Brand logo light
বাংলাদেশ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ
বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাই আলমগীর মোল্লা (৬০), আলমগীরের স্ত্রী খুশিদা বেগম (৫০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার হোসেন (২৮)।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা, পথেই মৃত্যু

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর মোল্লা সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকাল ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজন জাফরিন আক্তার। তিনি বলেন,

“আমার মেজ মামা আলমগীর মোল্লা স্ট্রোক করার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যই সবাই একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মামার চিকিৎসা আর হলো না। একই সঙ্গে দুই মামা ও দুই মামিকেও হারালাম।”

যেভাবে ঘটলো সংঘর্ষ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ফরিদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি।

শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছানোর পর দুটি গাড়ির মধ্যে প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শব্দ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন।

উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের বক্তব্য

খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর আটকে থাকা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন,

“অ্যাম্বুলেন্সের চার যাত্রী ও চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

পুলিশ জানায়, বাসটির কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রশ্নের মুখে মহাসড়ক নিরাপত্তা

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রায়ই এই মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং মহাসড়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শংকরপাশা এলাকাসহ নগরকান্দার কয়েকটি অংশে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তবে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়নি।

বাড়ছে উদ্বেগ

একই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বজনদের আহাজারি আর স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন করে সামনে আনছে দেশের মহাসড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা।

প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসার জন্য রওনা হওয়া একটি পরিবার কেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলো না, এবং এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

 
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
ঈদের আগে বেতন-বোনাস সংকটে ফরচুন গ্রুপের হাজারো শ্রমিক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কোরবানির প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ পরিবারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা প্রায় সম্পন্ন। কিন্তু বরিশালভিত্তিক জুতা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্রুপ–এর কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে এবারের ঈদ এসেছে অনিশ্চয়তা আর আর্থিক সংকটের বার্তা নিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের অভিযোগ, গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এখনো মেলেনি ঈদের বোনাসও। ফলে ধারদেনা করে পরিবার চালাতে হচ্ছে অনেককে। অন্যদিকে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সাময়িক আর্থিক সংকটের কারণে বিলম্ব হলেও দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা হবে। ছোট প্রতিষ্ঠান থেকে বহুজাতিক বাজারে ২০১২ সালে বরিশালে মাত্র ৪৭২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ফরচুন সুজ লিমিটেড। এক দশকেরও বেশি সময়ে সেটি বিস্তৃত হয়ে এখন বড় শিল্পগোষ্ঠী ফরচুন গ্রুপ–এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল ও ঢাকায় গ্রুপটির ছয়টি প্রতিষ্ঠানে আট হাজারের বেশি মানুষ কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। বরিশালের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় রয়েছে গ্রুপটির তিনটি কারখানা। এছাড়া ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে রয়েছে আরও তিনটি উৎপাদন ইউনিট। ফরচুন গ্রুপের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে: ফরচুন সুজ প্রিমিয়ার ফুটওয়্যার ইউনি ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার টেকনোলজি সিন ইন ফুটওয়্যার টেকনোলজি এমজে ইন্ডাস্ট্রিজ পশ ফুটওয়্যার আন্তর্জাতিক বাজারে সাফল্য, ভেতরে বেতন সংকট প্রতিষ্ঠানটির জুতা ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে বার্ষিক লেনদেন ৮০০ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি কোম্পানির। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পরে শিল্প খাতে অবদানের জন্য “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার ২০২০” লাভ করে। এছাড়া মার্কিন সাময়িকী Forbes–এর এশিয়ার উদীয়মান কোম্পানির তালিকাতেও স্থান পায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যের বিপরীতে শ্রমিকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে তাদের আর্থিক অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, অফিসারদের পাঁচ মাস এবং সুপারভাইজারদের চার মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সাধারণ শ্রমিকদেরও অন্তত এক মাসের বেতন আটকে আছে। তাদের ভাষায়, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। একজন কর্মকর্তা বলেন, “ঈদ সামনে। বাসাভাড়া, সন্তানের খরচ, কোরবানির প্রস্তুতি—কিছুই ঠিকভাবে করতে পারছি না। ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে।” কোম্পানির বক্তব্য: রপ্তানি আটকে, উৎপাদন কমেছে অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির হিসাবরক্ষক মো. জামাল দাবি করেন, ফরচুনসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘমেয়াদি বেতন বকেয়া নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস শনিবারের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও জানান, আগে ব্যাংক হিসাবে বেতন দেওয়া হলেও ২০২৫ সাল থেকে কখনো ব্যাংকে, কখনো নগদে পরিশোধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উৎপাদন সমস্যাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে কোম্পানি পণ্য রপ্তানি করতে পারছে না। ভারতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার চালান আটকে আছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উৎপাদনও কমে গেছে।” তার দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে এবং দু-এক দিনের মধ্যেই ঈদের বোনাসসহ তা পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকদের প্রশ্ন: সংকট সাময়িক, নাকি গভীরতর? শ্রমিকদের একাংশের প্রশ্ন, শত শত কোটি টাকার লেনদেনকারী এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি প্রতিষ্ঠানে কয়েক মাস ধরে বেতন সংকট কেন তৈরি হলো? তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা এবং আর্থিক চাপের প্রকৃত চিত্র কর্মীদের কাছ থেকে গোপন রাখা হচ্ছে। শিল্প খাত বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, বৈদেশিক লেনদেন জটিলতা, বিদ্যুৎ সংকট এবং ব্যাংকঋণ নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে দেশের কিছু রপ্তানিমুখী শিল্প বর্তমানে চাপে রয়েছে। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়মিত পরিশোধ বাধ্যতামূলক। ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বরিশাল ও আশপাশের এলাকায় ফরচুন গ্রুপের হাজারো শ্রমিক পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

বাগেরহাটে ৩৬ মণের ষাঁড় ‘কালু’ বিক্রি হবে ১৫ লাখে

বাগেরহাটে ৩৬ মণের ষাঁড় ‘কালু’ বিক্রি হবে ১৫ লাখে, দেখতে খামারে ভিড়

বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল

রাজনৈতিক দখলদারি ও অনিয়মে বিপর্যস্ত খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল

চাপের মুখে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল, এনবিআরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক তদবির ও প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ)। যদিও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবু পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও ফল প্রকাশ হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান সিইভিটিএ গত ১৬ মে এ পরীক্ষা আয়োজন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ‘রাতেই প্রস্তুত হয়েছিল ফল’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য জানান, পরীক্ষার দিন রাতেই উত্তীর্ণ ২১০ জনের তালিকাসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। কমিটির ছয় সদস্যই তাতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য, “রোববারের মধ্যেই ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই বিষয়টি আটকে যায়। কেন আটকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।” পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, উত্তীর্ণ ২১০ জনের বাইরে অতিরিক্ত আরও শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, “কমিটির কয়েকজন সদস্য এতে আপত্তি জানান। এরপর থেকেই ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এমনকি যাদের নাম পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ১০ নম্বরও পাননি।” ‘ঊর্ধ্বতন পরামর্শের অপেক্ষা’ অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কতজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন কিংবা কেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়নি—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তিনি বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।” তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ বলছেন, প্রচলিত বিধিমালায় ফল প্রকাশের জন্য এনবিআরের অনুমোদন বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাদের মতে, পরীক্ষার ফল প্রকাশে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং এটি নিয়োগ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। উত্তর মেলেনি এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাস্টমস সংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতে পুরো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ধান

উত্তরাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের লোকসান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ত্রিশালে খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে তারেক রহমান: ‘সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে’

নারীরা টুপি তৈরি করছেন।

বগুড়ার জালি টুপি শিল্পে ৫০ কোটি টাকার সম্ভাবনা, ঈদ বাজারে বাড়ছে ‘তাহফিজ টুপি’র চাহিদা

ভোলার মদনপুর চরে চার বছর বিদ্যুৎ নেই, ১০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন অচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার বছর আগে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছিল ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের মানুষ তখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। ঘরে ঘরে জ্বলেছিল বাতি, শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল রাতের পড়াশোনার সুযোগ, ব্যবসায়ীরা কিনেছিলেন ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন টেকেনি এক বছরও। প্রকল্প চালুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বড় নৌযানের নোঙরে ছিঁড়ে যায় তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল। বন্ধ হয়ে যায় পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপর কেটে গেছে চার বছর—কিন্তু এখনো ফেরেনি বিদ্যুৎ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ছিল না কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, ছিল না নিয়মিত নজরদারি। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া পুরো এলাকায় এখন চুরি হয়ে যাচ্ছে ট্রান্সফরমার, তার ও অন্যান্য অবকাঠামো। ছয় মাসেই অচল হয়ে পড়ে প্রকল্প ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলা সদরের তুলাতুলি এলাকা থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। স্থানীয় সূত্র বলছে, সংযোগ চালুর পর চরাঞ্চলের শত শত পরিবার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে নতুনভাবে জীবনযাত্রা সাজাতে শুরু করে। অনেকে ঋণ নিয়ে কিনেছেন টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই মেঘনায় বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙরের কারণে একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিনটি ক্যাবল। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর পুনঃসংযোগ হয়নি। “বিদ্যুৎ আসবে ভেবে যা কিনেছিলাম, সব নষ্ট” মদনপুর চরের বাসিন্দা ভুট্টু মাঝি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তার ভাষায়, “তীব্র গরমে বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। অনেকেই ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ কিনেছিল। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য গ্রাহকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পরই পুরো ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চরের ব্যবসায়ী মো. নাছির বলেন, “দোকানের ফ্রিজসহ অনেক ইলেকট্রিক্যাল জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়েছে।” অবহেলায় চুরি হচ্ছে সরকারি অবকাঠামো স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন সংযোগ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ লাইনের তার, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন—যে প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার গিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি। এখন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দরকার।” “কিছুই জানি না”—পল্লী বিদ্যুতের জিএম এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ রাজ্জাক রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।” তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভোলার দুটি চরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন ও নৌযান চলাচলপ্রবণ এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং এবং বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে জনভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও বাড়ে। চার বছর ধরে বিদ্যুৎহীন মদনপুর চর এখন সেই ব্যর্থ পরিকল্পনারই এক বাস্তব উদাহরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
স্ট্যান্ড রিলিজের পরও বহাল এনামুল

বরিশাল এলজিইডিতে বদলি বিতর্ক: স্ট্যান্ড রিলিজের পরও বহাল এনামুল, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান

বরিশালে আদালত ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বিচারপ্রার্থী ও বিচারক

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

সিলেট ও ময়মনসিংহে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0