ঢাকা মেডিকেল ও গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দুই অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ | একই ভবনে একই কাজের একাধিক প্যাকেজ, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি বিল | কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি ভবন, হাসপাতাল, পুলিশ ব্যারাক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার সংস্কারের নামে গণপূর্ত অধিদফতরের ঢাকার একাধিক বিভাগে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ কয়েকটি চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সংস্কার এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার মেরামতকাজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার (এপিপি) আওতায় প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এর আগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ আগের অর্থবছরেও সংস্কারের নামে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। দুই অর্থবছরে বিভাগ-৩-এর মোট ২২ কোটি টাকার ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ না করে বা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের। অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং দুটি নার্সিং কলেজ ও ছাত্রাবাসের সংস্কারে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে একই ভবনের একই তলায় একই ধরনের কাজ একাধিক প্যাকেজে ভাগ করা, অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ ও বিল প্রস্তুত, দরজা-জানালা মেরামত এবং রং করার নামে কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো এবং ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত, কার্যাদেশ ও মাপবই যাচাই এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই ভবনে একই কাজ, একাধিক প্যাকেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েক বছর ধরে একই ধরনের সংস্কারকাজ পুনরাবৃত্তি হওয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একই ভবনের একই ফ্লোরে একই ধরনের কাজ একাধিক ভাগে দেখিয়ে ব্যয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালা মেরামত, ভবনের বিভিন্ন অংশে রং করা এবং অন্যান্য নিয়মিত সংস্কারকাজের নামে প্রতি বছরই অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে কিছু কাজ বাস্তবে না করেই অথবা নামমাত্র কাজ করে সম্পূর্ণ কাজের বিল তোলা হয়েছে। সূত্রের দাবি, অধিকাংশ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে অর্থবছরের শেষ দুই মাস—মে ও জুনে। অর্থবছরের বরাদ্দ শেষ করার তাগিদে জুন মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই ভবনের একই অংশে বারবার সংস্কারের প্রয়োজন কেন তৈরি হচ্ছে, কাজের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগের বছরের সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব যাচাই করা হয়েছে কি না। ৩৫টি ছোট প্যাকেজে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপিপি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন লাখ টাকার মধ্যে ৩৫টি ছোট প্যাকেজে মোট প্রায় এক কোটি টাকার কাজ দেখানো হয়েছে। এসব কাজের মধ্যে কয়েকটির বাস্তব অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস অফিস ও স্টাফ কোয়ার্টারের বিশেষ মেরামত, গণপূর্ত অফিস-সংলগ্ন কোয়ার্টারে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে আগাছা কাটা, অপসারণ ও পরিষ্কার করা এবং ড্রেন পরিষ্কার ও নবায়ন। এ ছাড়া মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের প্রেস ভবনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের ছাদ মেরামত, ভূমি ভবন ও সেটেলমেন্ট প্রেসের বিভিন্ন ড্রেন সংস্কার এবং ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনের কাজ তালিকাভুক্ত রয়েছে। তেজগাঁওয়ের ফরম ও প্রকাশনা অফিসের মোজাইক ফ্লোর পরিষ্কারসহ আনুষঙ্গিক মেরামত, বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের বিভিন্ন ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত, বিভিন্ন অংশে ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন এবং ড্রেন পরিষ্কারের কাজও রয়েছে এসব প্যাকেজে। জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় জাতীয় হেড, নেক অ্যান্ড থাইরয়েড কংগ্রেস ২০২৫-এর জন্য জরুরি মেরামতকাজ এবং গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার ড্রেন মেরামত ও পরিষ্কারের কাজও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। অন্য প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে সিদ্দিকবাজারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তিন নম্বর ভবনের সিভিল ও স্যানিটারি মেরামত এবং ড্রেন পরিষ্কার, বিজি প্রেসের অফসেট শাখার ভেতরে প্রসেস শাখা স্থাপনের জন্য সংস্কার এবং জাতীয় নাক, কান ও গলা হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের ছাদ মেরামত। বিজি প্রেস স্টাফ কোয়ার্টারের এ ও ডি ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত এবং অফিস ও আবাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশে বিশেষ মেরামতকাজও তালিকায় রয়েছে। মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন্সের মহিলা ব্যারাক ভবনের মেরামত ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজও একই ধরনের প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে যোগসাজশের অভিযোগ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আরেকটি অংশ টেন্ডার প্রক্রিয়া ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, টেন্ডার ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে গোপনে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দিয়ে বাস্তবে কাজ না করে অথবা নামমাত্র কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অনিয়মে নির্বাহী প্রকৌশলীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম, দরপত্রের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি, মালিকানা-সম্পর্ক এবং কার্যাদেশ ও বিলের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দরপত্রের নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং অর্থ পরিশোধের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগকারীরা কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কমিশন নেওয়ার অভিযোগ গণপূর্তের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের এপিপিভুক্ত কাজের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী দুই দফায় মোট ১০ শতাংশ কমিশন নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া কাজের ক্ষেত্রে বিলের অর্ধেক অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সূত্রটি। এ ছাড়া গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে পাঁচ শতাংশ কমিশন দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু দুটি বিভাগ নয়, আরও কয়েকটি বিভাগ নিয়ে অভিযোগ গণপূর্ত অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পরিধি শুধু মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগ ও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগ, মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ, আরবরিকালচার বিভাগ, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ এবং সাভার গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধেও সংস্কারকাজে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চার অর্থবছরে ৪৪ কোটি টাকা: নিরীক্ষার দাবি ঢাকা মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের আওতায় চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজে চার অর্থবছরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানোর তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, কয়েক বছরের কাজের বিবরণ তুলনা করলে একই ধরনের সংস্কারকাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এসব কাজের স্থায়িত্ব, প্রকৃত প্রয়োজন এবং ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই না করে শুধু বিল ও কাজ সমাপ্তির সনদের ভিত্তিতে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হলে অনিয়ম শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: আগের সংস্কারকাজের পর একই স্থানে পুনরায় কাজের প্রয়োজন কেন হয়েছে, প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় নির্ধারণে কী প্রাক্কলন অনুসরণ করা হয়েছে, কাজের পরিমাপ কে যাচাই করেছেন এবং অর্থ পরিশোধের আগে বাস্তব কাজ পরিদর্শন করা হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে নিয়মিত সংস্কারকাজের আড়ালে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বা ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য কী অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরী এবং মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ না করে বিল দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং সব নিয়ম মেনেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের বিপরীতে অভিযোগকারীরা নথি যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র, প্রকৃত কাজের পরিমাণ এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে সরকারি অর্থে সংস্কারকাজের ক্ষেত্রে শুধু দরপত্র আহ্বান, কার্যাদেশ প্রদান কিংবা কাজ সমাপ্তির সনদ থাকলেই ব্যয়ের যথার্থতা নিশ্চিত হয় না। বরং প্রকৃত কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণ, কাজের মান, নির্ধারিত ব্যয় এবং অর্থ পরিশোধের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে: ১. নথি যাচাই: প্রতিটি প্যাকেজের প্রাক্কলন, দরপত্র, কার্যাদেশ, মাপবই, বিল-ভাউচার ও কাজ সমাপ্তির সনদ পরীক্ষা। ২. সরেজমিন পরিদর্শন: যেসব ভবন, ছাদ, ড্রেন, ফ্লোর ও আবাসিক স্থাপনায় কাজ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং কাজের বাস্তব অস্তিত্ব যাচাই। ৩. একই কাজের পুনরাবৃত্তি পরীক্ষা: একাধিক অর্থবছরের কাজের বিবরণ মিলিয়ে একই স্থানে একই ধরনের সংস্কারের যৌক্তিকতা নির্ধারণ। ৪. দরপত্র ও স্বার্থের সংঘাত যাচাই: সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া পরীক্ষা। ৫. আর্থিক নিরীক্ষা: বিল অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ এবং কমিশন লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নিশ্চিত করা জরুরি। সংস্কারের নামে ব্যয় দেখানো অর্থে বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, আর কতটুকু ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—তার উত্তর শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে নথি যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন এবং স্বাধীন নিরীক্ষার ওপর।
দরপত্র কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ - ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে বাস্তবায়িত দুটি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, দরপত্র কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল এবং কৃষি বীজ বিপণন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল আলম। অভিযোগ অনুযায়ী, ইব্রাহিম খলিলের দায়িত্বাধীন প্রায় ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পে দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নির্বাচন, সিড ড্রায়ার কেনাকাটা এবং উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে, মাহমুদুল আলমের সাবেক দায়িত্বাধীন প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কৃষি বীজ বিপণন প্রকল্পে অন্তত ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পৃথক হলেও উভয় ক্ষেত্রেই সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের জবাবদিহি এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে প্রকল্পে দরপত্র কারসাজির অভিযোগ বিএডিসির বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দরপত্রের শর্ত নির্ধারণ ও মূল্যায়নের পদ্ধতি এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, যাতে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ে। বিপরীতে, প্রকল্প পরিচালকের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে তাঁদের দাবি। এ ছাড়া কাজ পাইয়ে দেওয়া, কার্যাদেশ প্রদান এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার বিনিময়ে কমিশন আদায় করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। সিড ড্রায়ার কেনাকাটায় প্রশ্ন, দুটি দরপত্র নিয়ে আপত্তি ইব্রাহিম খলিলের দায়িত্বাধীন প্রকল্পে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি সিড ড্রায়ার সরবরাহসংক্রান্ত দুটি দরপত্র নিয়ে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, Tender ID: 1178841 (MIEF/GD-19.01) এবং Tender ID: 1178840 (MIEF/GD-19.02)—এই দুটি দরপত্রের মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে ‘নন-রেসপন্সিভ’ বা দরপত্রের শর্ত পূরণে অযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে, Consent Merchant নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত যন্ত্রপাতির কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না, তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকলে তা সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কার্যাদেশ পুনর্বিবেচনা এবং দরপত্র মূল্যায়ন নতুন করে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হিট এক্সচেঞ্জারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত Master Climate Solutions-এর BV 691TR মডেলের হিট এক্সচেঞ্জার নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, যন্ত্রটির হিটার ও ব্লোয়ারের সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে বীজ শুকানোর কার্যকারিতা কমে যাওয়া, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, আর্দ্রতা অপসারণ, বায়ুপ্রবাহ এবং শুকানোর সময়ের মতো বিষয় বীজের গুণগত মানের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি নির্ধারিত কারিগরি শর্ত পূরণ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। এ কারণে অভিযোগকারীরা যন্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষা করানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল, প্রস্তুতকারকের তথ্য, দরপত্রে উল্লেখিত স্পেসিফিকেশন এবং সরবরাহ করা যন্ত্রের বাস্তব সক্ষমতা তুলনা করলে অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। শতাধিক দরপত্র, সময়সীমা নিয়ে অভিযোগ ইব্রাহিম খলিলের দায়িত্বাধীন প্রকল্পে কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শতাধিক দরপত্র চলমান রাখার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক দরপত্র একযোগে আহ্বান করায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত, ব্যাংকসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন এবং কারিগরি প্রস্তাব তৈরির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। পরবর্তীতে দরপত্রের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের একাংশ। তবে শুধু দরপত্রের সংখ্যা বা সময়সীমা নিয়ে অভিযোগ থেকেই অনিয়ম প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে দরপত্র প্রকাশের তারিখ, অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়, সময় বাড়ানোর আবেদন ও তার নিষ্পত্তি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং মূল্যায়নের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কমিশন বাণিজ্য ও কথিত ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দরপত্রে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাঁদের দাবি, প্রকল্পের কাজ পাওয়া, বিল অনুমোদন এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধা পেয়েছে। অভিযোগকারীদের একাংশ এই প্রক্রিয়াকে একটি কথিত ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে কমিশন আদায় বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংক হিসাব, বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যাচাই করা দরকার। উন্নয়নকাজে ব্যয় ও বিল-ভাউচার নিয়ে প্রশ্ন ইব্রাহিম খলিলের দায়িত্বাধীন প্রকল্পে কেনাকাটা এবং অবকাঠামোগত সংস্কারকাজেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সংস্কার বা নির্মাণকাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে কাজের পরিমাণ ও ব্যয়ের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই, কাজ সমাপ্তির সনদ, বিল-ভাউচার এবং বাস্তব কাজের পরিমাণের মধ্যে তুলনা করা জরুরি।নথিতে দেখানো ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজের অমিল পাওয়া গেলে তার কারণ নির্ধারণ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিন জেলায় বীজ আত্মসাতের অভিযোগ ইব্রাহিম খলিলের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অভিযোগের মধ্যে বিএডিসির আঞ্চলিক বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোতে বীজ আত্মসাৎ ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আটজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার হাইব্রিড ধান ও গমের বীজ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ এসব ঘটনার সঙ্গে প্রকল্প পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশের দাবিও করেছেন। তবে উল্লিখিত বীজ আত্মসাতের অভিযোগ এবং প্রকল্প পরিচালকের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। মজুত রেজিস্টার, গুদামের হিসাব, বীজ বিতরণের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল ছাড়া কোনো ব্যক্তির দায় নির্ধারণ করা যায় না। নিয়োগের যোগ্যতা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন ইব্রাহিম খলিলের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগসংক্রান্ত নথি, প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব ও ক্ষমতার বিবরণ এবং বিভাগীয় তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিএডিসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দরপত্রের কার্যাদেশ পর্যালোচনা, আর্থিক নিরীক্ষা, কারিগরি পরীক্ষা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ৬০০ কোটি টাকার কৃষি বীজ বিপণন প্রকল্পে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিএডিসির কৃষি বীজ বিপণন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অন্তত ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে একটি কথিত প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বাণিজ্য, দরপত্রে অনিয়ম এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহের মধ্য দিয়ে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত কমিশন বাণিজ্য চলেছে। ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল দ্রুত ছাড় এবং অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগও রয়েছে মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের ব্যয় বিবরণী, দরপত্রের মূল্য, সরবরাহ করা সরঞ্জামের বাজারদর, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং প্রকৃত কাজের অগ্রগতি তুলনা করে এ অভিযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিকাদার নির্বাচন ও বিল অনুমোদনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের একটি কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পের কাজ ও অর্থ বরাদ্দে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সরঞ্জামের গুণগত মান, ক্রয়মূল্য এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির মধ্যে অসংগতি ছিল। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে সরঞ্জাম গ্রহণ ও মান যাচাইয়ের সনদ, ক্রয়মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি, সরবরাহকারীর পরিচয়, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং বিল পরিশোধের নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অভিযোগকারীদের মতে, প্রকল্পের আর্থিক নিরীক্ষা ও কারিগরি মূল্যায়ন একসঙ্গে পরিচালনা করা হলে ব্যয়ের অসংগতি এবং সম্ভাব্য অনিয়মের প্রকৃতি নির্ধারণ করা সহজ হবে। প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে সরানো হলেও তদন্তের প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মাহমুদুল আলমকে প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অতীতের প্রকল্পে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর দায়িত্ব পালনকালের সিদ্ধান্ত ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, কোনো কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তাতে প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় না। প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অবৈধ সম্পদ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ সূত্রের দাবি, তাঁর দায়িত্ব পালনকালের আয়, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার এবং পরিবারসহ দেশত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সূত্রের ব্যক্তিরা। কৃষকের স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্ত কেন জরুরি বিএডিসির প্রকল্পগুলো শুধু সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এগুলোর সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও জড়িত। বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের যন্ত্রপাতি নিম্নমানের হলে কিংবা প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বীজের গুণগত মান, সরবরাহব্যবস্থা এবং কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে ইব্রাহিম খলিল ও মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বক্তব্যের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে নথিভিত্তিকভাবে যাচাই করা জরুরি। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা করে ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব কাজের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিতর্কিত দরপত্রগুলোর মূল্যায়ন, কার্যাদেশ এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা পর্যালোচনা করা দরকার। তৃতীয়ত, সিড ড্রায়ারসহ সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বুয়েটের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মতামত নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বীজ আত্মসাতের অভিযোগ, ঠিকাদারি বিল অনুমোদন, কমিশন বাণিজ্য এবং সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের বিষয়ে পৃথক তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মূল প্রশ্ন এখন—বিএডিসির এই দুটি প্রকল্পে সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত করবে কি না।** এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে প্রকল্পের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন, কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিভিন্ন ভবনের মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য আহ্বান করা প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি ই-জিপি টেন্ডারকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব দেওয়া একাধিক প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি দরদাতা একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। টেন্ডারে মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘এম/এস যমুনা প্রকৌশলী’ প্রতিষ্ঠান ১ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯২ টাকা দরপ্রস্তাব দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাদের মধ্যে ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম ১৪ জন সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ১৫তম অবস্থানে থাকা ‘নিশিত বসু’ নামের প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। দ্রুত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন টেন্ডার-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০২৬ সালের ২ জুন। দরপত্র দাখিল ও উন্মুক্ত করার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৮ জুন। এরপর মাত্র ১২ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে মাত্র দুই কার্যদিবস হাতে রেখে এত বড় অঙ্কের টেন্ডার মূল্যায়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পিপিআর লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮ অনুসরণ না করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, ৫ শতাংশ অগ্রিম কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম ই-জিপি পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের হাতে রেখে পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন। দায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোখলেসুর রহমান বলেন, ক্রয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তিনি হলেও পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদ ইমাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "নিয়ম মেনেই টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এসএলটি অনুযায়ী ‘নিশিত বসু’ প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। অনলাইনে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জুন ক্লোজিংয়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। বিল পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাজস্ব বাজেটের অর্থ ব্যয় করতে না পারলে তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। আগের অভিযোগের প্রেক্ষাপট এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত এবং একাধিক মামলার ঘটনাও সামনে আসে। নতুন এই টেন্ডার-সংক্রান্ত অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপটেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জে বাস্তবায়নাধীন বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজের টেন্ডারকে ঘিরে ঠিকাদার মহল ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এমন একটি সময়ে টেন্ডার আহ্বান করেছে, যখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি থাকায় অধিকাংশ সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী কার্যত প্রস্তুতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালে বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক, মুন্সীগঞ্জ (প্রকল্প আইডি-২২৪২৭৮৯০০) প্রকল্পের অধীনে দুটি পৃথক টেন্ডার আপলোড করা হয়। এর মধ্যে টেন্ডার আইডি-১২৭৮২৩০ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১৪৬) এর মাধ্যমে "Construction of Jetty" এবং টেন্ডার আইডি-১২৭৮৩৩৭ (এপিপি আইডি-২১৮৩৫২, রি-টেন্ডার্ড আইডি-১২০৮১২০) এর মাধ্যমে "Construction of Dumping Yard and Incinerator" কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। উভয় টেন্ডারই প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের নামে প্রকাশিত হয়। সময়সীমা নিয়ে আপত্তি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের একটি অংশের অভিযোগ, পিপিআর অনুযায়ী ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় টেন্ডার প্রস্তুত ও জমাদানের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হয়নি। তাদের দাবি, ১৮ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীর্ঘ সরকারি ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ সময়ে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার পাশাপাশি অধিকাংশ ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরিবার নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেন। ফলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ, কারিগরি প্রস্তাব প্রস্তুত এবং আর্থিক প্রস্তাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাস্তব জটিলতা তৈরি হয়। কয়েকজন আগ্রহী ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সময় নির্ধারণের ধরন এমন ছিল যে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসঙ্গতির অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য যে প্রকল্প কার্যালয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রকল্প পরিচালক মাঝে মধ্যে প্রকল্প এলাকায় এলেও স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন না। তবে এ দাবির বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে টেন্ডার নথিতে যোগাযোগের জন্য উল্লেখিত ৯৫৬৭৮৯৪ নম্বরের টেলিফোনটি কার্যকর নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে দরপত্রদাতাদের জন্য কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণের অন্যতম শর্ত। পুরনো অভিযোগের ছায়া প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, প্রশাসনিক অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ভুয়া বিল-ভাউচার, ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মাটি ভরাট কাজের আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, বিসিক কর্তৃপক্ষ কিংবা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তব্য নিতে ব্যর্থতা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, কেবল আইনগত ন্যূনতম সময়সীমা অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়। তাদের মতে, যদি দীর্ঘ সরকারি ছুটি, অকার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সীমিত অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো প্রকৃতপক্ষে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি পর্যালোচনা করা। এখন প্রশ্ন মুন্সীগঞ্জের বিসিক কেমিক্যাল শিল্প পার্ক দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত। ফলে এর প্রতিটি ক্রয় কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ঈদের দীর্ঘ ছুটির মধ্যে টেন্ডার আহ্বান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রকল্পটির সাম্প্রতিক দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—এটি কি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো অনিয়ম রয়েছে? সেই উত্তর খুঁজে বের করার দায়িত্ব এখন শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকি সংস্থাগুলোর।
ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে............... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।