ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খুলনার শিরোমণি এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এখন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, টেন্ডারবিহীন নির্মাণকাজ এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র রোগীদের চক্ষুসেবা দিয়ে আসা হাসপাতালটিতে বর্তমানে সেবা কার্যক্রমই হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই হাজার ছানি অপারেশন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে বিরোধ এবং প্রশাসনিক অস্থিরতায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত হয় তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীপন্থি প্রভাববলয়ের অধীনে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কারী এবং কিছু সাংবাদিক হাসপাতালের পুরোনো বোর্ড বাতিলের দাবিতে সক্রিয় হন। পরে জামায়াত নেতা মুন্সী মঈনুল হককে চেয়ারম্যান করে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়।
তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা বাড়লে ২৪ অক্টোবর নতুন করে ১১ সদস্যের আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে চেয়ারম্যান এবং মুন্সী মঈনুল হককে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। বোর্ডে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাই মিয়া গোলাম কুদ্দুসকেও সদস্য করা হয়।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই রান্নাঘরের ওপর দুই থেকে তিন তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালের প্রবেশমুখে গ্যারেজ তৈরির কাজ কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়।
এছাড়া ওষুধ ক্রয়, অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ছিল না এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে এহসানুল কবিরকে নিয়োগ দিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়সসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর উল্লেখ থাকলেও ট্রাস্টি বোর্ডের বিশেষ সিদ্ধান্তে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হাসপাতালের সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি “সত্য” এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তেই ওই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছিল।
এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে বিশেষ কিছু রোগীকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিৎসা ছাড় দেওয়া হলেও সাধারণ স্টাফরা পান মাত্র ৩০ শতাংশ সুবিধা—এমন অভিযোগও উঠেছে।
কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, এক জামায়াত নেতার আত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারের স্টাফদের নাশতা সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হাসপাতালজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয় কয়েকটি চাকরিচ্যুতির ঘটনায়।
অভিযোগ রয়েছে, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের একটি অনুষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া অংশ নেওয়ায় চিকিৎসক ডা. আশিককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলামকেও ভিন্ন অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম বলেন, “ডা. আশিক ও মাজহারুল ইসলাম হাসপাতালের নিয়মনীতি ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের হাসপাতালে উপস্থিতি কমে যায়। এরপর নির্মাণকাজও বন্ধ হয়ে পড়ে।
১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ডা. বাবলুর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যান মূলত জামায়াতের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছেন এবং বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করা হচ্ছে।
২৬ এপ্রিল হাসপাতালের বাইরে একটি গোপন বৈঠকের পর ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য আর হাসপাতালে আসেননি। বর্তমানে কেবল চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলুকে মাঝেমধ্যে হাসপাতালে দেখা যায়।
এদিকে হাসপাতালটির নিবন্ধন ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনার সমাজসেবা কর্মকর্তা (নিবন্ধন) মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালটি ১৯৮৬ সালে নিবন্ধন নিলেও পরবর্তীকালে কোনো নতুন বা পুরোনো কমিটির অনুমোদনের নথি সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শীতেশ ব্যানার্জি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো সরকারি নোটিশ এসেছে কি না, তা এখনো আমার জানা নেই।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাজনৈতিক দখলদারি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশন ও চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনানুগ ট্রাস্টি কাঠামোর আওতায় না আনলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মধ্যখাউলিয়া গ্রামের একটি খামার ঘিরে এখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়। কারণ, সেখানে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে দুটি বিশালাকৃতির ষাঁড়—‘কালু’ ও ‘ধলু’। খামারি মো. তাজুল ইসলামের দাবি, নিজের খামারে জন্ম নেওয়া বাছুর থেকেই বড় করে তোলা হয়েছে গরু দুটি। কয়েক বছরের পরিচর্যা শেষে এবারই প্রথম কোরবানির বাজারে এত বড় আকৃতির ষাঁড় তুলছেন তিনি। খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘কালু’ নামের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট। এর ওজন ধরা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ মণ। অন্যদিকে ‘ধলু’র দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ও উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। গরুটির ওজন প্রায় ২৬ মণ। খামারি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘কালু’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা এবং ‘ধলু’র দাম রাখা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের গরু দুটি বিশেষ পরিচর্যায় বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন দুইবার গোসল করানোর পাশাপাশি চার বেলা খাবার দেওয়া হয়। খাদ্যতালিকায় রয়েছে খৈল, ভূষি, ভুট্টা, কুড়া ও কাঁচা ঘাস। শুধু খাবার বাবদ প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। প্রায় এক দশক আগে ‘তাজু ডেইরী ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেন তাজুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে শুরু হলেও এখন খামারটি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে বড় আকারের গবাদিপশু লালনের জন্য। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এত বড় আকৃতির গরু এলাকায় খুব কমই দেখা যায়। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ গরু দুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বাড়তি উদ্যোগও রেখেছেন খামারি। তাজুল ইসলাম জানান, কাঙ্ক্ষিত দামে গরু বিক্রি হলে ক্রেতাকে উপহার হিসেবে একটি ছাগল দেওয়া হবে। এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৩৫টি ষাঁড়। এর মধ্যে বড় আকারের গরুও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় আকৃতির ষাঁড় নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও মোরেলগঞ্জের ‘কালু’ ও ‘ধলু’ ইতোমধ্যেই স্থানীয় মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় চার দশক আগে শুরু হওয়া একটি খাল পুনঃখনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত করতে একটি “মহল” পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং এর সঙ্গে “৫ আগস্ট বিতাড়িতদের” যোগসূত্র রয়েছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ত্রিশালের কানহর ধরার খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের পর আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধন শেষে খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণও করেন তিনি। ‘নির্বাচনের ফলেই তাদের জ্বালা’ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর পর থেকেই একটি পক্ষ অস্বস্তিতে রয়েছে। তার ভাষায়, “তাদের জ্বালা ধরেছে”, তাই তারা কৃষক, কর্মসংস্থান বা খাল খননের মতো জনস্বার্থের বিষয় এড়িয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারা? তার উত্তর ছিল, “কৃষক ও সাধারণ মানুষ।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে “৫ আগস্ট বিতাড়িতদের” সমঝোতা রয়েছে বলেও সরকার মনে করে। ৪৫ বছর আগের প্রকল্প, নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য ত্রিশালের কানহর ধরার খালটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রতীকী অধ্যায়। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। তার দাবি, পরবর্তীতে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে ছিলেন। পুনঃখনন শেষ হলে ময়মনসিংহ জেলার প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার কৃষক এবং অন্তত ২০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জেলায় প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল রয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনঃখননের পরিকল্পনা করছে সরকার। উন্নয়ন বনাম অস্থিতিশীলতার রাজনৈতিক বয়ান ভাষণে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, চিকিৎসা সুবিধা, কর্মসংস্থান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তার ভাষায়, “২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে”—এবং সেটিই সরকারের উন্নয়ন দর্শনের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পাশাপাশি ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী কার্যক্রমও বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন। রামিসা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গেও বার্তা ঢাকার মিরপুর-পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, “অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঘিরে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। তার মতে, বিচার নিশ্চিত করতে হলে আইনের শাসন কার্যকর রাখতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সমাবেশে ফিরে এল ১৯৭৯ সালের স্মৃতি সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য দেন স্থানীয় যুবদলের সাবেক নেতা শাজাহান। তিনি জানান, ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যখন জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনে এসেছিলেন, তখন তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একই স্থানে কয়েক দশক পর পুনঃখনন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সমাবেশ শেষে তারেক রহমান ত্রিশালের দরিরামপুরে অবস্থিত নজরুল মঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের ঐতিহাসিক সিএমএম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচার চলাকালেই হঠাৎ ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বরিশালের বহুল পরিচিত ‘লাল বিল্ডিং’ আদালত ভবনে। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে এখনো বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় দ্বিতীয় তলায় বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তোরার বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদালত কক্ষে। বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কর্মরত মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া অংশে আদালতের সিলিং ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে ‘সৌভাগ্যবশত’। ঘটনার পর আদালত ভবনটি পরিদর্শনে যান বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বরিশালে আদালত কক্ষে বিচার চলাকালে ছাদ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা ১৩০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’? বিচার চলছিল, হঠাৎ ধসে পড়ল আদালতের ছাদ বরিশাল আদালত ভবনে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল অল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিচার, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা ‘ডেমেজ ভবনে’ ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য ১৮৯৬ সালে নির্মিত বরিশালের এই আদালত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দেয়াল, পিলার ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একাধিক স্থানে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তোরা। স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, বহু বছর ধরেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলেও আদালতের এজলাস সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮টি আদালতের এজলাস কক্ষ এবং আরও ৮টি পেশকার রুম এই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার ছাদের অংশ ও দেয়ালের পলেস্তোরা ভেঙে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে। আজকের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। জরুরি ভিত্তিতে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।” নিরাপত্তাহীনতায় বিচারপ্রার্থী থেকে বিচারক আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিচারপ্রার্থী, সাক্ষী, পুলিশ সদস্য, আদালত কর্মচারী ও আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। আদালতের অনেক কক্ষেই ছাদের পলেস্তোরা নিয়মিত খসে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন কেন এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি? নতুন ভবনের আশ্বাস বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানিয়েছেন, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ডিজিটাল সার্ভে করা হবে। তিনি বলেন, বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা নির্ধারণ করা হলে নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি। তবে স্থানীয় আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—শুধু মেরামত নয়, পুরো ভবনটিই এখন ‘মৃত্যুঝুঁকিতে’; এমন অবস্থায় স্থায়ী সমাধান কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।