Brand logo light

ঢাকা

ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাত দিনের টানা সরকারি ছুটির পর আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘোষিত দীর্ঘ ছুটির শেষ দিন রবিবার (৩১ মে)। সোমবার থেকে খুলছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের পুঁজিবাজার। এরই মধ্যে রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পান। ছুটি শেষে এখন প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পুনরায় সচল হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশ। রাজধানীতে ফিরতি যাত্রা, তবে এখনো নেই বড় চাপ ছুটির শেষ দিনে ঢাকার প্রধান প্রবেশপথ এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে কর্মজীবী মানুষের ফেরার চিত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেনে করে রাজধানীতে ফিরছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য কর্মজীবী মানুষ। রেলস্টেশন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে একের পর এক ট্রেন ঢাকায় পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভিড় বা যাত্রীচাপের দৃশ্য চোখে পড়েনি। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, এবারের ফিরতি যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বেশিরভাগ ট্রেন সময়সূচি মেনেই চলাচল করেছে। তবে সব রুটে পরিস্থিতি এক ছিল না। নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের কিছু ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, একক রেললাইনে একাধিক ট্রেনের ক্রসিংয়ের কারণে এই বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। ৬৬টি ট্রেনে ফিরছে যাত্রী রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন। ঈদ-পরবর্তী যাত্রীচাপ সামাল দিতে সোমবার থেকে নিয়মিত ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি প্রতিদিন একটি করে ঈদ স্পেশাল ট্রেনও যুক্ত হবে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রা সাধারণত ঈদের আগের যাত্রার তুলনায় বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হয়। ফলে চাপও তুলনামূলক কম থাকে। সড়কপথেও বাড়ছে রাজধানীমুখী চাপ শুধু রেলপথ নয়, সড়কপথেও রাজধানীতে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছে। নবাবগঞ্জের দোহার থেকে ঢাকায় ফেরা সুমন চৌধুরী বলেন, ছুটির শেষ দিন হওয়ায় তিনি সকালেই রওনা দিয়েছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের যাত্রীচাপ এবং সম্ভাব্য পরিবহন সংকট এড়ানো যায়। পাশাপাশি ঢাকায় ফিরে কিছু ব্যক্তিগত কাজও সেরে নিতে চান তিনি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় ফিরছেন রাজন চক্রবর্তী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল এবং বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি। তবে রাজধানীতে প্রবেশের মুখে কিছু যানজটের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। খুলছে ব্যাংক, ফিরছে পুঁজিবাজার দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমিত আকারে পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রমও সোমবার থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে। দেশের সব ব্যাংক স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরবে। একই সঙ্গে পুনরায় চালু হবে দেশের দুই প্রধান পুঁজিবাজার— ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এর নিয়মিত লেনদেন। ব্যবসায়ী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ছুটির পর ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সচল হওয়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আবারও স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনবে। প্রথম কর্মদিবসে কেমন থাকবে কর্মব্যস্ততা? যদিও সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব অফিস খুলছে, তবুও প্রথম কর্মদিবসে পূর্ণ কর্মব্যস্ততা ফিরে নাও আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অনেক কর্মী সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ব্যক্তিগত কাজের কারণে ব্যস্ত থাকেন। অনেক প্রতিষ্ঠানও প্রথম দিন সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে শুরু করলে রাজধানীসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে। ঈদুল আজহার দীর্ঘ সাত দিনের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ট্রেন ও বাসে ফিরতি যাত্রা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকলেও কিছু রুটে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খুলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আবারও পূর্ণ গতিতে সচল হতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে গরুর মাংস।
“আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই”— কোরবানির দিনে পরিবার ছেড়ে ঢাকায় শত মানুষের জীবিকার যুদ্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কোরবানির ঈদ মানেই পরিবার, আনন্দ আর উৎসব— বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এমনই পরিচিত এক বাস্তবতা। কিন্তু রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে ঈদের দিন দেখা মেলে ভিন্ন এক বাংলাদেশের; যেখানে উৎসবের চেয়ে জীবিকা বড়, আনন্দের চেয়ে প্রয়োজনের মূল্য বেশি। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ ঢাকায় এসেছেন শুধুমাত্র বাড়তি আয়ের আশায়। কেউ মৌসুমি কসাই, কেউ পশু ব্যবসায়ী, কেউ আবার সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগান। তাদের অনেকের কাছেই ঈদ মানে পরিবার থেকে দূরে কাটানো আরেকটি কর্মদিবস। “অভাবী মানুষ, সংসারের জন্যই তো আমার ঈদ” পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাসিন্দা ১৩ বছর ধরে কোরবানির ঈদের সময় ঢাকায় আসেন আইয়ুব হোসেন। মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করেন, পাশাপাশি সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করেন সড়কের পাশে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় তার সঙ্গে কথা হয়। সামনে সাজানো গরুর মাংস দেখিয়ে তিনি ক্রেতাদের ডাকছিলেন— “স্যার, মাত্র তিনশ টাকা কেজি।” ঈদের দিন পরিবার ছেড়ে ঢাকায় থাকার কারণ জানতে চাইলে আঞ্চলিক ভাষায় একটি গানের লাইন শোনান তিনি— “অভাবে স্বভাব নষ্ট, ভজনে কূল নষ্ট, বাড়ি নষ্ট বুড়ির কারণে।” এর ব্যাখ্যায় আইয়ুব বলেন, “অভাবী মানুষ। কষ্টের মধ্যে চলে আসছি। সংসার আছে, বৌ-বাচ্চা আছে। তাদের জন্যই তো আমার ঈদ।” তার ভাষায়, ঈদের পর পরিবারের মুখে হাসি দেখাটাই আসল আনন্দ। “আমার মতো অনেকেই ঈদের দিন অন্যের কোরবানির গরুর মাংস তৈরি করে বাড়তি টাকা আয় করেন। ঈদের পর বৌ-বাচ্চা নিয়ে আনন্দ বেশি হয়।” “আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই” ৬৪ বছর বয়সী চাঁদ আলীর গল্প আরও দীর্ঘ। কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ি এলাকার এই বাসিন্দা গত চার দশক ধরে কোরবানির ঈদের দিন কাটাচ্ছেন ঢাকায়। এবারও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পাঁচটি গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করেছেন তিনি। চাঁদ আলী বলেন, “জীবনের ৪০ বছর কোরবানির ঈদ কখনও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে করতে পারিনি। অভাবের সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করতেই বছর চলে যায়।” তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন প্রায় সমবয়সী। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখনও এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষা করেন ঈদের পরদিনের জন্য। ঈদের দিন বাড়িতে থাকতে না পারার আক্ষেপ আছে কি না— এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ নীরব থেকে চাঁদ আলী বলেন, “প্রথম দিকে খুব খারাপ লাগতো। এখন আর লাগে না। আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই।” ঈদের দিনও রাজধানীতে শ্রমের বাজার শুধু আইয়ুব বা চাঁদ আলী নন— কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৈরি হয় এক অস্থায়ী শ্রমবাজার। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় আসেন কয়েক দিনের কাজের আশায়। পঞ্চগড়ের শাহীন ও নূন হোসেন জানান, প্রতি বছরই তারা ঈদের সময় ঢাকায় থাকেন। কারণ একটাই— বাড়তি আয়। অন্যদিকে শরিয়তপুরের ছাগল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মাঝি বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে কোরবানির ঈদ পরিবারের সঙ্গে করিনি। আগে খুব খারাপ লাগতো। এখন মনে হয় লাভ বেশি হলেই আনন্দ।” ঢাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে ছাগলের সঙ্গেই রাত কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ঈদের কয়েকদিন তাদের জীবন পুরোপুরি রাস্তাকেন্দ্রিক হয়ে যায়। ২৫০ টাকার মাংসের বাজার ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠে কমদামের মাংসের অস্থায়ী বাজার। নারী ও শিশুরা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। এসব মাংসের ক্রেতাদের বড় অংশ নিম্নমধ্যবিত্ত ও স্বল্পআয়ের মানুষ। অনেকে হোটেল ব্যবসার জন্যও কিনে নেন। একজন ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভালো মাংস পেলে কিনবো। বাজারের দামের চেয়ে অনেক কম।” একই এলাকায় কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী সরাসরি গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছিলেন। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। মোহাম্মদী হাউজিং এলাকায় ভ্যানে মাংস বিক্রি করছিলেন আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “যারা কোরবানি দিতে পারেন না, তাদের জন্য মাংস বিক্রি করি। যা আয় হয়, সেটা ঈদের সময় সংসারে কাজে লাগে।” তবে এবার লাভ কম হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন গরুর উচ্চমূল্য। ঈদের অন্তরালের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক চক্রও। পশু পরিবহন, কসাই, মাংস বিক্রি, পশুখাদ্য, চামড়া ও অস্থায়ী শ্রমবাজার— সব মিলিয়ে কয়েক দিনের জন্য তৈরি হয় বিপুল নগদ অর্থপ্রবাহ। কিন্তু এই অর্থনীতির সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা মানুষগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের কাছে ঈদ আনন্দের নয়, বরং বেঁচে থাকার একটি মৌসুমি সুযোগ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে— যখন অনেক পরিবার কোরবানির মাংস ভাগাভাগি ও উৎসবে ব্যস্ত, তখন অন্য একদল মানুষ একই দিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, মাংস কাটছেন, কিংবা পরদিনের খাবারের টাকা জোগাড়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কোরবানির ঈদের এই বিপরীত বাস্তবতা যেন বাংলাদেশের সামাজিক বৈষম্যেরও এক নীরব প্রতিচ্ছবি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন
ত্যাগ, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় আবহে ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত ঈদুল আযহা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ত্যাগের চেতনায় উদযাপিত হয়েছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। কুরবানির আদর্শকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ইসলামের ইতিহাসে আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও মানবিক বণ্টনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ঈদুল আযহা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে আসছে। এবারের ঈদেও সেই চিত্র ছিল স্পষ্ট। ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন এবং একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় দেশের প্রধান ঈদ জামাত। জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং সর্বস্তরের মুসল্লিরা। জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। বায়তুল মোকাররমে পাঁচ দফা জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। মুসল্লিদের চাপ সামাল দিতে পর্যায়ক্রমে আরও চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ঈদের জামাত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাত। এতে অংশ নেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূইয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মুসল্লিরা। নামাজের আগে ডেপুটি স্পিকার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করেন। নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়। জামাত শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পেশ ইমাম ক্বারি আবু রায়হান। কুরবানিতে ব্যস্ত নগরজীবন ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় পশু কুরবানির প্রস্তুতি। বাড়ির সামনের রাস্তা, গ্যারেজ কিংবা খোলা জায়গায় পশু জবাই করতে দেখা যায় নগরবাসীকে। অনেক এলাকায় প্রতিবেশীরা সম্মিলিতভাবে কুরবানি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পশু জবাইয়ে সহযোগিতা করেন। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি দৃশ্যমান চিত্র ফুটে ওঠে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কুরবানির মাংসের এক-তৃতীয়াংশ গরিব ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ, এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজনদের দেওয়া এবং বাকি অংশ নিজেদের জন্য রাখার প্রচলন রয়েছে। বিশেষ আয়োজন ও সম্প্রচার ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও পরবর্তী দুই দিন—শনিবার আসর পর্যন্ত কুরবানি করার সুযোগ রয়েছে। সৌদি আরব ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট স্থানীয় হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী সৌদি আরবে বুধবার ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। এদিন হাজিরা মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে পশু কুরবানিসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার কিছু গ্রামেও বুধবার ঈদ উদযাপিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্থানীয় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে পৃথক দিনে ঈদুল আযহা পালিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
ওসি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদের অভিযোগ
পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, টঙ্গী-ভালুকা-ত্রিশাল ঘিরে নতুন আলোচনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন কামাল হোসেন। তবে দীর্ঘ চাকরি জীবনের শেষভাগে এসে তাকে ঘিরে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র, ব্যবসায়ী মহল এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া কামাল হোসেন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানাকে ঘিরে অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৫ সালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কামাল হোসেনের প্রভাব বিস্তার শুরু হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সে সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। এই রাজনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গাজীপুরের কয়েকজন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যৌথ ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ্যে আসেনি, স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, কামাল হোসেনের স্ত্রী উম্মে রোমান বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এছাড়া তার ছোট ভাই ময়নুল ইসলামের নামেও একাধিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী, ঢাকা, গাজীপুর ও শেরপুরে তাদের পরিবারের নামে ও বেনামে বাড়ি, জমি, মাছের খামার, রিসোর্ট, সঞ্চয়পত্র এবং দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে যাতে সরাসরি মালিকানা আড়ালে রাখা যায়। তবে এসব সম্পদের সুনির্দিষ্ট আর্থিক হিসাব কিংবা সরকারি অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। ভালুকা ও ত্রিশালে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন ২০১৯ সালের পর টঙ্গী থেকে বদলি হয়ে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের ভালুকা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন কামাল হোসেন। পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে ত্রিশাল থানায় স্থানান্তর করা হয়। সে সময় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পরও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার বা বদলি না করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে স্থানীয় মহলে। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় সম্পদের বিষয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সম্পদের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আসতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটে ওসি কামাল হোসেনের সম্পদ নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চাকরি জীবনে অর্জিত সম্পদের সঙ্গে তার ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন বা তার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন
গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়ম, অবৈধ পদোন্নতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ জন প্রকৌশলী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব কর্মকর্তা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা সরকারি চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধি ভেঙে পদোন্নতির অভিযোগ সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগদানকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির সুযোগ পেলেও ষষ্ঠ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পঞ্চম গ্রেড) পদে উন্নীত হন। বিধি অনুযায়ী তাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে বসানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম এবং শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রিটকারী ১৭ কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের পদোন্নতি বিধিসম্মত নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।” ‘চাকরি না করেই’ সরকারি অর্থ উত্তোলন দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় চাকরিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। একজন দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন প্রশাসনিক ও ফৌজদারি—দুই দিক থেকেই তদন্তযোগ্য বিষয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।” জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন অভিযোগ অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেও উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে ঢাকায় সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকায় সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) থেকে দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছেন। তদন্তের দাবি ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
আজ পবিত্র ঈদুল আযহা
ঈদুল আযহার জামাত ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রস্তুতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহর ও ঐতিহাসিক ঈদগাহগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টি ও বিপুল মুসল্লির সমাগম বিবেচনায় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিকল্প জামাত এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এবারের আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বিকল্প প্রধান জামাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুই দফায় জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে। এছাড়া বিভিন্ন হল মসজিদ ও মাঠেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গুলশান এলাকার মসজিদগুলোতেও একাধিক জামাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৯টা ৩০ মিনিটে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে শতাধিক ঈদগাহ এবং দেড় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিকল্প আয়োজন রাখা হয়েছে। কোথাও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ, কোথাও রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পলিথিন, আবার কোথাও নির্ধারণ করা হয়েছে বিকল্প মসজিদ। চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পুরো ঈদগাহ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে বিকল্প হিসেবে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রস্তুত রয়েছে। রাজশাহীতেও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি হলে শাহ মখদুম দরগা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় আয়োজন করা হবে। দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানেও বৃষ্টির কথা বিবেচনায় নিচু স্থানে বালু ভরাট এবং পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদ জামাত। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু—যেমন ছাতা, ব্যাগ বা লাঠি—নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি ও ৫৫ জন র‍্যাব সদস্য। এছাড়া বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৭টি আর্চওয়ে গেট, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর এবং ৩২টি চেকপোস্ট। পুরো এলাকাকে ভাগ করা হয়েছে আটটি নিরাপত্তা সেক্টরে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’। সিলেট, খুলনা ও বরিশালে প্রস্তুতি সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকল্প হিসেবে দরগাহ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। খুলনায় সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে টাউন জামে মসজিদে আয়োজন করা হবে বিকল্প জামাত। বরিশালে প্রায় ৩৫০টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও সদর রোডের বায়তুল মোকাররম মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরমোনাই, গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ছারছীনা দরবার শরীফেও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও নজরদারিতে গুরুত্ব বিভিন্ন ঈদগাহে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র, পানির ব্যবস্থা, অজুখানা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বরিশালে র‍্যাব-৮ জানিয়েছে, প্রবেশপথগুলোতে স্ক্রিনিং গেট থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করা হবে। শোলাকিয়ায় চিকিৎসক, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট ও পানির ভ্যান স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের চেষ্টা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া ও নিরাপত্তা—দুই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এবারের ঈদ জামাত আয়োজন করা হচ্ছে। দেশজুড়ে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. খুরশীদ আলম
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এবার প্রতিষ্ঠানটিরই এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, কেনাকাটায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. খুরশীদ আলম, যিনি ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি তদন্ত প্রতিবেদন, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেনাকাটা ও সংস্কারকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রকৃত অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। খণ্ড-খণ্ড কাজ দেখিয়ে অনুমোদন এড়ানোর অভিযোগ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কারকাজকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা হয়, যাতে তা মহাব্যবস্থাপকের অনুমোদনসীমার মধ্যে থাকে। এর ফলে উন্মুক্ত দরপত্র এবং প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী কোনো প্রকল্পকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে খণ্ডিত করা বেআইনি হলেও খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ঠিক সেই কৌশল অনুসরণের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে দেখা গেছে, নির্মাণ ও সংস্কারকাজে ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৭৪১ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও এর মধ্যে সরাসরি অন্তত ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রায় ৫০ লাখ টাকার আসবাবপত্র কেনার বিল দেখানো হলেও বাস্তবে কেনা হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকার পণ্য। বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, তদন্তের আওতার বাইরে থাকা আরও প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজেও অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত, ওএসডি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর খুরশীদ আলমকে ওএসডি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়। পরে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম তদন্তে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর প্রধান কার্যালয়ের এক নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফা তদন্ত পরিচালিত হয়। দুটি তদন্তেই প্রায় একই ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান জোদ্দারকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে খুরশীদ আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। লিখিত ও মৌখিক জবাব দেওয়ার সময়সীমা ছিল গত ১২ এপ্রিল। তবে তিনি সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। মেয়ের সফরের খরচও ব্যাংকের তহবিল থেকে! তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে ব্যক্তিগত কাজে সরকারি তহবিল ব্যবহারের অভিযোগ। দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম তার মেয়েসহ ৪০ থেকে ৪৫ জন বন্ধুর রংপুর সফরের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিআইপি গেস্ট হাউসে থাকার ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের আপ্যায়ন বাবদ প্রায় ৩৩ হাজার টাকার বিলও বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অর্থ তার কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশও করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রংপুর অফিসে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের বিভিন্ন বিল উত্তোলনের দিনগুলোতেই তাদের হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ জমা হতো। তথ্য অনুযায়ী, খুরশীদ আলমের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল শাখার হিসাবে প্রায় ৯০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী আফরোজা আক্তারের হিসাবে প্রায় ২৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব লেনদেনের উৎস ও সময়কাল নিয়ে আরও বিশদ অনুসন্ধান প্রয়োজন। টেনিস কোর্ট নির্মাণ, ভ্যাট আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে রংপুর অফিসের একাধিক প্রকল্পে ব্যয় অতিরঞ্জন, নিম্নমানের কাজ এবং বাস্তবে কাজ না করেও বিল উত্তোলনের তথ্য উঠে এসেছে। রংপুর অফিসের গেট সংস্কার, গাড়ি পার্কিং এলাকা নির্মাণ এবং ভিআইপি গেস্ট হাউস সংস্কারের মতো প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি ঘটনায় গাড়ি পার্কিং নির্মাণের নামে প্রকৃতপক্ষে টেনিস কোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার পরিবর্তে ভ্যাটের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অস্বীকার খুরশীদ আলমের তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুরশীদ আলম। তার দাবি, জরুরি প্রয়োজনের কারণে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে নিয়মের কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, “এসব কাজের জন্য প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিতে দীর্ঘ সময় লাগত। তাই নিজের ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কাজ করেছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজন নির্বাহী পরিচালকের ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তিনি প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেবেন বলেও জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে অস্বস্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ বিরল। তাদের ভাষ্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, “রংপুর অফিসে দায়িত্বকালীন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
পদ্মায় ট্রলারডুবে ২৩ গরুসহ খামারি নিখোঁজ
পদ্মা সেতুর কাছে গরুবাহী ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ঝড় ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীতে কোরবানির পশুবাহী একটি ট্রলার ডুবে একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। একই ঘটনায় অন্তত ২৩টি কোরবানির গরুও নদীতে হারিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পদ্মা সেতু-এর ১৫ নম্বর পিলারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তি আইয়ুব আলী (৪৫), তিনি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সালিপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র বলছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে ১৫ জন গরু ব্যবসায়ী ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ঝড়ের মধ্যে ট্রলারডুবি লৌহজং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুপুর আড়াইটার দিকে পদ্মা নদীতে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বৈরী আবহাওয়া তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গরুবাহী ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ১৪ জন ব্যবসায়ী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পাঁচটি গরুও জীবিত উদ্ধার করা গেছে। তবে একজন ব্যবসায়ী ও ২৩টি গরু এখনও নিখোঁজ রয়েছে। মাওয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা বলছেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান এখনও শনাক্ত করা যায়নি। নদীর তীব্র স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। কোরবানির মৌসুমে নৌপথে পশু পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পশু নদীপথে পরিবহন করা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খরচ কম হওয়ায় অনেকেই ট্রলার বা ছোট নৌযানে পশু পরিবহন করেন। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, অতিরিক্ত বোঝাই এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব প্রায়ই বড় ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথে পশুবাহী ট্রলার চলাচলে কার্যকর তদারকি খুব কম দেখা যায়। বিশেষ করে ঝড়ো আবহাওয়ার সময়েও অনেক নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকে। নৌনিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমি পশু পরিবহনে নিবন্ধনবিহীন বা অপ্রস্তুত ট্রলার ব্যবহারের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ নৌযানে লাইফ জ্যাকেট বা জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম থাকে না। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যবসায়ী এবং ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। পদ্মা নদীতে সাম্প্রতিক সময়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌযান চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নির্দেশনা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
দৈনিক জনকণ্ঠ
দৈনিক জনকণ্ঠে টার্মিনেশন ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ ৪০ কর্মচারীর অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো সংবাদপত্র দৈনিক জনকণ্ঠে চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক অব্যাহতি কার্যক্রম দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে অব্যাহতি পাওয়া একাংশ কর্মচারীর প্রতিবাদ, ভবনে প্রবেশচেষ্টা এবং সংঘর্ষের অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যেসব সাংবাদিক ও কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে বকেয়া বেতন, উৎসব বোনাস এবং টার্মিনেশন বেনিফিট হিসেবে ১২০ দিনের বেসিক বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ ও অব্যাহতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত। কিন্তু সব পাওনা বুঝে নেওয়ার পরও অব্যাহতি পাওয়া কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে জনকণ্ঠ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক ভবনের ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ঘটনার সময় ভবনের হেড অফিসে কর্মরত প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভবনের ভেতরে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। এ সময় অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের বেতন, বোনাস ও টার্মিনেশন বেনিফিট সংক্রান্ত নথিপত্রও যাচাই করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরে অবরুদ্ধ কর্মচারীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। অন্যদিকে, একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি—এমন প্রচারণাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে এবং এর প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এ ঘটনার বিপরীতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মচারীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাওয়া জনকণ্ঠ এখন এক ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই অস্থিরতার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির আশা, সব সংকট কাটিয়ে তারা আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পেশাদার সাংবাদিকতার ধারায় ফিরতে পারবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
কোরবানির ঈদে জমে উঠেছে কামারপাড়া: ছুরি-দা বিক্রিতে রাতভর ব্যস্ত কারিগররা

ঈদের আগে আগুন, ঘাম আর হাতুড়ির শব্দে জেগে ওঠে ঢাকার কামারপাড়া ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কারওয়ানবাজার ও খিলগাঁওয়ের কামারপট্টিতে এখন যেন সময় চলে অন্য ছন্দে। আগুনের ভাটিতে লোহা গরম হচ্ছে, হাতুড়ির আঘাতে আকার নিচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি আর বটি। কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। বছরের অন্য সময় যেসব দোকানে কাজ চলে ধীরগতিতে, ঈদুল আজহার আগে সেখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থামে না কাজ। ছোট ছোট টিনশেড বা আধাপাকা দোকানের ভেতরে একসঙ্গে কাজ করছেন কয়েকজন কারিগর। কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ ধার দিচ্ছেন, কেউ আবার শেষ মুহূর্তের পালিশে ব্যস্ত। কারওয়ানবাজারের এক কামার, বিশ্বজিৎ, ঘামে ভেজা শরীরে হাতুড়ি চালাতে চালাতে বলেন, “ঈদের আগে প্রায় এক মাস আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সকাল ৮টা থেকে অনেক সময় রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এখন প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০টা ছুরি ও দা বিক্রি হচ্ছে।” দেশীয় কারিগর বনাম কারখানার পণ্য কামারদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগেও হাতে তৈরি দেশীয় ছুরির চাহিদা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এখন বাজারে চীনা ও স্টিল কারখানায় তৈরি রেডিমেড পণ্যের আধিপত্য বেড়েছে। তবুও কিছু ক্রেতা এখনো দেশীয় কারিগরদের ওপর আস্থা রাখেন। বিশ্বজিৎ বলেন, “আমাদের তৈরি জিনিস টেকসই হয়। একবার কিনলে কয়েক বছর ব্যবহার করা যায়।” কারওয়ানবাজারের আরেক কামার জামাল জানান, এবারের মৌসুমে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। “লোহার দাম, কয়লার দাম, শ্রমিকের মজুরি—সবই বেড়েছে। তারপরও খুব বেশি দাম বাড়াইনি। কারণ মানুষ এখন হিসাব করে খরচ করছে।” তার দোকানে ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে, আর বড় ও উন্নত মানের ছুরির দাম উঠছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বড় দা বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায়। শেষ মুহূর্তের ভিড় ও বাড়তি চাপ খিলগাঁওয়ের কামার রহিম উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে শুধু নতুন ছুরি বিক্রি নয়, পুরোনো দা ও চাপাতি ধার দেওয়ার কাজও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। “অনেক মানুষ নতুন না কিনে পুরোনো জিনিস ঠিক করেই ব্যবহার করতে চান। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ধার করাতে আসছেন।” তার ভাষায়, ঈদের আগের দিনগুলোতে দোকানে এত ভিড় হয় যে অনেক সময় বিশ্রামের সুযোগও থাকে না। “অনেকে শেষ মুহূর্তে এসে তাড়া দেন। তখন রাত জেগেও কাজ করতে হয়।” বাড়ছে খরচ, তবুও দেশীয় পণ্যে ভরসা কারওয়ানবাজারে ছুরি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব হাসান বলেন, গত বছরের কেনা ছুরিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবার আবার নতুন কিনতে এসেছেন। “বাজারে রেডিমেড জিনিস আছে, কিন্তু কামারের হাতে তৈরি ছুরির ধার ও মান ভালো।” তিনি জানান, এবার একটি মাঝারি ছুরি ও একটি দা কিনতে আগের বছরের তুলনায় বেশি খরচ হয়েছে। তারপরও তিনি দেশীয় পণ্যই বেছে নিয়েছেন। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা সালমা আক্তারও একই অভিজ্ঞতার কথা বলেন। “কোরবানির সময় ভালো ধারালো ছুরি না হলে কাজ করতে সমস্যা হয়। তাই একটু বেশি দাম হলেও ভালো জিনিস নেওয়ার চেষ্টা করি।” তবে তার অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে কিছু দোকানি দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। “যে ছুরি কিছুদিন আগে ৫০০-৬০০ টাকা ছিল, এখন ৮০০ টাকা চাইছে। ধার দেওয়ার খরচও বেড়েছে।” পুরোনো দা-ই ভরসা অনেকের সব ক্রেতা নতুন ছুরি কিনছেন না। অনেকেই খরচ কমাতে পুরোনো দা বা চাপাতি ধার করিয়ে নিচ্ছেন। রিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, “নতুন কিনতে গেলে খরচ বেশি। তাই পুরোনো দাটাই ধার করিয়ে নিচ্ছি। এতে কম টাকায় কাজ হয়ে যায়।” তার মতে, কোরবানির সময় পরিবারের সবাই মিলে কাজ করেন। তাই ধারালো দা বা ছুরি ছাড়া কাজ করা কঠিন। হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো পেশা? খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী প্রদীপের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে দক্ষ কারিগররা মৌসুমি কাজের জন্য ঢাকায় আসতেন। কিন্তু এখন নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে গেছে। “কঠোর পরিশ্রম, কম লাভ আর কারখানার তৈরি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে অনেকে পেশা বদল করছেন।” তার মতে, তারপরও কোরবানির ঈদ ঘিরে এই মৌসুমটাই কামারদের নতুন আশার সময়। “এই বাড়তি আয়ে কেউ সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালান, কেউ পুরোনো ঋণ শোধ করেন।” টিকে থাকার লড়াই ঈদের সময় ধার দেওয়ার জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামার বিশ্বজিৎ বলেন, “সারা বছর কষ্ট করি এই সময়টার আশায়। কাজ ভালো হলে পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তিতে থাকা যায়। স্বাভাবিক সময়ে আমরা যে টাকা রাখি, এখনও তাই রাখছি। তবে কেউ কেউ ক্ষেত্রবিশেষে একটু বেশি নিতে পারে।” ঢাকার কামারপট্টিগুলোর এই ব্যস্ততা শুধু কোরবানির প্রস্তুতির গল্প নয়; এটি নগর জীবনের এক প্রাচীন পেশার টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবিও। আগুন, লোহা আর ঘামের এই শিল্প এখনো বেঁচে আছে মূলত মৌসুমি চাহিদা আর কিছু ক্রেতার আস্থার ওপর ভর করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
জাল সনদে চাকরি: আরও ১৪১ শিক্ষককে শোকজ, তদন্তে উঠে এলো ৭৩৩ জনের নাম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে আরও ১৪১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। রোববার পৃথকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এসব নোটিশ জারি করে। নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে মাদ্রাসার ১১৪ জন, কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতার সরকারি অনুদান) বাতিল বা স্থগিত করা হবে না, কেন নিয়োগ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তদন্তে যা উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠানো হয়। পরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিআইএর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে দুই ধাপে মোট ৭৩৩ জন শিক্ষককে জাল সনদধারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো প্রতিবেদনে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তালিকায় রয়েছেন— মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন শিক্ষক কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন শিক্ষক কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক অন্যদিকে, গত ২৭ এপ্রিল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগে আরও ২৬২ জনের তথ্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে বিপিএড, বিএড অথবা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এমপিও ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নথি যাচাই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে জাল সনদধারীরা চাকরিতে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শোকজ বা সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; নিয়োগ যাচাই ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সনদ অনলাইনে যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা খাতে এমন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষাব্যবস্থার মান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক বছরের পর বছর সরকারি অনুদান নিয়ে পাঠদান করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের ঘটনাও হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযুক্তদের জবাব যাচাই শেষে ধাপে ধাপে এমপিও বাতিল, নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাই আলমগীর মোল্লা (৬০), আলমগীরের স্ত্রী খুশিদা বেগম (৫০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার হোসেন (২৮)। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা, পথেই মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর মোল্লা সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকাল ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজন জাফরিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার মেজ মামা আলমগীর মোল্লা স্ট্রোক করার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যই সবাই একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মামার চিকিৎসা আর হলো না। একই সঙ্গে দুই মামা ও দুই মামিকেও হারালাম।” যেভাবে ঘটলো সংঘর্ষ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ফরিদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি। শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছানোর পর দুটি গাড়ির মধ্যে প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শব্দ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের বক্তব্য খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর আটকে থাকা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সের চার যাত্রী ও চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” পুলিশ জানায়, বাসটির কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রশ্নের মুখে মহাসড়ক নিরাপত্তা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রায়ই এই মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং মহাসড়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শংকরপাশা এলাকাসহ নগরকান্দার কয়েকটি অংশে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তবে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়নি। বাড়ছে উদ্বেগ একই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বজনদের আহাজারি আর স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন করে সামনে আনছে দেশের মহাসড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসার জন্য রওনা হওয়া একটি পরিবার কেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলো না, এবং এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ
সিলেট ও ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হামের বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে শুধু সিলেট বিভাগেই—যেখানে কয়েক মাস ধরেই শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগটির বিস্তার নিয়ে স্বাস্থ্যখাতে সতর্কতা বাড়ছিল। শনিবার (২৩ মে) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন এই মৃত্যুর পর চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকি দুজন শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ২৯৫ জন রোগী। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো রোগী নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়নি, একই সময়ে আরও ৪৩ জন শিশু ও রোগীকে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা নির্ধারিত সময়ে টিকা সম্পন্ন করতে পারেনি। সংখ্যার ভেতরের বাস্তবতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৫৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে—মৃত ৫১ শিশুর মধ্যে মাত্র চারজনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মৃত্যুগুলোকে “হামের উপসর্গজনিত সন্দেহভাজন মৃত্যু” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল পরিসংখ্যানগত সীমাবদ্ধতার বিষয় নয়; বরং মাঠপর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষার সক্ষমতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতারও ইঙ্গিত দেয়। কেন বাড়ছে ঝুঁকি? স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে— অনেক শিশু সময়মতো এমআর (Measles-Rubella) টিকা পাচ্ছে না দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে উপসর্গ শুরুর পর হাসপাতালে আনতে দেরি হচ্ছে অপুষ্টি আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাম সাধারণ ভাইরাসজনিত রোগ হলেও অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ প্রাণঘাতী জটিলতায় রূপ নিতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেট অঞ্চলে টিকাদান জোরদার, হাসপাতাল পর্যায়ে বিশেষ নজরদারি এবং সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা না গেলে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারের আছে হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।
শাহ আলী মাজারে হামলা: মাদকবিরোধী অভিযান নাকি সম্পদ ও আধিপত্যের লড়াই?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মাজারকেন্দ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পুরোনো বাস্তবতা। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ছিল মূলত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের বহুমাত্রিক সংঘাত। আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে অর্থনৈতিক বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে মাজার শুধু ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এসব স্থান সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের অংশ। মাজারপন্থিদের বিশ্বাস, শরিয়তের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযম আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু মাজারে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব বহু সময় সহিংস রূপও নিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাজারের প্রভাব দৃশ্যমান। বহু রাজনৈতিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে মাজার জিয়ারত করেন। ফলে মাজারকে ঘিরে বিরোধ এখন আর কেবল ধর্মীয় নয়; বরং তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ ও খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযানের খবর পেলেই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মাজার এলাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবৈধ অস্ত্র গোপন রাখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ কিংবা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সুযোগে ছিনতাই, পকেটমার ও শিশু নিখোঁজের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো সুফি ঐতিহ্য বা সব মাজারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ঘিরে দ্বন্দ্ব শাহ আলী মাজারকে ঘিরে বিরোধের বড় একটি কারণ এর বিপুল সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা প্রায় ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচামালের আড়ত, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভোগদখল ও তদারকিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাজারকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক বলয়কে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী চক্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২২ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়াও এই দ্বন্দ্বের গভীরতা নির্দেশ করে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে কারা? মাজারে হামলার ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে ‘তৌহিদী জনতা’ শব্দবন্ধ। বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হামলাকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা সামনে আসে। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? তার দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা যায়। মাদকবিরোধী অভিযানের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নেবে— সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ধর্মীয় মতাদর্শ বনাম প্রশাসনিক দায় ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদীও মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, কোথাও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় তা বন্ধ করা উচিত; হামলা বা সহিংসতা কখনও সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, কিছু স্থানে গাঁজা সেবন বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একইসঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। জামায়াতের অস্বীকার, প্রশ্ন রয়ে গেছে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং একটি মহলউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল অস্বীকার যথেষ্ট নয়। তার মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই বছরে ৬৮ মাজারে হামলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকি নিয়ে ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং ১২টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। সংঘাতের কেন্দ্রে মাজার, সম্পদ ও প্রভাব স্থানীয়দের মতে, শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাদকবিরোধী অভিযানের ফল হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তি, স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং সামাজিক প্রভাবের জটিল সমীকরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মাজারকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত কি কেবল ধর্মীয় মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর গভীরে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আজহা
বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেন। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়-জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, যুগ্মসচিব ছাদেক আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এবং স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামও সভায় অংশ নেন। চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট  শাখার ম্যানেজার ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপব্যবহার
সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সোনালী ব্যাংক  পিএলসি এর ফরিদপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও একটি সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বকালীন হিসাব পরিচালনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাখা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কার্যক্রমে অসহযোগিতা করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শকের নির্দেশনা অনুসরণ না করে শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি মামলার বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধ করতে হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব বন্ধ বা স্থগিত করা যায় না। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি পক্ষের প্রভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করেননি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ফিরোজার রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমি দুই পাতার লিখিত জবাব দাখিল করেছি। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।” ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ
কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।   প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী
পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। সম্পাদক পদে একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচনে মোট ৪ হাজার ৪৮টি ভোট পড়েছে। ১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচনে দুটি সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহসম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী। অন্যদিকে, সাতটি সদস্য পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল। ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ নির্বাচনের ফলাফলকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী অঙ্গনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়ায় জরিমানার পরিবর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের আলোচনা থাকলেও বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলছে। স্টেশনের ২ নম্বর গেটে নিয়মিতভাবে সাদা পোশাকে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে রয়েছেন পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম ও রুবেল, পাশাপাশি পোর্টার লিটন ও সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কিছু সদস্যও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেন থেকে নামার পর টিকিট তল্লাশির নামে যাত্রীদের আটকানো হয়। কারও কাছে টিকিট না পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা বা সরকারি জরিমানার রসিদ দেওয়ার পরিবর্তে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনায় শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের একটি অংশের যোগসাজশে এই অর্থ আদায় চলছে। অথচ বিনা রসিদে অর্থ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একজন যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রেল সাধারণ মানুষের পরিবহন। কিন্তু এখানে সেবা পাওয়ার বদলে অপমান আর ভয়ভীতি সহ্য করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই।” রেল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এমন অনিয়ম অব্যাহত থাকলে যাত্রীসেবার মান আরও অবনতি হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে টিকিট তল্লাশি ও জরিমানা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0