উত্তোলন করার জন্য এই ‘ব্যাকডেটিং’ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি পুরনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট—সম্পাদক নিরীক্ষা অ্যাকাউন্ট। এটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্যবহার হয়নি এবং মূলত ম্যানুয়াল চেক বইয়ের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তথ্যমতে, সরকারি বরাদ্দ (আইবাস++) আসার আগেই অন্য একটি স্বল্প তহবিলের অ্যাকাউন্ট থেকে অগ্রিম টাকা তোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে শুরুতে মাত্র ৪,৪৬৫ টাকা জমা ছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারি বরাদ্দ আসার পর সেই টাকা আবার ওই অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের দাবি অনুযায়ী, পুরো অনুষ্ঠানের প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র সাত থেকে আট লাখ টাকা। কিন্তু নথিপত্রে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ব্যয় দেখানো হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে বিল তৈরি করা হয়েছিল। এসব ভুয়া বিল বৈধতা দিতে গোলাম মুর্শেদ তাঁর ব্যক্তিগত টিন নম্বর ব্যবহার করে গত অক্টোবর মাসে অনলাইনে ভ্যাট ও ট্যাক্স জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পিআইবিতে পরিকল্পিতভাবে ব্যাকডেটিং এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ‑এর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে তিনি শুরুতেই কাগজপত্র ও প্রতিবেদনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রতিবাদপত্রে আমি ইতিমধ্যেই আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি।” ভুয়া বিল‑ভাউচার তৈরি ও সেই ভিত্তিতে সরকারি কোষাগারে উৎস কর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। ফারুক ওয়াসিফ দাবি করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড মিটিংয়ে চারজন যুগ্ম সচিব এবং আরও পাঁচজন বোর্ড মেম্বার উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “তারা সব কাগজপত্র যাচাই‑বাছাই করেছেন, অডিট টিমও সবকিছু দেখেছে। নিজের অবস্থানে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি। অডিট এবং বোর্ড মেম্বারদের যাচাইয়ের পর কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।” তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করছে, ফারুক ওয়াসিফ নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রমাণ—ভুয়া ভাউচার, উৎস কর চালান, ক্যাশে লেনদেন এবং ব্যাকডেটেড নথি—সবই তার দাবির বিপরীতে সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করছে। সূত্র: কালের কন্ঠ

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ সংবাদপত্র

ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি

পিআইবিতে সেমিনার জালিয়াতির অভিযোগ : ফারুক ওয়াসিফের দাবি বনাম এনবিআরের নথি

মুহাম্মদ আবদুল্লাহ

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি পদে বাছির জামাল, সরানো হলো মুহাম্মদ আবদুল্লাহকে

ছাত্রনেতা মাহদী
বিবিসি বাংলাকে আইনি নোটিশ দিলেন ছাত্র আন্দোলন নেতা মাহদী হাসান

হবিগঞ্জের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান একটি প্রতিবেদনকে ভুয়া ও মানহানিকর দাবি করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC-এর বাংলা বিভাগ BBC Bangla-কে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। রবিবার পাঠানো ওই নোটিশে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরাতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ১ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। মাহদী হাসানের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এসএম শাহরিয়ার কবির। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি  এবং বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বির -এর কাছে। প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলা “মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ভারতের দুটি অপ্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে, যা মাহদীর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী “ভ্রান্ত, অসম্পূর্ণ ও মানহানিকর।” নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনে বলা হয় মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন এবং তিনি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন। এছাড়া তার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মাহদীর পক্ষের আইনজীবীর মতে, এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়া প্রতিবেদনে একটি পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নোটিশে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, মাহদী হাসান ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের একজন সম্মুখসারির কর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সে সময় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।  ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ‘OHCHR Fact-Finding Report: Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh’ প্রতিবেদন অনুযায়ীওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।১৪ দলীয় জোট মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ১৪০০ জনকে হত্যা ও কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে। এ সময় জনগণের রোষ ও ক্ষোভের কারণে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক প্রতিরোধ সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার ও জামিন প্রসঙ্গ আইনি নোটিশে বলা হয়, এক ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জামিন দেন। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ মাহদীর আইনজীবীর দাবি, ওই প্রতিবেদনের কারণে তার মক্কেল সামাজিক অপমান, সাইবার আক্রমণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ অনুযায়ী মানহানি এবং ধারা ৫০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতিবেদনের কারণে মাহদী হাসান আনুমানিক ১ কোটি টাকার আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবি আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলাকে অনুরোধ করা হয়েছে— ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলতে বিবিসি বাংলার সব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে এবং প্রতিবেদনের উৎস অনিশ্চিত ছিল বলে স্বীকার করতে নোটিশে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পদক্ষেপ না নিলে মানহানি মামলা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ মামলা এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কেবল আইনি প্রতিকার নয়, বরং “সত্য প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মর্যাদা পুনরুদ্ধার।”

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১১, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

সাংবাদিকতা শিক্ষার পথিকৃৎ সাখাওয়াত আলী খানকে নরসিংদীতে দাফন

আনিস আলমগীর

হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

১২৯ সাংবাদিক নিহত

বিশ্বে রেকর্ড ১২৯ সাংবাদিক নিহত ২০২৫ সালে, দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী: সিপিজে

রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৩

ঢাকা, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানা যায়, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন জানান, নিজেদের পরিচয় বারবার দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো তোয়াক্কা না করে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। তোফায়েল আহমেদকে মারধর করা হলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য সাংবাদিকদেরও পেটানো হয়। গুরুতর আহত তোফায়েল, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা সহকর্মীরা জানান, মাথা ও পিঠে আঘাতের ফলে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলানিউজের নিন্দা ও বিচার দাবি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিট প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও রমনা পার্ক এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান দায়িত্বশীলভাবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোফায়েলের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির আশ্বাস এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ যেহেতু রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”   জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)

পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী

দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছাড়লেন তারেক রহমান

দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশকের পদ ছাড়লেন তারেক রহমান

নিউইয়র্ক টাইমস

প্রিন্টের পতন, ডিজিটালের উত্থানে বিপুল মুনাফা নিউইয়র্ক টাইমসের

অর্থনীতি

ফ্যামিলি কার্ড

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড এর গুরুত্ব

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0




অপরাধ

ফুটপাত দখল

ফুটপাত দখল,ভোগান্তিতে পথচারী

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১৩, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও অম্লতা বেড়ে চলেছে।

১৫টি ‘জলবায়ু ঝুঁকি’তে আছে বাংলাদেশ

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0