Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

ইআরডি সচিব শাহ্‌রিয়ার কাদেরের বিরুদ্ধে পদোন্নতি কারসাজির অভিযোগ: ২০১৭ সালের সেই ‘কচুকাট’ বিতর্ক ফের আলোচনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রদবদল হলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে বহাল রয়েছেন সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অন্যতম বর্তমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি উঠে আসে ২০১৭ সালের অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সুপারিশে হস্তক্ষেপ করে রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বাদ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা এবং তৎকালীন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে বিএনপি-ঘরানার বা ছাত্রজীবনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এমন কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। অনেক কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে আখ্যা দিয়েছেন “কচুকাট” হিসেবে।

এসএসবির সুপারিশে ‘হস্তক্ষেপ’

২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ১৩৩ জন যুগ্মসচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই পদোন্নতির পেছনের প্রক্রিয়া নিয়ে তখন থেকেই প্রশাসনে তীব্র বিতর্ক ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে এসএসবির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দফা যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড ১৭২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনার জন্য আরও ১৯ জন কর্মকর্তার একটি পৃথক তালিকাও তৈরি করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, এই সুপারিশ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী সেই ফাইলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।

তৎকালীন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসএসবির সুপারিশকৃত ফাইলটি তিনি প্রায় এক মাসের বেশি সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে আটকে রাখেন। ওই সময় তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়া হয় এবং নতুন কিছু নাম যুক্ত করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসএসবির সুপারিশে থাকা প্রায় ৮০ জন কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। বাদ পড়াদের বড় অংশকে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার অথবা “অতিরিক্ত নিরপেক্ষ ও সৎ” কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে যায়নি মূল তালিকা

তৎকালীন সময়ে প্রশাসনে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির তালিকায় আপত্তি জানিয়ে তা ফেরত পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাস্তবে ফাইলটি প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই পাঠানো হয়নি।

বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই তালিকায় কাটাছেঁড়া করা হয়। পরে সংশোধিত তালিকা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় এবং এক দিনেরও কম সময়ে সেটি অনুমোদন পায়।

প্রশাসনের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা বলছেন, এসএসবির মতো সাংবিধানিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি বাছাই প্রক্রিয়ায় এ ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল নজিরবিহীন।

তাদের ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার এসএসবির সুপারিশে এভাবে কাটাকাটি করার আইনি এখতিয়ার নেই। কারণ বোর্ডের সুপারিশ চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর কথা।

‘ক্ষমতার কেন্দ্র’ হয়ে ওঠা

তৎকালীন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী তখন এতটাই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন যে তিনি প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর নির্দেশনাকেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যত নিয়ন্ত্রণ করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের অনুগত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সক্রিয় ছিলেন এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মকর্তাদের প্রশাসনে পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল নেন।

প্রশাসনের ভেতরে তখনকার ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল—এসএসবির সুপারিশে থাকা বহু কর্মকর্তার নাম বাদ পড়লেও সেই বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক অবস্থান বদলের অভিযোগ

প্রশাসনের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার প্রবণতা।

তার সম্পর্কে প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, বিএনপি-জামায়াত আমলে তিনি নিজেকে জামায়াতঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার ভারসাম্য বদল হলে তিনি সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন। এমনকি সম্প্রতি তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার একটি প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এক দিনের মধ্যে সেটি স্থগিত করা হয় এবং তিনি ইআরডির সচিব হিসেবেই বহাল থাকেন।

এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার অবস্থান এখনো কেন অটুট?

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ

২০১৭ সালের সেই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের অন্তত ২৫৫ জন কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অন্যান্য ক্যাডার মিলিয়ে সংখ্যাটি ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।

তৎকালীন বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অনেকেই এখনো মনে করেন, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের স্বাভাবিক পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যকে যোগ্যতার ওপরে স্থান দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ছিলেন তার অন্যতম কার্যকর বাস্তবায়নকারী।

বর্তমান সরকার প্রশাসনে সংস্কার ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও, বিতর্কিত অতীতের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
বিএডিসির ২৯২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, নিম্নমানের হারভেস্টারে ক্ষতিগ্রস্ত বীজ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি মেগা প্রকল্পের কেনাকাটা, দরপত্র প্রক্রিয়া, যন্ত্রপাতির মান এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বিল-ভাউচার নিয়ে প্রশ্নের কারণে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কিছু কেনাকাটায় পণ্যের উৎস, সরবরাহকারীর অভিজ্ঞতা এবং দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকল্পের মূল নথি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ, সরবরাহ ও গ্রহণসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক নিরীক্ষার তথ্য পর্যালোচনা করেই অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব। প্রকল্পটির আর্থিক পরিসর যেমন বড়, তেমনি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ। ফলে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ শুধু সরকারি অর্থের হিসাব-নিকাশের প্রশ্ন নয়; মাঠপর্যায়ে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং বীজের গুণগত মান নিয়েও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে। চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে ফিউমিগেশন শিট কেনার অভিযোগ প্রকল্পের ফিউমিগেশন শিট কেনাকাটা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে পণ্যের উৎস ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের ফিউমিগেশন শিট আমদানির কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে চীন থেকে শিট সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাহানারা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা নথিপত্রের সত্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে দরপত্রে দাখিল করা অভিজ্ঞতার সনদ, সংশ্লিষ্ট কাজের পূর্ববর্তী রেকর্ড এবং নথির সত্যতা যাচাই জরুরি। এসব নথি পরীক্ষা ছাড়া অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ে হারভেস্টার নিয়ে ভোগান্তি, ধান অপচয়ের অভিযোগ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বীজ খামারে সরবরাহ করা কম্বাইন হারভেস্টারের কার্যকারিতা নিয়েও অসন্তোষের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক চিঠিতে যন্ত্রের কর্মক্ষমতা, ধান অপচয় এবং বীজের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঝিনাইদহের সাধুহাটি খামারে সরবরাহ করা ‘বাংলামার্ক’ ব্র্যান্ডের MARKSAN Model MS-1000 কম্বাইন হারভেস্টারটি নিয়ে অভিযোগ বিশেষভাবে গুরুতর। সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক আবেদনে বলা হয়েছে, যন্ত্রটি ব্যবহারের সময় খড়ের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি, যন্ত্রের ট্যাংকে সংগৃহীত ধানের একটি অংশের খোসা ভেঙে চাল বেরিয়ে আসার অভিযোগও রয়েছে। আবেদনে উল্লিখিত তথ্য সঠিক হলে, বিষয়টি শুধু যন্ত্রের কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকে না; বীজ হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সংগৃহীত ধানের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে অপচয়ের হার, যন্ত্রের ত্রুটির ধরন এবং বীজের মানের ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা, উৎপাদন ও অপচয়ের পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিবেদন প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধুহাটি খামারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল হাই তাঁর আবেদনে যন্ত্রটি পরিবর্তন করে নতুন, সচল ও কার্যকর হারভেস্টার সরবরাহের সুপারিশ করেছেন। ওই আবেদনের মূল কপি, তারিখ, স্মারক নম্বর এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাচাই করা গেলে সমস্যাটির ব্যাপ্তি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। হবিগঞ্জেও হারভেস্টার সচল না হওয়ার অভিযোগ হবিগঞ্জের ইটাখোলা খামারেও সরবরাহ করা হারভেস্টার নিয়ে একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বারবার মেরামতের পরও যন্ত্রটি সচল করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছেন খামারটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ওসমান গনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সাধুহাটি ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং হারভেস্টারের চালকের আসনে বসে কার্যকরভাবে যন্ত্র চালাতে অসুবিধার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) ড. মো. রফিকুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একাধিক খামারে যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযোগ উঠে থাকলে সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখার পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সরবরাহ করা সব হারভেস্টারের কার্যকারিতা পরীক্ষা, ক্রয়াদেশের কারিগরি শর্তের সঙ্গে বাস্তব যন্ত্রের সামঞ্জস্য যাচাই এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।   সিড ড্রায়ার কেনার দরপত্রে তিন প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ার অভিযোগ বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র সিড ড্রায়ার কেনার দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টেন্ডার আইডি 1178841 ও 1178840-এর আওতায় অভিজ্ঞ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখানে মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোন শর্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল এবং দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতার নথি, কারিগরি মূল্যায়ন, অযোগ্য ঘোষণার কারণ এবং কার্যাদেশের তথ্য পর্যালোচনা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। একই সঙ্গে ই-জিপি ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রাখার যে অভিযোগ উঠেছে, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের ডিজিটাল রেকর্ড, সময়সীমা এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়ার তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানকে অন্যায্যভাবে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে তা প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। বিপরীতে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান বাদ পড়লে তার পক্ষে নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। ২০০ কোটি টাকার বিল-ভাউচার নিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়েও বড় অঙ্কের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তাঁদের দাবি, ই-জিপি ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রাখা এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে, কোন কোন বিল বা ভাউচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক কী—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগটিকে প্রমাণিত আর্থিক অপরাধ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের অনুমোদিত বরাদ্দ, ক্রয় পরিকল্পনা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, সরবরাহের চালান, পণ্য গ্রহণের প্রতিবেদন, বিল পরিশোধের রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মধ্যে সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেসব পণ্য সরবরাহের বিপরীতে অর্থ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবে সরবরাহ করা হয়েছিল কি না এবং নির্ধারিত মান পূরণ করেছিল কি না, সেটিও যাচাইয়ের অংশ হওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের হিসাব, সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্য এবং কার্যাদেশের বিপরীতে পরিশোধিত অর্থের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কোনো ভিত্তি আছে কি না, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। প্রকল্প পরিচালককে ঘিরে অভিযোগ, প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ। অভিযোগকারীদের দাবি, বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের কিছু কেনাকাটায় নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং নথিতে থাকা প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএডিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও দাপ্তরিক নথির ভিত্তিতে অনুসন্ধান জরুরি। একটি নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত চারটি বিষয় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন: দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি নির্ধারিত মান পূরণ করেছে কি না, বিল-ভাউচার ও অর্থ পরিশোধের হিসাব সঠিক কি না এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা গেলে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় নিয়ে তৈরি হওয়া সন্দেহ দূর করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্রয়প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী ও দুদকের কাছে অভিযোগ, তদন্তের দাবি অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিএডিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দরপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হোক। তাঁরা আরও দাবি জানিয়েছেন, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রাপ্তিস্বীকার, তদন্ত শুরুর অবস্থা এবং এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কৃষি খাতে সরকারি বিনিয়োগের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সহায়তা করা এবং কৃষকের জন্য মানসম্মত বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। সে কারণে একটি বড় প্রকল্পে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত কারিগরি ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার দাবি রাখে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন বিএডিসির ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ: ফিউমিগেশন শিটের ক্রয়চুক্তিতে উৎপত্তি দেশ ও পণ্যের মান সম্পর্কে কী শর্ত ছিল? ‘জাহানারা এন্টারপ্রাইজ’-এর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না? সাধুহাটি, ইটাখোলা ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা হারভেস্টারগুলো কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল কি না? টেন্ডার আইডি 1178841 ও 1178840-এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়ার কারণ কী ছিল? প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পক্ষে কী আর্থিক নথি বা নিরীক্ষা-প্রমাণ রয়েছে? অভিযোগ পাওয়ার পর বিএডিসি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দুদক কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে দাপ্তরিক নথি, স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষা, আর্থিক নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জরুরি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আর অভিযোগের কোনো অংশের পক্ষে প্রমাণ না মিললে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন।    

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৩, ২০২৬ 0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: নগর পরিকল্পনা বিভাগে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নিয়োগপ্রক্রিয়া

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট : বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা নিয়ে ক্ষোভ

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর barisal

দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতুর টোল :বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ঘুষ-কমিশন, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; প্রকল্পের দরপত্র ও আর্থিক নথি তদন্তের দাবি- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী  ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ-কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্রে অনিয়ম, বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি। ‘সচেতন নাগরিক’-এর পক্ষে করা ওই আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, দরপত্র ও কার্যাদেশ, নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতি, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন এবং নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করা হলে অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   ঠিকাদারি কাজ বণ্টন ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   আরও পড়ুন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ   আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে কাজ পেয়েছে, কার্যাদেশের সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য কতটা, কাজের পরিমাপ অনুযায়ী বিল দেওয়া হয়েছে কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঠিকাদারদের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি, ঠিকাদারি কাজ বিক্রি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে প্রকল্পের সংশোধিত বরাদ্দ বা বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন এবং লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেনামি ঠিকাদারি ব্যবসা ও দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শহিদুল ইসলাম নিজে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনা এবং দরপত্রপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগকারীর ধারণা। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত মালিকানা, অংশীদারত্ব, কার্যাদেশ বণ্টন, দরপত্রের নথি, কাজের উপঠিকাদারি চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীর মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের কোনো সংঘাত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত করা প্রয়োজন।   নিয়োগ ও পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গেও অভিযোগ শহিদুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে আবেদনে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগ ঘিরে অতীতে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল এবং পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বহুল আলোচিত ঘটনা এবং পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনসহ একটি প্রশ্নফাঁস চক্রের প্রসঙ্গ টেনে শহিদুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন, এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের নথি, পিএসসির রেকর্ড, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রাসঙ্গিক। শত শত কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ লিখিত আবেদনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বরিশাল ও ঢাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে জমি কেনা, ফ্ল্যাট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারি কাজের লেনদেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিল-সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁর নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস এবং আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ।  অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা যেতে পারে।   মানববন্ধন ঘিরেও বিরোধের অভিযোগ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে ঠিকাদারদের একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই মানববন্ধনে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেন ও হয়রানি করেন।ঘটনাটি সত্য  তা আলাদাভাবে তদন্তের দাবি রাখে।  কোন কোন নথি যাচাইয়ের দাবি দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে: প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ ও বিল পরিশোধের নথি। বরিশাল কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের চুক্তি, বাস্তব অগ্রগতি ও আর্থিক হিসাব। মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের সাবকন্ট্রাক্ট, সংশোধিত ব্যয়, নিরাপত্তা জামানত ও ব্যাংক লেনদেন। শহিদুল ইসলামের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য তথ্য আছে কি না। তাঁর নামে ও বেনামে থাকা বলে অভিযোগ করা জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং আয়কর নথি। এসব নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে  প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে। অভিযোগকারীর বক্তব্য সাকিল আহম্মেদ বলেন, “আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি, দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই তাঁর আবেদনের উদ্দেশ্য। তদন্তেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, দরপত্রে স্বচ্ছতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস যাচাই—এসব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিভিত্তিক প্রমাণ  গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তিতে নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই হবে মূল বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0

ঢাকা জেলা প্রশাসকের এলএ শাখা-২: সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের ঘুষ বাণিজ্যে জিম্মি জনগণ

উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার

ধানমন্ডি ৩২ থেকে ভোলা গণপূর্ত: আবুল বাশারের সম্পদ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিআরটিসিতে আশরাফুল আলমের প্রভাববলয়: ডিপোতে শতকোটি টাকার আয়-ব্যয়, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা ও বদলি বাণিজ্য নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফিরোজ হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন, বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ, বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কথিত প্রভাব বিস্তার এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দরপত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়গুলো জনস্বার্থে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত ছিল কি না, বড় প্রকল্পের দরপত্রে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কি না। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন: প্রশাসনিক নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অনুসন্ধানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে সামনে এসেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নিজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়।  বিশেষ করে ক্রয়, দরপত্র ও উন্নয়ন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট দায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব বণ্টন, অনুমোদন, দাপ্তরিক আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করলে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যাখ্যা এবং দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো সিদ্ধান্তে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে ও বিপক্ষে প্রমাণ পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ: ব্যয় ও অর্জিত সুফল কতটা যাচাইযোগ্য? কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা অর্জনের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে। কিন্তু এসব সফরে সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে অনুমোদন, মনোনয়ন, অর্থায়নের উৎস এবং ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষিত ও যাচাইযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সফরের অনুমোদনপত্র, মনোনয়নসংক্রান্ত নথি, ব্যয়ের বিবরণ এবং সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ বা সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা সরকারি কাজে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটিও মূল্যায়নের বিষয়।   এনডিইর সঙ্গে যোগসূত্র, বড় প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাবের অভিযোগ অনুসন্ধানে এনডিই (NDE) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজী মো. ফিরোজ হাসানের কথিত যোগসূত্র এবং বড় প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও দরপত্রের শর্ত নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দরপত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়া নথিভিত্তিকভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধের তথ্য এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, যাতে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পেতে পারে—তা যাচাইয়ের জন্য দরপত্রের বিভিন্ন সংস্করণ, শর্ত পরিবর্তনের কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা জরুরি। স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তির জন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দরপত্রের মূল নথি এবং প্রযোজ্য নিরীক্ষা বা তদন্তের ফলাফল যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তা ও পরিবারের সম্পদের উৎস: বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়টিও জনস্বার্থে আলোচনায় এসেছে। তবে তাঁদের নির্দিষ্ট সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা কিংবা আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নথি এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি। একই সঙ্গে সম্পদ অর্জনের সময়কাল, ক্রয়মূল্য, অর্থের উৎস এবং ঘোষিত আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকলে তার প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও আইন অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।   দুদকের তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরীক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন: ১. সম্পদের উৎস ও আয়: কর্মকর্তা এবং প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই। ২. আয়কর ও আর্থিক নথি: প্রযোজ্য আইন ও ক্ষমতার সীমার মধ্যে আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমি-ফ্ল্যাটের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা। ৩. বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ: সফরের অনুমোদন, মনোনয়ন, অর্থায়ন, সরকারি ব্যয় এবং সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন পরীক্ষা। ৪. প্রকল্পের দরপত্র: স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট বড় প্রকল্পের ডিপিপি, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ ও নিরীক্ষা নথি যাচাই। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার: সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিধিবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পর্যালোচনা। ৬. পূর্ববর্তী তদন্তের অবস্থা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, নিরীক্ষা, অভিযোগ অনুসন্ধান বা আইনগত কার্যক্রম হয়ে থাকলে তার প্রকৃত অবস্থা ও ফলাফল যাচাই। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না পাওয়া গেলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। এতে একদিকে যেমন জবাবদিহি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করার ঝুঁকিও কমবে। বক্তব্য জানতে যোগাযোগ, সাড়া মেলেনি উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   অভিযোগের নিষ্পত্তি হোক প্রমাণ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিপুল সরকারি অর্থ ও জনস্বার্থ জড়িত। তাই এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং আইনসম্মত অনুসন্ধান ও যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার লক্ষ্য কাউকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং তথ্য, নথি, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের এআরও গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড়

কর বিভাগের উচ্চমান সহকারী সাইফুলের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও ১৩ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0