ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং অভিযোগ, সবকিছু প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ ও পিআইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “এটি আর শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।”
পিআইবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালকের আমলে—
আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব,
নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব,
নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ।
এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত প্রতিবেদন, এমনকি প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি?
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন “প্রশাসনিক উদাসীনতা”র সীমা ছাড়িয়ে “প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া”র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“অভিযোগগুলো নতুন নয়। কিন্তু এখন যেভাবে প্রমাণসহ সামনে এসেছে, তাতে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।”
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতা নেই, মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন।
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পুরো খাতের জন্যই নেতিবাচক বার্তা বহন করে।
অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি (অফিস নোটশিট, বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদনপত্র) বিশ্লেষণে দেখা যায়—
প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি:
একই সরবরাহকারীকে একাধিক কাজ:
অন্তত ৩টি প্রকল্পে একই ভেন্ডর/সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়ার নথি পাওয়া গেছে।
টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ছিল না ।
বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি:
কিছু খাতে বিলের অঙ্ক ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা গেছে।
নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে—
নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি
নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“বোর্ডে যা ঠিক হয়, শেষ পর্যন্ত সেটাই থাকে না—উচ্চপর্যায় থেকে পরিবর্তন আসে।”
জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি অডিট টীম পিআইবি তে কাজ করছে। ডিজির সাথে এই দুর্নীতির সহকারী নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও হিসাব কর্মকর্তা ফখরুল অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে এই চুরির হিসাব নিকাশ সঠিক করছেন ফারুক ওয়াসিফ।
বর্তমান:
কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই
মাঠের প্রতিক্রিয়া
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন—
“প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তে চলছে”
“ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে”
“অভিযোগ করলেই প্রশাসনিক চাপ আসে”
তাদের দাবি, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করতে হবে।
এই অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—
টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি?
ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়?
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে না কেন?
একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীরব কেন?
প্রতিবেদন তৈরির সময় ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে—
পিআইবির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে
সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে
প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে।
নথি, সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পিআইবির বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি অভিযোগগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
অভিযোগগুলো তদন্তে বাধা কোথায়?
কার প্রভাবে বহাল আছেন মহাপরিচালক?
প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে?
যতক্ষণ এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না, ততক্ষণ পিআইবিকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
পিআইবিতে অনিয়মের নকশা: অভিযোগ, নথি ও টাইমলাইনে ফারুক ওয়াসিফ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ সামনে এলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং অভিযোগ, সবকিছু প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন—যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ ও পিআইবির ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, “এটি আর শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি।” আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি অভিযোগ কী কী? পিআইবির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান মহাপরিচালকের আমলে— আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পরও নীরবতা কেন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ, এত প্রতিবেদন, এমনকি প্রকাশ্য প্রতিবাদ কর্মসূচির পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন “প্রশাসনিক উদাসীনতা”র সীমা ছাড়িয়ে “প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া”র ইঙ্গিত দিচ্ছে। পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো নতুন নয়। কিন্তু এখন যেভাবে প্রমাণসহ সামনে এসেছে, তাতে ব্যবস্থা না নেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া।” ভেতরের অসন্তোষ বেড়েই চলেছে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোতে স্বচ্ছতা নেই, মতামতের কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন। সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ পুরো খাতের জন্যই নেতিবাচক বার্তা বহন করে। কী বলছে নথি অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথি (অফিস নোটশিট, বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদনপত্র) বিশ্লেষণে দেখা যায়— প্রশিক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি: একই সরবরাহকারীকে একাধিক কাজ: অন্তত ৩টি প্রকল্পে একই ভেন্ডর/সরবরাহকারীকে কাজ দেওয়ার নথি পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক ছিল না । বিল-ভাউচারে অসঙ্গতি: কিছু খাতে বিলের অঙ্ক ও অনুমোদিত বাজেটের মধ্যে অমিল লক্ষ্য করা গেছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি: প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে— নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের উপেক্ষা করে পছন্দের প্রার্থীদের পদোন্নতি নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “বোর্ডে যা ঠিক হয়, শেষ পর্যন্ত সেটাই থাকে না—উচ্চপর্যায় থেকে পরিবর্তন আসে।” অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা! জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি অডিট টীম পিআইবি তে কাজ করছে। ডিজির সাথে এই দুর্নীতির সহকারী নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও হিসাব কর্মকর্তা ফখরুল অডিট টিমকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে এই চুরির হিসাব নিকাশ সঠিক করছেন ফারুক ওয়াসিফ। মানববন্ধন: প্রকাশ্যে অপসারণ দাবি বর্তমান: কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই মাঠের প্রতিক্রিয়া মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন— “প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তে চলছে” “ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে” “অভিযোগ করলেই প্রশাসনিক চাপ আসে” তাদের দাবি, অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করতে হবে। বড় প্রশ্নগুলো এই অনুসন্ধানে সামনে আসা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি? ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে না কেন? একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নীরব কেন? কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রতিবেদন তৈরির সময় ফারুক ওয়াসিফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে— পিআইবির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা আরও দুর্বল হবে। নথি, সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে পিআইবির বর্তমান পরিস্থিতি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি অভিযোগগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। প্রশ্ন রয়ে গেল অভিযোগগুলো তদন্তে বাধা কোথায়? কার প্রভাবে বহাল আছেন মহাপরিচালক? প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে কে? যতক্ষণ এসব প্রশ্নের উত্তর মিলছে না, ততক্ষণ পিআইবিকে ঘিরে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ পদত্যাগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। সম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ওই দিন সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘বাসসে যা ঘটেছে, তা দুঃখজনক। বাসস একটা সরকারি সংবাদ সংস্থা। এখানে নিয়োগ বহাল বা বাতিলের একটা বিধিবদ্ধ নিয়ম আছে। সরকার সেই নিয়মের মধ্যেই সবকিছু বিবেচনা করবে। যে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আলোচনা সাপেক্ষে বিধিবিধান অনুযায়ী তার সমাধান বের করা হবে।’ এর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
পিআইবির মহাপরিচালককে অপসারণের দাবি ,জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ঢাকা: অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘পিবিআই বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফ হটাও’, ‘এক দফা এক দাবি, ফারুক ওয়াসিফ কবে যাবি?’, ‘ইয়ে করে দেখায়ে দিয়ে টাকাটাও ইয়ে করে দিও’, ‘মিথ্যায় হাবুডুবু ফারুক ওয়াসিফ’ ইত্যাদি প্লাকার্ড দেখা গেছে। আরও পড়ুন: পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগ: ডিজি ফারুক ওয়াসিফ'র অপসারন দাবী পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট , দুই দিনে ২৪ লাখ টাকার অনিয়ম পিআইবিতে ভুয়া সেমিনারের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আসিফ নজরুল পক্ষপাতিত্ব করে অযোগ্য লোকদেরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছিলেন সেই প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন তারা বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পিএস ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। পিএস যদি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয় তাহলে উনি কত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এটা আপনারা চিন্তা করেন। কারণ সে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় তার পিএস দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারে না। সে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। আপনারা দেখেছেন যে ইতিমধ্যে এই সজীবের সম্পদের হিসাব চাচ্ছে দুদক। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগগুলো তারা কিভাবে দিয়েছে এটা তদন্ত করতে হবে। তারা টাকা খেয়ে দিয়েছে না তারা পক্ষপাতিত্ব আত্মীয়স্বজনকে দিয়েছে এইটাও তদন্ত করে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মানববন্ধন থেকে তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রীর কাছে আহ্বান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ফারুক সাহেবকে সরিয়ে এখানে একটা যোগ্য অভিজ্ঞ একটা মহাপরিচালক দিবেন। কারণ এটা একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো। এখানে সাংবাদিকদের আস্থা। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন গবেষণা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে অযোগ্য অপদার্থ এবং স্বজনীতি প্রাপ্ত কিছু লোকজনের মাধ্যমে।