ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: স্বাস্থ্য খাতে সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। এবার বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও মেডিকেল ফার্নিচার কেনার তিনটি দরপত্র ঘিরে কোটি টাকার জালিয়াতি ও যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে দাখিল করা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট (ডিভিসি), ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট/বিআইএন, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি ও এফিডেভিটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু নথি জাল বা ভুয়া, আবার কিছু অন্য প্রতিষ্ঠানের। এসব নথি যাচাই না করেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) রিভিউতে ধরা পড়েছে। রিভিউ প্যানেল-৫ গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক আদেশে সংশ্লিষ্ট নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ), কার্যাদেশ ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে দরপত্রগুলো যথাযথভাবে পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। তবে অভিযোগের গুরুত্বের তুলনায় এখন পর্যন্ত জালিয়াতির উৎস শনাক্ত, মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা নির্ধারণ কিংবা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বাস্থ্য খাতে জনগণের অর্থ ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিন টেন্ডারে কী ঘটেছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নন-ইডিসিএল ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং মেডিকেল ফার্নিচার কেনার উদ্দেশ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রগুলোর আইডি যথাক্রমে ১৩১৯০৯৮, ১৩১৯১০২ ও ১৩১৯১০৪। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তিনটি দরপত্রে মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ‘নন-রেসপনসিভ’ বা শর্ত পূরণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রেসপনসিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের অনুকূলে এনওএ ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দরপত্র মূল্যায়নের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, যুক্তিসংগত সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে প্রাক্কলিত মূল্যের প্রায় ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি কেনাকাটায় সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না; দরপত্রের শর্ত, কারিগরি যোগ্যতা, নথিপত্রের সত্যতা এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসারে মূল্যায়ন করতে হয়। কিন্তু যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি অসত্য নথি গ্রহণ করা হয় এবং অন্য দরদাতাদের অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মুলাদীর তিনটি দরপত্রে ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। ৪১টি শর্ত পূরণের দাবি, কিন্তু যাচাই কোথায়? দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি উঠেছে নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দরপত্রে অংশ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কমিটি ৪১টি শর্তের সব কটিই পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে। অথচ অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় অনলাইন যাচাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিপিপিএর রিভিউ শুনানিতে ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত নথি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিভিউ প্যানেলের কাছে প্রয়োজনীয় ই-জিপি রেকর্ড ও যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্ব শুধু কাগজপত্র জমা নেওয়া নয়; বরং দরদাতার যোগ্যতা ও দাখিল করা নথির সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশেষ করে যেসব নথির সত্যতা অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই না হলে পুরো মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। মুলাদীর ঘটনায় অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ৪১টি শর্ত পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি শর্তের পক্ষে থাকা নথি কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল? যাচাই করা হয়ে থাকলে সেই প্রমাণ রিভিউ প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করা গেল না কেন? এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, যাচাইয়ের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ই-জিপি নথির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন। ডিভিসি থেকে ব্যাংক সলভেন্সি—নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রিভিউ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা অডিট রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। একই সঙ্গে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট বা ডিভিসি নম্বর অনলাইনে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দরপত্রে দাখিল করা কিছু নথি প্রকৃতপক্ষে অন্য প্রতিষ্ঠানের। একটি নথিতে কেডিএফ করপোরেশনের ডিভিসি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ডিভিসি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ডিভিসি কোনো প্রতিষ্ঠানের নথির সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বা নথির সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের ডিভিসি ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তার কারণ, উৎস ও দায় নির্ধারণ করা জরুরি। শুধু ডিভিসি নয়, ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট/বিআইএন, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি ও এফিডেভিটসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগে যেসব নথিকে জাল বা ভুয়া বলা হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই এবং প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার। রিভিউ প্যানেলের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত জালিয়াতি—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনাল: অল্প সময়ের ব্যবসায়িক ইতিহাস, অভিজ্ঞতার দাবি কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের তারিখ ২ জুলাই ২০২৬, টিআইএন নিবন্ধনের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২৬ এবং বিআইএন নিবন্ধনের তারিখ ১৭ মে ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ নথিতে উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। এর আগে টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধনের তথ্য থাকলেও দরপত্রে অংশগ্রহণের সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মেয়াদ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। এখানেই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার শর্ত পূরণের পক্ষে কী ধরনের নথি দাখিল করেছিল? ওই অভিজ্ঞতার সনদ কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ ইস্যু করেছে? সেগুলোর সত্যতা কি সংশ্লিষ্ট উৎস থেকে যাচাই করা হয়েছিল? কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নতুন হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যায় না। তবে দরপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের অভিজ্ঞতা বা পূর্ববর্তী কাজ সম্পাদনের শর্ত থাকলে সেই যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য নথির মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। অতএব, নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানের বয়স নয়; বরং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী তার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছিল কি না এবং মূল্যায়ন কমিটি কীসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে রেসপনসিভ ঘোষণা করেছিল। আপিল চলাকালে কার্যাদেশ, পরে বাতিলের নির্দেশ প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রতিকার না পেয়ে অভিযোগকারী পক্ষ বিপিপিএর রিভিউ প্যানেলে আপিল করে। অভিযোগকারীদের দাবি, আপিলের শুনানি চলার সময়ই ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা ও জনস্বার্থের বিষয়টি সামনে রেখে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে এনওএ ও কার্যাদেশ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও মেডিকেল ফার্নিচার কেনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জনস্বার্থের যুক্তি দেখিয়ে কোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা যেমন বাস্তব, তেমনি সরকারি অর্থে কেনা পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহকারীর যোগ্যতা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার বৈধতাও জনস্বার্থের অংশ। অভিযোগের পর নথি পর্যালোচনা করে বিপিপিএর রিভিউ প্যানেল-৫ গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট এনওএ, কার্যাদেশ ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে দরপত্রগুলো পুনরায় যথাযথভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়। এ আদেশ ক্রয়প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার অর্থই সব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। নথি জালিয়াতি হয়েছে কি না, কে বা কারা এতে জড়িত এবং মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল—সেগুলো পৃথক তদন্তে নির্ধারণ করতে হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য: ‘কেনাকাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে’ এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, “দরপত্র যাচাই প্রক্রিয়া যথাসম্ভব স্বচ্ছভাবে করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরেও ভুল থাকতে পারে।” বিপিপিএর রিভিউ প্যানেল-৫ কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে—এ বিষয়ে তাঁর করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কেনাকাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন চাইলেও সেটি বাদ দেওয়া যাবে না। আমরা বিপিপিএ রিভিউ প্যানেলে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাব।” তাঁর বক্তব্যে ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে রিভিউ প্যানেলের নির্দেশের পর ইতোমধ্যে শুরু হওয়া কেনাকাটার ক্ষেত্রে কী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সরবরাহ করা পণ্য গ্রহণ বা মূল্য পরিশোধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং চুক্তি বাতিলের নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশের পরও ক্রয়প্রক্রিয়া চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে আদেশের পরিধি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে লিখিতভাবে অবস্থান পরিষ্কার করা। ‘অবহেলা, নাকি কাউকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, রিভিউ প্যানেলের কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ভুয়া ডিভিসি, অন্য প্রতিষ্ঠানের নথি, জাল অডিট রিপোর্ট কিংবা অসত্য অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করা হয়ে থাকলে শুধু দরপত্র বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ করা যায় না। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নথির উৎস শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি দরপত্র যাচাই ও মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে। পুরো বিষয়টি নিছক অবহেলা, নাকি কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এই বক্তব্যে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক দিক উঠে এসেছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগে কার্যাদেশ বাতিল করা হলে তা তাৎক্ষণিক প্রতিকার হতে পারে; কিন্তু নথি জালিয়াতির অভিযোগের উৎস ও দায়ীদের শনাক্ত না করা গেলে একই ধরনের অনিয়ম অন্য ক্রয়প্রক্রিয়ায়ও পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যায়। একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম, সিন্ডিকেটের অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্রের বরাতে আরু করপোরেশন, জাজ করপোরেশন ও কেডিএফ করপোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। একই সূত্রে জাজ এন্টারপ্রাইজ, এনএস ট্রেডিং করপোরেশন, আর এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আরএম ট্রেডার্স, পিকেএস ট্রেডার্স, নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনাল, এনএস ট্রেডিং, কেডিএফ ইন্টারন্যাশনাল ও আয়মান করপোরেশনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রটির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং অতীতে একটি প্রভাবশালী টেন্ডার চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম কোনো সূত্রের বক্তব্যে উঠে আসা বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা মানেই মুলাদীর তিনটি দরপত্রে প্রত্যেকটির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়া নয়। কোন প্রতিষ্ঠান কোন দরপত্রে অংশ নিয়েছে, কোন নথি দাখিল করেছে, তাদের মধ্যে মালিকানা বা প্রতিনিধিত্বের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ আছে—এসব পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি দরপত্রের ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন জরুরি: ১. যেসব নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল কি না? ২. ৪১টি শর্ত পূরণের সিদ্ধান্ত কী কী নথি ও যাচাইপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল? ৩. অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য প্রতিষ্ঠানের ডিভিসি বা নথি ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেগুলো দরপত্রে কারা সংযুক্ত করেছে এবং কে বা কারা যাচাই করেছে? ৪. রিভিউ প্যানেলের আদেশের পর এনওএ, কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ৫. মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করা হবে কি না এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? ৬. অভিযোগে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো যোগসাজশ বা সমন্বিতভাবে দরপত্রে অংশ নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু কার্যাদেশ বাতিল নয়, জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি দরপত্র ঘিরে ওঠা অভিযোগ সরকারি কেনাকাটার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিপিপিএর রিভিউ প্যানেলের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট এনওএ, কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল এবং পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য নথির সত্যতা যাচাই, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ অপরিহার্য। এখানে মূল বিষয় কেবল কে কাজ পেয়েছে, তা নয়। বরং যোগ্যতার শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সরকারি অর্থে কেনাকাটার প্রতিযোগিতা কতটা নিশ্চিত হয়েছে এবং অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থে কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রত্যেকের বক্তব্য ও নথি যাচাইয়ের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। মুলাদীর এই ঘটনায় এখন দেখার বিষয়—রিভিউ প্যানেলের নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, অভিযোগে উল্লিখিত নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করে কী পাওয়া যায় এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়।
রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় আলোক হাসপাতালের তিন শাখায় ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন—রোগীদের কাছ থেকে উচ্চমূল্য নেওয়ার অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পাশাপাশি একাধিক ভবন জোড়া দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির আলোক হেলথকেয়ার শাখায় একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবন যুক্ত করে রোগী ও স্বজনদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই এলাকার প্রতিষ্ঠানটির অন্য দুটি শাখা—আলোক হাসপাতাল লিমিটেড এবং আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার—নিয়েও ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে অন্তত দুটি হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের পৃথক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। কয়েকটি স্থানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও দেখা যায়নি। ফলে কোনো ভবনে আগুন বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে বের করে আনা কতটা সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সিজারিয়ান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কেবিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভবনগুলোর সংযুক্তি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অভিযোগগুলো সরেজমিন যাচাই করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিন হাসপাতাল, প্রশ্ন ভবনের কাঠামো নিয়ে গত ৪ ও ৬ অক্টোবর মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেলের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত আলোক হাসপাতালের তিনটি শাখা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো— আলোক হাসপাতাল লিমিটেড আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার আলোক হেলথকেয়ার এর মধ্যে দুটি হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের পৃথক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আলোক হেলথকেয়ারে দুটি ভবন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাওয়ার জন্য নিচতলা ও চতুর্থ তলায় সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি ভবন সাততলা এবং অন্যটি পাঁচতলা। অন্যদিকে আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের ভবনটি নয়তলা এবং আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালটি ১০ তলা ভবনে অবস্থিত। ভবনের এই কাঠামো বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালকর্মীদের নিরাপদে বের হওয়ার পথ কতটা কার্যকর—সেটিই এখন অন্যতম প্রশ্ন। অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায়? ৪ অক্টোবর আলোক হাসপাতাল লিমিটেড ও আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল ঘুরে বিভিন্ন বিষয় চোখে পড়ে। আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের ছাদের এক পাশে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেখান থেকে রোগী ও স্বজনদের খাবার সরবরাহ করা হয়। হাসপাতালের সপ্তম তলায় কেবিন রয়েছে। এর পরের অংশে আইসিইউ, চিকিৎসকদের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। রোগী ওঠানামার জন্য পৃথক র্যাম্প দেখা যায়নি। দুইটি লিফটই রোগী ও স্বজনদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র চোখে পড়েনি। আগুন লাগলে নিচে নামার ক্ষেত্রে খাড়া সিঁড়িই প্রধান ভরসা বলে দেখা গেছে। পৃথক জরুরি বহির্গমন পথও চোখে পড়েনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ড হলে বিশেষ করে আইসিইউ, কেবিন কিংবা শয্যাশায়ী রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া কতটা সম্ভব—সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ১০ তলা ভবনে কেবিন বেশি, শয্যা ১৭ আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালটি ১০ তলা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। দশম তলায় নামাজের কক্ষ ও হিসাব বিভাগ রয়েছে। ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১৭টি। অন্য ফ্লোরগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন কেবিন। রোগীর স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কেবিনে রোগী রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে কেবিনের সংখ্যা ও শয্যার অনুপাতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ‘নকশায় আছে বলেই ভবন জোড়া লাগানো’ অভিযোগের বিষয়ে আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের উপপরিচালক মনির খান বলেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। হয়তো আপনার চোখে তা পড়েনি। আপনি একসময় আসেন। আপনাকে আমি নিজে ঘুরিয়ে দেখাব।’ ভবন দুটি জোড়া লাগানোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘নকশায় আছে বলেই ভবনগুলো একটির সঙ্গে অপরটির জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে।’ হাসপাতালের সেবার মূল্য নিয়ে অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মানের বিষয়টি তুলে ধরেন। মনির খান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। আমাদের প্রতিষ্ঠানও স্কয়ার, আজগর আলীর মানের। এরপরও তুলনায় অন্যদের চেয়ে খরচ আমাদের এখানে কম।’ সিজারিয়ানে ৯০ হাজার টাকা, কেবিনে আরও বাড়তি আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ জানতে কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের যেকোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে সিজারিয়ান করালে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সাধারণ শয্যায় খরচ হবে ৯০ হাজার টাকা। কেবিনে থাকলে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আর রোগী নিজের পছন্দের বিশেষ কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করাতে চাইলে আরও ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় এর বাইরে। অন্যদিকে রাতে একজন সহকর্মী একই হাসপাতালে ফোন করে স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ানের খরচ জানতে চাইলে হাসপাতাল থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়, স্বাভাবিক প্রসবের খরচ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে একদিন হাসপাতালে থাকতে হবে এবং ওষুধপত্রের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। সিজারিয়ানের জন্য ওষুধ ছাড়া ৭০ হাজার টাকা এবং হাসপাতালে দুই থেকে তিন দিন থাকার কথা জানানো হয়। অর্থাৎ একই হাসপাতাল থেকে সিজারিয়ানের খরচ সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে—একবার ৯০ হাজার টাকা এবং অন্যবার ৭০ হাজার টাকা। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতেও দামের পার্থক্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রঙিন আল্ট্রাসনোগ্রাফির খরচ ১ হাজার ২০০ টাকা। একই পরীক্ষার জন্য আলোক ডায়াগনস্টিক ও জেনারেল হাসপাতালে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসি কেবিনের দৈনিক ভাড়া ১ হাজার ৭০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোক হাসপাতালে একই ধরনের কেবিনের ভাড়া ৫ হাজার টাকা। এ বিষয়ে মনির খান বলেন, ‘আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট। আমাদের মানের সঙ্গে আদ্-দ্বীনের তুলনা করলে হবে না।’ সাতটি পরীক্ষায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে রাকিবুল হাসান (৩১) ডেঙ্গু সন্দেহে আলোক হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেন। চিকিৎসক হারুন-উর-রশিদের পরামর্শে তাঁকে সাতটি পরীক্ষা দেওয়া হয়। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ছিল ইউরোফ্লুমেট্রি, র্যানডম গ্লুকোজ, ক্রনিক আনপ্রেডিকটেবল স্ট্রেস র্যান্ডম, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন আর/ই, এক্স-রে কিউইউবি ডিজিটাল ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি। এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ তাঁর কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে কমিশন হিসেবে ৮৭০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে আলোক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ইমরান হোসেনের দাবি, তাঁকে প্রথমে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফি ৩ হাজার টাকা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টাকা রাখা হয়। ‘র্যাম্প আছে’, দেখানো হলো লিফটের পাশের পথ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যানেজার সোহেল দাবি করেন, হাসপাতালে র্যাম্প রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে অবশ্যই র্যাম্প আছে।’ এরপর তিনি লিফটের পূর্ব পাশে একটি র্যাম্প দেখান। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সেটি মূলত লিফট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কেন দেখা যাচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, ‘আমাদের সবই আছে। কিন্তু অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র চুরি হওয়ার কারণে লাগানো হয় না।’ হাসপাতালের বিভিন্ন তথ্য জানতে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে উপপরিচালক মনির খানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের প্রশ্ন হাসপাতালের বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি ১০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা আদায় করছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া ডেলিভারি বা সিজারিয়ানে কোনোভাবেই ৯০ হাজার টাকা বিল হতে পারে না।’ তাঁর মতে, রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, একটি স্বাভাবিক প্রসবে ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার সুযোগ নেই। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে চিকিৎসক ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, কেবিন, হাসপাতালের অবস্থান, অবকাঠামো ও অন্যান্য সেবার পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা আলোক হাসপাতালের এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে আগে আরও একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেও অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোক হাসপাতাল নিয়ে আরও একজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করেছিলেন। সেখানে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা আমি সরেজমিন পরিদর্শন করব। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শনেই অভিযোগগুলোর বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা। ফায়ার সেফটি নিয়ে আইনি জটিলতার কথাও বলছে ফায়ার সার্ভিস আলোক হাসপাতালে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, রাজধানীর বিপুলসংখ্যক ভবনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো না কোনো অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং ফায়ার আইনের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফায়ার আইনে সাত তলার ওপরে ভবন হলে ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিল্ডিং কোডে ১০ তলার ওপরে হলে সেফটি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। রোগীর নিরাপত্তা কার কাছে? একাধিক ভবন জোড়া দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি বহির্গমন পথের অনুপস্থিতি, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সরেজমিনে না দেখা যাওয়া, র্যাম্প নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে আলোক হাসপাতালের তিনটি শাখার অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভবনগুলো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত ও সংযুক্ত। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই মূল প্রশ্ন এখন একটাই—কাগজে-কলমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার দাবি আর বাস্তবে রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো—দুটির মধ্যে মিল কতটা? বিশেষ করে হাসপাতালের মতো স্থাপনায়, যেখানে অনেক রোগী নিজেরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেন না, সেখানে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বহির্গমন, কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা এবং নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত—তার উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পরই এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের কর্মচারীরা।বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পদায়ন ঘিরে কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাচিপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকার কারণে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে যা ঘটেছে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।পরে তারা ঘোষণা দেন, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শতাধিক রোগীর চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে। হাসপাতালটি থেকে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের স্থানান্তর নিজেই একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাজধানীর ছয়টি সরকারি হাসপাতালে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন হাসপাতালগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের নিম্নোক্ত সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে— ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অধিদপ্তর বলছে, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের পর শুরু রোগী স্থানান্তর গত বৃহস্পতিবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে হাসপাতালটিকে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। এর পরপরই হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে বর্তমানে ২৪৩ জনে নেমে এসেছে। তবে সংখ্যার এই পরিবর্তনের আড়ালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে নিবিড় পরিচর্যায় থাকা রোগীদের নিরাপত্তা। সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে— ৫০ জন নবজাতক এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগী আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন রোগী এমন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের চিকিৎসা স্থানান্তরের সময় বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক দল এবং উন্নত লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে জটিল চিকিৎসার সুযোগ ছিল। অন্য হাসপাতালে একই ধরনের সেবা পাওয়া গেলেও ব্যয়, শয্যা সংকট এবং দ্রুত ভর্তি নিশ্চিত করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ: সহায়তা কোথায়? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেও শুক্রবার হাসপাতালে অধিদপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের আশঙ্কা, সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তরের সময় সমন্বয়হীনতা তৈরি হলে তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন এদিকে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোগীদের জীবনরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য তিন মাস সময় চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে একই সঙ্গে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মৃত্যুর ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? বিকল্প হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা ও চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে কি? নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
শীর্ষনিউজ: আওয়ামী আমলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। সে সময়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইন্স হাউজের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭৬ কোটি টাকার আরেকটি কাজ এই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ছক সাজিয়েছিল একই দুর্নীতিবাজ চক্র। তবে কারসাজি করে সাইন্স হাউজকে কাজ দেওয়া হচ্ছেÑ এমন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সেই দরপত্র বাতিল করা হয়। একই লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য বিএনপি আমলে এবার বাতিল হওয়া সেই দরপত্রের একই কারসাজিতে আবারও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রয় তালিকায় একই লটে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে টেলিভিশন, ঘড়িসহ ৭০৩ ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পণ্য একত্রে রাখার কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে নিম্নমানের স্পেসিফিকেশন, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেল উল্লেখ, মাত্র দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বদলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্তের কথা বলা হয়। এই পটভূমিতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর দরপত্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ নতুন আহ্বান করা দরপত্রে আগের একই ধরনের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মাসের ৬ এপ্রিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। এতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। দরপত্রে নেই গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত দরপত্রের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই লটে তালিকায় সিসিইউ বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, হিমোডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া যন্ত্র, এক্স-রে ইউনিটের পাশাপাশি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জেনারেটর, এমনকি টেলিভিশন ও ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বৈচিত্র্যময় পণ্য এক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে কোনো একক প্রতিষ্ঠান সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া দরপত্রে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত নেই। ভারী ও সংবেদনশীল চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যেখানে সাধারণত পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি চাওয়া হয়, সেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দুই বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত না থাকলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সরবরাহ ও স্থাপনের পরপরই ওয়ারেন্টি কার্যকর হওয়ায় দক্ষ জনবল না থাকলে অনেক যন্ত্র ব্যবহার না করেই ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, দরপত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, মডেল, উৎপত্তিস্থল ও কোড উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত হয়। দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে পরীক্ষিত উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে কম পরিচিত ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক কেন, তা স্পষ্ট নয়। ‘পিপিআর’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ হাসপাতালের কারিগরি কমিটির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির অদক্ষতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার পথ সুগম হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুর শুভ বলেন, এক লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য কেনা পিপিআরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাতিল হওয়ার পর নতুন করে বিধি মেনে দরপত্র আহ্বান করা উচিত। এর আগে ব্লাড ব্যাংক ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি কেনায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ৯টি দরপত্র আহবান করা হয়। সব কাজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে পরে অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষা আপত্তি ও দুর্নীতির মামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের পরামর্শ, প্রয়োজনভিত্তিক আলাদা লটে বিভাজন করে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা না হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। প্রকল্প পরিচালক এস এম কবির হোসেন বলেন, দরপত্র আহবান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। বাতিল হওয়া দরপত্রের শর্তেই কেন নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলো- জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতালটিকে জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ চক্র পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে আওয়ামী সরকারের আমলে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। নানা রকমের অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৯টি প্যাকেজেরই কার্যাদেশ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঠিকাদার বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজকে। কিন্তু দুই বছর আগে বিল পরিশোধ করলেও সেইসব মালামাল এখনো পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাতে ইউরোপ-আমেরিকার স্টিকার ও সিল ব্যবহার করেছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই একই ঠিকাদারকে আবারও ৭৬ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের শুরুতেই ভয়াবহ রকমের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। পিপিআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়। টেন্ডারের এসব গুরুতর অনিয়মকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিবাজচক্রের তৎপরতা থামেনি। এর কারণ হলো, তদন্তের পরে টেন্ডার বাতিল হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রত্যেকেই বহাল-তবিয়তে রয়ে গেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গত কয়েক সপ্তাহে দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী, প্রায় ৫ হাজার নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ১৬ জনের মৃত্যু—এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, এটি একটি দ্রুত বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। প্রশ্ন হচ্ছে—যে রোগ প্রতিরোধযোগ্য, সেটি কেন আবার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে? সংক্রমণের বিস্তার: নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে কি পরিস্থিতি? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: সংক্রমণ আর কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু জেলা হিসেবে টাঙ্গাইল শীর্ষে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহেও দ্রুত বিস্তার এটি স্পষ্ট করে যে, সংক্রমণ এখন “লোকালাইজড আউটব্রেক” নয়, বরং “কমিউনিটি ট্রান্সমিশন”-এর দিকে এগোচ্ছে। হাসপাতাল ব্যবস্থায় চাপ: ভেতরের চিত্র কী বলছে? গত সময়ে: নতুন ভর্তি: ৮২৬ জন ছাড়পত্র: ২,৬৫৪ জন সংখ্যা দেখলে মনে হতে পারে রোগী কমছে, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে বাস্তবতা ভিন্ন: শিশুদের মধ্যে জটিলতা বেশি আইসিইউতে নিতে হচ্ছে অনেককে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ বাড়ছে অর্থাৎ, রোগের তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠছে। কেন বাড়ছে জটিলতা? বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে: হাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় ফলে সেকেন্ডারি ইনফেকশন (নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস) দ্রুত হয় একজন চিকিৎসকের ভাষায়: “অনেক পরিবার এখনো হামকে সাধারণ জ্বর-ফুসকুড়ি মনে করে, চিকিৎসা নিতে দেরি করে—এটাই মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।” মূল সমস্যা: টিকাদান ব্যবস্থার ফাঁকফোকর? অনুসন্ধানে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ: ১. অপূর্ণ টিকাদান কাভারেজ অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পায় না শহরের বস্তি ও গ্রামীণ অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি ২. ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল ধারণা কিছু পরিবার টিকা নিতে অনাগ্রহী সামাজিক গুজব ও ভুল তথ্য বড় ভূমিকা রাখছে ৩. পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ দুর্বল স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রিপোর্টিং বিলম্বিত ঢাকায় বেশি মৃত্যু—কেন? রাজধানীতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নত হলেও: অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেরিতে হাসপাতালে আসা জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় দ্রুত সংক্রমণ ফলে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। বাস্তবতা কি আরও ভয়াবহ? প্রতিবেদনে আগে ৯ জন মৃত্যু বলা হলেও পরে তা ১৬-তে উন্নীত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে: ডাটা আপডেটে বিলম্ব বাস্তব পরিস্থিতি হয়তো আরও গুরুতর ঝুঁকিতে কারা সবচেয়ে বেশি? ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশু অপুষ্টিতে ভোগা শিশু যাদের টিকা সম্পূর্ণ হয়নি এখনই কী করা জরুরি? ✔️ জরুরি পদক্ষেপ: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন গণসচেতনতা বাড়ানো ✔️ দীর্ঘমেয়াদি: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল নজরদারি কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ানো ভ্যাকসিন বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা সতর্ক না হলে কী হতে পারে? হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ—তবুও এটি যদি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি শুধু ভাইরাসের শক্তি নয়, বরং আমাদের সিস্টেমের দুর্বলতার প্রতিফলন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আমরা কি এটিকে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে দেব, নাকি এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেব?
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের হামের উপসর্গ ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নতুন করে ৬৮৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৮৫ জন, যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২৬ জন। এদিকে, নতুন করে চারজনের মৃত্যুর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, এই সময়ে মোট ২ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৩০ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।